দেবী পার্বতীকে কৃষ্ণের দাসী ও শিবকেমৃত বলে দাবী করা বেদবিরুদ্ধ নিকৃষ্ট কাহিনীর খণ্ডন





🔥 দেবী পার্বতীকে কৃষ্ণের দাসী ও শিবের মৃত বলে দাবী করা বেদবিরুদ্ধ নিকৃষ্ট কাহিনীর খণ্ডন ❌



🔰 ভূমিকা - 

কিছু নব্য বৈষ্ণবের আগমন হয়েছে যারা নিজেদের রামানুজের অনুসারী দাবী করে, এদের উদ্দেশ্য হল ভগবান বিষ্ণুর শ্রেষ্ঠত্বের নামে পরমেশ্বর শিব ও শক্তিকে অপমান করা। বৈষ্ণবেরা নিজেদের আরাধ্য বিষ্ণুর শ্রেষ্ঠত্বের অহংকার বজায় রাখবার জন্য পরমেশ্বর শিবকে ‘অক্ষম’ প্রমাণ করবার জন্য শাস্ত্রের মীমাংসা না জেনেই আক্ষরিক অর্থ কে সর্বোপরি বলে মেনে নেয়। এই সকল বৈষ্ণবদের মধ্যে থাকা এক বিকৃত মস্তিস্কের ব্যক্তি Ashok Sarkar, যিনি জগতের মাতা পরমেশ্বরী পার্বতী দেবীকে নিজের প্রেমিকা বলে দাবী করেন, সেই নরকের কীট আমাদের পরমেশ্বর শিবকে নিকৃষ্ট প্রমাণ করতে উদ্দ্যত হয়েছে, মাতা পার্বতী কে বিষ্ণুর দাসী বলে অপপ্রচার করছে। দেখুন এই ভণ্ড বৈষ্ণবদের দাবিগুলির বাস্তবিকতা কতটা গ্রহণযোগ্য তা এবার আলোচনা করা হল।

____________________________________________________________________________________


🚫 ভণ্ড বৈষ্ণবের দাবী —


দেবী পার্বতী কর্তৃক শিবের জীবন রক্ষার্থে প্রার্থনা।

পার্ব্বত্যুবাচ।
কৃষ্ণ কৃষ্ণ জগন্নাথ নারায়ণ দয়ানিধে।
দাস্যস্মি তব দেবেশ পূর্ব্বভাবে যদুত্তম।।৪৬
ত্বয়া দত্তং বরং মহ্যং তদা কৈলাসপর্ব্বতে।
সৌভাগ্যং শাশ্বতং সৌম্য প্রসন্নেন মহাত্মনা।।৪৭
তব মুখ্যং সহস্রস্য নাম্নামন্যতমং বিভো।
গৌরীসৌভাগ্যদাতেতি মুনিভিঃ পরিকীর্ত্তিতম্।।৪৮
তৎসত্যং কুরু গোবিন্দ গরুড়ারূঢ় শাশ্বত।
তস্মান্মম পতিং দেব ত্বং জীবয়িতুমর্হসি ।।৪৯

পদ্মমহাপুরাণ, উত্তরখন্ড, অধ্যায় ২৫০, শ্লোক ৪৬-৪৯

দেবী পার্বতী বললেন, হে কৃষ্ণ হে কৃষ্ণ, হে দয়ানিধি জগতের প্রভু নারায়ণ, হে দেবতাদের ঈশ্বর পূর্ব্বের ন্যায়ই আমি তোমার দাসী। ৪৬ 
হে সৌম্যদর্শন মহাত্মন, কৈলাশ পর্বতে তুমি আমার প্রতি প্রসন্ন হয়ে শাশ্বত সৌভাগ্য প্রদান করেছিলে। ৪৭
হে বিভু (সর্বব্যপক ঈশ্বর), মুনিগণ তোমার সহস্র নামের মধ্যে একটি বিশেষ প্রধান নাম কীর্তন করে থাকেন, যা হলো-'গৌরীসৌভাগ্যদাতা' (অর্থাৎ যিনি গৌরীকে সৌভাগ্য প্রদান করেছেন)। ৪৮ 
হে গোবিন্দ, হে গরুড়বাহন, হে শাশ্বত দেব, তোমার সেই নাম (এবং প্রতিশ্রুতি) সত্য করো। অতএব হে দেব, তুমি আমার পতিকে জীবিত করো। ৪৯।


___________________________________________________________________________________
___________________________________________________________________________________

🍁বিকৃত অল্পবুদ্ধিযুক্ত বৈষ্ণব প্রাণীর দাবীর খণ্ডন শৈব পক্ষ থেকে —

পুরো ঘটনাটি বিষ্ণু বা তার অবতার কে ঈশ্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবার জন্য ঘটানো হয়েছে,

 কিন্তু এইখানে শিবকে জীবিত করবার যে কথা উল্লেখ করা হয়েছে তাতেই রয়েছে ভণ্ডামি। 

প্রসঙ্গ টি হল - বাণাসুর ছিলেন শিবের উপাসক, তিনি মহাদেবের কাছে চেয়েছিলেন, যাতে বাণাসুরের সমান কোনো  শক্তিশালী পুরুষের সাথে যুদ্ধ হোক আর সেই যুদ্ধে যেন বাণাসুরের শক্তিশালী হস্তগুলি যুদ্ধ করতে পারে।  তার ইচ্ছা পূর্ণ করবার জন্য মহাদেব তাকে তথাস্তু বলেছিলেন।  কিন্তু বানাসুর মহাদেবের কাছে তার নগরীর রক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হবার জন্যও বর চেয়ে বসেন, তখন রুদ্রদেব তাই করেন। এদিকে শ্রীকৃষ্ণ যুদ্ধ করতে এলে মহাদেব তার সাথে যুদ্ধ করেন। কিন্তু মহাদেব সামনে থাকলে মহাদেবেরই বরদান অনুযায়ী বাণাসুরের সাথে কৃষ্ণের যুদ্ধ সম্ভব নয়। তাই রুদ্রদেব কে মার্গ থেকে স্থানান্তর করতেই হতো, তাই তিনি সেটি করে। কিন্তু কীভাবে করেন তা এই ভণ্ড বৈষ্ণব সেই সম্পূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করেনি, শুধুমাত্র উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে যেটুকু অংশ দেখালে শিব ও দেবী নিকৃষ্ট হিসেবে দেখানো যাবে, ঠিক তততুকুই দেখিয়েছে।


🟪 পদ্মপুরাণের উক্ত ঘটনাটি আমি উল্লেখ করছি দেখুন, 


[পদ্মপুরাণ/উত্তরখণ্ড/২৫০ অধ্যায়/৩৪ নং শ্লোক]

হরিহর কর্তৃক পরিত্যক্ত উক্ত জরদ্বয় তাঁহাদের আজ্ঞা অনুসারে মানুষলোক প্রবেশ করিল। হরিহরের যুদ্ধবৃত্তান্ত যে সকল মানব শ্রবণ করে তারা জ্বরমুক্ত হয়ে নিরাময়তা প্রাপ্ত হয়ে থাকে। তারপর হৃষীকেশ মধুসুদন দুর্দ্ধর্য মোহনাস্ত্র ভূতেশ্বরের প্রতি প্রয়োগ করলেন। সেই অস্ত্রে মোহিত হয়ে ত্রিদশেশ্বর শঙ্কর মূহুর্মুহুঃ জৃম্ভণ করতে করতে (নিদ্রায় আবিষ্ট হয়ে হাই তুলতে তুলতে) ভূতলে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন। শিখিবাহন ষড়ানন পিতাকে মোহিত হতে দেখে শক্তি উঠিয়ে কৃষ্ণের সহিত যুদ্ধের জন্য আগমন করলেন। কৃষ্ণ হুঙ্কার মাত্রেই তাঁকে পরান্মুখ করে দিলেন। প্রতাপবান্ যদুবর শূলপাণি ত্রিলোচনকে এইভাবে জয় করে মহাশব্দে পাঞ্চজন্য ধ্বনিত করলেন। তখন সপুত্র শঙ্কর কৃষ্ণ কর্তৃক নির্জিত হয়েছেন, শ্রবণ করে বাণ রথারোহণে কেশবের সহিত যুদ্ধ করতে আগমন করলেন ॥ ৩৪-৪০ ॥


     — এই পদ্মপুরাণের উক্ত ঘটনায় শ্রীকৃষ্ণ রুদ্রদেবকে জৃম্ভণাস্ত্র দ্বারা জৃম্ভণ অর্থাৎ নিদ্রামগ্ন করেন। তারপর বাণ রাজার সাথে শ্রীকৃষ্ণের যুদ্ধ শুরু হয়। 


🛑 শ্রীকৃষ্ণ রুদ্রদেবকে জৃম্ভণাস্ত্র দ্বারা জৃম্ভণ তো করলেন, কিন্তু কিভাবে করতে সক্ষম হলেন তা এখানে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়নি, এটি শিবমহাপুরাণে বলা হয়েছে, চলুন দেখে নেওয়া যাক —

✷   প্রসঙ্গ : রুদ্রদেবকে যুদ্ধ ক্ষেত্রে দেখে শ্রীকৃষ্ণ মহাদেবের স্তুতি করেন। 


সনৎকুমার উবাচ ।

ইত্যাকর্ণ্য বচঃ শম্ভুঃ শ্রীকৃষ্ণস্য মুনীশ্বর ।

প্রত্যুবাচ প্রসন্নাত্মা কৃষ্ণস্তুত্যা মহেশ্বরঃ ॥ ৫৭॥

মহেশ্বর উবাচ ।

সত্যমুক্তং ত্বয়া তাত ময়া শপ্তো হি দৈত্যরাট্ ।

মদাজ্ঞয়া ভবান্ প্রাপ্তো বাণদোর্দণ্ড‌কৃন্তনে ॥ ৫৮॥

কিং করোমি রমানাথ ভক্তাধীনঃ সদা হরে ।

পশ্যতো মে কথং বীর স্যাদ্‌ বাণভুজকৃন্তনম্ ॥ ৫৯॥

অতস্ত্বং জৃম্ভণাস্ত্রেণ মাং জৃম্ভয় মদাজ্ঞয়া ।

ততস্ত্বং কুরু কার্যং স্বং যথেষ্টং চ সুখী ভব ॥ ৬০॥

সনৎকুমার উবাচ ।

ইত্যুক্তঃ শঙ্করেণাথ শার্ঙ্গপাণিঃ সুবিস্মিতঃ ।

স্বরণস্থানমাগত‍্য মুমোদ স মুনীশ্বর ॥ ৬১॥

জৃম্ভণাস্ত্রং মুমোচাথ সংধায় ধনুষি দ্রুতম্ ।

পিনাকপাণয়ে ব্যাস নানাস্ত্রকুশলো হরিঃ ॥ ৬২॥

মোহয়িত্বা তু গিরিশং জৃম্ভণাস্ত্রেণ জৃম্ভিতম্ ।

বাণস্য পৃতনাং শৌরির্ জঘানাসিগদর্ষ্টি‌ভিঃ ॥ ৬৩॥

[শিবমহাপুরাণ/রুদ্র সংহিতা/যুদ্ধখণ্ড/৫৪ অধ্যায়/৫৭-৬৩ নং শ্লোক]

অর্থ — সনৎকুমার বললেন, হে মুনীশ্বর! শ্রীকৃষ্ণের সেই কথাগুলো শুনে মহেশ্বর, তাঁর স্তুতিতে সন্তুষ্ট হয়ে বললেন — ॥ ৫৭ ॥

মহেশ্বর বললেন, “হে তাত! তুমি সত্য কথাই বলেছ। আমি দানবরাজ বাণাসুরকে বর দিয়েছি। তুমি আমার আদেশে তার বাহুগুলো ছেদন করতে এসেছো।

হে রমানাথ! হে হরে ! আমি কী করতে পারি? আমি সর্বদা আমার ভক্তদের অধীন।

হে বীর! আমার সামনে দাঁড়িয়ে বাণাসুরের বাহুগুলোর ছেদন কীভাবে সম্ভব?

অতএব, তুমি আমার আদেশে জৃম্ভণ অস্ত্র প্রয়োগ করে আমাকে জৃম্ভিত (অর্থাৎ নিদ্রামগ্ন) করো।

এরপর তুমি তোমার ইচ্ছামতো কাজ সম্পাদন করো এবং সুখী হও।” ॥ ৫৮–৬০ ॥

সনৎকুমার বললেন, হে মুনীশ্বর! পরমেশ্বর শিব এভাবে বলার পর শ্রীকৃষ্ণ অত্যন্ত বিস্মিত হলেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে গিয়ে প্রসন্ন হলেন ॥ ৬১ ॥

হে ব্যাসদেব ! এরপর বহু অস্ত্রপ্রয়োগে পারদর্শী ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দ্রুতই জৃম্ভণাস্ত্র ধনুকে সন্নিবেশ করে তা ভগবান শিবের উপর নিক্ষেপ করলেন ॥ ৬২ ॥

জৃম্ভণাস্ত্রের প্রভাবে প্রভু শিব জৃম্ভিত (মায়া নিদ্রায় মগ্ন) হলে, শ্রীকৃষ্ণ খড়্গ, গদা ও ঋষ্টি দ্বারা বাণাসুরের সেনাদের বিনাশ করলেন ॥ ৬৩ ॥


শিবের বলে দেওয়া উপায় জেনে সেই অনুসারে কৃষ্ণ পরমেশ্বর রুদ্র কে জৃম্ভণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। আর বাণ কে স্বয়ং মহাদেব বরদান দিয়েছিলেন যে, বাণের সাথে কোনো শক্তিশালী বীরের যুদ্ধ হবে। সেই বরদান সফল করবার জন্যেও মহাদেব কে কৃষ্ণ আর বাণের মাঝখান থেকে সরে যাওয়া আবশ্যক ছিল। তাই কৃষ্ণ পরমেশ্বর রুদ্র কে জৃম্ভণ করা যুক্তিসম্মত, নচেৎ শিবের বরডান ফলিত হওয়া সম্ভব হতো না। তাই মহাদেব সমগ্র লীলা রচনা করেছেন, তারই সাথে নিজের ভক্ত বিষ্ণুকে মহান বানাবার কৌশলও বানিয়ে দিয়েছেন, আর বৈষ্ণব এই কাহিনী কে আড়াল করে গিয়েছে, যাতে কৃষ্ণ কে শিবের চেয়ে মহান সাজানো যায়। 


☘️ দেখুন —

সরাসরি শ্রীকৃষ্ণকে মহাদেব বরদান দিয়ে শ্রীকৃষ্ণকে পূর্বে দেওয়া বরদান সম্পর্কে জানিয়ে বলেছেন যে, শ্রীকৃষ্ণ অজেয় হবেন, শ্রীকৃষ্ণের শক্তি শিবের থেকে‌ও অধিক হবে, এই বরদান শিব নিজেই পূর্বকালে  দিয়েছিলেন —

তথা মম বরং কৃষ্ণ সংস্মৃত্য স্থৈর্যমাপ্নুহি ॥ ৩৭

অবধ্যস্ত্বমজেয়শ্চ মত্তঃ শূরতরস্তথা ।

ভবিতাসীত্যবোচং যৎ তৎ তথা ন তদন্যথা ॥ ৩৮

[মহাভারত খিলভাগ (হরিবংশ পুরাণ)/বিষ্ণুপর্ব/৭৪ অধ্যায়/৩৮ অধ্যায়]

অর্থ — ওহে কৃষ্ণ ! তোমাকে আমার দেওয়া বরদান সম্পর্কে স্মরণ করে ধৈর্য ধারণ করো ॥ ৩৭

আমি যে তোমাকে তখন বলেছিলাম তুমি অবধ্য, অজেয় তথা আমার থেকে অধিক শূরবীর (শক্তিশালী) হয়ে যাবে, আমার দেওয়া সেই বরদান সেইভাবেই সত্য হবে, সেই বরদানের অন্যথা কেউ করতে পারবে না ॥ ৩৮


🟢 পরমেশ্বর শিব কৃষ্ণকে পূর্বে কখন দিয়েছিলেন এই বরদান ? 

☘️ উত্তর — শ্রীকৃষ্ণ পূর্ব জন্মে নারায়ণ ঋষি ছিলেন, যিনি শিব আরাধনা করতেন, সেই নারায়ণ ঋষিকে পরমেশ্বর শিব বরদান দিয়েছিলেন, দেখুন মহাভারতে পরমেশ্বর শিব কি বরদান দিয়েছিলেন —


মৎপ্রসাদন্মনুষ্যেষু দেবগন্ধৰ্ব্বযোনিষু।
অপ্রমেষবলাত্মা ত্বং নারায়ণ! ভবিষ্যসি।।৮০
ন চ ত্বাং প্ৰসহিষ্যস্তি দেবাসুরমহােরগাঃ।
ন পিশাচা ন গন্ধৰ্ব্বা ন যক্ষা ন চ রাক্ষসাঃ॥৮১
ন সুপর্ণাস্তথা নাগা ন চ বিশ্বে বিযোনিজা।
ন কশ্চিত্ত্বাঞ্চ দেবোহপি সমরেহপু বিজেষ্যতি।।৮২
ন শস্ত্রেণ ন বজ্রেণ নাগ্নিনা ন চ বায়ুনা ।
ন চাদ্রেণ ন শুষ্কেণ ত্ৰসেন স্থাবরেণ চ ॥ ৮৩
কশ্চিত্তব রুজাং কর্ত্তা মৎপ্রসাদাৎ কথঞ্চন ।
অপি বৈ সমরং গত্বা ভবিষ্যসি মমাধিক্‌ ॥ ৮৪
[মহাভারত/দ্রোণপর্ব/১৬৯ অধ্যায়/৮০-৮৪ নং শ্লোক]

✅ অর্থ — শ্রীভগবান শিব বললেন, নারায়ণ! তুমি আমার কৃপাপ্রসাদে মনুষ্য, দেবতা তথা গন্ধর্বেতেও অসীম বল-পরাক্রমশালী হবে। দেবতা, অসুর, বড় বড় সর্প, গন্ধর্ব, যক্ষ, রাক্ষস, সুপর্ণ নাগ তথা সমস্ত পশু(সিংহ, বাঘ্রাদি) প্রাণীগণ তোমার বেগ সহ্য করতে পারবে না। যুদ্ধস্থলে কোনো দেবতা তোমাকে পরাজিত করতে পারবে না ॥ ৮০-৮২ ॥

শস্ত্র, বজ্র, অগ্নি, বায়ু, ভেজা-শুষ্ক পদার্থ ও স্থাবর এবং জঙ্গম প্রাণীমধ্যেও কেউ আমার কৃপাপ্রসাদে কোনোভাবেই তোমায় আঘাত বা ক্ষতি করতে পারবে না। তুমি পৃথিবীতে আবির্ভাব হওয়ার পর স্বয়ং আমার থেকেও অধিক বলবান হয়ে যাবে ॥ ৮৩-৮৪ ॥

এখানে বিশেষভাবে খেয়াল করে দেখুন ৮৪তম শ্লোকে স্বয়ং পরমেশ্বর শিব নিজ শ্রীমুখপদ্ম দ্বারা বলেছেন যে, হে ঋষি নারায়ণ, আমার কৃপার প্রভাবে তুমি পৃথিবীতে আবির্ভাব তথা জন্ম নেওয়ার পর স্বয়ং আমার (শিবের) থেকেও অধিক বলবান অর্থাৎ শক্তিশালী হবে ।


মহর্ষি বেদব্যাস বলেছেন -
স এষ রুদ্রভক্তশ্চ কেশবো রুদ্রসম্ভবঃ।
সর্ব্বরূপং ভবং জ্ঞাত্বা লিঙ্গে যো আর্চ্চয়ত প্রভুম ॥ ৬২
[মহাভারত/দ্রোণপর্ব/১৬৯ অধ্যায়/৬২ নং শ্লোক ]

✅ অর্থ — যিনি জগদীশ্বর শিবকে সর্বময় জেনে তাঁর শিবলিঙ্গে পূজা করতেন, তিনি শিবের অংশস্বরূপ থেকে জাত (জন্ম নেওয়া) ও শিবভক্ত সেই নারায়ণই হচ্ছেন এই শ্রীকৃষ্ণ।

সুতরাং, এখান থেকে খুব সহজেই বোঝা যাচ্ছে যে,
স্বয়ং পরমেশ্বর ভগবান শিব যখন নিজেই তার পরমভক্ত নারায়ণের ভক্তিতে প্রসন্ন হয়ে বরদান দিলেন, তখন ভগবান কি কখনো নিজের মুখ থেকে নির্গত হ‌ওয়া বাক্য কে বিফল হতে দেবেন ?

অত‌এব, নারায়ন যেহেতু পরবর্তীতে কৃষ্ণ রূপে জন্ম গ্রহণ করেন, তাই ভক্ত কৃষ্ণের কাছে পরমেশ্বর ভগবান শিব পরাজিত হয়েছেন শুধুমাত্র নিজ বরদানের কথা কে সত্য করার জন্য। তাই ভক্তকে ভগবানের দেওয়া বরদানের প্রভাবে ভগবান একবার কেনো হাজার বার পরাজিত হবেন এতে কোনো সন্দেহ ই নেই।

কারণ, পরমেশ্বর শিব হলেন বৃক্ষ স্বরূপ, বৃক্ষস্বরূপ শিব তার ফলস্বরূপ ভক্ত নারায়ণের ভার গ্রহণ করতে পারেন, কিন্তু ফল স্বরূপ ভক্ত নারায়ণ কখনই বৃক্ষস্বরূপ শিবের ভার গ্রহণ করতে সক্ষম নন।
পরমেশ্বর শিব বরদান দিয়েছেন ও সেটি সত্য‌ও করে দেখিয়েছিলেন, তাই তিনি পরমেশ্বর মহাদেব ।

অত‌এব, এখন সিদ্ধান্ত হল এই - মহাভারতে কৃষ্ণ ও পরমেশ্বর শিবের যুদ্ধে পরমেশ্বর শিব পরাজয়ের গ্লানি নিজের জন্য বরাদ্দ করেছেন শুধু মাত্র তার ভক্তকে দেওয়া বরদানের প্রতিশ্রুতি রক্ষার জন্য। এখন সেটিই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।
পরমেশ্বর শিব শ্রীকৃষ্ণের কাছে ক্ষমতায় নয় বরং প্রতিশ্রুতির কারণে নিজের পরাজয় নিশ্চিত করেছেন। কেননা, ভগবান দিতে জানেন পরন্তু নিতে জানেন না, কিন্তু ভক্তের ক্ষেত্রে তা ব্যতিক্রম। ভগবানের কাছ থেকে ভক্ত নিতে জানেন কিন্তু দিতে জানেন না । সেটিই পরমেশ্বর শিবের ইচ্ছাকৃতভাবে স্বীয় পরাজয়ে এটাও প্রমাণিত হয় যে, ভক্তের কাছে বাঁধা ভগবান কিন্তু ভগবানের কাছে ভক্তের বাধ্যবাধকতা নেই।

শ্রীকৃষ্ণ গত জন্মে নারায়ণ রূপে পরমেশ্বর শিবের কাছে পৃথিবীতে যেকোনো রূপে অবতীর্ণ হয়ে যে কোনো অবস্থায় অপরাজেয় হবার বর প্রাপ্ত হন । তাই সেই বরদান কে ফলিত করেন পরমেশ্বর শিব নিজেই নিজের পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে।

সুতরাং পরমেশ্বর শিবের রুদ্র অবতারকেও জৃম্ভণ করবার ক্ষমতাও শিবের বরদানের‌ই ফলে ঘটেছে।

____________________________________________________________________________________
____________________________________________________________________________________


🔴 এবার দেখুন —
বৈষ্ণবেরা যে দেবী পার্বতী কে বিষ্ণুর দাসী বলে দাবী করেছেন তা গ্রহণযোগ্য নাকি মায়ার লীলা ?


আসলে বৈষ্ণবদের এই সমগ্র দাবিটিই অর্ধসত্য। শ্রীকৃষ্ণ জয়ী হয়েছিল, দেবী পার্বতী নিজেকে বিষ্ণুর দাসী বলে নিজেকে দাবী করেছেন এটি ঠিকই । কিন্তু তা মূলত পরমেশ্বর শিবের দেওয়া বরদানের ফলে একটি নির্দিষ্ট কল্পের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে মাত্র। এই ঘতনার পেছনে অন্য রহস্য লুকিয়ে আছে, সেই বিষয়ে আলোকপাত করা যাক।


শৈবাচার্য মহর্ষি সাবর্ণীকৃত পুরাণশাস্ত্রের মীমাংসাগ্রন্থ পৌরাণিক সংহিতায় বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে যে, বৈষ্ণবীয় ইত্যাদি বিভিন্ন পুরাণের মধ্যে কেন শ্রীবিষ্ণুকে শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে —


[পৌরাণিক সংহিতা (শৈবোপআগম)/৪র্থ পটলঃ/৬-৭৪ নং শ্লোক]


পরমেশ্বর সদাশিব (বিষ্ণুকে) বললেন,

হে বিষ্ণু ! তুমি আমার প্রিয় ভক্ত, ভক্তের যশ বৃদ্ধি হলে আমার অত্যন্ত হ‌য় প্রীতি হয়। তাই আমার ভক্তের যশ বৃদ্ধি জগতে বৃদ্ধির জন্য আমার লীলাবশত ধারণ করা রূপ গুণাত্মক সংহারক রুদ্রের মাধ্যমে কোনো কোনো নির্দিষ্ট কল্পে তোমার মাহাত্ম্য বৃদ্ধির জন্য তোমাকে শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করবো। সেই রুদ্র কৈলাস পর্বতে বসে তার প্রিয়া গৌরী সহ সকল দেবতা মুনি ঋষিকে বিষ্ণু মহিমা শ্রবণ করাবেন, এতে হে বৎস ! তোমাকে সকলেই ঈশ্বর বলে গণ্য করবে ॥ ৬-১০ ॥

 আমার শিবলোক ঈশ্বর লোক নামে বিখ্যাত হ‌ওয়ায়, তোমার মতোই সকল শিবভক্তগণ আমার কৃপায় শিবলোকে অবস্থান করে ঈশ্বরপদ লাভ করে জগৎ সৃষ্টি স্থিতি পালন করতে সক্ষম হয়। কোনো কোনো নির্দিষ্ট কল্পে আমার ভক্ত‌ই ব্রহ্মা বিষ্ণু ইন্দ্রাদির পদে অবস্থান করে জগতে জগত শাসন করে চলেছেন অনন্ত কাল ধরে, আমার কৃপাবলে তুমিও কৈলাসবাসী রুদ্রকে পরাস্ত করতে সক্ষম হবে, কারণ তোমার মাহাত্ম্য বৃদ্ধি হবার জন্য এটি আবশ্যক ॥ ১১-১৪ ॥

 সেই সেই নির্দিষ্ট কল্পের জন্য বিষ্ণুই সর্বশ্রেষ্ঠ ও ব্রহ্মা হর ইন্দ্রাদি দেবতাগণ তোমার থেকে উৎপন্ন হয়ে তোমার ভৃত্য হবে। প্রকৃত পক্ষে আমার (সদাশিবের) ভক্ত‌ই জগতের সর্বত্র স্থিত হয়ে শাসন করে, সেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করাই আমার উদ্দেশ্য ॥ ১৫-১৬ ॥

আবার, তোমার মাহাত্ম্য বৃদ্ধিকারী পাদ্ম ইত্যাদি কল্পের কাহিনী সকল বৈষ্ণবীয় পুরাণে বর্ণিত হবে, সেই পুরাণে বিষ্ণু মাহাত্ম্য বর্ণিত হবে। ঐ নির্দিষ্ট কল্পে বিষ্ণুর অধীন হবে ব্রহ্মা, হর ও গৌরী সহ সকল দেবদেবী, ফলে বৈষ্ণবেরা ভ্রমিত হয়ে তোমাকেই একমাত্র শ্রেষ্ঠ ও শিব সহ অনান্য দেবদেবীদের তোমার অধীন বলে চিহ্নিত করবে। ফলে তারা কর্মের অধীন হয়ে সংসারের দুঃখ ভোগ করতে থাকবে ॥ ১৭-২০ ॥


💥আরেকটি প্রমাণ দেখুন,

♦️এবার দেখবো পুরাণ মীমাংসার জন্য পরমেশ্বর শিবের থেকে প্রাপ্ত শৈব আচার্য সাবর্ণীমুনিকৃত পৌরাণিক সংহিতা (উপ-আগম) কি বলছে ।


(পৌরাণিক সংহিতা/৫ম পটলঃ(অধ্যায়)/৫-৮ নং শ্লোক)
✅ অর্থ — শাস্ত্রের যেখানে যেখানে শিব মহিমা রয়েছে তাহাই সাত্ত্বিক। আগম, বেদ, পুরাণ, শিবরহস্য আদি ই ইতিহাস সকল‌ই শিবের‌ই মহাবাক্য । 

 তথাপি সমস্ত শাস্ত্রে পর ও অপর বিদ্যা রয়েছে। যে স্থানে শিব মাহাত্ম্য রয়েছে তাহাই পরাবিদ্যা। আর যে স্থানে মহেশ্বর নিজের মাহাত্ম্য গোপন করে বিষ্ণু আদি দেবতাকে শ্রেষ্ঠ বলেছেন, সে সমস্ত অপরাবিদ্যা(মায়াবাক্য)।
অজ্ঞ নর সেই বিষয়ে অজ্ঞাত থাকায় রুদ্রমুখে বিষ্ণু আদি দেবতাদের প্রশংসা শ্রবণ করে মোহবশত তাদের‌ই শিব হতেও শ্রেষ্ঠ মনে করে ।


🔽⭕🔽লক্ষ্য করুন, 

পৌরাণিক সংহিতার ৪র্থ‌ অধ্যায়ের ১৭-২০ নং শ্লোক অনুযায়ী - দেবী পার্বতী রুদ্রের স্ত্রী হয়ে বিষ্ণুর মাহাত্ম্য প্রকট হবার কল্পে নিজেকে বিষ্ণুর অধীন হিসেবে দাবী করেছেন, আর সেটি প্রকৃতপক্ষে মায়ার খেলা। এই কল্পে ঘটিত হওয়া ঘটনাকে যারা বিশ্বাস করে সত্য ভাববেন তাঁরা মুক্তি লাভ করতে সক্ষম হবেন না বলে সদাশিব পূর্বেই জানিয়ে দিয়েছেন, তাই দেবী পার্ব‌তীকে বিষ্ণুর দাসী ভাবনা করবার মতো ভ্রান্ত ধারণা কখনোই গ্রহণ যোগ্য নয়। 

এমনকি এই ভণ্ড বৈষ্ণব এতটাই মায়ায় ভ্রমিত হয়েছে যে, জৃম্ভণ করাকে প্রাণহরণ ভেবে নিয়েছে,  এরা এতটাই মূর্খ যে, জৃম্ভণ কাকে সেটিই ইনি বুঝতে সক্ষম নন। আর এই অজ্ঞতার নির্বুদ্ধিতা দিয়ে এই বৈষ্ণব ব্যক্তি দাবী করেছে শিব মৃত । 

অথচ, জৃম্ভণ করবার অর্থ হল নিদ্রামগ্ন করা। ভণ্ড বৈষ্ণব এটাও জানেনা, আর সে এসেছে পাণ্ডিত্য দেখাতে।


🔵 শিবের জন্ম-মৃত্যু নেই, প্রমাণ দেখুন —

পরমেশ্বর শিবের কোনো জন্ম‌ই নেই, তার কোনো মৃত্যুও নেই। তিনি অজন্মা । এ কথা বেদ স্বীকার করেছেন। কৃষ্ণ-যজুর্বেদের শ্বেতাশ্বতর উপনিষদের মধ্যেই ৪নং অধ্যায়ের ২১নং মন্ত্রে পরমেশ্বর শিবকে অজাত বলে উল্লেখ পর্যন্ত রয়েছে - 

অজাত ইত্যেবং কশ্চিদ্ভীরুঃ প্রপদ্যতে।

রুদ্র যত্তে দক্ষিণং মুখং তেন মাং পাহি নিত্যম্ ॥ ২১

[কৃষ্ণ-যজুর্বেদ/শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ/৪ অধ্যায়/২১নং মন্ত্র]

অর্থ : হে রুদ্র, তুমি জন্মরহিত, তাইতো মৃত্যুভয়ে ভীত মানুষ তোমার শরণ নেয়। তোমার দক্ষিণ(কল্যাণময় দক্ষিণামূর্তি) মুখ আমার দিকে ফেরাও এবং সর্বদা আমাকে রক্ষা কর।


🟤 মৎস পুরাণের ১৫৪ অধ্যায়ের  বলা হয়েছে ব্রহ্মা, বিষ্ণু সহ সকলের বারংবার জন্ম মৃত্যু হয়, কিন্তু শিবের জন্ম মৃত্যু নেই। যথা -

ন জাতোঽস্যা পতিদেব্যা যন্মযোক্তং হিমাচল ।

ন স জাতো মহাদেবো ভূতভব্যভবোদ্ধবঃ ।

শরণ্যঃ শাশ্বতঃ শাস্তা শঙ্করঃ পরমেশ্বরঃ ॥১৭৮

ব্রহ্মবিষ্ণিবন্দ্রমুনয়ো জন্মমৃত্যুত্যুজরার্দিতা ।

তস্যৈতে পরমেশস্য সর্ব ক্রীড়নকা গিরে ॥১৭৯

আস্তে ব্রহ্মা তদিচ্ছাতঃ সম্ভূতো ভুবনপ্রভুঃ ।

বিষ্ণুর্যুগে যুগে জাতো নানাজাতির্মহাতনুঃ ॥১৮০

[তথ্যসূত্র : মৎস্যমহাপুরাণ/অধ্যায় ১৫৪]

অর্থ — নারদ বললেন - হে গিরিরাজ ! আমি যে বিষয়ে আপনাকে বললাম যে এই দেবীর পতি কখনো উৎপন্ন হননি, এ কথার অভিপ্রায় হল এই - যিনি ভূত ভবিষ্যৎ এবং বর্তমান তিনকালই বর্তমান থাকেন, যিনি জীবের শরণদাতা, অবিনাশী, নিয়ামক, কল্যাণকর্তা এবং পরমেশ্বর, সেই মহাদেব কখনো উৎপন্ন হননি, অর্থাৎ তিনি অনাদি, ওনার কখনোই জন্ম হয় না।

 হে পর্বতরাজ ! ব্রহ্মা বিষ্ণু ইন্দ্র মুনি আদি সকলেই জন্ম-মৃত্যু এবং বৃদ্ধ অবস্থা গ্রস্থ হয়ে থাকেন। এনারা সবাই সেই পরমেশ্বর মহাদেবের খেলনা মাত্র। সেই পরমেশ্বর মহাদেবের ইচ্ছেতেই ত্রিভুবনের স্বামী ব্রহ্মা প্রকট হয়েছেন এবং প্রত্যেক যুগে শ্রীবিষ্ণু বিশাল শরীর ধারণ করে নানা প্রকারের জীব জাতিতে উৎপন্ন হয়ে থাকেন । 


বেদের বচনে শিবের জন্মহীনতা ও মৎস পুরাণের বচনে বিষ্ণু ও ব্রহ্মার মৃত্যু হওয়ার বিষয়ে সমর্থন রয়েছে।


⚠️ এবার দেখুন বিষ্ণুর আয়ু নিজেই শিবের প্রকটিত দুই প্রমাতা মহেশ্বর আর রুদ্রের চারটি নিঃশ্বাসের সমান, অর্থাৎ বিষ্ণুর কাল সীমিত, অর্থাৎ বিষ্ণু মৃত্যুপ্রাপ্ত হয়ে যান। এই কথা বৈষ্ণবদের প্রিয় পদ্মপুরাণ বলছে —

 শম্ভুরুবাচ।

ব্রহ্মাধিকবলোবিষ্ণুরায়ুষি ব্রহ্মণোঽধিক ॥ ৭০ ॥ 

ব্রহ্মাংডমালাভরণে মহেশস্যমমৈবতু ।
চতুর্নিঃশ্বাসমাত্রেন বিষ্ণোরায়ুরুদাহৃতম্ ।.. ॥ ৭১ ॥

(পদ্মপুরাণ/পাতাল খণ্ড/৬৬ অধ্যায়/৭০-৭১)

✅ অর্থ —ব্রহ্মার চেয়ে বিষ্ণুদেবের আয়ু ও ক্ষমতা উভয়ই বেশি। তবে মহেশ্বরের এবং আমার (সদাশিবের) চারটি নিঃশ্বাসের সমান বিষ্ণুদেবের সমগ্র আয়ুষ্কাল সীমিত । 


🥴 ওহে ভণ্ড বৈষ্ণব এখন বলুন আপনাদের‌ই শাস্ত্রের বচন মেনে নিতে পারবেন ? বিষ্ণু যদি একমাত্র পরমেশ্বর হন, তাহলে তার কিনা মৃত্যু হয়ে যায়,বিষ্ণু যদি পরমেশ্বর হন তাহলে তিনি কি না সদাশিবের চারটে নিঃশ্বাসেই প্রাণ হারিয়ে ফেলেন। এ কেমন পরমেশ্বরের লক্ষণ, যার থেকে শৈবদের আরাধ্যের শক্তি ও ক্ষমতা অধিক। তাও আবার সেটি বৈষ্ণবদের‌ই শাস্ত্রে বলা হয়েছে। 

আমরা শৈবরা জানি বৈষ্ণবরা এখন নিজেদের এই বৈষ্ণবীয় শাস্ত্রের বচন মানতে রাজি হবেন না, কারণ তারা মায়ায় মোহিত।


🔷বেদ বলছে শিবের থেকে কেউ অধিক বলবান নেই —

অর্হন্ বিভৰ্ষি সায়কানি ধন্বার্হন্ নিষ্কং যজতং বিশ্বরূপম্ ।

অর্হন্নিদং দয়সে বিশ্বমভ্বং ন বা ওজীয়ো রুদ্র ত্বদস্তি ॥ ১০ ॥

[ঋগ্বেদ/শাকল শাখা/২য় মণ্ডল/৩৩ নং সূক্ত/১০নং মন্ত্র]

🔥 অর্থ – হে রুদ্রদেব ! আপনি বাণ ও ধনুক ধারণ করে থাকেন, হে পূজনীয় প্রভু ! আপনিই বহুরূপে একমাত্র বিশ্বরূপধারী।আপনিই সমস্ত বিশ্বভুবনের রক্ষাকর্তা, আপনার চেয়ে অধিক বলবান কেহই নেই ॥ ১০

বেদ বচন অনুযায়ী, পরমেশ্বর শিব বিষ্ণু সহ সকল দেবদেবীর থেকেও শক্তিমান বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাই কিছু কাহিনীর ভিত্তিতে শিবকে বিষ্ণুর অধীন ভাবা - জ্ঞানের অপরিপক্কতা মাত্র।

 বেদের বিরুদ্ধ বচন যে শাস্ত্রে থাকবে তা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়, বরং বেদের বচন সর্বোপরি, এই কথা ব্যাসদেব তার ব্যাসসংহিতা শাস্ত্রের ১ম অধ্যায়ের ৪র্থ‌ নং শ্লোকে বলেছেন। 

 

বৈষ্ণবীয় পুরাণে বিষ্ণু বা তার অবতারগণের শ্রেষ্ঠত্বের — এই সকল ঘটনা শিবের দেওয়া বরদানের কারণে সম্ভব হয়েছে। বিষ্ণু শিবভক্তি করে রুদ্রের কর্তা হয়েছেন মাত্র, যা শিবের লীলার একটি পর্যায় মাত্র, যাতে বৈষ্ণবেরা শিব কে অক্ষম ভেবে এই মায়ার সংসারে ফেঁসে থাকতে পারে। আর অজ্ঞ বৈষ্ণব অশোক সরকার ঠিক সেই ফাঁদেই পড়েছে। আর ফাঁদে পড়েই বিচারবুদ্ধি হারিয়ে মায়াশাস্ত্রের বচন কে সত্য বলে ভেবে প্রচার করে বেড়াচ্ছে।

সকল কিছু এবার দিনের আলোর মতো পরিষ্কার, বুদ্ধিমানের জন্য ইশারাই যথেষ্ট।

____________________________________________________________________________________

সিদ্ধান্ত 


বৈষ্ণবদের শাস্ত্রজ্ঞানহীনতা সহ ভণ্ডামি খণ্ডিত হবার সাথে সাথে সমগ্র শাস্ত্র প্রমাণের দ্বারা মাতা পার্ব‌তীর দাস্যতার কাহিনী মায়াকাহিনী বলে প্রমাণিত হল, জন্ম-মৃত্যুর চক্রে আবদ্ধ শ্রীবিষ্ণু শিকৃপায় বরদানের কারণে শিবকে পরাজিত করে জগতে পূজিত হয়েছেন ও একমাত্র পরমেশ্বর প্রভু শিবই সর্বশক্তিমান ও মৃত্যুহীন বলে প্রমাণিত হল। 

____________________________________________________________________________________


শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তে 🚩 

হর হর মহাদেব 🚩 


✍️ সত্য উন্মোচনে — শ্রী নন্দীনাথ শৈব আচার্য জী 

©️ কপিরাইট ও প্রচারে — Shivalaya



মন্তব্যসমূহ

  1. শিব পরম। শিবায় সম্পূর্ণতা। এর অধিক আমার কিছু বলার নেই। সাহস নেই।

    https://arneshlove.blogspot.com/2026/01/blog-post.html

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ