পরমেশ্বর সদাশিব রুষ্ট হোন বা তুষ্ট - তাতে সকলের কল্যান ও মোক্ষ লাভ‌ই হয়

 


🕉️ পরমেশ্বর সদাশিব রুষ্ট হোন বা তুষ্ট — তাতে সকলের কল্যান ও মোক্ষ লাভ‌ই হয় ।


♦️ মৎস পুরাণ বলছে —

এবং মন্বাদয়ো দেব বদন্তি পরমর্ষয়ঃ ।

রুষ্টাদ্‌ বা চাথ তুষ্টাদ্‌ বা সিদ্ধিস্তূভয়তো ভবেৎ ।

ভোগপ্রাপ্তিস্তথা রাজ্যমন্তে মোক্ষঃ সদাশিবাৎ ॥ ৮৭ ॥

[মৎস্যপুরাণ/১৮০ অধ্যায়/৮৭ নং শ্লোক]

অর্থ : মাতা পার্বতী বললেন, হে দেব ! মনু প্রভৃতি এবং পরমর্ষিগণ এইরূপই বলেন — সদাশিব রুষ্ট হন বা তুষ্ট হন, উভয় অবস্থাতে তাঁর থেকেই সিদ্ধি, ভোগপ্রাপ্তি, রাজ্যলাভ এবং পরিশেষে মোক্ষও প্রাপ্তি হয়।


🔶 ব্যাখ্যা : পরমেশ্বর শিব সাক্ষাৎ কল্যানকারী পরমব্রহ্ম। তিনি যদি রুষ্ট হন, তাতেও পাপী পীড়াভোগ করে মৃত্যু প্রাপ্ত হয়ে শুদ্ধ হয়ে শিবজ্ঞান লাভ করে শিবে লীন হয়ে মোক্ষ প্রাপ্তি করবে। আবার যিনি শিবভক্তির দ্বারা শিবকে তুষ্ট করেন তিনিও শিবের কৃপা দৃষ্টির মাধ্যমে শিবজ্ঞান লাভ করে মোক্ষ প্রাপ্তি করে শিবে লীন হয়ে মোক্ষ প্রাপ্তি করে নেন।

পরমেশ্বর শিবের ক্রোধ‌ও জীবকে জীবের অহংকার, মায়ার অজ্ঞান থেকে মুক্ত করে, এতে মূলত সেই জীবের সর্বোপরি কল্যান হয়ে যায়। বহু ভক্ত শিবের ভক্তি করে মোক্ষ প্রাপ্তি করেছেন, আবার বহু অসুর‌ শিবের ক্রোধের মাধ্যমে পীড়া পেয়ে বা মৃত্যু প্রাপ্ত হবার পর শিবের গণ হয়েছেন বা সরাসরি শিবে লীন হয়েছেন। শ্লোকে বলা হচ্ছে — সদাশিব রুষ্ট হোন বা তুষ্ট হোন, উভয় অবস্থাতেই জীবের সিদ্ধি, ভোগ, রাজ্য এবং শেষ পর্যন্ত মোক্ষ তাঁর থেকেই প্রাপ্তি হয়। এখানে “রুষ্ট” ও “তুষ্ট”— এই দুই অবস্থাকে সাধারণ মানুষের মতো আবেগ হিসেবে না দেখে ঈশ্বরীয় অনুগ্রহের দুই রূপ বোঝানো হয়েছে।

জীব যখন অহংকার, ভোগাসক্তি, কর্মবন্ধন ও অজ্ঞান দ্বারা আচ্ছন্ন থাকে, তখন সে নিজের সীমাবদ্ধ সত্তাকেই সত্য মনে করে। এই অবস্থায় ঈশ্বরের কৃপা সব সময় বাহ্যিক সুখরূপে প্রকাশ পায় না। কখনও দুঃখ, ক্ষতি, বিচ্ছেদ, অপমান, পতন বা কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েও জীবের আসক্তি ভাঙে। 

শিবের পক্ষ থেকে দেওয়া শাস্তি কে নিগ্রহ বলা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে এই নিগ্রহও শিবের অনুগ্রহ বলেই জানা উচিত।

অর্থাৎ , পরমেশ্বর শিব তুষ্ট হলে জীব ভক্তি, জ্ঞান, ঐশ্বর্য, শান্তি, সিদ্ধি ও আধ্যাত্মিক উন্নতির পথ পায়।

শিব রুষ্ট হলে জীব তার কর্মফল দ্রুত ভোগ করে, অহংকার ভাঙে, অনিত্যতার বিষয়ে উপলব্ধি লাভ করে এবং শেষ পর্যন্ত সত্যের দিকে অগ্রসর হয়।

এই “রুষ্ট হওয়া” শাস্তিমাত্র নয় — বরং শোধন। 

 যেমন — যে ব্যক্তি রোগে আক্রান্ত, তার জন্য চিকিৎসকের অস্ত্রোপচার কষ্টদায়ক হলেও তার উদ্দেশ্য ধ্বংস নয়, আরোগ্য। তেমনি শৈব ব্যাখ্যায় শিবের কঠোরতা জীবের প্রতি বিদ্বেষ নয়, বরং জীবকে তার সীমাবদ্ধতা থেকে উত্তরণের উপায়।

এই শ্লোকে “সিদ্ধি”, “ভোগ”, “রাজ্য”, “মোক্ষ”— এই চারটি স্তরও লক্ষণীয় —

১. সিদ্ধি — কর্ম বা সাধনার সাফল্য।

২. ভোগপ্রাপ্তি — জীবের ইচ্ছা ও কর্মফল অনুযায়ী তা ভোগ করা এবং তা থেকে অভিজ্ঞতা লাভ।

৩. রাজ্য — ঐশ্বর্য, অধিকার, ক্ষমতা বা উচ্চ অবস্থা।

৪. অন্তে মোক্ষ — সব অভিজ্ঞতা লাভের পর ত্যাগের মনোভাব, ফলে চূড়ান্ত মুক্তি।

সদাশিবের অনুগ্রহ মধুর হোক বা কঠোর, উভয়ের লক্ষ্য জীবের চরম কল্যাণ ও বন্ধনমুক্তি।

__________________________________________________

🚩 তথ্য সংগ্রহকারী ও ব্যাখ্যাকারী : শিবালয় প্রতিষ্ঠাতা শিবদ্বারাধীশাধ্যক্ষ দেশিক আচার্যপরমাধিকারী শ্রীশ্রীগুরু নন্দীনাথ শৈব আচার্যদেব 🚩 

©️ কপিরাইট ও প্রচারে : Shivalaya 🔥 

শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তেতরাম্ 🚩 

ॐ নমঃ পার্বতীপতয়ে হর হর মহাদেব 🚩 

 #সনাতনধর্ম #শিবালয় #শিব #পরমেশ্বরশিব  #Shivalaya #শৈবধর্ম #বারাণসী #কাশী #অবিমুক্ত #সদাশিব #মৎসপুরাণ

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ