পরমাদ্বৈত শৈব দর্শন দ্বারা আদি শঙ্করাচার্যের মায়াবাদী অদ্বৈতবাদের পার্থক্য নির্ণয় ও দার্শনিক খণ্ডন
তোমার অস্তিত্বের মধ্যে একাগ্রতা (এক-নিষ্ঠ অবস্থা) গড়ে তুলতে হবে। এই একাগ্রতা হলো পরা বাক্ (সর্বোচ্চ বাকের স্তর)-এর অবস্থায় একাগ্রতা।
এছাড়াও তোমাকে মধ্যমা বাক্ (মধ্যবর্তী বাকের স্তর)-এর অবস্থায় একাগ্রতা অর্জন করতে হবে।
এবং সবশেষে, বৈখরী বাক্ (স্থূল বা সাধারণ কথার স্তর)-এর অবস্থাতেও একাগ্রতা আনতে হবে — অর্থাৎ দৈনন্দিন কথাবার্তার স্তরেও।
সনাতন শৈবধর্মে আমরা শুরু করি মধ্যপথ থেকে, অর্থাৎ মধ্যমা বাকের স্তর থেকে।
কাশ্মীর শৈব দর্শন ব্যাখ্যা করে যে, কর্মের মধ্যেই যোগ। এর অর্থ হলো — মনে করো, তুমি যখন বাসে বসে আছো, বা রাস্তায় হাঁটছো, তখন নীরব থাকবে। নীরবে হাঁটো, বাসে নীরবে বসে থাকো। কারও সঙ্গে কথা বলবে না।
তোমার গুরুর নির্দেশ অনুযায়ী, সাধনার পরিপ্রেক্ষিতে - কারও সঙ্গে কথা না বলে ভগবান শিবের চিন্তন করতে থাকো। এভাবেই শুরু করতে হয়।
কথা বলতে বলতে প্রথম অবস্থায় যোগাভ্যাস করা সম্ভব নয়। শুরুতে নীরবতা থেকেই আরম্ভ করতে হয়।
কর্মের মধ্যে যে যোগ করা হয়, তা অত্যন্ত শক্তিশালী।
উদাহরণস্বরূপ, তুমি যদি হাঁটতে হাঁটতে মাত্র পনেরো মিনিট ধ্যানমগ্ন চিন্তন চালিয়ে যেতে পারো, তাহলে সেই ফল হবে এমন, যেন তুমি তোমার ধ্যানকক্ষে টানা দুই বা তিন বছর ধ্যান করেছো।
এর কারণ হলো — কর্মের মধ্যে যোগ তোমার চিন্তন-অভ্যাসকে আরও দৃঢ়, স্থির এবং গভীর করে তোলে।
এই কারণেই কাশ্মীর শৈব দর্শনে নিষ্ক্রিয় যোগের চেয়ে কর্মময় যোগের উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মধ্যমা বাকের স্তরে কর্মযোগের অনুশীলনে প্রথমে নীরবতা দিয়ে শুরু করতে হয়।
আর যখন তুমি মধ্যমা স্তরকে অতিক্রম করবে, তখন তুমি শিবের পরা অবস্থায় উন্নীত হবে।
তবে এই পরা অবস্থা তখনই ঘটে, যখন তুমি তোমার কার্য সমাপ্ত করো।
যেমন — চিন্তনের অনুশীলন করতে করতে তুমি দশ মাইল হাঁটলে (পাঁচ মাইল যাওয়া ও পাঁচ মাইল ফিরে আসা), তারপর বাড়ি ফিরে বসে ধ্যান করলে।
এই অবস্থায় তুমি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মযোগের পরা অবস্থায় প্রবেশ করবে, এবং তা তোমাকে দ্রুত পরমাত্মস্বরূপ অতিক্রমী সত্তার অবস্থায় পৌঁছে দেবে।
তোমাকে এই পরা অবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রবেশ করতে হবে — জোর করে এটা ঘটানো যায় না।
যদি তা না ঘটে, তাহলে আবার কর্মের মধ্যে চিন্তন-অভ্যাস শুরু করতে হবে।
কর্মযোগের শক্তির দ্বারাই পরা অবস্থায় প্রবেশ করা যায়।
যদি কর্মের মধ্যে তোমার চিন্তন স্বতঃস্ফূর্ত ও নিরবচ্ছিন্ন হয়, তাহলে তুমি আপনাতেই পরা অবস্থায় প্রবেশ করবে।
কিন্তু অনুশীলনের সময় যদি মাঝখানে চিন্তন ভেঙে যায়, তাহলে পরে ধ্যানে বসলে পরা অবস্থার চিন্তন হবে না — আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। এটাই কর্মযোগ।
যখন তুমি পরা বাকের কর্মযোগে প্রতিষ্ঠিত হবে, তখন কিছু সময় পরে তোমাকে ‘পরা বাক’ থেকে বৈখরী বাকের স্তরে আসতে হবে।
বৈখরী বাকের কর্মযোগের অর্থ হলো — কথা বলতে বলতে, হাসতে হাসতে, জগতের সব কাজ করতে করতেও নিজের স্বরূপে প্রতিষ্ঠিত থাকা।
মধ্যমা ও পরা বাকের কর্মযোগ সম্পূর্ণ না হলে বৈখরী বাকের এই কর্মযোগ সম্ভব নয়।
এগুলোর সম্পূর্ণতার লক্ষণ হলো — যখনই তুমি মধ্যমা বাকের কর্মযোগ অনুশীলন করে, তারপরে ধ্যানে বসো, তখনই পরা বাকের মধ্যে প্রবেশ করো, অর্থাৎ নিজের স্বভাবস্বরূপে অবস্থান করো।
বৈখরী বাকের কর্মযোগে প্রতিষ্ঠা পাওয়াই কর্মযোগের সাধনার পূর্ণতা।
এখানে তুমি জগতের সব কাজ করতে করতেও নিজের স্বরূপে অবিচল থাকো।
শৈব মান্যতা অনুসারে বলা হয়, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বৈখরী বাকের কর্মযোগে সম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। কারণ, তিনি সব কাজ করতেন, অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন, তবুও নিজের স্বরূপে স্থিত থাকতেন।
♦️1️⃣♦️ এইভাবে কাশ্মীর শৈবদর্শন (পরমাদ্বৈত ত্রিক) ও আদি শঙ্করাচার্যের অদ্বৈত বেদান্ত দর্শনের মধ্যে প্রথম পার্থক্য হলো কর্মযোগ সম্পর্কে তাদের ভিন্ন ধারণা।
তুমি যেমন দেখেছো, এই পার্থক্য খুবই বড়। বেদান্ত মতে কর্মযোগ মানে হলো — সব কাজ করা কিন্তু তার ফলের আশা না করা।
আর আমাদের কাশ্মীর শৈবদর্শন শেখায় — কর্মযোগ মানে সব কাজ করতে করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে ঈশ্বরচিন্তনে স্থিত থাকা।
♦️2️⃣♦️ কাশ্মীর শৈব অর্থাৎ ত্রিক পরম অদ্বৈত দর্শন ও শঙ্করাচার্যের অদ্বৈত বেদান্ত দর্শনের মধ্যে আরেকটি পার্থক্য হলো ব্যক্তিসত্তা (জীব) ও সর্বসত্তার (পরমসত্তা) অস্তিত্ব সম্পর্কে।
আদি শঙ্করাচার্যের অদ্বৈত বেদান্তীরা (কেবলাদ্বৈত মতানুসারে) বলেন — যখন সর্বসত্তা ব্যক্তিগত বুদ্ধির আয়নায় প্রতিবিম্বিত হয়, তখনই ব্যক্তিসত্তার প্রকাশ ঘটে।
অর্থাৎ সর্বসত্তা বুদ্ধিতে প্রতিফলিত হয়, আর সেই প্রতিফলনই জীবের অস্তিত্ব হয়ে দাঁড়ায়।
কিন্তু কাশ্মীর শৈবদর্শন (পরমাদ্বৈত ত্রিক) এই ব্যাখ্যা কে গ্রহণযোগ্য বলে মান্য করেন না — তারা বলে এর কোনো ভিত্তি নেই।
কারণ, সর্বসত্তা সম্পূর্ণ নির্মল ও পরিপূর্ণ, আর ব্যক্তিসত্তা নানা অপূর্ণতা (মল) দ্বারা আচ্ছন্ন।
তাই বুদ্ধি সর্বসত্তাকে প্রতিফলিত করতে পারে না — বরং সর্বসত্তাই বুদ্ধিকে প্রতিফলিত করে। যা বেশি শুদ্ধ ও সূক্ষ্ম, সেটাই অপেক্ষাকৃত কম শুদ্ধ বস্তুকে ধারণ করতে পারে — উল্টোটা নয়। বুদ্ধি সর্বসত্তাকে ধারণ করতে সক্ষম নয়।
পরম অদ্বৈত শৈবদর্শন বলে — শিব যখন তাঁর স্বাতন্ত্র্যশক্তির (স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি) আয়নায় নিজেরই প্রতিফলন ঘটান, তখনই বিশ্বজগতের অস্তিত্ব ও জীবসত্তার অস্তিত্ব প্রকাশ পায়।
আরও একটি প্রশ্ন তোলা হয় আদিশঙ্করের অদ্বৈত মতের বিরুদ্ধে —
যদি জগতের অস্তিত্বই না থাকে, তাহলে সেই বুদ্ধি, যেখানে শিব প্রতিফলিত হবেন, সেটাই বা পূর্বে কীভাবে থাকবে ?
জগতের পূর্বে বুদ্ধির অস্তিত্ব সম্ভব কীভাবে ?
অতএব ব্যক্তিসত্তা হলো ভগবান শিবের স্বাতন্ত্র্যশক্তিতে তাঁরই প্রতিফলন। আর এটিই এই বিশ্বজগতের অস্তিত্ব।
♦️3️⃣♦️ কাশ্মীর শৈবদর্শন ও আদিশঙ্করের কেবলাদ্বৈত -এর মধ্যে তৃতীয় পার্থক্য হলো — এই জগতের সারতত্ত্ব, মূলভিত্তি বা বাস্তবতা সম্পর্কে।
‘আদিশঙ্করের কেবল অদ্বৈত’ মতে এই জগত সত্য নয়, এর প্রকৃত অস্তিত্ব নেই ; এটি কেবল মায়ার সৃষ্টি।
কিন্তু এই বিষয়ে ‘পরমাদ্বৈত শৈবদর্শন’ যুক্তি দেয় — যদি পরমব্রহ্ম শিব সত্য হন, তবে তাঁর থেকে অসত্য জগত কীভাবে সৃষ্টি হতে পারে ?
যদি শিব সত্য হন, তবে তাঁর সৃষ্টিও সত্য।
তাহলে কেন বলা হবে শিব সত্য আর তাঁর সৃষ্টি মায়া ?
পরমাদ্বৈত শৈবদর্শন বলে — এই বিশ্বজগতের অস্তিত্ব শিবের অস্তিত্বের মতোই সত্য।
অতএব এটি সত্য, বাস্তব, শুদ্ধ ও দৃঢ় — এর মধ্যে কোনো অবাস্তবতা নেই।
[এবিষয়ে স্কন্দমহাপুরাণের সূত সংহিতায় স্পষ্ট বলা হয়েছে মায়াটিও শিব স্বয়ং নিজেই, তাই পরমাদ্বৈত শৈবদর্শনের সর্বোৎকৃষ্টতা এখানেও শাস্ত্র বচনের সাথে পরিপূর্ণভাবে সম্মত]
4️⃣ চতুর্থ গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো — আদিশঙ্করাচার্যের তথাকথিত অদ্বৈত বেদান্ত - কুণ্ডলিনী যোগকে স্বীকার করে না।
আদি শঙ্করাচার্যের কেবলাদ্বৈত বাদ বলেন, কুণ্ডলিনী যোগ নিম্নস্তরের যোগপথে চলা সাধকদের জন্য।
কিন্তু আমাদের পরমাদ্বৈত শৈব ত্রিক দর্শন অনুযায়ী কুণ্ডলিনী যোগ এই দর্শনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যোগ।
কাশ্মীর শৈবদর্শন বলে কুণ্ডলিনী যোগ তিন প্রকার —
১. পরা কুণ্ডলিনী যোগ
২. চিৎ কুণ্ডলিনী যোগ
৩. প্রাণ কুণ্ডলিনী যোগ
• পরা কুণ্ডলিনী যোগ সর্বোচ্চ — এটি ব্যক্তিগত দেহে নয়, সর্বব্যাপী দেহে ভগবান শিবের দ্বারা ক্রিয়াশীল।
• চিৎ কুণ্ডলিনী যোগ হলো চৈতন্যে কুণ্ডলিনীর জাগরণ।
• প্রাণ কুণ্ডলিনী যোগ হলো শ্বাসের মধ্যে কুণ্ডলিনীর জাগরণ।
[১০৮ উপনিষদের মধ্যে বহু উপনিষদ সরাসরি কুণ্ডলিনী যোগকে স্বীকার করে সেই পথে সাধনা অনুশীলন করবার নির্দেশনা দিয়েছে, অর্থাৎ শ্রুতিমন্ত্রেই কুণ্ডলিনী যোগ উৎকৃষ্ট বলে প্রমাণিত হয়েছে]
♦️5️⃣♦️ পঞ্চম গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো — এই অদ্বৈত তত্ত্ব সাধনা করার যোগ্য কে।
বেদান্ত মতে এই তত্ত্ব কেবল “যোগ্য” ব্যক্তিরাই — যেমন সৎগুণসম্পন্ন ব্রাহ্মণরা — অনুশীলন করতে পারে।
আসলে আদি শঙ্করাচার্য মনে করেন যে বেদান্ত কেবলমাত্র সন্ন্যাসীদের জন্য, অন্যদের জন্য নয়।
বেদান্ত মতে নারী ও অন্যান্য বর্ণের মানুষদের এই সাধনা করার অধিকার নেই।
কিন্তু আমাদের পরমাদ্বৈত শৈব ত্রিক দর্শন এই মতকে সত্য বলে মান্য করে না।
কাশ্মীর শৈবদর্শন শেখায় — এই অদ্বৈত তত্ত্ব যে কেউ, নারী বা পুরুষ, জাতি-বর্ণের কোনো ভেদাভেদ ছাড়াই অনুশীলন করতে পারে।
বরং আমাদের শৈবদর্শন বলে — নারীরা পুরুষদের তুলনায় এই সাধনায় আরও দ্রুত ও সফল হতে পারে।
অতএব কাশ্মীর শৈবদর্শন একটি সর্বজনীন পদ্ধতি — সবদিক থেকে শুদ্ধ, সত্য ও সুসংহত — যা সবাই অনুশীলন করতে পারে।
১. সন্ন্যাসী হলেন সেই বাহ্যিক ত্যাগী ব্যক্তি, যিনি সংসারের সবকিছু ত্যাগ করে ধ্যান এবং আরণ্যক ও উপনিষদের অধ্যয়নে নিজেকে নিয়োজিত করেন।
২. শৈবাচার্য বলেছেন —
যুক্তা সংবৎসরাত্ সিদ্ধিরিহ পুংসাং ভয়াত্মনাম্ ।
সা সিদ্ধিস্তত্ত্বনিষ্ঠানাং স্ত্রীণাং দ্বাদশভির্দিনৈঃ ॥
অর্থ : যে সিদ্ধি পুরুষেরা একটানা এক বছরের সাধনার পর লাভ করে,
তত্ত্বে প্রতিষ্ঠিত নারীরা সেই একই সিদ্ধি মাত্র বারো দিনের মধ্যেই লাভ করতে পারে।
— এই শ্লোকটি জয়ারথ তাঁর তন্ত্রালোক (১.১৩)-এর ভাষ্যে উদ্ধৃত করেছেন।
[সাক্ষাৎ উপনিষদের শ্রুতিমন্ত্র (অন্নপূর্ণা উপনিষদ) শৈব আগমকে সর্বশাস্ত্রের সিদ্ধান্ত প্রদানকারী সার বলে উল্লেখ করেছে, সেখানে শৈব আগম শাস্ত্রে নারী পুরুষ সহ সকলকেই ব্রহ্মবিদ্যালাভের ও পূজা অর্চনা করবার জন্য অনুমতি প্রদান করেছে, স্কন্দমহাপুরাণের সূত সংহিতার মুক্তিখণ্ডে বলা হয়েছে ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করতে পারে যে কোনো ধরণের ব্যক্তি, তিনি চতুরাশ্রমের যে কোনো আশ্রমেই থাকুন না কেন, তিনি হৃদয় থেকে যদি সর্বত্র একমাত্র পরমেশ্বর শিবই রয়েছেন বলে দৃঢ় বলে ভাবনা করেন, তবেই তিনি আত্মজ্ঞানী অতিবর্ণাশ্রমী। ভাবই প্রধান, আচার সর্বস্ব নয়। আচার দেখে পরমেশ্বর শিব কৃপা করেন না, বরং যিনি ভাবে আবিষ্ট তিনিই শিবকৃপালাভে সমর্থ হন। তাই, পরমাদ্বৈত শৈবদর্শন সকলকেই পরমব্রহ্ম শিবকে লাভ করবার বিষয়ে শাস্ত্রবচনের ভিত্তিতেই অনুমোদন দেয়।]
__________________________________________________
⏺️ সহজ ভাষায় —
কাশ্মীর শৈবদর্শনের দৃষ্টিতে অদ্বৈত বেদান্তের সমালোচনা
🔷 ১. কর্মযোগ :
আদি শঙ্করাচার্যের তথাকথিত অদ্বৈত মতে কর্মযোগ হলো কর্মফলের প্রতি আসক্তি ছাড়া কাজ করা।
কিন্তু এটি অসম্পূর্ণ ধারণা। প্রকৃত কর্মযোগ হলো — সব কাজ করতে করেও ঈশ্বরের নিরবচ্ছিন্ন চিন্তনে স্থিত থাকা, শুধু ফলের প্রতি অনাসক্ত থাকাই যথেষ্ট নয়।
🔷 ২. প্রতিবিম্ববাদ :
অদ্বৈত বলে — সর্বসত্তা (ব্রহ্ম) বুদ্ধিতে প্রতিফলিত হয়ে জীবসত্তার সৃষ্টি করে।
কিন্তু অপবিত্র ও সীমাবদ্ধ বুদ্ধি কখনোই পরম শুদ্ধ সত্তাকে প্রতিফলিত করতে পারে না।
বরং সর্বসত্তাই নিজের স্বাতন্ত্র্যশক্তির মধ্যে বুদ্ধিকে প্রতিফলিত করে।
🔷 ৩. মায়া ও জগতের বাস্তবতা :
অদ্বৈত মতে জগত চূড়ান্তভাবে অবাস্তব।
কিন্তু যদি পরমসত্তা সত্য হয়, তবে তাঁর প্রকাশ কীভাবে অসত্য হবে ?
এই বিশ্ব শিবের স্বপ্রকাশ — তাই এটি তাঁর মতোই সত্য ও বাস্তব।
🔷 ৪. কুণ্ডলিনী যোগ :
অদ্বৈতে কুণ্ডলিনীকে প্রায়ই গৌণ বা নিম্ন স্তরের সাধনা বলা হয়।
কিন্তু কাশ্মীর শৈবদর্শনে কুণ্ডলিনীই প্রধান, এবং এর তিনটি রূপ বলা হয় —
পরা কুণ্ডলিনী, চিৎ কুণ্ডলিনী ও প্রাণ কুণ্ডলিনী।
🔷 ৫. সাধনার যোগ্যতা :
প্রচলিত অদ্বৈত, যা আদি শঙ্করাচার্য-এর সঙ্গে যুক্ত, বলে — এই সাধনা কেবল যোগ্য সন্ন্যাসীদের জন্য।
কিন্তু প্রকৃতপক্ষে অদ্বৈত উপলব্ধি সবার জন্য উন্মুক্ত — জাতি, লিঙ্গ বা সামাজিক অবস্থার কোনো বাধা নেই।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন