সতীদাহ প্রথা নিয়ে অপপ্রচারের ঐতিহাসিক জবাব
এখনও সতীপ্রথা নিয়ে হিন্দুদের ব্যঙ্গ করা হয়। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই ৪ ডিসেম্বর ১৮২৯ সালে গভর্নর-জেনারেল উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের আমলে সতীপ্রথা নিষিদ্ধ করার জন্য যে আইন প্রণীত হয়, তার খসড়াটি পড়েননি। ওই আইনের খসড়ার প্রস্তাবনাতেই (Preamble) উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারতের অধিকাংশ অঞ্চলে সতীপ্রথার প্রচলন ছিল না এবং সতী বৈদিক শাস্ত্রবিরোধী। এছাড়া সতী বলতে সবাই জানে সদ্য বিধবা হিন্দু নারীর মৃত স্বামীর জ্বলন্ত চিতার আগুনে সহমরন, কিন্তু অদ্ভুত ভাবে ওই আইনের প্রস্তাবনায় জীবন্ত সমাধির উল্লেখ আছে।
যদি সতীপ্রথার প্রচলন না-ই থেকে থাকে, তাহলে এত আলোড়ন সৃষ্টি করে সতীপ্রথা নিষিদ্ধ করার জন্য আইন প্রণয়নের প্রয়োজন কেন দেখা দিল? এই প্রশ্নের উত্তরেই লুকিয়ে রয়েছে ভারতে সতীপ্রথাকে কেন্দ্র করে খ্রিস্টান মিশনারি, ব্রিটিশ সরকার এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইভানজেলিক্যাল অ্যাংলিকান কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষ্যে হিন্দু এবং ভারতীদের বিরুদ্ধে অতিরঞ্জিত ও অপপ্রচারের ইতিহাস।
সতী প্রতিরোধ আইনের প্রস্তাবনার প্রথমেই বলা হয়েছে -
"হিন্দু বিধবাদের জীবন্ত দগ্ধ করা বা জীবন্ত সমাধিস্থ করার যে প্রথা, যা ‘সতী’ নামে পরিচিত, তা মানবিক অনুভূতির পরিপন্থী ও ঘৃণ্য। হিন্দুধর্মে কোথাও এই প্রথাকে বাধ্যতামূলক কর্তব্য হিসেবে নির্দেশ করা হয়নি; বরং বিধবার পক্ষে পবিত্রতা ও নির্জন সংযমের জীবনযাপনকেই অধিকতর জোর দিয়ে এবং অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। তদুপরি, সমগ্র ভারতের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই প্রথা প্রচলিত বা পালিত নয়; অনেক বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এর কোনো অস্তিত্বই নেই। যেসব অঞ্চলে এটি তুলনামূলকভাবে বেশি প্রচলিত ছিল, সেখানে বহু ক্ষেত্রে এমন নৃশংস ও অত্যাচারমূলক ঘটনা ঘটেছে, যা হিন্দুদের নিজেদের কাছেও মর্মান্তিক বলে প্রতীয়মান হয়েছে এবং তাঁদের দৃষ্টিতে অবৈধ ও পাপপূর্ণ বলে গণ্য হয়েছে।"
সতী প্রতিরোধ আইনের খসড়াটি ওই সময়ের গর্ভনর জেনারেল কাউন্সিলে পাস হওয়া অন্যান্য আইনের খসড়ার সাথে The Bengal Code, The Bengal Regulations, The Local Acts of The Governor General In Council, 2nd Edition 1889, Printed by The Superintendent of Government Printing, India, Calcutta তে প্রকাশিত হয়েছিল
#IndianHistory




মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন