মহাকাব্য রামায়ণে "মাংসভূতৌদনঃ" শব্দের অর্থ বিশ্লেষণ—

 -----🔶দেবী সীতা কি মাতা গঙ্গাকে রাজকীয় বস্ত্র ও অন্ন নিবেদন করার প্রতিজ্ঞা করেছে? “মাংসভূতৌদনঃ” অর্থ কি ফল? এমন দাবী করা কিছু বিদ্বান ব্যক্তিবর্গের মত ও অপপ্রচার খণ্ডন ও আপত্তি নিরসন🔶-------

🔘আজ একটি বিশেষ তর্কবহুল বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি। যদিও পূর্বে একই বিষয় নিয়ে বেশ গভীর আলোচনা ও বিশ্লেষণ করেছি আমি। পূণরায় একটি শ্লোককে কেন্দ্র করে বিশেষ কিছু বিদ্বান ব্যক্তিরা নিজস্ব মতামত দিয়েছেন। যদিও তাহাদের সেই মত শাস্ত্র অনুযায়ী সম্পূর্ণ মান্য ও প্রাসঙ্গিক নয়। তারপরেও সেই বিদ্বান ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে শব্দের ব্যাকরণগত সঠিক অর্থ তুলে ধরবো।

বিষয়টি হলো রামায়ণে একটি বিশেষ শ্লোক রয়েছে, যেখানে দেবী সীতা মাতার গঙ্গার উদ্দেশ্যে বলছে—

“সুরাঘটসহস্রেণ মাংসভূতৌদনেন চ।
যক্ষ্যে ত্বাং প্রীয়তাং দেবি পুরীং পুনরুপাগতা”।।
[বাল্মিকী রামায়ণ/অযোধ্যাকাণ্ড/৫২ সর্গঃ/৮৯]

অর্থ— “হে দেবি! আমরা (রাম, লক্ষণ, সীতা) আবার নগরে প্রত্যাবর্তিত হলে, তোমাকে সন্তুষ্ট করার জন্য এক সহস্র সুরাপূর্ণ ঘট ও “মাংস দ্বারা প্রস্তুত ভাত”  দ্বারা তোমার পূজা করব।”

👉বিষয়টি হলো শ্রীরামের যখন বনবাস হয় তখন দেবী সীতা মাতার গঙ্গাকে উদ্দেশ্যে করে এই প্রতিজ্ঞা করেন। যেখানে রাম ও লক্ষণ যদি পূণরায় অযোধ্যায় ফিরে আসে তখন দেবী সীতা মাতা গঙ্গার উদ্দেশ্যে বিশেষ উপাসনা করবেন। যেখানে দেবী সীতা মাতা গঙ্গার প্রসন্নতার জন্য হাজার কলস সুরা (মদ্য) ও মাংস দ্বারা রান্না করা ভাত (পোলাও/বিরিয়ানী) ইত্যাদি মাতা গঙ্গাকে নিবেদন করবেন। শ্লোকেরও একই মর্মার্থ হয়। কিন্তু, বর্তমানে বিশেষ কিছু বিদ্বান ব্যক্তিরা উক্ত শ্লোকে উপস্থিত পদ “মাংসভূতৌদনেন” দ্বারা অন্য অর্থ স্বীকার করছেন এবং সেই একই অর্থ প্রচার করছেন৷

উনাদের অনুযায়ী- “সুরাঘটসহস্রেণ মাংসভূতৌদনেন চ” এই শ্লোকাংশের অর্থ হয়— দেবদূর্বল বস্তু রাজকীয় বস্ত্র ও অন্ন নিবেদন করা। কিন্তু, আসলেই কি এমন অর্থ হয়?

উত্তর হলো না। কেননা, মাংসভূতৌদন পদ দ্বারা অন্য কোনো অর্থই গ্রহণযোগ্য না। প্রসঙ্গ ও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী শব্দের অর্থ যাচাই করতে হয়। রামায়ণে যেখানে যেখানে মাংস পদ উল্লেখ হয়েছে সেখানে অন্য প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন পশুরও উল্লেখ হয়েছে। মাংস পদের যদি অন্য অর্থ হয়, তবে পশুদের বধ করা হচ্ছে, মাংস রান্না করা হচ্ছে এর অন্য কি অর্থ হবে? সুতরাং, যার দ্বারা ব্যাপারটি বোঝা যায় মাংসভূতৌদন অর্থ মাংস ভাতই বোঝায় অন্য কোনো অর্থ নয়। কারণ উক্ত “ঔদন” পদের অর্থ হলো- ভাত/অন্ন ইত্যাদি। তাহলে, “মাংস” পদের অর্থ কি হবে? কারণ “মাংসভূতৌদনেন” পদটি সংযুক্ত তার দ্বারা কেবল অন্ন অর্থ নেওয়া যাবে না। তাই এক্ষেত্রে আমাদের শাস্ত্রের আশ্রয় নিতে হবে৷

তাহলে এবার দেখে নেওয়া যাক- “মাংসভূতৌদন” এর শাস্ত্রীয় অর্থ কি হয়—

🔘পাণিনীয় বিশ্লেষণ—

“তৎপুরুষঃ”
[পাণিনী ২/১/২২]

👉কাশিকা ভাষ্য—

“তৎপুরুষ ইতি সংজ্ঞাধিক্রিয়তে প্রাগ্ বহুব্রীহি। ইয়ানিত ঊর্ধ্বমনুক্রমিষ্যামঃ, তৎপুরুষসংজ্ঞাস্তে বেদিতব্যঃ।”

অর্থ:— বহুব্রীহি পর্যন্ত যে সব সমাস থাকে, সেগুলোকে তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।

তাই “মাংসভূতৌদনঃ” প্রথমেই তৎপুরুষ সমাস হিসেবে স্বীকৃত।

🔘একই প্রসঙ্গে অন্ন এবং ব্যঞ্জন সূত্রের প্রয়োগ—

“অন্নেন ব্যঞ্জনম্‌”
[পাণিনী ২/১/৩৪]

👉কাশিকা ভাষ্য—

“ব্যঞ্জনবাচি তৃতীয়ান্তমন্নবাচিনা সুবন্তেন সহ সমস্যতে বিভাষা, তৎপুরুষশ্চ সমাসো ভবতি। সংস্কার্যমন্নম্, সংস্কারকং ব্যঞ্জনম্। দধ্না উপসিক্ত ওদনঃ, দধ্যোদনঃ। ক্ষীরৌদনঃ। বৃত্তৌ ক্রিয়াযা অন্তর্ভাবাদন্নব্যঞ্জনয়োঃ সামার্থ্যং।”

অর্থ—

অন্ন = ভুতৌদন (ভাতজাত পদ)।

ব্যঞ্জন = মাংস (খাবারের সহচর পদ)।

👉উদাহরণ—

দধ্যোদনঃ = দধি + ভাত।

ক্ষীরৌদনঃ = দুধ + ভাত।

অনুরূপভাবে, মাংসভূতৌদনঃ = মাংস + ভাত।

এখানে “ভাত” প্রধান পদ, আর “মাংস” রান্নার জন্য যোগ করা উপাদান। ক্রিয়াটি ভিতরে অনুমিত (উপসর্জন) – অন্নম্ ব্যঞ্জনেনে সংস্ক্রিয়তে।

🔘কাশিকা ভাষ্য—

“উত্তরপদার্থপ্রধানস্তত্পুরুষ ইতি।”

অর্থ:— তৎপুরুষ সমাসে উত্তরপদ প্রধান, এখানে ভুতৌদন (ভাত) প্রধান। মাংস (মাংস) সহচর পদ।

অর্থ দাঁড়ায়— মাংস দ্বারা প্রস্তুত ভাত।

🔘মূল সংজ্ঞা—

অন্ন = যা প্রস্তুত করা হয় (ভাত)।

ব্যঞ্জন = যা প্রস্তুত করে (মাংস, দুধ, দধি)।

সমাসটি সংযুক্ত— মাংসভূতৌদনঃ = মাংসের সংযুক্তিতে প্রস্তুত ভাত।

🔘শাস্ত্রীয় তুলনা—

👉উদাহরণ—

দধ্যোদনঃ— দধি + ভাত = দধিভাত।

ক্ষীরৌদনঃ— দুধ + ভাত = দুধভাত।

মাংসভূতৌদনঃ—মাংস + ভাত = মাংসভাত।

✅সুতরাং—
মাংসভূতৌদন একটি তৎপুরুষ সমাস।
এটি অন্নেন ব্যঞ্জনম্‌ সূত্র (২/১/৩৪) অনুসারে গঠিত।
ভুতৌদন (ভাত) প্রধান, মাংস উপসর্জন।

অর্থ— মাংস দ্বারা প্রস্তুত ভাত / মাংসযুক্ত ভাত।

🔘আবার একই প্রসঙ্গে পাণিনী অষ্টাধ্যায়ীতে আরও একটি সূত্র প্রযোজ্য হয়—

“পূর্বে ভূতপূর্বে”

[পাণিনী ৬/২/২২]

👉কাশিকা ভাষ্য—

“পূর্বশব্দ উত্তরপদে ভূতপূর্ববাচিনি তৎপুরুষে সমাসে পূর্বপদং প্রকৃতিস্বরং ভবতি”।

অর্থ:— যখন পূর্ব পদ প্রধান এবং উত্তর পদ তৎপুরুষ সমাসে বিশেষণ হিসেবে যুক্ত হয়, তখন সমাসটি তৎপুরুষ সমাস হিসেবে স্বীকৃত।

👉পদ বিশ্লেষণ— “মাংসভূতৌদনঃ”

পূর্বপদ = ভূতৌদন (ভাত) → প্রধান।

উত্তরপদ = মাংস → ব্যঞ্জন/সহচর।

সমাস = তৎপুরুষ।

✅সুরতাং—

মাংসভূতৌদন অর্থ হলো- মাংস দ্বারা প্রস্তুত ভাত। 

🔴এবার এখানে সেই বিদ্বান ব্যক্তিরা দাবী করতেই পারেন যে, তবে মাংস শব্দ দ্বারা ফল বিশেষও বোঝানো হয়। বিভিন্ন শব্দ অভিধানে তার উল্লেখ আছে। তাহলে এক্ষেত্রে মাংস দ্বারা পশুর মাংস এমন অর্থ কীভাবে নির্ধারণ করা যাবে?

✅শংকা নিবারণ— সহজ ভাবে বোঝানোর জন্য এখানে ছাগপশুন্যায় উদ্ধৃত দেওয়া হলো—

— “অগ্নিষোমীয়ং পশুমালভেত” [তৈত্তিরীয় সংহিতা/৬/১/১/৬]  “পশুচোদনায়াম্‌ অনিয়মঃ অবিশেষাৎ” [মীমাংসা ৬/৮/৩০]— অগ্নিষোমীয় যজ্ঞে পশুবলি দেওয়া উচিত, এই নির্দেশক (বিধি) বাক্যে ‘'পশু’ এমন একটি সাধারণ পদ হওয়ায়, তা চার পায়ে চলা কোনো পশু বলি দেওয়ার কথা বলে, কোনো নির্দিষ্ট পশুর কথা বলে না। 

এই কারণে, সেই অগ্নিষোমীয় যজ্ঞে বলি দেওয়ার জন্য ঠিক কি পশু, সে বিষয়ে সন্দেহ হয়। কিন্তু, “ছাগস্য হবিশো বপায়া মেদসঃ” [তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ ৩/৬/৮/১]— অর্থাৎ ছাগলের চর্বি দিয়ে হোম করতে হবে, এই অর্থবোধক বিনিয়োগ মন্ত্র থেকে এবং এই মন্ত্রে ‘ছাগ’ নামক বিশেষ পদ থাকার কারণে, সাধারণ ‘পশু’ শব্দের অর্থ ‘ছাগ’ নির্ধারিত হয়।

এইভাবে, সাধারণ 'পশু’ শব্দের ‘ছাগ’ অর্থ না করলে, ‘'অগ্নিষোমীয়’’ এই বিধিবাক্য ও ‘ছাগস্য হবিশঃ’ এই বিনিয়োগ বাক্যের মধ্যে একতা থাকবে না। তাই সাধারণ ‘পশু’ শব্দের ‘ছাগ’ এই বিশেষ অর্থ গ্রহণ করা উচিত।

এই উদ্দেশ্য সিদ্ধ করার জন্য পূর্বমীমাংসার “ছাগো বা মন্ত্র বর্ণাত্‌” [মীমাংসা ৬/৮/৩১]— এই সূত্র প্রবৃত্ত হয়। একেই ছাগপশুন্যায় বলা হয়।

তাই এই ন্যায় দ্বারা সিদ্ধ হয়, ভিন্ন ভিন্ন মন্ত্রে যেসব বিশেষ পদ এসেছে, সেগুলির উপর ভাবনা করে, সাধারণ পদগুলোর অর্থ নির্ধারণ করা উচিত।

“মাংস” শব্দ অভিধানে ফল অর্থও রাখে, আবার পশুর মাংস অর্থও রাখে।

এখানে প্রসঙ্গ ভূতৌদন (ভাত) + মাংস।

প্রসঙ্গটি খাদ্যবস্তুর রান্না ও ব্যঞ্জন।

সুতরাং, “মাংস” যদি ফল অর্থে নেওয়া হয়, তবে প্রসঙ্গের সঙ্গে অসঙ্গতি হয়।
কিন্তু “মাংস = পশুর মাংস” অর্থ নিলে, সমগ্র প্রসঙ্গ (ভাতের সঙ্গে রান্না) সুন্দরভাবে মিলে যায়।

রামায়ণে এমন অনেক শ্লোক পাওয়া যায় যেখানে বিভিন্ন পশু যেমন- রুরু, পৃষত, মৃগ, কৃষ্ণমৃগ ইত্যাদি বধ করে তার দ্বারা বিশেষ উপাসনা/হোম করেছেন শ্রীরাম। নিষাদ রাজ গুহও ভরতকে শুষ্ক মাংস, মাছ নিবেদন করেছিলেন। ভরদ্বাজ মুনির আশ্রমেও বিভিন্ন পশুর মাংস দ্বারা বিভিন্ন ব্যঞ্জন তৈরী ছিলো এমন দেখেছেন ভরত এবং তা গ্রহণও করেছেন। এবং হনুমান রাবণের লঙ্কাতেও রাবণের জন্য রান্না করা বিভিন্ন পশু পক্ষীর মাংস দেখেছিলেন, যেখানে মাংসের অর্থ পশুরই মাংস। উক্ত সকল স্থানে মাংস অর্থে পশুর মাংসই স্পষ্ট বোঝানো হয়েছে। বিভিন্ন পশুর উপস্থিত পদ এখানে সুস্পষ্ট।

সুতরাং— ছাগপশুন্যায় যুক্তি প্রয়োগ করে যেমন “পশু” শব্দের অর্থ নির্দিষ্টভাবে “ছাগ” প্রমাণিত হয়, ঠিক তেমনই—
“মাংস” শব্দের অর্থ এখানে ‘পশুমাংস’।
অতএব, “মাংসভূতৌদনঃ” = পশুমাংস দ্বারা প্রস্তুত ভাত।

এই যুক্তি অনুসারে—
“মাংস” শব্দের সাধারণ অর্থ যদি ফল ধরা হয়, তবে প্রসঙ্গের (ভাত + মাংস রান্না) সঙ্গে অসঙ্গতি ঘটে।
কিন্তু “মাংস = পশুমাংস” নিলে, প্রসঙ্গ সঠিকভাবে মিলে যায়।

🔘একই প্রসঙ্গে পাণিনীয় সমর্থন—

“স্বং রূপং শব্দস্যাশব্দসংজ্ঞা”
[পাণিনী ১/১/৬৮]

👉কাশিকা ভাষ্য—

“শাস্ত্রে স্বমেব রূপং শব্দস্য গ্রাহ্যং বোধ্যং প্রত্যায়্যং ভবতি, ন বাহ্য অর্থ।”

অর্থ:— শব্দের নিজস্ব রূপ গ্রহণযোগ্য, বাইরের অর্থ বা পরিবর্তন নয়।

👉প্রয়োগ “মাংসভূতৌদনঃ” তে—

ভাত (ভূতৌদন) ও মাংস কেবল তাদের নিজস্ব রূপে যুক্ত হয়। অন্য কোনো প্রত্যয় বা সংযোজন প্রয়োজন নেই।

অর্থ দাঁড়ায়— মাংস দ্বারা প্রস্তুত ভাত।

👉এখানে বিষয়টি স্পষ্ট যে, যেসব বিদ্বান ব্যক্তিরা বিভিন্ন শব্দকোষ অভিধান থেকে মাংস শব্দের অর্থ ফল আদি অর্থ গ্রহণ করছেন, তা পাণিনীয় ১/১/৬৮ নং সূত্র দ্বারা বর্জিত হয়ে যায়। অর্থাৎ এখানে মাংস পদ অর্থে ফল অর্থ নেওয়া যাবে না। এখানে মাংস অর্থ পশুরই মাংস অর্থ হবে এটাই শাস্ত্রসম্মত।

অর্থাৎ অপ্রাসঙ্গিক অর্থ গ্রহণ করা যাবে না৷ কেননা, উক্ত প্রসঙ্গের সাথে ফল অর্থ প্রাসঙ্গিক নয়৷ যদি এমন হয় তবে- যেখানে রাম ও লক্ষণ পশুকে বধ করছে সেখানে কি- ফল কে বধ করছে এমন অর্থ নেওয়া যাবে? উত্তর হলো না। কেননা ফলকে বধ করা বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক। পশুকেই বধ করা হয় ফলকে নয়৷ তাই “মাংসভূতৌদন” এর সঠিক অর্থ হবে মাংস দ্বারা প্রস্তুত ভাত/অন্ন। অপ্রাসঙ্গিক অর্থ (ফল অর্থ) গ্রহণ করলে পাণিনীয় সূত্র, ন্যায় ও প্রসঙ্গের সাথে সাংঘর্ষিক হবে।

এই সিদ্ধান্তকে আরও দৃঢ়ভাবে বোঝাতে এখানে “স্থালীপুলক ন্যায়” প্রযোজ্য।

যেমন— ভাত রান্না হলে হাঁড়ির কয়েকটি দানা টিপে দেখা হয়, যদি এগুলি সিদ্ধ হয় তবে পুরো হাঁড়ির ভাত সিদ্ধ হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

তেমনই, শাস্ত্র ও কাব্যে পাওয়া কিছু প্রাসঙ্গিক উদাহরণ (যেমন— ভরতকে শুষ্ক মাংস নিবেদন, ভরদ্বাজ আশ্রমে মাংস দ্বারা রান্না, হনুমানের বর্ণনায় লঙ্কায় পশু-পক্ষীর মাংস) থেকেই নিশ্চিত হওয়া যায় যে ‘মাংস’ শব্দ সর্বত্রই পশুমাংস অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

অতএব, স্থালীপুলক ন্যায় দ্বারা নিশ্চিত হলো, ‘মাংসভূতৌদন’ অর্থ পশুমাংস-প্রস্তুত ভাত, ফল নয়।

✅সুরতাং— 
ছাগপশুন্যায় যুক্তি, স্থালীপুলক ন্যায় এবং পাণিনির সূত্র একত্রে প্রমাণ করে যে—
“মাংস” শব্দ এখানে ফল নয়, বরং পশুর মাংস।
অতএব, “মাংসভূতৌদনঃ” = পশুমাংস সহযোগে রান্না করা ভাত।

🔘সমাপনী বক্তব্য— শাস্ত্র, ব্যাকরণ ও প্রসঙ্গ অনুযায়ী “মাংসভূতৌদনঃ” শব্দের সঠিক অর্থ হলো পশুমাংস সহযোগে রান্না করা ভাত বা অন্ন।

পাণিনীয় ব্যাকরণ অনুযায়ী— শব্দের নিজস্ব রূপ গ্রহণযোগ্য (১/১/৬৮), তাই ‘মাংস’ ও ‘ভূতৌদন’ কেবল তাদের নিজস্ব অর্থে প্রযোজ্য। তৎপুরুষ সমাস ও অন্নেন ব্যঞ্জনম্‌ সূত্র (২/১/২২, ২/১/৩৪) অনুসারে ভাত প্রধান পদ, মাংস উপসর্জন।

প্রসঙ্গগত যুক্তি— রামায়ণে মাংস শব্দ সর্বত্র পশুর মাংস বোঝাচ্ছে। প্রসঙ্গের সঙ্গে ফল অর্থ গ্রহণ করলে অসঙ্গতি হয়।

ন্যায়গত প্রমাণ— স্থালীপুলক ন্যায় অনুযায়ী, যেমন ভাতের কিছু দানা দেখে সিদ্ধতা নির্ধারণ করা যায়, ঠিক তেমনই মাংস সংযুক্তি দ্বারা রান্না করা ভাত বোঝা যায়।

ছাগপশুন্যায় যুক্তি— সাধারণ পদ থেকে নির্দিষ্ট অর্থ নির্ধারণের ন্যায় এখানে প্রযোজ্য মাংস = পশুমাংস।


✅সিদ্ধান্ত—

“মাংসভূতৌদনঃ” = পশুমাংস সহযোগে রান্না করা ভাত। ফল বা অন্য কোনো অর্থ গ্রহণ অপ্রাসঙ্গিক এবং শাস্ত্রসম্মত নয়।

👉বি: দ্র:— লেখাটি কারো ভালো না লাগলে তিনি এড়িয়ে যাবেন। অহেতুক কমেন্ট বক্সে এসে অপ্রাসঙ্গিক তর্ক করবেন না৷ প্রয়োজনে আমার এই লেখার বিপরীতে উপযুক্ত শাস্ত্রীয় উদ্ধৃত যুক্তি তর্ক দ্বারা খন্ডন করতে পারেন।


         🙏“সর্বে হ্যেষ রুদ্রস্তস্মৈ রুদ্রায় নমো অস্তু”🙏


নমঃ শিবায় 🙏
নমঃ শিবায়ৈ🙏
শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তে ✊🚩

✍️লেখনীতে— অন্তিক ভট্টাচার্য্য (শম্বরনাথ শৈব)।

🌻বিশেষ কৃতজ্ঞতা— আমার গুরু শ্রী নন্দীনাথ শৈবাচার্য ও আমার আদর্শ শ্রী রোহিত কুমার চৌধুরী শৈবজী।

কপিরাইট ও প্রচারে — SHIVALAYA

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ