(গরু বাদে) অনুমোদিত পশু বধ করে মাংস আহার করা অধর্ম নয়
🍗 (গরু বাদে) অনুমোদিত পশু বধ করে মাংস আহার করা অধর্ম নয়
__________________________________________________
🔰 ভূমিকা — বর্তমান কালে অতিভক্তি চোরের লক্ষণ প্রবাদটি সফল হতে দেখা যাচ্ছে। ধর্ম কর্মের মানদণ্ড হিসেবে কে নিরামিষ ও আমিষ বিষয়টিকেই প্রাধান্যতা দেওয়া হচ্ছে। সনাতনীদের মধ্যে এমন বেশকিছু তথাকথিত অতিধার্মিক ব্যক্তিদের দাবী হল — নিরামিষাশীরাই একমাত্র ঈশ্বরের উপাসক হতে পারে, ধার্মিক হতে পারে। কিন্তু যারা মাংস আহার করেন তারা কখনোই ঈশ্বরের উপাসক হতে সক্ষম নন, তারা ঈশ্বরের কৃপা লাভেও সক্ষম নন, তারা ধার্মিক নন।
জীবের প্রাণ হরণ করে আহার করার কারণে আমিষাশীরা নাকি পাপী। নিরামিষাশীদের ভাষায় - মাছ মাংস নাকি অভক্ষ্য, ভক্ষণের উপযুক্ত নয়।
অথচ সনাতন ধর্মের শাস্ত্রে বলা হয়েছে সমগ্র জগৎ স্থাবর ও জঙ্গম এই দুই প্রকার জীবে পরিপূর্ণ। এখানে স্থাবররূপী গাছপালাতেও প্রাণ আছে আবার জঙ্গমরূপী জন্তুতেও প্রাণ আছে।
এখন কট্টর নিরামিষাশীরা বলেন যে, উদ্ভিদ হল ভক্ষ্য অর্থাৎ ভক্ষণ করবার যোগ্য আহার। উদ্ভিদজ্জ আহার করে নিরামিষাশী ভোজী হলে, এক্ষেত্রে প্রাণ হত্যা হয়না।
তাহলে তাদের এমন বোধবুদ্ধির পরিপক্কতা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় উৎপন্ন হয় । শাস্ত্র ও আধুনিক বিজ্ঞান উভয়েরই সিদ্ধান্ত হল উদ্ভিদেও প্রাণ আছে। তাই তার দেহ থেকে প্রাণকে চ্যুত করার অর্থই হল প্রাণ ছিনিয়ে নিয়ে নিজেও সেই প্রাণ হত করবার দোষে জর্জরিত হওয়া। প্রাণ হরণ করাতেই যদি দোষ বা পাপ তথা বিরোধীতা করবার কারণ হয়ে থাকে তাহলে নিরামিষাশীরা নিজেরাই প্রাণ হনন করেই আহার করে থাকে। তাই তাদের অযৌক্তিক দাবী নিয়ে ধর্ম-অধর্ম বিচর করা জ্ঞানীর পরিচয় নয়।
স্কন্দমহাপুরাণের সূত সংহিতায় যজ্ঞবৈভব খণ্ডের পূর্বভাগের ৪৫ অধ্যায়ের ৭-১০ নং শ্লোক বলছে, ব্রহ্মজ্ঞানীর জন্য ভক্ষ্য অভক্ষ্য অর্থাৎ এই নিরামিষ আমিষ আহারের পার্থক্য নেই। যারা ব্রহ্মজ্ঞানী নন তারাই আহার নিয়ে বিভাজন করে। তারা মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও মাংসাহারকারীদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বেড়ান।
এই প্রবন্ধে মাংস আহারকারী আমিষাশীরাও যে দোষের ভাগীদার নন, তা ইতিহাস শাস্ত্র মহাভারতের শান্তিপর্বে পিতামহ ভীষ্মের বচনের মাধ্যমে উপস্থাপন করছি। যাতে কট্টর নিরামিষাশীরা অন্তত এটুকু বুঝতে সক্ষম হয় যে মাংস আহারকারীরা অধার্মিক, পাপী নন। বরং
সনাতন ধর্মের শাস্ত্রের বচনই আমিষাশী ব্যক্তিদের নির্দোষ বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে।
__________________________________________________
♦️ মহাভরত থেকে প্রমাণ —
অমানুষীষু গোবর্জনম্ অনাবৃষ্টির্ন দুষ্যতি।
অধিষ্ঠাতারমন্তারং পশূনাং পুরুষং বিদুঃ ॥ ৬৮ ॥
[হরিদাস সিদ্ধান্ত বাগীশ ভট্টাচার্য অনুবাদিত, বিশ্ববাণী প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত — মহাভারত শান্তিপর্ব/ষষ্ট্যধিকশততমোঽধ্যায় (১৬০ অধ্যায়)/৬৮ শ্লোক]
✅ অর্থ : গরু ভিন্ন অন্যান্য পশুর হিংসা করা দোষবহ নহে। কারণ মুনিরা অবগত আছেন যে, মানুষ পশুর ওপর আরোহণ করে এবং তাহার মাংস ভক্ষণ করিরা থাকে।
🔶 আরো সরল ব্যাখ্যা করে বললে, ভাবার্থ ঠিক এমন —
গরু বাদ দিয়ে, শাস্ত্রে অনুমোদিত শুধুমাত্র বিহিত অনান্য পশু বধ করে, তার মাংস আহারে দোষ নেই। কারণ, মুনিরাও এটি জানেন যে, মানুষ পশুর (অশ্ব, হাতি ইত্যাদির)
উপরেই আরোহন করেন, আর পশুর (ছাগল, হরিণাদির)
মাংস আহার করেন।
__________________________________________________
🔥 সিদ্ধান্ত —
মুনিরাও জানেন মাংসাহার মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি এতে দোষ হয়না, কিন্তু যারা ব্রহ্মজ্ঞানহীন ব্যক্তি, তারাই মাংসাহারের নিন্দা করেন।
__________________________________________________
🚩 তথ্য সংগ্রহকারী ও ব্যাখ্যাকার : শিবালয় প্রতিষ্ঠাতা শিবদ্বারাধীশাধ্যক্ষ দেশিক আচার্যপরমাধিকারী শ্রীশ্রীগুরু নন্দীনাথ শৈব আচার্যদেব 🚩
©️ কপিরাইট ও প্রচারে : Shivalaya 🔥
শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তেতরাম্ 🚩
ॐ নমঃ পার্বতীপতয়ে হর হর মহাদেব 🚩
পরমেশ্বর শিবের ও সনাতন শৈবধর্মের বিষয়ে এমন গুহ্য সত্য রহস্য ও সত্য উন্মোচনমূলক লেখা আরো পেতে অবশ্যই আমাদের Shivalaya ফেসবুক পেজ Follow করে Favourite করে রাখুন। এই তথ্য দ্বারা যদি আপনার জ্ঞান বৃদ্ধি হয়ে থাকে তবে অবশ্যই এই লেখাটি শেয়ার করুন, যাতে সত্য প্রকাশ্যে আসে।
#হিন্দুধর্ম #সনাতনধর্ম #শিবালয় #Shivalaya #sanatandharma #খাদ্যাভ্যাস #শৈবধর্ম #আমিষ #নিরামিষ #মাংসাহার #মহাভারত
[এই পোস্টটি শুধুমাত্র শিক্ষামূলক ও জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত।এখানে ব্যবহৃত চিত্রটি কেবল বিষয়টি সহজে উপস্থাপনের জন্য Ai-সহায়তায় নির্মিত একটি প্রতীকী চিত্র, এই ছবিটির মধ্যে কিছু লেখা আলাদা ভাবে লেখা হয়েছে। সকল শাস্ত্রীয় উদ্ধৃতি ও তথ্য যথাসম্ভব মূল গ্রন্থ অনুসারে ছবি উপস্থাপিত হয়েছে।]


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন