আত্মজ্ঞান কি ? আত্মজ্ঞান লাভ হলে আত্মজ্ঞানীর দৃষ্টিকোণ কেমন হয় ?
সোঽহমের্কঃ পরং জ্যোতিরর্কজ্যোতিরহং শিবঃ ।
আত্মজ্যোতিরহং শুক্রঃ সর্বজ্যোতিরসাবদোম্ ॥ ১১
(অথর্ব-বেদ/মহাবাক্য উপনিষদ/১১ নং মন্ত্র)
অর্থ — আমি সেই [সোঽহম্/ হংস] চিদ্ আদিত্য, আমি আদিত্য রূপ সেই পরম জ্যোতি, আমি সেই জ্যোতিস্বরূপ শিব (শিবলিঙ্গ/পরমাত্মা পরমশিব)। আমি সেই শ্রেষ্ঠ আত্মজ্যোতি, সকলকে প্রকাশ প্রদানকারী বীজরূপ ব্রহ্ম আমিই তথা সেই প্রকাশিত জ্যোতি থেকে আমি কখনোই পৃথক হই না ।
মুক্তির স্বরূপ কেমন ?
উত্তর —
মুক্তিরাত্মস্বরূপেণ স্বাত্মারামত্বমেব হি ।
ক্রিয়াতপোজপজ্ঞানধ্যানধর্মেষু সুস্থিতঃ ॥ ৯৯
শিবস্য দর্শনং লব্ধ্বা স্বাত্মারামত্বমেব হি ।
যথা রবিঃ স্বকিরণাদশুদ্ধিমপনেষ্যতি ॥ ১০০
কৃপাবিচক্ষণঃ শম্ভুরজ্ঞানমপনেষ্যতি ।
অজ্ঞানবিনিবৃত্তৌ তু শিবজ্ঞানং প্রবর্ততে ॥ ১০১
শিবজ্ঞানাৎস্বস্বরূপমাত্মারামত্বমেষ্যতি ।
আত্মারামত্বসংসিদ্ধৌ কৃতকৃত্যো ভবেন্নরঃ ॥ ১০২
[শিবমহাপুরাণ/বিদ্যেশ্বর সংহিতা/১৭ অধ্যায়/৯৯-১০২ শ্লোক]
অর্থ — আত্মস্বরূপে যে স্থিতি, তাকেই মুক্তি বলে। একমাত্র নিজের আত্মা তে রমন বা আনন্দের অনুভব করাই মুক্তির স্বরূপ বলে জানা উচিত। যে ব্যক্তি ক্রিয়া, তপ, জপ, জ্ঞান আর ধ্যান রূপী ধর্মতে সঠিকভাবে স্থিত, তিনি শিবের সাক্ষাৎকার করে স্বাত্মারামত্বরূপ মোক্ষ প্রাপ্তি করে নিতে সক্ষম হন। যেমনভাবে সূর্য নিজের কিরণের দ্বারা অশুদ্ধিকে দূর করে দেন, তেমনভাবেই কৃপা করতে কুশল পরমেশ্বর শিব নিজের ভক্তের অজ্ঞান দূর করে দেন । অজ্ঞানের নিবৃত্তি হয়ে গেলে শিবজ্ঞান স্বতঃ প্রকট হয়ে যায়। শিবজ্ঞানের দ্বারা নিজের বিশুদ্ধ স্বরূপ আত্মরামত্ব প্রাপ্ত হয় আর আত্মরামত্বের সম্যক্ সিদ্ধি হয়ে গেলে মানুষ কৃতকৃত্য হয়ে যান ॥ ৯৯-১০২ ।
পরমেশ্বর শিব কখন আর কি করলে মুক্তি দেন ?
উত্তর —
[শিবমহাপুরাণ/বিদ্যেশ্বর সংহিতা/১৭ অধ্যায়/৯৯-১০২ শ্লোক]
অর্থ — পাঁচ আবরণ যুক্ত জ্ঞানময় কৈলাস, সেখানে পাঁচ মণ্ডল, পাঁচ ব্রহ্ম কলা আর আদি শক্তির দ্বারা সংযুক্ত আদি লিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। তাকে পরমাত্মা শিবের শিবালয় বলা হয় । সেখানে পরাশক্তির দ্বারা যুক্ত পরমেশ্বর শিব নিবাস করেন। তিনি সৃষ্টি, পালন, সংহার, তিরোভাব ও অনুগ্রহ — এই পাঁচ কৃত্যতে প্রবীণ। তিনি স্বয়ং সচ্চিদানন্দ বিগ্রহ । তিনি সদা ধ্যান রূপী ধর্মতে স্থিত এবং সদা সবার উপর অনুগ্রহ করতে থাকেন । তিনি স্বয়ং স্বাত্মারাম এবং সমাধি রূপী আসনের উপর উপবিষ্ট হয়ে সুশোভিত হয়ে থাকেন। কর্ম এবং ধ্যান আদির অনুষ্ঠান করবার ফলে ক্রমশ সাধন পথে এগিয়ে গিয়েই তার দর্শন সম্ভব হয় । নিত্যনৈমিত্তিক আদি কর্ম দ্বারা দেবতাদের যজন করবার ফলে পরমেশ্বর শিবের সমারাধন কর্মতে মন লেগে যেতে সক্ষম হয়। ক্রিয়া আদি যে শিবসম্বন্ধীয় কর্ম আছে, তার দ্বারা শিবজ্ঞান সিদ্ধ করবে। এভাবে যিনি শিব তত্ত্বের সাক্ষাৎকার করে নিয়েছেন অথবা যাদের ওপর পরমেশ্বর শিবের কৃপাদৃষ্টি পড়ে তারা সবাই মুক্ত , এতে কোনো সংশয় নেই ॥ ৯২-৯৮

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন