পরমেশ্বর শিবের ভক্ত শৈবরা বিধান জাতপাত কর্মের ঊর্ধ্বে
পরমেশ্বর শিবের ভক্ত শৈবরা বিধান জাতপাত বিধি-কর্মের ঊর্ধ্বে
সূত উবাচ।
শিবো গুরুঃ শিবো দেবঃ শিবো বন্ধুঃ শরীরিণাম্ ।
শিব আত্মা শিবো জীবঃ শিবাদন্যন্ন কিঞ্চন ॥ ১ ॥
শিবমুদ্দিশ্য যৎকিঞ্চিদ্দত্তং জপ্তং হুতং কৃতম্ ।
তদনন্তফলং প্রোক্তং সর্বাগম বিনিশ্চিতম্ ॥ ২ ॥
ভক্ত্যা নিবেদিতং শম্ভোঃ পত্রং পুষ্পং ফলং জলম্ ।
অল্পাদল্পতরং বাপি তদানন্ত্যায় কল্পতে ॥ ৩ ॥
বিহায় সকলান্ ধৰ্মান্ সকলাগমনিশ্চিতান ।
শিবমেকং ভজেদ্যন্ত মুচ্যতে সর্ববন্ধনাৎ ॥ ৪ ॥
যা প্রীতিরাত্মনঃ পুত্রে যা কলত্রে ধনেঽপি সা ।
কৃতাচেচ্ছিবপূজায়াং ত্রায়তীতি কিমদ্ভূতম্ ॥ ৫ ॥
তস্মাৎ কেচিন্মহাত্মানঃ সকলান্ বিষয়াসবান্ ।
ত্যজন্তি শিবপূজার্থে স্বদেহমপি দুস্ত্যজম্ ॥ ৬।
সা জিহ্বা যা শিবং স্তৌতি তন্মনো ধ্যায়তে শিবম্ ।
তৌ কর্ণৌ তৎকথালোলৌ তৌ হস্তৌ তস্য পূজকৌ ॥ ৭ ॥
তে নেত্রে পশ্যতঃ পূজাং তচ্ছিরঃ প্রণতঃ শিবে ।
তৌ পাদৌ যৌ শিবক্ষেত্রং ভক্ত্যা পর্য্যটতঃ সদা ॥ ৮ ॥
যস্যেন্দ্রিয়ানি সর্বাণি বর্তন্তে শিবকৰ্মসু ।
স নিস্তরতি সংসারং ভুক্তিং মুক্তিঞ্চ বিন্দতি ॥ ৯ ॥
শিবভক্তিযুতো মর্ত্যশ্চাণ্ডালঃ পুক্কসোঽপি চ ।
নারী নরো বা ষণ্ঢো বা সদ্যো মুচ্যেত সংসৃতেঃ ॥ ১০ ॥
কিং কুলেন কিমাচারৈঃ কিং শীলেন গুণেন বা ।
ভক্তিলেশযুতঃ শম্ভোঃ স বন্দ্যঃ সর্বদেহিনাম্ ॥ ১১
[স্কন্দমহাপুরাণ ব্রহ্মখণ্ড/উত্তর খণ্ড/৫ অধ্যায়/১-১১ নং শ্লোক]
অনুবাদ —
শিবই শরীরীধারী জীবের গুরু, শিবই দেবতা, শিবই বন্ধু, শিবই আত্মা এবং শিবই জীবরূপধারী ; শিবের থেকে ভিন্ন আর অন্য কিছুই নেই ॥ ১ ॥
শিবের উদ্দেশ্যে যা কিছু দান, জপ, ও হোম করা যায়, সেই সব কিছুই অনন্ত ফল প্রদান করে থাকে - এই কথা সকল শৈবআগম শাস্ত্র দ্বারা নিশ্চিত ॥ ২ ॥
ভক্তিপূর্বক পত্র, পুষ্প, ফল, জল — আদি যা কিছু অল্প থেকেও অতি অল্পতর বস্তু শিবকে নিবেদন করা যায়, সেই সকল বস্তুই অসীম হয়ে যায় ॥ ৩ ॥
সকল শৈবআগম শাস্ত্র নিশ্চিত করে বলছে - নিখিল ধৰ্ম পরিত্যাগ করে যে ব্যক্তি মাত্র শিবের আরাধনা করে, সে সর্ব বন্ধন হতে মুক্ত হয়ে থাকে ॥ ৪ ॥
আপনার পুত্রে, কলত্রে ও ধনে যে রকমের প্রীতি (প্রেম) হয়, যদি শিবপূজায় ঐ একই রকম প্রীতি (প্রেম) রাখা যায়, তা হলে মানব যে এ সংসার-ভয় হতে পরিত্রাণ লাভ করবে, এ বিষয়ে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ? ॥ ৫ ॥
অতএব মহাত্মা ব্যক্তিগণ সকল বিষয়-আসব পরিত্যাগ করে প্রয়োজন হলে যা ত্যাগ করা করাও অত্যন্ত কঠিন এমন নিজের প্রিয় দেহটিকেও ত্যাগ করতে প্রস্তুত থাকবেন কেবল শিবপূজার জন্য ॥ ৬ ॥
তাকেই প্রকৃতপক্ষে জিহ্বা বলা যায়, যে জিহ্বা শিবের স্তব করে; তাকেই প্রকৃতপক্ষে মন বলা যায়, যে মন অনবরত শিবধ্যানে রত থাকে ; তাকেই প্রকৃতপক্ষে কর্ণ (কান) বলা যায়, যে কর্ণ (কান) সর্বদা শিবকথা শ্রবণেই লোলুপ হয় ; সেটিই প্রকৃতপক্ষে হস্ত, যা শিবের পূজা করে ॥ ৭ ॥
সেটিই প্রকৃতপক্ষে নেত্র, যেটি শিবপূজা দর্শন করে ; সেটিই মস্তকই মস্তক, যাহা নিত্য শিবপদে প্রণত হয়ে (প্রণাম করে) থাকে ; তাকেই পদ বলা যায়, যেটি সর্বদা শিবক্ষেত্রে বিচরণ করে ॥ ৮ ॥
যার ইন্দ্রিয়গুলি সর্বদা শিব সম্পর্কিত কর্মে রত থাকে, সেই ব্যক্তি সংসার হইতে উদ্ধার লাভ করে ভুক্তি ও মুক্তি লাভ করে থাকে ॥ ৯ ॥
শিবভক্তিযুক্ত মানব চণ্ডালই হোক আর পুরুষই হোক, সে নর, নারী বা ষণ্ড হোক, নিশ্চিতভাবে সংসার থেকে মুক্তিলাভ করে থাকে ॥ ১০ ॥
কুল বিচারেরই বা কি প্রয়োজন ? আচারেই বা প্রয়োজন কি ? শীলেই বা প্রয়োজন কি ? এবং গুণেই বা প্রয়োজন কি ? যদি জীবের অন্তরে কণামাত্র শম্ভুর ভক্তি থাকে, তবে তার ফলেই সেই জীব অন্য সকল দেহধারী জীবের কাছে পূজনীয় হয়ে থাকে ॥ ১১ ॥

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন