শ্রী হনুমান দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ‘হনুমন্তেশ্বর মহাদেব’
♦️ শ্রী হনুমান দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ‘হনুমন্তেশ্বর মহাদেব’
__________________________________________________
🔰 ভূমিকা —
শ্রী হনুমান জী কীভাবে নিজের পাপ থেকে মুক্তি লাভ করেছিলেন এবং ‘হনুমন্তেশ্বর মহাদেব’-এর প্রতিষ্ঠা কীভাবে হয়েছিল, সে বিষয়ে স্কন্দমহাপুরাণে বর্ণিত কাহিনী এই প্রবন্ধে আলোচনা করা হল।
[তথ্যসূত্র : স্কন্দ মহাপুরাণ/অবন্ত্য খণ্ড/রেবাখণ্ড/অধ্যায় ৮৪]
__________________________________________________
শ্রী মার্কণ্ডেয় বললেন,
এই প্রসঙ্গে তিনি একটি প্রাচীন কাহিনির উল্লেখ করেন। কৈলাস পর্বতে পরমেশ্বর শিব এই কাহিনী সনৎকুমারকে শুনিয়েছিলেন, সেই সনৎকুমার এই বিষয়ে ভক্তিভরে তাঁকে (মহাদেবকে) জিজ্ঞাসা করেছিলেন।
তখন ঈশ্বর (শিব) বললেন — হে স্কন্দ ! পূর্বকালে ত্রেতাযুগে রাম রাবণকে বধ করেছিলেন। সেই সময় চৌদ্দ কোটি ব্রহ্মরাক্ষস নিহত হয়েছিল। হে পুত্র ! যখন দেবতাদের রক্ষার জন্য তাদের বধ করা হয়, তখন তিন লোকেই মহা আনন্দ ও উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে।
সীতাকে উদ্ধার করবার পর রাম প্রধান বানরদের সঙ্গে অযোধ্যায় ফিরে আসেন। লক্ষ্মণের বড় ভাই ভরত এক মহোৎসবের আয়োজন করেন এবং রাজ্য রামের হাতে অর্পণ করেন। এরপর রাম সেই রাজ্যে শাসন করতে শুরু করেন, যেখানে সকল শত্রুর বিনাশ ঘটেছিল। হনুমান তাঁর কর্ম সম্পন্ন করে কৈলাসে চলে যান। দ্বাররক্ষক নন্দী, যদিও তিনি রুদ্রের অংশ ছিলেন, তবুও সেই পাপসমূহ বিনাশকারী রুদ্রের দর্শনের জন্য তাঁকে প্রবেশ করতে দিলেন না। তখন হনুমান নন্দীকে জিজ্ঞাসা করলেন —
“আমি কী পাপ করেছি ? কেন আমি অম্বিকা সহ রুদ্রের পবিত্র দিব্য শরীরের দর্শনলাভ করতে পারছি না ?”
নন্দী বললেন — হে বানরদের নেতা! তুমি দেবতাদের জন্য এই অবতার গ্রহণ করেছো। তবুও যে পাপ সংঘটিত হয়েছে, তার নাশ কেবল তার ফল ভোগের দ্বারাই হয়।
হনুমান বললেন —
হে নন্দী ! আমি যখন দেবতাদের কাজ করছিলাম, তখন কি আমি কোনো পাপ করেছি ? ব্রাহ্মণদের যজ্ঞকে অপবিত্রকারী দুষ্ট রাক্ষসদেরই তো বধ করা হয়েছে।
তাদের এই কথোপকথন শুনতে ইচ্ছুক হয়ে পরমেশ্বর শিব অন্য দ্বার থেকে উঁকি দিয়ে সেই ভয়ঙ্কর শক্তিশালী বানরকে দেখলেন, যিনি আসলে তাঁরই এক অংশস্বরূপমাত্র। পরে তিনি বানররাজকে নিজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলেন।
ঈশ্বর (শিব) বললেন —
হে বানর ! গঙ্গা, গয়া, রেবা, যমুনা ও সরস্বতী— এই সমস্ত নদীই সমস্ত পাপ বিনাশকারী। তুমি এই নদীগুলিতে পবিত্র স্নান করো। নর্মদার দক্ষিণ তীরে সোমনাথের নিকটে এক অত্যন্ত পবিত্র তীর্থ আছে। হে বানর ! সেখানে যাও। আমার আদেশে সেখানে স্নান করলে তোমার মহাপাপ নাশ হবে।
এরপর হনুমান জী লাফিয়ে উঠে উচ্চস্বরে গর্জন করতে করতে রেবা (নর্মদা)-র দক্ষিণ তীরে পৌঁছালেন। সেখানে তিনি কঠোর তপস্যা করলেন। ঈশ্বরের কৃপায় অল্প সময়ের মধ্যেই রাক্ষস বধজনিত পাপ তপস্যার মাধ্যমে বিনষ্ট হয়ে গেল।
এরপর পরমেশ্বর শিব দেবতাদের সঙ্গে সেই তীর্থে এসে হনুমানকে আলিঙ্গন করলেন এবং তাঁকে বরদান দিয়ে বললেন — “এখন থেকে নিঃসন্দেহে এই তীর্থ তোমারই হবে।” সেই থেকেই এর নাম হয় ‘কপিতীর্থ’ এবং শিব স্বয়ং সেখানে ‘হনুমন্তেশ্বর’ নামে অবস্থান করছেন। তিনি সকল প্রকার হত্যাজনিত পাপ নাশ করেন।
_________________________________________________
🚩 তথ্য সংগ্রহ ও লেখনীতে : শ্রীগুরু নন্দীনাথ শৈব আচার্য পরমাধিকারী 🚩
©️ কপিরাইট ও প্রচারে : Shivalaya 🔥
শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তেতরাম্ 🚩
ॐ নমঃ পার্বতীপতয়ে হর হর মহাদেব 🚩
------------------------------------------------

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন