বিষ্ণুর কাছে যুদ্ধে বারংবার শিব পরাজিত হন বলে দাবী করা বৈষ্ণবদের অজ্ঞতার খণ্ডন
ভূমিকা -
Narayanastra নামে একটি Facebook Page আছে, এদের উদ্দেশ্য হল ভগবান বিষ্ণুর শ্রেষ্ঠত্বের নামে পরমেশ্বর শিবকে অপমান করা। বৈষ্ণবএরা নিজেদের আরাধ্য বিষ্ণুর শ্রেষ্ঠত্বের অহংকার বজায় রাখবার জন্য পরমেশ্বর শিবকে ‘অক্ষম’ প্রমাণ করবার মতো আকাশকুসুম কল্পনাকে নামিয়ে এনেছেন। দেখুন এই ভণ্ড বৈষ্ণবদের দাবিগুলির বাস্তবিকতা কতটা গ্রহণযোগ্য তা এবার আলোচনা করা হল।
____________________________________________________________________________________
🚫 ভণ্ড বৈষ্ণবের দাবী —
Narayanastra
⚫ রামায়ণে বিষ্ণু ও শিবের সংঘর্ষের ঘটনা এবং বিষ্ণুর বিজয়
জয় শ্রীমন্নারায়ণ
🔘শাস্ত্রসমূহে বহুবার ভগবান বিষ্ণু ও শিবের মধ্যে সংঘর্ষ বা যুদ্ধের উল্লেখ পাওয়া যায়। বিস্ময়কর হলেও সত্য, প্রায় প্রত্যেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়—শিবের পরাজয় এবং বিষ্ণুর বিজয়। কিন্তু সাধারণভাবে এই ঘটনাগুলো সম্পর্কে অনেকেই অবগত নন।
🚫সমস্যা হলো—কিছু ছুপা অদ্বৈতবাদী শৈব এবং নব্য শৈবরা ইচ্ছাকৃতভাবে বিষ্ণুর বিভিন্ন অবতারের সঙ্গে শিবের সংঘর্ষের কিছু আংশিক বা বিকৃত কাহিনী প্রচার করে, যাতে ভক্তদের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। তাদের দাবি—বিষ্ণুর নানা অবতার শিবের হাতে নিহত হয়েছেন।
🔵 কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো—বিভিন্ন কল্পে, ভগবান নিজের ইচ্ছায় তাঁর অবতারলীলা সংবরণ করেন, যা দেখে অনেকে ভুলভাবে শিবকে শক্তিশালী মনে করতে পারেন। অথচ বহু শাস্ত্রীয় ঘটনার মধ্যে আমরা স্পষ্ট দেখতে পাই — শিব ভগবান বিষ্ণুর হাতে প্রতিবারের যুদ্ধে পরাজিত হয়েছেন।
🌺আজ আমরা সেইরূপ একটি ঐতিহাসিক শাস্ত্রসম্মত ঘটনা নিয়ে আলোচনা করব, যেখানে ভগবান বিষ্ণুর হাতে শিবের পরাজয় সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে।
🔘বাল্মিকী রামায়ণ/বালকাণ্ড/৭৫ স্বর্গে আমরা শিব এবং বিষ্ণুর যুদ্ধের ঘটনার উল্লেখ পাই।
💖যথা - 🔴সমানসারং কাকুৎস্থ রৌদ্রেণ ধনুষা ত্বিদম্।
তদা তু দেবতাঃ সর্বাঃ পৃচ্ছস্তি স্ম পিতামহম্।। ১৪ শিতিকণ্ঠস্য কণ্ঠস্য বিষ্ণোশ্চ বলাবলনিরীক্ষয়া।
⚪"এই বৈষ্ণব ধনু ভীষণতায় (শক্তিতে) হরধনুর সমান। হে কাকুৎস্থ! এক সময় দেবতারা সকলে নীলকণ্ঠ মহাদেব এবং বিষ্ণুর মধ্যে পরস্পর শক্তির আধিক্য ও ন্যূনতা সম্বন্ধে (উভয়ের মধ্যে কার শক্তি বেশি, কার শক্তি কম- এই সম্বন্ধে) জানতে ইচ্ছা করে পিতামহ ব্রহ্মাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন।
🔴অভিপ্রায়ং তৃ বিজ্ঞায় দেবতানাং পিতামহঃ ॥১৫
বিরোধং জনয়ামাস তয়োঃ সত্যবতাং বরঃ।
⚪"সত্যপরায়ণদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ পুরুষ পিতামহ ব্রহ্মা দেবতাদের অভিপ্রায় (মনোভিলাষ) বুঝতে পেরে তাঁদের দুজনের (শিব ও বিষ্ণুর) মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে দিলেন।
🔴বিরোধে তু মহদ্ যুদ্ধমভবদ্ রোমহর্ষণম্।। ১৬
শিতিকণ্ঠসা বিষ্ণোশ্চ পরস্পরজয়ৈযিণোঃ।
⚪"পরস্পর বিজয়াভিলাষী শিব ও বিষ্ণুর বিবাদে রোমহর্ষক ভয়ানক যুদ্ধ হয়েছিল।
🔴তদা তু ভূম্ভিতং শৈবং ধনুর্ভীমপরাক্রমম্।। ১৭
হঙ্কারেণ মহাদেবঃ স্তম্ভিতোহথ ত্রিলোচনঃ।
⚪"সেই সময় সহসা ভগবান বিষ্ণুর ভয়ঙ্কর হুঙ্কারে (চিৎকারে) ভয়ানক শৈব ধনু শিথিল হয়ে পড়ল এবং ভগবান ত্রিলোচন মহাদেবও স্তম্ভিত হয়ে গেলেন।
🔴দেবৈস্তদা সমাগম্য সর্ষিসঙ্ঘঃ সচারণৈঃ।। ১৮
যাচিতেী প্রশমং তত্র জন্মতুস্তেী সুরোত্তমৌ।
⚪"তখন ঋষি ও চারণগণসহ দেবতারা সেখানে সমাগত হয়ে প্রার্থনা জানালে, বরেণ্য দেবতা দুজন (শিব ও বিষ্ণু) যুদ্ধ থেকে নিবৃত্ত হলেন।
🔴ভূম্ভিতং তদ্ ধনুদৃষ্ট্রা শৈবং বিষ্ণুপরাক্রমৈঃ। ১৯
অধিকং মেনিরে বিষ্ণুং দেবাঃ সর্ষিগণাস্তথা।
⚪"ভগবান বিষ্ণুর পরাক্রমে শৈব ধনুকটিকে (হরধনুকে) তদ্রূপ শিথিল হতে দেখে, ঋষিগণসহ দেবতারা বিষ্ণুকেই শ্রেষ্ঠ শক্তিশালী বলে স্বীকার করে নিলেন।💖
🔘রামায়ণের উক্ত ঘটনায় স্পষ্টভাবে ভগবান বিষ্ণুর বিজয় এবং শিবের পরাজয় দেখা যায়।
🍁বিকৃত অল্পবুদ্ধিযুক্ত বৈষ্ণব প্রাণীর দাবীর খণ্ডন শৈব পক্ষ থেকে —
বৈষ্ণবদের এই পুরো দাবিটাই অর্ধসত্য। এইখানে যে প্রভু শিবের পরাজয়ের ঘটনাটি ঘটেছে বলে বৈষ্ণবেরা দাবী করেছে তার পেছনে অন্য রহস্য লুকিয়ে আছে, সেই বিষয়ে আলোকপাত করা যাক।
♦️শিবমহাপুরাণের রুদ্র সংহিতার সতীখণ্ডের ২৫ অধ্যায়ে শিব কেন বিষ্ণুর কাছে পরাজিত হয় তার কারণ দেখুন —
[প্রসঙ্গ, মা সতীকে শ্রীরামচন্দ্র শিবের কৃপায় বিষ্ণুর অজেয় হবার শক্তি ও ঐশ্বর্য প্রাপ্তি বিষয়ে বিস্তারিত বলছেন]
অথো হরি সমাহূয় বৈকুণ্ঠাৎ প্রীতমানসঃ ।
তদ্ভক্ত্যা পূর্ণয়া দেবি মোদতি স্ম মহেশ্বরঃ ॥ ১০ ॥
সুমুহূর্তে মহাদেবস্তত্র সিংহাসনে বরে ।
উপবেশ্য হরিং প্রীত্যা ভূষয়ামাস সর্বশঃ ॥ ১১ ॥
আবদ্ধরম্যমুকুটং কৃতকৌতুকমঙ্গলম্ ।
অভ্যষিঞ্চন্মহেশস্তু স্বয়ং ব্রহ্মাণ্ডমণ্ডপে ॥ ১২ ॥
দত্তবান্নিখিলৈশ্বর্যং যন্নৈজং নান্যগামি যৎ ।
ততস্তুষ্টাব তং শম্ভুঃ স্বতন্ত্রো ভক্তবৎসলঃ ॥ ১৩ ॥
ব্রহ্মাণং লোককর্তারমবোচদ্বচনং ত্বিদম্ ।
ব্যাপয়ন্ স্বং বরাধীনং স্বতন্ত্রং ভক্তবৎসলঃ ॥ ১৪ ॥
✅ অর্থ — হে দেবী! ভগবান বিষ্ণুর পূর্ণ ভক্তিতে মহাদেব সদা-প্রসন্ন থাকতেন। তাই তিনি প্রীতিপূর্ণ হৃদয়ে শ্রীহরিকে বৈকুণ্ঠ থেকে আহ্বান করেন এবং শুভ মুহূর্তে শ্রীহরিকে ঐ শ্রেষ্ঠ সিংহাসনে বসিয়ে মহাদেব স্বয়ং প্রীতিপূর্বক তাঁকে সর্বপ্রকার অলংকারে বিভূষিত করেন। তাঁর মস্তকে মনোহর মুকুট পরানো হয় এবং তাঁর সঙ্গে মঙ্গল-কৌতুকও হয়। এই সব সাঙ্গ হলে মহেশ্বর স্বয়ং ব্রহ্মাণ্ডমণ্ডপে শ্রীহরির অভিষেক করেন এবং তাঁকে নিজের সমস্ত ঐশ্বর্য প্রদান করেন, যা অন্যের কাছে নেই।
তারপর ভক্তবৎসল শম্ভু শ্রীহরির স্তব করেন এবং নিজ পরাধীনতা (ভক্তের অধীনতা) ঘোষণা করে লোককর্তা ব্রহ্মাকে বলেন।
মহেশ উবাচ —
অতঃ প্রভৃতি লোকেশ মন্নিদেশাদয়ং হরিঃ ।
মম বন্দ্যঃ স্বয়ং বিষ্ণুর্জাতঃ সর্বঃ শ্রুণোতি হি ॥ ১৫ ॥
সর্বৈর্দেবাদিভিস্তাত প্রণম ত্বমমুং হরিম্ ।
বর্ণযন্তু হরিং বেদা মমৈতে মামিবাজ্ঞয়া ॥ ১৬ ॥
শ্রীরাম উবাচ —
ইত্যুক্ত্বাথ স্বয়ং রুদ্রোঽনমদ্বৈ গরুড়ধ্বজম্।
বিষ্ণুভক্তিপ্রসন্নাত্মা বরদো ভক্তবৎসলঃ ॥ ১৭ ॥
ততো ব্রহ্মাদিভির্দেবৈঃ সর্বরূপসুরৈস্তথা ।
মুনিসিদ্ধাদিভিশ্চৈব বন্দিতোঽভূদ্ধরিস্তদা ॥ ১৮ ॥
ততো মহেশো হরয়েঽশংসদ্দবিষদাং পুরঃ ।
মহাবরান্ সুপ্রসন্নো দত্তবান্ ভক্তবৎসলঃ ॥ ১৯ ॥
✅ অর্থ — মহেশ্বর বলেন- লোকেশ! আজ থেকে আমার নির্দেশানুসারে এই বিষ্ণু হরি স্বয়ং আমার বন্দনীয় হলেন। একথা সকলেই শুনুন। তাত! তুমি সমস্ত দেবতার সঙ্গে শ্রীহরিকে প্রণাম করো এবং আমার নির্দেশে বেদ আমার মতোই শ্রীহরির বর্ণনা করবে।
শ্রীরামচন্দ্র বলেন, হে দেবী সতী ! ভগবান বিষ্ণুর শিবভক্তি দেখে প্রসন্নচিত্তে বরদায়ক ভক্তবৎসল রুদ্রদেব উপরোক্ত কথা বলে নিজেই শ্রীগরুড়ধ্বজকে প্রণাম করলেন। তারপর ব্রহ্মাদি দেবগণ, মুনিগণ ও সিদ্ধাদিও শ্রীহরির বন্দনা করলেন। তখন ভক্তবৎসল মহেশ্বর অত্যন্ত প্রসন্ন হয়ে দেবতাদের সামনে শ্রীহরিকে অনেক বর দিলেন।
মহেশ উবাচ —
ত্বং কর্তা সর্বলোকানাং ভর্তা হর্তা মদাজ্ঞয়া ।
দাতা ধর্মার্থকামানাং শাস্তা দুর্ণয়কারিণাম্ ॥ ২০ ॥
জগদীশো জগৎপূজ্যো মহাবলপরাক্রমঃ ।
অজেয়স্ত্বং রণে ক্বাপি মমাপি হি ভবিষ্যসি ॥ ২১ ॥
শক্তিত্রয়ং গৃহাণ ত্বমিচ্ছাদি প্রাপিতং ময়া।
নানালীলাপ্রভাবত্বং স্বতন্ত্রত্বং ভবত্রয়ে ॥ ২২ ॥
ত্বৎ দ্বেষ্টারো হরে নূনং ময়া শাস্যাঃ প্রয়ত্নতঃ ।
ত্বদ্ভক্তানাং ময়া বিষ্ণো দেয়ং নির্বাণমুত্তমম্ ॥ ২৩ ॥
মায়াং চাপি গৃহাণেমাং দুঃপ্রণোদ্দাং সুরাদিভিঃ ।
যয়া সংমোহিতং বিশ্বমচিদ্রূপং ভবিষ্যতি ॥ ২৪ ॥
মম বাহুর্মদীয়স্ত্বং দক্ষিণোঽসৌ বিধির্হরে ।
অস্যাপি হি বিধেঃ পাতা জনিতাপি ভবিষ্যসি ॥ ২৫ ॥
হৃদয়ং মম যো রুদ্রঃ স এবাহং ন সংশয়ঃ ।
পূজ্যস্তব সদা সোঽপি ব্রহ্মাদীনামপি ধ্রুবম্ ॥ ২৬ ॥
অত্র স্থিত্বা জগৎ সর্বং পালয় ত্বং বিশেষতঃ ।
নানাবতারভেদৈশ্চ সদা নানোতিকর্তৃভিঃ ॥ ২৭ ॥
মম লোকে তবেদং বৈ স্থানং চ পরমর্দ্ধিমৎ ।
গোলোক ইতি বিখ্যাতং ভবিষ্যতি মহোজ্জ্বলম্ ॥ ২৮ ॥
ভবিষ্যন্তি হরে যে তেঽবতারা ভুবি রক্ষকাঃ ।
মদ্ভক্তাস্তান্ ধ্রুবং দ্রক্ষ্যে প্রীতানথ নিজাদ্ বরাৎ ॥ ২৯ ॥
✅অর্থ — মহেশ বললেন,
হরে! তুমি আমার আদেশে সম্পূর্ণ জগতের কর্তা, পালক এবং সংহারক হও। ধর্ম, অর্থ ও কামের দাতা এবং দুর্নীতি ও অন্যায়কারী দুষ্টদের দণ্ডদাতা হও; মহাবল-পরাক্রমসম্পন্ন, জগৎপূজ্য জগদীশ্বর হয়ে থাকো। সমরাঙ্গনে (রণক্ষেত্রে) তুমি কখনও পরাজিত হবে না, আমার কাছেও কখনও পরাজিত হবে না ॥ ২০-২১ ॥
তুমি আমার প্রদত্ত এই তিন প্রকার শক্তি গ্রহণ করো। এক, ইচ্ছা ইত্যাদির সিদ্ধি; দুই, নানারূপ লীলা প্রকট করার শক্তি এবং তিন, ত্রিলোকে নিত্য স্বতন্ত্রতা। হরে! যে তোমার দ্বেষকারী হবে, সে অবশ্যই আমার দ্বারা দণ্ডপ্রাপ্ত হবে। বিষ্ণো! আমি তোমার ভক্তদের উত্তম মোক্ষপ্রদান করব। তুমি এই মায়াও গ্রহণ করো, যা নিবারণ করা দেবতাদের পক্ষেও কঠিন হবে এবং যাতে মোহিত হলে এই পৃথিবী জড়রূপ হয়ে যায়। হরে! তুমি আমার বাম বাহু আর বিধাতা হলেন দক্ষিণ বাহু। তুমি এই বিধাতারও উৎপাদক এবং পালক হবে। আমার হৃদয়রূপ যে রুদ্র- সে-ই আমি-এতে কোনো সংশয় নেই। এই রুদ্র তোমার এবং ব্রহ্মাদি দেবতাগণেরও অবশ্যই পূজনীয়। তুমি এখানে থেকে বিশেষভাবে সম্পূর্ণ জগৎ পালন করো। নানাপ্রকার লীলাকারী বিভিন্ন অবতার দ্বারা সর্বদা সকলকে রক্ষা করতে থাকো। আমার চিন্ময় ধামে তোমার যে এই পরম বৈভবশালী এবং উজ্জ্বল স্থান, সেটি গোলোক নামে প্রসিদ্ধ হবে।
হরে! ভূতলে তোমার যেসকল অবতার হবেন, তাঁরা সকলের রক্ষক এবং আমার ভক্ত হবেন। আমি অবশ্যই তাদের দর্শন করবো। তারা আমার বরে সর্বদা প্রসন্ন থাকবেন।
শ্রীরাম উবাচ —
অখণ্ডৈশ্বর্যমাসাদ্য হরেরিত্থং হরঃ স্বয়ম্ ।
কৈলাসে স্বগণৈস্তস্মিন্ স্বৈরং ক্রীড়ত্যুমাপতিঃ ॥ ৩০ ॥
তদাপ্রভৃতি লক্ষ্মীশো গোপবেষোঽভবত্তথা ।
অয়াসীত্তত্র সুপ্রীত্যা গোপগোপীগবাং পতিঃ ॥ ৩১ ॥
সোঽপি বিষ্ণুঃ প্রসন্নাত্মা জুগোপ নিখিলং জগৎ ।
নানাবতারসন্ধর্তা বনকর্তা শিবাজ্ঞয়া ॥ ৩২ ॥
ইদানীং স চতুরদ্ধাত্রাবাতরৎ শংকরাজ্ঞয়া ।
রামোঽহং তত্র ভরতো লক্ষ্মণঃ শত্রুহেতি চ ॥ ৩৩ ॥
[শিবমহাপুরাণ/রুদ্রসংহিতা/সতীখণ্ড/২৫ অধ্যায়/১০-৩৩ নং শ্লোক]
✅ অর্থ — শ্রীরামচন্দ্র বললেন, হে দেবী ! শ্রীহরিকে এইভাবে নিজের অখণ্ড ঐশ্বর্য সমর্পণ করে উমাবল্লভ ভগবান হর স্বয়ং কৈলাস পর্বতে অবস্থান করে নিজ পার্ষদদের সঙ্গে স্বচ্ছন্দে ক্রীড়া করতে থাকেন। শ্রীবিষ্ণু প্রসন্ন চিত্তে সমস্ত জগতের রক্ষায় নিযুক্ত হলেন। শিবের নির্দেশে তিনি নানাপ্রকার অবতার গ্রহণ করে জগৎ পালন করেন। এই শ্রীহরিই এখন ভগবান শংকরের নির্দেশে চার ভাইয়ের রূপে অবতীর্ণ হয়েছেন। সেই চার ভাইয়ের সর্বজ্যেষ্ঠ আমি রাম, দ্বিতীয় ভরত, তৃতীয় লক্ষ্মণ এবং চতুর্থ শত্রুঘ্ন।
♦️বিশ্লেষণ - শিবমহাপুরাণে ভগবান রামচন্দ্রের বচন থেকে প্রমাণিত হয়ে গেল যে, পরমেশ্বর শিব (রুদ্ররূপী) নিজে বরদান দিয়ে বলেছেন যে, বিষ্ণু ও শিবের মধ্যে যুদ্ধের সময় শিবকৃপায় সর্বদা বিষ্ণুই জয় লাভ করবেন। এবার বুদ্ধি আছে এমন ব্যক্তিগণ ভাবুন, প্রভু শিব নিজের ভক্ত বিষ্ণুর কাছে পরাজিত হবার লীলা রচনা করেছেন মাত্র, এতে কি প্রকৃত পক্ষে পরমেশ্বর শিবের ক্ষমতা বিষ্ণুর থেকে অল্প বলে প্রমাণিত হতে পারে ?
প্রভু শিব বিষ্ণুর ভক্তিতে বিষ্ণুর কাছে পরাজিত হয়ে যাওয়ার অভিনয় করেন মাত্র যাতে প্রভু শিবের ভক্তকে এই জগতের সকলে সম্মান ও পূজা করেন। ভগবানের কাছে ভক্ত হলেন সন্তান, তাই সন্তানের সম্মান হতে দেখলে পিতা যেমনভাবে আনন্দিত হন, পরমেশ্বর ভগবান শিবও তেমন ভাবে তার পরমভক্ত বিষ্ণুর সম্মান হতে দেখতে চান।
প্রমাণ দেখুন -
পূজয়া শিবভক্তস্য শিবঃ প্রীততরো ভবেৎ ।
[শিবমহাপুরাণ/বিদ্যেশ্বর সংহিতা/অধ্যায় ১৭/১৩১ নং শ্লোক]
☘️অর্থ – শিবভক্ত শৈবকে পূজা করলে পরমেশ্বর শিব অত্যন্ত প্রসন্ন হন ॥ ১৩১ ॥
ভগবান বিষ্ণু শিবভক্ত হবার কারণে প্রভু শিব তার পূজা সম্মান হতে দেখতে চান। তাই প্রভু লীলাবশত নিজের ভক্তের কাছে নিজের অধীনতা দেখাবার জন্যেই পরাজয় হবার অভিনয় করেছেন। আর তার জন্য তিনি পূর্বেই বরদান দিয়ে রেখেছেন বিষ্ণুকে। বিষ্ণু অবতারও নেন শিবের আজ্ঞায়। প্রভু শিব বিষ্ণুর মাহাত্ম্য বৃদ্ধির জন্য বিষ্ণুর প্রশংসা করে থাকে, আর নিজের বিভূতিরূপী স্বরূপ দের দ্বারা বিষ্ণুর সহায়তা করে দেন কৃপা করে, প্রমাণ দেখুন -
সর্বে রুদ্রং ভজন্ত্যেব রুদ্রঃ কঞ্চিদ্ভজেন্ন হি ।
স্বাত্মনা ভক্তবাৎসল্যাদ্ভজত্যেব কদাচন ॥ ১৫
[শিবমহাপুরাণ/কোটিরুদ্রসংহিতা/অধ্যায় ৪২/১৫ নং শ্লোক]
☘️অর্থ – সবাই ভগবান রুদ্র তথা পরমেশ্বর শিবের ভজনা করেন, কিন্তু পরমেশ্বর শিব কারোর ভজন করেন না, কখনো কখনো ভক্তবৎসলবশত তিনি নিজেই নিজের ভক্তের প্রশংসা রূপে ভজনা করে থাকেন ॥ ১৫
♦️আরো দেখুন 👇
ব্রহ্মা বিষ্ণুশ্চ রুদ্রস্য স্বাসাধারণরূপতঃ ।
স্ববিভূত্যাত্মনা চাপি কুর্বাতে এব সেবনম্ ॥ ৫৫
রুদ্রঃ স্বেনৈব রূপেণ বিষ্ণোশ্চ ব্রহ্মণস্তথা ।
সেবনং নৈব কুরুতে বিভূতের্বা দ্বয়োরপি ॥ ৫৬
কেবলং কৃপয়া রুদ্রো লোকানাং হিতকাম্যয়া ।
স্ববিভূত্যাত্মনা বিষ্ণোর্ব্রহ্মণশ্চাপরস্য চ ॥ ৫৭
করোতি সেবাং হে বিপ্রাঃ কদাচিৎসত্যমীরিতম্ ।
ন তথা ব্রহ্মণা বিষ্ণুর্ণ ব্রহ্মা ন পুরন্দরঃ ॥ ৫৮
[স্কন্দমহাপুরাণ/সূতসংহিতা/যজ্ঞবৈভবখণ্ড/উত্তরার্দ্ধ/ (সূতগীতা) অধ্যায় ২]
অর্থ — ব্রহ্মা তথা বিষ্ণু নিজের রূপ তথা অবতার নিয়ে সেই অবতার আদি বিভূতিরূপ ধরেও সর্বদা ভগবান রুদ্রের ভজনা করেন। রুদ্র কোনোভাবেও এদের সেবা করেন না ।
কখনো কখনো শুধুমাত্র কৃপাবশত মানুষ কে হিত শেখাবার জন্য ব্রহ্মাদি কে পূজ্য বলেন বা নিজের অবতারাদি বিভূতিরূপ দ্বারা বিষ্ণু, ব্রহ্মাদির সেবা করে দেন মাত্র ।
কিন্তু বিষ্ণু-ব্রহ্মা কৃপাবশত শিবের পূজা করে দেন এমনটা নয় ॥ ৫৫-৫৮
🔷বেদ বলছে শিবের থেকে কেউ অধিক বলবান নেই -
অর্হন্ বিভৰ্ষি সায়কানি ধন্বার্হন্ নিষ্কং যজতং বিশ্বরূপম্ ।
অর্হন্নিদং দয়সে বিশ্বমভ্বং ন বা ওজীয়ো রুদ্র ত্বদস্তি ॥ ১০ ॥
🔥 অর্থ – হে রুদ্রদেব ! আপনি বাণ ও ধনুক ধারণ করে থাকেন, হে পূজনীয় প্রভু ! আপনিই বহুরূপে একমাত্র বিশ্বরূপধারী।আপনিই সমস্ত বিশ্বভুবনের রক্ষাকর্তা, আপনার চেয়ে অধিক বলবান কেহই নেই ॥ ১০
বেদ বচন অনুযায়ী, পরমেশ্বর শিব বিষ্ণু সহ সকল দেবদেবীর থেকেও শক্তিমান বলে প্রমাণিত হয়েছে।
____________________________________________________________________________________
সিদ্ধান্ত
বৈষ্ণবদের শাস্ত্রজ্ঞানহীনতা সহ ভণ্ডামি খণ্ডিত হবার সাথে সাথে সমগ্র শাস্ত্র প্রমাণের দ্বারা শ্রী বিষ্ণু শিব কৃপায় জগতে পূজিত হন ও একমাত্র পরমেশ্বর প্রভু শিবই সর্বশক্তিমান বলে প্রমাণিত হল।
____________________________________________________________________________________
শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তে 🚩
হর হর মহাদেব 🚩
✍️ সত্য উন্মোচনে — শ্রী নন্দীনাথ শৈব আচার্য জী
©️ কপিরাইট ও প্রচারে — International Shiva Shakti Gyan Tirtha - ISSGT


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন