“যজ্ঞ বৈ বিষ্ণু” শ্রুতি বাক্যের সঠিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন—

🔻শ্রুতিতে “যজ্ঞ বৈ বিষ্ণু” বলতে কি ব্যক্তিবাচক দেবতাকে বুঝিয়েছে নাকি ব্যাপনশীলতাকে! উক্ত সন্দেহের নিবারণ ও “যজ্ঞ বৈ বিষ্ণু” শ্রুতি বাক্যের সঠিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন—




---- শ্রুতি শাস্ত্র অধ্যয়ন করলে বোঝা যায় যে বৈদিক শাস্ত্রে 'বিষ্ণু' ' শব্দের প্রয়োগ স্থান কাল পাত্র ভেদে একাধিক অর্থে হয়েছে। প্রথম অর্থ হল - একজন দেবতা হিসেবে, যিনি ৩৩ জন দেবতার মধ্যে একজন এবং যজ্ঞভাগ গ্রহণকারী। দ্বিতীয় অর্থ হল- পরমেশ্বর এর সর্বব্যাপকতা অর্থে অর্থাৎ বিশেষণ হিসেবে, যার প্রমাণ সায়ণ ভাষ্য পড়লেই পাওয়া যায় । এখন বৈষ্ণবরা সাধন এবং উপালম্ভ এর লক্ষ্যে ছল এবং বিতণ্ডার আশ্রয় নিয়ে থাকে অর্থাৎ বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত (​"বৈষ্ণবীয় সম্প্রদায়ের ভাষ্যকারগণ অনেক ক্ষেত্রে শ্রুতির গৌণার্থ বা অর্থবাদকে উপেক্ষা করে মুখ্যার্থ বা ব্যক্তিবাচক আরোপের মাধ্যমে শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা প্রদান করেন, যা মীমাংসা শাস্ত্রের 'গুণবাদ' নীতির সাথে আপাতবিরোধী) নির্গুণ পরমেশ্বর এর প্রতি সম্বোধন সূচক 'বিষ্ণু' শব্দটিকে চতুর্ভূজ শ্রীবিষ্ণুদেব অর্থে প্রচার করে থাকেন।

---- শ্রুতিতে অনেক অংশে যজ্ঞকে বিষ্ণু বলেই সম্বোধন করেছে। যদিও শ্রুতিতে যজ্ঞকে আক্ষরিক অর্থে বিষ্ণু বলেনি তথাপি বৈষ্ণবগণ এটাই বলে থাকেন যে- ‘'যজ্ঞ বৈ বিষ্ণু’ অর্থে ব্যক্তিবাচক বিষ্ণুকেই যজ্ঞ বলা হয়েছে। কিন্তু, আসলেই কি ব্যক্তিবাচক বিষ্ণুকে শ্রুতিতে যজ্ঞ বলা হয়েছে? উত্তর হলো- না। কেননা, শ্রুতিতে বিষ্ণু শব্দের অর্থ ব্যাপনশীল পরমেশ্বর অর্থেই গ্রহণ করা হয়েছে, কোনো ব্যক্তিবাচক সত্ত্বা হিসেবে নয়৷ , [নিরুক্ত ৫/৮/১] ও [নিরুক্ত ৫/৮/২] অনুযায়ী ‘বিষ্ণু’ অর্থে বেষ্টন রহিত অর্থাৎ পরিধি ছাড়া বোঝানো হয়েছে। যার অর্থ দাঁড়ায় " সর্বব্যাপী"। [নিরুক্ত ১২/১৮/৫] মতে ঈশ্বর যখন আদিত্য রশ্মি সমূহে পরিব্যাপ্ত হন, তখন তার নাম হয় ‘বিষ্ণু’। এবং  [নিরুক্ত ১/২/৩/২৩] ও [নিরুক্ত ১/২/৩/২৪] অনুযায়ী- যার থেকে প্রেরিত হয় “রশ্মি সমূহ” তাহাই আদিত্য, তাই সূর্যকে আদিত্য বিষ্ণু বলা হয়। বিষ্ণু(ব্যাপ্তপরমেশ্বর) তার রশ্মিদ্বারা সমগ্র জগৎ ব্যাপ্ত হয়ে আছেন বলেই ঈশ্বর সর্বব্যাপী। অর্থাৎ- বিষ্ণু অর্থ হলো সর্বব্যাপ্ততা আর যজ্ঞের দ্বারা যেহেতু সমগ্র জগতের পোষণ হয় তাই যজ্ঞের সর্বব্যাপীতাকে বোঝানো সুবিধার্থে যজ্ঞকে বিষ্ণু বলে সংজ্ঞায়িত করেছে। অর্থাৎ- অর্থবাদ অর্থে। বৈদিক শব্দকোশ নিঘন্টু ৩/১৭ তে বলা হয়েছে- “বিষ্ণুঃ” যজ্ঞনামানি। অর্থাৎ- যজ্ঞের আরেকটি নাম হলো বিষ্ণু। ‘বিষ্ণু’ শব্দটি যজ্ঞের নাম হিসেবেও ব্যবহৃত কিন্তু, যজ্ঞ অর্থ ব্যক্তি বিষ্ণু এমন কথা বলা হয়নি, বরং যজ্ঞের ব্যাপ্তিগুণের জন্যই এই নাম। আবার এই প্রসঙ্গে শ্রুতি বলে- 

“যজ্ঞ বৈ ভুবনম্‌। যজ্ঞ এব যজমানং প্রজয়া পশুভিঃ প্রথয়তি। অগ্নে ষষ্টরিদং নম ইত্যাহ”।।
[তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ /৩/৩/৭/৫]

অর্থ— “যজ্ঞই সমগ্র ভুবন। যজ্ঞের মাধ্যমে যজমান দেবতা, প্রজা ও পশুপাখিদের সমৃদ্ধি ও কল্যাণ ঘটায়। তাই অগ্নিকে বলা হয়েছে, "তিনলোকে শ্রেষ্ঠ অগ্নি, তোমাকে নমস্কার”।।

---- যজ্ঞই এই সমগ্র জগতের চালিকাশক্তি। আকাশ, বায়ু, আগুন, বৃষ্টি, অন্ন সব কিছুই যজ্ঞের নিয়মে চলে। তাই বলা হয়েছে, যজ্ঞই হলো সমগ্র  ভুবন। এটা রূপক মাত্র, আক্ষরিক নয়। যজ্ঞ করলে যজমানের সন্তান বৃদ্ধি পায়, গৃহস্থের গবাদি পশু বৃদ্ধি হয়, সমাজে সমৃদ্ধি ও কল্যাণ আসে। অর্থাৎ- যজ্ঞ দেবতাদের পোষণসহিত মানুষের জীবনধারণ ও সমাজব্যবস্থাকে পুষ্ট করে। যজ্ঞকে জগতের চালিকাশক্তি বলা হচ্ছে, কোনো ব্যক্তিবাচক দেবতা বোঝানো হচ্ছে না।

তাহলে- শ্রুতিতে যজ্ঞকে ‘বিষ্ণু’ বলা হলো কেন? কারণ- যজ্ঞের ফল সমগ্র জগতে ছড়িয়ে পড়ে দেবতা, মানুষ, পশু, প্রকৃতি সবাই যজ্ঞের ফল ভোগ করে, তাই যজ্ঞও কার্যত সর্বব্যাপী। তাই শ্রুতিতে বলা হয়েছে- “যজ্ঞ বৈ বিষ্ণুঃ” [তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ ৩/২/৩/১২]। যজ্ঞের সর্বব্যাপীতাকে বোঝানোর জন্যই যজ্ঞকে ‘বিষ্ণু’ বলা হয়েছে। এটা অর্থবাদ ও প্রশংসামূলক সংজ্ঞা ব্যক্তিবাচক দেবতার উল্লেখ নয়। 

---- কিন্তু, এর পরেও যদি বৈষ্ণবপক্ষ এই দাবী করে- ব্যাক্তিবাচক বিষ্ণুই হলো যজ্ঞ, যেহেতু শ্রুতিতে এই প্রমাণ আছে। তাহলে সেই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য হলো- শ্রুতিতে যজ্ঞের রূপক অর্থে কেবল ‘বিষ্ণু’ নয়, প্রজাপতি, বিরাটছন্দ, পুরুষ আদিকেও বুঝিয়েছে। যেমন শ্রুতিতে উল্লেখিত আছে—

---- “যজ্ঞ বৈ প্রজাপতিঃ” [তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ ৩/২/২/১], [তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ ৩/২/৭/৪]

---- "পুরুষ বৈ যজ্ঞ" যজ্ঞই পুরুষ।।
[অথর্ববেদ/গোপথব্রাহ্মণ/উত্তরভাগ/৫ম প্রপাঠক/৪]

---- "পুরুষো বৈ যজ্ঞ"
[অথর্ববেদ/গোপথব্রাহ্মণ/উত্তরভাগ/৬ষ্ঠ প্রপাঠক/১২]

---- "বৈরাজ যজ্ঞঃ" -বিরাট ছন্দ হলো যজ্ঞ।।
[অথর্ববেদ/গোপথব্রাহ্মণ/উত্তরভাগ/৬ষ্ঠ প্রপাঠক/১৫]

---- এখন- বৈষ্ণবদের দাবী যদি মান্য করা হয় তবে- শ্রুতির সাথে শ্রুতির বিরোধ হয়ে যায়। কেননা- শ্রুতিই বলছে- ‘যজ্ঞ বৈ বিষ্ণু’ আবার তার বিপরীতে বলছে- ‘যজ্ঞ বৈ প্রজাপতি’, ‘পুরুষ বৈ যজ্ঞ’, ‘বৈরাজ যজ্ঞঃ’। অর্থাৎ শ্রুতির বাক্য পরস্পর বিরোধ করছে। তাই, শ্রুতি বাক্য যাতে পরস্পর বিরোধী না হয় সেজন্য উক্ত শংকার সঠিক মীমাংসা দরকার। পূর্বমীমাংসা বলে-

“স্তুতিস্তু শব্দপূর্বত্বাৎ অচোদনা চ তস্য”
[ পূর্বমীমাংসা ১/২/২৭]

-“এটি অবশ্যই প্রশংসা হিসেবে ধরা হবে, কারণ এটি শব্দ দ্বারা সরাসরি নির্দেশিত, অন্য কোনো বিষয়ে কোনো আদেশ নেই।”

---- যজ্ঞকে কখনো বলা হচ্ছে- বিষ্ণু, প্রজাপতি, পুরুষ
বৈরাজ ছন্দ এগুলো সবই একই কর্মের বিভিন্ন দিকের উপাধি। এক বস্তু বহু নামে প্রশংসিত হতে পারে, কিন্তু বহু বস্তুকে এক নামে স্থাপন করা যায় না। একই প্রসঙ্গে পূর্বমীমাংসা বলে-

“অবিরুদ্ধম্‌ পরম্‌”
[পূর্বমীমাংসা ১/২/৪৪]

-“যে ব্যাখ্যা বা অনুমান (পরম্) গ্রহণ করা হচ্ছে, তা যদি বেদের বিধান বা যুক্তির সঙ্গে বিরোধ না করে, তবে সেই ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য”।

---- যদি “যজ্ঞ বৈ বিষ্ণু” কে ব্যক্তি বিষ্ণু ধরা হয়, তাহলে- “যজ্ঞ বৈ প্রজাপতি” “পুরুষ বৈ যজ্ঞ” “বৈরাজ যজ্ঞঃ” সরাসরি শ্রুতি বিরোধ সৃষ্টি হয়। কিন্তু, সূত্র বলে- শ্রুতি কখনো পরস্পর বিরোধী হয় না। তাই, “যজ্ঞ বৈ বিষ্ণু” আদি সকল শ্রুতি বাক্যগুলো হলো রূপক ও উপচারমূলক। এই প্রসঙ্গে পূর্বমীমাংসা আরও বলে-

উক্তং সমাম্নায়ৈদমর্থ্যম্, তস্মাৎ সর্বং তদর্থং স্যাত্ ॥ [পূর্বমীমাংসা ১/৪/১]

-“পূর্বেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে বেদ মূলত কর্মসম্পাদনের উদ্দেশ্যেই প্রণীত, অতএব বেদের সমগ্র অংশকেই সেই কর্মার্থের জন্যই গ্রহণ করা উচিত।”

---- ব্রাহ্মণ অংশে যে বাক্যগুলো এসেছে- “যজ্ঞ বৈ বিষ্ণুঃ”, “যজ্ঞ বৈ প্রজাপতিঃ”, “বৈরাজো যজ্ঞঃ” এগুলো কোনো বিধিবাক্য নয়, বরং যজ্ঞসংক্রান্ত অর্থব্যাখ্যা। তাই মীমাংসা সূত্র অনুযায়ী- বেদের সমস্ত বক্তব্যই মূলত কর্ম (যজ্ঞ) সম্পর্কিত। অতএব, এখানে “বিষ্ণু”, “প্রজাপতি”, “পুরুষ” এগুলো কর্মসাপেক্ষ অর্থে গ্রহণীয়, তত্ত্বগত দেবতাস্বরূপ নয়। তাই পূর্বমীমাংসা বলে-

“অপি বা নামধেয়ং স্যাত্ যদুৎপত্তৌ অপূর্বম্ অবিধায়কত্বাৎ” ॥
[পূর্বমীমাংসা ১/৪/২]

-“যে শব্দটি প্রথমবার প্রয়োগের সময় কোনো পূর্বপরিচিত বস্তুকে নির্দেশ করে বলে বোঝা যায় না, সেই শব্দটি অবশ্যই ‘নামধেয়’ (নামবাচক শব্দ) হবে, কারণ সে শব্দ দ্বারা কোনো বিধান বা কর্মনির্দেশ করা সম্ভব নয়।”

---- বৈষ্ণবরা “যজ্ঞ বৈ বিষ্ণুঃ” থেকে ব্যক্তিবাচক বিষ্ণু স্থাপন করতে চান। কিন্তু, এখানে কোনো বিধি নেই, কোনো কর্মনির্দেশ নেই কেবল স্তুতিবাক্য। তাই সূত্র বলছে- যেখানে বিধি নেই, সেখানে নামধেয় (proper noun) স্থাপন করা যায় না। তাই “বিষ্ণু” এখানে নাম নয়, গুণবাচক শব্দ। এই প্রসঙ্গে পূর্বমীমাংসা বলে-

“গুণবাদস্ত”।।
 [পূর্বমীমাংসা ১/২/১০]

-“যদিও অর্থবাদ বাক্যগুলো স্বয়ং কর্ম নির্দেশ করে না, তবু তাদের অর্থ গৌণ বা পরোক্ষভাবে বিধিবাক্যের প্রশংসা বা উদ্দেশ্য নির্দেশ করে। এ কারণে বলা হয়, এখানে গুণবাদ অর্থাৎ গৌণ প্রয়োগ আছে।”

---- শ্রুতি অনুযায়ী- যজ্ঞের যে গুণ বলা হচ্ছে- সর্বব্যাপী ফল প্রদান করা, দেবতা, মানুষ, প্রকৃতি সর্বত্র যজ্ঞের প্রভাব বিস্তার করা। আর এই গুণ বোঝাতেই যজ্ঞকে “বিষ্ণু” বলা হয়েছে। এটি গুণের দ্বারা স্তুতি, তাই এটি গুণবাদ অর্থবাদ, বিধি নয়। তাহলে অর্থবাদ কেন গ্রহণ যোগ্য? এর উত্তরে পূর্বমীমাংসা বলে-

 “অর্থবাদো বা”
[পূর্বমীমাংসা ১/২/৪৩]

-“কোনো বৈদিক বাক্য বা মন্ত্র যদি প্রত্যক্ষভাবে কোনো ক্রিয়া বা বিধি নির্দেশ না করে, সেটি কেবল প্রশংসা, নিন্দা, উপমা রূপে থাকে, তবে সেটি অর্থবাদ নামে পরিচিত।

আর ব্রাহ্মণের কার্য হলো- যজ্ঞের মহিমা বোঝানো,
যজমানকে প্রবৃত্ত করা। তাই- “যজ্ঞ বৈ বিষ্ণুঃ”, “যজ্ঞ বৈ প্রজাপতি” আদি এগুলো স্তুতিমূলক অর্থবাদ। আবার এই প্রসঙ্গে শ্রুতিতে রয়েছে-

“বি মুঞ্চতি বিষ্ণোঃ শংযোরহং দেবযজ্যয়া যজ্ঞেন প্রতিষ্ঠাং গমেয়মিত্যাহ যজ্ঞো বৈ বিষ্ণুর্যজ্ঞ এবান্ততঃ প্রতি তিষ্ঠতি সোমস্যাহং দেবযজ্যয়া সুরেতা”।
[তৈত্তিরীয় সংহিতা ১/৭/৪]

অর্থ— “সে বলে- ‘আমি দেবযজ্ঞরূপ যজ্ঞের দ্বারা বিষ্ণুর (ব্যাপনশীল ঈশ্বরের) শং (কল্যাণ) লাভ করি, যজ্ঞের মাধ্যমে আমি প্রতিষ্ঠা লাভ করি। কারণ যজ্ঞই বিষ্ণু, আর যজ্ঞই শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হয়। ‘আমি দেবযজ্ঞরূপে সোমের দ্বারা সু-রেতা (উত্তম বীর্য/শক্তি) লাভ করি।”

--- এখানে “যজ্ঞো বৈ বিষ্ণুঃ” এই বাক্যে স্পষ্টভাবে যজ্ঞকেই ‘বিষ্ণু’ বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তিবাচক দেবতা হিসেবে নয়, বরং সর্বব্যাপী ফলপ্রদানকারী যজ্ঞতত্ত্ব হিসেবে।

সায়ণ ভাষ্য— “বিষ্ণোরিতি। যজ্ঞস্য ফলব্যাপ্ত্যা বিষ্ণুত্বম্। অন্ততঃ সমাপ্তিকালে”।

অর্থ— “যজ্ঞের ফল সর্বত্র ব্যাপ্ত হওয়ার কারণে (তাকে) ‘বিষ্ণু’ বলা হয়। শেষ পর্যন্ত, অর্থাৎ সমাপ্তিকালে।”

---- অর্থাৎ- যজ্ঞের ফল যেহেতু সর্বব্যাপীভাবে বিস্তৃত হয়, সেই সর্বব্যাপতার অর্থে এখানে ‘বিষ্ণু’ শব্দের প্রয়োগ হয়েছে, এবং এই ফলের পূর্ণতা বা প্রকাশ ঘটে যজ্ঞের শেষ পরিণামকালে। পূর্বমীমাংসা সূত্র- ১/২/১০ ও ১/২/৪৩ অনুযায়ী শ্রুতির সমর্থন ও সায়ণাচার্যের ভাষ্য একই অর্থ প্রতিপাদন করে। “বিষ্ণু” অর্থে ব্যক্তিবাচক দেবতা মানছেন না অর্থবাদ হিসেবেই গ্রহণ হয়েছে। তাই, বৈষ্ণবীয় ব্যাখ্যা যদি মানা হয় তবে- শ্রুতি ও মীমাংসার বিরোধ হয়। তাই, এখানে “বিষ্ণু” শব্দকে নামবাচক দেবতা অর্থে নেওয়া মীমাংসা সঙ্গত নয়। যদি- নামবাচক দেবতা অর্থে নেওয়া হয় তবে- শ্রুতিতে থাকা “যজ্ঞ বৈ প্রজাপতি” আদি শ্রুতি বাক্যের বিরোধ হয়। তাই, “যজ্ঞ বৈ বিষ্ণু” এখানে বিষ্ণু শব্দটিকে অর্থবাদ হিসেবে মেনে নেওয়া মীমাংসা সঙ্গত। আবার এই প্রসঙ্গে পূর্বমীমাংসা বলে-

“গুণাদবিপ্রতিষেধঃ স্যাৎ”
[পূর্বমীমাংসা৷ ১/২/৪৭] 

-“যদি কোনো বৈদিক বাক্যে বা মন্ত্রে এমন অর্থ প্রকাশ পায় যা আক্ষরিকভাবে (মূল অর্থে) গ্রহণ করলে অন্য কোনো বিধান বা তত্ত্বের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করে, তবে সেই বাক্যকে গৌণার্থে (রূপক বা অলঙ্কারিক অর্থে) গ্রহণ করতে হবে। তাতে সেই আপাত-বিরোধ দূর হয়”।

---- পূর্বমীমাংসার একটা মৌলিক নীতি হলো- বেদ কখনো নিজের সঙ্গে বিরোধ করে না। কিন্তু, বাস্তবে দেখা যায়- “যজ্ঞ বৈ বিষ্ণুঃ” “যজ্ঞ বৈ প্রজাপতিঃ” “যজ্ঞ বৈ পুরুষঃ” “বৈরাজো যজ্ঞঃ”  সবকটাকে মুখ্যার্থে নিলে- বিষ্ণুই যজ্ঞ, প্রজাপতিই যজ্ঞ, পুরুষই যজ্ঞ, বিরাট ছন্দই যজ্ঞ। এতে তো একাধিক স্বতন্ত্র সত্তা একই বস্তু হয়ে গেল এটাই বিপ্রতিষেধ (স্ববিরোধ)। এই সমস্যার সমাধান দিতেই এই সূত্র প্রযোজ্য হয়। এই সূত্র বলছে- যেখানে মুখ্যার্থ গ্রহণ করলে বিরোধ হয়, সেখানে মুখ্যার্থ পরিত্যাগ করে গৌণার্থ গ্রহণ করাই বৈদিক নীতি। অর্থাৎ- মুখ্যার্থ রক্ষা করতে গিয়ে বেদকে বিরোধী বানানো যাবে না বরং অর্থকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। তাহলে এখানে “গৌণার্থ” অর্থ কী এখানে? গৌণার্থ অর্থ- উপমা, রূপক গুণের আধারে নামপ্রয়োগ, উপচার। যেমন- সাহসী মানুষকে “সিংহ” বলা অর্থ সে আসল সিংহ নয়, সিংহের গুণযুক্ত। ঠিক তেমনই- যজ্ঞকে “বিষ্ণু” বলা অর্থ যজ্ঞ সর্বব্যাপী ফলদাতা।

---- “যজ্ঞ বৈ বিষ্ণুঃ” মুখ্যার্থে নিলে-  যজ্ঞ অর্থ বিষ্ণু (একজন নির্দিষ্ট দেবতা) কিন্তু, “যজ্ঞ বৈ প্রজাপতিঃ” এর সঙ্গে বিরোধ, “পুরুষ বৈ যজ্ঞঃ” এর সঙ্গে বিরোধ হয়। তাই “গুণাদ্ বিপ্রতিষেধঃ স্যাৎ” অনুযায়ী বিষ্ণু শব্দটি গৌণার্থে নিতে হবে। অর্থ- যজ্ঞ সর্বব্যাপী ফল প্রদান করে।  “যজ্ঞ বৈ প্রজাপতিঃ” প্রজাপতি হলো সৃষ্টিকারক। যজ্ঞও দেবতা, মানুষ, পশু, প্রকৃতি সবকিছুর পোষক। তাই প্রজাপতি গুণে যজ্ঞকে প্রজাপতি বলা হয়েছে। “যজ্ঞ বৈ পুরুষঃ” শ্রুতি বলে- “ব্যাপ্ত পুরুষঃ” [অথর্ববেদ/২০/১৩১/১৭] -পুরুষ সর্বত্র ব্যাপ্ত। পুরুষ হলো সর্বব্যাপী, ভোক্তা, ধারক। যজ্ঞও সকল কর্মের আশ্রয়, সকল ফলের আধার। তাই পুরুষ গুণে যজ্ঞই পুরুষ।  “বৈরাজো যজ্ঞঃ” বিরাট ছন্দই বিশ্বব্যাপী ছন্দ। যজ্ঞও হলো সমগ্র জগৎব্যাপী ক্রিয়া। তাই, ছন্দগত উপচারে যজ্ঞই বৈরাজছন্দ। পূর্বমীমাংসা আরও বলে-

“তৎসিদ্ধিঃ” ॥
[পূর্বমীমাংসা ১/৪/২৩]

-‘যেখানে কোনো বস্তুর দ্বারা উদ্দেশ্য সফল হয়, সেখানেই রূপক বা অলংকারমূলক বর্ণনা সিদ্ধ হয়’।

এই সূত্রে বলা হচ্ছে- যে বস্তুকে রূপকভাবে অন্য কিছুর সঙ্গে একীভূত করে বলা হয়, তার মূল ভিত্তি হলো উদ্দেশ্যসিদ্ধি।

---- যেমন- “যজমানঃ প্রস্তরঃ” এখানে প্রস্তর (কুশ-বিছানা)-কে যজমান বলা হয়েছে। কারণ, যজমান যেমন নিজের উদ্দেশ্য সাধন করেন, তেমনি প্রস্তরও যজ্ঞে যজমানের আরাম ও সহায়তার উদ্দেশ্য সিদ্ধ করে। এই কারণে এটি আক্ষরিক নয়, বরং প্রশংসামূলক রূপক বর্ণনা।

তেমনি- যজ্ঞকে ‘বিষ্ণু’ বলা হয়েছে সর্বব্যাপী ফলদানের কারণে। অর্থাৎ- এখানে মূল ভিত্তি হলো উদ্দেশ্যসিদ্ধি যজ্ঞের দ্বারা দেবতা, মানুষ, পশু, প্রকৃতি সকলের কল্যাণ পূর্ণ হয়। সুতরাং, ‘যজ্ঞ বৈ বিষ্ণুঃ’ আক্ষরিক নয়, গুণবাচক বা রূপক অর্থই প্রযোজ্য। যজ্ঞই সর্বব্যাপী এবং সর্বকল্যাণকামী।

- শ্রুতিতে আরও বলা আছে—

“আগ্নাবৈষ্ণবস্য একাদশকপালং পুরোডাশং নির্বপতি অগ্নির্বৈ সর্বা দেবতাঃ। অগ্নৌ হি সর্বাভ্যো দেবতাভ্যো জুহ্বতি। অগ্নির্বৈ যজুস্যঅবগূর্থ্যঃ, বিষ্ণুঃ পরার্ধ্যঃ।
তৎ সর্বাশ্চৈব এতৎ দেবতাঃ পরিগৃহ্য, সর্বে চ যজ্ঞং পরিগৃহ্য, দীক্ষাঽহুতি। তস্মাদাগ্নাবৈষ্ণব একাদশকপালঃ পুরোডাশো ভবতি” ॥১॥
[শতপথ ব্রাহ্মণ ৩/১/৩/১]

অর্থ— “অগ্নি-বিষ্ণু উদ্দেশ্যে একাদশ কপালে প্রস্তুত পুরোডাশ নিবেদন করে। অগ্নিই সকল দেবতা কারণ সকল দেবতার উদ্দেশ্যেই অগ্নিতেই আহুতি প্রদান করা হয়। অগ্নি যজ্ঞের অপরার্ধ (নিম্ন অংশ/কার্যকর দিক) বিষ্ণু পরার্ধ (উচ্চতম ও পরম দিক)। এই দুই সকল দেবতাকেই পরিবেষ্টন করে এবং সমগ্র যজ্ঞকেও পরিবেষ্টন করে দীক্ষা দ্বারা। এই কারণেই অগ্নি-বিষ্ণু উদ্দেশ্যে একাদশ কপালে প্রস্তুত পুরোডাশ নিবেদিত হয়।”

সায়ণ ভাষ্য— “আগ্নাবৈষ্ণবমেকাদশকপালং পুরোডাশং নির্বপতি। অগ্নির্বৈ সর্বা দেবতাঃ। অগ্নৌ হি সর্বাভ্যো দেবতাভ্যো জুহ্বতি। অগ্নির্বৈ যজ্ঞস্য অবরার্ধ্যঃ, বিষ্ণুঃ পরার্থ্যঃ। তৎ সর্বাশ্চৈবৈতদ্দেবতাঃ পরিগৃহ্য, সর্বং চ যজ্ঞং পরিগৃহ্য, দীক্ষৈ ইতি। তস্মাদান্নাবৈষ্ণব একাদশকপালঃ পুরোডাশো ভবতি”।।

অর্থ— অগ্নি-বিষ্ণু উদ্দেশ্যে একাদশ কপালে প্রস্তুত পুরোডাশ নিবেদন করে। অগ্নিই সকল দেবতা, কারণ সকল দেবতার উদ্দেশ্যেই অগ্নিতেই আহুতি প্রদান করা হয়। অগ্নি যজ্ঞের অপরার্ধ (নিম্ন অংশ/কার্যকর দিক) বিষ্ণু পরার্ধ (উচ্চতম ও পরম দিক)। এই দুই সকল দেবতাকেই পরিবেষ্টন করে এবং সমগ্র যজ্ঞকেও পরিবেষ্টন করে দীক্ষা দ্বারা। এই কারণেই অগ্নি-বিষ্ণু উদ্দেশ্যে একাদশ কপালে প্রস্তুত পুরোডাশ নিবেদিত হয়।”

---- এখানে অগ্নি সকল দেবতার বাহক তাই অগ্নিকে সকল দেবতা মূখ বলা হয়, শ্রুতিও বলে- “অগ্নি সর্বা দেবতা ইতি” [তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ ৩/২/৮/১০], অগ্নির্বৈ সর্বাঃ দেবতাঃ" [ঐতঃ ব্রাঃ/১/৩] - আর বিষ্ণু যজ্ঞের পরম পরার্ধ। ‘পরিগৃহ্য’ শব্দের দ্বারা যজ্ঞকে আচ্ছাদিত ও ধারণ করার তত্ত্ব বোঝানো হয়েছে অগ্নি ক্রিয়ারূপে, বিষ্ণু ব্যাপ্তিরূপে।

---- শ্রুতি ও নিরুক্ত অনুযায়ী ‘বিষ্ণু’ কেবল কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিবাচক দেবতার নাম নয়, বরং এর অর্থ সর্বব্যাপীতা বা ব্যাপ্তি। যজ্ঞের ফল সমগ্র জগতে ছড়িয়ে পড়ে দেবতা, মানুষ, পশু, প্রকৃতি সবাই যজ্ঞের দ্বারা পুষ্ট হয়। এই সর্বব্যাপী ফলদানের গুণের জন্যই শ্রুতিতে যজ্ঞকে ‘বিষ্ণু’ বলা হয়েছে।

অতএব, শ্রুতিতে যেখানে বলা হয়েছে “যজ্ঞ বৈ বিষ্ণুঃ”, সেখানে ব্যক্তিবাচক বিষ্ণুকে যজ্ঞ বলা হয়নি, বরং যজ্ঞের সর্বব্যাপী স্বভাব বোঝাতে ‘বিষ্ণু’ শব্দটি গুণবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি প্রশংসাসূচক বা অর্থবাদমূলক বক্তব্য আক্ষরিক দেবতা সনাক্তকরণ করতে নয়। বিষ্ণু অর্থ সর্বব্যাপীতা, যজ্ঞ অর্থ সর্বব্যাপী কল্যাণকর্ম। তাই যজ্ঞকে বিষ্ণু বলা হয়েছে, ব্যক্তি হিসেবে নয়, গুণ হিসেবে।

🔴 বৈষ্ণবীয় আপত্তির শাস্ত্রীয় নিরসন—

​বৈষ্ণব সম্প্রদায় ‘যজ্ঞ বৈ বিষ্ণু’ বাক্যটিকে ব্যক্তিবাচক অর্থে প্রতিষ্ঠার জন্য যেসব যুক্তি প্রদান করেন, মীমাংসা শাস্ত্রের আলোকে তার উত্তর নিচে দেওয়া হলো—

​❌ আপত্তি: —  ‘বিষ্ণু’ তো একটি রূঢ়ি শব্দ (ব্যক্তিবাচক নাম), তবে কেন একে গুণবাচক ধরা হবে?

​✅ সমাধান: — মীমাংসা শাস্ত্রের নিয়ম হলো— ‘রূঢ়ির্যোগমপহরতি’ (রূঢ়ি অর্থ যৌগিক অর্থকে বাধা দেয়)। কিন্তু এটি তখনই খাটে যখন বাক্যে কোনো বিরোধ থাকে না। ‘যজ্ঞ বৈ বিষ্ণু’ বাক্যে যদি বিষ্ণুকে ব্যক্তিবাচক ধরা হয়, তবে ‘যজ্ঞ বৈ প্রজাপতি’ (তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ ৩/২/২/১) বাক্যের সাথে বিরোধ বাধে। কারণ একই যজ্ঞ একই সাথে দুইজন স্বতন্ত্র ব্যক্তি হতে পারে না। ​যেখানে একাধিক রূঢ়ি শব্দের মধ্যে বিরোধ বাধে, সেখানে ‘তৎসিদ্ধি’ (পূর্বমীমাংসা ১/৪/২৩) সূত্র অনুযায়ী গুণবাচক অর্থ গ্রহণ করাই শাস্ত্রীয় রীতি। এখানে ‘বিষ্ণু’ মানে ‘ব্যাপ্তি’ এবং ‘প্রজাপতি’ মানে ‘পালন’ উভয়ই যজ্ঞের গুণ।

​❌ আপত্তি: — যজ্ঞ তো জড় কর্ম, সে চেতন দেবতা বিষ্ণু ছাড়া ফল দেবে কীভাবে?

✅ ​সমাধান: — আসলে এটি একটি লৌকিক অনুমান, বৈদিক সিদ্ধান্ত নয়। পূর্বমীমাংসা মতে, যজ্ঞের ফল প্রদানের জন্য কোনো বহিঃস্থ দেবতার প্রয়োজন হয় না। পূর্বমীমাংসার ‘অপূর্বস্যাস্তিত্বাৎ অধিকরণ’ এর “চোদনা পুনরারম্ভঃ” (পূর্বমীমাংসা ২/১/৫) অনুযায়ী- যজ্ঞ সম্পন্ন হওয়ার পর একটি সূক্ষ্ম শক্তি উৎপন্ন হয় যাকে বলা হয় ‘অপূর্ব’। এই ‘অপূর্ব’ শক্তিই সময়মতো যজমানকে ফল প্রদান করে। সুতরাং ‘বিষ্ণু’ এখানে ফলের নিয়ন্ত্রক কোনো ব্যক্তি নন, বরং যজ্ঞফলের সর্বব্যাপী প্রসারের একটি সংজ্ঞা মাত্র।

​❌ আপত্তি: — শতপথ ব্রাহ্মণের কাহিনীতে বিষ্ণুকে ‘বামন’ বলা হয়েছে, গুণ কি বামন হতে পারে?

✅ ​সমাধান: — বেদের ব্রাহ্মণ অংশে যে কাহিনীগুলো থাকে, সেগুলোকে বলা হয় ‘আখ্যান’ বা ‘অর্থবাদ’। অর্থাৎ বিধির প্রসংশা মাত্র। এই কাহিনীর উদ্দেশ্য বিষ্ণুর রূপ বর্ণনা করা নয়, বরং যজ্ঞের প্রশংসা করা। যজ্ঞ শুরুতে অতি ক্ষুদ্র (বামন সদৃশ) মনে হলেও, আহুতি ও মন্ত্রের প্রভাবে তা ত্রিভুবন ব্যাপ্ত (ত্রিবিক্রম) হয়ে ওঠে। এখানে ‘বামন’ ও ‘ত্রিবিক্রম’ যজ্ঞের প্রসারণশীলতারই রূপক বর্ণনা।
❌ আপত্তি: — ‘বিষ্ণুঃ পরার্ধ্যঃ’ বিষ্ণুকে তো শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে?

✅ ​সমাধান: — এখানে ‘পরার্থ্য’ মানে পদমর্যাদা নয়, বরং যজ্ঞের ‘সমাপ্তি’। যজ্ঞ শুরু হয় অগ্নিতে আহুতি দিয়ে (অবরার্থ বা নিম্নভাগ), আর যজ্ঞের পূর্ণতা বা ফলপ্রাপ্তি ঘটে তার ব্যাপ্তিতে (পরার্থ বা উচ্চভাগ)। সায়ণাচার্য স্পষ্ট বলেছেন— “যজ্ঞস্য সমাপ্তিকালে বিষ্ণুত্বম্”। অর্থাৎ যজ্ঞ যখন সম্পূর্ণ হয়ে ফলে রূপান্তরিত হয়, তখনই তার নাম ‘বিষ্ণু’। এটি একটি প্রক্রিয়ার নাম, কোনো ব্যক্তির উচ্চাসন নয়।

​❌ আপত্তি: — যজ্ঞের অঙ্গসমূহকে বিষ্ণুর শরীরের সাথে তুলনা করা হয়েছে কেন?

​✅ সমাধান: — একে বলা হয় ‘রূপক অলঙ্কার’।যেমন- “যজমানঃ প্রস্তরঃ” যজমানই হলো যজ্ঞের কুশশয্যা। এখন যজমান কি আক্ষরিক অর্থে ঘাস? না। যজমান যেমন যজ্ঞের আধার, কুশও তেমনি। যজ্ঞের বিভিন্ন ক্রিয়াকে বিষ্ণুর অবয়ব বলা হয়েছে যজ্ঞের গুরুত্ব বোঝাতে। একে মুখ্যার্থে গ্রহণ করলে ‘বিপ্রতীষেধ’ (বিরোধ) দোষ ঘটবে। তাই এটি স্তুতিমূলক উপচার মাত্র।

​সুতরাং, বৈষ্ণবীয় ব্যাখ্যাগুলো প্রধানত ‘ভক্তি পারমার্থিক’ যা পুরাণের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু, শ্রুতি ও মীমাংসা শাস্ত্রের কঠোর মানদণ্ডে ‘বিষ্ণু’ শব্দটি যজ্ঞের একটি বিমূর্ত গুণ (ব্যাপ্তি) হিসেবেই প্রমাণিত হয়। যজ্ঞই তার নিজ মহিমায় বিষ্ণু, কোনো ব্যক্তির কৃপায় নয়।

🙏সর্বে হ্যেষ রুদ্রস্তস্মৈ রুদ্রায় নমো অস্তু”🙏

নমঃ শিবায় 🙏
নমঃ শিবায়ৈ🙏
শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তে ✊🚩

✍️লেখনীতে— অন্তিক ভট্টাচার্য্য (শম্বরনাথ শৈব)

🌻বিশেষ কৃতজ্ঞতা— আমার গুরু শ্রী নন্দীনাথ শৈবাচার্য ও আমার আদর্শ শ্রী রোহিত কুমার চৌধুরী শৈবজী।

কপিরাইট ও প্রচারে— Shivalaya (ISSGT)

বিঃ দ্রঃ — লেখাটি অনুকরণ করলে সম্পূর্ণ করবেন, কোনো রকম কাটছাট গ্রহণযোগ্য নয়।





শিবঃ ওঁ……..🙏


মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ