শিব থেকে উৎপন্ন হয়ে কল্পান্তরে ত্রিদেব একে অন্যের থেকে জন্ম গ্রহণ করেন






ত্রয়স্তে কারণাত্মানো জাতাঃ সাক্ষান্মহেশ্বরাৎ ।

চরাচরস্য বিশ্বস্য সর্গস্থিত্যন্তহেতবঃ ॥ ১৩ 

পরমৈশ্বর্যসংযুক্তাঃ পরমেশ্বরভাবিতাঃ ।

তচ্ছক্ত্যাধিষ্ঠিতা নিত্যং তৎকার্যকরণক্ষমাঃ ॥ ১৪

পিত্রা নিয়মিতাঃ পূর্বং ত্রয়োঽপি ত্রিষু কর্মসু ।

ব্রহ্মা সর্গে হরিস্ত্রাণে রুদ্রঃ সংহরণে তথা ॥ ১৫ 

তথাপ্যন্যোঽন্যমাৎসর্যাদন্যোঽন্যাতিশয়াশিনঃ ।

তপসা তোষয়িত্বা স্বং পিতরং পরমেশ্বরম্‌ ॥ ১৬

লব্ধ্বা সর্বাত্মনা তস্য প্রসাদাৎ পরমেষ্ঠিনঃ ।

ব্রহ্মনারায়ণৌ পূর্ব রুদ্রঃ কল্পান্তরেঽসৃজৎ ॥১৭

কল্পান্তরে পুনর্ব্র‌হ্মা রুদ্রবিষ্ণূ জগন্ময়ঃ ।

বিষ্ণুশ্চ ভগবান্ রুদ্রং ব্রহ্মাণমসৃজৎ পুনঃ ॥ ১৮

নারায়ণং পুনর্ব্র‌হ্মা ব্রহ্মাণং চ পুনর্ভবঃ ।

এবং কল্পেষু কল্পেষু ব্রহ্মবিষ্ণুমহেশ্বরাঃ ॥ ১৯

পরস্পরেণ জায়ন্তে পরস্পরহিতৈষিণঃ ।

তত্তৎ কল্পান্তবৃত্তান্তমধিকৃত্য মহর্ষিভিঃ ॥ ২০

প্রভাবঃ কথ্যতে তেষাং পরস্পরসমুদ্ভবাৎ ।..॥ ২১

[শিবমহাপুরাণ/বায়বীয় সংহিতা/পূর্বখণ্ড/১৩ অধ্যায়/১৩-২১ নং শ্লোক]

অর্থ —  এই চরাচর জগতের সৃষ্টি, পালন ও সংহারের কারণাত্মারূপ ত্রিদেব (ব্রহ্মা, বিষ্ণু, রুদ্র) সাক্ষাৎ মহেশ্বর (সদাশিব) থেকে জন্মেছেন। এঁনাদের মধ্যে পরম ঐশ্বর্যযুক্ত, এঁরা পরমেশ্বর শিবের ভাবনায় ভাবিত এবং শিবের শক্তিতে অধিষ্ঠিত হয়ে সর্বদা তাঁর কার্য করতে সমর্থ ॥ ১৩-১৪ ॥

পিতা সদাশিব‌ই পূর্বকালে এঁনাদের তিন জনকে তিনটি কর্মে নিযুক্ত করেছিলেন। ব্রহ্মাকে সৃষ্টিকার্যে, বিষ্ণুকে পালনকার্যে এবং রুদ্রকে সংহারকার্যে ॥ ১৫ ॥

কল্পান্তরে (ভিন্ন ভিন্ন কল্পে) তারা নিজের উৎপত্তিকর্তা পরমেশ্বর সদাশিবকে তপস্যা দ্বারা সন্তুষ্ট করে একজন অন্যজনের থেকে অধিক সামর্থ্য অর্জনের চেষ্টা করে থাকেন ॥ ১৬

সেই পরমেষ্ঠী শিবকে পূর্ণরূপে প্রসন্ন করে তার প্রসাদে পূর্বে কোনো কল্পে রুদ্রদেব ব্রহ্মা আর নারায়ণ কে উৎপন্ন করেছেন ॥ ১৭ ॥

আবার কোনো অন্য কল্পে জগন্ময় ব্রহ্মা রুদ্র আর বিষ্ণু কে উৎপন্ন করেছেন। পুনরায় কোনো অন্যকল্পে ভগবান বিষ্ণু রুদ্র তথা ব্রহ্মা কে উৎপন্ন করেছেন ॥ ১৮ ॥

পুনরায় অন্য কোনো কল্পে ব্রহ্মা নারায়ণ কে আর কোনো কল্পে রুদ্রদেব ব্রহ্মাকে উৎপন্ন করেছেন, এইভাবে প্রত্যেক কল্পে ব্রহ্মা-বিষ্ণু তথা মহেশ্বর পরস্পর হিত (উপকার) করবার ইচ্ছায় একজন অন্যের দ্বারা উৎপন্ন হতে থাকেন।মহর্ষিগণ সেই সেই গল্পের বৃত্তান্ত কে নিয়ে নিজেদের মধ্যে সেই সমুদ্ভবের দৃষ্টকোণের দ্বারা তাদের প্রভাবের বর্ণনা করে থাকেন ॥ ১৯-২১ ॥








মন্তব্যসমূহ