শক্তিতত্ত্ব ও কুলতত্ত্ব

“ ইচ্ছা শক্তিরুমা কুমারী ” 

(শিবসূত্র/প্রথম উন্মেষ-শাম্ভবোপায়/১৩নং সূত্র)

👉 পরমেশ্বর পরাভৈরবের (পরমশিব) ইচ্ছা শক্তিই সাক্ষাৎ পরাভট্টারিকা উমা, কুমারী নামে অভিহিত হন। তিনি পরাবাক স্বরূপিণী।

“ গৌরীর্মিমায় সলিলানি তক্ষত্যেকপদী দ্বিপদী সা চতুষ্পদী| অষ্টাপদী নবপদী বভূবুষি সহস্রাক্ষরা পরমে ব্যোমন্ || ৪১ ||” 

(ঋগ্বেদ সংহিতা/প্রথম মণ্ডল/১৬৪ নং সূক্ত)


👉সায়ণভাষ্য - “ গৌরী: গরণশীলা মাধ্যমিকা বাক্ | ... গৌরীর্গরণশীলি শব্দব্রহ্মাত্মিকা বাক্ ” 

- পরমব্রহ্মের শব্দ ব্রহ্মাত্মিকা যে স্পদন তাহাই বাক বা পরাবাক। পরা-পশ্যন্তী-মধ্যমা-বৈখরী।‌ সূক্ষ্ম থেকে স্থূল স্বরূপে অবতীর্ণা এই বাক দ্বারাই সমগ্র জগৎ নির্মিত/ গঠিত।

 

“ অমতীতি অমা , অ - মা - ইতি , অবিদ্যমানং মা - মানং , নিষেধঃ নিত্যোদিব্যাং সংহারশ্চ যত্র সা ভগবতী অমা ইতি উত্যতে| হৃদয়স্থা তু যা শক্তি কৌলিকী কুলনায়িকা ....”

(কাশ্মীর শৈবাচার্য শ্রী অভিনবগুপ্ত বিরচিত 'পরাত্রিংশিকা বিবৃতি') 

👉 অমাকলাই (ঊর্ধ্বকুণ্ডলিনী সপ্তদশীকলা) সাক্ষাৎ ভগবতী পরাশক্তির বাচক। হৃদয়াস্থিতা (পরমেশ্বরের) সেই শক্তিই কৌলিকী , কুলনায়িকা নামে অভিহিত হন। 


“ বিসর্গস্যেইব বিশ্লেষ ইতি সপ্তদশীকলা | 

ক্বচিদষ্টাদশী সৈব পুনঃ প্রক্ষোভযোগতঃ || 

অনুত্তরস্যাকারস্য পরভৈরবরূপিণঃ | 

অকুলস্য পরা যেয়ং কৌলিকী শক্তিরুত্তমা || 

স এবায় বিসর্গস্তু তস্মাজ্জাতমিদং জগৎ | ”

(কাশ্মীর শৈবাচার্য ক্ষেমরাজকৃত টীকা /বিজ্ঞান ভৈরব তন্ত্র /৯১ নং শ্লোক ) 

👉পরমেশ্বরের এই বিসর্গ শক্তিই সাক্ষাৎ সপ্তদশীকলা । (শক্তিসঙ্গম তন্ত্র মতে সপ্তদশী কলা ঊর্ধ্বকুণ্ডলিনী হিসেবে পরিচিত।) ইহা সাধকের মনের ভাব ও যোগের দ্বারা অষ্টাদশীকলায় রূপান্তরিত হয় । অন্যদিকে 'অকার' সাক্ষাৎ অনুত্তর তত্ত্ব পরাভৈরবস্বরূপ অদ্বিতীয় ব্রহ্মস্বরূপ। অকুল (বা অকুলাতীত) আদিনাথের এই বিসর্গ শক্তিকেই পরাশক্তি ও কৌলিকি শক্তি বলা হয়ে থাকে, যার থেকে সমগ্র জগৎ জাত হয়। এই বিসর্গের দুই বিন্দুর বর্ণ সাদা ও লাল। এই বিসর্গ শক্তিই বিমর্শময়ী অহংভাব প্রকাশিকা, ইহাই পরমেশ্বরের বহিঃ উল্লাসিত শক্তি, ইহাই স্পন্দ , ইহাই হৃদয়। সপ্তদশী কলা স্বরূপা এই বিসর্গ শক্তিকেই আচার্য জয়রথ তাঁর তন্ত্রালোক- ভাষ্যে 'অব্যক্ত হকার - অর্ধকলা' বা 'হার্ধ কলা' বা 'বিমলকলা' হিসেবে উল্লেখ করে গেছেন। 

অকার (বিন্দু /শিব /অকুল) + বিসর্গ (কুল /‌শক্তি) = পূর্ণ হকার । সুতরাং, বিসর্গ = অর্ধ হকার বা হকারার্ধ কলা । 


শ্রীভৈরব উবাচ্ -

" ন শিবেন বিনা শক্তির্ন শক্তিরহিতঃ শিবঃ |

ক্রিয়াধারস্য মার্গোহয়ং পরেচ্ছা শম্ভুঃ কেবলম্ || ৪৯ || " 

(গোরক্ষসংহিতা/ প্রথম খণ্ড/ ১৬ নং পটল) 

অর্থ- শিব ছাড়া শক্তির উপস্থিতি সম্ভপর না এবং শিব কখনও শক্তিরহিত হননা (কেননা - "সর্বং খল্বিদং ব্রহ্ম"।) তিনিই সমস্ত ত্রিয়ার আধার স্বরূপ এবং সেই শিব - শম্ভুরই কেবল ইচ্ছাতে সমস্ত কার্যের মার্গ খোলে ।

“ ন শিবেন বিনা শক্তির্ন শক্তিরহিতঃ শিবঃ | 

অন্যোন্যশ্চ প্রবর্ত্তন্তে অগ্নিধূমৌ যথা প্রিয়ে || ৮ || 

ন বৃক্ষরহিতা চ্ছায়া ন চ্ছায়ারহিতো দ্রুমঃ | ৯ | ”

(শ্রীমৎস্যেন্দ্রনাথ বিরচিত কৌলজ্ঞাননির্ণয়/১৭ নং পটলঃ

👉ভৈরব দেবীকে বললেন - শিব ছাড়া শক্তির উপস্থিতি সম্ভপর নয় এবং শিব কখনও তাঁর সেই নিজা শক্তি হতে পৃথক হন না। অগ্নি এবং ধূমের মধ্যে সম্পর্ক যেরূপ , বৃক্ষ ও তার ছায়ার মধ্যে সম্পর্ক যেরূপ , শক্তি ও শিবের মধ্যেও সেই একই রকমের সম্পর্ক বিদ্যমান। 

“ সঃ পরং নিষ্কলং নিত্যং নিরাময়নিরঞ্জনম্ || ৪ || পরমানুমুচ্যতে নাথো স শিবো ব্যাপকঃ পরঃ | ৫ | 

(শ্রীমৎস্যেন্দ্রনাথ বিরচিত কৌলজ্ঞাননির্ণয় / ৬ নং পটলঃ ) 

👉ভৈরব বললেন- সেই আদিনাথ শিবই পরম নিষ্কল , তিনি নিত্য , নিরাময় ও নিরঞ্জন । তিনি অনু পরমাণুর ন্যায় সূক্ষ্ম , তিনিই সর্বব্যাপক। অর্থাৎ শিব ও শক্তি অর্থাৎ প্রকাশ ও বিমর্শ এই দুই ভাব পরমব্রহ্ম পরমশিবের মধ্যেই চনক বা ছোলার দুইটি বীজপত্রের আকারেই বিদ্যমান থাকছে।

“ অকুলমিতি জাতিবর্ণগোত্ৰাদ্যখিল নিমিত্তত্বেনৈ কমেবাস্তীতিপ্ৰসিদ্ধং তথা ৯ এবং কুলাকুলরূপা সামরস্যপ্রকাশভূমিকাস্ফুটীকরণ একৈবমর্থা যা সাহপরংপরাং শক্তিরেবাবশিষ্যতে অপরংপরং নিখিলবিশ্বপ্রপঞ্চজালং পরতত্ত্বং সম্পাদয়ত্যেকীকরোতী তৎপরাশক্তিরাজ্ঞাবতী প্ৰসিদ্ধা || ১০ || অকুলংকুলমাধত্তে কুলঞ্চাকুলমিচ্ছতি জলবুদ্বুদবন্ন্যায়াদেকাকারঃ পরঃ শিবঃ || ১১ || অতএব পরমকারণং পরমেশ্বরঃ পরাৎপরঃ শিবঃ স্বস্বরূপতয়া সর্বতোমুখঃ সর্বাকারতয়া স্ফুরিন্তুং শক্নোতীত্যতঃ শক্তিমান্, শিবোহপি শক্তিরহিতঃ শক্তঃ কর্তুং ন কিঞ্চন | ১৩ | ” 

(গুরু গোরক্ষ নাথ বিরচিত 'সিদ্ধসিদ্ধান্ত পদ্ধতি'/চতুর্থ উপদেশ)  

👉অনাদি পরব্রহ্ম পরমেশ্বর আদিনাথ নিরাকার , অলখ নিরঞ্জন , অকুল । সেই অকুল অথবা অকুলাতীত শিবে সুপ্ত পরাশক্তিও তাই অকুল পদ বাচ্য । অকুল অর্থাৎ জাতি , বর্ণ , গোত্র এবং নিমিত্ত বিবর্জিত । ( ৯ ) । কুল ( বিশ্বময় ) এবং অকুল ( বিশ্বাতীত ) শক্তির এই দুটি স্বরূপ থাকার জন্যই পরাশক্তিকেও কুল - অকুল স্বরূপা বলা হয়ে থাকে । অকুল শিবের সাথে সামরস্য অবস্থায় থাকার পর সেই পরাশক্তি প্রকাশের ন্যায় প্রস্ফূটিত হন এবং নিজা , পরা , অপরা প্রভৃতি স্বরূপ ধারণ পূর্বক বিশ্বসংসার জগতপ্রপঞ্চ সৃষ্টি করে থাকেন । এই পরাশক্তিকেই পরমেশ্বর আদিনাথের আজ্ঞাবতী শক্তি বলা হয়ে থাকে । ( ১০ ) । কুল - অকুল - এই দুই স্বরূপেই শিব ও শক্তি অবস্থান করে থাকেন । বিশ্বাতীত- অকুল , বিশ্বময় - কুল । জলে বুদ্বুদ যেমন মিলে মিশে একাকার হয়ে থাকে , ঠিক তেমন ভাবেই শিবে শক্তি বিরাজমান থাকে । ( ১১ ) । তাই আদিনাথ শিবকেই পরমকারণ , পরাৎপর ও পরমেশ্বর বলা হয়ে থাকে । তিনি সর্বকারণ , সর্বতোমুখ , অনন্তশক্তি সম্পন্ন , যার থেকে শক্তি স্ফূরিত হন । এই কারণেই শিবকে শক্তিমান বলা হয় । শিব যখন শক্তি রহিত হন অর্থাৎ শিবের মধ্যে শক্তি যখন নিষ্ক্রিয় ও সুপ্ত হয়ে যায় তখন তিনি কোনো কাজ করেন না । ১৩। (ইহাই হল শাক্ত মতের সেই নিষ্ক্রিয় শব অর্থাৎ নির্গুণ ব্রহ্ম অবস্থা অথবা বেদান্তের সেই 'শান্তং শিবং অদ্বৈতং' অবস্থা )।

“ শক্তিঃ স্বাভাবিকী তস্য বিদ্যা বিশ্ববিলক্ষণা |

একানেকস্য রূপেন ভাতি ভানোরিব প্রভা || ১ ||

অনন্তাঃ শক্তযো যস্যা ইচ্ছাজ্ঞানক্রিয়াদয়ঃ |

মায়াদ্দাশ্চাভবন্বহ্নের্বিস্ফুলিঙ্গা যথা তথা || ২‌ ||”

(শিবমহাপুরাণ/ বায়বীয় সংহিতা/ উত্তরভাগ/ অধ্যায় নং ৭)

👉 উপমন্যু বললেন—পরমেশ্বর শিবের স্বাভাবিক শক্তি হল বিদ্যা(পরা,অপরা,পরাপরা), যা সব থেকে বিশিষ্টরূপে প্রকাশিত, সেটি এক হয়েও বহু রূপে প্রভাসিত ; সূর্যের প্রভা যেমন এক হয়েও বহুরূপে প্রকাশিত হয় । এই বিদ্যাশক্তি দ্বারা ইচ্ছাশক্তি, জ্ঞানশক্তি, ক্রিয়াশক্তি, মায়াশক্তি ইত্যাদি নানা শক্তি উৎপন্ন হয়েছে, ঠিক তেমনভাবে যেমন অগ্নি থেকে নানাপ্রকার ফুলকি প্রকটিত হয়।

👉“একো হি রুদ্রো ন দ্বিতীয়ায় তস্থূর্য ইমাংল্লোকান্ ঈশত ঈশনীভিঃ। ”(শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ – ৩/২)

(পরমেশ্বর) রুদ্রই এক এবং অদ্বিতীয় আছেন, তিনি ভিন্ন দ্বিতীয় কেউ নেই। যিনি নিজ শক্তির দ্বারা নিখিল বিশ্বজগৎ নিয়ন্ত্রিত করেন। সেই রুদ্রই সমস্ত জীবের অন্তরে আছেন।  সেই রুদ্রই সৃজন, পালন ও প্রলয় করেন।


👉“ স তস্মিন্নেবাকাশে স্ত্রীয়মাজাগাম্ |

বহুশোভমানামুমাং হৈমবতীং তাং হোবাচ কিমেতদযক্ষমিতি || ১২ ||” 

(কেন উপনিষদ/ তৃতীয়খণ্ড)

👉এরপর ইন্দ্রদেব আকাশে একটি দীপ্তিমতী স্ত্রীর অবয়ব দেখতে পেলেন,  তিনিই উমা। তিনি হৈমবতী। সেই উমাকে এরপর ইন্দ্রদেব জিজ্ঞেসা করলেন যে কে এই যক্ষ।


এপ্রসঙ্গে শৈব পণ্ডিত শ্রীউমচিগি শঙ্কর শাস্ত্রী বলছেন -

“‌ স ইন্দ্র তস্মিন্নেবাকাশপ্রদেশে পরশিবব্রহ্ম স্বস্য শিবাং তনুমদর্শয়েৎ , …তাং বিদ্যাস্বরূপিণীং হৈমবতীং হিমবতঃ পুত্রীম্ উমাম্ উমাশব্দবাচ্যাং পার্বতীমাবির্ভূতামুবাচ…..”

👉ভাষ্যের অনুবাদ - যক্ষরূপি পরমশিবরূপি ব্রহ্মের অন্তর্হিত হওয়ার পর ইন্দ্রদেব এরপর সেই আকাশে সেই পরমশিবের শক্তি শিবাকে দর্শন করলেন।  তিনি বিদ্যাস্বরূপিণী (পরা বিদ্যা বা পরা শক্তি বা ব্রহ্মবিদ্যা অর্থে), তিনি হিমালয়ের পুত্রী উমা হৈমবতী। উমা শব্দে ‘পার্বতীকে’ বোঝানো হচ্ছে।

এমনকি আদিশঙ্কর আচার্যের শাঙ্কর ভাষ্যেও(অদ্বৈত ভাষ্য)  পর্যন্ত বলা আছে — “ উমাং… শোভনতমাং বিদ্যাং……উমৈব হিমবতো দুহিতা হৈমবতী নিত্যমেব সর্ব্বজ্ঞেন ঈবরেণ সহ বর্ত্তত….”

 👉অর্থাৎ উমা হলেন সর্বশোভা সম্পন্না, হেমাভরণসম্পন্না ও বিদ্যাস্বরূপিণী (ব্রহ্মবিদ্যা অর্থে)।  উমা অর্থাৎ হিমালয়ের কন্যা হৈমবতী যিনি সর্বজ্ঞ ঈশ্বরের  সাথে নিত্যা বিরাজিতা।‌‌ (এখানে ব্রহ্ম স্বয়ং সেই ঈশ্বর এবং উমা হলেন ব্রহ্মবিদ্যা বা ব্রহ্মের-স্বরূপ জ্ঞান প্রদায়িণী বিদ্যা, কেননা তিনি ব্রহ্মের সাথেই থাকছেন। এই ধারণাও শৈবমতের  পরিপন্থী।


♦️উমা/পার্বতী কি সত্যিই ব্রহ্মবিদ্যা??  দেখে নেওয়া যাক  তৈত্তিরীয় আরণ্যকে সায়ণভাষ্য 'এই উমাপতি, 'অম্বিকাপতি‘ প্রসঙ্গে কি বলছে —

সায়ণভাষ্য —  “ অম্বিকা জগন্মাতা পার্বতী তস্যাঃ পতয়ে ভর্ত্রে।  তস্যা একাম্বিকায়া ব্রহ্মবিদ্যাত্মকো দেহ উমাশব্দেনোচ্যতে | তাদৃশ্যা উমায়াঃ পতয়ে স্বামিনে রুদ্রায় পুনঃ পুনর্নমস্কারোহস্তু | ”

(কৃষ্ণ যজুর্বেদ / তৈত্তিরীয় আরণ্যক / দশমপ্রপাঠক/ ১৮ নং অনুবাক)

👉ভাষ্যের অনুবাদ– অম্বিকা অর্থাৎ জগন্মাতা পার্বতী।  অম্বিকাপতি অর্থাৎ সেই জগন্মাতা পার্বতীর পতি। সেই এক ও দ্বিতীয় ব্রহ্মবিদ্যাস্বরূপিণী অম্বিকাই উমা শব্দের দ্বারা বাচিত হয়েছেন (সাকারে)। সেই উমার পতি,  স্বামী রুদ্রকে (মহাদেব)  পুনঃ পুনঃ নমষ্কার।

তো পরিষ্কার হয়েগেল এখান থেকে কে আসলে ব্রহ্মবিদ্যা এবং কে তাঁর পতি (স্বয়ং ব্রহ্ম)।


🔘তাছাড়া ভগবদগীতাতেও সাংখ্যের জড় অপরা প্রকৃতি থেকে উর্ধ্বে এক পরা প্রকৃতির কথা বলা হয়েছে।  ভগবদগীতার সপ্তম অধ্যায়ে ৫-৭ নং শ্লোকে বলা আছে যে — পরমেশ্বরের  অষ্টধাজড়প্রকৃতির (পঞ্চভূত + তিনটি অন্তঃকর্ণ) চেয়েও আরও একটি সূক্ষ্মপ্রকৃতি আছে তাঁর নাম পরাপ্রকৃতি। এই পরাপ্রকৃতি হল ‘জীবাভূতাং’ অর্থাৎ ইহাই জীব বা পুরুষ হয়েছেন। এই পরাপ্রকৃতিই জীব সৃষ্টির নিমিত্ত কারণ। এই পরাপ্রকৃতিই জগতকে ধারণ করে আছেন। পরমেশ্বরের এই অপরা ও পরাপ্রকৃতিই হল সর্বভূতের উৎপত্তির কারণ।

ভগবৎ গীতার  অভিনবগুপ্ত ভাষ্য–কাশ্মীর শৈব সাধক মহামহেশ্বর অভিনবগুপ্ত তাঁর ভগবদগীতার অদ্বৈত শৈব ভাষ্য  ‘গীতার্থ সংগ্রহ’ তে বলেছেন —

“ সৈব জীবত্বং-পুরুষত্বং প্রাপ্তা পরা মমৈব নান্যস্য চ |সোভয়রূপা বেদ্যবেদকাত্মকপ্রপঞ্চোপরচনবিচিত্রা …..স্বস্বভাবাত্মিকা সততমব্যভিবারিণী প্রকৃতিঃ | ইদং জগৎ ভূম্যাদি | ”

-  সেই জড় প্রকৃতি যখন পুরুষের সাথে একীভূত হন তখন সেই তত্ত্বকেই পরাপ্রকৃতি বলে।  পরমেশ্বরের সেই পরাপ্রকৃতি উভয়রূপ অর্থাৎ প্রকৃতি-পুরুষাত্মক ও বেদ্য-বেদকাত্মক জগতের কারণ।

আর এই পরাপ্রকৃতিই হল সাক্ষাৎ পরমেশ্বর ব্রহ্মের ইচ্ছাশক্তি বা মহামায়া ব্রহ্মবিদ্যাস্বরূপিণীও বলা যেতে পারে । আসলে পরমশিবের  এই পরাপ্রকৃতিই পুরুষ  ও মায়া প্রকৃতিরূপে  আত্মপ্রকাশ করছেন।  

 ভগবৎ গীতার শাঙ্করভাষ্যের আনন্দগিরি টীকায় স্পষ্টভাবেই বলা হয়েছে --

“ অচেতনবর্গমেকীকর্ত্তুং প্রকৃতেরষ্টধা .... চেতনবর্গমেকীকর্ত্তুং পুরুষস্য চৈতন্যস্য বিদ্যাশক্ত্যবচ্ছিন্নস্যাপি...”

- অর্থাৎ অচেতন জড় প্রকৃতিই হল অষ্টধাপ্রকৃতি বা মায়া (অপরা বিদ্যা) । কিন্তু চেতন প্রকৃতি হল জীব বা পুরুষের চৈতন্যস্বরূপ, তিনি সাক্ষাৎ বিদ্যাশক্তি (পরাবিদ্যা)।

🙏 ॐ নমঃ ভগবতে রুদ্রায়। 

🙏 ॐ নমঃ শিবায়। 

🙏জয় মা পরমেশ্বরী পার্বতী। 

🙏জয় শৈব সনাতন ধর্মের ।


👉সংগ্রহে ও লেখনীতে - ©RohitKumarChoudhury(ISSGT)


👉প্রচারে- International Shiva Shakti Gyan Tirtha - ISSGT


[🔴কেউ লেখাটি কপি করতে চাইলে পুরো পোস্ট টাকেই কপি করতে হবে,   কাটছাঁট করা চলবে না এবং আমাদের পেজের নাম( ISSGT ) ও সংশ্লিষ্ট  লেখকের নাম দেওয়া বাধ্যতামূলক।]

©RohitKumarChoudhury. ISSGT. 2022. ARR 

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ