নবদুর্গা - কুষ্মাণ্ডা (৪)

 

দেবী কুষ্মাণ্ডা


চৈত্র/আশ্বিন মাসের নবরাত্রির শুক্লা চতুর্থী তিথিতে পার্বতী মাতার নবদুর্গারূপের অন্তর্গত চতুর্থরূপের আরাধনা করা হয় যা দেবী কুষ্মাণ্ডা নামে পরিচিত । 


আদিশক্তি শিবার হিরণ্যগর্ভা স্বরূপই হল - দেবী কুষ্মাণ্ডা। 

কু শব্দের অর্থ হল - ছোট, উষ্মার অর্থ তাপ। দুর্বিষহ ত্রিতাপ হল কুষ্মা, যিনি এই ত্রিতাপ নিজের উদরে বা অণ্ডে ধারণ করেন। অর্থাৎ তিনি ত্রিতাপ তথা আধ্যাত্মিক, আধিদৈবিক ও আধিভৌতিক দুঃখকে হরণ করে নেন।

 শিবা দেবী তার এই রূপে জগৎ সৃষ্টি করেছিলেন। তাই তিনি এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা হিসেবে পূজিতা হন। কুষ্মাণ্ডা দেবীর রয়েছে অসাধারণ দিব্য সৌন্দর্য এবং অনন্য নির্মল সুন্দর হাস্য বদন। তার রূপ ও সুন্দর হাসি দিয়ে সমগ্র বিশ্বের অন্ধকার দূর করেন কুষ্মাণ্ডা। সূর্যের কেন্দ্রে দেবী কুষ্মাণ্ডার বাস । সূর্যের প্রচণ্ড শক্তি গোটা জগৎ - এ ছড়িয়ে দেন দেবী কুষ্মাণ্ডা। যাবতীয় রোগশোক ও দুঃখ যন্ত্রণা উপশম করেন দেবী কুষ্মাণ্ডা।

 সূর্যের মতোই প্রচণ্ড তেজ দেবী কুষ্মাণ্ডার। তিনি সিংহবাহিনী, অর্থাত্‍ সিংহের পিঠে আরোহণ করেন। পৃথিবীর, সূর্য, তারা এবং নক্ষত্রমণ্ডলীর সৃষ্টি করেছেন দেবী কুষ্মাণ্ডা। তারপর তিনি নিজেই সূর্যের গহ্বরে প্রবেশ করেন। কুষ্মাণ্ডা এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের যাবতীয় শক্তির উত্‍স। সৌন্দর্য ও সাহসের প্রতীক হলেন ইনি। তার হাসি থেকেই নির্গত হয় স্বর্গীয় প্রভা ও শক্তি। এই দিন ঘন নীল রঙের পোশাক পরিধান করতে হয়। নবরাত্রির চতুর্থ রাতে ঘন নীল রঙের পোশাক পরা কুষ্মাণ্ডার আরাধনা করার সমান বলে মান্যতা আছে ।

তাছাড়া পূজা করতে কুমড়ো বলি প্রয়োজন হয়, এই কারণে ভক্তগণ দেবীকে কুষ্মাণ্ডা বলে ডাকেন। 


দেবীর মুখমণ্ডল সূর্যসম দীপ্তিমান। আদ্যাপার্বতীর একটি রূপ হলেও এই দেবীর আটটি হস্ত বর্তমান । তিনি আট হস্তে হাতে যথাক্রমে চক্র, গদা, তির, ধনুক, জপমালা, শতদল, একটি অমোঘ কলস ও একটি কমণ্ডলু ধারণ করেন। দেবী তার বাহন হিসেবে সিংহের উপরে স্থিতা।

 দেবীর এই স্বরূপ দিব্য জ্যোতি, প্রতাপ, মাতৃত্ব, করুণা, দুঃখহারিণী, অনুশাসন ও প্রাণশক্তির প্রতীক। নবরাত্রির চতুর্থ দিনে দেবীর এই স্বরূপের পূজা ও ব্রত অনুষ্ঠান করলে আয়ু, যশ, বল ও আরোগ্য লাভে সহায়ক হয়।ইনি আরাধনাকারীকে সমাজে শ্রদ্ধা, সম্মান, খ্যাতি প্রদান করেন। কুষ্মাণ্ডার পূজা করলে জীবন থেকে যাবতীয় অশুভ শক্তি দূর হয়।

 দেবী কুষ্মাণ্ডার মন্দির বারাণসীতে অবস্থিত। এই দেবী বারানসীর দক্ষিণ দিক রক্ষাকারিণী । সেখানে দেবীর মন্দিরটি অপেক্ষাকৃত বড়ো ও অনেকগুলি চূড়া সম্পন্ন। মন্দিরটি লাল পাথরের, এই মন্দিরের সমক্ষে বারাণসীর বিখ্যাত তীর্থ দুর্গাকুণ্ড অবস্থিত। দেবী কুষ্মাণ্ডার মূল মন্দিরের গর্ভগৃহে অবস্থিত দেবী প্রতিমাটি পশ্চিমমুখী দুই হাত উচ্চ । আশ্বিনের শারদীয়া ও চৈত্রের বাসন্তী নবরাত্রির চতুর্থী তিথির দিন এই মন্দিরে বহু ভক্তের আগমন ঘটে ।


🔴কুষ্মাণ্ডা ধ্যান -

বন্দে বাঞ্ছিতকামর্থং চন্দ্রার্ধকৃতশেখরাম্ ।

সিংহারূঢামষ্টভুজাং কুষ্মাণ্ডাং চ য়শস্বিনীম্ ॥

ভাস্বরাং ভানুনিভামনাহতস্থিতাং চতুর্থদুর্গাং ত্রিনেত্রাম্ ।

কমণ্ডলুচাপবাণপদ্মসুধাকলশচক্রগদাজপবটীধরাম্ ॥

পটাম্বরপরিধানাং কমনীয়াং মৃদুহাস্যা নানালঙ্কারভূষিতাম্ ।

মঞ্জীরহারকেয়ূরকিঙ্কিণীরত্নকুণ্ডলমণ্ডিতাম্ ।

প্রফুল্লবদনাং চারুচিবুকাং কান্তকপোলাং তুঙ্গকুচাম্ ।

কোলাঙ্গীং স্মেরমুখীং ক্ষীণকটিং নিম্ননাভিং নিতম্বনীম্ ॥


🔴কুষ্মাণ্ডা স্ত্রোত্র -

দুর্গতিনাশিনী ত্বং হি দারিদ্র্যাদিবিনাশিনী ।

জয়দা ধনদা কূষ্মাণ্ডে প্রণমাম্যহম্ ॥

জগন্মাতা জগত্কর্ত্রি জগদাধাররূপিণী ।

চরাচরেশ্বরী কূষ্মাণ্ডে প্রণমাম্যহম্ ॥

ত্রৈলোক্যসুন্দরী ত্বং হি দুঃখশোকনিবারিণী ।

পরমানন্দময়ী কূষ্মাণ্ডে প্রণমাম্যহম্ ॥


🔴কুষ্মাণ্ডা কবচ -

হসরৈ মে শিরঃ পাতু কূষ্মাণ্ডা ভবনাশিনী ।

হসলকরী নেত্রঽথ, হসরৌশ্চ ললাটকম্ ॥

কৌমারী পাতু সর্বগাত্রে বারাহী উত্তরে তথা ।

পূর্বে পাতু বৈষ্ণবী ইন্দ্রাণী দক্ষিণে মম ।

দিগ্দিক্ষু সর্বত্রৈব কূম্বীজং সর্বদাঽবতু ॥


🔴কুষ্মাণ্ডা জপ মন্ত্ৰ :

ঐং হ্রীং দেব্যৈ নমঃ ॥


🔴কুষ্মাণ্ডা প্রণাম মন্ত্ৰ :

ॐ দেবী কূষ্মাণ্ডায়ৈ নমঃ ॥


সুরাসম্পূর্ণকলশং রুধিরাপ্লুতমেব চ ।
দধানা হস্তপদ্মাভ্যাং কূষ্মাণ্ডা শুভদাঽস্তু মে ॥ 


জগৎজ্যোতি তুমি মাগো শিবরূপা শিবানি ,

মোরে শিবপদ দাও উমা অন্য পদ নাহি জানি ।

(শ্রীনন্দীনাথশৈবকৃতপ্রার্থনা)


ॐ নমঃ শিবায়ৈ ॥

ॐ নমঃ শিবায় ॥


✍️লেখনীতে – শ্রীনন্দীনাথ শৈবজী


©️ Copyright এবং প্রচারে – International Shiva Shakti Gyan Tirtha

© Koushik Roy. All Rights Reserved https://issgt.wordpress.com

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ