পশুর মাংসাহারে অভ্যস্থ ব্যক্তির দোষ হয় না — বলছে মনুস্মৃতি
🍗 পশুর মাংসাহারে অভ্যস্থ ব্যক্তির দোষ হয় না — বলছে মনুস্মৃতি
__________________________________________________
♦️ প্রমাণ —
নাত্তা দূষ্যত্যদন্নাদ্যান্ প্রাণিনেইহন্যহন্যপি।
ধাত্রৈব সৃষ্টা হ্যাদ্যাশ্চ প্রাণিনোইত্তার এব চ ॥ ৩০ ॥
[মনুস্মৃতি/৫ অধ্যায়/৩০ নং শ্লোক]
✅ অর্থ : ভক্ষণকারী ব্যক্তি ভক্ষণযোগ্য জীবকে নিত্যদিন বধ করে ভক্ষণ করলেও তাতে তিনি (শাস্ত্রমতে) দোষী হন না। কারণ, সৃষ্টিকর্তা নিজেই একদল প্রাণীকে ভক্ষণের যোগ্য এবং অন্যদল প্রানীকে ভক্ষণকারী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন।
__________________________________________________
☝️ মহর্ষি ব্যাসদেব তার ব্যাস সংহিতার ১ম অধ্যায়ের ৪ নং শ্লোকে তে বলেছেন —
শ্রুতি স্মৃতি পুরাণানাং বিরোধো যত্র দৃশ্যতে ।
তত্র শ্রৌতং প্রমাণস্তু তয়োর্দ্বৈধে স্মৃতিব্বরা ॥
[ব্যাসস্মৃতি/১ অধ্যায়/৪ নং শ্লোক]
✅ অর্থ : যেখানে শ্রুতি, স্মৃতি ও পুরাণের বিরোধ দেখা যায়, সেখানে শ্রুতির কথনই বলবান এবং যেস্থলে স্মৃতি ও পুরাণের বিরোধ দেখা যায়, সেখানে স্মৃতির কথনই বলবান।
[ব্যাস সংহিতা/১/৪ - অনুসারে, পুরাণের সাথে স্মৃতিশাস্ত্রের মধ্যে বিরোধপূর্ণ স্থানে পুরাণের বচনের চেয়ে স্মৃতিশাস্ত্রের বচন বলবান ও গ্রহণযোগ্য। সেক্ষেত্রে উক্ত পুরাণের বচন অগ্রহণযোগ্য]
__________________________________________________
🔶 বিশ্লেষণ — পুরাণের বচন হল বিস্তারিত কাহিনীর সমাহার, সেখানে বেদসম্মত বচন অথবা বেদ বিরুদ্ধবচনও থাকে যা কাহিনীতে সম্পূর্ণ ভাবে প্রসঙ্গত বর্ণিত হয় মাত্র, যার মায়ায় পড়ে মানুষ মায়ায় আবদ্ধ হয়ে বারংবার জন্ম মৃত্যুর চক্রে আবর্তিত হয়। কিন্তু স্মৃতি শাস্ত্র হল বিধান শাস্ত্র। যদি বিধনের বিপরীত কোনো বচন পুরাণে বা ইতিহাসে থাকে, সেটিকে বিরোধ দোষ বলে গণ্য করা হয়। সেক্ষেত্রে বিধানের চেয়ে কাহিনী কখনো সর্বাগ্রে ‘প্রমাণ’ হিসেবে গণ্য হয় না। তাই পুরাণের বচনে যদি শাস্ত্রসম্মত মাংসাহারের বিপক্ষে কিছু উক্ত হয়ে থাকে, তবে তা পরিত্যাজ্য। কারণ, বিধান বাক্য অর্থাৎ স্মৃতি শাস্ত্রের কাছে পুরাণ প্রমাণ দুর্বল।
__________________________________________________
🔥 সিদ্ধান্ত — যারা শিশুকাল থেকেই মাংস আহার করে অভ্যস্ত, তাদের কোনো দোষ হয় না। কারণ, তারা এতেই অভ্যস্ত। তাই জোরপূর্বক নিরামিষাশী হতেই হবে এমন কোনো বাধ্যতামূলক বিষয় নেই।
__________________________________________________
🚩 তথ্য সংগ্রহ ও সত্য উন্মোচনে : শিবালয় প্রতিষ্ঠাতা শিবদ্বারাধীশাধ্যক্ষ দেশিক আচার্যপরমাধিকারী শ্রীশ্রীগুরু নন্দীনাথ শৈব আচার্যদেব জী 🚩
©️ কপিরাইট ও প্রচারে : Shivalaya 🔥
শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তেতরাম্ 🚩
ॐ নমঃ পার্বতীপতয়ে হর হর মহাদেব 🚩
পরমেশ্বর শিবের ও সনাতন শৈবধর্মের বিষয়ে এমন গুহ্য সত্য রহস্য ও সত্য উন্মোচনমূলক লেখা আরো পেতে অবশ্যই আমাদের Shivalaya ফেসবুক পেজ Follow করে Favourite করে রাখুন। এই তথ্য দ্বারা যদি আপনার জ্ঞান বৃদ্ধি হয়ে থাকে তবে অবশ্যই এই লেখাটি শেয়ার করুন, যাতে সত্য প্রকাশ্যে আসে।
#হিন্দুধর্ম #সনাতনধর্ম #শিবালয় #Shivalaya #sanatandharma #খাদ্যাভ্যাস #শৈবধর্ম #আমিষ #নিরামিষ #মাংসাহার #মহাভারত #মনুস্মৃতি #ব্যাসস্মৃতি
[এই পোস্টটি শুধুমাত্র শিক্ষামূলক ও জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত।এখানে ব্যবহৃত চিত্রটি কেবল বিষয়টি সহজে উপস্থাপনের জন্য Ai-সহায়তায় নির্মিত একটি প্রতীকী চিত্র, এই ছবিটির মধ্যে কিছু লেখা আলাদা ভাবে লেখা হয়েছে। সকল শাস্ত্রীয় উদ্ধৃতি ও তথ্য যথাসম্ভব মূল গ্রন্থ অনুসারে ছবি উপস্থাপিত হয়েছে।]


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন