দেবতার অঙ্গহীন অসম্পূর্ণ দেহের বিগ্রহ প্রতিমা পূজা করা নিষিদ্ধ, করলে বিপদ — বলছে মৎস মহাপুরাণ



🕉️ দেবদেবীর অঙ্গহীন বা অসম্পূর্ণ দেহের বিগ্রহ প্রতিমা পূজা করা নিষিদ্ধ 

🔰 ভূমিকা — বর্তমান সময়ে মানুষ নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করবার জন্য ধর্মীয় বিষয়ে শাস্ত্রবিধানের পরিবর্তে নিজের ইচ্ছে মতো ধর্মের বিষয়গুলিকে বিকৃত করে চলেছে। অনেকে এটিকেই ভক্তিভাবে সব বিগ্রহ‌ই পূজা করা যাবে বলে সিদ্ধান্ত দিয়ে বসেন। এই প্রবন্ধে অঙ্গহীন বিকৃত অশাস্ত্রীয় ধাঁচে তৈরী করে প্রচার করে দেবদেবীর প্রতিমার গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে শাস্ত্রের মতামত উপস্থাপন করা হয়েছে।

__________________________________________________

 ♦️ মৎস্যপুরাণ বলছে —

নাধিকাঙ্গা ন হীনাঙ্গাঃ কর্তব্যা দেবতাঃ ক্বচিৎ ॥ ১৫ ॥

স্বামিনং ঘাতয়েন্ন্যূনা করালবদনা তথা ।

অধিকা শিল্পিনং হন্যাত্ কৃশা চৈবার্থনাশিনী ॥ ১৬ ॥

কৃশোদরী তু দুর্ভিক্ষং নির্মাসা ধননাশিনী।

বক্রনাসা তু দুঃখায় সংক্ষিপ্তাঙ্গী ভয়ঙ্করী ॥ ১৭ ॥

চিপিটা দুঃখশোকায় অনেত্রা নেত্রনাশিনী।

দুঃখদা হীনবক্ত্রা তু পাণিপাদকৃশা তথা ॥ ১৮ ॥

হীনাঙ্গা হীনজঙ্ঘা চ ভ্রমোন্মাদকরী নৃণাম্।

শুষ্কবক্ত্রা তু রাজানং কাটিহীনা চ যা ভবেৎ ॥ ১৯ ॥

পাণিপাদবিহীনা যা যায়তে মারকো মহান্।

জঙ্ঘাজানুবিহীনা চ শত্রুকল্যাণকারিণী ॥ ২০ ॥

পুত্রমিত্রবিনাশায় হীনবক্ষঃস্থলা তু যা।

সম্পূর্ণাবয়বা যা তু আয়ুর্লক্ষ্মীপ্রদা সদা ॥ ২১ ॥

এবং লক্ষণমাসাদ্য কর্তব্যঃ পরমেশ্বরঃ ।..॥ ২২ ॥

[মৎস্যপুরাণ/২৫৯ অধ্যায়/১৫-২২ নং শ্লোক]

অর্থ : দেবতার মূর্তি কখনো অতিরিক্ত অঙ্গবিশিষ্ট বা অঙ্গহীন করে নির্মাণ করা উচিত নয় ॥ ১৫ ॥

অঙ্গে ন্যূন মূর্তি যজমানের অকল্যাণের কারণ হয়, [সৌম্যরূপী দেবদেবীর সৌম্যরূপের স্থানে] করাল (বিকৃতভাবে ভয়ঙ্কর) মুখবিশিষ্ট বানালে তেমনই অশুভ প্রভাব দেয় ; অতিরিক্ত অঙ্গবিশিষ্ট মূর্তি শিল্পীর অনিষ্টকারী এবং অতিরিক্ত কৃশ মূর্তি অর্থনাশিনী ॥ ১৬ ॥

অত্যন্ত ক্ষীণ উদরবিশিষ্ট মূর্তি দুর্ভিক্ষের কারণ, মাংসহীন রূপ ধননাশিনী; বক্র নাসিকা দুঃখদায়ক এবং সংক্ষিপ্ত অঙ্গবিশিষ্ট রূপ ভয়ঙ্কর ॥ ১৭ ॥

চ্যাপ্টা রূপ দুঃখ ও শোকের কারণ, নেত্রহীন রূপ চক্ষুনাশিনী; মুখের অপূর্ণতা দুঃখদায়ক এবং হাত-পা কৃশ হলেও অশুভ ফলদায়ক ॥ ১৮ ॥

অঙ্গহীন ও জঙ্ঘাহীন রূপ মানুষের ভ্রম ও উন্মাদনা সৃষ্টি করে; শুষ্ক মুখবিশিষ্ট এবং কোমরহীন রূপও অশুভ ফলদায়ক ॥ ১৯ ॥

যে মূর্তি হাত-পা বিহীন হয় তা মহা অমঙ্গলজনক; আর জঙ্ঘা ও হাঁটু বিহীন রূপ শত্রুর কল্যাণসাধনকারী ॥ ২০ ॥

যে মূর্তির বক্ষদেশ অপূর্ণ তা পুত্র ও মিত্রের বিনাশের কারণ; আর যে মূর্তি সর্বাঙ্গসম্পূর্ণ, তা সর্বদা আয়ু ও লক্ষ্মী প্রদানকারী ॥ ২১ ॥

অতএব এই সকল লক্ষণ অনুসারে পরমেশ্বরের মূর্তি নির্মাণ করা উচিত ॥ ২২ ॥

__________________________________________________

🔥 সিদ্ধান্ত : যে দেবতার প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে তাঁর সাকার দেহের অঙ্গিভঙ্গি অলংকার ইত্যাদি সম্পর্কে শাস্ত্রে যেমন বিধান আছে, ঠিক তেমন বর্ণনা অনুযায়ী সম্পূর্ণ দেবতা বা দেবীর বিগ্রহপ্রতিমা গড়ে তাতে ভক্তি করা উচিত। 

ইচ্ছাকৃত ভাবে শাস্ত্রে ঈশ্বরের দেওয়া বচনকেই অবজ্ঞা করে, গুরুত্বহীন ভাবে তৈরি করা অঙ্গহীন অসম্পূর্ণ বিকৃত বিগ্রহপ্রতিমাতে ভক্তি করলেই ঈশ্বর তা গ্রহণ করবেন - এই ভাবনা করা হল ভক্তির অপব্যবহার। ভক্তি হল হৃদয়ের বিষয়, সেখানে শাস্ত্রীয় ভাবে দেবতার প্রতিমা গড়েও ভক্তি করার ক্ষেত্রেও কোনো বাধকতা তৈরী হয় না। তাই শাস্ত্রের বিধানকে প্রয়োজন ছাড়াও সর্বদা ভক্তিভাবের অজুহাতে অমান্য করে চলা উচিত নয় কখনোই, এতে ধীরে ধীরে সমাজ সেই বিধানকে গুরুত্ব না দিয়ে বিকৃত প্রতিমা গড়ে তার মাধ্যমে অকল্যাণ ই প্রাপ্ত করবে। কারণ, সমাজে সকলেই ভক্তিভাবের ভক্ত নয়, যারা ভক্ত তাদের অকল্যাণ ঘটবে না, কিন্তু যারা ভক্তিভাব ছাড়া উক্ত বিকৃত প্রতিমা অর্চনা করবেন তাদের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বেই। বর্তমানে কলিযুগে এমন বড় বড় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়ীরা নিজেদের কারুকার্যতার শৈল্পিক মান উচ্চতর হিসেবে দেখাবার জন্য দেবদেবীর বিকৃত প্রতিমা গড়ে বিক্রি করছেন, সাধারণ মানুষ‌ও শাস্ত্রের বিধান সম্পর্কে অবগত না হয়ে সেগুলি ক্রয় করে এনে পূজার্চনা করছেন, যা তাদের‌ই জীবনে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। 

তাই আপামর জনসাধারণের জন্য ভক্তি সহকারে দেবদেবীর প্রতিমা সর্বদা শাস্ত্রবিধান অনুযায়ী সর্বদা সম্পূর্ণ অঙ্গ ও বর্ণনা সাপেক্ষ হ‌ওয়া উচিত, এটিই সনাতনীদের সনাতন ধর্ম।

__________________________________________________

🚩 তথ্য সংগ্রহকারী ও ব্যাখ্যাকারী : শিবালয় প্রতিষ্ঠাতা শিবদ্বারাধীশাধ্যক্ষ দেশিক আচার্যপরমাধিকারী শ্রীশ্রীগুরু নন্দীনাথ শৈব আচার্যদেব 🚩 

©️ কপিরাইট ও প্রচারে : Shivalaya 🔥 

শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তেতরাম্ 🚩 

ॐ নমঃ পার্বতীপতয়ে হর হর মহাদেব 🚩 

 #বিগ্রহ #শিবালয় #শিব #পরমেশ্বরশিব  #Shivalaya #শৈবধর্ম #প্রতিমা #দেবপ্রতিমা #দেববিগ্রহ #সদাশিব #মৎসপুরাণ

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ