শিব মাহাত্ম্য — এক কুকুর ও এক পায়রার শিবকৃপায় রাজকীয় জন্ম ও মোক্ষলাভ

 



🔥 এক কুকুর ও এক পায়রার 

শিবকৃপায় রাজকীয় জন্ম ও মোক্ষলাভ — অদ্ভূত শিবমাহাত্ম্য 

______________________________________________


🔰 ভূমিকা —


বর্তমান কালে জীবের দুর্দশার শেষ নেই। জীব জেনে বা না জেনে যে কত ধরণের পাপ করে চলেছে তার হিসেব করা অসম্ভব। কিন্তু পরমেশ্বর শিবের প্রতি ভক্তিই একমাত্র সকল প্রকারের জীবকে এই পাপময় মায়াজাল থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম। 

এমনই শাস্ত্রে উল্লেখিত এক উৎকৃষ্ট কাহিনীর উপস্থাপনা করছি, যেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে —

স্বভাববশত বিধিনিষেধ না মেনে, আমিষ-নিরামিষ ইত্যাদি ভক্ষণ করে, কামুক, দুরাচারী হ‌ওয়া সত্ত্বেও শিবদর্শন করে তার ফলস্বরূপ পরবর্তী জন্মে শিবভক্তিলাভ করে ভক্তির কারণে জন্মে জন্মে উৎকৃষ্ট সুখভোগ করে অন্তিম কোনো এক জন্মে শিবজ্ঞান লাভ করে শিবকৃপায় পরমপদ অর্থাৎ শিবে লীন হয়েছিলেন এক সারমেয় (কুকুর) ।

______________________________________________


🔥 এক কুকুর ও পায়রার শিবলাভ :


[তথ্যসূত্র : স্কন্দমহাপুরাণ/ব্রহ্মখণ্ড/উত্তরখণ্ড/৪ অধ্যায়]


♦️ সূতদেব বললেন, আমি পুনরায় ভবপাশ বিমোচনকারী, সকল প্রকারের পাপনাশকারী, পরম অদ্ভূত শিবমাহাত্ম্য কীর্তন করছি ॥ ১ ॥


দুস্তর দূরিত-পারাবারে নিমগ্ন বিষয়ী ব্যক্তিগণের শিবপূজা ছাড়া উদ্ধারের অন্য আর কোনো উপায় নেই ॥ ২ ॥


বুদ্ধিমান মানুষ সর্বদা শিবপূজা করবে। স্বয়ং নিজে পূজা করতে যদি অসামর্থ্য হয়, তাহলে ভক্তি সহকারে অন্যের করা শিবপূজা দেখতে থাকবে ॥ ৩ ॥


 শ্রদ্ধাহীন হয়েও যদি কেউ বিমুক্তিদায়িনী শিবপূজা করে, অথবা অন্যের করা শিবপূজা দর্শন করে তাতেও ঐ পূজাদর্শনকারী ব্যক্তি পরমপদ প্রাপ্ত হয় ॥ ৪ ॥


 কিরাতদেশে “বিমর্দন” নামক এক রাজা ছিলেন। তিনি শূর, পরমদুর্দ্ধর্ষ, জিতশত্রু, বলবান, সর্ব্বদা মৃগয়াতে আসক্ত, কৃপণ, নিঘৃণ, বলী, সর্বমাংসাশন, ক্রুর এবং সর্ব বর্ণের নারীদের দ্বারা আবৃত ছিলেন ॥ ৫-৬ ॥


তবুও তিনি নিত্য অতন্দ্রিতভাবে মহাদেবের পূজা করতেন। বিশেষত, ইনি শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের চতুৰ্দশী তিথিতে খুব ধুমধামের সহিত পূজা করতে করতে অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে নৃত্য গীত ও স্তব করতেন ॥ ৭-৮ ॥


সেই সর্বভক্ষনকারী দুরাচার রাজার কার্যকলাপ দেখে তাঁর মহিষী মহারাণী অনুতপ্ত হতেন ॥ ৯ ॥


রাজমহিষীর নাম “কুমুদ্বতী” ; এই শীল-গুণসম্পন্না রাজ্ঞী (মহারাণী) কোনো এক সময়ে পতিকে নির্জনে অবসর সময়ে জিজ্ঞাসা করলেন — ॥ ১০ ॥


হে রাজন! আপনার চরিত্র অত্যন্ত আশ্চর্য্যময়, কোথায় আপনার দুরাচার, আর কোথায় আপনার পরমেশ্বরের প্রতি ভক্তি ! ॥ ১১ ॥


আপনি সর্বভক্ষনকারী, সর্বদা পরস্ত্রীর লালসা, হিংসাপরায়ণ এবং ক্রুর। অতএব, [একদিকে এসব কুকর্ম বলে চিহ্নিত কার্য করছেন, তাহলে]  এটি আপনার কেমন ধরণের ঈশ্বরভক্তি ? ॥ ১২ ॥


 তখন সেই ত্রিকালজ্ঞ ভূপাল (রাজা) এইভাবে রাণীর প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে কিছুক্ষণ বিবেচনা করে কৌতূহলী হয়ে হেসে মহিষী রাণীকে বললেন, ॥ ১৩ ॥


রাজা বললেন — অয়ি ! বরাননে ! আমি পূর্ব জন্মে এক সারমেয় (কুকুর) ছিলাম। তখন আমি পম্পানগরের এখানে ওখানে ঘুরেফিরে বেড়াতাম। ॥ ১৪ ॥

 ঐ নগরে এইভাবে কিছুকাল অতিবাহিত হলে কখনো এক সময়ে আমি এক মনোরম শিবমন্দিরে এসে উপস্থিত হই ॥ ১৫ ॥


 ঐ সময় সেখানে মহাতিথি চতুৰ্দশীর উৎসব ছিল। আমি বাইরের দ্বার আশ্রয় করে তা দেখতে লাগলাম ॥ ১৬ ॥


এরপর এক ব্যক্তি একটি লাঠি নিজের হাতে ধরে ক্রোধে আমাকে তাড়া করলে প্রাণের ভয়ে ঐ স্থান থেকে পালিয়ে গেলাম ॥ ১৭ ॥


এবং শিবমন্দির প্রদক্ষিণ করে পুনরায় আমি ঐ স্থানে উপস্থিত হয়ে মনোজ্ঞ দ্বারের কাছে উপস্থিত হয়ে পুনরায় তাড়িত হলাম ॥ ১৮ ॥


আবার আমি সেই স্থানে গিয়ে শিবমন্দির প্রদক্ষিণ করলাম, এবং বলি-পিণ্ড ইত্যাদি দ্রব্য ভক্ষণ করবার জন্য মন্দিরের দ্বারের স্থান আশ্রয় করে র‌ইলাম ॥ ১৯ ॥


এইভাবে আমি বারবার প্রদক্ষিণ করতে করতে একবার কিছু শত সংখ্যক ধারালো অস্ত্রে শরীর বিদ্ধ হয়ে আহত হলাম ও সেই শিবদ্বারেই প্রাণ ত্যাগ করলাম। তারপর আমি শিবের কাছে অবস্থান করবার কারণে রাজার কুলে জন্ম নিলাম ॥ ২০-২১ ॥


এরপর আমি সেই শিবমন্দিরে চতুৰ্দশীপূজা এবং দীপমালা দর্শন করেছিলাম।

অয়ি ভামিনি ! এই পুণ্যেই আমি (অতীত,বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জ্ঞাতা) ত্রিকালজ্ঞ হয়েছি বটে, কিন্তু পূর্বজন্মের বাসনা দ্বারা আমি সর্বভক্ষনকারী ও নির্ঘৃণ হয়েছি জানবে। দেখো, বাসনাময়ী প্রকৃতিকে লঙ্ঘন করা পণ্ডিতগণেরও পক্ষেও দুঃসাধ্য ॥ ২২-২৩ ॥


এই জন্যই আমি চতুৰ্দ্দশী তিথিতে দেবদেব জগদগুরুর অর্চনা করে থাকি। অয়ি ভদ্রে ! তুমিও আমায় সহিত দেবদেবের পূজায় মনঃসংযোগ করো ॥ ২৪


রাজ্ঞী‌ মহারাণী বললেন, হে রাজেন্দ্র ! আপনি গিরিজাপতির কৃপাপ্রসাদে ত্রিকালজ্ঞ হয়েছেন। অতএব, আপনি আমার পূর্বজন্মের বিবরণ ভালো করে বর্ণনা করুন ॥ ২৫


রাজা বললেন, তুমি পূর্বজন্মে একটি আকাশে উড়ে বেড়ানো স্ত্রী পায়রা ছিলে। কোনো এক সময় তুমি হঠাৎ করে কোথাও এক টুকরো মাংস পেয়ে গিয়েছিলে ॥ ২৬ ॥


সেই সময় এক ভীষণ শক্তিশালী ও মাংসের লোভে থাকা গৃত্র (শকুন) নিজের জন্য মাংসখণ্ড দেখে তা প্রাপ্ত করবার জন্য তোমার দিকে ধাবিত হয় ॥ ২৭ ॥


ওটা দেখে তুমি খুব ভয় পেয়ে উড়ে পালিয়ে যেতে থাকলে। মাংস পিণ্ড লাভের লোভে সেই শকুন তোমাকে তাড়া করতে লাগলো এবং এভাবে উড়তে উড়তে সৌভাগ্যক্রমে তুমি শ্রীগিরিতে পৌঁছে গেলে। সেখানে গিয়ে তুমি খুব ক্লান্ত হয়ে পড়লে।

 তারপর তুমি সেখানে থাকা শিবালয় (শিবমন্দির) কে উড়তে উড়তে ঘুরে প্রদক্ষিণ করে মন্দিরের ধ্বজার ওপরে গিয়ে বসলে ॥ ২৮-২৯ ॥


ঠিক তখনই সেই তোমাকে তাড়া করা মাংসলোভী তীক্ষ্ণ ঠোঁটযুক্ত শকুন হঠাৎ তোমার উপর আক্রমণ করে তোমাকে নিহত করে এবং তোমার মুখ থেকে পড়ে যাওয়া মাংসের খণ্ডটি নিয়ে সেখান থেকে চলে যায় ॥ ৩০ ॥


তুমি যেহেতু দেবাদিদেব শিবের মন্দির প্রদক্ষিণ করেছিলে এবং তাঁর সামনে তোমার মৃত্যু হয়েছিল, সেই কারণে তুমি পরবর্তী এই জন্মে রাজকন্যা (নৃপাঙ্গনা) হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছো ॥ ৩১


রাজ্ঞী (মহারাণী) বললেন, এখন পূর্বজন্মের জন্ম-বিবরণ সব‌ই শ্রবণ করলাম, শ্রবণ করে আশ্চর্য হয়ে গেলাম এবং আমার অন্তরে ভক্তির উদয় হল। হে ত্রিকালজ্ঞ মহামতে ! সম্প্রতি আমি অন্য বিষয় শুনতে ইচ্ছা করছি। আমরা উভয়ে এই শরীর পরিত্যাগ করে কোন গতি প্রাপ্ত হবো ? ॥ ৩২ ॥


রাজা বললেন — আমি পরজন্মে সিন্ধুদেশীয় নরপতি হয়ে জন্মগ্রহণ করবো। আর তুমি সৃঞ্জয়রাজের কন্যা হয়ে আমাকেই লাভ করবে। তৃতীয় জন্মে আমি সৌরাষ্ট্রে রাজা হয়ে জন্ম নেবো, আর তুমি কলিঙ্গরাজার কন্যা হয়ে আমার পত্নী হবে। চতুর্থ জন্মে আমি গান্ধার রাজা হয়ে জন্মাবো আর তুমি মগধেশ্বরের কন্যা হয়ে আমার গৃহিণী হবে। পঞ্চম জন্মে আমি অবন্তী পুরের মহারাজা হবো, আর তুমি দাশার্হ-রাজার পুত্রী রূপে জন্মগ্রহণ করে আমার প্রাণবল্লভা হবে। ষষ্ঠ জন্মে আমি আনর্তদেশের রাজা হবো ; আর তুমি যযাতিবংশীয় কন্যা হয়ে আমাকে প্রাপ্ত হবে। সপ্তম জন্মে আমি পাণ্ড্য দেশের রাজকুমার হবো ॥ ৩৩-৩৮ ॥


ঐ সময় আমার মত রূপগুণশালী ব্যক্তি আর কেউ থাকবে না। আমি সর্ব শাস্ত্রার্থ-তত্ত্বজ্ঞ, বলবান, দৃঢ় বিক্রমশালী, সর্ব লক্ষণসম্পন্ন, সর্বলোকের মধ্যে মনোরম ও আদিত্যসঙ্কাশের মতো পদ্মবর্ণ নামে বিখ্যাত হবো ॥ ৩৯-৪০ ॥


আর তুমি বৈদভী হয়ে জন্মগ্রহণ করবে। ঐ জন্মে তুমি বসুমতী নামে বিখ্যাত হবে। তোমার রূপ আর শরীরের গঠন খুবই সুন্দর শোভিনী হবে ॥ ৪১ ॥

 

তোমার সৌন্দর্যে অনেক রাজকুমারের মন ও চোখ আনন্দিত হবে । সেই সময় যখন স্বয়ংবর সভা বসবে, তখন তুমি সেখানে আসা সব রাজপুত্রদের উপেক্ষা করে, যেমন দময়ন্তী নলকে বেছে নিয়েছিল, তেমনি আমাকেই স্বামী হিসেবে গ্রহণ করবে। আমিও সব রাজাদের পরাজিত করে তোমাকে অর্জন করবো ॥ ৪২-৪৩ ॥


তারপর তোমাকে নিয়ে নিজের রাজ্যে ফিরে আসবো এবং অনেক বছর ধরে নানা রকম সুখ-ভোগ উপভোগ করব। আমি অশ্বমেধ যজ্ঞসহ নানা যজ্ঞ করবো, পিতৃপুরুষ ও দেবঋষিদের তৃপ্ত করবো, দান করে শ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণদের পূজা করবো এবং জগতের কল্যাণকারী শিবের উপাসনা করবো ॥ ৪৪-৪৫ ॥


 তারপর শেষ জীবনে নিজের পুত্রের হাতে রাজ্যের দায়িত্ব দিয়ে, তপস্যা করবার জন্য বনবাসে চলে যাব। বন গিয়ে আমরা মহামুনি অগস্ত্যের কাছ থেকে ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করে উভয়ে শঙ্করের পরমপদ প্রাপ্ত হবো। হে বরাননে ! প্রতি চতুৰ্দশীতে শঙ্করের অর্চ্চনা করে আমরা সাত জন্ম রাজত্ব করবো। শঙ্করের পূজা দর্শনমাত্রেই আমার এই প্রকার সুকৃত লাভ হয়েছিল। সেই দুষ্টাত্মা সারমেয়ই (কুকুর‌ই) বা কোথায় আর এযন ধরণের সদ্‌গতিই বা কোথায় ? ॥ ৪৬-৪৮ ॥


সূত বললেন,শুভলক্ষণা রাজ্ঞী মহারাণী নিজ স্বামীর দ্বারা এই বৃত্তান্ত বর্ণনা শ্রবণ করে পরম বিস্ময়ে আনন্দিত হৃদয়ে তাঁর পূজা করলেন। রাজাও তাঁর সহিত যথাযথ ভোগ উপভোগ করে সাত জন্মের অন্তকালে উভয়ে শম্ভুর পরমপদ প্রাপ্ত হলেন। যে ব্যক্তি এই শিবপূজার পরম অদ্ভূত মাহাত্ম্য শ্রবণ ও কীর্তন করে, সে সেই পরমপদ লাভ করে ॥ ৪৯-৫১ ॥


______________________________________________


☢️🔘☢️ তাৎপর্য : পরমেশ্বর শিবের কাছে জীবের বাহ্যিক জাগতিক অবস্থায় আচার বিচারের কর্ম বিচার্য নয়। তিনি তার ভক্তকে আমিষাশী বা নিরামিষাশী কি না তা বিচার করে কৃপা করেন না। কারণ, জাগতিক সংসারে সকলেই বহু জন্মের পাপ-পূণ্যযুক্ত কর্ম সঞ্চয় করে, সেই অনুযায়ী আচার ব্যবহার, ভাবনা-চিন্তা, রুচি-আচরণ, রূপ-শরীর, পরিবার-স্বজন, ভাগ্য-ভোগ লাভ করেন। পাপপুণ্যে মিশ্রিত কর্মফলে জর্জরিত হয়ে এক‌ই জন্মের মধ্যে জীব এক এক সময়ে এক‌ এক রকম স্বভাব, রুচি, ভাবনা, ব্যবহার করে থাকে। জীব আজ পুণ্যবান, আবার পর জন্মে পাপী। এর ফলে জীবের নির্দিষ্টভাবে কোনো লক্ষণ বৈশিষ্ট্য থাকে না। মায়ার ফাঁদে পড়ে জীব কখনো অহংকারী হয়, কখনো নিরহংকারী হয়, কখনো একটি বস্তু প্রিয় হয় পরক্ষণে তা ঘৃণার দৃষ্টিতে পরিনত হয়। জীব জন্ম থেকে নিজের অজান্তেই যে আচার আচরণ করে অথবা যে খাদ্যাভ্যাসে অভ্যাস করেছেন, তা তার জন্মগত দৈহিক ধর্ম, এই সামান্য বিষয়ের উপর কি পরমেশ্বর শিবের কৃপা লাভের বিষয় বিচার্য হতে পারে ? — এই কথা অজ্ঞানী জীব বুঝতে সক্ষম হন না। তারা নিজেদের সীমাবদ্ধ ভাবনাকেই একমাত্র ঈশ্বরকৃপার উপায় বলে ভাবেন। কিন্তু ঈশ্বর সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে। তাই তিনি জীবের অনির্দিষ্ট লক্ষণের উপর ভিত্তি করে জীবকে বিচার করেন না। তিনি জীবের ভক্তিভাব দেখে জীবকে পাপ পূণ্যের মোহমায়া থেকে মুক্ত করে শিবত্ব দেন। সেই জীব শ্রদ্ধাহীন হোক, দুরাচারী হোক বা সদাচারী, সে নারীলোলুপ হোক বা আজীবনকালের জন্য ব্রহ্মচারী, সে আমিষ ভক্ষণ করুন বা না করুন, তাতে পরমেশ্বর শিবের কৃপায় কোনো প্রকার নূন্যতা হয়না। আর তার উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত এই কাহিনীতে স্পষ্ট হয়ে দিয়েছে। 


এবিষয়ে আরো একটি প্রমাণ দেখুন 👇


বিহায় সকলান্ ধৰ্মান্‌ সকলাগমনিশ্চিতান ।

শিবমেকং ভজেদ্যন্ত মুচ্যতে সর্ববন্ধনাৎ ॥ ৪ 

যা প্রীতিরাত্মনঃ পুত্রে যা কলত্রে ধনেঽপি সা ।

কৃতাচেচ্ছিবপূজায়াং ত্রায়তীতি কিমদ্ভূতম্ ॥ ৫ 

যস্যেন্দ্রিয়ানি সর্বাণি বর্তন্তে শিবকৰ্মসু ।

স নিস্তরতি সংসারং ভুক্তিং মুক্তিঞ্চ বিন্দতি ॥ ৯ ॥ 

শিবভক্তিযুতো মর্ত্যশ্চাণ্ডা‌লঃ পুক্কসোঽপি চ ।

নারী নরো বা ষণ্ঢো  বা সদ্যো মুচ্যেত সংসৃতেঃ ॥ ১০ 

কিং কুলেন কিমাচারৈঃ কিং শীলেন গুণেন বা ।

ভক্তিলেশযুতঃ শম্ভোঃ স বন্দ্যঃ সর্বদেহিনাম্ ॥ ১১


[স্কন্দমহাপুরাণ ব্রহ্মখণ্ড/উত্তর খণ্ড/৫ অধ্যায়/৪-৫ ও ৯-১১ নং শ্লোক]


✅ অর্থ : 


 সকল শৈবআগম শাস্ত্র নিশ্চিত করে বলছে - নিখিল ধৰ্ম পরিত্যাগ করে যে ব্যক্তি মাত্র শিবের আরাধনা করে, সে সর্ব বন্ধন হতে মুক্ত হয়ে থাকে  ॥ ৪ ॥ 


আপনার পুত্রে, কলত্রে ও ধনে যে রকমের প্রীতি (প্রেম) হয়, যদি শিবপূজায় ঐ একই রকম প্রীতি (প্রেম) রাখা যায়, তা হলে মানব যে এ সংসার-ভয় হতে পরিত্রাণ লাভ করবে, এ বিষয়ে আর আশ্চর্য হবার কি আছে ? ॥ ৫ ॥


 যার ইন্দ্রিয়গুলি সর্বদা শিব সম্পর্কিত কর্মে রত থাকে, সেই ব্যক্তি সংসার হইতে উদ্ধার লাভ করে ভুক্তি ও মুক্তি লাভ করে থাকে ॥ ৯ ॥ 


শিবভক্তিযুক্ত মানব চণ্ডালই হোক আর পুরুষই হোক, সে নর, নারী বা ষণ্ড হোক, নিশ্চিতভাবে সংসার থেকে মুক্তিলাভ করে থাকে ॥ ১০ ॥


কুল বিচারেরই বা কি প্রয়োজন ? আচারেই বা প্রয়োজন কি ? শীলেই বা প্রয়োজন কি ? এবং গুণেই বা প্রয়োজন কি ? যদি জীবের অন্তরে কণামাত্র শম্ভুর ভক্তি থাকে, তবে তার ফলেই সেই জীব অন্য সকল দেহধারী জীবের কাছে পূজনীয় হয়ে থাকে ॥ ১১ ॥


🔶 তাহলে যারা ভক্তি সহকারে ভস্ম-ত্রিপুণ্ড্র, রুদ্রাক্ষ ধারণ করে, শিব আরাধনা করেন, শৈবাচার পালন করেন, সর্বত্র‌ই একমাত্র পরমেশ্বর শিবকেই হৃদয় থেকে অনুভব করেন, শৈব শাস্ত্র পাঠ করেন, শিবনাম সংকীর্তন করেন, শিবনাম ও শৈবধর্ম প্রচার করেন। সেই ভক্তগণকে পরমেশ্বর শিব যে নিশ্চিত ভাবে উদ্ধার করবেন, এতে কোনো সংশয় ই থাকে না। 

______________________________________________


🚩 তথ্য সংগ্রহ ও লেখনীতে : শ্রীগুরু নন্দীনাথ শৈব আচার্য পরমাধিকারী 🚩 

©️ কপিরাইট ও প্রচারে : Shivalaya 🔥 


শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তেতরাম্ 🚩 

ॐ নমঃ পার্বতীপতয়ে হর হর মহাদেব 🚩  


#হিন্দুধর্ম #সনাতনধর্ম #শিবালয় #shiva #শিব #পরমেশ্বরশিব #ভগবান #পরমেশ্বরভগবানশিব #Shivalaya #sanatandharma #mahadev #shankar #শৈবধর্ম #শিবমহিমা #শিবমাহাত্ম্য #স্কন্দমহাপুরাণ
















মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ