গোমাতার মাহাত্ম্য এবং গো সেবার ফল



🕉️ গোমাতার মহিমা এবং গো সেবার ফল 🐄

_______________________________________________
🔰 ভূমিকা : সনাতন ধর্মে গোমাতার মাহাত্ম্য এবং গোমাতার সেবার বর্ণনা বাষয়ে এই প্রবন্ধে আলোচনা করা হল। তার‌ই সাথে গোলোকের বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।_______________________________________________

🕉️ গোমাতার মহিমা এবং গো সেবার ফল 🕉️


1️⃣▶️

[গোমাতার মাহাত্ম্য ও গো অর্চনার ফল — ]

গাবঃ পবিত্রমতুলং গাবো মঙ্গলমুত্তমম্ ।

যাসাং খুরোত্থিতো রেণুর্গঙ্গাবারিসমো ভবেৎ ॥ ৭৭ ॥

শৃঙ্গাগ্রে সর্বতীর্থানি খুরাগ্রে সর্বপর্বতাঃ ।

শৃঙ্গয়োরন্তরে যস্যাঃ সাক্ষাদ্গৌরী মহেশ্বরী ॥ ৭৮ ॥

দীয়মানাঞ্চ গাং দৃষ্ট্বা নৃত্যন্তি প্রপিতামহাঃ ।

প্রীয়ন্তে ঋষয়ঃ সর্বে তুষ্যামো দৈবতৈঃ সহ ॥ ৭৯ ॥

রোরূষন্তে চ পাপানি দারিদ্র্যব্যাধিভিঃ সহ ।

ধাত্র্যঃ সর্বস্য লোকস্য গাবো মাতেব সর্বথা ॥ ৮০ ॥

গবাং স্তুত্বা নমস্কৃত্য কৃত্বা চৈব প্রদক্ষিণম্ । 

প্রদক্ষিণীকৃতা তেন সপ্তদ্বীপা বসুন্ধর ॥ ৮১ ॥

[স্কন্দমহাপুরাণ/কাশীখণ্ড/পূর্বার্দ্ধখণ্ড/২ অধ্যায়/৭৭-৮১ নং শ্লোক]

✅ অর্থ :

[গোমাতার মাহাত্ম্য ও গো অর্চনার ফল — ]

গোগণ (গাভীগণ) অতুলনীয় পবিত্র ; গোগণ পরম মঙ্গলস্বরূপ, তাদের খুর দ্বারা উত্থিত রেণু (মাটির ধূলিকণা) গঙ্গাজলের তুল্য ॥ ৭৭ ॥

গাভীর শিং -এর অগ্রে সকল তীর্থ, খুরের অগ্রে যাবতীয় যেন পর্বত অবস্থিত এবং শিং দুটির মধ্যস্থলে মহেশ্বরী গৌরী (সহিত শিব) অবস্থান করেন ॥ ৭৮ ॥

গো-দান করবার দৃশ্য দর্শন করে দাতার প্রপিতামহ-গণ নৃত্য করে থাকেন, যাবতীয় ঋষিগণ প্রীত হন এবং দেবগণের সহিত আমরা (ব্রহ্মাদি ত্রিদেব) তুষ্ট হই ॥ ৭৯ ॥

আর দারিদ্র্য ও ব্যাধিদের সহিত পাপসমূহ যেন অতিশয় রোদন করে। গোরুই সমস্ত লোকের ধাত্রী এবং সর্বপ্রকারে মাতৃতুল্যা (মাতাসম) ॥ ৮০ ॥

যে ব্যক্তি গাভীদের স্তব, নমস্কার ও প্রদক্ষিণ করে, সেই ব্যক্তির সপ্তদ্বীপা বসুন্ধরা প্রদক্ষিণ করার ফল লাভ হয় ॥ ৮১ ॥


2️⃣▶️

[গোমাতার কাছে কল্যাণ প্রার্থনা মন্ত্র — ]

“যা লক্ষ্মীঃ সর্বভূতানাং যা বেদেষু ব্যবস্থিতা ।

ধেনুরূপেণ সা দেবী মম পাপং ব্যপোহতু ॥ ৮২ ॥

বিষ্ণোর্বক্ষসি যা লক্ষ্মীঃ স্বাহা চৈব বিভাবসোঃ ।

স্বধা যা পিতৃমুখ্যাণাং সা ধেনুর্বরদা সদা ॥ ৮৩ ॥

গোময়ং যমুনা সাক্ষাদ্‌ গোমূত্রং নর্মদা শুভা ।

গঙ্গা ক্ষীরন্তু যাসাং বৈ কিং পবিত্রমতঃ পরম্ ॥ ৮৪ ॥

বামঙ্গেষু তিষ্ঠন্তি ভুবনানি চতুর্দশ ।

যস্মাত্তস্মাৎ শিবং যে স্থাদিহ লোকে পরত্র চ ॥ ৮৫ ॥”

ইতি মন্ত্রং সমুচ্চার্য্য ধেনূর্ধ্বা ধেনুমেব বা ।

যো দদ্যাদদ্বিজবৰ্য্যায় স সর্বেভ্যো বিশিষ্যতে ॥ ৮৬

[স্কন্দমহাপুরাণ/কাশীখণ্ড/পূর্বার্দ্ধখণ্ড/২ অধ্যায়/৮২-৮৬ নং শ্লোক]

✅ অর্থ :

[গোমাতার কাছে কল্যাণ প্রার্থনা মন্ত্রের অর্থ — ]

“যিনি সর্বভূতের লক্ষ্মীস্বরূপা এবং যিনি দেবগণমধ্যে অবস্থিতা, সেই দেবী ধেনুরূপে আমার পাপ বিনাশ করুন ॥ ৮২ ॥

যিনি বিষ্ণুর বক্ষঃস্থলবাসিনী লক্ষ্মীরূপা, যিনি অগ্নির স্বাহারূপা এবং পিতৃমুখ্যগণের স্বধাস্বরূপা, সেই ধেনু সতত আমাদের পক্ষে বরপ্রদায়িনী হোন ॥ ৮৩ ॥


যাঁদের গোময় যমুনা তুল্য, মূত্র নর্মদাসদৃশ এবং দুগ্ধ গঙ্গার সমান, তাঁদের চেয়ে আর পবিত্র কি আছে ? ॥ ৮৪ ॥

যেহেতু গো সকলের অঙ্গে চতুর্দশ ভুবন অবস্থান করে, অতএব গোসমূহ হতে ইহু-পরলোকে আমার শুভ হোক ! ॥ ৮৫ ॥”
    — যে ব্যক্তি এই মন্ত্র উচ্চারণ করে তথা ধেনু বা অপর প্রকার গো, উত্তম ব্রাহ্মণকে দান করেন, তিনি সর্ব্বাপেক্ষা বিশিষ্ট পুণ্যবান ॥ ৮৬ ॥


3️⃣▶️ 

ময়া চ বিষ্ণুনা সার্দ্ধং শিবেন চ মহর্ষিভিঃ ।

বিচার্য্য গোগুণান্নিত্যং প্রার্থনেতি বিধীয়তে ॥ ৮৭ ॥

[গোমাতার কাছে প্রার্থনা মন্ত্র — ]

“গাবো মে পুরতঃ সন্তু গাবো মে সন্তু পৃষ্ঠতঃ ।

গাবো মে হৃদয়ে সন্তু গবাং মধ্যে বসাম্যহম্ ॥ ৮৮ ॥”

[স্কন্দমহাপুরাণ/কাশীখণ্ড/পূর্বার্দ্ধখণ্ড/২ অধ্যায়/৮৭-৮৮ নং শ্লোক]

✅ অর্থ : 

বিষ্ণু, শিব, মহর্ষিগণ এবং আমি(ব্রহ্মা), গোরুর গুণাবলী বিচার করে সবার জন্য এই প্রার্থনা বিধান করে দিয়েছি — ॥ ৮৭ ॥
[গোমাতার কাছে প্রার্থনা মন্ত্রের অর্থ — ]
“গোগণ, আমার সামনে অবস্থান করুন, গোগণ আমার পৃষ্ঠদেশে অবস্থিতা হোন ; গোগণ আমার হৃদয়ে থাকুন ; আমি গোগণের মধ্যে বাস করি। ॥ ৮৮ ॥”

4️⃣▶️

নীরাজয়তি যোঽঙ্গানি গবাং পুচ্ছেন ভাগ্যবান্ । 

অলক্ষ্মীঃ কলহা রোগাস্তস্যাঙ্গাদ্যান্তি দূরতঃ ॥ ৮৯ ॥

[স্কন্দমহাপুরাণ/কাশীখণ্ড/পূর্বার্দ্ধখণ্ড/২ অধ্যায়/৮৯ নং শ্লোক]

✅ অর্থ : যে ভাগ্যবান ব্যক্তি নিজের দেহের সর্বত্র স্থানে গো-লাঙ্গুল (পুচ্ছ/লেজ) দ্বারা মার্জনা করে। অলক্ষ্মী, কলহ ও রোগ সকল তার অঙ্গ হতে দূরে গমন করে ॥ ৮৯ ॥


5️⃣▶️

[গোমাতাদের বসবাস করবার দিব্যস্থান নির্ণয় — ]

মম লোকাৎ পরো লোকো বৈকুণ্ঠ ইতি গীয়তে ।

তস্যোপরিষ্টাৎ কৌমার উমালোকস্ততঃ পরম্ ॥ ৯১ ॥

শিবলোকস্তদুপরি গোলোকস্তৎসমীপতঃ ।

গোমাতরঃ সুশীলাঢ্যাস্তত্র সন্তি শিবপ্রিয়াঃ ॥ ৯২ ॥ 

গবাং শুশ্রূষকা যে চ গোপ্রদা যে চ মানবাঃ । 

এষামন্ততমে লোকে তে স্যুঃ সর্বসমৃদ্ধয়ঃ ॥ ৯৩ ॥

[স্কন্দমহাপুরাণ/কাশীখণ্ড/পূর্বার্দ্ধখণ্ড/২ অধ্যায়/৯১-৯৩ নং শ্লোক]

✅ অর্থ : 

[গোমাতাদের বসবাস করবার দিব্যস্থান নির্ণয় — ]


আমার (ব্রহ্মার) লোকের উপরে বৈকুণ্ঠ লোক (বিষ্ণুলোক), এটি কথিত হয়েছে। কৌমার লোক তার চেয়ে উর্দ্ধে ; উমালোক কৌমার লোক অপেক্ষা উচ্চ ॥ ৯১ ॥

তার‌ও উপরে শিবলোক অবস্থিত ; গোলোক হল শিবলোকের সমীপবর্তী , সেখানে শিবের অত্যন্ত প্রিয় সুশীলা প্রভৃতি গো-মাতৃগণ অবস্থিতি করেন ॥ ৯২ ॥
যারা গোগণকে শুশ্রূষা করতে থাকেন বা যিনি গো-দানকরী দাতা ব্যক্তি, সেই সকল মনুষ্য এই লোকসমূহের কোন একটি লোকে সর্বসমৃদ্ধিসম্পন্ন হয়ে অবস্থান করে থাকেন ॥ ৯৩ ॥


6️⃣▶️

যত্র ক্ষীরবহা নদ্যো যত্র পায়সকর্দ্দমাঃ ।

ন জরা বাধতে যত্র তত্র গচ্ছন্তি গোপ্রদাঃ ॥ ৯৪ ॥

[স্কন্দমহাপুরাণ/কাশীখণ্ড/পূর্বার্দ্ধখণ্ড/২ অধ্যায়/৯৪ নং শ্লোক]

✅ অর্থ : 

[গো দানের ফল — ]
যেখানে নদী সকল দূগ্ধময়ী, পায়স যেখানে কর্দ্দম (কাঁদার মতো), জরা যেখানে ক্লেশ (কষ্ট) দেয় না, গো-প্রদাতা ব্যক্তিরা, সেখানে গমন করেন ॥ ৯৪ ॥


_______________________________________________

♦️ গোমাতাদের বসবাসের দিব্য স্থান সম্পর্কে শিবমহাপুরাণে বলা হয়েছে —


সর্বোপরি চ যস্যাস্তি শিবলোকঃ পরাৎপরঃ ।
যত্র সংরাজতে সংরাজতে শম্ভুঃ পরব্রহ্ম পরেশ্বরঃ ॥ ৪৭ ॥
প্রকৃতেঃ পুরুষস্যাপি যোঽধিষ্ঠাতা ত্রিশক্তিধৃক্ ।
নির্গুণঃ সগুণঃ সোঽপি পরং জ্যোতিঃ স্বরূপবান্ ॥ ৪৮ ॥
যস্যাঙ্গজাস্তু বৈ ব্রহ্মস্ত্রয়ঃ সৃষ্ট্যাদিকারকাঃ ।
সত্ত্বাদিগুণসম্পন্না বিষ্ণুব্রহ্মহরাভিধাঃ ॥ ৪৯ ॥
স এব পরমাত্মা হি বিহরত্যুময়া সহ ।
যত্র মায়াবিনির্মুক্তো নিত্যানিত্যপ্রকল্পকঃ ॥ ৫০ ॥
তৎসমীপে চ গোলোকো গোশালা শংকরস্য বৈ ।
তস্যেচ্ছয়া চ মদ্রূপঃ কৃষ্ণো বসতি তত্র হ ॥ ৫১ ॥
তদ্গবাং রক্ষণার্থায় তেনাজ্ঞপ্তঃ সদা সুখী ।
তৎসংপ্রাপ্তসুখঃ সোঽপি সংক্রীড়তি বিহারবিৎ ॥ ৫২ ॥

[শ্রীশিবমহাপুরাণ/রুদ্রসংহিতা/(পঞ্চম) যুদ্ধখণ্ড/২৯ অধ্যায়/৪৭-৫২ নং শ্লোক]


✅ অর্থ : [ভগবান বিষ্ণু বললেন] যাঁর পরাৎপর শিবলোক সমস্ত লোকের ঊর্ধ্বে অবস্থিত, যেখানে পরব্রহ্ম পরমেশ্বর সদাশিব শম্ভু স্বয়ং বিরাজমান আছেন ॥ ৪৭ ॥

 যিনি তিন শক্তির ধারক, প্রকৃতি ও পুরুষেরও অধিষ্ঠাতা; যিনি নির্গুণ, সগুণ এবং পরম জ্যোতিঃস্বরূপ ॥ ৪৮ ॥

এবং হে ব্রহ্মন্ ! সৃষ্টি প্রভৃতির কর্তা ও সত্ত্বাদি গুণসম্পন্ন বিষ্ণু, ব্রহ্মা ও মহেশ্বর নামক তিন দেবতা যাঁর অঙ্গ হতে উৎপন্ন হয়েছেন ॥ ৪৯ ॥

মায়া থেকে সর্বতোভাবে মুক্ত এবং নিত্য ও অনিত্য জগতের বিধানকারী সেই পরমাত্মাই উমার সহিত যেখানে বিহার করেন ॥ ৫০ ॥

তারই নিকটে গোলোক অবস্থিত এবং সেখানেই সেই পরমেশ্বর শিবের গোশালা রয়েছে। তাঁরই ইচ্ছায় সেখানে আমার (বিষ্ণুর) স্বরূপধারী শ্রীকৃষ্ণ বাস করেন ॥ ৫১ ॥

পরমেশ্বর শঙ্কর তাঁর গাভীগণের রক্ষার জন্য সেই শ্রীকৃষ্ণকে নিয়োজিত করেছেন। তিনিও গাভীগণের রক্ষণ করে আনন্দিত হয়ে সেখানে বিচরণ ও ক্রীড়া করেন ॥ ৫২ ॥

__________________________________________________

🚩 তথ্য সংগ্রহ ও লেখনীতে : শিবালয় প্রতিষ্ঠাতা শিবদ্বারাধীশাধ্যক্ষ আচার্যপরমাধিকারী শ্রীগুরু নন্দীনাথ শৈব আচার্যদেব 🚩 

©️ কপিরাইট ও প্রচারে : Shivalaya 🔥 


জয় গোমাতার জয়

জয় পরমেশ্বর শিবের জয় 

গোলকপতি শ্রীকৃষ্ণের জয় 

শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তেতরাম্ 🚩 

ॐ নমঃ পার্বতীপতয়ে হর হর মহাদেব 🚩 


 #শিবালয়  #পরমেশ্বরশিব #Shivalaya #শৈবধর্ম #গোমাতা #গোলোক



মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ