পরমপুরুষ পরমসত্তা একমাত্র শিব — বলছে বেদ
🕉️ পরমপুরুষ পরমসত্তা একমাত্র শিব — বলছে বেদ
______________________________________________
♦️ বেদ বলছে —
পুরুষো বৈ রুদ্রস্সন্মহো নমোনমঃ ।
[কৃষ্ণ-যজুর্বেদ/তৈত্তিরীয় আরণ্যক/১০ম প্রপাঠক/২৪ তম অনুবাক]
↔️ পদচ্ছেদ
পুরুষঃ = পরমপুরুষ, সর্বব্যাপী চেতন পরমসত্তা
বৈ = নিশ্চয়ই, সত্যিই, অবশ্যই
রুদ্রঃ = রুদ্র (পরমশিব)
সন্মহঃ = মহান সৎ-স্বরূপ, পরম তেজোময় সত্তা
সৎ = চিরন্তন সত্য, পরম সত্তা
মহঃ = মহত্ত্ব, তেজ, মহান জ্যোতি
নমো নমঃ = বারংবার প্রণাম
⏹️ অন্বয়
পুরুষঃ বৈ রুদ্রঃ সন্মহঃ (অস্তি), তস্মৈ নমো নমঃ।
✅ অর্থ : “পুররূপী সকল শরীরের মধ্যে আত্মারূপে স্থিত যাকে সর্বব্যাপী ঈশ্বর (পরমপুরুষ) বলা হয়, তিনি নিশ্চিতভাবে রুদ্র (পরমশিব)-ই ; তিনিই সেই মহান পরম সৎ-স্বরূপ তেজ। তাঁকে বারবার নমস্কার করি।”
অথবা ভাবার্থে—
“পরমপুরুষই রুদ্ররূপে বিদ্যমান; সেই মহান চিরন্তন পরম সত্তা পরমব্রহ্মকে পুনঃ পুনঃ প্রণাম।”
______________________________________________
✳️ সায়ণাচার্যের ভাষ্য : প্রকৃতিপুরুষয়োর্মধ্যে জড়াত্মিকাং প্রকৃতিমপোহ্য চিদাত্মিকঃ পুরুষো যো বিদ্যতে স এব ভক্তানুগ্রহায় রুদ্রমূর্তিরূপেণাবভাসতে, তস্মাদ্য (দ্ব) [স্তু] তঃ সন্মহঃ “সদেব সোম্যেদমন আসীৎ” ইতি শ্রুতিপ্রতিপাদ্যমবাধ্যং রুদ্ররূপং তেজঃ। তাদৃশায় রুদ্রায় পুনঃ পুনর্মমস্কারোঽস্তু।
⏹️ সায়ণাচার্যের ভাষ্যের অন্বয় :
প্রকৃতি-পুরুষয়োঃ মধ্যে জড়াত্মিকাং প্রকৃতিম্ অপোহ্য যঃ চিদাত্মিকঃ পুরুষঃ বিদ্যতে, সঃ এব ভক্তানুগ্রহায় রুদ্রমূর্তি-রূপেণ অবভাসতে। তস্মাৎ যৎ “সদেব সৌম্য ইদমগ্র আসীত্” ইতি শ্রুতি-প্রতিপাদ্যম্ অবাধ্যং রুদ্ররূপং তেজঃ, তাদৃশায় রুদ্রায় পুনঃ পুনঃ মম নমস্কারঃ অস্তু।
↔️ পদে পদে অর্থ
প্রকৃতি-পুরুষয়োঃ মধ্যে — প্রকৃতি ও পুরুষের মধ্যে
জড়াত্মিকাং প্রকৃতিম্ — জড়স্বভাবযুক্ত প্রকৃতিকে
অপোহ্য — পৃথক করে / দূর করে
যঃ চিদাত্মিকঃ পুরুষঃ — যিনি চৈতন্যস্বরূপ পুরুষ
বিদ্যতে — অবস্থান করেন / আছেন
সঃ এব — তিনিই
ভক্তানুগ্রহায় — ভক্তদের অনুগ্রহ করার জন্য
রুদ্রমূর্তি-রূপেণ — রুদ্ররূপ ধারণ করে
অবভাসতে — প্রকাশিত হন
তস্মাৎ — অতএব
যৎ — যে
“সদেব সৌম্য ইদমগ্র আসীৎ” — “হে সৌম্য, এই জগৎ প্রথমে একমাত্র সৎ ছিল”
ইতি শ্রুতি-প্রতিপাদ্যম্ — যা শ্রুতি (বেদ) দ্বারা প্রতিপাদিত
অবাধ্যং — অবিনাশী / অখণ্ড / অখণ্ডনীয়
রুদ্ররূপং তেজঃ — রুদ্রস্বরূপ পরম তেজ
তাদৃশায় রুদ্রায় — সেইরূপ রুদ্রকে
পুনঃ পুনঃ — বারবার
মম নমস্কারঃ অস্তু — আমার নমস্কার হোক
☑️ সায়ণাচার্যের ভাষ্যের অর্থ :
প্রকৃতি ও পুরুষের মধ্যে জড়স্বভাবযুক্ত প্রকৃতিকে পৃথক করলে যে চৈতন্যস্বরূপ পুরুষ বিদ্যমান, তিনিই ভক্তদের অনুগ্রহ করার জন্য রুদ্রমূর্তিরূপে প্রকাশিত । অতএব, যিনি অবাধ্য (কোনো কিছুর দ্বারা বাধিত নন বা অখণ্ড অবিনাশী), শ্রুতিবাক্য (বেদ বচন - ছান্দোগ্য উপনিষদ/৬.২.১) —“সদেব সৌম্য ইদমগ্র আসীৎ” [হে সৌম্য, এই জগৎ প্রথমে একমাত্র সৎ ছিল] — দ্বারা প্রতিপাদিত রুদ্রস্বরূপ পরমতেজ, সেই রুদ্রকে আমার পক্ষ থেকে বারংবার নমস্কার।
______________________________________________
🚩 তথ্য সংগ্রহ ও লেখনীতে : শিবালয় প্রতিষ্ঠাতা শিবদ্বারাধীশাধ্যক্ষ দেশিক আচার্যপরমাধিকারী শ্রীশ্রীগুরু নন্দীনাথ শৈব আচার্যদেব 🚩
©️ কপিরাইট ও প্রচারে : Shivalaya 🔥
শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তেতরাম্ 🚩
ॐ নমঃ পার্বতীপতয়ে হর হর মহাদেব 🚩
#বেদ #রুদ্র #সনাতনধর্ম #শিবালয় #shiva #শিব #পরমেশ্বরশিব #Shivalaya #শৈবধর্ম #তৈত্তিরীয়আরণ্যক


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন