নবদুর্গা – শৈলপুত্রী (১)
নবরাত্রির প্রথম চৈত্র/আশ্বিন শুক্লপক্ষের প্রতিপদ তিথি তে পার্বতী মাতার শৈলপুত্রী স্বরূপের আরাধনা হয় । এই দিন থেকেই পার্বতী মাতার আরাধনা শুরু হয় নবমী তিথি পর্যন্ত ।
পরমেশ্বর সদাশিবের পত্নী হলেন শিবা দেবী। ইনিই সাক্ষাৎ পার্বতীরূপে আবির্ভূত হয়ে বহু স্বরূপে লীলা করেছেন। ইনি সময়ে সময়ে ভক্তের দুর্গতি দূর করার জন্য কখনো কোনো কল্পে সরাসরি শিব লোক থেকেই দেবগণের সামনে প্রকট হয়ে তাদের বিপদ থেকে উদ্ধার করেছেন আবার কখনো কখনো অন্য কল্পে দেবতাদের প্রদান শক্তি থেকেই প্রকটিত হয়ে সেই বিপদগ্রস্ত দেবতা তথা ভক্তদের রক্ষা করেছেন অথবা অন্য কোনো কল্পে এই শিবা দেবীর সাক্ষাৎ লীলামূর্তিধারিণী পার্বতীদেবীই নিজে প্রচণ্ডশক্তিধারিণী রূপে বধ করেছেন দুর্গম নামক অসুর, মহিষাসুর নামক অসুর, তার ফলে তিনি দুর্গতিনাশিনী দূর্গা নামে জগতবিখ্যাত হয়েছেন ।
মূলত মাতা পার্বতীই বধ করেন কখনো নিজ সাক্ষাৎ রূপে কখনো বা নিজের শিবলোকে অবস্থিত সাক্ষাৎ শিবা দেবীর স্বরূপে বধ করেন ।
অল্পবুদ্ধি ব্যক্তি এই সহজ সরল বিষয়টি উপলব্ধি করতে সর্বদাই অক্ষম হয়ে থাকেন। তাই তারা এখানে সর্বদাই মাতা পার্বতী এবং তারই দুর্গা স্বরূপের মধ্যে ভেদ দর্শন করে থাকেন। যা সম্পূর্ণ ভাবে মায়াচ্ছন্নতার লক্ষণ। প্রকৃত বিদ্বান ব্যক্তি সর্বদাই এক পরাশক্তি কে জানেন। সেই আদ্যাশক্তি পার্বতী মাতার লীলা বোঝা কি সাধারণ ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব ?
এক শিবা দেবীই চরাচর জগতের একমাত্র জননী ।
সেই শিবা পার্বতী দেবীর শৈলপুত্রী স্বরূপ হল নবদুর্গার প্রথম স্বরূপ। দেবীকবচেও এটি বলা হয়েছে ।
শৈলপুত্রী কথার অর্থ হল – পর্বতের কন্যা ।
মাতা শিবা(দুর্গা) হলেন পর্বতরাজ হিমালয়ের কন্যা।
নবরাত্রির ১ম দিন নবদুর্গার প্রথম রূপ শৈলপুত্রীর আরাধনা করা বিধেয়, দেবীর মস্তকে অর্ধচন্দ্র শোভিত হয়, তার বাহন শ্বেত ষাঁড় নন্দী। ইনি দ্বিভূজা, যার এক হাতে থাকে ত্রিশূল। অন্য হাতে পদ্ম বিরাজমান ।
এনার ভৈরব শৈলেশ্বর ।
ইনি ভক্তকে বাঞ্ছিত ফল সহ যশ প্রদান করেন ।
কাশী/বারাণসী আলাইপুরার মড়িঘাটের কাছে মাতা শৈলপুত্রীর মন্দির আছে ।
বর্তমান মন্দিরটি প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসস্তুপের উপর নির্মিত হয়েছে। যদিও মন্দিরের প্রাচীন কুয়োটি এখনও আছে। দেবীর মূল মন্দিরটি অপেক্ষাকৃত ছোট। উক্ত মন্দিরের গর্ভগৃহের পশ্চিমদিকের দেওয়ালে শৈলপুত্রীর কষ্টিপাথরের বিগ্রহ বর্তমান। সম্মুখে কুণ্ডের মধ্যে কাশীখণ্ডস্থিত প্রাচীন শিবলিঙ্গ, তার নাম হল শৈলশ্বর। মাতার বিগ্রহ ও শিবলিঙ্গের উভয়েরই উচ্চতা প্রায় এক হাত মতো। শারদীয়া এবং বাসন্তী নবরাত্রির ১ম দিনেতে এই শৈলপুত্রীমন্দিরে প্রচুর ভক্তের আগমন ঘটে থাকে।
🔴শৈলপুত্রীর ধ্যান মন্ত্র –
বন্দে বাঞ্ছিতলাভায় চন্দ্রার্ধকৃতশেখরাম্ ।
বৃষারূঢাং শূলধরাং শৈলপুত্রীং য়শস্বিনীম্ ॥
পূর্ণেন্দুনিভাঙ্গৌরীং মূলাধারস্থিতাং প্রথমদুর্গাং ত্রিনেত্রাম্ ।
পটাম্বরপরিধানাং রত্নকিরীটাং নানালঙ্কারভূষিতাম্ ॥
প্রফুল্লবদনাং পল্লবাধরাং কান্তকপোলাং তুঙ্গকুচাম্ ।
কমনীয়াং লাবণ্যস্নেহমুখীং ক্ষীণমধ্যাং নিতম্বনীম্ ॥
🔴শৈলপুত্রী স্তোত্রম্ –
প্রথমদুর্গা ত্বং হি ভবসাগরতারিণী ।
ধন ঐশ্বর্যদায়িনী শৈলপুত্রী প্রণমাম্যহম্ ॥
ত্রিলোকজননী ত্বং হি পরমানন্দপ্রদায়িনী ।
সৌভাগ্যারোগ্যদায়নী শৈলপুত্রী প্রণমাম্যহম্ ॥
চরাচরেশ্বরী ত্বং হি মহামোহবিনাশিনী ।
ভুক্তিমুক্তিদায়নী শৈলপুত্রী প্রণমাম্যহম্ ॥
🔴শৈলপুত্রী কবচম্ –
ওঙ্কারঃ মে শিরঃ পাতু মূলাধারনিবাসিনী ।
হ্রীঙ্কারঃ পাতু ললাটে বীজরূপা মহেশ্বরী ॥
শ্রীকারঃ পাতু বদনে লজ্জারূপা মহেশ্বরী ।
হূঙ্কারঃ পাতু হৃদয়ে তারিণী শক্তিঃ স্বধৃতা ॥
ফট্কারঃ পাতু সর্বাঙ্গে সর্বসিদ্ধিফলপ্রদা ।
🔴শৈলপুত্রী প্রনাম মন্ত্র –
ॐ শৈলপুত্রীং প্রপদ্যে, পুনর্ভুং ময়োতুম্ ।
কন্যাং শিখলিনি পাশহন্তাং যুবতীং কুমারীণীম ॥
মাতা পার্বতী শৈলপুত্রীরূপে আমাদের প্রত্যেক ভক্তশৈবদের শান্তিপ্রদান করুন, আমরা যেন অটুট ভক্তি দ্বারা শিবচরণ লাভ করতে পারি এবং মাতা পার্বতীর স্নেহময়ী দৃষ্টির ভাগীদার যেন চিরকাল হতে পারি ।
বন্দে বাঞ্ছিতলাভায় চন্দ্রার্ধ্বকৃতশেখরাম্ ।
বৃষারূঢ়াং শূলধরাং শৈলপুত্রীং যশস্বিনীম্ ॥
শিবা তুমি আসিলে পুত্রী হইয়া শৈলরাজ ঘরে ,
কৃপা ভিক্ষা চাহি মাগো তরাও তুমি এ অধমেরে ।
(শ্রীনন্দীনাথশৈবকৃতপ্রার্থনা)
ॐ নমঃ শিবায়ৈ ॥
ॐ নমঃ শিবায় ॥
✍️লেখনীতে – শ্রীনন্দীনাথ শৈব জী
©️ Copyright এবং প্রচারে – International Shiva Shakti Gyan Tirtha
© Koushik Roy. All Rights Reserved https://issgt100.blogspot.com


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন