বেদের সৃষ্টি কে করেছেন ?
📿বেদ এর সৃষ্টি?? মহাদেব এর নিঃশ্বাস থেকে??
🛑বেদ কে নিগম বলে কেননা তা নিঃশ্বাস থেকে আগত শাস্ত্র। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কার নিঃশ্বাস? কে সেই পরম পুরুষ?
আসুন দেখি এই বিষয়ে শাস্ত্র কি বলছে।
☸️প্রথমেই দেখা যাক বেদ ও উপনিষদ এই নিয়ে কি বলে?
⚜️বৃহদরণ্যক উপনিষদ ২.৪.১০
🔱স যথাঽর্দ্রৈধাগ্নেরভ্যাহিতাত্পৃথগ্ধূমা বিনিশ্চরন্ত্যেবং
বা অরেঽস্য মহতো ভূতস্য নিঃশ্বসিতমেতদ্ যদৃগ্বেদো যজুর্বেদঃ সামবেদোঽথর্বাংগিরস ইতিহাসঃ পুরাণং বিদ্যা উপনিষদঃ শ্লোকাঃ সূত্রাণ্যনুব্যাখ্যানানি ব্যাখ্যানান্য সামবেদসথর্বাংগিরসসিতিহাসস্পুরাণং বিদ্যাসুপনিষদশ্লোকাস্সূত্রাণি অনুব্যাখ্যানানি ব্যাখ্যাননি অস্যৈবৈতানি নিঃশ্বসিতানি ॥ ১০॥
🦚অর্থ:- যেমন আগুন যুক্ত ভেজা কাঠে ধোঁয়া আলাদাভাবে উঠে, তেমন এই মহৎ স্রষ্টার নিঃশ্বাস থেকে উত্থিত হলো সবকিছু — ঋগবেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ, অথর্ববেদ,আঙ্গিরস, ইতিহাস, পুরাণ, বিদ্যা, উপনিষদ, শ্লোক, সূত্র, ব্যাখ্যা, অনুব্যাখ্যা, এই সমস্তই একসাথে নিঃশ্বাসের মতো প্রকাশিত হলো।
⚜️বৃহদারণ্যক উপনিষদ ৪.৫.১১
🔱স যথাঽঽর্দ্রৈধাগ্নেরভ্যাহিতস্য পৃথগ্ধূমা বিনিশ্চরন্ত্যেবং বা অরেऽস্য মহতো ভূতস্য নিঃশ্বসিতমেতদ্যদৃগ্বেদো যজুর্বেদঃ সামবেদোঽথর্বাংগিরস ইতিহাসঃ পুরাণং বিদ্যা উপনিষদঃ শ্লোকাঃ সূত্রাণ্যঅনু্ব্যাখ্যানানি ব্যাখ্যানানি ইষ্টং হুতমাশিতং পায়িতময়ং চ লোকঃ পরশ্চ লোকঃ সর্বাণি চ ভূতান্যস্যৈবৈতানি সর্বাণি নিঃশ্বসিতানি ॥ ১১॥
🦚অর্থ:- যেমন করে জ্বালানো ভেজা কাঠ থেকে নানা রকম ধোঁয়া বেরিয়ে আসে, তেমনই এই মহান সত্তার (পরমাত্মার) নিঃশ্বাসসমূহ হল — ঋগবেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ, অথর্ববেদ, আঙ্গিরস; ইতিহাস, পুরাণ, বিদ্যা, উপনিষদ; শ্লোক, সূত্র, অনুব্যাখ্যান, ব্যাখ্যান; ইষ্টি, হুত, আহার, পান, এই জগত ও পরলোক এবং সমস্ত ভুতপ্রকৃতি। এ সমস্তই তাঁরই নিঃশ্বাস।
⚜️ মৈত্রায়নি উপনিষদ ৬.৩২
🔱তস্মাদ্বা এতস্মাদাত্মনি সর্বে প্রাণাঃ সর্বে লোকাঃ সর্বে বেদাঃ সর্বে দেবাঃ সর্বাণি চ ভূতান্যুচ্চরন্তি তস্যোপনিষৎসত্যস্য সত্যমিতি অথ যথার্দ্রৈধাগ্নেরভ্যাহিতস্য পৃথগ্ধূমা নিশ্চরন্ত্যেবং বা এতস্য মহতো ভূতস্য নিঃশ্বসিতমেতদ্যদৃগ্বেদো যজুর্বেদঃ সামবেদোঽথর্বাংগিরসা ইতিহাসঃ পুরাণম্ বিদ্যা উপনিষদঃ শ্লোকাঃ সূত্রাণ্যনুব্যাখ্যানানি
ব্যাখ্যানান্যস্যৈবৈতানি বিশ্বা ভূতানি ॥ ৩২॥
🦚অর্থ:- এই মহৎ আত্মার মধ্যে সমস্ত প্রাণ, সমস্ত লোক, সমস্ত বেদ, সমস্ত দেবতা এবং সমস্ত জড়-জীব সবই ঘুরে বেড়ায়। এই উপনিষদের সত্য হলো সত্যই সত্য। যেমন ভেজা কাঠে আগুন লাগলে ধোঁয়া আলাদাভাবে উঠে, তেমনই এই মহৎ স্রষ্টার নিঃশ্বাস থেকে উদ্ভূত হলো সবকিছু — ঋগবেদ,যজুর্বেদ, সামবেদ, অথর্ববেদ আঙ্গিরস, ইতিহাস, পুরাণ, বিদ্যা, উপনিষদ, শ্লোক, সূত্র, অনুব্যাখ্যা, ব্যাখ্যা, এই সমস্তই মহাবিশ্বের সমস্ত প্রাণী ও বস্তুতে ছড়িয়ে আছে।
⚜️শতপথ ব্রাহ্মণ ১৪.৫.৪.১০
🔱স যথার্ডেধামেরভ্যাহিতস্য। পৃথগ্ধূমা বিনিশ্চরত্যেবং বাঽঅরেঽস্য মহতো ভূতস্য নিশ্বসিতমেতদ্যুদৃগ্বেদো যজুর্বেদঃ সামবেদোঽথর্বাংগিরসা ইতিহাসঃ পুরাণে বিয্যা উপনিষদঃ শ্লোকাঃ সূত্রাণ্যনুব্যাখ্যানানি ব্যাখ্যানান্যস্যৈবৈতানি সর্বাণি নিঃশ্বসিতানি ॥১০॥
🦚অর্থ:- যেমন ভেজা কাঠে আগুন লাগলে ধোঁয়া আলাদাভাবে উঠে, তেমন এই মহৎ স্রষ্টার নিঃশ্বাস থেকে বেরিয়ে আসে সবকিছু — ঋগবেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ, অথর্ব বেদ আঙ্গিরস, ইতিহাস, পুরাণ, বিদ্যা, উপনিষদ, শ্লোক, সূত্র, অনুব্যাখ্যা, ব্যাখ্যা — এই সমস্তই একসাথে মহাবিশ্বে ছড়িয়ে আছে, নিঃশ্বাসের মতো নিখুঁত ও অমোঘ।
‼️কিন্তু প্রশ্ন ওঠে কে এই মহান স্রষ্টা। এটুকু পড়ে যেহেতু আমি শৈব আমি বলতেই পারি এটা মহাদেব এর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কে মানবে? আচ্ছা আমি নাহয় মূর্খ, বেদ ভাষ্যকার সায়ন আচার্য এই বিষয়ে কি বলছেন দেখি তবে??
⚜️তৈত্তিরিয় সংহিতা,সায়ন ভাষ্য,দ্বিতীয় কাণ্ড, প্রথম প্রপাঠক, প্রথম অনুবাক এবং অথর্ব বেদ সংহিতা, সায়ন ভাষ্য, ভাষ্য ভূমিকা বর্ণনা (সায়ন আচার্য কর্তৃক)
🔱যস্য নিঃশ্বাসিতং বেদা যো বেদেভ্যোऽখিলং জগৎ।
নির্মমে তমহং বন্দে বিদ্যাতীর্থমহেশ্বরম্ ॥ ১ ॥
🦚অর্থ:- যাঁর নিঃশ্বাস থেকেই বেদসমূহের উদ্ভব, যিনি বেদসমূহ থেকে সমগ্র জগৎ সৃষ্টি করেছেন,
সেই বিদ্যাতীর্থ মহেশ্বরকে (শিব) আমি বন্দনা করি।
🛑এবার দেখি ১০৮ প্রামাণিক উপনিষদ এর মধ্যে বাকি শাস্ত্র গুলো কি বলছে?!
⚜️ ভস্ম জাবাল উপনিষদ ৪
🔱যজন্তি যজ্বানঃ। মামেভ স্তুবন্তি বেদাঃ সাঙ্গাঃ সোপনিষদঃ সেতিহাসঃ। ন মত্তোঽন্যদহমেভ সর্বম্। ময়ি সর্বং প্রতিষ্ঠিতম্।
🦚অর্থ:- যজ্ঞকারীরা আমাকে (শিব) অর্চনা করে, বেদ, বেদাঙ্গ, উপনিষদ, ইতিহাসও আমাকে স্তোত্র করে। আমার বাইরে আর কিছু নেই; সমস্ত কিছু আমার মধ্যে প্রতিষ্ঠিত।
⚜️অথর্বশির উপনিষদ ১
🔱গৌরহং গৌর্যহমৃগহং যজুরহং সামাহমথর্বাংগিরসোঽহং জ্যেষ্ঠোঽহং শ্রেষ্ঠোঽহং বরিষ্ঠোঽহমাপোঽহং তেজোহং গুহ্যোহংঅরণ্যোঽহমক্ষরমহং ক্ষরমহং পুষ্করমহং পবিত্রমহমুগ্রং চ মধ্যং চ বহিষ্চ পুরস্তাজ্জ্যোতিরিত্যহমেব সর্বেভ্যো মামেব স সর্বঃ সমাং
🦚অর্থ:- আমি গৌরী, আমি ঋক্, আমি যজুঃ, আমি সাম, আমি অথর্ব, আমি অঙ্গিরস। আমি জ্যেষ্ঠ, আমি শ্রেষ্ঠ, আমি বরিষ্ঠ।আমি জল, আমি তেজ, আমি গুহ্য, আমি অরণ্য।আমি অক্ষর, আমি ক্ষর, আমি পুষ্কর।আমি পবিত্র, আমি উগ্র, আমি মধ্য, আমি বাহ্য, আমি অগ্রগণ্য। এ সকলই আমি, আর আমি নিজেই জ্যোতিরূপ। আমাকে সমস্ত কিছুর মধ্যে বিরাজমান জেনে রেখো।
‼️কিন্তু এই অথর্বশির উক্ত পরম পুরুষ কে? দেখা যাক!!
⚜️অথর্বশির উপনিষদ ১
🔱ততো হ বৈ তে দেবা রুদ্রমপৃচ্ছন্ তে দেবা রুদ্রমপশ্যন্। তে দেবা রুদ্রমধ্যায়ন ততো দেবা ঊর্ধ্ববাহবঃ রুদ্রং স্তুবন্তি
🦚অর্থ:- সেই দেবতারা রুদ্রকে জিজ্ঞেস করতে শুরু করলেন, রুদ্রকে দেখলেন এবং তাঁর প্রতি মনোযোগী হলেন, তারপর সেই দেবতারা উঁচু হাত তুলে এইভাবে রুদ্রের স্তুতি করলেন।
🌸স্পষ্ট দেবতারা রুদ্র দেব (পরমেশ্বর সদাশিব) এর থেকেই উক্ত বিষয় গুলো শুনছিলেন।
এবং এর পরেই তাঁরা স্তুতি করেন মহাদেব এর উদ্দেশ্যে যা বিখ্যাত অথর্ব শির উপনিষদ এর "যো বৈ রুদ্র স ভোগবান্যশ্চ ব্রহ্মা..." স্তুতি।
⚜️কৈবল্য উপনিষদ ২.২২
বেদৈরনেকৈরহমেব বেদ্যো বেদান্তকৃদ্বেদবিদেব চাহম্। ন পুণ্যপাপে মম নাস্তি নাশো ন জন্ম দেহেন্দ্রিয়বুদ্ধিরস্তি ॥ ২২॥
🦚অর্থ:- আমিই (শিব) একমাত্র বিষয়, যা নানাবিধ বেদে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। আমিই উপনিষদ ও বেদান্তের প্রকাশক, এবং আমিই একমাত্র বেদের প্রকৃত জ্ঞানী। আমার জন্য নেই পুণ্য বা পাপ। আমার কোনো নাশ নেই। আমার জন্ম নেই, শরীর নেই, ইন্দ্রিয় নেই, আমার মন–বুদ্ধির উপকরণও নেই।
🌸স্পষ্টত বেদ ও বেদান্ত এর প্রকাশক সেই পরমেশ্বর সদাশিব ই।
⚜️কালাগ্নি রুদ্র উপনিষদ
🔱যাস্য প্রথমা রেখা সা গার্হপত্যশ্চাকারো
রজো ভূর্লোকঃ স্বাত্মা ক্রিয়াশক্তিরৃগ্বেদঃ
প্রাতঃসবনং মহেশ্বরো দেবতেতি ॥ ৭॥
🦚অর্থ:- যাঁর প্রথম রেখা, তিনি গার্হপত্য অগ্নি। তাঁর আকার ‘অ’। তিনি রজোগুণ, তিনি ভূর্লোক, তিনি স্ব-আত্মা। তিনি ক্রিয়াশক্তি, তিনি ঋগবেদ, তিনি প্রাতঃসন্ধ্যা। তাঁর দেবতা মহেশ্বর।
🔱যাস্য দ্বিতীয়া রেখা সা দক্ষিণাগ্নিরুকারঃ সত্বমন্তরিক্ষমন্তরাত্মা-চেচ্ছাশক্তির্যজুর্বেদো মাধ্যদিনং সবনং সদাশিবো দেবতেতি ॥ ৮॥
🦚অর্থ:- যাঁর দ্বিতীয় রেখা, তিনি দক্ষিণাগ্নি। তাঁর আকার ‘উ’। তিনি সত্ত্বগুণ, তিনি অন্তরীক্ষ, তিনি অন্তরাত্মা। তিনি ইচ্ছাশক্তি, তিনি যজুর্বেদ, তিনি মধ্যাহ্ন-সন্ধ্যা। তাঁর দেবতা সদাশিব।
🔱যাস্য তৃতীয়া রেখা সাহবনীয়ো মকারস্তমো
দ্যৌর্লোকঃ পরমাত্মা জ্ঞানশক্তিঃ সামবেদস্তৃতীয়সবনং
মহাদেবো দেবতেতি ॥ ৯॥
🦚অর্থ:- যাঁর তৃতীয় রেখা, তিনি যজ্ঞ অগ্নি। তাঁর আকার ‘ম’। তিনি তমোগুণ, তিনি দ্যুলোক, তিনি পরমাত্মা। তিনি জ্ঞানশক্তি, তিনি সামবেদ, তিনি তৃতীয় সন্ধ্যা। তাঁর দেবতা মহাদেব।
🌸স্পষ্টত মহাদেব এর পরম পবিত্র ত্রি পুণ্ড্র এর তিনটে রেখাই তিন বেদ এর সমান।
⚜️শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ ৪.৯
ছন্দাংসি যজ্ঞাঃ ক্রতবো ব্রতানি
ভূতং ভব্যং যচ্চ বেদা বদন্তি।।
অস্মান্ মায়ী সৃজতে বিশ্বমেতৎ–
তস্মিংশ্চান্যো মায়য়া সন্নিরুদ্ধঃ।।
🦚অর্থ:- ছন্দ, যজ্ঞ, ক্রতু ও ব্রত, অতীত, ভবিষ্যৎ এবং বর্তমান—যা কিছু বেদে বলা হয়েছে, এই সমস্তই মায়াবান আমি (শিব) সৃষ্টি করি; এবং তাঁর মধ্যেই অন্যরা মায়ার দ্বারা আবদ্ধ থাকে।
⚜️শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ ৬.১৮
যো ব্রহ্মাণং বিদধাতি পূৰ্বং
যো বৈ বেদাংশ্চ প্রহিণোতি তস্মৈ।।
তং হ দেবং আত্মবুদ্ধিপ্রকাশং
মুমুক্ষুর্বৈ শরণমহং প্রপদ্যে।।
🦚অর্থ:- যিনি প্রথমে ব্রহ্মাকে সৃষ্টি করেছেন,
যিনি সত্যিই বেদসমূহকে তাঁর কাছে পৌঁছে দেন,
সেই দেবতাকেই (শিব)— যিনি আত্মবুদ্ধিকে আলোকিত করেন, মুক্তি কামনাকারী আমি তাঁরই শরণ গ্রহণ করি।
⚜️ শরভ উপনিষদ ২
🔱প্রভুং বরেণ্যং পিতরং মহেশং
যো ব্রহ্মাণং বিদধাতি তস্মৈ ।
বেদাংশ্চ সর্বান্ প্রহিণোতি চাগ্র্যং
তং বৈ প্রভুং পিতরং দেবতানাম্ ॥ ২॥
🦚অর্থ:- যিনি ব্রহ্মাকে সৃষ্টি করেন, যিনি সকল বেদকে প্রেরণ করেন, সেই মহেশ্বর, দেবতাদের প্রভু ও পিতা—তাঁকেই আমি বরণীয় প্রভু রূপে নমস্কার করি।
🛑এবার দেখি ইতিহাস শাস্ত্র রামায়ণ এই বিষয়ে কি বলছে?
⚜️রামায়ণ, যুদ্ধ কাণ্ড, ১১৭ সর্গ, ১৮-১৯ শ্লোক
সহস্রশৃঙ্গো বেদাত্মা শতশীর্ষো মহর্ষভঃ || ১৮
ত্বং ত্রয়াণাং হি লোকানামাদিকর্তা স্বয়ংপ্রভুঃ |
সিদ্ধানামপি সাধ্যানামাশ্রয়শ্চাসি পূর্বজঃ || ১৯
🦚অর্থ:- হাজার শীর্ষধারী, শতশীর্ষ মহর্ষি, তুমি —
বেদের প্রাণ, আধ্যাত্মিক জ্ঞানের উৎস। তিনটি লোকের প্রাথমিক স্রষ্টা, স্বয়ংপ্রভু, সিদ্ধদেরও, সাধকদেরও আশ্রয়কর্তা, প্রাচীনতম পূর্বপুরুষ তুমি।
⁉️এবার অনেকেই বলবেন এখানে তো প্রভু শ্রী রাম এর উদ্দ্যেশে বলা হচ্ছে? অবশ্যই। কিন্তু এই শ্রী রাম কি দেহ ধারী শ্রী রাম নাকি তাঁর অন্তরের আত্মা? পরের শ্লোক কি বলছে দেখা যাক?
⚜️রামায়ণ, যুদ্ধ কাণ্ড, ১১৭ সর্গ, ২৫ শ্লোক
🔱নিমেষস্তে স্মৃতা রাত্রিরুন্মেষো দিবসস্তথা ||২৫
🦚অর্থ:- তোমার চোখের পলকে রাত হয় তোমার চোখের পলকে দিন হয়।
⁉️দেহ ধারী শ্রী রাম চন্দ্র তো মনুষ্য যোনি তে জন্ম নিয়েছিলেন? তাঁর পলকে কি সত্যি দিন রাত হত? যদি তাই হতো তবে এই ক্ষমতা তিনি ব্যবহার করলেন না কেন?
আচ্ছা তর্ক করলে আরো কথা বাড়বে বরং দেখি এই শ্রী রাম আসলেই কে? শাস্ত্র কি বলছে?
⚜️মুক্তিকা উপনিষদ ২.৫৬
🔱ঊর্ধ্বপূর্ণমধঃপূর্ণং মধ্যপূর্ণং শিবাত্মকম্।
সাক্ষাদ্বিধিমুখো হ্যেষ সমাধিঃ পারমার্থিকঃ।। ৫৬
🦚অর্থ:- উর্ধ্বপূর্ণ, অধঃপূর্ণ এবং মধ্যপূর্ণ—সবই শিবাত্মক । যিনি সরাসরি বিধির মুখ, সেই ঈশান (শিব) ই পারমার্থিক সমাধি।
🌸 মুক্তিকা উপনিষদে শ্রী রাম ধ্যান সমাধি মগ্ন হয়েই সব জ্ঞান দেন। তিনিই বলছেন তিনি শিবাত্মক। অর্থাৎ ধ্যানে তিনি পরমাত্মা মহেশ্বর এর সাথে একীভূত হয়ে গেছেন।
⚜️রাম রহস্য উপনিষদ ২.৩২
🔱রামং ত্রিনেত্রং সোমার্ধধারিণং শূলিনং পরম।
ভস্মোদ্ধূলিতসর্বাংগ কাপর্দিনমুপাস্মহে।।
🦚অর্থ:- আমি পূজা করি সেই রামকে, যিনি ত্রিনেত্রধারী,অর্ধ চন্দ্র ধারণকারী, শূলধারী পরম ভগবান। যার সমস্ত অঙ্গ ভস্ম ও ধূলায় ও আচ্ছাদিত ও যিনি জটাধারী সেই মহাশক্তিকে আমি পূজা করি।
🌸এখানে শ্রী রাম এর মূল স্বরূপ এর সুন্দর বিশ্লেষণ আছে।
🛑এবার দেখি পুরান শাস্ত্র কি বলছে এই বিষয়ে?
⚜️ঈশ্বর গীতা ৫.২৬ (কূর্ম পুরাণ উক্ত)
🔱ত্বত্তো বেদাঃ সকলাঃ সম্প্রসূতাস্ত্বয়্যেবান্তে সংস্থিতিং তে লভন্তে। পশ্যামস্ত্বাং জগতো হেতুভূতং নৃত্যন্তং স্বে হৃদয়ে সন্নিবিষ্টম্ ॥ ২৬॥
🦚অর্থ:- তোমার (শিবের) থেকেই সমস্ত বেদ উৎপন্ন হয়েছে, এবং শেষপর্যন্ত আবার তোমাতেই তাদের অবস্থান লাভ করে। আমরা তোমাকেই দেখি— জগতের কারণস্বরূপ, যিনি আমাদের হৃদয়ে নৃত্যরত (নটরাজ) অবস্থায় অবস্থান করছো।
⚜️ঈশ্বর গীতা ৬.১১ (কূর্ম পুরাণ উক্ত)
🔱তস্মৈ দিব্যং স্বমৈশ্বর্য জ্ঞানযোগং সনাতনম্।
দত্তবানাত্মজান্বেদান্কল্পাদী চতুরো দ্বিজাঃ ॥ ১১॥
🦚অর্থ:- তাঁকে (ব্রহ্মাকে) তিনি (শিব) প্রদান করেছিলেন— নিজস্ব ঐশ্বর্য, দিব্য জ্ঞানযোগ ও সনাতন সত্য। এবং নিজের সন্তানস্বরূপ চারটি বেদ,
যুগের (সৃষ্টির) আদিতেই দান করেছিলেন, হে দ্বিজগণ।
🌸স্পষ্টত বেদ সমূহ পরমেশ্বর সদাশিব থেকে সৃষ্ট ও তিনি এই শ্বাশত জ্ঞান প্রজাপতি ব্রহ্মা কে প্রদান করেছিলেন।
⚜️শিব গীতা ৬.১৬ (পদ্ম পুরাণ উক্ত)
🔱ঋগ্বেদোঽহং যজুর্বেদঃ সামবেদোঽহমাত্মভূঃ ।
অথর্বণশ্চ মন্ত্রোহং তথা চাঙ্গিরসো বরঃ ॥ ১৬ ॥
🦚অর্থ:- আমি ঋগ্বেদ, আমি যজুর্বেদ, আমি সামবেদ, আমি স্বয়ম্ভূ। আমি অথর্ববেদ, আমি মন্ত্র, এবং আমি শ্রেষ্ঠ আঙ্গিরসও।
🌸পরমেশ্বর শিব শিব গীতা এর বিভূতি যোগে বলছেন তিনিই সব বেদ (৪ টিই)।
🟩 যুক্তি ভিত্তিক বিশ্লেষণ:--
এখানে যে কেউ বলতেই পারেন যে না বেদ সমূহ শ্রী হরির থেকে সৃষ্ট। কিন্তু বুঝতে হবে এই দার্শনিক ব্যাখ্যা এর গভীরতা। নিরাকার পরম শিব থেকেই প্রথম সাকার সদাশিব (শক্তি যুক্ত) প্রকটিত হন। এবং এই সাকার রূপ এ আসার জন্য তিনিই বাণী বা শব্দ (ॐ কার) সৃষ্টি করেন। এই কথা নন্দীকেশ্বর কাশিকা, স্পন্দ কারিকা আদি শাস্ত্র তেও আছে। পুরুষ প্রকৃতির মিলনে সেই বাণী থেকেই ধীরে ধীরে সব প্রকাশিত হয়। এই দিব্য বাণী ই বেদ যা পরম পুরুষ এর নিঃশ্বাস থেকে সৃষ্ট। নিঃশ্বাস যেহেতু সব কিছুর মূল ভিত্তি কাজেই বেদ ও তাই সর্ব বিদ্যা এর সার স্বরূপ যার ওপর জগৎ প্রতিষ্ঠিত। এই প্রণব রূপী বিদ্যা বা বাণী তো শব্দ বা vibrations. আর সকলেই জানে vibrations দিয়েই সব তৈরি (স্ট্রিং থিওরী অনুযায়ী)। আর এই সৃষ্ট জগৎ কে যিনি ব্যাপ্ত (diffuse বা ছড়ানো) করেন পরমেশ্বর এর সেই রূপ ই হচ্ছে শ্রী হরি বিষ্ণু (ব্যাপ্ত থেকে বিষ্ণু)। তিনিই লোক এর আশ্রয় স্থল রূপে ক্ষীর সমুদ্রে শায়িত তাই তিনি নারায়ণ। তিনিই পরমেশ্বর এর প্রকৃতিময় রূপ তাই তিনিই সত্য বা সাত্ত্বিক গুণ যুক্ত। কাজেই বেদ এর সৃষ্টি আগে। যেহেতু বিদ্যা বা বাণী বা vibrations ব্যতীত প্রকৃতি ব্যাক্ত হয় না। কাজেই বেদ একমাত্র পরমেশ্বর শিব এর নিঃশ্বাস থেকেই আগত এর অন্যথা সম্ভব নয় কখনই।
✅সুতরাং প্রমাণিত হলো বেদ সমূহ পরমেশ্বর সদাশিব এর নিঃশ্বাস থেকে প্রকটিত তাই একে নিগম শাস্ত্র বলে। এবং একই ভাবে পরমেশ্বর সদাশিব এর মুখ থেকে প্রকটিত বলেই তন্ত্র কে আগম শাস্ত্র বলে।
শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তে🚩🔱
হর হর মহাদেব 🚩🔱
📢প্রচারে:- International Shiva Shakti Gyan Tirtha - ISSGT
#শৈববিপ্লব #শিবজ্ঞান #শৈবধর্ম #নিগমশাস্ত্র #বেদ #ISSGT

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন