বেদে সবাইকে ‘বৈষ্ণব হ‌ও’ নির্দেশ আছে - দাবী করা বৈষ্ণবদের খণ্ডন



🔥 বেদে সবাইকে ‘বৈষ্ণব হ‌ও’ নির্দেশ আছে - দাবী করা বৈষ্ণবদের খণ্ডন
__________________________________________________

🚩 ​বৈদিক মন্ত্রের যাজ্ঞিক বিনিয়োগ ও এবং শ্রুতিতে “বৈষ্ণব হও” এমন বিধি আছে বলে দাবী করা বৈষ্ণব সাম্প্রদায়িক অপব্যাখ্যার নিরসন ও মীমাংসা-সম্মত বিশ্লেষণ 
__________________________________________________

🔰ভূমিকা — সনাতন ধর্মের মূল আদি ভিত্তি হলো শ্রুতি (আগমনিগম)। কিন্তু কালক্রমে শ্রুতি অর্থাৎ বেদের কর্মকাণ্ডাত্মক মন্ত্রসমূহকে যজ্ঞীয় প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিজেদের সাম্প্রদায়িক মতবাদ প্রতিষ্ঠায় ব্যবহার করার একটি অর্বাচীন প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে শুক্ল যজুর্বেদের পঞ্চম অধ্যায়ের ১৮ থেকে ২৫ সংখ্যক মন্ত্রগুলোকে কেন্দ্র করে আধুনিক বৈষ্ণব সম্প্রদায় যে 'দীক্ষা-বিষয়ক' বা 'সাম্প্রদায়িক পরিচয়-বাচক' অনুবাদ প্রচার করে থাকে, তা ভাষ্যকার মহীধর ও উব্বটের যাজ্ঞিক ব্যাখ্যার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

​মহর্ষি জৈমিনি প্রণীত 'পূর্বমীমাংসা' দর্শন অনুযায়ী, বেদের প্রতিটি মন্ত্রের সার্থকতা তার নির্দিষ্ট যজ্ঞীয় কর্ম বা 'বিনিয়োগ'-এর ওপর নির্ভরশীল। যজ্ঞের জড় উপকরণ যেমন- মণ্ডপের কাষ্ঠখণ্ড (স্থূণা), সোম পেষণের পাথর (গ্রাবাণ) বা যজ্ঞীয় চর্মকে পবিত্র করার জন্য ব্যবহৃত মন্ত্রসমূহকে যখন বৈষ্ণবরা মানুষের ওপর আরোপ করে, তখন তা কেবল শাস্ত্রীয় বিভ্রান্তিই তৈরি করে না, বরং বেদের 'প্রকরণ' ও 'লিঙ্গ' বিষয়ক নিয়ম গুলোকেও লঙ্ঘন করে।

​বর্তমান প্রবন্ধে শুক্ল যজুর্বেদের উক্ত মন্ত্রসমূহের প্রকৃত যাজ্ঞিক অর্থ এবং বৈষ্ণবীয় অপব্যাখ্যার অসারতা শৈবপক্ষীয় যুক্তিবাদ ও পূর্বমীমাংসা দর্শনের সূত্রের আলোকে বিচার করা হবে। এবং প্রমাণিত করা হবে যে, যজ্ঞশালার সরঞ্জামকে 'বৈষ্ণব' (বিষ্ণু বা যজ্ঞ-সম্বন্ধীয়) বলা এবং কোনো মানুষকে সাম্প্রদায়িক 'বৈষ্ণব' হিসেবে নিযুক্ত করা এই দুয়ের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান বিদ্যমান। বেদের এই মন্ত্রগুলো মূলত সোমযাগের প্রস্তুতির অপরিহার্য অঙ্গ, কোনো বিশেষ ধর্মীয় গোষ্ঠী গঠনের নির্দেশ নয়।

__________________________________________________
♦️ শ্রুতিতে “বৈষ্ণব হও” নির্দেশ আছে বলে দাবী করা বৈষ্ণবদের সাম্প্রদায়িক অপব্যাখ্যার নিরসন


❌ বৈষ্ণবদের দাবী — (১)

"বৈষ্ণবমসি বিষ্ণবে ত্বা।"

( -শুক্ল যজুর্বেদ ৫।২১ ) 

অনুবাদ-(হে মনুষ্য), তোমার পরিচয় তুমি বৈষ্ণব, বিষ্ণুর প্রীতির জন্য তোমাকে নিযুক্ত করছি।


✅ শৈবপক্ষ দ্বারা খণ্ডন — (১)

আসলে- সম্বোধনটি মানুষের প্রতি নয়, 'হবির্ধান' মণ্ডপের প্রতি। ​বৈষ্ণবরা দাবি করে "হে মনুষ্য, তোমার পরিচয় তুমি বৈষ্ণব"। কিন্তু মহীধর ভাষ্য স্পষ্ট বলছে—

​"হে হবির্ধান, ত্বং বৈষ্ণবমসি" - হে হবির্ধান নামক মণ্ডপ, তুমি বৈষ্ণব।

​এখানে যজ্ঞের সোমবাহী দুটি গাড়ি (শকট) রাখার জন্য যে মণ্ডপ তৈরি হয়, তাকে 'হবির্ধান' বলে। যজ্ঞ শেষ করে সেই মণ্ডপটিকে স্পর্শ করার সময় এই মন্ত্রটি পড়া হয়। সুতরাং 'বৈষ্ণব' সম্বোধনটি একটি জড় মণ্ডপ বা যজ্ঞশালার প্রতি, কোনো ব্যক্তির দীক্ষার জন্য নয়।
​বৈষ্ণবরা 'বৈষ্ণব' বলতে একটি বিশেষ সাম্প্রদায়িক অনুসারী বোঝায়। কিন্তু, মহীধর ও উব্বট উভয়েই এর যাজ্ঞিক অর্থ করেছেন—

​উব্বট— "বিষ্ণুর্দেবতাস্য বৈষ্ণবম্" (বিষ্ণু যার দেবতা, সে-ই বৈষ্ণব)।

​মহীধর— "বিষ্ণুদেবতাকত্বেন তৎসম্বন্ধি ভবসি" (বিষ্ণুদেবতা হওয়ার কারণে তুমি তাঁর সম্বন্ধীয় হয়েছ)।

​মীমাংসা ও নিরুক্ত শাস্ত্র অনুযায়ী, যজ্ঞের আরেকটি নাম বিষ্ণু। তাই যজ্ঞের উদ্দেশ্যে নির্মিত মণ্ডপটি 'বিষ্ণু-সম্বন্ধীয়' বা 'বৈষ্ণব' (যজ্ঞ বৈ বিষ্ণুঃ)। একে মানুষের সাম্প্রদায়িক পরিচয় হিসেবে ব্যবহার করা ভাষ্যকারের মতের পরিপন্থী।
“বিষ্ণবে ত্বা” ​এই বাক্যে বৈষ্ণবরা অনুবাদ করে — "বিষ্ণুর প্রীতির জন্য তোমাকে (মানুষকে) নিযুক্ত করছি"। কিন্তু, মহীধর ভাষ্যের শেষাংশ লক্ষ্য করুন- ​"তস্মাদ্ বিষ্ণবে বিষ্ণুপ্রীত্যর্থং ত্বা ত্বাং স্পৃশামীতি শেষঃ" অর্থাৎ- "বিষ্ণুর প্রীতির জন্য তোমাকে (অর্থাৎ ঐ হবির্ধান মণ্ডপকে) আমি স্পর্শ করছি।" মন্ত্রের বিধিতে (কাত্যায়ন শ্রৌতসূত্র ৮/৪/২১) স্পষ্ট বলা আছে— 'স্পৃশেদিতি সূত্রার্থঃ' (মণ্ডপটি স্পর্শ করবে)। এখানে 'ত্বা' (তোমাকে) বলতে সেই মণ্ডপটিকে বোঝানো হয়েছে যাকে অধ্বর্যু স্পর্শ করছেন। এর সাথে মানুষের নিয়োগ বা দীক্ষার কোনো সম্পর্ক নেই।
​মহীধর ভাষ্যে যজ্ঞশালা বা মণ্ডপকে একটি পুরুষের দেহের সাথে তুলনা করা হয়েছে —

​বিষ্ণো ররাটমসিঃ - মণ্ডপের সামনের দরজার ওপরের কাঠ বা দর্ভমালাকে বলা হচ্ছে 'বিষ্ণুর ললাট' (কপাল)।

​বিষ্ণোঃ শ্নপ্ত্রে স্থঃ - দরজার দুই পাশের স্তম্ভ বা সন্ধিস্থলকে বলা হচ্ছে 'ওষ্ঠসন্ধি' (ঠোঁটের কোণ)।
​ভাষ্যকার বলছেন— "মণ্ডপো বিষ্ণুদেবতাকত্বাদ্ বিষ্ণুরিত্যুপচর্যতে" (মন্ডপটি বিষ্ণুদেবতাক হওয়ায় তাকে বিষ্ণু হিসেবে উপচার বা কল্পনা করা হচ্ছে)। বৈষ্ণবরা এই রূপক অলংকার বুঝতে ব্যর্থ হয়ে একে আক্ষরিক অর্থে নিয়ে মানুষের ওপর প্রয়োগ করছে।

এখন এখানে একটি আপত্তি উঠে আসে তা হলো- মণ্ডপের ললাট বা ওষ্ঠের বর্ণনাকে মানুষের দেহরূপে গ্রহণ করা হয়েছে। আসলে এমনটি নয় এটি রূপক অলংকার বা উপচার মাত্র। পূর্বমীমাংসা অনুযায়ী —

“গুণবাদস্তু”।। (১/২/১০) এবং “তৎপ্রখ্যঞ্চান্যশাস্ত্রম্”।। (১/৪/৪)

যখন কোনো মন্ত্রে এমন কথা বলা হয় যা প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বিরুদ্ধে (যেমন—একটি কাঠের ঘরের কপাল থাকা অসম্ভব), তখন তাকে 'গুণবাদ' বা গৌণ অর্থে গ্রহণ করতে হয়। মণ্ডপটি বিষ্ণুর (যজ্ঞের) আধার, তাই তাকে রূপকভাবে বিষ্ণুর অঙ্গ বলা হয়েছে। বৈষ্ণবরা এই রূপক বুঝতে না পেরে একে আক্ষরিক ধরে নিয়ে মানুষের ওপর আরোপ করছে, যা মীমাংসা দর্শনের 'সারূপ্যাৎ' (১/৪/২৫) নীতির পরিপন্থী।

​উব্বট ও মহীধরের ভাষ্য অনুযায়ী- ৫/২১ মন্ত্রের প্রেক্ষাপট হলো সোমযাগের মণ্ডপ নির্মাণ সম্পন্ন করা। মন্ত্রটি কোনো মানুষের উদ্দেশ্যে নয়, যজ্ঞশালার উদ্দেশ্যে। ​মন্ত্রে 'বৈষ্ণব' মানে 'বিষ্ণু-উপাসক সম্প্রদায়' নয়, বরং 'বিষ্ণু বা যজ্ঞের উদ্দেশ্যে নির্মিত বস্তু'। যিনি এই মন্ত্র দিয়ে মানুষকে 'বৈষ্ণব' হওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন, তিনি আসলে যজ্ঞের একটি মণ্ডপ বা ঘরকে যে মন্ত্র দিয়ে পবিত্র করা হয়, সেই মন্ত্রটি মানুষের ওপর প্রয়োগ করে হাস্যকর বিভ্রান্তি তৈরি করছেন।

👉 পূর্বমীমাংসা অনুযায়ী —

“আম্নায়স্য ক্রিয়ার্থত্বাদানার্থক্যমতদর্থানাম্ তস্মাদনিত্যমিতিউচ্যতে”।। (১/২/১)

​অর্থাৎ- বেদের প্রতিটি মন্ত্রের সার্থকতা তার 'ক্রিয়া' বা যজ্ঞীয় কর্মের  মধ্যে। এখানে 'বিষ্ণবে ত্বা' মন্ত্রটির ক্রিয়া হলো 'মণ্ডপ স্পর্শ করা' (স্পৃশতি)। বৈষ্ণবরা যখন এই মন্ত্রকে কোনো যজ্ঞীয় ক্রিয়া ছাড়া কেবল মানুষের 'পরিচয়' বা 'দীক্ষা' হিসেবে ব্যবহার করছে, তখন তারা মন্ত্রের 'ক্রিয়ার্থত্ব' অস্বীকার করছে, যা মীমাংসা মতে অনর্থক।
__________________________________________________

❌ বৈষ্ণবদের দাবী — (২)

"বৈষ্ণবমসি বৈষ্ণবা স্থ।।"

( -শুক্লযজুর্বেদ ৫/২৫ ) 

অনুবাদঃ তোমরা বৈষ্ণব হও, তােমরা ভগবান বিষ্ণুর প্রীতিসাধক হও।।


✅ শৈবপক্ষ দ্বারা খণ্ডন — (২) 

মহীধর ভাষ্যটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে এই শব্দের প্রয়োগ দেখিয়ে দিয়েছেন—

​"তস্মিন্ গ্রাব্ণঃ পঞ্চ বৈষ্ণবাঃ স্থেতি... সোমাভিষবহেতূন্ পঞ্চ পাষাণানস্থাপয়েদিতি সূত্রার্থঃ। হে গ্রাবাণঃ, যূয়ং বৈষ্ণবাঃ স্থ..."

​প্রকৃত অর্থ হলো- যজ্ঞের সময় সোমলতা পেষণ করার জন্য ৫টি পাথর (গ্রাবাণ) ব্যবহার করা হয়। সেই পাথরগুলোকে যজ্ঞীয় চর্মের ওপর স্থাপন করার সময় অধ্বর্যু বলছেন— "হে পাথরসমূহ (গ্রাবাণঃ), তোমরা বৈষ্ণব (যজ্ঞরক্ষণকারী বিষ্ণুর সম্বন্ধীয়) হও।"
এখন যারা এই মন্ত্রটি ব্যবহার করে মানুষকে 'বৈষ্ণব' হওয়ার উপদেশ দেয়, তারা আসলে মানুষের তুলনা যজ্ঞের অচেতন পাথরের সাথে করছে। ভাষ্য অনুযায়ী এখানে 'তোমরা' সম্বোধনটি কেবল ওই ৫টি পাথরের জন্য নির্দিষ্ট।

​মন্ত্রের আগের অংশে 'বৈষ্ণবমসি' (তুমি বৈষ্ণব) শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে একটি যজ্ঞীয় চামড়ার উদ্দেশ্যে-
​"হে চর্ম, ত্বং বৈষ্ণবমসি যজ্ঞরক্ষকবিষ্ণুসন্বন্ধি ভবসি।" (কাত্যায়ন শ্রৌতসূত্র ৮/৫/২৬) - ​এখানে একটি লোহিত বর্ণের চামড়া (চর্ম), যার ওপর সোম পেষণ করা হবে, তাকে 'বৈষ্ণব' বলা হয়েছে। বৈষ্ণবীয় অপব্যাখ্যায় একটি পশুর চামড়াকে দেওয়া সম্বোধনকে মানুষের দীক্ষার মন্ত্র হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা চূড়ান্ত বিভ্রান্তিকর।

​মন্ত্রে 'বৈষ্ণব' হওয়ার পাশাপাশি 'রক্ষোহণ' (রাক্ষস নাশক) এবং 'বলগহন' (অভিচার বা জাদুটোনা নাশক) হওয়ার কথা বলা হয়েছে। ​মহীধর বলছেন, যজ্ঞের জন্য যে গর্ত (অবট) খনন করা হয়, তাকে প্রোক্ষণ করার সময় এই শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়। ​যজ্ঞের গর্ত বা উপকরণগুলো যাতে বিঘ্নমুক্ত থাকে, তাই সেগুলোকে 'বৈষ্ণব' বা 'বিষ্ণুদেবত্য' বলা হয়। কারণ বেদে "যজ্ঞো বৈ বিষ্ণুঃ" এই অনুসারে যজ্ঞের প্রতিটি ধূলিকণা ও পাথরই 'বিষ্ণু-সম্বন্ধীয়'।

​বৈষ্ণবদের অনুবাদের ব্যাকরণগত ভুল। ​বৈষ্ণবরা 'বৈষ্ণবা স্থ' অনুবাদ করে — "তোমরা বিষ্ণুর প্রীতিসাধক হও"। ​ভাষ্যকারদের মতে— উব্বট ও মহীধর বলছেন এর অর্থ "বিষ্ণুদেবত্যা ভবথ" (বিষ্ণু যার দেবতা বা অধিপতি, সেই রূপ হও)। ​এখানে 'বিষ্ণু' শব্দের অর্থ 'যজ্ঞরক্ষণকারী' (যজ্ঞরক্ষক)। সুতরাং পাথরগুলো যজ্ঞের কাজে লাগছে বলেই তারা 'বৈষ্ণব'। কোনো মানুষ তিলক কেটে বা মালা জপ করে 'বৈষ্ণব' হচ্ছে এমন কোনো ইঙ্গিত এই বৈদিক সূক্তে নেই।

শুক্ল যজুর্বেদের ৫/২৫ মন্ত্রটি সোমযাগের প্রস্তুতির মন্ত্র। এখানে পাথরগুলোকে (পাষাণ) যজ্ঞের পবিত্রতায় অভিষিক্ত করার জন্য 'বৈষ্ণব' বলা হয়েছে। এই মন্ত্রকে বৈষ্ণব ধর্মের প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা কেবল শাস্ত্রের অবমাননাই বটে।

👉 পূর্বমীমাংসা অনুযায়ী —

“লিঙ্গোপদেশশ্চ তদর্থত্বাৎ”।। (১/২/৫১) এবং “অচেতনে অর্থবন্ধনাৎ”।। (১/২/৩৫)

'লিঙ্গ' মানে শব্দের সামর্থ্য বা ইশারা। মন্ত্রে যখন 'বৈষ্ণবা স্থ' (তোমরা বৈষ্ণব) বলা হয়, তখন সেই শব্দের সামর্থ্য বা ইশারা রয়েছে সামনে রাখা ৫টি পাথরের প্রতি। ১/২/৩৫ সূত্রানুসারে, অচেতন বস্তুর (পাথর/চামড়া) ওপরও মন্ত্রের অর্থ প্রযুক্ত হয় তাদের পবিত্র করার জন্য। বৈষ্ণবরা এই জড় বস্তুর সংস্কার-মন্ত্রকে সচেতন মানুষের দীক্ষায় প্রয়োগ করে মূলত মানুষকে পাথরের সমতুল্য অচেতন বস্তুতে পরিণত করার অপচেষ্টা করছে।
__________________________________________________

❌ বৈষ্ণবদের দাবী — (৩)

"দিবো বা বিষ্ণ উত বা পৃথিব্যা মহো বা বিষ্ণ উরোরন্তরিক্ষাৎ। উভা হি হস্তা বসুনা পূণস্বা প্র যচ্ছ দক্ষিণাদোত সব্যাদ্বিষ্ণবে ত্বা৷।"

( -শুক্ল যজুর্বেদ ৫।১৯ )

অনুবাদঃ- হে বিষ্ণু, তুমি দ্যুলোক অথবা ভূলোক হতে, কিম্বা মহান বিস্তৃত অন্তরিক্ষলোক হতে তোমার উভয় হস্ত ধন-সম্পত্তি দ্বারা পূর্ণ কর এবং দক্ষিণ বা বাম হস্তে আমাদের দাও। হে মনুষ্য, সে সর্বব্যাপক ভগবান বিষ্ণুর প্রীতির জন্য তোমাকে নিযুক্ত করছি। 


✅ শৈবপক্ষ দ্বারা খণ্ডন — (৩)

​বৈষ্ণবরা দাবি করেন— "হে মনুষ্য, তোমাকে নিযুক্ত করছি"। কিন্তু, মহীধর ও উব্বট উভয়েই কাত্যায়ন শ্রৌতসূত্র (৮/৪/৮-৯) উদ্ধৃত করে মন্ত্রের প্রয়োগ বা নিয়োগ স্পষ্ট করেছেন—

​"প্রতিপ্রস্থাতোত্তরশকটে কুর্যাদিতি... উত্তরস্থূণং পূর্ববৎ" (মহীধর ভাষ্য)। এর ​প্রকৃত অর্থ হলো- যজ্ঞের সোমবাহী উত্তরদিকের গাড়িটিকে (শকট) সোজা করে রাখার জন্য একটি কাঠের খুঁটি বা স্তম্ভ (স্থূণা) মাটিতে পোঁতা হয়। এই মন্ত্রটি পাঠ করে সেই কাঠের স্তম্ভটিকে স্পর্শ করা হয়। এখানে 'ত্বা' (তোমাকে) বলতে সেই যজ্ঞীয় খুঁটি বা স্তম্ভকে বোঝানো হয়েছে। বৈষ্ণবরা সেই কাঠের খুঁটির জন্য ব্যবহৃত মন্ত্রকে মানুষের ওপর প্রয়োগ করে মানুষকে বৈষ্ণবসম্প্রদায়ে দীক্ষা দিচ্ছেন, যা সম্পূর্ণ হাস্যকর এবং শাস্ত্রবিরুদ্ধ।
'বিষ্ণবে ত্বা' - যজ্ঞের জন্য নিয়োগ, বৈষ্ণব দীক্ষার জন্য নয়। ​উব্বট ভাষ্যে বলা হয়েছে— "বিষ্ণবে ত্বেতি পূর্ববৎ"। অর্থাৎ, আগের মন্ত্রগুলোতে (৫/১৮) যেভাবে 'বিষ্ণবে ত্বা' পদের অর্থ করা হয়েছে, এখানেও তাই হবে। সুতরাং- ​প্রকৃত অর্থ হলো- "বিষ্ণবে (যজ্ঞরূপী বিষ্ণুর কার্যের জন্য) ত্বা (তোমাকে অর্থাৎ ওই স্তম্ভটিকে) গ্রহণ বা স্থাপন করছি”। পক্ষান্তরে, বৈষ্ণবরা একে "বিষ্ণুর প্রীতির জন্য মানুষের নিয়োগ" বলে চালিয়ে দিচ্ছেন। অথচ ভাষ্যকারদের মতে, এটি যজ্ঞের একটি যান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ মাত্র।

​মন্ত্রে বিষ্ণুর কাছে দুই হাত ধন-সম্পদে পূর্ণ করে দেওয়ার প্রার্থনা করা হয়েছে (উভা হি হস্তা বসুনা পৃণস্ব)। ​ভাষ্যকারদের মতানুযায়ী- মহীধর বলছেন, যজ্ঞের হব্যবাহী শকট বা গাড়িটি যেহেতু যজ্ঞের আধার, তাই তাকে 'বিষ্ণু' হিসেবে কল্পনা করা হচ্ছে। সেই যজ্ঞীয় শক্তির কাছে যজমান ঐশ্বর্য প্রার্থনা করছেন যাতে যজ্ঞ সফল হয় এবং যজমান সমৃদ্ধ হন।
​এখন যদি বৈষ্ণবরা এই ঐশ্বর্য প্রার্থনাকে একটি সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু ভাষ্য অনুযায়ী এটি যজমানের যজ্ঞফল প্রাপ্তির প্রার্থনা, কোনো বিশেষ ধর্মীয় গোষ্ঠীতে যোগদানের কথা এখানে নেই।

​উব্বট তাঁর ভাষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকরণগত মন্তব্য করেছেন — "পঞ্চম্যাঃ তৃতীয়য়া ব্যত্যয়ঃ" অর্থাৎ- এখানে পঞ্চমী বিভক্তির জায়গায় তৃতীয়া বিভক্তির অর্থ ধরা হয়েছে। এটি বৈদিক প্রক্রিয়ার একটি জটিল অংশ। বৈষ্ণবরা এই ব্যাকরণগত সূক্ষ্মতা তো বোঝেনই না, উল্টো 'বিষ্ণবে' (চতুর্থী বিভক্তি) শব্দটিকে এমনভাবে ব্যবহার করেন যেন এটি কোনো মানুষের দীক্ষা গ্রহণের বাধ্যতামূলক শর্ত। অথচ মহীধরের মতে, এখানে যজ্ঞীয় স্তম্ভটি স্থাপন করাই হলো মূল কাজ "স্থূণাং নিখাতবান্"।

​যজুর্বেদের ৫/১৯ মন্ত্রটি আসলে যজ্ঞশালার খুঁটি পোঁতার মন্ত্র। যারা এই মন্ত্র দিয়ে মানুষকে "বিষ্ণুর প্রীতির জন্য নিযুক্ত" হওয়ার কথা বলে মানুষের কানে মন্ত্র দেয়, তারা আসলে মানুষকে যজ্ঞের 'খুঁটি' বা 'কাঠ' হিসেবে গণ্য করছে। এটি বৈদিক জ্ঞানের অভাব এবং সাম্প্রদায়িক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের এক অপচেষ্টা মাত্র।
__________________________________________________

❌ বৈষ্ণবদের দাবী — (৪)

"বিষ্ণোনুকং বীর্যাণি প্র বোচং যঃ পার্থিবানি বিমমে রজাংসি যো অস্কভায়দুত্তরং সধস্থং বিচক্রমাণস্ত্রেধোরগায়ো বিষ্ণবে ত্বা৷৷"

( -শুক্ল যজুর্বেদ ৫।১৮)

অনুবাদঃ-যিনি পার্থিব পরমাণু জাত নির্মাণ করেছেন, সে বিশ্বব্যাপক ভগবান বিষ্ণুর মহিমা নিত্য কীর্তন করছি। অগ্নি, বায়ু ও সূর্যরূপে যিনি ভূমি, অন্তরিক্ষ ও দ্যুলোকে নিজ মাহাত্ম্য স্থাপন করেছেন, মাহাত্মাগণের দ্বারা যিনি গীত, যিনি উপরিতন অন্তরিক্ষলোক স্তম্ভিত করেছেন, (হে মনুষ্য) সে বিষ্ণুর উদ্দেশ্যে তোমাকে নিযুক্ত করছি।


✅ শৈবপক্ষ দ্বারা খণ্ডন — (৪)

​বৈষ্ণবরা অনুবাদ করেছেন— "হে মনুষ্য, তোমাকে নিযুক্ত করছি"। কিন্তু, মহীধর ভাষ্য এবং কাত্যায়ন শ্রৌতসূত্র (৮/৪/৭) অনুযায়ী এর প্রয়োগ হলো—

​"দক্ষিণতঃ স্থূণামুপনিহন্তি বিষ্ণবে ত্বেতি। হে স্থূণে কাষ্ঠ, ... ত্বাং নিহন্মি নিখামীতি শেষঃ।" (মহীধর ভাষ্য)

এর ​প্রকৃত অর্থ হলো- যজ্ঞের দক্ষিণ দিকের গাড়িটিকে (শকট) ধরে রাখার জন্য যে কাঠের খুঁটি বা 'স্থূণা' মাটিতে পোঁতা হয়, তাকে সম্বোধন করে বলা হচ্ছে— 

"হে কাষ্ঠখণ্ড (খুঁটি), তোমাকে (ত্বা) আমি এখানে প্রোথিত করছি।"

​যজ্ঞের একটি অচেতন কাঠের খুঁটিকে মাটিতে পোঁতার মন্ত্রকে বৈষ্ণবরা মানুষের কানে দিয়ে বলছেন বেদ নাকি তাঁদের "বৈষ্ণব হতে বলেছে"। এটি বেদের প্রয়োগ-বিধি বা 'বিনিয়োগ'-এর ঘোরতর লঙ্ঘন।

উক্ত ​মন্ত্রে 'বিষ্ণু' বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে, তা মহীধর স্পষ্ট করেছেন—

​"হবির্ধানশকটভিমানিবিষ্ণুপ্রীত্যর্থং" ।।

​অর্থাৎ- যজ্ঞের গাড়ি বা শকটটির অধিষ্ঠাতা দেবতাকে এখানে বিষ্ণু বলা হয়েছে। যজ্ঞের সরঞ্জামের মহিমা প্রকাশ করতেই এই মন্ত্রটি ব্যবহৃত। এখানে কোনো বিশেষ পৌরাণিক সম্প্রদায়ের কথা বলা হয়নি।

​বৈষ্ণব অনুবাদে বলা হয়েছে— "যিনি পার্থিব পরমাণু জাত নির্মাণ করেছেন"। আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে মেলাতে গিয়ে তারা 'রজাংসি' শব্দের অর্থ পরমাণু করেছেন। কিন্তু ভাষ্যকাররা বলছেন—

​উব্বট- "লোকা রজাংস্যুচ্যন্ত ইতি রজঃশব্দো লোকবচনঃ।" (যাস্কের নিরুক্ত অনুযায়ী 'রজঃ' মানে লোক বা পৃথিবী-অন্তরিক্ষ-দ্যুলোক)।

​মহীধর- যাস্কের নিরুক্ত (৪/১৯) উদ্ধৃত করে তিনি বলছেন, এখানে তিন লোক সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। যদিও তিনি বিকল্পে পরমাণুর কথা বলেছেন, কিন্তু তার মূল উদ্দেশ্য হলো বিষ্ণুর (যজ্ঞের) ব্যাপকতা বোঝানো।

এই ​মন্ত্রে বিষ্ণুর তিন পদক্ষেপের কথা আছে। বৈষ্ণবরা একে কেবল একটি বিশেষ অবতারের কাহিনী হিসেবে দেখেন। কিন্তু মহীধর ভাষ্যে এর বৈদিক তাৎপর্য হলো—

​"ত্রিষু লোকেষ্বগ্নিবায়ুসুর্যরূপেণ পদত্রয়ং নিদধানঃ" ।।

​অর্থাৎ, বিষ্ণু বা যজ্ঞশক্তি তিন লোকে অগ্নি, বায়ু ও সূর্য রূপে বিদ্যমান। এই প্রাকৃতিক ও আধ্যাত্মিক সত্যকে পাশ কাটিয়ে একে কেবল একটি সাম্প্রদায়িক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করা বৈদিক চিন্তাধারার পরিপন্থী।

শুক্ল যজুর্বেদের এই ১৮ থেকে ২৫ নম্বর মন্ত্রগুলো মূলত 'সোমযাগ'-এর সরঞ্জাম প্রস্তুতির মন্ত্র। বৈষ্ণবরা যজ্ঞবিদ্যার পরিভাষা না বুঝে কেবল 'বিষ্ণু' শব্দটি দেখে আবেগবশত এগুলোকে সাম্প্রদায়িক প্রচারের কাজে ব্যবহার করছেন। উব্বট ও মহীধরের ভাষ্য থেকে প্রমাণ হয় যে, এই মন্ত্রগুলো যজ্ঞের খুঁটি, পাথর, চামড়া এবং গাড়িকে পবিত্র করার জন্য। মানুষকে বৈষ্ণব হওয়ার জন্য নয়। 

👉 উপরিউক্ত ৫/১৯ ও ৫/১৮ নং মন্ত্রের প্রকরণে পূর্বমীমাংসা বলছে — 

“প্রকরেণ সম্ভবন্নপকর্ষো ন কল্প্যেৎ বিধ্যানর্থক্যং হি তম্প্রতি”।। (১/২/২৪)

​'প্রকরণ' মানে প্রসঙ্গ। এই মন্ত্রগুলো সোমযাগের 'হবির্ধান' প্রকরণে বর্ণিত। মীমাংসা অনুসারে, যে মন্ত্র যে প্রসঙ্গের জন্য নির্দিষ্ট, তাকে সেখান থেকে টেনে অন্য কোনো সামাজিক কাজে (যেমন দীক্ষা) লাগানো বা 'অপকর্ষ' করা শাস্ত্রীয় অপরাধ। যজ্ঞীয় খুঁটি পোঁতার প্রসঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করলে এই মন্ত্রের কোনো বিধানগত মূল্য থাকে না। তাই উক্ত মন্ত্র দ্বারা বৈষ্ণব হতে বলাটা শাস্ত্রের অপব্যাখ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়।

 উক্ত প্রকরণে ৫/১৮ থেকে ৫/২৫ নং মন্ত্র মূলত যজ্ঞ শালার ঘর তৈরি, খুঁটি পোঁতা এবং সোম পেষণের পাথর-চামড়া পবিত্র করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, বৈষ্ণবরা উক্ত যজ্ঞের প্রকরণকে ভুল ভাবে ব্যাখ্যিত করে বলেছে সাধারণ মানুষকে নাকি বৈষ্ণব হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এমন ভুল অপব্যাখ্যার জন্য পূর্বমীমাংসা বলছে —

“বিধিনা ত্বেকবাক্যত্বাৎ স্তুত্যর্থেন বিধীনাং স্যুঃ”।। (১/২/৭)

​এই মন্ত্রগুলো স্বতন্ত্র কোনো আদেশ নয়, বরং এগুলো 'অর্থবাদ' বা স্তুতিবাক্য। এগুলো মূল বিধিবাক্যের (যেমন—সোমবাহী গাড়ি স্থাপন করা) সাথে যুক্ত থেকে সেই সরঞ্জামের প্রশংসা করে। কিন্তু, বৈষ্ণবরা এই সহকারী বা গৌণ স্তুতিবাক্যগুলোকে মূল 'বিধি' (বৈষ্ণব হও আদি) হিসেবে প্রচার করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। যা মূলত শাস্ত্রের মনগড়া অনুবাদ ছাড়া আর কিছুই নয়, যা সম্পূর্ণ ভাবে মীমাংসা বিরুদ্ধ।
__________________________________________________

🔥 সিদ্ধান্ত —

​পরিশেষে, জৈমিনি প্রণীত পূর্বমীমাংসা দর্শন এবং মহীধর-উব্বট প্রমুখ প্রাচীন ভাষ্যকারদের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের মাধ্যমে এটি দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, শুক্ল যজুর্বেদের ৫ম অধ্যায়ের ১৮ থেকে ২৫ সংখ্যক মন্ত্রগুলো একান্তই 'সোমযাগ'-এর যান্ত্রিক ও সংস্কারমূলক প্রক্রিয়ার অংশ। যজ্ঞের মণ্ডপ, কাঠের খুঁটি, সোম পেষণের পাথর এবং পশুর চামড়াকে যজ্ঞীয় দেবতার (বিষ্ণুর) সাথে সম্পর্কিত করে পবিত্র করার যে বৈদিক পদ্ধতি, তাকে আধুনিক বৈষ্ণব সম্প্রদায় সুকৌশলে মানুষের 'সাম্প্রদায়িক দীক্ষা' বা 'পরিচয়' হিসেবে উপস্থাপন করছে।

​মীমাংসা শাস্ত্রের 'বিনিয়োগ-বিধি' এবং 'প্রকরণ'-কে উপেক্ষা করে একটি যজ্ঞীয় মণ্ডপ বা জড় পাথরের জন্য নির্দিষ্ট মন্ত্রকে মানুষের কানে ফুঁকে দেওয়া কেবল হাস্যকরই নয়, বরং বেদের মৌলিক উদ্দেশ্যের চরম অবমাননা। যেখানে বেদবাক্য জড় বস্তুকে যজ্ঞোপযোগী করার জন্য 'গুণবাদ' বা রূপক অলঙ্কার ব্যবহার করছে, সেখানে তাকে আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ করে মানুষের ওপর প্রয়োগ করা 'অর্বাচীন' চিন্তাধারারই বহিঃপ্রকাশ।

​বেদের প্রকৃত অর্থ তার 'ক্রিয়ার্থত্ব' বা যজ্ঞীয় উপযোগিতার মধ্যেই নিহিত। সুতরাং, যজ্ঞশালার সরঞ্জামকে 'বৈষ্ণব' (যজ্ঞ-সম্বন্ধীয়) বলা এবং কোনো ব্যক্তিকে তিলক-মালাধারী 'বৈষ্ণব' হিসেবে নিযুক্ত করা,  এই দুয়ের মধ্যে কোনো শাস্ত্রীয় যোগসূত্র নেই। যারা বেদের এই মন্ত্রগুলোকে সাম্প্রদায়িক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন, তারা মূলত যজ্ঞবিদ্যার পরিভাষা ও মীমাংসা দর্শনের নিয়মগুলোকে পাশ কাটিয়ে নিজেদের মতবাদকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণের এক ব্যর্থ অপচেষ্টায় লিপ্ত। সত্য এই যে, বেদের এই সূক্তসমূহ যজ্ঞের পবিত্রতা রক্ষার জন্য, কোনো বিশেষ ধর্মীয় গোষ্ঠী নির্মাণের জন্য নয়। সুতরাং- আরও একটি বৈষ্ণবীয় অপব্যাখ্যা খণ্ডন সমাপ্ত হলো।


🙏সর্বে হ্যেষ রুদ্রস্তস্মৈ রুদ্রায় নমো অস্তু🙏

শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তেতরাম্ 🚩
ॐ নমঃ পার্বতীপতয়ে হর হর মহাদেব 🚩 

✍️অপপ্রচার দমনে : শ্রী অন্তিক ভট্টাচার্য্য (শম্বরনাথ শৈব)।

🌻বিশেষ কৃতজ্ঞতা : আমার গুরু শ্রী নন্দীনাথ শৈবাচার্য জী ও আমার আদর্শ শ্রী রোহিত কুমার চৌধুরী শৈবজী।

কপিরাইট ও প্রচারে — Shivalaya 

#বৈষ্ণবমতখণ্ডন #বৈষ্ণবমতবাদখণ্ডন #শৈবধর্ম #সনাতনধর্ম #বেদবিকৃতিদমন #শিবালয় #Shivalaya 


মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ