বর্ণাশ্রম -এর অসারতা বর্ণনায় স্বয়ং বেদ

 


বর্ণাশ্রম -এর অসারতা বর্ণনায় স্বয়ং বেদ


🔰 ভূমিকা — 

 কলিযুগের প্রভাবে এমন কিছু পণ্ডিতের আবির্ভাব হয়েছে, যারা গত প্রায় হাজার বছরের বছশি সময় ধরে সনাতনধর্মের পরিভাষাকে পরিবর্তন করে সনাতনীদের মধ্যে জাতিভেদের প্রাচীর নির্মাণ করেছে, সেটিও বেদের অছিলায়। কিন্তু সময় এসেছে মহাপাশুপত অদ্বৈত শৈবদের স্বর্ণযুগের। অদ্বৈত শৈবদের মত হল - “বর্ণাশ্রমের বিধান শুধুমাত্র সেই সকল ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য যারা আত্মজ্ঞান লাভ করেননি, কিন্তু যিনি আত্মজ্ঞান লাভ করেছেন, তিনি বর্ণাশ্রম থেকে মুক্ত, তাকে অতিবর্ণাশ্রমী বা অত্যাশ্রমী বলে। আত্মজ্ঞানহীন মানুষ বাহ্যিক বর্ণাশ্রমের বিধিবিধান মেনে চলেন মাত্র, এই বিধিবিধান মেনে চলতে গিয়ে তিনি বিভিন্ন সময় কষ্ট দুঃখ লাভ করে থাকেন। কিন্তু এই কষ্ট দুঃখ একমাত্র তখন দূর হতে পারে যখন ব্যক্তি নিজের অন্তরের আত্মাকে শিব বলে জানতে পারেন এবং ঐ শিব‌ই সকলরূপে প্রকাশিত আছেন, এই চেতনা যখন ব্যক্তির মধ্যে জাগে তখন সর্বত্র‌ই ঈশ্বর থাকবার অনুভব করবার কারণে কোনো আলাদা বিধি বিধানের কট্টরতা পালন করা বাধ্যতামূলক থাকে না। কারণ, যখন সর্বত্র‌ই শিব‌ আছেন, তাহলে আর কি করা বাকি থাকে ? যা ই করতে যাবেন সেটিই তো শিবময়, তাহলে কোথায় অপূর্ণতা, অশুচি ? অর্থাৎ শিবময় ঐশ্বরিক ভাবনায় যে আত্মানুভব হয় তা বর্ণাশ্রমের বিধান থেকে জীবকে মুক্ত করে দেয়। আত্মজ্ঞানহীন বর্ণাশ্রম পালনকারী ব্যক্তির বর্ণাশ্রমের নিয়ম কে কঠোর ভাবে পালন করবার ভাবনাকে বিমূঢ়তা বলে চিহ্নিত করেছেন স্বয়ং বেদ।”

এই সিদ্ধান্ত শৈবদের নিজস্ব পরম্পরার নয়, বা কোনো ব্যতিগত মতামত নয়। 

 বরং স্বয়ং বেদ নিজেই এই অদ্বৈত শৈব সিদ্ধান্তকে স্বীকারোক্তি হিসেবে প্রকট করেছেন।

__________________________________________________

বর্ণাশ্রমের আচার যে অজ্ঞানী (আত্মজ্ঞানশূন্য ব্যক্তি) দের  জন্য, তা এখানে বলা হয়েছে —

বর্ণাশ্রমাচারযুতা বিমূঢ়াঃ কর্মানুসারেণ ফলং লভন্তে ।
বর্ণাদিধর্মং হি পরিত্যজন্তঃ স্বানন্দতৃপ্তাঃ পুরুষা ভবন্তি ॥ ১৭ ॥

বর্ণাশ্রমং সাবয়বং স্বরূপমাদ্যন্তযুক্তং হ্যতিকৃচ্ছ্রমাত্রম্।
পুত্রাদিদেহেষ্বভিমানশূন্যং ভূত্বা বসেৎ সৌখ্যতমে হ্যনন্ত ইতি ॥ ১৮ ॥

[সামবেদ/মৈত্রী উপনিষদ/১অধ্যায়/১৭-১৮ মন্ত্র]

অর্থ : যারা বর্ণাশ্রম আচার পালন কারী বিমূঢ় (অজ্ঞ) ব্যক্তি, সেই ব্যক্তিগণই নিজেদের কর্ম অনুসারে তার ফল ভোগ করে থাকেন ; কিন্তু যারা বর্ণাশ্রমের আচার পরিত্যাগ করে আত্মস্বরূপে স্থিত থাকেন, তারা (অতিবর্ণশ্রমী শৈব ব্যক্তি) অন্তরের আত্ম আনন্দেই সম্পূর্ণ তৃপ্ত থাকে ॥ ১৭ ॥

বর্ণাশ্রম এবং তদ্রূপ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গযুক্ত এই শরীর — এসবই যেহেতু আদি ও অন্তবিশিষ্ট, তাই এগুলো অত্যন্ত কষ্টদায়ক। অতএব, পুত্রাদি এই নিজ [পাঞ্চভৌতিক নশ্বর] দেহের প্রতি আসক্তি না রেখে, পরমানন্দরূপ অনন্তে [আত্মস্বরূপে] প্রতিষ্ঠিত থাকা উচিত ॥ ১৮ ॥

__________________________________________________

🔥 সিদ্ধান্ত : পরম অদ্বৈত শৈব সিদ্ধান্ত ই সর্ব শৈবাগম, বেদপুরাণ ইতিহাসাদি শাস্ত্রের সার। এই সিদ্ধান্তের অভাবেই জাতিতে ভেদাভেদ, সম্প্রদায়ে ভেদাভেদ, আচার অনুষ্ঠানে ভেদাভেদ সৃষ্টি হয়েছে। বর্ণাশ্রমের আচার পালন আবশ্যক কিন্তু তার ঐ নিয়ম যখন শিবজ্ঞান লাভের পথে বিঘ্ন ঘটায় তখন বর্ণাশ্রমের সেই নিয়ম অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায়। আর একথাই বেদ সিংহের ন্যায় গর্জন করে জানাচ্ছে। পরমজ্ঞান অর্থাৎ আত্মজ্ঞান লাভ‌ই সকল সনাতনীর উদ্দেশ্য হ‌ওয়া উচিত, আচার অনুষ্ঠান ঐ শিবজ্ঞান অর্জনের পথে সহায়ক মাত্র, আচার বিধি ইত্যাদি সর্বোপরি নয়। বর্ণাশ্রম অতিক্রম করে অতিবর্ণাশ্রমী হ‌ওয়াই সর্বশ্রেষ্ঠ - একথা বেদ বলছেন। 

__________________________________________________

🚩 তথ্য সংগ্রহ ও লেখনীতে : শিবালয় প্রতিষ্ঠাতা শিবদ্বারাধীশাধ্যক্ষ আচার্যপরমাধিকারী শ্রীগুরু নন্দীনাথ শৈব আচার্যদেব 🚩 

©️ কপিরাইট ও প্রচারে : Shivalaya 🔥 


শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তেতরাম্ 🚩 

ॐ নমঃ পার্বতীপতয়ে হর হর মহাদেব 🚩 


https://amzn.to/4ngUZ48 


#হিন্দুধর্ম #সনাতনধর্ম #শিবালয় #shiva #শিব #পরমেশ্বরশিব #ভগবান #পরমেশ্বরভগবানশিব #Shivalaya #sanatandharma #mahadev #shankar #শৈবধর্ম #বর্ণাশ্রম #অতিবর্ণাশ্রম #অতিবর্ণাশ্রমী #অত্যাশ্রম #আত্মজ্ঞান #শিবজ্ঞান #বেদ #শ্রুতি #মৈত্রীউপনিষদ #উপনিষদ #সামবেদ




মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ