শ্রীশ্রীআদ্যাশক্তিপার্বতীস্তোত্রম্

 দেবরাজ ইন্দ্র রক্তাসুরের উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে পরমেশ্বরী মহামায়া শ্রীপার্বতী দেবীর স্তুতি করেছিলেন। 

সেই স্তোত্র

             শ্রীশ্রীআদ্যাশক্তিপার্বতীস্তোত্রম্ নামে পরিচিতি লাভ করেছে। International_Shiva_Shakti_Gyan_Tirtha – ISSGT – এর হাত ধরে এই পবিত্র স্তোত্রটি পুনরুদ্ধার করেছেন শ্রীকৌশিক রায় শৈবজী।

পরমেশ্বরী জগন্মাতা শ্রীপার্বতী দেবীর আরাধনা করলে জীবের দেহ,মন শুদ্ধ হয় এবং শিবপদ লাভ করে।


নিত্য প্রভাতে ত্রিপুন্ড্র ও রুদ্রাক্ষ ধারন করে উত্তরমুখী দিকে বসে পরমেশ্বর ভগবান প্রভু শিবের স্তোত্রপাঠ করার পর এই স্তোত্র পাঠ করে দিনের কাজ শুরু করলে শুভফল লাভ হয়। জগতপিতা জগতমাতার দৃষ্টি থাকে সর্বদা সেই ভক্তের উপর।


এই স্তোত্র পাঠ করার আগে হাত জোড় করে চক্ষু বন্ধ করে বিনিয়োগ পর্বটি শান্ত মনে পাঠ করতে হবে। তারপর প্রভু পরমেশ্বর শিবের পাশে মাতা পরমেশ্বরী পার্বতী দেবীকে কল্পনা করে স্তোত্র পাঠ করতে হবে। [অনুগ্রহ করে, যেহেতু এটি একটি স্তোত্র সেহেতু বিনিয়োগ পর্ব পাঠ না করলেও অসুবিধা নেই,কিন্তু উপরোক্ত মার্গে কল্পনা করেই স্তোত্র পাঠ করতে হবে]


(সংস্কৃত শ্লোক উচ্চারণের ক্ষেত্রে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, ‘য’ কে ‘য়’ বা *ইঅ* উচ্চারণ করতে হবে)


বিনিযোগঃ (দেবী উমা)

ওঁ অস্য শ্রী উমা মন্ত্রস্য,

ইন্দ্র ঋষিঃ,

শ্রী আদিশক্তি দেবী,

অনুষ্টুপ্ ছন্দঃ

হ্রীং শিবাযৈ নমঃ বীজম্,

হ্রীং শক্তিঃ,

ওঁ কীলকায নমঃ ইতি দিগ্বন্ধঃ,

ধর্মার্থকামমোক্ষার্থে জপে বিনিযোগঃ।


জযাক্ষরে জযানন্তে জযাব্যক্তে নিরামযে।

জয দেবি মহামাযে জয ত্রিদশবন্দিতে ॥ ১ ॥


জয ভদ্রে বিদেহন্থে জযাদ্যে ত্রিগুণাত্মিকে।

জয বিশ্বম্ভরে গঙ্গে জয সর্বার্থসিদ্ধিদে ॥ ২ ॥


জয ব্রহ্মাণি কৌমারি জয নারাযণীশ্বরি।

জয ব্যরাহি চামুণ্ডে জযেন্দ্রাণি মহেশ্বরি ॥ ৩ ॥


জয মাতর্মহালক্ষ্মি জয় পার্বতি সর্বগে।

জয দেবি জগজ্জ্যেষ্ঠে জযৈরাবতি ভারতি ॥ ৪ ॥

মৃগাবতি জযানন্তে তোজোবতি জযামলে।

জযশানি শিবে সর্বে জয নিত্যে জযার্চ্চিতে ॥ ৫ ॥


মোক্ষদে জয় সর্বজ্ঞে জয ধর্মার্থকামদে।

জয গাযত্রি কল্যাণি জয সন্ধ্যে বিভাবরি॥ ৬ ॥


জয দুর্গে মহাকালি শিবদূতি জযাজযে।

জয দণ্ডমহামুণ্ডে জয নন্দে শিবপ্রিযে ॥ ৭ ॥


জয ক্ষেমঙ্করি শিবে জয ভ্রামণি রেবতি।

জযোমে সাধ্বি মঙ্গল্যে হরসিদ্ধে নমোঽস্তু তে ॥ ৮ ॥


জযানন্দে মহাবর্ণে মহিষাসুরঘাতিনি।

জযানঘে বিশালাক্ষি জযানঙ্গে সরস্বতি ॥ ৯ ॥


জযাশেষগুণাবাসে জয বৃত্রাসুরান্তকে।

জযযোগেশি সঙ্কল্পে জয ত্রৈলোক্যসুন্দরি ॥ ১০ ॥


জয শুম্ভনিশুম্ভঘ্নে জয পদ্মেন্দুসংভবে।

জয কৌশিকি কৌমারি জয বারুণি কামদে ॥ ১১ ॥


নমো নমস্তে সর্বাণি ভূযো ভূযো জযাম্বিকে।

ত্রাহি নস্ত্রাহি নো দেবি শরণাগতবত্সলে ॥ ১২ ॥


য ইমাং কীর্ত্তযিষ্যন্তি জযমালাং ভবানি তে।

ত্রিবিধৈরপি দুঃখৌঘৈর্মুচ্যন্তে পরমেশ্বরী॥ ১৩ ॥


সর্বপাপবিনির্মুক্তাঃ সর্বৈশ্বর্য্যসমন্বিতাঃ।

ভান্তি লোকে তথাদিত্যাঃ সর্বরোগবিবর্জিতাঃ ॥ ১৪ ॥


দেহাবসানে তেঽবশ্যং পশ্যন্ত্যেব হি পার্বতীম্।

নেন্দ্রিযাণাং বিকলতা যথান্যেষাং ভবেন্নৃণাম্ ॥ ১৫ ॥


দেবীলোকং গমিষ্যন্তি স্কন্দলোকোপরি স্থিতম্

পুনরাবৃত্তিরহিতং স্তোত্রজাপ্যান্ন সংশযঃ ॥ ১৬ ॥


            — ইতি সৌরপুরাণে ঊনপঞ্চাশদধ্যাযে ইন্দ্রকৃতং শ্রীশ্রীআদ্যাশক্তিপার্বতীস্তোত্রম্ সংপূর্ণম্ ॥

🙏🙏🙏🙏🙏ॐ পার্বত্যৈ নমঃ॥🙏🙏🙏🙏🙏

🙏🙏🙏🙏🙏ॐ নমঃ শিবায॥🙏🙏🙏🙏🙏


🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩


[সংস্কৃত শ্লোক উচ্চারণে অসুবিধা হলে শুধুমাত্র বাংলা অনুবাদ করা শ্লোকের অর্থ পাঠ করে নিত্য স্তুতি করা যাবে]


🌺🌺🌺🌺🌺বাংলা অনুবাদ🌺🌺🌺🌺🌺


হে দেবি ! হে মহামায়ে !

তুমি দেবগণের আরাধ্যা, তুমি অক্ষর, অব্যক্তা, অনন্তা ও নিরাময়া; তােমার জয় হোক। ১


হে সৰ্বার্থসিদ্ধিদে ! হে বিদেহন্থে ! হে ভদ্রে !

তুমি ত্রিগুণময়ী আদ্যা-শক্তি।

হে বিশ্বম্ভরে ! হে গঙ্গে ! তোমার জয় হোক। ২


হে দেবি !

  তুমিই ব্ৰহ্মাণী, তুমিই কৌমারী, তুমিই নারায়ণী, তুমিই ঈশ্বরী, তুমিই বারাহী, তুমিই ইন্দ্রাণী,তুমিই মাহেশ্বরী।৩


হে মাতঃ !

তুমিই মহালক্ষ্মী তোমার জয় হোক।

হে পাৰ্বতি ! তুমিই সর্বভূতে অধিষ্ঠাতা; তুমি জগতের জ্যেষ্ঠা।

বুধগণ তোমাকেই ঐরাবতী, ভারতী বলে বর্ণন করেন; তােমার জয় হোক ।৪


হে ঈশানি ! হে শিবে !

তুমি নিৰ্ম্মল, মৃগাবতী ও তেজোবতী নিত্য সৰ্বস্বরূপ ও সকলের পূজনীয়া;

অতএব তােমার জয় হোক। ৫


তুমি সর্বজ্ঞা এবং তুমিই জীবগণকে ধৰ্ম্ম – অর্থ – কাম – মােক্ষ — চতুৰ্বর্গ প্রদান করে থাক;

  তুমিই গায়ত্রী, সন্ধ্যা ও বিভাবরীরূপে বিরাজ করছ। তুমি কল্যাণময়ী এবং তুমিই জীবগণের জয় ও পরাজয়স্বরূপা।৬


হে দুর্গে ! হে মহাকালি ! তুমি শিবদূতী, মহামুণ্ডা, নন্দা, শিবপ্রিয়া, ভ্রামণী ও রেবতী নামে প্রসিদ্ধ; তোমার জয় হোক ।৭


হে ক্ষেমঙ্করি ! হে শিবে !

   তুমি শিবদূতী , ভ্রামণী ও রেবতী নামে প্রসিদ্ধ; তোমার জয় হোক।

    হে উমে ! হে মঙ্গল্যে ! তােমার নাম হরসিদ্ধি, তোমার জয় হোক, তোমাকে প্রণাম করি ।৮


হে মহিষাসুরঘাতিনি !

আনন্দ মহাবর্ণা, অনঘা, বিশালাক্ষী, অনঙ্গা ও সরস্বতী;তোমার জয় হোক। ৯


তুমি অশেষগুণের আবাসভূমি, তােমা হতেই বৃত্রাসুর নিধন প্রাপ্ত হয়েছে।

   হে অম্বিকে ! তুমিই যোগেশ্বরী ও সঙ্কল্পরূপা, হে ত্রৈলােক্যসুন্দরি ! তোমার জয় হোক । ১০


হে পদ্মেন্দুসম্ভবে ! তুমিই শুম্ভ ও নিশুম্ভকে বিনাশ করেছ।

     হে সৰ্ব্বাণি ! তুমি সৰ্বাভীষ্ট দান করে থাক এবং তুমিই কৌশিকী ও বারুণী নামে অভিহিতা হও; তােমার জয় হোক ।১১


তােমার জয় হোক !

হে সর্বাণী ! হে অম্বিকে !

তোমার জয় হোক জয় হোক।

হে দেবি ! হে শরণাগত বৎসলে !

তোমাকে বারংবার নমস্কার,

আমাদেরকে রক্ষা কর॥ ১২


হে ভবানি ! যারা তােমার এই জয়মালা কীর্তন করে,

হে পরমেশ্বরি ! তাদের আধ্যাত্মিকাদি ত্রিবিধ দুঃখই বিনষ্ট হয়ে থাকে।১৩


তারা সৰ্ব্ব, পাপবিনিম্মুক্ত, সর্বৈশ্বৰ্য্য – সমন্বিত ও সর্বরােগ-বিবর্জিত হয়ে সূৰ্যসম প্ৰকাশ পেতে থাকে।১৪


এবং দেহ অবসানে নিঃসন্দেহ ভগবতী পার্বতীকে সন্দর্শন করে। অন্যান্য মানব-দিগের ন্যায় কোন কালেই তাদের ইন্দ্রিয়- বিকলতা ঘটে না ।১৫


অধিক কি ?(এর থেকে বেশি আর কি বলার থাকতে পারে?), এই স্তোত্র পাঠের ফলে স্কন্দলােকের উপরে স্থিত পুনরাবৃত্তি-রহিত(জন্মমৃত্যুরহিত) দেবীলােকে যে গমন করবে, তাতে আর কিছুমাত্র সংশয় নেই।১৬


🙏🙏🙏🙏🙏ॐ পার্বত্যৈ নমঃ 🙏🙏🙏🙏🙏


♣পুরাণ অনুসারে সূতমুনি ঋষিগণদের এই পবিত্র কথন শ্রবন করিয়েছিলেন।স্তবের কথন শেষ করে সূত মুনি বললেন , দেবরাজ ভগবতী পার্বতীকে এই রূপ স্তব করলে দেবী মহামায়া পার্বতী মা সর্বলঙ্কারভূষিতা হয়ে ইন্দ্রের সম্মুখে আবির্ভুত হইলেন।



মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সোমবার ব্রত বিধি ও মাহাত্ম্য (শৈবপুরাণোক্ত)

শিবরাত্রির ব্রত বিধি ১ (মূলপূজা)

বৃহৎ শিবার্চন বিধি পুস্তক (শৈব আগমোক্ত)

শিবরাত্রির ব্রত বিধি ২ (প্রহরপূজা)

ত্রিপু্রোৎসব দীপপ্রজ্জ্বলন রীতি – স্কন্দমহাপুরাণোক্ত