ঋগবেদের গৃহ্যসূত্র থেকে — “পশুবলি ও মাংস আহার” সম্পূর্ণভাবে ধর্মসম্মত ও বৈধ বলে প্রমাণিত
ভূমিকা —
রক্ত মাংসের পশু বলি দিয়ে দেব-দেবীর উপাসনা করাই বেদের বিধান, বেদের এই বিধান সহ সমগ্র বেদের অর্থ বোধগম্য করবার জন্য তথা আরো বিস্তারিত ব্যাখ্যা করবার জন্য বেদের অঙ্গ অর্থাৎ বেদাঙ্গ শাস্ত্রের সহায়তা প্রয়োজন। বেদাঙ্গ হল সহায়ক গ্রন্থ। বেদাঙ্গ ছয় প্রকার। যথা — শিক্ষা, ব্যাকরণ, নিরুক্ত, ছন্দ, জ্যোতিষ ও কল্প। কল্পশাস্ত্র অর্থাৎ “যজ্ঞ ও ধর্মাচরণের সঠিক পদ্ধতি”। কল্পশাস্ত্র আবার চারটি প্রধান ভাগে বিভক্ত, যথা — শ্রৌতসূত্র, গৃহ্যসূত্র, ধর্মসূত্র, শুল্বসূত্র। এই চার রকমের কল্পসূত্রের মধ্যে গৃহ্যসূত্র হল জন্ম, উপনয়ন, বিবাহ, শ্রাদ্ধ, অতিথিসেবা ইত্যাদির বিষয়ে উপযুক্ত বিধান তথা করণীয় বিষয়ের বিশেষ শাস্ত্র।
এই গৃহ্যসূত্র শাস্ত্র স্পষ্টভাবে পশু বলির বিভিন্ন বিধানকে উল্লেখ করে রেখেছে। ফলে গৃহ্যসূত্র অর্থাৎ বেদাঙ্গ থেকেই পশুবলি শাস্ত্র সম্মত বলে প্রমাণিত। চলুন ঋগ্বেদের অন্তর্গত গৃহ্যসূত্র গুলি থেকে রক্তমাংসের পশু বলি দেওয়ার প্রমাণ দেখে নেওয়া যাক।
ঋগবেদের গৃহ্যসূত্র থেকে — “পশুবলি ও মাংস আহার” সম্পূর্ণভাবে ধর্মসম্মত ও বৈধ বলে প্রমাণিত
প্রমাণ
🔥আশ্বলায়ন গৃহ্যসূত্র থেকে —
👉 অথ পশুকল্পঃ ।। ১।।
অর্থ — এরপর পশুযজ্ঞ বলা হচ্ছে।
🗡️ যজ্ঞে পশুকে আহুতি দেওয়া হয়
উত্তরতোহগ্নেঃ শামিত্রস্যায়তনং কৃত্বা পায়য়িত্বা পশুম্ আপ্লাব্য পুরস্তাত্ প্রত্যঙ্মুখম্ অবস্থাপ্যাগ্নিং দূতম্ ইতি দ্বাভ্যাং হুত্বা সপলাশয়ার্দ্রশাখয়া পশ্চাদ্ উপস্পৃশেদ অমুষ্মৈ ত্বা জুষ্টমুপাকরোমীতি।। ২।।
(আশ্বলায়ন গৃহ্যসূত্র—১-১১-২)
অর্থ — অগ্নির উত্তরদিকে শামিত্র অগ্নির স্থান সম্পন্ন করে, পশুটিকে পান করিয়ে, স্নান করিয়ে পূর্বদিকে পশ্চিমমুখী করে স্থাপন করে 'অগ্নিং দূতম্' (ঋ.১।১২।১,২) ইত্যাদি দু'টি মন্ত্রের দ্বারা আহুতি দিয়ে পর্ণযুক্ত আর্দ্র একটি শাখার দ্বারা পশুর পৃষ্ঠদেশ 'অমুষ্মৈ-
(অমুক দেবতার পক্ষে প্রিয়কর তোমাকে স্পর্শ করি) এই মন্ত্রে স্পর্শ করবেন।
বিবৃতি- আর্দ্র ভিজা, শুকিয়ে যায় নি এমন। আজ্যভাগ পর্যন্ত আনুষঙ্গিক গৌণ অনুষ্ঠানগুলি সম্পন্ন করে এই সূত্রের কাজগুলি করতে হয়। 'অগ্নিং দূতম্' শব্দে শুরু একাধিক মন্ত্র ঋক্ সংহিতায় আছে, কিন্তু মন্ত্রের সম্পূর্ণ চরণটি উদ্ধৃত করা হয় নি বলে এখানে ঐ দুই শব্দে শুরু যে সূক্ত, সেই সূক্তের মন্ত্রকেই বুঝতে হবে। নিয়ম হচ্ছে- সূত্রে মন্ত্রের সম্পূর্ণ চরণ উদ্ধৃত না হলে ঐ শব্দে শুরু যে সূক্ত সেই সূক্তের সব মন্ত্রই পাঠ করতে হয়। সেই অনুযায়ী এখানে দু'টি সূক্ত পাঠ করার কথা, কিন্তু দু'টি সুক্ত পাঠ করতে হলে সূত্রকার, 'দ্বে' না বলে 'সূক্তে' বলেন, যেমন তিনি 'উপ প্র যত্ন ইতি সূক্তে' (আ. শ্রৌ. ৪/১৩) সূত্রে বলেছেন। এখানে তা না বলায় দু'টি মন্ত্রই শুধু পাঠ করতে হবে।।
🗡️ উপাসনাতে/যজ্ঞে পশু বধ হয় —
পশ্চাচ্ ছামিত্রস্য প্রাক্শিরসং প্রত্যক্শিরসং বোদক্পাদং সংজ্ঞপ্য পুরা নাভেস্ তৃণম্ অন্তর্ধায় বপাম্ উতখিদ্য বপাম্ অবদায় বপাশ্রপণীভ্যাং পরিগৃহ্যাদ্ভির্ অভিষিচ্য শামিত্রে প্রতাপ্যাগ্রেণৈনম্ অগ্নিং হৃত্বা দক্ষিণত আসীনঃ শ্রপয়িত্বা পরীত্য জুহুয়াত্।। ১০।।
(আশ্বলায়ণ গৃহ্যসূত্র— ১-১১-১০)
অর্থ — শামিত্র অগ্নির পশ্চিম দিকে তিনি (শমিতা) পশুটিকে বধ করবেন। পশুটি সেই সময় এমনভাবে থাকবে যাতে তার মাথা পূর্ব বা পশ্চিমদিকে এবং পা উত্তরদিকে থাকে। নাভির উপর তৃণ স্থাপন করে বপাকে ছিন্ন করে দু'টি বপাশ্রপণী দ্বারা তা নিয়ে, তার উপর জল সিঞ্চন করে, শামিত্রে সেটি উত্তপ্ত করে ঔপাসন অগ্নির সামনে নিয়ে যাবেন এবং দক্ষিণ দিকে বসে তা (বপা) পাক করে দু'টি অগ্নিকে পরিক্রমা করে আহুতি দেবেন।।
🔥 রুদ্রের (পরমেশ্বর শিবের) উদ্দেশ্যে পশুযাগ —
অথ শূলগবঃ।।১।।
(আশ্বলায়ন গৃহ্যসূত্র— ৪-৯- ১)
অর্থ — এরপর শূলগব (বলা হচ্ছে)।
বিবৃতি— শূল শব্দের অর্থ এখানে (শূল আছে এই অর্থে অচ্ -প্রত্যয়) শূলী বা শূলধারী রুদ্র। তাঁর উদ্দেশে গো-পশু দ্বারা অনুষ্ঠেয় যাগ 'শূলগব'।
(গো জাতের ষাঁড় শিবের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করে স্বাধীন ভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়ে থাকে জনসমাজে - ইষ্ট্বান্যম্ উত্ সৃজেত্ (আশ্বলায়ন গৃহ্যসূত্র— ৪-৯- ৩৭)। )
🕉️ মহাদেব রুদ্রের উদ্দেশ্যে পশু বর্ধিত হোক —
রুদ্রায় মহাদেবায় জুষ্টো বর্ষস্বেতি।।৯।।
(আশ্বলায়ন গৃহ্যসূত্র— ৪-৯- ৯)
অর্থ — 'রুদ্রায়-' (মহাদেব রুদ্রের প্রীতিকর পশু বর্ধিত হোক) এই মন্ত্রে।
🕉️ শিবের অষ্টমূর্তির উদ্দেশ্যে আহুতি প্রদান 🔥 —
হরায় মৃডায় শর্বায় শিবায় ভবায় মহাদেবোগ্রায় ভীমায় পশুপতয়ে রুদ্রায় শঙ্করায়েশানায় স্বাহেতি ।।১৭।।
(আশ্বলায়ন গৃহ্যসূত্র— ৪-৯- ১৭)
অর্থ — 'হরায়' এই (মন্ত্রে বপা আহুতি দেবেন)।।
🕉️ জগতের যত নাম তা বস্তুত রুদ্রেরই নাম, রুদ্র সর্বব্যাপী —
(আশ্বলায়ন গৃহ্যসূত্র— ৪-৯- ২৭)
সর্বাণি হ বা অস্য নামধেয়ানি ।। ২৭।।
অর্থ — সকলই এই রুদ্রেরই নাম।।
বিবৃতি— জগতের যত নাম তা বস্তুত রুদ্রেরই নাম, রুদ্র সর্বব্যাপী।
🏰 সকল সেনা রুদ্রেরই সেনা —
সর্বাঃ সেনাঃ ।। ২৮।।
(আশ্বলায়ন গৃহ্যসূত্র— ৪-৯- ২৮)
অর্থ — সকল সেনা (রুদ্রেরই সৈন্য)।।
🌐 সকল উৎকৃষ্ট বস্তুসমূহ রুদ্রেরই অধীনে —
সর্বাণ্যুচ্ছ্রয়ণানি ।। ২৯।।
(আশ্বলায়ন গৃহ্যসূত্র— ৪-৯- ২৯)
অর্থ — সকল উৎকৃষ্ট বস্তুসমূহ (রুদ্রেরই অধীনে)।।
🔥শাঙ্খায়ন গৃহ্যসূত্র থেকে —
🍗 মাংস ভক্ষণ করা যায় —
আজমন্নাদ্যকামঃ ।।২৷৷
তৈত্তিরং ব্রহ্মবর্চসকামঃ ।।৩।।
মাৎস্যং জবনকামঃ ।।৪।।
ঘৃতৌদনং তেজস্কামঃ ।।৫।।
(শাঙ্খায়ন গৃহ্যসূত্র— ১-২৭- ১/১১)
অর্থ — ভক্ষ্য-অন্ন-প্রার্থী ব্যক্তি শিশুকে ছাগমাংস ভক্ষণ করাবেন। ব্রহ্মতেজপ্রার্থী তিতির পাখীর মাংস ভক্ষণ করান, দ্রুতগতিপ্রার্থী মৎস (মাছ) ভক্ষণ করান, তেজপ্রার্থী ঘৃতমিশ্রিত অন্ন ভক্ষণ করান।।
🍗 অর্ঘ্যদানে মাংস দিতে হয়, অতিথির জন্য মাংস প্রস্তুত করতে হয় —
নামাংসোহঃ স্যাৎ ।।২।।
অধিযজ্ঞঅধিবিবাহং কুরুতেত্যেব ক্রয়াত্ ।। ৩।।
আচার্যায়াগ্নেয়ঃ ।। ৪।।
(শাঙ্খায়ন গৃহ্যসূত্র—২-১৫- ১/১১)
অর্থ — অর্ঘ যেন মাংসবর্জিত না হয়। যজ্ঞের সময়ে বা বিবাহের সময়ে সমাগত অতিথি যেন বলেন, 'প্রস্তুত কর'। আচার্যকে যে পশু অর্ঘ দেওয়া হয় তা অগ্নি-সম্পর্কিত।।
🗡️ মধুপর্কে, উপাসনায়, সোমযাগে, পিতৃকার্যে, দেবকার্যে পশু বলি দেওয়া হয় —
মধুপর্কে চ সোমে চ পিতৃদৈবতকর্মণি।
অত্রৈব পশবো হিংস্যা নান্যত্রেত্যব্রবীন্ মনুঃ ।। ১।।
(শাঙ্খায়ণ গৃহ্যসূত্র— ২-১৬- ১/৬)
অর্থ — মনু বলেছেন, মধুপর্কে ও সোমযাগে, পিতৃযাগে ও দেবযাগেই শুধু পশুদের বধ করা চলে, অন্যত্র নয়।।
🔥বাড়ির ভিতরে বা বাড়ির উপর যদি ঘুঘু বা পেঁচা বসে, অমঙ্গলজনক দূঃস্বপ্ন বা এমন কিছু দেখলে যজ্ঞ করতে হয় (শাঙ্খায়ন গৃহ্যসূত্র— ৫-৫ ১/৩)
🔥কৌষীতকি গৃহ্যসূত্র থেকে —
🗡️ উপাসনায় পশু বলি দেওয়া যায় —
মধুপর্কে চ সোমে চ পিতৃদৈবতকর্মণি।
অত্রৈব পশবো হিংস্যা নান্যত্রেত্যব্রবীন্ মনুঃ।।
(কৌষীতকি গৃহ্যসূত্র— ৩-১০)
🔥পারস্কর গৃহ্যসূত্র থেকে —
🗡️ রুদ্রের উদ্দেশ্যে একটি পশু বলি দিতে হয় —
ঔপাসনমরণ্যং হৃত্বা বিতানং সাধয়িত্বা রৌদ্রং পশুমালভেত ॥ ৩
(পারস্কর গৃহ্যসূত্র— ৩য় কাণ্ড- ৮ম কণ্ডিকা- ৩)
অর্থ — আবসথ্যাগ্নিকে বনে নিয়ে গিয়ে বিতান বিস্তার করে, রুদ্রদেবতার উদ্দেশ্যে একটি পশুকে বলি দিতে হবে।।৩।।
🔥শিবের অষ্টমূর্তির উদ্দেশ্যে আহুতি প্রদান —
ষপাং শ্রপয়িত্বা স্থালীপাকমবদানানি চ রূদ্রায় বপামন্তরিক্ষায় বসাং স্থালীপাকমিশ্রান্যবদানানি জুহোত্যগ্নয়ে রুদ্রায়, শর্বায়, পশুপতয়ে উগ্রায়াশনয়ে ভবায় মহাদেবায় ঈশানায়েতি চ ॥৬
(পারস্কর গৃহ্যসূত্র— ৩য় কাণ্ড- ৮ম কণ্ডিকা- ৬)
অর্থ — বপা পাক করে স্থালীপাক এবং হৃদয়াদি নিয়ে স্থালীপাক মিশ্রিত হৃদয়াদি পাক রুদ্রায়বপাম্ এবং অন্তরিক্ষায় বসাম, মন্ত্রে আহুতি দেওয়া হয়।
স্থালীপাকমিশ্রিত অবদানগুলি দিয়ে অগ্নয়ে স্বাহা, রূদ্রায় স্বাহা, শর্বায় স্বাহা, পশুপতয়ে স্বাহা, উগ্রার শাহা, ঈশানায় স্বাহা, ভবার স্বাহা, মহাদেবায় স্বাহা, ঈশানায় স্বাহা-মন্ত্রে নয়টি আহতি দেওয়া হয়।
🗡️ পরমেশ্বর রুদ্র এবং রুদ্রের সেনাদের উদ্দেশ্যে পলাশ পাতায় পশুর রক্ত ও বলি প্রদান — 🐐🩸
লোহিতং পালাশেষু কুর্চেষু, রুদ্রায় সেনভ্যো বলিং হরতি যাস্তে রুদ্র পুরস্তাৎসেনা স্তাভ্য এষ বলিস্তাভ্যস্তে নমো যাস্তে রুদ্র দক্ষিণতঃ সেনান্তাভ্য এষ বলি স্তাভ্যস্তে নমো যান্তে রুদ্র পশ্চাৎসেনাস্তাভ্য এষ বলিস্তাভ্যন্তে নমো যাস্তে রুদ্রোত্তরতঃ সেনাস্তাভ্য এষ বলি শুন্তাভ্যন্তে মমো যান্তে রুদ্রোপরিষ্টাৎ সেনাস্তাভ্য এষ বলি স্তাভ্যস্তে নমো যাস্তে রূদ্রাসেনাস্তাভন্তে নাম ইতি।। ১১
(পারস্কর গৃহ্যসূত্র— ৩য় কাণ্ড- ৮ম কণ্ডিকা- ১১)
অর্থ — (তারপর) ঐ পশুর রক্ত পলাশ পাতায় কুশের উশর 'যাতে রুদ্র-ইত্যাদি ছয়টি মন্ত্র পাঠ করে করে রুদ্রকে এবং তাঁর সেনাদের ছয়টি বলি প্রদান করে হবে।।
🫳 অর্ঘ্যদানে মাংস প্রদান করতে হয় —🍗
ন ত্বেবামাংসোহর্ঘঃ স্যাৎ। ২৯
(পারস্কর গৃহ্যসূত্র/১ম কাণ্ড/৩য় কণ্ডিকা/২৯)
অর্থ — অর্ঘ কখনও মাংসহীন হবে না। ২৯
🥘 অন্নপ্রাশনে শিশুকে মাংস ও মাছ খাওয়াতে হয় — 🐠
ভারদ্বাজ্যা মাংসেন বাকপ্রসারকামস্য।৭
কপিঞ্জলমাংসেনান্নাদ্যকামস্য।৮
মৎস্যৈজবন কামস্য।৯
কৃকষায়া আয়ুষ্কামস্য। ১০
আট্যা ব্রহ্মবর্চসকামস্য।১১
সর্বৈঃ সর্বকামস্য।১২
(তথ্যসূত্র — পারস্কর গৃহ্যসূত্র/১ম কাণ্ড/১৯ কণ্ডিকা/৭-১২)
অর্থ — পিতা যদি শিশুর বাকপ্রসার অর্থাৎ শিশু বাগ্মী হবে ইচ্ছা করেন, তাহলে শিশুকে ভারদ্বাজী পক্ষিনীর মাংসের সাথে খাওয়াবেন।৭
অন্ন, ভক্ষণের যোগ্য হওয়ার ইচ্ছা করলে কপিঞ্জল মাংসের সঙ্গে খাওয়াবে।৮
শিশুকে বেগবান করতে ইচ্ছা করতে মাছ দিয়ে খাওয়াবেন।৯
শিশ চিরায়ুঃ হোক ইচ্ছা করলে কাঁকড়া মাংস দিয়ে খাওয়াবেন।১০
শিশুকে ব্রহ্মতেজঃ সম্পন্ন করতে ইচ্ছা করলে আটী পাখীর মাংস খাওয়াতে হবে।
আর যদি উক্ত সমস্ত গুণই শিশুর কামনা করেন, তাহলে উপরিউক্ত সমস্ত প্রকার মাংস একসঙ্গে করে খাওয়াবেন।১১-১২
__________________________________________________________________________________________
✅ বাল্মীকি রামায়ণে বলা হয়েছে, শ্রীরামচন্দ্রের পিতা মহারাজ দশরথ পুত্রলাভের জন্য অশ্বমেধ যজ্ঞে অশ্ব (ঘোড়া) বলি দিয়ে তার দেহের প্রত্যেকটি অংশকে ছিন্ন করে আহুতি দিয়েছিলেন কল্পবেদাঙ্গ গৃহ্যসূত্র শাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী —
__________________________________________________________________________________________
সিদ্ধান্ত
গৃহ্যসূত্রের বিধানকে স্বয়ং মহারাজ দশরথ মান্য করে চলতেন, তাই বেদাঙ্গ শাস্ত্র গৃহ্যসূত্রের দেওয়া পশু বলির বিধান প্রামাণিক। এটিকে প্রক্ষিপ্ত বলা অসম্ভব। পশু বলি ও মাংস আহার সম্পূর্ণ ভাবে স্বাভাবিক, ধর্মসম্মত ও বৈধ। যারা শাস্ত্রের বচন মান্য করে না তারা পাপী।
__________________________________________________________________________________________



মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন