বৈষ্ণব পুরাণেও একমাত্র পরমেশ্বর শিব
ভূমিকা -
পদ্মপুরাণ থেকে প্রমাণ -
শম্ভুরুবাচ্।
'ব্রহ্মাধিকবলোবিষ্ণুরায়ুষি ব্রহ্মণোহধিক || ৬৯ || "
ব্রহ্মাংডমালাভরণে মহেশস্যমমৈবতু | চতুর্নিঃশ্বাসমাত্রেন বিষ্ণোরায়ুরুদাহৃতম্ || "
(পদ্মপুরাণ/ পাতাল খণ্ড/ ১০৮ নং অধ্যায়)
অর্থ ব্রহ্মার চেয়ে বিষ্ণুদেবের আয়ু ও ক্ষমতা উভয়ই বেশি। তবে মহেশ্বরের এবং আমার (শম্ভু) চারটি নিঃশ্বাসের সমান বিষ্ণুদেবের পুরো আয়ুষ্কাল
সিদ্ধান্ত- মহেশ্বর, রুদ্র, শম্ভু, শ্রী বিষ্ণু ও ব্রহ্মা সকল সাকার দেবগণ ই কালের অধীনে আবদ্ধ। প্রত্যেকেরই একটি নির্দিষ্ট আয়ু আছে। কিন্তু সদাশিব কালাতীত। তাঁর কোনো সময়ের মাপকাঠি নেই। জগৎ চরাচরের সকল কিছুই তাঁর মধ্যে বিলীন হয়। তিনি কোথাও বিলীন হন না।
ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ থেকে প্রমাণ -
(ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ/শ্রীকৃষ্ণ জন্মখণ্ড/৩৮ অধ্যায়/২৫-৩১ নং শ্লোক)
শৈল রাজ ! আপনি ভক্তি নত মস্তকে মধুপর্ক প্রভৃতি প্রদান করে ইন্দ্রিয়ের অবিষয় সেই দেবেন্দ্র শঙ্করকে পূজা করুন হে রাজন ! তিনি সিদ্ধি স্বরূপ, সিদ্ধির ঈশ্বর, যোগীন্দ্রগণের গুরুর গুরু, তিনি মৃত্যুঞ্জয়, কালের কাল, জ্যোতির্ময় ব্রহ্ম ও সনাতন, তিনি পরমাত্মা স্বরূপ, সগুণ ও নির্গুণ বিভু। সেই ঈশ্বর কেবল ভক্তগণের ধ্যানে নিমত্ত দেহ ধারণ করেছেন ।
(তথ্যসূত্র : ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ/শ্রীকৃষ্ণ জন্মখণ্ড/৩৮ অধ্যায়/৬৪-৭৩ নং শ্লোক)
তৎকালে সেই প্রহার রূপ দর্শন করিয়া গিরিরাজ ধৰ্ম্মদত্ত স্তোত্রে পরমেশ্বরকে স্তব করিতে লাগিলেন। ৫১-৬৪। হে প্রভো! তুমি ব্রহ্মারূপে সমস্ত সৃজন কর, বিষ্ণুরূপে পালন কর ও শিবরূপে মঙ্গল প্রদান কর এবং অন্তকালে জগৎ সংহার কর। বিভো। তুমি গুণাতীত ঈশ্বর জ্যোতিস্বরূপ ও সনাতন; তুমি প্রকৃতিস্বরূপ, প্রকৃতির অংশ, প্রাকৃত ও প্রকৃতি হইতেও পৃথকৃ; ঈশ। তুমি ভক্তগণের ধ্যানের নিমিত্ত নানা রূপ ধারণ করিয়া থাক; তোমার যখন যে রূপে প্রীতি জন্মে, তখনই সেই রূপের আবির্ভাব হয়। তুমি সৃষ্টির কারণীভূত, সর্ব্বতেজের আধার সূর্য্য-স্বরূপ এবং তুমিই চন্দ্ররূপে শীতল কিরণে শঙ্ক প্রভৃতি রক্ষা কর। হে প্রভো! তুমি বায়ু বরুণ ও সম্প্রদাহক অগ্নিস্বরূপ এবং তুমিই দেবরাজ ইন্দ্র কাল মৃত্যু এবং যমস্বরূপ। তুমি স্বয়ং মৃত্যুঞ্জয় এবং কালের কাল, মৃত্যুরও মৃত্যু, যমেরও ধমস্বরূপ। তুমি বেদ, বেদকর্তা, বেদাঙ্গ-পারগ, পণ্ডিত, পাণ্ডতগণের জনক ও বিদ্বান্ক্ষণের গুরু বলিয়া নিরূপিত আছ। তুমি মন্ত্র জপ ও তপস্তাস্বরূপ এবং তপক্ষার ফল-প্রদ। তুমি বাক্যের আধটাতৃদেবতা, তৎকর্তা ও তাহার গুরু এবং তুমি সরস্বতীর বীজস্বরূপা; অতএব তোমাকে স্তব করতে কে সমর্থ হবে ? শৈলেন্দ্র এইরূপ স্তব করে ভগবানের চরণ কমল ধারণ করে রইলেন । তখন সেই তাকে প্রবোধ বাক্যে সান্তনা করে বৃষের উপরে সমাসীন হয়ে অবস্থান করতে লাগলেন। যে ব্যক্তি এই পত্র ত্রিসন্ধাকালে পাঠ করে সে ব্যক্তি এই ভবার্ণবে সকল পাপ হতে মুক্ত হয় ও সকল প্রকার ভয় হতে মুক্তি লাভ করে ।
(তথ্যসূত্র : ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ/শ্রীকৃষ্ণ জন্মখণ্ড/৪১ অধ্যায়/৬০-৬৫ নং শ্লোক)
ভগবান শূলপাণি নির্গুণ, পরমাত্মা, ঈশ্বর, প্রকৃতি হইতেও শ্রেষ্ঠ; তিনি সকলের ঈশ্বর নিলিপ্ত এবং সকল জন্তুতে লিপ্ত; এই সৃষ্টি-সংহার-কার্য্যে তিনিই একমাত্র কর্তা, সৃষ্টিকার্য্যে তিনিই সর্ব্বস্বরূপ; তিনি স্বেচ্ছাময়; অতএব নিরাকার ও সাকার। তিনি সৃষ্টিকার্য্যে স্বাষ্টস্থিতি ও লয় করিবার নিমিত্ত ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব নামে ত্রিবিধ মূর্তি ধারণ করেন। ব্রহ্মা ঐ ত্রিবিধ মূর্তির মধ্যে ব্রহ্মলোকে অবস্থান করেন, বিষ্ণু ক্ষীরোদসাগরে ও শিব কৈলাসে বাস করেন।
ভাগবত পুরাণ

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন