অযোধ্যার রাম মন্দির পুনঃ নির্মাণ সহ সনাতনী ঐক্য স্থাপনের একমাত্র দেশভক্ত নেতা শৈব বিপ্লবী আচার্য দিগ্বিজয় নাথ জীই মূল কাণ্ডারী
🕉️ অযোধ্যার রাম মন্দির পুনঃ নির্মাণ সহ সনাতনী ঐক্য স্থাপনের একমাত্র দেশভক্ত নেতা শৈব বিপ্লবী আচার্য দিগ্বিজয় নাথ জীই মূল কাণ্ডারী 🕉️
__________________________________________________
🔰 ভূমিকা —
সনাতন ধর্মের সংস্কৃতিকে রক্ষা করবার দায়িত্ব শৈবরা চিরকাল পালন করে এসেছেন, এখনো পালন করছেন, আর চিরকালই করবেন। কারণ, এই সনাতন ধর্মের প্রকাশক স্বয়ং পরমেশ্বর শিব। তিনিই বিভিন্ন যোগাবতার শৈবাচার্য রূপে অবতীর্ণ হয়ে, তাঁদের কাছে স্বয়ং নিজেই শাস্ত্র প্রকট করে তাঁদের মাধ্যমে সত্য সনাতন ধর্মের জ্ঞান জগতে স্থাপন করেছেন। সেই প্রভু শিবের কাছ থেকে সেই শৈবাচার্যরূপী ঋষি-মুনিগণ উক্ত সনাতন জ্ঞানকে শিষ্য-প্রশিষ্যদের কাছে প্রসারিত করেছেন। এভাবেই সেই সকল শৈব আচার্যগণের মাধ্যমে সনাতন ধর্মের সংস্কৃতি স্বমহিমায় বিরাজিত। স্থান কাল পাত্র ভেদে প্রয়োজন অনুসারে পরমেশ্বর শিব শৈব আচার্যদের মধ্যে বিভিন্ন নির্দিষ্ট পরম্পরা নির্ধারণ করে দেন, কিন্তু তারা প্রত্যেকেই শৈবপরম্পরার আচার্য হিসেবেই গণ্য হতেন। একাধিক শৈব পরম্পরায় দার্শনিক কিছু মতভেদ থাকলেও একমাত্র পরমেশ্বর শিব যে অন্তিম গতি তা ছিল সনাতন ধর্মের একমাত্র আত্মজ্ঞানময় সিদ্ধান্ত।
কলিযুগের প্রভাবে শৈব পরম্পরা থেকেই অন্যান্য দেবদেবী কে কেন্দ্র করে গৌণ পরম্পরা গড়ে ওঠে, ধীরে ধীরে সেই সকল গৌণ পরম্পরা গুলি মুখ্য সনাতন শৈবপরম্পরার চেয়ে অধিক প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। ফলে শৈবপরম্পরা সনাতধর্মের একমাত্র মুখ্য গুরুপরম্পরা বলে পরিচিত হবার পরিবর্তে গৌণ সম্প্রদায় মাত্র হিসেবে চিহ্নিত হতে থাকে, গৌণ পরম্পরা গুলি মুখ্য পরম্পরা বলে পরিচিত হতে আরম্ভ করে। কিন্তু সনাতন ধর্মের রক্ষার ক্ষেত্রে সেই আদি কাল থেকে প্রবাহিত হওয়া এক অদ্বিতীয় শৈবগুরুপরম্পরার আচার্য বা যোদ্ধাগণই সনাতন ধর্ম তথা সনাতনীদের রক্ষা করবার জন্য চিরকাল এগিয়ে এসেছে। যেমন - ভগবান পরশুরাম, মর্যাদা পুরুষোত্তম ভগবান শ্রী রামচন্দ্র, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এই জগত সংসারকে রক্ষা করেছেন অধর্মের হাত থেকে, তাঁরাও প্রকৃত পক্ষে শৈব-ই ছিলেন। মহারাজাধিরাজ বিক্রমাদিত্য, রাজা ভোজ, মহারানা প্রতাপ, মহারাজ শশাঙ্ক প্রভৃতি প্রত্যেকেই শৈব-ই ছিলেন, এমন প্রচুর উদাহরণ রয়েছে, যা উল্লেখ করতে থাকলে সমাপ্ত হবে না। এককথায় শৈবদের প্রভাবেই চিরকাল সনাতন ধর্ম সংস্কৃতি সুরক্ষিত থাকে। যার প্রকৃষ্ট উজ্জ্বল উদাহরণ হলেন বর্তমান কালের পরমশ্রদ্ধেয় শৈব আচার্য শ্রী দিগ্বিজয় নাথ জী। আজ যে অযোধ্যায় রাম জন্মভূমি মন্দির পুনর্প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেই ‘অযোধ্যার রাম মন্দির পুনুরুদ্ধার আন্দোলন’ টি সর্বপ্রথম শ্রদ্ধেয় শৈবমহন্ত শ্রী দিগ্বিজয় নাথ শৈবাচার্য জী সূচনা করেছিলেন। এই প্রসঙ্গে কিছু ঘটনাকে এখানে আলোচ্য বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে । যাতে বর্তমান সনাতনীগণ শৈবদের দের অবদান সম্পর্কে জানতে পারে এবং পুনরায় শৈব পরম্পরার মাধ্যমে সেই আদি সনাতন ধর্মের সম্পূর্ণ সংস্কৃতিকে ফিরিয়ে আনবার সংকল্প হৃদয়ে ধারণ করেন।
[বিশেষ দ্রষ্টব্য : ‘SHIVALAYA’ হল অরাজনৈতিক শৈব প্রতিষ্ঠান। ইতিহাসের ঘটনাকে তুলে ধরতে গেলে সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট উপস্থাপন হওয়া আবশ্যক, নচেৎ সেই তথ্য অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এমতাবস্থায় যেহেতু শৈবদের কৃতিত্বের ইতিহাস তুলে ধরতে গেলে তার সাথে ক্ষেত্র বিশেষে জড়িত রাজনৈতিক দলগুলির নাম উল্লেখ করতে হয় তথ্যপ্রদানের নিমিত্তে, তাই এখানে সেই প্রেক্ষাপটকে জনসাধারণের কাছে তুলে ধরতেই অতীতে ঘটে যাওয়া ইতিহাসকে উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র। এটির উদ্দেশ্য শুধুমাত্র সনাতন ধর্মের রক্ষার নিমিত্তে শৈবদের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা ব্যবস্থাপনার বিষয়ের আলোচনা মাত্র, কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন বা অসমর্থন করাকে প্রশ্রয় দেয়ার বিষয় নয়]
__________________________________________________
🕉️ অযোধ্যার রাম মন্দির পুনঃ নির্মাণ সহ সনাতনী ঐক্য স্থাপনের একমাত্র দেশভক্ত নেতা শৈব বিপ্লবী আচার্য দিগ্বিজয় নাথ জীই মূল কাণ্ডারী 🕉️
গোরক্ষনাথ মঠের শৈব নাথ পরম্পরার মহন্ত আচার্য ছিলেন শ্রী দিগ্বিজয় নাথ শৈবাচার্য জী, এই মহান শৈবাচার্যের ছিল রাম মন্দির আন্দোলনে অপরিসীম অবস্থান । যার কারণে আজ সনাতনীরা অযোধ্যার রামজন্মভূমি মন্দির স্বমহিমায় পুনঃ উদ্ধার করে ফিরে পেয়েছে।
দিগ্বিজয় নাথ জী ১৮৯৪ সালে রাজস্থানের এক রাজপুত ঠাকুর পরিবারে নানহু সিং নামে জন্মগ্রহণ করেন। অল্প বয়সে অনাথ হয়ে, তাঁকে ফুলনাথ নামক একজন পরিব্রাজক নাথ শৈবযোগীর হাতে তুলে দেওয়া হয়, যিনি তাঁকে শৈবমঠ গোরখপুরের গোরক্ষমঠে নিয়ে আসেন। নানহু গোরক্ষপুরের সেন্ট অ্যান্ড্রুজ কলেজ (St. Andrews College) থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং লন টেনিস ও ফিল্ড হকিতে তাঁর আগ্রহের জন্য পরিচিত ছিলেন।
১৯১৮ সাল থেকে মোহনদাস গান্ধী ভারতের প্রথম প্রকৃত গণনেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। গান্ধীর হিন্দু ধর্মীয় প্রতীকের ব্যবহার এবং গো-রক্ষা, অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ ও স্বদেশী আদর্শের মতো বিষয়গুলো লক্ষ লক্ষ যুবককে কংগ্রেস দলের প্রতি আকৃষ্ট করেছিল। তরুণ নানহু সিং (দিগ্বিজয়নাথ)ও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। তিনি গোরক্ষমঠের দায়িত্বের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং ভবিষ্যতে শৈব নাথ গুরুপরম্পরার গোরক্ষমঠের মহন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিবেচিত হতেন। তবুও, গান্ধীকে নেতা হিসেবে ধরে নিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে পূর্ণোদ্যমে ঝাঁপিয়ে পড়া থেকে মহন্ত হবার বিষয়টি তাঁকে আটকাতে পারেনি। এই বিষয়েও তিনি শৈব নাথ মহন্ত ব্রহ্মনাথের আশীর্বাদ পেয়েছিলেন, কেননা এটি মাতৃভূমি ভারতের স্বাধীনতার বিষয় ছিল।
তারপর এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল যা স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস এবং তার সাথে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ইতিহাসও বদলে দিয়েছিল। আমাদের ভারতের ইতিহাস -এর পুস্তক থেকে আমরা এটিকে চৌরি চৌরা ঘটনা হিসেবে জেনে থাকি। গান্ধীর অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের ডাক সর্বত্র বিরাট সাফল্য লাভ করেছিল। দিগ্বিজয় নাথ জী (তখনও তিনি গোরক্ষমঠের মহন্ত হননি) ছিলেন সেই জনতার নেতা, যারা চৌরি চৌরার ইংরেজ শাসিত পুলিশস্টেশনে হামলা করেছিল ও দাহ্য পদার্থ দিয়ে পুলিশস্টেশন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। দ্বিগবিজয় নাথ জী সেই আন্দোলনের মাধ্যমে তৎকালীন সময়ের পুলিশের সাথে সংগ্রামী জড়িয়ে পড়েন।
২৩ জনেরও বেশি ব্রিটিশ পুলিশ নিহত হন এবং স্টেশনটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তে এমন কাণ্ড দেখে সাথে সাথে গান্ধীজী অনশন শুরু করেন এবং কংগ্রেস অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়।
গান্ধী জী ও কংগ্রেসের এমন নিরবভাবে ইংরেজদের পক্ষ নিয়ে ইংরেজদের সমর্থন করলে, ইংরেজরা উৎসাহিত হয়ে ব্রিটিশ সরকার বিক্ষোভকারী ভারতীয় অসহযোগ আন্দোলনকারীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালায়। শত শত বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ১৭০ জনেরও বেশি লোককে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। হ্যাঁ, আপনি ঠিকই পড়ছেন। ১৭০ জনেরও বেশি লোককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। যদিও আমরা আমাদের ইতিহাসের পাঠ্যবইতে এ সম্পর্কে কিছুই পড়ি না ! কারণ, এগুলি কংগ্রেসের শাসন কালে পাঠ্য পুস্তকে তোলাই হয়নি ।
দিগ্বিজয় নাথ জী দণ্ড থেকে রেহাই পেলেও, এই রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করতে তিনি তৎক্ষণাৎ এগিয়ে আসেন। তিনি গান্ধীর এমনভাবে পাল্টি খেয়ে ইংরেজদের পক্ষ নিয়ে কথা বলা ও ভারতীয়দের বিপদে ফেলবার মতো বিশ্বাসঘাতকতার লক্ষণ দেখে ভীষণ পরিমাণে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
অত্যন্ত এদিকে, পাঞ্জাব, যুক্তপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্র জুড়ে বিপ্লবীরা নিজেদের দল গঠন করতে শুরু করেন। গোরক্ষপুরের গোরক্ষনাথ শৈবমঠ এই বিপ্লবীদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে এবং নাথ যোগীদের বিস্তৃত যোগাযোগ মাধ্যম দেশজুড়ে ‘ইংরেজ পুলিশ’ -এর হাত থেকে লুকিয়ে থাকতে তাদের সাহায্য করে।
এদিকে গান্ধী রাজনৈতিক মতাদর্শের সব দিকেই নিজের জনসমর্থন গড়ে তোলার চেষ্টা শুরু করলেন। সাভারকর আন্দামানের সেলুলার জেলে বন্দী ছিলেন। কিছু বিপ্লবী সন্ন্যাসী হয়ে গেলেন এবং অনেকেই আত্মগোপন করলেন। একমাত্র এম.এন. রায়ই ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করেন, চৌরি চৌরা রায়কে ‘আইনসম্মত হত্যাকাণ্ড’ বলে আখ্যা দেন এবং কর্মীদের বিক্ষোভকারীদের সাথে হাত মেলাতে উদ্বুদ্ধ করেন। অবশেষে, এই বিক্ষোভের ফলে পুনরায় বিচার শুরু হয়, কিন্তু তারপরেও ২৩ জন ভারতীয়কে ফাঁসি দেওয়া হয় এবং বাকিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গয়ায় অনুষ্ঠিত পরবর্তী কংগ্রেস অধিবেশনে রামপ্রসাদ বিসমিল এবং অন্যান্য বিপ্লবীরা গান্ধীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। কংগ্রেস নরম (মধ্যপন্থী) এবং গরম (চরমপন্থী) - এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে, এবং মতিলাল নেহরুর নেতৃত্বে ধনীদের লবি স্বরাজ পার্টি গঠনে সহায়তা করে।
দিগ্বিজয় নাথ জী কংগ্রেসে চরমপন্থী ধারায় কাজ চালিয়ে যান, কিন্তু তাঁর মনোযোগ ও বন্ধুত্ব দুটি পক্ষের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে : একদিকে স্বদেশী ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ সমাজতন্ত্রের (অন্তত প্রাথমিকভাবে ইউরোপীয় সংস্করণ নয়) সমর্থক বিপ্লবীরা, এবং অন্যদিকে গো-সুরক্ষা ও অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের উপর জোর দেওয়া কট্টর হিন্দুত্ববাদী আদর্শ। বিপ্লবী সমাজতন্ত্রী (বিসমিল, শচিন্দ্রনাথ সান্যাল, চন্দ্রশেখর আজাদ, রাসবিহারী বসু প্রমুখ), স্বদেশী সমাজতন্ত্রী (রাম মনোহর লোহিয়া) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে এই শৈবযোগী দিগ্বিজয় নাথ জী কংগ্রেস থেকে উদ্ভূত বিভিন্ন ধারার সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে পরিচিত হন।
গান্ধী জী খিলাফত আন্দোলনের মাধ্যমে জিহাদি মুসলিম নেতাদের (যাদের জিন্নাহ ততদিন পর্যন্ত একঘরে করে রেখেছিলেন) জীবনরেখা দিয়েছিলেন, তিনি কংগ্রেসকে ক্রমাগত নানা দিকে ঠেলে দিচ্ছিলেন – যে দিকনির্দেশনা প্রায়শই কংগ্রেস সংগঠন এবং এর সাংবিধানিক দৃষ্টিভঙ্গির স্বার্থেই নির্ধারিত হতো।
১৯২০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে গান্ধীর জন্য পূর্ণ স্বরাজ প্রস্তাবটি বেশ তাড়াহুড়োর ছিল, কারণ তিনি যে সংগঠনটির নেতৃত্ব দিতে চেয়েছিলেন, সেটি তখনও বিভক্ত ছিল এবং তরুণদের অধিকাংশই ছিল চরমপন্থীর পক্ষে। অবশেষে ১৯২৯ সালে লাহোর কংগ্রেসে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। কিন্তু ততদিনে বিপ্লবী আন্দোলন স্তিমিত হয়ে আসছিল এবং বেশ কয়েকজন হিন্দুত্ববাদী নেতা গান্ধীর প্রতি সম্মান জানিয়ে নিজেদের অবস্থান নরম করেন, অথবা কেউ কেউ পুরোপুরিভাবে কংগ্রেস ত্যাগ করেন।
কংগ্রেসের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে হতাশ হয়ে যাওয়া তরুণদের সামনে একটি নূতন পথ দেখিয়েছিল — সাভারকরের নেতৃত্বাধীন ‘হিন্দু মহাসভা’ এবং কে.বি. হেডগেওয়ারের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ‘আরএসএস (RSS)’ এবং কমিউনিস্টরা অন্য বিকল্পটি তুলে ধরেছিল।
১৯৩০-এর দশকে দিগ্বিজয়নাথ গোরক্ষনাথের শৈবমঠের মহন্ত হন এবং ব্রিটিশরা বিপ্লবীদের এক এক করে নির্মূল করতে শুরু করে ; কখনও তাঁদের ধরে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, আবার কখনও চন্দ্রশেখর আজাদের মতো অতর্কিত হামলা চালিয়ে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়। আর ১৯৩৫-৩৭ সালের মধ্যে গান্ধী কংগ্রেস দলের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ লাভ করেন এবং নিশ্চিত করেন যে ব্রিটিশরা কেবল তাঁর সঙ্গেই কাজ করবে এবং ব্রিটিশদের চোখে গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস ছিল — ভারতের হিন্দু প্রতিনিধি।
শৈবযোগী দিগ্বিজয় নাথ জী নিজের মতো সমান ভাবনাকারী অনান্যদের সঙ্গে হাত মেলান। সাভারকর আন্দামান থেকে ফিরে রত্নগিরিতে সীমাবদ্ধ থাকায়, দিগ্বিজয় নাথ জী ‘হিন্দু মহাসভা’ -তে যোগ দেন এবং যুক্তপ্রদেশে -এর প্রধান হন। তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও, শৈব গোরক্ষমঠের বিষয়গুলি তাঁর বেশি সময় নিতে শুরু করে।
নাথ শৈব পরম্পরার গোরক্ষনাথ মঠের সবচেয়ে বড় উৎসব হলো - মকর সংক্রান্তি। এই উৎসবের অংশ হিসেবে মহন্ত দিগ্বিজয় নাথ জী একটি প্রবচন দেন। সংক্রান্তির পরের দিনগুলি সাধারণত ‘সন্ত সম্মেলন’ এবং ‘হিন্দু মহাসভা’ সম্মেলনে পরিপূর্ণ থাকে। আর তাই, ১৯৪৮ সালের জানুয়ারিতে, সংক্রান্তির ঠিক পরেই, মহন্ত দিগ্বিজয়নাথ গোরখপুরে হিন্দু মহাসভা কর্মীদের এক বিশাল সমাবেশে ভাষণ দেন এবং হিন্দুবিরোধী গান্ধীকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য শ্রোতাদের প্রতি একটি সাধারণ আহ্বান জানান।
মহন্ত দিগ্বিজয় নাথ শৈবাচার্য জীর ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রাজনৈতিক জীবনে এক তিক্ত সংগ্রামের অভিজ্ঞতার পর, অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে এই বিবৃতিটি দেওয়া হয়েছিল। এই সংগ্রামে তিনি তাঁর শত শত বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক বন্ধু এবং সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু প্রত্যক্ষ করেছেন — যা ছিল, তাঁর মতে, এগুলি জন্য দায়ী গান্ধীর চক্রান্ত। এর সাথে মহাত্মা স্বয়ং একজন হিন্দুত্ববাদী (গান্ধী ১৯১৫ সালে আর্যসমাজী স্বামী শ্রদ্ধানন্দের সাথে হিন্দু মহাসভা প্রতিষ্ঠাকালে উপস্থিত ছিলেন) -র সাথে থেকে হিন্দুত্ববাদী থেকে এমন একজন হিন্দুসনাতনের বিরোধী তথা শত্রু তে রূপান্তরিত হয়েছিলেন, যিনি হিন্দুদের ক্ষতির জন্য তাঁর বিপুল জনসমর্থনের শক্তি প্রভাব ব্যবহার করতে দ্বিধা করতেন না। গান্ধীজীর কারণে দেশভাগের সাথে সাথে সনাতনীদের দেখা অখণ্ড ভারতের স্বপ্ন ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল।
27 জানুয়ারি ১৯৪৮ সালে গান্ধীর হত্যার তিন দিন আগে একটি নথির সূত্র “কমিশন অফ ইনকোয়ারি ইন টু কন্সপিরেসি টু মার্ডার মহাত্মা গান্ধী” অনুযায়ী —
দ্বিগবিজয় নাথজী দিল্লীর কন্ট প্লেসে এক হিন্দু সভার কনফারেন্স আয়োজন করেছিলেন। বলা হয় যেখানে তিনি তার অনুসারীদের মহাত্মা গান্ধী কে হত্যা এবং অনান্য হিন্দু বিরোধী চক্রান্তকে নির্মূল করবার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন ও প্রস্তাবনা দেন। কারণ গান্ধীজী ছিলেন হিন্দুবিরোধী নীতি (Anti Hindu policies) - এর মাধ্যম এবং এই অনুষ্ঠানের তিনদিন বাদেই মহাত্মা গান্ধীজী বন্দুকের গুলিতে বিদ্ধ হয়ে মারা যান, জনশ্রুতি হল - এই বন্দুক জারি করা হয়েছিল গোরক্ষপুর থেকে।
গান্ধীজীকে হত্যার ষড়যন্ত্রের বিষয়ে যোগী দিগ্বিজয় নাথ শৈবাচার্য জী জানতেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশ তাঁকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে নেয়। দিগ্বিজয় নাথ জী ৯ মাস কারাগারে কাটান এবং এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তাঁকে যুক্ত করবার মতো কোনো উপযুক্ত প্রমাণ না থাকায় তিনি মুক্তি পান। কিন্তু এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাঁর নৈতিক সমর্থন এবং শৈব নাথ-অনুসারীদের বিশাল যোগাযোগ মাধ্যম - এই ষড়যন্ত্রকে সফল করতে সাহায্য করে থাকতে পারে। সর্বোপরি, তিনি ছিলেন যুক্তপ্রদেশের তৎকালীন হিন্দু মহাসভার সভাপতি।
গণতান্ত্রিক ভারতের এই নির্বাচনী রাজনীতিতে এমনভাবে সাক্ষাৎ শৈবযোগীদের অংশগ্রহণ যা আরো একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত। যার ফলে হিন্দু সনাতনী জাতীয়তাবাদের ভাষা উচ্চারিত হতে পেরেছে।
কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর মহন্ত দিগ্বিজয় নাথ শৈবাচার্য জী তাঁর মহন্তের দায়িত্ব পুনরায় শুরু করেন, কিন্তু গোপনে হিন্দু মহাসভাকে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনাও করেন। গান্ধীর হত্যাকাণ্ডের পর, দেশের সমস্ত হিন্দুত্ববাদী সংগঠনকে কর্তৃপক্ষ ও জনসাধারণ হয় নিষিদ্ধ করেছিল অথবা সন্দেহ বা ঘৃণার চোখে দেখত। নাথশৈবপন্থীদের বৃহত্তর ‘সনাতন ঐক্য’ গড়ে তোলার উদ্দেশ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য মহন্ত দিগ্বিজয় নাথ জী একটি প্রতীকী উদ্যোগের প্রয়োজন বোধ করেন, তিনি অযোধ্যায় রাম জন্মভূমির দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়টির কথা মনে মনে ভাবলেন। আর তাই, ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি তাঁর সমর্থকদের নিয়ে অযোধ্যায় যাত্রা করেন, সেখানে পৌঁছে রামমন্দিরের দেওয়ালের উপরে বাবরের বানানো অবৈধ মসজিদ বাবরি মসজিদের তালা ভেঙে ফেলেন, সেগানে পরমশৈব রামলালার মূর্তি স্থাপন করেন এবং সেখানে নিয়মিত পূজা শুরু করেন এবং হিন্দু মহাসভা তাকে সঙ্গ দিয়ে ৯ দিন ধরে বাল্মিকী রামায়ণ ইত্যাদি রামচরিত্র পাঠ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই আন্দোলনে প্রতিনিধিত্বকারী মহাযশস্বী শৈবযোগী দিগ্বিজয়নাথ জীর সাথে বাবা রাঘব ও স্মার্ত স্বামী করপাত্রী জী এসে সঙ্গ দেন।
এই সনাতনী প্রতীকী কর্মসূচি করার মাধ্যমে মহন্ত দিগ্বিজয় নাথ শৈবাচার্য জী কেবল শৈবমঠে তাঁর পূর্বসূরি নাথশৈবাচার্যদের দ্বারা অর্পিত লক্ষ্যের পুনরুজ্জীবনের জন্যই ভিত্তি স্থাপন করছিলেন এমনটা নয়, বরং এক অর্থে, তিনি কংগ্রেসের মধ্যে থাকা হিন্দুত্ববাদের প্রতি সমর্থক গোষ্ঠীর জনস্বীকৃতি অর্জনের দীর্ঘ যাত্রা শুরু করছিলেন।
সমাজতান্ত্রিক শক্তিগুলি কমিউনিস্ট দলগুলিতে যোগ দিয়েছিল অথবা লোহিয়া পথ অনুসরণ করেছিল। ১৯৫০-এর দশকের গোড়ার দিকে জন সংঘ গঠিত হওয়ার আগে পর্যন্ত হিন্দুত্ববাদীদের প্রতিনিধিত্বকারী কোনো প্রকৃত রাজনৈতিক দল আকার ধারণ করেনি। তবে শৈবযোগী দিগ্বিজয়নাথ জী হিন্দু মহাসভার সঙ্গেই ছিলেন।
১৯৫০ সালে দলের সাধারণ সম্পাদক কট্টর হিন্দু শৈবমহন্ত দিগ্বিজয় নাথ জী বলেছিলেন যে, হিন্দু মহাসভা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে এটি মুসলমানদের ৫ থেকে ১০ বছরের জন্য ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে। যে সময়টি এটি হবে তাদের জন্য সরকারকে বোঝানো যে তাদের স্বার্থ এবং অনুভূতি ভারতপন্থী ।
রাষ্ট্রপতি এম.বি. খারে ঘোষণা করেছিলেন যে ‘মুসলিমরা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক’ হিসেবে বিবেচিত হবে । দেশের রাজনৈতিক জীবনে তাদের কোনো অংশে অনুমতি দেওয়া উচিত নয় । সংবিধানে এ পরিবর্তন আনতে হবে ।
1951 সালে জয়পুরের অধিবেশনে দ্বিগবিজয় নাথজীর নেতৃত্বে হিন্দু মহাসভা হিন্দু রাজ্যের জন্য বলেছিলেন, তিনি আরো বলেন মহাসভা ক্ষমতায় এলে তারা মুসলমানদের ভোটের অধিকার কেড়ে নেবেন ।
মহাসভার সংবিধান সংশোধন করা হয় বিশেষ অধিবেশনে জয়পুর 1951 সালে দলকে “হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা”-র লক্ষ্য অর্পণ করে ।
হিন্দু সাংস্কৃতিক জীবন সরকারি স্বীকৃতি পেতে হয়েছিল - এতে হিন্দু উৎসবের জন্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং বিদ্যালয়ে সংস্কৃত শিক্ষা করবার কথা রয়েছে। এই জাতীয় প্রস্তাবগুলি রাষ্ট্রের কাছে আরো ক্ষমতা হস্তান্তরকে বোঝায়, একটি লক্ষ্য যা স্বাধীনতার আগে দলের আদর্শের বৈশিষ্ট্য ছিল। দলটি তার বিরুদ্ধে দমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আশঙ্কায় মুসলমানদের জন্য যে সাংবিধানিক বিধানগুলি প্রণয়ন করেছিল, তা সরল ভাষায় উচ্চারণ করেনি ।
__________________________________________________
হিন্দু মহাসভায় শৈবমহন্ত দিগ্বিজয় নাথজীর নেতৃত্বে দশটি দাবি পেশ করা হয়েছিল। মহাসভা নতুন জাতি রাষ্ট্রের জন্য প্রস্তাব করেছিল । এই পিটিশনটি দেয় সবার সদস্যরা, যারা নিজেদের “কাউন্সিল অফ অ্যাকশন” নামে অভিহিত করেছিল। তাতে এমন কিছু নিয়ম ও বিধান ছিল যা ভারতীয় বিভিন্ন পর্যায়েতে মৌলবাদী মুসলমানদের অংশগ্রহণ থেকে বাদ দেয় এবং যাতে নবগঠিত ভারতের বৈষম্য কমে । যে লিস্ট ছিল আশ্চর্য করে দেওয়া এবং যা UP (উত্তর প্রদেশ)-এর জেলা হিন্দু মহাসভা দ্বারা রেকর্ড করা হয়েছে।
🔶 দশটি দাবীর নিম্নলিখিত বর্ণনা :
(i) পুলিশ বিভাগে হিন্দু ও মুসলমানদের সংখ্যা অবিলম্বে প্রদেশের জনসংখ্যার শক্তির অনুপাতে মুসলমানদের সংখ্যা হ্রাস এবং হিন্দুদের নতুন নিয়োগের মাধ্যমে আনতে হবে । সাধারণভাবে পুলিশ বিভাগে মুসলমানদের প্রাধান্যের সাথে জননিরাপত্তা আইন এবং দাঙ্গা বিরোধী।
(ii) সশস্ত্র পুলিশ ও হোমগার্ড একচেটিয়া ভাবে হিন্দুদের দ্বারা পরিচালিত হওয়া উচিত।
(iii) আদালত, পুলিশ বিভাগ এবং অন্যান্য বিভাগে অফিসিয়াল ভাষা হিন্দি করা হবে ।
(iv) যে সমস্ত পথ থেকে মুসলমানদের অপসারণ করা হবে সেই সরকারি পরিষেবার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে হিন্দুদের দেওয়া হবে ।
(v) প্রদেশের সমস্ত প্রাপ্তবয়স্কদের বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য আদেশ জারি করা হবে যাতে জরুরী কালীন পরিস্থিতিতে তাদের পরিষেবা গুলিকে নিয়োগ করা যাবে ।
(vi) অস্ত্র আইনটি এমনভাবে সংশোধন করতে হবে যাতে UP -র Legislative Assembly -র প্রতিটি ভোটদাতা অধিকার পায় অস্ত্র ধারণ করতে ।
(vii) সরাসরি দপ্তরের পোর্টফোলিও একজন হিন্দুর হাতেই ব্যস্ত করা উচিত ।
(Viii) সরকারকে পাঞ্জাব ও NWFP থেকে স্থায়ীভাবে উদ্বাস্তুদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য একটি প্রকল্প চালু করা উচিত এবং তা অবিলম্বে কার্যকর করা ।
(ix) সরকারি কর্মচারীদের RSS -এ অংশগ্রহণের নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে তুলে নেওয়া উচিত ।
(x) প্রদেশে গো হত্যা নিষিদ্ধ ।
নচেৎ, পুলিশ বিভাগে মুসলমানদের প্রাধান্য থাকার ফলে Public-Safety Act এবং Anti-riot Ordinance-এর প্রয়োগে মুসলমানদের দুষ্ট বা উচ্ছৃঙ্খল বিষয় গুলিকে তারা অক্ষত রাখবে, অথচ নিরপরাধ হিন্দুদের উপর কঠোরভাবে দমন নেমে আসবে। এর ফলে হিন্দুদের পাঞ্জাব ও বাংলায় যে ধরনের দৃশ্য দেখা গিয়েছিল, সেইরূপ পরিস্থিতির সাক্ষী হতে হবে। — এমনটিই ছিল সেই প্রস্তাব অভিযানের কারণ। যাতে হিন্দু সনাতনীদের জীবন সুরক্ষিত হয়। কেননা, মুসলিমেরা চিরকাল নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করেছে। তাই এখন হিন্দু সনাতনীদের স্বার্থকেও ভাবতে হবে বলে দাবী করা হয়েছিল।
ফৈজাবাদের স্থানীয় কংগ্রেস সেক্রেটারি যিনি এই অভিযানের বিরোধিতা করেন তথা যখন সম্পূরানন্দ এবং ইউনাইটেড প্রদেশ সরকার এই দশটি দাবি প্রত্যাখ্যান করে দেন, তখন মহাসভা হিন্দুদের সম্মানের প্রতি (অবজ্ঞা করার কারণে) প্রতিশোধের জন্য কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে শৈবমহন্ত দিগ্বিজয় নাথজী একটি প্রতিরোধগড়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া প্রদর্শনের জন্য “সরাসরি পদক্ষেপ” (Direct Action) আন্দোলন শুরু করে বিক্ষোভ দেখান।
এইভাবে হিন্দু মহাসভার পদে নাম লেখান গোরক্ষপুরের নাথশৈব মহন্ত দিগ্বিজয় নাথ জী। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা “সঙ্গ পরিবার” - এর অন্তর্গত ছাড়াও হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সাথে আরও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিল।
1965 সালের 22-24 জানুয়ারি প্রয়াগে অনুষ্ঠিত হিন্দু মহাসভার প্রথম "আন্তর্জতিক হিন্দু সম্মেলনে মোহন্ত দিগ্বিজয় নাথজী কে অন্তর্ভুক্ত করেছিল।
২৫ শে সেপ্টেম্বর ১৯৬৬ -এ প্রভু দত্ত ব্রহ্মচারীর নেতৃত্বে একটি সর্বদলীয় গোরক্ষ মহাঅভিযান সমিতি (গরু রক্ষার জন্য মহান সর্বদলীয় প্রচারণ সমিতি) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, ৭ই নভেম্বর ১০,০০০০ জন অংশগ্রহণকারী সমন্বয়ে এক বিশাল সত্যাগ্রহ অনুষ্ঠিত হবে এবং অবিলম্বে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো না হলে গণ অনশন ডেকে ধর্মঘট হবে।
SGMS -এর স্টিয়ারিং গ্রুপে গোলওয়াকার সহ VHP এবং RSS -এর সদস্যরা ছিলেন। তবে congressman(যেমন - শেঠ গোবিন্দ দাস) এবং ভারত সাধু সমাজ, হিন্দু মহাসভা (দিগ্বিজয় নাথ) -এর প্রতিনিধি ছিলেন । এছাড়াও সর্বপরি যিনি ছিলেন তিনি হলেন রাম রাজ্য পরিষদ (স্বামী করপাত্রীজী এবং পুরীর শংকরাচার্য)
যৌগিক জনসংখ্যা, সাংস্কৃতিক প্রভাব সহ বাবা দিগ্বিজয় নাথ শৈবাচার্যের অধীনে গোরক্ষনাথ মঠ সম্মানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং অভিজাতদের নেতৃত্বে গোরক্ষপুর শহরে অগণিত সনাতনীগণ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এর মধ্যে হিন্দি প্রচার, সামাজিক ও সংস্কার এবং শিক্ষার পাঠশালা (দেশীয় ভাষাবিদ্যালয়) এবং গোশালা নির্মাণের মাধ্যমে ‘হিন্দু সংস্কৃতি’ পুনরুজ্জীবিত করতে যাওয়া সমিতিগুলির অন্তর্ভুক্ত ছিল । বাবা দ্বিগবিজয় নাথ RSS এবং হিন্দু মহাসভার সাথে ঘনিষ্টভাবে জড়িত । স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এবং অভিজাত দের সাথে বেশ ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন । তাদের মধ্যে ছিলেন হনুমান প্রসাদ পোদ্দার, গোরক্ষপুর গীতাপ্রেসের সম্পাদক। যে প্রকাশনী বহুল পঠিত ও হিন্দুবিষয়ক সাময়িকী, যা কল্যান (নামক ট্রাস্ট) প্রকাশ করে থাকে।
এককথায় বলতে গেলে — গোরক্ষপুর শৈবমঠের মহন্ত দিগ্বিজয় নাথ জী আরো অনেক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন যার উদ্দেশ্য ছিল, হিন্দি, হিন্দু সনাতনধর্ম ও ভারতের রক্ষা করা। তিনি অনেক পাঠশালা ও গোশালাও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
এমনভাবে সনাতন ধর্মের উত্থানের জন্য তিনি রাজনৈতিক ভাবে ১৯৬৭ সালে গোরক্ষপুরের সাংসদ নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৯ সালে তাঁর মৃত্যুর সময় হয়তো জন সংঘের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫টি লোকসভা আসন জয়ের সন্তুষ্টি লাভ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর রাম জন্মভূমি মন্দিরের আন্দোলন সফল করতে তারই উত্তরসূরী অবৈদ্যনাথ জী উপস্থিত হন, তিনি ১৯৬৯ সালে গোরক্ষপুর গোরক্ষ মঠের শৈবমহন্ত হয়েছিলেন, ১৯৯২ সালে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মূল সক্রিয়দের মধ্যে প্রধান হোতা তিনিই ছিলেন।
__________________________________________________
মহন্ত অবৈদ্যনাথ — রাজীব গান্ধীর আমলে রাম জন্মভূমি আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন, যার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটেছিল তীর্থস্থানে শিলান্যাস অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। তাঁর আমলেই গোরক্ষনাথ পীঠ অবশেষে হিন্দু মহাসভার প্রতি সমর্থন ত্যাগ করে এবং সম্পূর্ণরূপে বিজেপি (BJP - Bhartiya Janata Party) কে গ্রহণ করে। তিনি ভিএইচপি-কে রাম জন্মভূমি আন্দোলনের দায়িত্ব নেওয়ার অনুমতিও দিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, যোগী অবৈদ্যনাথ গোরক্ষপুর লোকসভা আসন থেকে চার বার জয়ী হয়েছিলেন — একবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে, একবার হিন্দু মহাসভার প্রার্থী হিসেবে এবং তারপর দুইবার বিজেপি প্রার্থী হিসেবে। তাঁর উত্তরসূরি যোগী আদিত্যনাথ গোরক্ষপুর লোকসভা আসন থেকে একটানা পাঁচ বার নির্বাচিত হয়েছেন এবং এখন বর্তমানে উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, ‘মন্দির বহি বনায়েঙ্গে’ অর্থাৎ ‘মন্দির সেখানেই বানাবো’ (আমরা সেখানেই (বিতর্কিত স্থানে) মন্দির নির্মাণ করবো) এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে। তখন থেকেই সেখানকার মুসলিম বিরোধীদের উস্কানিদাতা হিসাবে তিনি সমগ্র রাজ্যে পরিচিত।
কিন্তু এই যোগী আদিত্যনাথের পেছনে রয়েছে নাথ শৈবযোগীদের লক্ষ্যের প্রতি অন্তত ৩০০ বছরেরও বেশি পুরোনো ঐতিহ্য ও অঙ্গীকার, এবং বিশেষ করে গোরক্ষনাথ মঠের লক্ষ্যের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা — যা হলো অযোধ্যায় তাঁদের প্রিয় রামলালা মন্দির পুনর্নির্মাণ করা, ধার্মিক জাতীয়তাবাদের ভিত্তি সুদৃঢ় করা এবং ঐক্যহীন হিন্দু সনাতনী সমাজের ‘সনাতন ঐক্য’ স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করা।
আর সেই দিগ্বিজয় নাথ শৈবাচার্য জীর দ্বারা উদ্যোগ নেওয়া রামজন্মভূমিকে পুনর্প্রতিষ্ঠিত করবার প্রতিজ্ঞা তথা স্বপ্ন যোগী আদিত্যনাথ জী নিজের শাসনকালে অযোধ্যার রাম মন্দির ২২শে জানুয়ারি, ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ঐ দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে রামলালার ‘প্রাণ প্রতিষ্ঠা’ ও মন্দিরটির উদ্বোধন সম্পন্ন হয়। এভাবেই শৈব আচার্যদের নিঃস্বার্থ বলিদানের অবদানের ফলে সনাতনী জনসাধারণের ধর্মের মান-মর্যাদা রক্ষা হয়ে চলেছে। এমনকি শৈবপরম্পরির পক্ষ থেকে এত বড় অসম্ভবকে সম্ভব করেও শৈবাচার্যগণ অযোধ্যার রামমন্দিরকে রামভক্ত রামায়েত বৈষ্ণবদেরই হাতে তুলে দিয়েছেন। এটিই শৈবদের উদারতার মহানতা। যারা এই মহানতার আদর্শকে ধারণ করেছে একমাত্র তারাই অনুভব করবেন যে, শৈবরা কেন নিজেদের স্বার্থত্যাগ করে অন্যদের কল্যাণের জন্য অন্যের অধিকারের জন্য লড়াই করে, তার কারণ এটিই শিবশাসনের নীতি। পরমেশ্বর শিব বিশ্ব সংসারের কল্যাণের জন্য স্বয়ং বিষ পান করে অন্যদের অমৃত পানের সুযোগ করে দিয়েছেন, তাই সেই শিবের শাসনের আদর্শকে শৈবরাও ধারণ করেন, নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে দেশ ও জনগণের কল্যাণের জন্য কার্য করেন।
__________________________________________________
🙏 উপসংহার :
পরমেশ্বর আদিনাথ সদাশিবের জ্যোতি অবতার বালক রূপে গোরক্ষনাথ জী প্রকট হয়েছিলেন। পরমেশ্বর শিবের এই ‘শৈব নাথ পরম্পরা’-র প্রধান কেন্দ্র হল গোরক্ষপুর গোরক্ষ মঠমন্দির। এই মঠের মোহন্ত ছিলেন যোগী দিগ্বিজয় নাথ জী। শৈবরাই যুগে যুগে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেছেন, শৈবদের কারণেই আজ সনাতনীরা জয় শ্রীরাম বলে আনন্দে আত্মহারা হন, শৈবদের আত্মত্যাগ বীরত্ব ও বলিদানেই আজ সমগ্র সনাতনী শ্রীরামচন্দ্রের রামরাজ্য নিয়ে স্বপ্ন দেখেন। এটিই শৈবদের একতার উদারতা ও ধর্মের প্রতি পূর্ণ নিষ্ঠা। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল, বর্তমানের সনাতনী সমাজ শৈবপরম্পরার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারেনি, যদি শৈবপরম্পরায় বাহিত হওয়া শিবশাসন কে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবার উদ্দেশ্যে সনাতনীরা একত্রিত হন তাহলে সকল ভেদাভেদ দূর হয়ে সনাতন ঐক্য স্থাপন হবে।
__________________________________________________
🚩 লেখনীতে : শিবালয় প্রতিষ্ঠাতা শিবদ্বারাধীশাধ্যক্ষ আচার্যপরমাধিকারী শ্রীগুরু নন্দীনাথ শৈব আচার্যদেব
🚩 পরম্পরা : মহাপাশুপত অবধূত শৈব গুরু পরম্পরা
©️ কপিরাইট ও প্রচারে : Shivalaya 🔥
শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তেতরাম্ 🚩
ॐ নমঃ পার্বতীপতয়ে হর হর মহাদেব 🚩
#হিন্দুধর্ম #সনাতনধর্ম #শিবালয় #shiva #শিব #পরমেশ্বরশিব #ভগবান #পরমেশ্বরভগবানশিব #Shivalaya #sanatandharma #mahadev #shankar #শৈবধর্ম #শিবশাসন #শৈব #শৈববিপ্লব #শৈবান্দোলন #দিগ্বিজয়নাথ #নাথশৈবপরম্পরা #শৈবপরম্পরা #শৈবইতিহাসওঐতিহ্যসংস্কৃতি #সনাতনধর্মেরইতিহাস #ইতিহাস #রামমন্দির #শ্রীরাম #জয়শ্রীরাম #রামরাজ্য


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন