সনাতন ধর্মে রয়েছে বৃক্ষরোপণ করে পরিবেশ বান্ধব কার্যক্রমের নির্দেশ

 সনাতন ধর্মে রয়েছে বৃক্ষরোপণ করে পরিবেশ বান্ধব কার্যক্রমের নির্দেশ 


🔰 ভূমিকা :  পরমেশ্বর শিবের প্রকাশিত সনাতন ধর্ম পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে সমাজকে পরিবেশ বান্ধব গড়ে তোলবার চেতনা জাগ্রত করে। এই কারণে সনাতন ধর্ম‌ই মানবতা ধর্ম, প্রকৃতির স্বাভাবিক ধর্ম শ্রেষ্ঠ ও মহান ধর্ম। সনাতন ধর্মের পরমপবিত্র শাস্ত্র শ্রীশিবমহাপুরাণ ও মহাভারতে বৃক্ষ রোপনের বিষয়ে নির্দেশ ও ফলাফল বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে, সেটি এই প্রবন্ধে তুলে ধরা হল।__________________________________________________

🔷 বেদ বেদান্তের সার শ্রীশিবমহাপুরাণে বৃক্ষরোপণের মহিমা : 

অতীতানাগতান্ সর্বান্ পিতৃবংশাংস্তু তারয়েৎ ।
কান্তারে বৃক্ষরোপী যস্তস্মাদ্ বৃক্ষাংস্তু রোপয়েৎ ॥ ১৭ ॥
তত্র পুত্রা ভবন্ত্যেতে পাদপা নাত্র সংশয়ঃ ।
পরং লোকং গতঃ সোঽপি লোকানাপ্নোতি চাক্ষয়ান্ ॥ ১৮ ॥
পুষ্পৈঃ সুরগণান্ সর্বান্ ফলৈশ্চাপি তথা পিতৃন্ ।
ছায়য়া চাতিথীন্ সর্বান্ পূজয়ন্তি মহীরুহাঃ ॥ ১৯ ॥
কিন্নরোরগরক্ষাংসি দেবগন্ধর্বমানবাঃ ।
তথৈবর্ষিগণাশ্চৈব সংশ্রয়ন্তি মহীরুহান্ ॥ ২০ ॥
পুষ্পিতাঃ ফলবন্তশ্চ তর্পয়ন্তীহ মানবান্ ।
ইহ লোকে পরে চৈব পুত্রাস্তে ধর্মতঃ স্মৃতাঃ ॥ ২১ ॥

[শিবমহাপুরাণ/উমাসংহিতা/১২ অধ্যায়/১৭-২১ নং শ্লোক]

✅ বাংলা অনুবাদ :

যে ব্যক্তি বনে বৃক্ষরোপণ করে, সে অতীত ও ভবিষ্যৎ—উভয় কালের সকল পিতৃবংশের উদ্ধার সাধন করে। অতএব অবশ্যই বৃক্ষরোপণ করা উচিত ॥ ১৭ ॥

রোপিত এই বৃক্ষসমূহ পরবর্তী [কোনো এক নির্দিষ্ট] জন্মে সেই ব্যক্তির পুত্ররূপে জন্মগ্রহণ করে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। বৃক্ষরোপণকারী ব্যক্তি পরিশেষে পরলোকে গমন করে অক্ষয় লোক লাভ করেন ॥ ১৮ ॥

বৃক্ষসমূহ তাদের পুষ্প দ্বারা দেবগণের, ফল দ্বারা পিতৃগণের এবং ছায়া দ্বারা সকল অতিথির পূজা করে থাকে ॥ ১৯ ॥

কিন্নর, নাগ (সাপ), রাক্ষস, দেবতা, গন্ধর্ব, মানুষ এবং ঋষিগণ বৃক্ষের আশ্রয় গ্রহণ করেন ॥ ২০ ॥

পুষ্প ও ফলে সমৃদ্ধ বৃক্ষসমূহ এই জগতে মানুষকে তৃপ্ত করে। এই কারণে ধর্মশাস্ত্রে তাদের ইহলোক ও পরলোক — উভয় ক্ষেত্রেই সাক্ষাৎ পুত্রস্বরূপ বলা হয়েছে। ॥ ২১ ॥

__________________________________________________


এই এক‌ই বচন আরো কিছুটা বিস্তারিত ভাবে,

 ♦️ মহাভারতে বৃক্ষ রোপণের অপার মাহাত্ম্য কীর্তন করা হয়েছে —

অত ঊর্দ্ধং প্রবক্ষ্যামি বৃক্ষাণামবরোপণম্ ॥ ২২ ॥ 

স্থাবরাণাং চ ভূতানাং জাতয়ঃ ঘট প্রকীর্ত্তিতাঃ ।

বৃক্ষগুল্মলতাবল্ল্যত্ত্বক্সারাস্তৃণজাতয়ঃ ॥ ২৩ ॥

এতা জাত্যস্তু বৃক্ষাণাং তেষাং রোপে গুণাস্ত্বিমে । 

কীর্ত্তিশ্চ মানুষে লোকে প্রেত্য চৈব ফলং শুভম্ ॥ ২৪ ॥

লভতে নাম লোকে চ পিতৃভিশ্চ মহীয়তে ।

দেবলোকে গতস্যাপি নাম তস্য ন নশ্যতি ॥ ২৫ ॥

অতীতানাগতে চোভে পিতৃবংশঞ্চ ভারত ! ।

তারয়েদ্ বৃক্ষরোপী চ তস্মাদ্ বৃক্ষাংশ্চ রোপয়েৎ ॥ ২৬ ॥

তস্য পুত্রা ভবন্ত্যেতে পাদপা নাত্র সংশয়ঃ ।

পরলোকগতঃ স্বর্গং লোকাংশ্চাপ্নোতি সোঽব্যয়ান্ ॥ ২৭ ॥

পুষ্পৈঃ সুরগণান্ বৃক্ষাঃ ফলৈশ্চাপি তথা পিতৃন্ । 

ছায়য়া চাতিথিং তাত ! পূজয়ন্তি মহীরুহঃ ॥ ২৮ ॥

কিন্নরোরগরক্ষাংসি দেবগন্ধর্বমানবাঃ । 

তথা ঋষিগণাশ্চৈব সংশ্রয়ন্তি মহীরুহান্ ॥ ২৯ ॥

পুষ্পিতাঃ ফলবন্তশ্চ তর্পয়ন্তীহ মানবান্ । 

বৃক্ষদং পুত্রবদ্ বৃক্ষাস্তারয়ন্তি পরত্র তু ॥ ৩০ ॥

তস্মাত্তড়াগে সদ্ বৃক্ষা রোপ্যাঃ শ্রেয়োঽর্থিনা সদা । 

পুত্রবৎ পরিপাল্যাশ্চ পুত্রাস্তে ধৰ্মতঃ স্মৃতাঃ ॥ ৩১ ॥

[মহাভারত/অনুশাসন পর্ব/৪৭ তম অধ্যায়/ শ্লোক নং ২৩-৩১]


✅ অর্থ : [ভীষ্ম বললেন] এবার বৃক্ষ-রোপণের ফলাফল বলছি ॥ ২২ ॥

মুনিগণ বলেছেন স্থাবর প্রাণীর ছয়টি জাতি আছে ; বৃক্ষ, গুল্ম, লতা, বল্লী, ত্বক্ সার ও তৃণ — এই হল ছয়টি বৃক্ষজাতি ॥ ২৩ ॥

এইগুলি বৃক্ষজাতি, সেগুলি রোপণ করিলে এই সকল গুণ হয় অর্থাৎ মনুষ্যলোকে কীর্তি এবং পরলোকে মঙ্গলময় ফল হইয়া থাকে ॥ ২৪ ॥

এইসকল বৃক্ষজাতি, সেগুলি রোপণ করলে এই সমস্ত গুণ হয় অর্থাৎ মনুষ্যলোকে কীর্তি এবং পরলোকে মঙ্গলময় ফল হয়ে থাকে ॥ ২৪ ॥

বৃক্ষরোপনকারী (বৃক্ষরোপী) ব্যক্তি মর্ত্যলোকে সুনাম লাভ করে এবং তিনি পিতৃলোকে পিতৃগণের সহিত অবস্থান করে, তারপর দেবলোকে গেলেও তার সুনাম লুপ্ত হয় না ॥ ২৫ ॥

হে ভরতনন্দন ! বৃক্ষরূপী মানুষ, ভূত ও ভবিষ্যৎ মাতামহবংশ, শ্বশুরবংশ ও পিতৃবংশ উদ্ধার করে। তাই মানুষেরা অবশ্য‌ই বৃক্ষরোপণ করবে ॥ ২৬ ॥

এই সকল বৃক্ষ, রোপণকর্তার পুত্রস্থানীয় হয়, এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই ; আর বৃক্ষরূপী মানুষ পরলোকে গিয়ে স্বর্গলাভ করে এবং অবিনশ্বর ব্রহ্মলোক-প্রভৃতিও লাভ করে থাকে ॥ ২৭ ॥

হে বৎস ! ভূমি থেকে জাত (জন্ম হ‌ওয়া) বৃক্ষেরা পুষ্পদ্বারা দেবগণকে, ফলদ্বারা পিতৃগণকে এবং ছায়ার দ্বারা অতিথিদের সন্তুষ্ট করে থাকে ॥ ২৮ ॥

দেবতা, গন্ধর্ব, মানুষ, কিন্নর, সর্প, রাক্ষস ও ঋষিগণ বৃক্ষদের আশ্রয় করে থাকেন ॥ ২৯ ॥

পুষ্পবান্ ও ফলবান্ বৃক্ষেরা এই মর্ত্যলোকে মানুষদের সন্তুষ্ট করে এবং বৃক্ষ-দাতাকে (বৃক্ষরোপনকারীকে) পুত্রের (সন্তানের) ন্যায় পরলোকে উদ্ধার করে থাকে ॥ ৩০ ॥

অতএব, মঙ্গলার্থী মানুষ, জলাশয়ের তীরে উৎকৃষ্ট বৃক্ষদের রোপণ করবে এবং সেগুলিকে পুত্রের (সন্তানের) ন্যায় সর্বদা পরিপালন করিবে। কারণ, সেই বৃক্ষগণ ধর্মানুসারে রোপয়িতার (বৃক্ষরোপনকারী ব্যক্তির) পুত্রই (সন্তান‌ই) হয় ॥ ৩১ ॥__________________________________________________

🌴 সিদ্ধান্ত : শিবমহাপুরাণ তথা মহাভারত শাস্ত্রের বচন অনুসারে প্রত্যেক সনাতনীর উচিত অবশ্য‌ই বৃক্ষরোপন করা। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি আধ্যাত্মিক গতিও উচ্চতরৎও সুলভ হয়।

__________________________________________________

🚩 তথ্য সংগ্রহ ও লেখনীতে : শিবালয় প্রতিষ্ঠাতা শিবদ্বারাধীশাধ্যক্ষ আচার্যপরমাধিকারী শ্রীগুরু নন্দীনাথ শৈব আচার্যদেব 🚩 

©️ কপিরাইট ও প্রচারে : Shivalaya 🔥 

শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তেতরাম্ 🚩 

ॐ নমঃ পার্বতীপতয়ে হর হর মহাদেব 🚩 


https://amzn.to/4ngUZ48 


#হিন্দুধর্ম #সনাতনধর্ম #শিবালয় #shiva #শিব #পরমেশ্বরশিব #ভগবান #পরমেশ্বরভগবানশিব #Shivalaya #sanatandharma #mahadev #shankar #শৈবধর্ম #শিবশাসন



মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ