পঞ্চশ্লোকী
॥ পঞ্চশ্লোকী ॥
[ এই স্তোত্রে মোট পাঁচটি শ্লোক রয়েছে। এই কারণেই এই স্তোত্রকে 'পঞ্চশ্লোকী' বলা হয়েছে। এখানে পরমেশ্বর শিবের বিশ্বোতীর্ণ অবস্থার বর্ণনা রয়েছে। অভিনবগুপ্তপাদাচার্যজীর বিচারধারণা ছিলো যে পূর্ণ সমর্পন ছাড়া সেই পরম চৈতন্য অথবা পরমসত্তার সঙ্গে একাত্মভাব অর্থাৎ 'মোক্ষ ধাম' প্রাপ্ত করা সম্ভব নয়। ]
[ তথ্যসূত্র - শশীশেখর চতুর্বেদীর অনুবাদিত অভিনবস্তোত্রাবলি ]
(বঙ্গানুবাদে - শ্রীমতি নমিতা রায় দেবীজী(ISSGT)
যৎসত্যং তু মযা কৃতং মম বিভো কৃত্যং তু নাতঃ পরং যন্মন্মানসমৈশপাদকমলে ভক্ত্যা মযৈবার্পিতম্ ।
সর্বস্বমত এবমেতদিত্যন্নাস্ত্যৈব জানাম্যতস্ত্যক্ত্বা ক্ষিপ্রমনাথনাথ করুণাসিন্ধো প্রসন্নো ভব ॥১॥
অর্থ - হে প্রভু! যা আমি বাস্তবে করেছি তার থেকে অতিরিক্ত কোনো কৃত্য নেই যে আমি নিজের মনকে ভক্তিপূর্বক ঈশ্বরের চরণ কমলে অর্পিত করে দিয়েছি। এইজন্য এর থেকে অতিরিক্ত আর কিছুই নেই, এটিই আমি জানি , অতএব সবকিছু ছেড়ে হে অনাথের নাথ ! হে করুণাসিন্ধু! আমার উপর প্রসন্ন হোন।
মহেশ ত্বদ্দ্বারি স্ফুরতু রুচিরা বাগতিতরাং মমৈষা নির্দোষং জয জয মহেশেতি সততম্।
শিবা সৈষা বাণী ভবতু শিবদা মহ্যমনিশং মহেশানাথং মাং শরণদ সনাথং কুরু বিভো ॥২॥
অর্থ - হে মহেশ ! আপনার দ্বারে আমার এই রুচির বাণী নিরন্তর জয় জয় মহেশ করতে থাকে। এই কল্যাণময়ী বাণী আমার জন্য কল্যাণপ্রদ হয়। হে মহেশ! হে শরণাদাতা প্রভু ! এই অনাথকে সনাথ করুন।
ব্রূষে নোত্তরমঙ্গ পশ্যসি না মামেতাদৃশং দুঃখিতং
বিজ্ঞপ্তিং বহুধা কৃতাং ন শৃণুষে নাযাসি মন্মানসে।
সংসারার্ণবগর্তমধ্যপতিতং প্রাযেণ নালম্বসেবাক্চক্ষুঃশ্রবণাড়্ঘ্রিণাদিরহিতং ত্বামাহ সত্যং শ্রুতিঃ ॥৩॥
অর্থ - হে ভগবান! আপনি না তো উত্তর দেন না আমার মতো দুঃখীকে দেখেন। আমার দেওয়া বার্তা কে আপনি না শোনেন আর না আমার মনে আসেন। না আপনি সংসার রূপী সমুদ্রের গর্তে পতিত হওয়া আমাকে সহায়ক প্রদান করেন, বেদে কথিত আপনি বাক্, চক্ষু,শ্রবণ, পাদ আদি রহিত, তাই সত্য।
গুরোর্বাক্যাদ্ যুক্তিপ্রচযরচনোন্মার্জনবশাৎ সমাশ্চাসাচ্ছাস্ত্রং প্রতি সমুচিতাদ্বাপি কথিতম্।
বিলীনের শঙ্কাভ্রে হৃদযগগনোদ্ভাসিমহসঃ প্রভোঃ সূর্যস্যেব স্পৃশতু চরণান্ ধ্বান্তজযিনঃ ॥৪॥
অর্থ - গুরুদেবের বাক্যের দ্বারা, তর্কসমূহের রচনার উন্মার্জনের দ্বারা, শাস্ত্রের প্রতি বিশ্বাসের দ্বারা অথবা সমুচিতের দ্বারা শঙ্কা রূপী মেঘ বিলীন হয়ে গেলে, হদয় আকাশে চমকপ্রদ সূর্যের সমান তেজস্বী - অন্ধকারকে দূরকারী ভগবানের চরণ স্পর্শ করো।
যাতস্ত্বৎসহবাসতো বহুতরঃ কালো বতাস্মিন্ ক্ষণো
কিং কিং বা না কৃতং ত্বযা বরগুরুপাসানিমিত্তেন মে।
বারং বারমহং পুনর্নিমাং দিব্যং ভুবং প্রাসুবৎকাযস্ত্বাং
কিল বিস্মরামি যদতঃস্থেযং না ভূযস্ত্বযা ॥৫॥
অর্থ - আপনার সাথে বসবাসের কারণে বহু সময় পেরিয়ে গিয়েছে আর এই ক্ষণকালে আমি শ্রেষ্ঠ গুরুর উপাসনার দ্বারা নিজের কি কি করিনি ??
আমি বারংবার অনুপম দিব্য পৃথিবীতে জন্ম নিয়ে আপনাকে ভুলে যাই, অতএব আপনি পুনরায় আমার অন্তর মনে স্থিত হয়ে থাকুন ।
॥ ইতি শ্রীমৎ অভিনবগুপ্তবিরচিতা পঞ্চশ্লোকী সমাপ্তা ॥
🚩কপিরাইট ও প্রচারে - International Shiva Shakti Gyan Tirtha - ISSGT


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন