“কুলার্ণব তন্ত্রে কুলযোগীকে দান” বিষয়ে অজ্ঞতার বশে আর্যসমাজী ও অসনাতনীদের করা অর্থের অনর্থের জবাব
“কুলার্ণব তন্ত্রে কুলযোগীকে দান” বিষয়ে অজ্ঞতার বশে আর্যসমাজী ও অসনাতনীদের করা অর্থের অনর্থের জবাব —
__________________________________________
🔰 ভূমিকা —
আর্যসমাজীরা প্রতিমাপূজারী দের অপদস্ত করবার জন্য এবং নিজেদের মন মতো ভাষ্য করা বেদের প্রচলন ঘটাবার জন্য, সনাতনীদের আত্মজ্ঞানের গ্রন্থ কুলার্ণব তন্ত্র কে নিয়ে মিথ্যাচার করছে। আর্যসমাজীদের প্রচারিত তথ্য নিয়ে বৌদ্ধরা, মুসলিম খ্রিষ্টান ইত্যাদি অসনাতনীরা সনাতনীদের প্রশ্নবিদ্ধ করবার চরম সুযোগ পেয়ে আনন্দে এগুলি নিয়ে পোস্ট করতে থাকে এবং তাদের অনুসারীদের কাছে ছড়িয়ে দিচ্ছে।
আর্য সমাজীরা হল ঘর শত্রুর ন্যায়, এনারা নিজেদের বৈদিক বলে দাবি করেন, সকলের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে মহাভারত রামায়ণের কাহিনীর ঠিক ততটুকু অংশ প্রচার করে যতটুকু প্রচার করলে আর্য সমাজে মতবাদের প্রচার-প্রসার ভালোভাবে করা সম্ভব হয় ।
তারা মানুষের সামনে এসব গ্রন্থের প্রতি ঘৃণা বিদ্বেষ জন্মিয়ে দিতে চায়। যাতে মানুষ সকল গ্রন্থ ছেড়ে শুধুমাত্র আর্য সমাজীদের পথে হাঁটতে শুরু করে, আর মুসলিম/খ্রিষ্টান/বৌদ্ধরা চেষ্টা করে যেতে সনাতনীরা নিজেদের গ্রন্থের প্রতি ঘৃণা ও অবজ্ঞা প্রকাশ করে সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম/খ্রিষ্টান/বৌদ্ধ নাস্তিক ইত্যাদি হয়ে যান।
আবার এই সুযোগ সন্ধানী আর্যসমাজীরা কখনো কখনো অন্য অপকৌশল ব্যবহার করেন।
যেমন ধরুন, কুলার্ণব তন্ত্র কে অশ্লীল গ্রন্থ হিসেবে চিহ্নিত করে মানুষকে এর থেকে আগ্রহ সরিয়ে নিজেদের পথে আনতে চান, আবার কখনো কখনো কুলার্ণব তন্ত্রে ভর্ণিত বেদ শাস্ত্রের প্রশংসা সম্পর্কিত শ্লোক দেখিয়ে বেদকে শ্রেষ্ঠ ঘোষণা করতে চান। আর্য সমাজে না বেদের নামে নিজেদের তৈরি করা কাল্পনিক ভাষার্থের তৈরি নকল বেদ পড়িয়ে নিজেদের মতো আর্যসমাজী তৈরি করতে চান।
সাধারণ মানুষ এইসব চতুরামি বুঝতে পারেন না।
যাই হোক এবার তাদের দাবী দেখা যাক।
__________________________________________
🚫 আর্যসমাজ ও অসনাতনীদের দাবী :
“কামার্ত তান্ত্রিককে নিজের বোন, মেয়ে বা বউ দান করে দিলে পুণ্যের সীমা নাই।
ভগিনীং বা সুতাং ভার্যাং যো দদ্যাৎ কুলযোগিনে। মধুমত্তায় দেবেশি তস্য পুণ্যং ন গণ্যতে ।।১১৬৷৷
[কুলার্ণবতন্ত্র/ ৯ম অধ্যায় / ১১৬ শ্লোক]
অর্থ : দেবেশী, যে মধুমত্ত কুলযোগীকে স্বীয় ভগ্নী কন্যা বা ভার্যা দান করে তার পুণ্যের সীমা নাই। ১১৬
কুলযোগী বা তান্ত্রিক সাধারণ শাক্তদের বোন, মেয়ে বা বউকে নিয়ে কি করবে? ঘপাঘপ সাধনা ?”
__________________________________________
🔥 শৈবপক্ষ থেকে খণ্ডন :
দেখুন —
১. কুলযোগী অর্থ আত্ম-ব্রহ্মজ্ঞানী। দেবীকে বোঝাতে শিব উদাহরণ দিলেন মাত্র।
কিন্তু অল্পবুদ্ধিযুক্ত ব্যক্তিগণ এখানে কুলযোগী বলতে শাক্ত ভেবে বসে আছেন, যা অতিমাত্রায় অজ্ঞানতার রোগে ভুগে আকাশকুসুম কল্পনা করবার লক্ষণ মাত্র।
উক্ত নবম অধ্যায়েই বলা হয়েছে যে, যে সাধক ব্যক্তি নিজের বাহ্যিক অবস্থা থেকে ঊর্ধ্ব উঠে পরশিবে লীন হন তিনিই মুক্তপুরুষ। এমন মুক্ত পুরুষ কখনোই কামনার বশীভূত নন। কিন্তু সম্পূর্ণ কুলার্ণব তন্ত্রের তাৎপর্য না পড়েই এককি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কথা বলা যুক্তিযুক্ত নয়।
২. মধুমত্ত রূপকার্থে ব্রহ্মের ভাবনাতে মধুর ন্যায় আনন্দে মত্তে থাকা যোগী।
জীবের অন্তরে স্থিত ব্রহ্মময় পরমানন্দে অন্তরাত্মা ঐক্যভাবে স্থিত হলে সেই জীব যোগী বলে অভিহিত হন, ব্রহ্মের উক্ত আনন্দময় অবস্থাকে মধুর স্বাদের সাথে তুলনা করা হয়েছে। আর মত্ত শব্দে উক্ত মধুর মতো ব্রহ্মময় আনন্দে আত্মহারা হওয়াকে মধুমত্ত বলা হয়েছে।
৩. এখানে নিজ বোনকে বা কন্যাকে ব্রহ্মজ্ঞানীকে দেওয়া অর্থে বিবাহ দেবার কথা বলেছে।
ধর্মসম্মতভাবে কন্যা দান করা একটি পুণ্যের কার্য। তাই এখানে দান করা শব্দে কন্যা দান বোঝানো হয়েছে।
৪. ব্যক্তির নিজ স্ত্রীকে নয় বরং কুলযোগীর জন্য ভার্যার ব্যবস্থা করবার কথা বলা হয়েছে।
[ভার্যা শব্দে গৃহস্থধর্মে সংযুক্ত নারী-সম্পর্কের - সাধারণ উল্লেখ হয়েছে। পরস্ত্রীগমন পাপ
বলে গণ্য, তাই এই শব্দে অন্যের পত্নীকে ভোগ করবার মতো অর্থ ভেবে নেওয়া যুক্তিযুক্ত না]
শাস্ত্রে পরস্ত্রীগমনকে পাপ বলে ঘোষনা করা হয়েছে, তাই এখানে পরস্ত্রীকে নিয়ে কুলযোগী ভোগ করবেন, এমন ভাবনাটাই অজ্ঞানতার চরম প্রকাশ।
— এমন ধরণের ব্রহ্মজ্ঞানে মজে থাকা যোগীর সহিত নিজ কন্যা, বা নিজ ভগিনী, অন্য গৃহস্থাশ্রমী নারীকে কন্যাদানের মাধ্যমে বিবাহ দিয়ে সেই যোগীর ভার্যা করে তুললে, তাতে দাতা ব্যক্তির পুণ্যের সীমা নেই বলা হয়েছে। কিন্তু আর্যসমাজ ও
অনান্য অসনাতনীরা - শ্লোকের আক্ষরিক অর্থ দেখিয়ে শাস্ত্রের উপর থেকে বিশ্বাস নষ্ট করতে চাইছেন, যাতে মানুষ এই পথ ছেড়ে আর্যসমাজী হয়ে যান অথবা সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে খ্রিষ্টান, মুসলিম বৌদ্ধ ইত্যাদি অসনাতনী হয়ে যান।
মূলত এগুলি হল শুধুমাত্র অপপ্রচার। শৈব সনাতন ধর্মের সম্মান বজায় রাখতে সর্বদা এভাবেই অসনাতনীদের অপপ্রচারের জবাব দেওয়া হবে।
সকল সনাতনী এক হোন, একতাই বল।
______________________________________________
🚩 তথ্য সংগ্রহ ও লেখনীতে : শ্রীগুরু নন্দীনাথ শৈব আচার্য পরমাধিকারী 🚩
©️ কপিরাইট ও প্রচারে : Shivalaya 🔥
শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তেতরাম্ 🚩
ॐ নমঃ পার্বতীপতয়ে হর হর মহাদেব 🚩
#হিন্দুধর্ম #সনাতনধর্ম #শিবালয় #shiva #শিব #পরমেশ্বরশিব #ভগবান #পরমেশ্বরভগবানশিব #Shivalaya #sanatandharma #mahadev #shankar #শৈবধর্ম #আর্যসমাজেরখণ্ডন #দয়ানন্দসরস্বতীরমতখণ্ডন #khandanofaryasamaj #অপপ্রচারখণ্ডন #কৌল #কুলধর্ম #কুলচার #কুলার্ণবতন্ত্র #অসনাতনীদেরদাবীখণ্ডন
[This post is only for public awareness.]

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন