পশুর মেদ দ্বারা তৃণ-লতা বৃক্ষাদি বনস্পতি উৎপন্ন হয়েছে — বলছে বেদ

 


🍖 ↔️ 🥬 পশুর মেদ দ্বারা তৃণ-লতা বৃক্ষাদি বনস্পতি উৎপন্ন হয়েছে — বলছে বেদ

_______________________________________________


🔰 ভূমিকা — বর্তমান সময়ে একটি প্রচলিত ধারণা হলো— যিনি নিরামিষভোজী, তিনি নাকি স্বভাবতই অধিক ধর্মপরায়ণ, পবিত্র ও অহিংস ; আর যিনি মাংস ভোজন করেন, তিনি নাকি অধার্মিক, নিষ্ঠুর বা পাপী। এই ধারণার ভিত্তিতে বহু মানুষ আমিষভোজীদের নিন্দা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য এবং ধর্মীয়ভাবে হীন প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রশ্ন হল — সনাতন ধর্মে খাদ্যের শুদ্ধতা, পাপ-পুণ্য এবং ধর্ম-অধর্ম নির্ধারণের একমাত্র মানদণ্ড কি ব্যক্তিগত মতামত, নাকি বেদ ?

সনাতন ধর্মে বেদই সর্বোচ্চ প্রমাণ (প্রমাণশাস্ত্র)। অতএব, খাদ্য সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হলে সর্বাগ্রে বেদের বক্তব্যই বিবেচ্য। যদি বেদ এমন কোনো তত্ত্ব উপস্থাপন করে, যা আমাদের প্রচলিত ধারণার সঙ্গে মিল না-ও খায়, তবে একজন বেদমান্য সনাতনীর কর্তব্য হবে সেই বেদবচনকে শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করা, ব্যক্তিগত ধারণাকে নয়।

এই প্রবন্ধে শুক্ল-যজুর্বেদের শতপথ ব্রাহ্মণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বচনের আলোচনার মাধ্যমে দেখানো হবে যে, বেদে উদ্ভিদের উৎপত্তি সম্পর্কে কী বলা হয়েছে এবং সেই আলোকে "নিরামিষ" ও "আমিষ" নিয়ে প্রচলিত কিছু যুক্তি কতখানি পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে। এই আলোচনা কারও খাদ্যাভ্যাসের সমালোচনা করার জন্য নয়; বরং যারা কেবল খাদ্যাভ্যাসের ভিত্তিতে অন্যদের পাপী, অধার্মিক বা হীন বলে নিন্দা করেন, তাঁদের যুক্তির শাস্ত্রীয় মূল্যায়নের উদ্দেশ্যে উপস্থাপিত।

_____________________________________________

♦️ বেদ স্বয়ং বলছে —


তস্যাবাঙ্ মেধঃ পপাত। 

স ঽএষ বনস্পতিরজায়ত ॥ ১২ ॥

[শুক্ল-যজুর্বেদ/শতপথ ব্রাহ্মণ/৩/৮/৩/১২]

✅ অর্থ : ঐ দেবতাদের দ্বারা আলভ্যমান পশুর সকাশে মেধ নীচের মর্ত্যলোকে পতিত হয় এবং তা থেকে স্থাবর জাতীয় তৃণ-লতাদি বনস্পতি উৎপন্ন হয়েছিল।
_____________________________________________

🧠🔍 কট্টর নিরামিষাশীদের বোধ বিচার —

বেদ হল ধর্মের ভিত্তি, উচিত অনুচিত বিষয়ে একমাত্র মানদণ্ড বেদ নির্ণয় করেন।
যারা নিজেদের ধার্মিক ব্যক্তি প্রমাণ করবার জন্য একমাত্র নিরামিষ আহারকেই শ্রেষ্ঠ ভাবেন, যারা নিজেরা লতা-পাতা, বৃক্ষের ছাল বাকল বা ফল ইত্যাদি আহার করেন, অথচ আমিষাশীদের  প্রাণীমাংস ভোজন করার বিষয়ে এই করণে ঘৃণা করেন যে আমিষাশীরা প্রাণীর দেহাংশভূত মাংস ভোজন করেন। অথচ ধর্মের মানদণ্ড নির্ণয়কারী বেদ বলছে যে, দেবতার উদ্দেশ্যে বলি দেওয়া মেদ থেকে বৃক্ষযোনীর উৎপত্তি হয়েছে। তাহলে নিরামিষাশী লতাপাতা ফল ভোজী ব্যক্তিগণ আসলে কি খাচ্ছে ? হ্যা, পশুর দেহাংশ‌ই আহার করছে পরোক্ষভাবেই। অর্থাৎ, নিরামিষাশী ব্যক্তিগণ অন্য মাংসাশীদের প্রাণীমাংস খাওয়ার উপর যে দোষারোপ করে থাকেন, বেদ অনুসারে সেই নিরামিষাশীরা ব্যক্তিগণ নিজেরাই সেই পশুমাংসের মেদে তৈরী উদ্ভিদ আহার করবার ফলে এক‌ই দোষে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

এখন উদ্ভিদভোজী নিরামিষাশীরা কি বলবেন ? বেদ মানবেন না ? বেদ মিথ্যা ? বেদের বচন কে মিথ্যা বলার অর্থ ঈশ্বরের বচনকে অস্বীকার করা, অর্থাৎ এর চেয়ে বড় পাপ আর কিছু হয় না। যারা বেদকে প্রমাণ বলে মান্য করেন তারাই ধার্মিক, যারা বেদকে অস্বীকার করেন, শাস্ত্র তাদের “নাস্তিকো বেদনিন্দুকঃ[মনু সংহিতা/২/১১] — ‘নাস্তিক’ আখ্যা দিয়েছে। আর নাস্তিকদের কথাতে ধর্ম নির্ণয় হয় না। বরং বাল্মিকী রামায়ণের অযোধ্যা কাণ্ডের ১০৯ সর্গের ৩৪ নং শ্লোকে বলা হয়েছে — বেদকে অপ্রমাণ মান্যকারী ভ্রষ্টাচারী নাস্তিকদের শাস্তি দিতে বলেছেন, ব্রাহ্মণদের বলা হয়েছে উক্ত নাস্তিকদের সাথে বার্তালাপ না করতে। কারণ, নাস্তিকেরা নিজেদের খেয়াল খুশি মতো চলেন, নিজেদের যা ইচ্ছে তাই একমাত্র সঠিক বলে মানেন, এক্ষেত্রে কল্যাণকারী ধর্মের উৎস বেদের প্রমাণকেও তারা অস্বীকার করেন। তাই রামায়ণে তাদের শাস্তি দিতে বলা হয়েছে।

যারা শুধুমাত্র উদ্ভিজ্জ্য নিরামিষ আহার করেন তাদের নিয়ে আমাদের সমস্যা নেই, কিন্তু যখন কেউ নিজে উদ্ভিদাদি নিরামিষ আহার করেন বলে, আমিষাশীদের কটুক্তি নিন্দা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন, পাপী দোষী বলে নিজেদের উদ্ভিদ আহারের অহংকার প্রকাশ করেন। তখন তাদের যুক্তি যে দুর্বল ও স্ববিরোধী, আর তারাই পরোক্ষভাবে পশুমাংস ভোজী, সেটি প্রমাণ করে দেওয়ার জন্য‌ই এই প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হল বেদ থেকে।
_____________________________________________

♦️ শিবগীতায় পরমেশ্বর শিব স্বয়ং বলেছেন —

জরায়ুজোঽণ্ডজশ্চৈব স্বেদজশ্চোদ্ভিজস্তথা ।

এবং চতুর্বিধঃ প্রোক্তো দেহোঽয়ং পাঞ্চভৌতিকঃ ॥ ৩ ॥


[পদ্মপুরাণ/পাতালখণ্ড/শিবগীতা/৮ অধ্যায়/৩ নং শ্লোক]

অর্থ — জরায়ুজ , অণ্ডজ , স্বেদজ এবং উদ্ভিজ - এই হল পাঞ্চভৌতিক দেহের চারটি প্রকারভেদ ॥ ৩ ॥

অর্থাৎ, সকল প্রাণযুক্ত জীব পঞ্চভূতের তৈরী। যারা প্রাণযুক্ত উদ্ভিদের প্রাণনাশ করে খেয়ে ভাবছে যে তারা প্রাণ হত্যা করেনি বা মাংসভোজন করেনি, প্রকৃতপক্ষে এটি তাদের জ্ঞানের অপরিপক্কতা মাত্র।
_____________________________________________

🤢 মাংস আহারের বিরোধী কট্টর বিরোধীরা আশা করছি আপনারা এরপর থেকে উদ্ভিজ্জ বস্তু আহারের সময় সেটি পশুর মেদ দ্বারাই তৈরী তা ভুলে যাবেন না।

[বিশেষ দ্রষ্টব্য : কেউ একদিকে নিজেকে সনাতনী দাবী করে, অন্যদিকে আধুনিক বিজ্ঞান দিয়ে বেদের বচনের যৌক্তিকতা খুঁজতে যাবেন না। কারণ, আমাদের সনাতন ধর্ম অনেক অলৌকিকতার উপর টিকে আছে, যার ভিত্তি হল : বেদাদি শাস্ত্রের বচন ও তার উপর করা বিশ্বাস। যেমন - গঙ্গা শিবের জটা থেকে প্রবাহিত হয় বলে সনাতনীরা বিশ্বাস করে, রুদ্রের চোখের জল থেকে রুদ্রাক্ষ গাছ বিশেষভাবে উৎপন্ন হয়েছে বলে সনাতনীরা বিশ্বাস করে। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান কি তা প্রামাণিক সত্য বলে মান্যতা দিয়েছে ? না, আধুনিক বিজ্ঞান তা মানে না, প্রামাণিক বলে এগুলিকে মান‌তা দেয়নি। এটি সনাতনীদের ধর্মীয় বিশ্বাস। তাই বেদকে অস্বীকার করে আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিচার করতে গেলে, নিজের ধার্মিকতার উপরেই আপনি প্রশ্নবিদ্ধকারী হয়ে স্ববিরোধদোষে কলঙ্কিত হয়ে, অধার্মিক প্রমাণিত হবেন]
__________________________________________________

🔥 সিদ্ধান্ত — বেদ অনুসারে, পশুর দেহাংশ মাংসের মেদ দ্বারা উদ্ভিদাদির উৎপত্তি হয়েছে। সুতরাং বেদ বচন অনুসারে - বিশ্বে কেউ‌ই নিরামিষাশী নন। সকলেই মাংসাহারী আমিষাশী।
__________________________________________________

🚩 তথ্য সংগ্রহ ও সত্য উন্মোচনে : শিবালয় প্রতিষ্ঠাতা শিবদ্বারাধীশাধ্যক্ষ দেশিক আচার্যপরমাধিকারী শ্রীশ্রীগুরু নন্দীনাথ শৈব আচার্যদেব জী 🚩

©️ কপিরাইট ও প্রচারে : Shivalaya 🔥

শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তেতরাম্ 🚩
ॐ নমঃ পার্বতীপতয়ে হর হর মহাদেব 🚩

পরমেশ্বর শিবের ও সনাতন শৈবধর্মের বিষয়ে এমন গুহ্য সত্য রহস্য ও সত্য উন্মোচনমূলক লেখা আরো পেতে অবশ্য‌ই আমাদের Shivalaya ফেসবুক পেজ Follow করে Favourite করে রাখুন। এই তথ্য দ্বারা যদি আপনার জ্ঞান বৃদ্ধি হয়ে থাকে তবে অবশ্য‌ই এই লেখাটি শেয়ার করুন, যাতে সত্য প্রকাশ্যে আসে।

#হিন্দুধর্ম #সনাতনধর্ম #শিবালয় #Shivalaya #sanatandharma #খাদ্যাভ্যাস  #শৈবধর্ম #আমিষ #নিরামিষ #মাংসাহার #মহাভারত #মনুস্মৃতি #ব্যাসস্মৃতি #শতপথব্রাহ্মণ #শুক্ল-যজুর্বে‌দ #উদ্ভিদ



[এই পোস্টটি শুধুমাত্র শিক্ষামূলক ও জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত।এখানে ব্যবহৃত চিত্রটি কেবল বিষয়টি সহজে উপস্থাপনের জন্য Ai-সহায়তায় নির্মিত একটি প্রতীকী চিত্র, এই ছবিটির মধ্যে কিছু লেখা আলাদা ভাবে লেখা হয়েছে। সকল শাস্ত্রীয় উদ্ধৃতি ও তথ্য যথাসম্ভব মূল গ্রন্থ অনুসারে ছবি উপস্থাপিত হয়েছে।]

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ