শিবকে নারী বলে দাবী কথা অজ্ঞ প্রানীদের নির্বুদ্ধিতার লজ্জা নিবারণ
ভূমিকা -
Narayanastra নামে একটি Facebook Page আছে, যাদের উদ্দেশ্য হল ভগবান বিষ্ণুর শ্রেষ্ঠত্বের নামে পরমেশ্বর শিবকে অপমান করা। আমাদের সম্পূর্ণ শাস্ত্রীয় প্রমাণ দিয়ে উপস্থাপন করা “শ্রীবিষ্ণু প্রকৃতিরূপ নারী, পরমেশ্বর শিব একমাত্র পরমপুরুষ” -এই প্রবন্ধ টি দেখেও সত্য স্বীকার করতে না পেরে শ্রেষ্ঠত্বের অহংকার বশত এখন এলোমেলো দাবি করে পরমেশ্বর শিবকে ‘নারী’ প্রমাণ করবার মতো আকাশকুসুম কল্পনাকে পুনরায় নামিয়ে এনেছেন। আসুন এখন এই ভণ্ড বৈষ্ণবদের অর্থহীন দাবিগুলি ভেঙে টুকরো টুকরো করে ফেলা যাক।
____________________________________________________________________________________
🚫 ভণ্ড বৈষ্ণবের দাবী — ১
🔘শিব হলেন নারী আর ভগবান শ্রীবিষ্ণু পুরুষ।
শিব যে নারী এটা অগ্নিবেশ্য গৃহসূত্রের দেওয়া প্রমাণকে ওরা অস্বীকার করে বলেছে যে এখানে লিঙ্গের প্রকারভেদ বোঝাচ্ছে না। সাথে কিছু রেফারেন্স দিয়ে স্বপ্ন দেখছে যে বিষ্ণু নারী। মূলত এই হচ্ছে তাদের আর্তনাদ এর বিষয়বস্তু।
তাই এখন শৈবদের আদর করা হবে।
আশা করি শৈব প্রাণীরা আর আর্তনাদ করবে না।
🔘প্রথমত অগ্নিবেশ্য গৃহসূত্র মন্ত্র নিয়ে আর একটু বিস্তারিত আলোচনা করা যাক👇
অকার ব্রহ্মা উকার বিষ্ণুঃ মকার ঈশ্বরঃ
অকারো নপুংসকঃ উকারঃ পুল্লিঁঙ্গঃ মকারঃ স্ত্রীলিঙ্গঃ
(যজুর্বেদ, অগ্নিবেশ্য গৃহসূত্র, ২.৪.১২)
এখানে স্পষ্টত শিবকে স্ত্রীলিঙ্গ বলা হয়েছে।
👉একই কথা শাণ্ডিল্য সংহিতাতেও পাওয়া যায়।
যথা- ⭕শাণ্ডিল্য সংহিতা/ভক্তি খন্ড/তৃতীয় অংশ/চতুর্থ অধ্যায়/শ্লোক ২৯
পুরুষো বিষ্ণুরীশানঃ স্ত্রীর্বেধাশ্চৈব ষণ্ঠকঃ ।।
অর্থাৎ বিষ্ণু পুরুষ, ঈশান (শিব) স্ত্রী এবং ব্রহ্মা নপুংসক।
⭕শাণ্ডিল্য সংহিতা, ভক্তিখন্ড, তৃতীয় অংশ, দ্বিতীয় অধ্যায়, শ্লোক ২৩
"যস্য বৃন্দাবনে নিত্যং যাতি স্ত্রীভাবতো হরঃ।।"
অর্থাৎ- যার (শ্রীকৃষ্ণের) বৃন্দাবনে সর্বদাই স্ত্রীভাবযুক্ত শিব(হর) বিরাজ করেন।
✅ সুতরাং উক্ত অগ্নিবেশ্য গৃহসূত্রের তাৎপর্য এটাই। এখন অনেকেই শাণ্ডিল্য সংহিতার উপর প্রশ্ন তুলতে পারেন। কিন্তু বেদ নিজেই শাণ্ডিল্যের কথা প্রামাণিক হিসেবে গ্রহণ করেছে।
✅ শৈব পক্ষ থেকে বৈষ্ণবীয় ১ম দাবীর খণ্ডন —
যে ব্যক্তি মাতা পার্বতীকে নিজের প্রেমিকা মনে করে সেই ব্যক্তি নিজেকে বৈষ্ণব পণ্ডিত বলে ঢ্যাড়া পেটায়, এটিই সবচেয়ে বড় হাস্যকর বিষয়। যদিও শৈবদের কোনো ঠেকা পড়েনি এইসকল পাষণ্ডদের জবাব দেওয়ার জন্য তবুও সমাজে বহু মানুষ এর মতো ম্লেচ্ছর দ্বারা বিভ্রান্ত হচ্ছে বলে পুনরায় জবাব দিচ্ছি।
(১) পূর্ববর্তী অগ্নিবেশ্য গৃহ্যসূত্রের শ্লোক নিয়ে অপপ্রচার করা বৈষ্ণবীয় দাবীর আমরা যে খণ্ডন করেছিলাম, তার কোনো সদ্ উত্তর পাওয়া যায়নি বৈষ্ণব দের পক্ষ থেকে। আবোল তাবোল কথা বলে শেষে খণ্ডন করেছি লিখলেই তা খণ্ডন হয়ে যায় না। আর যদি সত্যিই ঐ আবোল তাবোল যুক্তিকে প্রামাণিক মনে করে বৈষ্ণবপক্ষ, তবে আমরা লাইভ ডিবেটে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, এই বিষয়ের পক্ষ নিয়ে আমাদের পেজে ডিবেটে আসুন বৈষ্ণবগণ। কোনটা সত্য আর কোনটি মিথ্যা, তা জনতার সামনে উঠে আসবে। গত কিছু মাস আগে আপনাদের বৈষ্ণবীয় Narayanastra পেজে আমাদের শৈব সদস্য অন্তিক ভট্টাচার্য একাই আপনাদের তিনজন বৈষ্ণব কে পরাজিত করেই দিয়েছিল। কিন্তু আপনারা নিজেদের দুর্বলতা ঢাকার জন্য তাকে Mute করে দিয়েছিলেন ভয় পেয়ে। শেষে আপনাদের বৈষ্ণববন্ধু বিপ্লব দাবী করেছিল পরবর্তী ডিবেটে বেদ থেকে পাঁচ হাত ও দশমুখযুক্ত সাকার সদাশিবের প্রমাণ দেখাতে হবে।
আমরা রাজিও হয়েছিলাম, এবং পুনরায় ডিবেটে ডেকেছিলাম কিন্তু আপনাদের বৈষ্ণববন্ধু বিপ্লব ও তার সঙ্গীসাথিরা ভয়েতে অজুহাত দেখিয়ে বললেন, যারা মূর্খ তাদের সাথে ডিবেটে কেন যাবো।
অর্থাৎ আপনারা ঐ নিজেদের গর্তে থেকেই নিজেদের মহান সাজিয়ে দেখিয়ে বেড়াচ্ছেন, লেখাগুলোতেও কাটছাট ও অপব্যাখ্যায় ভরে দিচ্ছেন, নিজেদের পেজে ডিবেটে ডেকে প্রতিপক্ষের কাছে পরাজিত হবার ভয়ে মিউট করে দিচ্ছেন, পরে আমাদের পেজে উপস্থিত হতে বললে তখন অজুহাত দেখিয়ে এড়িয়ে যাচ্ছেন।
সরাসরি ডিবেটে যুক্তি তর্ক ও প্রমাণ সঠিকভাবে উপস্থাপন না করতে পারলে আপনারা পরাজিত হবেন এই ভয়ে আমাদের পেজে ডিবেট করতেও আসতে নারাজ আপনারা, তবুও নিজেদের মহান দেখাবার জন্য ডিবেট না করেই অন্যকে মূর্খ বলে নিজেদের অপারগতা ও ভয়ে ভীত হয়ে যাওয়ার দূর্বলতা ঢাকা দেবার চেষ্টা করেছেন ও এইভাবে এড়িয়ে যাচ্ছেন।
আমাদের শৈবদের মতো অন্যের পেজে ডিবেট করবার মতো সৎসাহস থাকলে আসুন আপনার এই তথাকথিত আবোলতাবোল যুক্তি নিয়ে, সরাসরি ডিবেটে বসুন। কত ধানে কত চাল তা আমরাও দেখিয়ে দেবো। নচেৎ আপনাদের বুকে সৎসাহস নেই, আপনারা পৌরুষত্বহীন, নপুংসক - সেটা স্বতঃ প্রমাণিত।
পাঠকবৃন্দ ! বৈষ্ণবেরা অগ্নিবেশ্য গৃহ্যসূত্রের শ্লোক উপস্থাপন করে সাংকেতিক উপমাকে সত্য ধরে নিয়েছিলেন। আমাদের শৈবপক্ষ থেকে সেই বিষয়ের উপর উপস্থাপন করা পুরাতন খণ্ডন মূল পোস্টের লিঙ্ক 👇
https://issgt100.blogspot.com/2025/11/blog-post_25.html
(২) শাণ্ডিল্য সংহিতা একটি পাঞ্চরাত্র শাস্ত্র। পঞ্চরাত্র মোহনাত্মক বেদবিরুদ্ধ শাস্ত্র। পঞ্চরাত্রকে বেদসম্মত বলে প্রমাণ করবার জন্য দুনিয়ার সকল যুক্তি উপস্থাপন করতেই পারেন। কিন্তু পঞ্চরাত্র শাস্ত্র যে নির্দিষ্ট কারণে সৃষ্টি হয়েছিল, তা আপনি বদলাবেন কি করে ?
যারা গৌতম ঋষির সাথে ছলনা করে গো হত্যার অহেতুক দোষ লাগাতে চেয়েছিল, তারা শৈবাচার্য গৌতমের অভিশাপে বৈদিক ধর্ম থেকে ভ্রষ্ট হয়ে যান, তখন কৈলাসপতি রুদ্র অবৈদিক দ্বৈতবাদী পাশুপত তন্ত্র রচনা করেন এবং শ্রীবিষ্ণু অবৈদিক পাঞ্চরাত্র শাস্ত্র রচনা করেন ঐ বেদভ্রষ্ট মুনিগণ যাতে অন্তত দেবতার নামটুকু করাবার সুযোগ পান। এর দ্বারা কোনো এক জন্মে পুণ্য অর্জন করে পুনরায় বেদের পথে ফিরে এসে মুক্তি লাভ করবে তারা। সুতরাং যতই মহাভারতে পঞ্চরাত্র উল্লেখ থাকবার উদ্ধৃতি ব্যবহার করুন, তাতে পঞ্চরাত্রের সম্পূর্ণ বৈদিক হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। শৈব শাস্ত্র অনুযায়ী পঞ্চরাত্রের কর্মকাণ্ড বেদসম্মত যেমন ঊর্ধ্বপুণ্ড্র ধারণ বিষয়াদি, কিন্তু জ্ঞানকাণ্ড সম্পূর্ণভাবে বেদবিরুদ্ধ। আর এই কারণেই পঞ্চরাত্রের সংহিতা ভাগ গুলির মধ্যে বেদবচনের বিরুদ্ধবচন পাওয়া যায়। এই কারণে পঞ্চরাত্রের বচন গ্রহণযোগ্য নয়, বরং বেদবিরুদ্ধ হওয়ায় তা পরিত্যক্ত তথা খণ্ডিত, প্রমাণ 👇
https://issgt100.blogspot.com/2024/01/Pancharatra-Khandan-story-puran.html
নির্ণয় — শাণ্ডিল্য সংহিতা, শেষ সংহিতা, লক্ষ্মী-নারায়ণ সংহিতা, সাত্বত তন্ত্র, সংকর্ষণ সংহিতা, প্রভৃতি সংহিতা হল পঞ্চরাত্রের জ্ঞানকাণ্ড, যা সম্পূর্ণরূপে বেদবিরুদ্ধ, সুতরাং এই সকল পাঞ্চরাত্রিক গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করা শব্দ সর্বদাই অগ্রহণযোগ্য তথা মোহনাত্মক, যা মান্য করলে মানুষ বিপথে পরিচালিত হয়। তাই এই গ্রন্থের উপর নির্ভর করে পরমেশ্বর শিবের পরমত্বকে খণ্ডিত করা অসম্ভব।]
____________________________________________________________________________________
🚫 ভণ্ড বৈষ্ণবের দাবী — ২
যথা👉⭕ছান্দোগ্যোপনিষদ্ /তৃতীয় অধ্যায়/চতুর্দশ খন্ড/ মন্ত্র ৪ এর অংশ
"হ স্মাহ শাণ্ডিল্যঃ শাণ্ডিল্যঃ।।"
অর্থাৎ-এমনটি শাণ্ডিল্য বলেছেন।
চলুন আরও ভালো মতো বোঝাই নইলে অসহায় শৈব প্রাণীরা বুঝবে না।
সম্পূর্ণ মন্ত্রটি👇
⭕সর্বকর্মা সর্বকামঃ সর্বগন্ধঃ সর্বরসঃ সর্বমিদমভ্যাত্তোহবাক্যনাদর এষ ম আত্মান্তর্হৃদয় এতদ্ব্রহ্মৈতমিতঃ প্রেত্যাভিসংভবিতাস্মীতি যস্য স্যাদদ্ধা ন বিচিকিৎসাস্তীতি হ স্মাহ শাণ্ডিল্যঃ শাণ্ডিল্যঃ॥ (ছান্দোগ্য উপনিষদ ৩.১৪.৪)
🔘 ব্যাখ্যাঃ হ স্ম আহ: "নিশ্চয়ই (হ), এমন কথা (স্ম আহ) বলেছেন। (আহ মানে 'বলেছেন', হ স্ম মানে দৃঢ়তা বোঝায়)
শাণ্ডিল্যঃ শাণ্ডিল্যঃ: শাণ্ডিল্য মুনি (শাণ্ডিল্য) বলেছেন।(দুবার 'শাণ্ডিল্যঃ' বলার অর্থ হলো তাঁর বক্তব্যটির প্রতি গুরুত্ব ও প্রামাণ্যের প্রকাশ, অর্থাৎ, "এই কথাটি শাণ্ডিল্য মুনিই বলেছেন, শাণ্ডিল্য মুনিই বলেছেন" বা "শাণ্ডিল্যের নিশ্চিত মত")।
🔵সুতরাং বেদ যেহেতু শাণ্ডিল্যের মতের প্রাধান্য দিচ্ছে। সুতরাং বেদের উক্ত মন্ত্রে শিবকে নারীই বলা হয়েছে। শাণ্ডিল্য সংহিতা ও উক্ত অগ্নিবেশ্য গৃহসূত্র থেকে এটা স্পষ্ট।
আর ভগবান শ্রীবিষ্ণু ঈশ্বরেরও ঈশ্বর। সুতরাং উক্ত মন্ত্রে ঈশ্বর মানে শিব। এর মানে এটা নয় যে শিব পরমব্রহ্ম।
✅ শৈব পক্ষ থেকে বৈষ্ণবীয় ২য় দাবীর খণ্ডন —
চরম হাস্যকর যুক্তি, শাণ্ডিল্যের উল্লেখ বেদে রয়েছে বলেই নাকি পঞ্চরাত্রের শাণ্ডিল্য সংহিতা বৈদিক বলে গ্রহণযোগ্য । এহেন যুক্তি আর্যসমাজীদের ম্লেচ্ছ গুরু দয়ানন্দ সরস্বতীও কখনো ব্যবহার করেননি।
মূর্খের হাতে যখন বেদ বেদান্ত ওঠে তখন তাকে বেদও এই ভেবে ভয় পায় যে, এই মূর্খ ব্যক্তি আমার অর্থের ভুল ব্যাখ্যা করে অর্থের অনর্থ সৃষ্টি করে মানুষ কে ভ্রমিত করবে। আর এই মূর্খ বৈষ্ণব সেই কাজই করেছে।
পাঠকবৃন্দ দের অবগত করানোর জন্য বলছি পঞ্চরাত্রের শাণ্ডিল্য সংহিতা আর বেদে বলা শাণ্ডিল্যের উক্তি এক নয়, বরং আকাশ পাতাল তফাৎ।
বেদের ছান্দোগ্য উপনিষদে শাণ্ডিল্য যা কিছু তাতে কোথাও শিবকে নারী বলা হয়নি। বরং অন্য কিছু বলা হয়েছে , দেখুন 👇
সর্বকর্মা সর্বকামঃ সর্বগন্ধঃ সর্বরসঃ সর্বমিদমভ্যাত্তোহবাক্যনাদর এস ম আত্মান্তহৃদয় এতদ্ ব্রহ্মেতমিতঃ প্রেত্যাভিসম্ভবিতাস্মীতি যস্য স্যাদদ্ধা ন বিচিকিৎসাস্তীতি হ স্মাহ শাণ্ডিল্যঃ শাণ্ডিল্যঃ ॥ ৪
সরলার্থ : যিনি সর্বকর্মা, সর্বকাম, সর্বগন্ধ, সর্বরস, যিনি সবকিছু পরিব্যাপ্ত করে রয়েছেন, যিনি বাক্ রহিত, তিনিই আমার আত্মা এবং আমার হৃদয়ের অভ্যন্তরে ইনিই ব্রহ্ম। ইহলোক (বা এই দেহ কে পেরিয়ে তাঁকেই পাব। যাঁর এই রকম স্থির বিশ্বাস আছে, তার আর কোনো সংশয় নেই) [অর্থান্তর—যিনি মনে করেন, ‘আমি মৃত্যুর পর ব্রহ্মলাভ করবো’, এ বিষয়ে যাঁর কোন সন্দেহ নেই তিনি ব্ৰহ্মলাভ করবেন], শাণ্ডিল্যও এটিই বলেছেন, শাণ্ডিল্যও এটিই বলেছেন)।
অর্থাৎ শাণ্ডিল্য উক্ত ব্রহ্মলাভের ভাবকে উল্লেখ করে বলেছিলেন, এটি বলা হল।
এখানে কোথাও শাণ্ডিল্য সংহিতার বচনের বিষয়কে উল্লেখ করে সমর্থন দেওয়া হয়নি, আর না কোথাও পরমেশ্বর শিবকে স্ত্রী বলা হয়েছে।
চরম মূর্খ ভণ্ড বৈষ্ণব অশোক সরকার পাঞ্চরাত্র শাণ্ডিল্য সংহিতাকে প্রামাণিক প্রমাণ করবার জন্য কেমন আবোল তাবোল যুক্তি উপস্থাপন করে বলছে এটা নাকি শাণ্ডিল্য বলেছেন আর তার জন্যই নাকি শাণ্ডিল্য সংহিতার বচন মান্য করা বাধ্যতামূলক।
শাণ্ডিল্য বেদে বলেছেন একটি কথা, সেখানের খণ্ডিতাংশ তুলে নিয়ে এই আকাট মূ র্খ দাবী করেছে শাণ্ডিল্য নাকি পঞ্চরাত্রে উল্লেখিত শাণ্ডিল্য সংহিতাকে বুঝিয়েছেন।
আরে অগস্ত্য মুনি একজন মহাপাশুপতাচার্য, যিনি শৈব পরম্পরার আচার্য। তার নামেও একটা পঞ্চরাত্র মোহনাত্মক সংহিতা আছে। এখন কি তাহলে বেদ বা পুরাণে অগস্ত্য মুনির নামের উল্লেখ দেখেই, বা তিনি কোনো একটা কথা বলেছেন এমন একটা শ্লোক তুলে ধরে সেটিকে ব্যবহার করে অগস্ত্য সংহিতাকেও প্রামাণিক বলে মান্য করতে হবে ? আজব জনতা তো।
তাহলে আমাদের শৈবদেরও তো গরুড় আগম , বিষ্ণু আগম, সংকর্ষনাগম আছে, এখন গরুড় পুরাণে, বিষ্ণু পুরাণে গরুড় বা বিষ্ণু কিছু একটা বলেছেন এমন শ্লোক তুলে তার ভিত্তিতে কি শৈব আগমে বিষ্ণু এমন বলে দাবী করলে আপপনারা মেনে নেবেন ?
আসলে মোহনাত্মক বেদবিরুদ্ধ পঞ্চরাত্রের মায়া পড়ে ভণ্ড বৈষ্ণবের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা হ্রাস পেয়ে গেছে, ন্যায় সম্মত বিচারের উপর নির্ভর করে সঠিক ভাবে বিষ্ণুপরমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে অপারগ হয়ে শাস্ত্রের খণ্ডিতাংশ তুলে অপযুক্তি ব্যবহার করছে দিন রাত। এসব লিখে নিজেকে অনেক বড় পণ্ডিত ভাবছে ঠিকই, কিন্তু উপযুক্ত স্থানে এইসব আকাট বৈষ্ণবদের ভণ্ডামীর হাঁড়ি ভেঙ্গে পড়ছে।
নির্ণয় — পঞ্চরাত্রে শাণ্ডিল্য সংহিতা আর বেদের ছান্দোগ্য উপনিষদে বলা শাণ্ডিল্যের উক্তি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে উক্ত হয়েছে, তাই ভণ্ড বৈষ্ণবের দাবী হাস্যকর ও অযৌক্তিক প্রমাণিত হল।
____________________________________________________________________________________
🚫 ভণ্ড বৈষ্ণবের দাবী — ৩
⭕সংকর্ষণ সংহিতা, জ্ঞানরাত্র, দ্বিতীয় অধ্যায়, শ্লোক ৪৩ এর প্রথম চরণ -
"দেবানামপি যো দেব ঈশ্বরাণামপীশ্বরঃ।"
অর্থাৎ- যিনি (প্রভু শ্রীবিষ্ণু) দেবতাদিগেরও দেব এবং ঈশ্বরগণেরও ঈশ্বর।
অর্থাৎ তিনি (নারায়ণ) ঈশ্বরগণেরও ঈশ্বর।
⭕সর্বভুতস্থমেকং বৈ নারায়ণং কারণপুরুষমকারণং পরং ব্রহ্মোম্ ।
অর্থাৎ, সমস্ত ভুতে অবস্থিত এক নারায়ণই পরমব্রহ্ম যিনি কারণ পুরুষ কিন্তু যার কোনো কারণ নেই।
(নারায়ণ উপনিষদ/৪)
সুতরাং শিব ঈশ্বর আর ভগবান শ্রীবিষ্ণু ঈশ্বরেরও ঈশ্বর। একমাত্র প্রভু শ্রীবিষ্ণুই পরমব্রহ্ম। আর ঈশ্বর শব্দটি গৌণ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। গৌণ অর্থে শিব ব্রহ্মাদি দেবতাগণ ঈশ্বর। আর ভগবান শ্রীবিষ্ণু ঈশ্বরগণেরও ঈশ্বর - যার প্রমাণ উপরে দেওয়া হয়েছে। অগ্নিপুরাণ/৩৭৯/১২ শ্লোকেও এই কথা বলা হয়েছে।
✅ শৈব পক্ষ থেকে বৈষ্ণবীয় ৩য় দাবীর খণ্ডন —
(১) সংকর্ষণ সংহিতা নামক পঞ্চরাত্র মোহনাত্মক বেদবিরুদ্ধ, সুতরাং এর কোনো বচন গ্রহণযোগ্য নয় বলে প্রমাণ করে দিয়েছি উপরেই, তাই এটি নিয়ে পুনরায় কথা বলা বাহুল্যতা মাত্র ।
(২) নারায়ণ উপনিষদের নারায়ণ হলেন সাক্ষাৎ শিবই। তির প্রমিণ ও ভণ্ড বৈষ্ণবদের দাবী উভয়ই খণ্ডন করা হয়েছে, যার জবাব এই মূর্খদের কাছে নেই। তাই নারায়ণ বিষয়ে যতই যুক্তি উপস্থাপন করুন, তা গ্রহণযোগ্য নয়, কেননা নারায়ণ শব্দ শিববাচক বলে প্রমাণিত। তাই শিবের নামকে শিবের পরমত্ব খণ্ডনে প্রয়োগ করা যায়না, যদি সব জেনেও বৈষ্ণবেরা ওই শব্দকে বারংবার প্রয়োগ করে তবে তা তাদের মূর্খতা মাত্র।
🟤 নারায়ণ শব্দটি পরমেশ্বর শিব কেই বোঝায়, প্রমাণ দেখুন 👇
https://issgt100.blogspot.com/2025/08/blog-post_16.html
✅ ঈশ্বর নামটি শুধুমাত্র পরমেশ্বর শিবেরই, অন্য আর কারোরই নয়, প্রমাণ 👇
https://issgt100.blogspot.com/2025/10/blog-post_41.html
⚠️ বিষ্ণুকে শাস্ত্রে ঈশ্বর হিসেবে কখনো কখনো উক্ত হয়েছেন, শুধু মাত্র শিবের আদেশে , প্রমাণ 👇
[পৌরাণিক সংহিতা (শৈব উপাগম)/৪র্থ পটলঃ/১১-১৪ নং শ্লোক]
আমার শিবলোক ঈশ্বর লোক নামে বিখ্যাত হওয়ায়, তোমার মতোই সকল শিবভক্তগণ আমার কৃপায় শিবলোকে অবস্থান করে ঈশ্বরপদ লাভ করে জগৎ সৃষ্টি স্থিতি পালন করতে সক্ষম হয়। কোনো কোনো নির্দিষ্ট কল্পে আমার ভক্তই ব্রহ্মা বিষ্ণু ইন্দ্রাদির পদে বসে জগতে জগত শাসন করে চলেছেন অনন্ত কাল ধরে, আমার কৃপাবলে তুমিও কৈলাসবাসী রুদ্রকে পরাস্ত করতে সক্ষম হবে, কারণ তোমার মাহাত্ম্য বৃদ্ধি হবার জন্য এটি আবশ্যক ॥ ১১-১৪ ॥
নির্ণয় — বিষ্ণুকে ঈশ্বর বলে দাবী করা ভণ্ড বৈষ্ণবদের দাবী এখানেও খণ্ডিত হল। ঈশ্বর নামটিও একমাত্র পরমেশ্বর শিবেরই বলে প্রমাণিত হল।
____________________________________________________________________________________
🚫 ভণ্ড বৈষ্ণবের দাবী — ৪
রুদ্রাৎপ্রবর্ততে বীজং বীজযোনির্জনার্দনঃ ।..॥ ৭ ॥
[কৃষ্ণ-যজুর্বেদ/রুদ্রহৃদয় উপনিষদ/৭ নং মন্ত্র]
✅এখানে মূলত বীজ ও যোনি দ্বারা প্রভু নারায়ণকেই বোঝানো হচ্ছে। 👇
⭕"নারায়ণাদ্রুদ্র জায়তে" অর্থাৎ নারায়ণ থেকে রুদ্র জন্মেছেন।
(নারায়ণ উপনিষদ/১ ),(সুবালোনিষদ্/২/১) ইত্যাদি শ্রুতি বাক্যে সেই পরমপুরুষ নারায়ণ থেকেই রুদ্রের জন্ম হচ্ছে।
⭕কারণাত্মকং সর্বং কার্যাত্মকং সকলং নারায়ণ ।
(ত্রিপাদবিভুতি মহানারায়ণ উপনিষদ , অধ্যায় ২/১৬)
এখানে তাকে কার্যাত্মক ও কারণাত্মক বলা হয়েছে।
✅যেহেতু রুদ্রেরই উৎপত্তি নারায়ণ থেকে হয়েছে এবং তিনিই কার্য ও কারণাত্মক সেহেতু উক্ত রুদ্রহৃদয় উপনিষদ এর উক্ত মন্ত্রে রুদ্র স্থলে নারায়ণকেই বোঝায়। আর যোনি এর অর্থ কারণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অর্থাৎ নারায়ণই জগতের কারণ ও বীজ প্রদানকারী।
✅ শৈব পক্ষ থেকে বৈষ্ণবীয় ৪র্থ দাবীর খণ্ডন —
আগেও বারংবার বলেছি যে, আমাদের শৈবদের আরাধ্য পরমেশ্বর সদাশিব আর সংহারকর্তা রুদ্র গুণভেদে ভিন্ন স্বরূপে বিরাজ করেন। কিন্তু ভণ্ডবৈষ্ণবেরা নিজেদের কাল্পনিক বৈষ্ণবমতবাদের সিদ্ধান্ত দ্বারা ত্রিদেবের পিতা সদাশিবের পরমত্ব খণ্ডাতে না পেরে বারংবার রুদ্রের জন্ম হওয়ার বিষয়টিকে শিবের জন্ম হওয়া বলে চিহ্নিত করতে চায়। যা চরম ভণ্ডামীর লক্ষণ।
আমাদের শৈবদেরও মান্যতা অনুযায়ী এক এক কল্পে ত্রিদেব একজন অন্যজনের থেকে উৎপন্ন হয়ে থাকেন। কিন্তু সদাশিব ত্রিদেবের মধ্যে পরিগণিত নন, তাই তার জন্মও হয় না। কিন্তু ভণ্ড বৈষ্ণবেরা জোরপূর্বক সংহার কর্তা রুদ্রের নারায়ণ থেকে প্রকট হওয়াকে শিবের জন্ম বলেই চালাতে হয়। কেননা এরা বেদ থেকে সদাশিবের জন্ম দেখাতে ব্যর্থ।
আগেও বলেছি, বেদে রুদ্র শব্দে কখনো নিরাকার নির্গুণ পরমেশ্বর শিবকে বোঝায়, কখনো ত্রিদেবের পিতা সদাশিবকে বোঝায়, কখনো ত্রিদেবের মধ্যে পরিগণিত হওয়া সংহারকর্তা রুদ্রদেব কে বোঝায়।
বৈষ্ণবদের মত অনুসারে যদি বেদের সকল রুদ্র শব্দকে সংহার কর্তা রুদ্রদেব ধরে নেওয়া হয় তাহলে শ্বেতাশ্বতর উপনিষদের বেদমন্ত্রে ‘অজাত রুদ্র’ অর্থাৎ অজন্মা রুদ্র শব্দের সহিত ‘নারায়ণাদ্রুদ্র জায়তে’ নারায়ণ থেকে জাত হওয়া রুদ্র এই উভয় বেদ মন্ত্রে সংঘাত সৃষ্টি হয়। এমনকি ভস্ম জাবাল উপনিষদের বেদমন্ত্রে ‘হরি-হর-হিরণ্যগর্ভ-স্রষ্ঠারম্’ অর্থাৎ ঐ নারায়ণের জন্ম হয় বলে ঘোষণা করা হয়েছে, সুতরাং নারায়ণ ব্রহ্ম হলে এখানে সেই নারায়ণেরও স্রষ্ঠা ঐ রুদ্রকে বলা হয়েছে। তাই একই বেদে তিন ধরণের সংঘাত সৃষ্টি হয়ে যায়।
বেদে স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে,
রুদ্রাৎপ্রবর্ততে বীজং বীজযোনির্জনার্দনঃ ।..॥ ৭ ॥
[কৃষ্ণ-যজুর্বেদ/রুদ্রহৃদয় উপনিষদ/৭ নং মন্ত্র]
অর্থাৎ, রুদ্র (শিব) বীজ প্রদানকারী, আর জনার্দন বিষ্ণু হলেন সেই বীজ ধারণকারী যোনী।
স্পষ্ট ভাবে বীজদাতা শিবকেই বলা হয়েছে। কিন্তু এই বিষয়টিকে খণ্ডন করবার জন্য বৃথা চেষ্টা করবার জন্য নারায়ণ উপনিষদে বর্ণিত রুদ্রের জন্ম দেখাচ্ছে ভণ্ড বৈষ্ণব 😂
এখানে রুদ্র হৃদয় উপনিষদের উক্ত রুদ্র শব্দে যদি বীজ ও যোনি দ্বারা নারায়ণকেই বোঝানো হতো তাহলে, সমগ্র রুদ্র হৃদয় উপনিষদে শিব মহিমার বর্ণনা কেন করা হয়েছে ?
এবার দেখুন এখানে রুদ্রহৃদয় উপনিষদেই - ব্রহ্মা বিষ্ণু ও মহেশ্বর (রুদ্র) রূপে তিনভাগে বিভক্ত হয়েছেন স্বয়ং রুদ্র অর্থাৎ সদাশিব - তা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে —
কার্যং বিষ্ণুঃ ক্রিয়া ব্রহ্মা কারণং তু মহেশ্বরঃ ।
প্রয়োজনর্থং রুদ্রেণ মূর্তিরেকা ত্রিধা কৃতা ॥ ১৪ ॥
[রুদ্রহৃদয় উপনিষদ/১৪ নং মন্ত্র]
অর্থ — কার্যরূপ বিষ্ণু, ক্রিয়ারূপ ব্রহ্মা আর কারণরূপ হলেন মহেশ্বর । এইভাবে ভগবান রুদ্রই (সদাশিব) প্রয়োজনের অনুসারে সেই অনুরূপ নিজের একটি মূর্তিরূপী শক্তিকেই তিনরূপে (ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও সংহারক রুদ্র - ত্রিদেবরূপে) ধারণ করে রয়েছেন ॥ ১৪ ॥
কার্য ও কারণ রূপে শিবই একমাত্র রয়েছেন, অর্থাৎ রুদ্র শব্দে এখানে ত্রিদেবতার প্রকট কর্তা শিবকে বোঝানো হয়েছে, নারায়ণকে নয়। রুদ্র বলতে যদি শুধুই ত্রিদেবের একজনকেই নির্দিষ্ট করে বুঝিয়ে থাকতো তাহলে
যেখানে উক্ত রুদ্রহৃদয় উপনিষদেই শব্দ প্রমাণ রয়েছে, সেখানে একটি মন্ত্রের অপব্যাখ্যা করবার জন্য সম্পূর্ণ উপনিষদের প্রসঙ্গ বিষয়ে না জেনেই আবোল তাবোল কথা বলে রুদ্র শব্দে নারায়ণ বানিয়ে বেদকে স্ববিরোধী করবার অপচেষ্টা করেছে এই পাষণ্ড বৈষ্ণব অশোক। যে নপুংসক স্ববিরোধ দোষ বোঝে না সেই পাষণ্ড এসেছে বেদের বচন ব্যাখ্যা করতে।
বেদের নারায়ণ শব্দের খণ্ডন করে তা শিব বাচক বলে প্রমাণিত করা হয়েছে উপরে, তাই এই বিষয়ে বলা বাহুল্যতা মাত্র।
নির্ণয় — রুদ্র অর্থাৎ সদাশিব হলে বীজদাতা ব্রহ্ম আর বিষ্ণু হলেন যোনী, যে যোনীতে বীজ বপন হয়ে জগত সৃষ্টি হয়। বেদ মন্ত্র দ্বারা তা প্রমাণিত।
____________________________________________________________________________________
🚫 ভণ্ড বৈষ্ণবের দাবী — ৫
🔘 শিব যে নারী তার আরো কিছু রেফারেন্স (শিব নারী) 👇
⭕ (মহাভারত/দ্রোণ পর্ব/ অধ্যায় ২০১/ শ্লোক ৬১ এর অংশ) 👇
যোনিং বিশ্বস্য - শিব হলেন জগতের যোনি।
⭕ (মহাভারত/ দ্রোণ পর্ব/অধ্যায় ২০২/ শ্লোক ১২-১৩)👇
মহাদেবং হরং স্থাণুং বরদং ভুবনেশ্বরম্ ।
জগত্প্রধানমজিতং জগতপ্রীতিমধীশ্বরম্ ।। ১২
জগদ্যোনিং... শ্লোক ১৩ এর অংশ।
এখানে শ্লোক ১২ এ শিবকে "জগত্প্রধানমজিতং" বলা হয়েছে অর্থাৎ শিব জগত প্রধান। প্রধান হচ্ছে প্রকৃতি। প্রধান প্রকৃতির নাম নিচের শ্লোকে দেওয়া হয়েছে।
আবার শ্লোক ১৩ শিবকে জগতের যোনি বলা হয়েছে- "জগদ্যোনিং"।
⭕(মহাভারত/ আশ্বমেধিক পর্ব/অধ্যায় ৩৯, শ্লোক ২৩)👇
তমো ব্যাক্তং শিবং ধাম রজো যোনি সনাতনঃ।
প্রকৃতির্বিকারঃ প্রলয়ঃ প্রধানং প্রভবাপ্যযৌ।।
🔘এখানে প্রকৃতির বিভিন্ন নাম দেওয়া হয়েছে যেখানে শিব নাম রয়েছে। পূর্বে বলা হয়েছে যে প্রধানও প্রকৃতির নাম সেটাও এখানে দেওয়া হয়েছে "প্রধানং" শ্লোক ২৩ এর দ্বিতীয় চরণ এর অংশে। আর ইতোপূর্বে দেখানো হয়েছে যে শিব হলেন জগত প্রধান।
সুতরাং শিব হলেন প্রকৃতি বা প্রধান (নারী)।
✅ শৈব পক্ষ থেকে বৈষ্ণবীয় ৫ম দাবীর খণ্ডন —
এই ধরণের পাষণ্ডতা শুধু বৈষ্ণবদের পক্ষেই সম্ভব, মানুষকে ভ্রমে ফেলে দেওয়ায় পটু এরা। মহাভারতের থেকে অর্ধেক শ্লোক দেখিয়ে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করবার মতো চালাকি করেছে। বৈষ্ণবদের এই দাবি কেবল ত্রুটিপূর্ণ নয়; এটি হয় ইচ্ছাকৃত বিকৃতি, নয়তো সংস্কৃত বোধগম্যতার এতটাই করুণ অভাবের প্রতিনিধিত্ব করে যে এটি বুদ্ধিহীনতার সীমানা চরমভাবে অতিক্রম করে।
আমার যতদূর মনে হচ্ছে পাষণ্ড অশোক এই রেফারেন্স গুলো instagram এ vishnu_world নামক একটি আইডি থেকে এসব কপিপেষ্ট করেছে। যে আইডি টা ইতিমধ্যে চরম ঝালাই খায় instagram -এ থাকা অনান্য শৈব আইডি গুলির কাছে। সেই খণ্ডিত হওয়া রেফারেন্স কপিপেষ্ট করে ব্যবহার করে অশোক ভাবছে আমাদের নাস্তানাবুদ করে ফেলবে। কতটা ভ্রষ্ট বুদ্ধি হলে অশোক এইসকল বোকামি করতে পারে তা পাঠকবৃন্দ ই বিচার করবেন।
যাই হোক ! চলুন মহাভারতের উক্ত সম্পূর্ণ শ্লোকটি দেখি আর তার সম্পূর্ণ অর্থ কি তা জেনে নেওয়া যাক —
মহাদেবং হরং স্থাণুং বরদং ভুবনেশ্বরম্ ।
জগত্প্রধানমজিতং জগতপ্রীতিমধীশ্বরম্ ॥ ১২
জগদ্ যোনিং জগদ্ বীজং জয়িনং জগতো গতিম্ ।
বিশ্বাত্মানং বিশ্বসৃজং বিশ্বমূর্তিং যশস্বিনম্ ॥ ১৩
(মহাভারত/দ্রোণ পর্ব/অধ্যায় ২০২/ শ্লোক ১২-১৩)
অর্থ —
এই শ্লোকে ‘যোনিং’ শব্দটি এসেছে, কিন্তু 'জগদ্বীজং' শব্দটিও এসেছে ব্রহ্মাণ্ডের বীজ হিসেবে। যদি বৈষ্ণবরা আক্ষরিক অর্থে ‘যোনি’ শব্দকে নারী-পাঠের সমান করতে চান, তাহলে একই যুক্তিতে শিব ‘বীজ’ হয়ে ওঠেন, অর্থাৎ মহাজাগতিক বীজ যা স্পষ্টতই পুরুষালি। এই দুটি ‘যোনী ও বীজ’ শব্দটি দ্বারা উভয়ই একসাথে স্বয়ং শিবকে বোঝানো হয়েছে, ফলে এর দ্বারা শিবকে শুধমাত্র যোনী বলে চিহ্নিত করা যায় না। বরং যোনী ও বীজ উভয়ই শিব স্বয়ং হওয়ায় বৈষ্ণবদের নিজস্ব যুক্তি দ্বারা তাদেরই নিজস্ব যুক্তি বাতিল করে দেয় এবং স্পষ্ট করে দেয় যে শ্লোকটি জৈবিক নয়, বরং আধিভৌতিক অর্থে কথা বলছে। শিব হলেন সমস্ত অস্তিত্বের উৎস, বীজ এবং চূড়ান্ত পরিণতি। তিনি হলেন জড় এবং কার্যকর কারণ উপদান এবং নিমিত্ত কারণ।
এটা মহাজাগতিক শ্রেষ্ঠত্বের একটি বিবৃতি, কোন শিশুসুলভ লিঙ্গ নির্ধারণের বিষয়ই নয়।
অথর্ববেদের শ্রুতিতে বলা হয়েছে শিবই বিষ্ণুরূপ ধারণ করেন (অথর্বশির উপনিষদ/২য় কণ্ডিকা/২য় মন্ত্র), ঐ বিষ্ণুরূপটি যোনীরূপ, আর বীজ দাতাও শিব ; তাই শিব পরমপুরুষ।
আর মহাভারতে শিবকে বীজদাতাও বলা হয়েছে আবার যোনীও বলা হয়েছে, তাহলে শুধুমাত্র একটি শ্লোককে অসমাপ্ত রেখে তার খণ্ডিতাংশকে তুলে যে চালাকি করতে চেয়েছে এই পাষণ্ড অশোক, সেটা ধরা পড়ে গেল 😂
নিম্নোক্ত শ্লোকেই শিবকে বিশ্বের আত্মা বলা হয়েছে, তার থেকেই বিশ্ব সৃষ্টি হয়, শিবই যশস্বী বলা হয়েছে। নপুংসক বৈষ্ণবরা নিজেদের জালে নিজেরাই জড়িয়ে গেছে।
'যোনি স্ত্রীলিঙ্গ কারণ শিব স্ত্রীলিঙ্গ' এই পংক্তিটি সংস্কৃত কাঠামো বা অধিবিদ্যাগত প্রেক্ষাপট সম্পর্কে স্পষ্টভাবে ধারণা না থাকা লোকেদের দ্বারা ব্যবহৃত হয় 😂, একটি সস্তা ব্যাকরণগত কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়।
এটি ব্যাখ্যার ছদ্মবেশে একটি অলস শর্টকাট, এমনকি মৌলিক ভাষাগত বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করার সাথে সাথে ভণ।ড বৈষ্ণবদের যুক্তি তাদেরই দেওয়া প্রমাণ দ্বারা খণ্ডিত হয়ে গিয়েছে।
পরবর্তী ২৫ নং শ্লোকেই ‘স্থাণবে পুরুষায় চ’ পরমেশ্বর শিবকে পুরুষ ঘোষণা করা হয়েছে।
বে জ ন্মা ভণ্ড বৈষ্ণব অশোক ! অর্ধ শ্লোক তুলে পরমেশ্বর শিবকে সাধারণ দৃষ্টিতে নারী প্রমাণ করতে চেয়েছিল। কিন্তু সমগ্র শ্লোকেই দেখা গেল শিবকে যোনী বীজ পুরুষ, সবই বলা হল।
এমনকি শিবকে বিষ্ণুরূপধারী, সকল শাস্ত্রের মধ্যে থাকা একমাত্র গুহ্য সত্ত্বা ও অজন্মাও বলা হয়েছে এই প্রসঙ্গে এই একই অধ্যায়ে । দেখুন 👇
দ্বে তনু তস্য দেবস্য বেদজ্ঞা ব্রাহ্মণা বিদুঃ ।
ঘোরা চান্যা শবা চান্যা তে তনু বহুধা পুনঃ ॥ ৮৭
ঘোরা তু যা তনুস্তস্য সোঽগ্নির্বিষ্ণুঃ স ভাস্করঃ ।
সৌম্যা তু পুনরেবাস্য আপো জ্যোতীংষি চন্দ্রমাঃ ॥ ৮৮
বেদাঃ সাঙ্গোপনিষদঃ পুরাণাধ্যাত্মনিশ্চয়াঃ ।
যদত্র পরমং গুহ্যং স বৈ দেবো মহেশ্বরঃ ॥ ৮৯
ঈদৃশঃ স মহাদেবো ভূয়শ্চ ভগবানজঃ ।
নহি সর্বে ময়া শক্যা বক্তুং ভগবতো গুণাঃ ।
অপি বর্ষসহস্রেণ সততং পাণ্ডুনন্দন ! ॥ ৯০ ॥
[মহাভারত/দ্রোণপর্ব/১৭০ অধ্যায়/৮৭-৮৯ নং শ্লোক]
অর্থ — বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণেরা জানেন যে, সেই মহাদেবের দুইটা মূর্তি আছে, তার একটা ভীষণ এবং অপরটি সৌম্য। সেই দুইটি মূর্ত্তি আবার বহুপ্রকারও হয়ে থাকে ॥ ৮৭
তাঁর যেটা ভীষণ মূর্তি, তাহা অগ্নি, নৃসিংহাদিরূপ বিষ্ণু এবং গ্রীষ্ম-সময়ের মধ্যাহ্নকালীন সূর্য্য ; আবার যেটা সৌম্য মূর্তি, তা জল, নক্ষত্র ও চন্দ্র ॥ ৮৮
ব্যাকরণাদি অঙ্গশাস্ত্র ও উপনিষদের সহিত সমস্ত বেদ এবং পুরাণ ও অধ্যাত্মশাস্ত্র, এই গুলিব মধ্যে যা অত্যন্ত গোপনীয়, তিনিই মহেশ্বর মহাদেব ॥ ৮৯ ॥
পাণ্ডুনন্দন ! সেই মহাদেব এইরূপ, আবার তিনি সর্বপ্রধান ঐশ্বর্য্যশালী এবং জন্মরহিত। আমি সহস্র বৎসর পর্য্যন্ত সর্বদা বলেও সেই ভগবানের সমস্ত গুণ, বলতে সমর্থ নই ॥ ৯০॥
শিব যে অজন্মা তাও প্রমাণিত হয়ে গেল, নারায়ণ থেকে শিবের জন্ম হয়নি। কারণ, শিবের জন্মই নেই।
কি হে অবোধ বৈষ্ণব ! আমাদের শৈবদের মান্যতা ই তো সঠিক প্রমাণিত হয়ে গেল আপনার দেওয়া রেফারেন্স থেকে। 😂
এবার ভণ্ড বৈষ্ণব দাবী করেছে যে, শিব নাকি জগৎপ্রধান অর্থাৎ নির্দিষ্ট ভাবে শুধুই প্রকৃতি। গ র্দভ বৈষ্ণব অশোক এটা বুঝতেই পারেনি যে, জগতের প্রধান ও প্রকৃতি বলতে এখানে সাংখ্যের প্রকৃতি পুরুষকে বোঝানো হয়েছে। আর শিব নিজের প্রকৃতি পুরুষের রূপ ধারণ করেন বটে, তবে তিনি সক্ষাৎ পরমেশ্বর হওয়ায় তিনি এই সামান্য প্রকৃতি পুরুষেরও ঊর্ধ্বে। বুদ্ধি কতটা অবনতি হলে এসব উল্টোপাল্টা দাবী করতে পারে,
মহাদেব স্ত্রী,পুরুষ, নপুংসক, সাংখ্য যোগের রূপেও আছেন আবার এসবের চেয়েও ঊর্ধ্বে তিনির পরমতত্ত্ব হিসেবে অবস্থিত হয়ে যোনী অর্থাৎ উৎস ক্ষেত্র ও বীজ উভয়কেই স্বয়ং নিজে প্রকট করে নিয়ন্ত্রণ করেন। অল্পবুদ্ধিযুক্ত বৈষ্ণব প্রাণী আর তা কি করে বুঝবে ?
মহাভারতের অনুশাসন পর্বে উপমন্যু শৈবাচার্য জী পরমেশ্বর শিবকে সম্বোধন করে শিব সম্পর্কে বলছেন এগুলি।
প্রমাণ দেখুন —
স্ত্রীপুংসায নপুংসায় নমঃ সাংখ্যায় যোগিনে ॥ ৩০৬
বীজক্ষেত্রাভিপালায় স্রষ্টারায় নমো নমঃ ॥৩০৮
[মহাভারত/ অনুশাসন পর্ব/১৩ অধ্যায়/৩০৬,৩০৮ নং শ্লোক]
অর্থ — চন্দ্র, সূর্য্য ও অগ্নি আপনার নয়ন, অথবা লক্ষনয়ন আপনাকে নমস্কার, আপনি স্ত্রী-পুরুষ, আপনি নপুংসক, আপনি সাংখ্যপ্রণেতা কপিল এবং আপনি যোগপ্রণেতা পতঞ্জলি, আপনাকে নমঙ্গার ॥ ৩০৬
আপনি বীজ ও ক্ষেত্র(যোনী) দুইই পালন করে থাকেন এবং আপনিই জগতের সৃষ্টি-কর্তা, আপনাকে নমস্কার ॥ ৩০৮
গর্দভ বৈষ্ণব মহাভারতের শ্লোক উল্লেখ করে প্রভু শিবকে সাংখ্যের প্রকৃতি প্রধান বলে চিহ্নিত করেছে, অথচ স্পষ্ট ভাবেই মহাভারতই বলছে যে শিব ঐ সাংখ্যের পুরুষরূপ ধারণ করেন, আবার তিনি নিষ্কল অর্থাৎ সকল প্রকার প্রকৃতি তথা মায়ার থেকে মুক্ত। প্রমাণ —
আত্মা চ সর্বভূতানাং সাংখ্যে পুরুষ উচ্যসে।
ঋষভস্ত্বং পবিত্রাণাং যোগিনাং নিষ্কলঃ শিবঃ ॥ ৩১৬
[মহাভারত/অনুশাসন পর্ব/১৩ অধ্যায়/৩১৬ নং শ্লোক]
অর্থ — হে মহাদেব ! আপনি সমস্ত প্রাণীর জীবাত্মা, সাংখ্যে পুরুষ বলে উক্ত হয়েছেন ; পবিত্রগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং যোগিদের অন্তরের মধ্যে নিষ্কল পরমশিব ॥৩১৬
এবার শেষ প্রমাণ দিয়ে মহাদেবকে প্রকৃতি প্রধাণের চেয়েও পরমতম বলে প্রমাণ দিচ্ছি মহাভারত থেকেই, দেখুন —
উপমন্যু মহাদেবকে সম্বোধন করে বললেন,
স এষ ভগবান্ দেবঃ সর্বসত্ত্বাদিরব্যয়ঃ ।
সর্বতত্ত্ববিধানজ্ঞঃ প্রধানপুরুষঃ পরঃ ॥ ৩৪৪
যোঽসৃজদ্দক্ষিণাদঙ্গাদ্ ব্রাহ্মণং লোকসম্ভবম্ ।
বামপার্শ্বাত্তথা বিষ্ণুং লোকরক্ষার্থমীশ্বরঃ ॥ ৩৪৫
যুগান্তে চৈব সম্প্রাপ্তে রুদ্রমীশোঽসৃজৎ প্রভুঃ ।
স রুদ্রঃ সংহরন্ কৃৎস্নং জগৎ স্থাবরজঙ্গমম্ ॥ ৩৪৬
কালো ভূত্বা মহাতেজাঃ সম্বর্ত্তকঃ ইবানলঃ ।
যুগান্তে সর্বভূতানি গ্রসন্নিব ব্যবস্থিতঃ ॥ ৩৪৭
[মহাভারত/অনুশাসন পর্ব/১৩ অধ্যায়/৩৪৪-৩৪৭ নং শ্লোক]
অর্থ — যে ঈশ্বর নিজের দক্ষিণপার্শ্ব হতে জগতের সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মাকে সৃষ্টি কবিয়াছেন এবং লোকবক্ষার জন্য বামপার্শ্ব হইতে বিষ্ণুকে উৎপাদন করেছেন ॥ ৩৪৫
প্রলযকাল উপস্থিত হলে প্রভাবশালী মহাদেব রুদ্রকে সৃষ্টি করেন ; সেই রুদ্র কাল হয়ে প্রলয়কারক মহাতেজরূপ অগ্নির ন্যায় স্থাববজঙ্গমাত্মক সমগ্র জগৎ সংহার করে সমস্ত ভূতকে গ্রাস করেই যেন অবস্থান করেন ॥ ৩৪৬-৩৪৭ ॥
দেখুন ভণ্ড বৈষ্ণব ! এখানে প্রভু শিব যে বিষ্ণু ব্রহ্মা ও রুদ্রেরও উৎপত্তি কর্তা সেটি স্পষ্ট, আর প্রধানপুরুষ নামক প্রকৃতি পুরুষের চেয়েও শিব হলেন পরম।
শিব যোনী, বীজ, পুরুষ, প্রকৃতিপুরুষের ঊর্ধ্বে তথা সবকিছু।
মহাভারতের অনুশাসন পর্বে উপমন্যু শৈবাচার্য জী দেবরাজ ইন্দ্র রূপী শিবকেই শিবের মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন —
ভগবত্যুত্তমৈশ্বর্য্যং ব্রহ্মবিষ্ণুপুরোগমম্ ।
বিদ্যতে বৈ মহাদেবাদ্ ব্রূহি কঃ পরমেশ্বরাৎ ॥২০৩
[মহাভারত/অনুশাসন পর্ব/১৩ অধ্যায়/২০৩ নং শ্লোক]
অর্থ — ব্রহ্মা এবং বিষ্ণুর থেকে অধিক উত্তম ঐশ্বর্য্য ভগবান্ মহাদেবে রয়েছে। অতএব আপনি বলুন, পরমেশ্বর মহাদেব হতে প্রধান কে আছে ?
নির্ণয় — ভণ্ড বৈষ্ণব নিজেদের দাবী করা অর্ধশ্লোক দেখিয়ে নিজেরাই নিজেদের যুক্তিতে খণ্ডিত হয়েছেন। পরমেশ্বর শিবই সকল রূপ তথা পরম পুরুষ - এই সিদ্ধান্ত অটল।
____________________________________________________________________________________
🚫 ভণ্ড বৈষ্ণবের দাবী — ৬
🔵আর প্রকৃতির গর্ভে বীজ প্রদানকারী পিতা হলেন ভগবান শ্রীবিষ্ণু।👇
⭕(শ্রীমদ্ভগবদগীতা, চতুর্দশ অধ্যায়, শ্লোক ৩-৪)
তাসাম্ ব্রহ্ম মহদ্ যোনিঃ অহং বীজপ্রদঃ পিতা।।
🔘এখানে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজেকে প্রকৃতির গর্ভে বীজ প্রদানকারী পিতা বলেছেন।
⭕(মহাভারত/ শান্তি পর্ব/মোক্ষধর্মপর্ব / অধ্যায় ৩৩৯/ শ্লোক ৩২)
তমেকং পুরুষং বাসুদেবং সনাতনম্।। ৩২
অর্থাৎ একমাত্র সনাতন পুরুষ ভগবান বাসুদেব।
🔘আর যেসমস্ত মন্ত্র দ্বারা শৈব প্রাণীরা শিবকে পুরুষ প্রমাণ করতে চায় ওগুলো মূলত ভগবান বিষ্ণুর জন্যই বলা হয়েছে। কারণ শিব যে নারী এটা বেদ সহ বিভিন্ন শাস্ত্র থেকে প্রমাণ হয়ে গেছে তাই শিবকে অন্য মন্ত্র দ্বারা পুরুষ দাবি করলে মূর্খামি হবে। শ্রুতিবাক্য পরস্পর বিরোধী নয়। তাই যেখানে আপাতত শিবকে পুরুষ বলে বোধ হয় সেখানে প্রভু শ্রীবিষ্ণুকেই বোঝানো হয়েছে।
👉সুতরাং শাস্ত্র অনুযায়ী শিব হলেন প্রকৃতি আর প্রভু শ্রীবিষ্ণু প্রকৃতির গর্ভে বীজ প্রদানকারী পিতা।
✅ শৈব পক্ষ থেকে বৈষ্ণবীয় ৬ষ্ঠ দাবীর খণ্ডন —
ভগবদ্গীতায় যোগ সম্পর্কিত দার্শনিক ব্যাখ্যা কে সংকীর্ণ দেহাত্মক ভাবনায় সীমাবদ্ধ করলে শ্রীকৃষ্ণকে ব্রহ্ম ভেবে নেওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।
পূর্বেই বেদ থেকে প্রমাণ করে দেখিয়েছি যে পরমেশ্বর শিবই বীজদাতা,
বেদে স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে,
রুদ্রাৎপ্রবর্ততে বীজং বীজযোনির্জনার্দনঃ ।..॥ ৭ ॥
[কৃষ্ণ-যজুর্বেদ/রুদ্রহৃদয় উপনিষদ/৭ নং মন্ত্র]
অর্থাৎ, রুদ্র (শিব) বীজ প্রদানকারী, আর জনার্দন বিষ্ণু হলেন সেই বীজ ধারণকারী যোনী।
সুতরাং বেদ অনুযায়ী গীতার বচন পরমার্থে বিচার্য, ব্যবহারিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার্য নয়।
শ্রীকৃষ্ণ আমি ব্রহ্ম বলতে আমি শব্দে শ্রীকৃষ্ণ নিজের দেহের মধ্যে থাকা আত্মাকে বুঝিয়েছেন।
প্রভু শিব হলেন সকল জীবের অন্তরে আত্মারূপে বিরাজমান। যোগী পুরুষ নিজের আত্মাকে আমি অর্থাৎ শিবরূপকেই প্রকৃত আমি বলে সম্বোধন করেন, দেহকে নয়, দেহ জড় পদার্থ অনাত্মা।
ভণ্ড বৈষ্ণবেরা সর্বদাই অদ্বৈতদর্শনের বিরোধী। এই কারণে ভগবদ্গীতার অছিলায় সর্বদা আমি শব্দকে কৃষ্ণ কেন্দ্রিক করবার অপচেষ্টায় রত এই ভণ্ডেরা।
ভগবদ্ গীতা যে শিবেরই বাচক তা প্রমাণিত করেছি বৈষ্ণবদেরই প্রিয় পদ্মপুরাণ থেকে, দেখুন —
https://issgt100.blogspot.com/2022/01/In%20the%20Padmapurana%20the%20Bhagavad%20Gita%20meets%20Sadashivarupa%20who%20is%20acknowledged%20by%20Lord%20Vishnu%20as%20more%20perfect%20than%20Vishnu%20-%20with%20semantic%20analysis%20and%20commentary..html
তাই ভগবদ্ গীতার অজুহাত এইক্ষেত্রে খাটবে না।
প্রকৃতি-পুরুষের মধ্যে বিষ্ণু হলেন পুরুষ - এতে আশ্চর্যের মতো বিষয় নেই, বরং শৈব সিদ্ধান্তেরই অনুকূল এই বচন।
পরমেশ্বর শিব হলেন প্রকৃতির চেয়ে উর্দ্ধে থাকা পরমপুরুষ, যা উপরেই প্রমাণিত করা হয়েছে। আর বিষ্ণু হলেন প্রকৃতির মধ্যে পুরুষরূপ। তাই মহাভারতের শান্তি পর্বের মোক্ষধর্মপর্বের ৩৩৯ অধ্যায়ের ৩২ নং শ্লোকে বাসুদেব বিষ্ণু কে পুরুষ বলা হলেও তা প্রকৃতির অন্তরস্থ পুরুষকেই বোঝানো হয়েছে। কারণ, মহাভারতেই শিবের বাম দিক থেকে বিষ্ণুর জন্ম হয় বলা হয়েছে। বেদেও তাই বলা হয়েছে।
✅ কৃষ্ণ-যজুর্বেদের রুদ্রহৃদয় উপনিষদ থেকে 👇
বামপার্শ্বে উমা দেবী বিষ্ণুঃ ..। যা উমা সা স্বয়ং বিষ্ণুর্য়ো..॥ ৪ ॥
[কৃষ্ণ-যজুর্বেদ/রুদ্রহৃদয় উপনিষদ/৩-৪ নং মন্ত্র]
অর্থ — (পরমেশ্বর শিবের) বাম পাশে পরমেশ্বরী উমা, শ্রীবিষ্ণু। যিনি উমা, তিনিই হলেন স্বয়ং বিষ্ণু ॥ ৪ ॥
এমনকি পরমেশ্বর শিবের বাম দিকের শক্তির প্রকৃতিভাগ থেকে হরি উৎপন্ন হয়েছেন।
🔷শুধু যুক্তি নয়, বরং কাহিনী হিসেবেও প্রমাণিত যে বিষ্ণু হলেন প্রকৃতি তথা নারীসুলভ আচরণে গুণান্বিত,
প্রমাণ দেখুন — স্কন্দ মহাপুরাণ থেকে 👇
ব্রহ্মোৎপত্তিঃ
কল্পান্তরে পুনস্তস্মিন্ ব্রহ্মণ্যুপরতে হরিঃ ।
পরান্তকালে স্ত্রীভূত্বা বিষ্ণুরীশং বশং নয়ৎ ।
অরমচ্চ ততো ব্রহ্মা বিষ্ণাবুদভবৎ পুরা ॥
তদ্বিষ্ণুঃ শিবপূজায়া মাহাত্ম্যাৎ কিল শূলিনঃ ।
দয়িতেতি শ্রুতো লোকে পূজা সর্বস্য কামধুক্ ॥
[স্কন্দ পুরাণ/শঙ্কর সংহিতা/শিব রহস্য খণ্ড/উপদেশ কাণ্ড/অধ্যায় ৬৫–৬৬]
অর্থ — ব্রহ্মার উৎপত্তির কাহিনী - অন্য এক কল্পে, যখন ব্রহ্মা আর বিদ্যমান ছিলেন না, তখন মহাপ্রলয়ের সময় হরি (বিষ্ণু) নারী-রূপ ধারণ করে ঈশকে (শিবকে) মোহিত করেছিলেন। সেই ঐশ্বরিক মিলন থেকেই অতীতে বিষ্ণুর থেকেই পুনরায় ব্রহ্মার জন্ম হয়েছিল। সেই বিষ্ণু, শিব পূজার মাহাত্ম্যের কারণে জগতে ‘শূলিধর (শিব)-এর প্রিয়তম’ নামে পরিচিত হলেন। অতএব, শিবের উপাসনাই সকল কামনা-বাসনা পূরণকারী বলে গণ্য হয়।
আরও একটি প্রমাণ দেখুন
শ্রীবিষ্ণুর নারীসুলভ ইচ্ছাতেই তার প্রকৃত স্বরূপের পরিচয় পাওয়া যায়।
৭ম প্রমাণ দেখুন — স্কন্দ মহাপুরাণ থেকে 👇
শাস্তা উৎপত্তিঃ
পুনঃ কদাচিচ্ছ্রীকান্তো ন্যগ্রোধবন ঈশ্বরম্ ॥ ২৫
আরাধ্যাস্মাদ্ বরং বদ্রে প্রসন্নাৎ পার্বতীপতেঃ ।
ত্বয়া রন্তুমপেক্ষেশাধুনা ভূত্বা রমণ্যহম্ ॥ ২৬
দেয়ো বরো মমাধীশ প্রসন্নো যদি শঙ্কর ।
দত্বৈবমীশ্বরস্তস্মৈ বরমন্তর্ধিমায়যৌ ॥ ২৭
ততস্তু কারণে দেবমমৃতং ক্ষীরসাগরাৎ ।
গৃহীতমসুরৈর্ বিষ্ণুর্ মোহিন্যাকারমাস্থিতঃ ॥ ২৮
তেনাসুরান্ মোহয়িত্বা পায়য়িত্বামৃতং সুরান্ ।
ঊর্ধ্বরেতসমীশানমপি মোহমুপানযৎ ॥ ২৯
রমমাণো মহেশেন মোহিন্যাকারমস্থিতঃ ।
লেভে চ পুত্রং শাস্তারং কামারাতেরপীশ্বরাৎ ॥ ৩০
[স্কন্দ মহাপুরাণ/শঙ্কর সংহিতা/শিব রহস্য খণ্ড/উপদেশ কাণ্ড/অধ্যায় ৬৬]
অর্থ —
শাস্তা নামক একজন শিবগণের উৎপত্তির কাহিনী -
একসময় ন্যগ্রোধ অরণ্যে শ্রীকান্ত ভগবান বিষ্ণু - ঈশ্বর শিবের উপাসনা করলেন এবং শিব সন্তুষ্ট হলে পার্বতীপতির কাছে একটি বর প্রার্থনা করলেন। বিষ্ণু প্রার্থনা করে বললেন —
“হে প্রভু! যদি আপনি সন্তুষ্ট হন, তবে আমায় এই বর দিন— আমি আপনার সঙ্গে মিলন-রস অনুভব করার জন্য এক অতুল সুন্দরী নারীর রূপ ধারণ করতে চাই।”
ভগবান শংকর সেই বর প্রদান করলেন এবং তারপর অন্তর্ধান করলেন ॥ ২৫–২৭ ॥
পরবর্তীতে দেব-দানবরা যখন অমৃত লাভের জন্য ক্ষীরসাগর সমুদ্র মন্থন করল, তখন অমৃত দানবরা ছিনিয়ে নিল। তাদের প্রতারণা করার জন্য ভগবান বিষ্ণু মোহিনী রূপ ধারণ করলেন। সেই মায়ার মোহে পড়ে দানবরা প্রতারিত হল এবং দেবতারা অমৃত পান করতে সক্ষম হল।
এমনকি রুদ্র — যিনি সাধারণত জাগতিক কামনা-বাসনার অতীত — তিনিও মোহিনীর এই রূপে মুহূর্তের জন্য নিজের দেওয়া বরদানের কারণে মোহিত হলেন। মোহনরূপী বিষ্ণুর সঙ্গে মিলন-আনন্দে নিমগ্ন হয়ে রুদ্র এক পুত্রের জন্ম দিলেন।
এইভাবে জন্মলেন শাস্তা (অয়্যাপ্পা) — কামদেবের শত্রু রুদ্রের পুত্র, যিনি মোহিনী রূপী বিষ্ণুর দৈব সংযোগে আবির্ভূত ॥ ২৮–৩০ ॥
____________________________________________________________________________________
✅বেদে পরমেশ্বর শিব কে পুরুষের মধ্যে উত্তম পরম পুরুষ বলা হয়েছে -
যো বৈ বেদ মহাদেবং পরমং পুরুষোত্তমম্ ।..॥ ২২ ॥
[তথ্যসূত্র - ঋগ্বেদ সংহিতা/আশ্বলায়ন শাখা/১০ মণ্ডল/১৭১ সূক্ত/২২ নং শ্লোক]
এই তথাকথিত ‘বৈষ্ণব ব্যাখ্যা’ শুধু ভুলই নয়, এটি অজ্ঞতার এক চরম উদাহরণ। এতে গ্রন্থ-জ্ঞান শূন্য, দর্শনের গভীরতা শূন্য, বরং যখনই মুখ খুলতে চায় তখনই নিজের কথার মধ্যেই হোঁচট খায়। এটি যেন অন্ধকারে চোখ বন্ধ করে হাত-পা ছুঁড়ে মারার মতো, আর শেষে নিজেকেই আঘাত করা— ঠিক সেই রকম বুদ্ধিবৃত্তিক হাস্যকর অবস্থা।
এই নপুংসক বৈষ্ণবগুলো কখনো শাস্ত্র খুলে ভালো করে পড়ে না, শুধুমাত্র কিছু খন্ডিতাংশ নিয়ে হাজির হয়, ঐ খণ্ডিতাংশে কি রয়েছে সেটাও এরা বুঝতে পারে না, ফলে নিজেদের দাবীতেই নিজেরা জনসমক্ষে হাসির পাত্র হয়ে যায় নিজেদের অজ্ঞানতার কারণে।
যুক্তিতে, কাহিনীতে বিষ্ণু প্রকৃতিগত নারীসত্ত্বা বটেই, এমনকি বৈষ্ণবদেরই মন্দিরে বিষ্ণু নিজে নারী হিসেবে পূজিত হন ।
ভারতে অনেক মন্দির আছে যেখানে মহাবিষ্ণুকে শাড়ি পরে নারী রূপে পূজা করা হয়, যেমন কর্ণাটকের বেলুরু চেন্নাকেশব মন্দির।
অন্ধ্রপ্রদেশের রিয়ালির জগনমোহিনী কেশব স্বামী মন্দিরে, তিনি সামনে পুরুষ এবং পিছনে মহিলা রূপে পূজা করা হয়। গোয়ার মহালসা নারায়ণী মন্দিরও রয়েছে, এই সকল স্থানে বিষ্ণুর প্রকৃতিগত নারীসত্ত্বার পূজা করা হয়।
বে জন্মা বৈষ্ণব অশোকের মাথায় যদি সদ্ বুদ্ধি থাকতো তাহলে পরমেশ্বর শিবের নামে নিন্দা করবার জন্য শাস্ত্রের অর্থকে বিকৃত করবার ধৃষ্টতা করতো না। এই ধরণের পাষণ্ড দের জন্যই আথি সনাতন শৈবধর্ম আজ বিভিন্ন মতপথে বিভক্ত হয়েছে। বিষ্ণু ভক্তির গোঁড়ামিতায় এতটাই অন্ধ হয়ে পড়েছে এই বৈষ্ণবেরা যে, এরা মোল্লাদের থেকেও কোনো অংশে কম নয়, শিবভক্ত, পরমেশ্বর শিব কে এরা তো হিংসা করেই, বরং জগৎজননী মা পার্বতীকে প্রেমিকা স্বপ্ন দেখে এই বে জন্মা বরাহ বৈষ্ণব ! একজন সনাতনী কি কখনো এমন দুর্ভাবনা মনে পোষণ করতে পারে ? আমরা শৈব হয়েও সর্বদা লক্ষ্মী দেবীকে মা বলেই সম্বোধন করি, তিনি মা পার্বতীর অন্য একরূপ জেনে মাতা লক্ষ্মীকে আমরা প্রণম্য মনে করি, কিন্তু বে জন্মা বৈষ্ণব বরাহগণ সেই আদর্শ পর্যন্ত ভুলে গিয়েছে। আর এই বে জন্মাদের পর্দা ফাঁস করলেই অনান্য কিছু বেজন্মারা আমাদের কাছে এসে ভেদাভেদের গল্প শোনাতে আসে। এই বে জন্মারা হল ঠিক ঐ ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের মতো, যারা অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়, প্রতিবাদ হতে দেখলেই ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। আমরা শৈবরা এই সকল বে জন্মা পাষণ্ডদের জবাব শাস্ত্রের আলোকে দিয়েছি, দিয়ে চলেছি আর চিরকাল দিয়ে যাবো।
_________________________________________________
সিদ্ধান্ত
বৈষ্ণবদের শাস্ত্রজ্ঞানহীনতা সহ ভণ্ডামি খণ্ডিত হবার সাথে সাথে সমগ্র শাস্ত্র প্রমাণের দ্বারা একমাত্র পরমেশ্বর প্রভু শিবই পরমপুরুষ এবং শ্রীবিষ্ণু প্রকৃতি যোনী নারীস্বরূপা বলে পুনরায় প্রমাণিত হল।
_________________________________________________
শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তে 🚩
হর হর মহাদেব 🚩
✍️ সত্য উন্মোচনে — শ্রী নন্দীনাথ শৈব আচার্য জী
©️ কপিরাইট ও প্রচারে — International Shiva Shakti Gyan Tirtha - ISSGT

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন