জন্ম অশৌচ বা মরণ অশৌচ হলে কি শিবপূজা বন্ধ করে দিতে হবে ?

 



দেখো , আমাদের শৈব আগম শাস্ত্রে - অশৌচ কালেও নিত্য শিব পূজা করা যায় বলে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অবশ্যই তা গুরুর আদেশের পরিপন্থী। এই অশৌচ অবস্থা তেও শিবপূজা করলে তাতে অশৌচ হয় না।


আশৌচে বিদ্যমানেঽপি নান্তরায়োঽর্চনস্য তু । 
মদর্চা বিঘ্নবিচ্ছেত্রী দীক্ষাসামর্থ্যযোগতঃ ।।
[তথ্যসূত্র — মহাশ্রুতি(শৈব আগম)/মকুট আগম/ক্রিয়া-চর্যাপাদ/১০ম পটল/৮ নং মহামন্ত্র]

অর্থ — শৌচ (জন্ম বা মৃত্যুজনিত অশুদ্ধ অবস্থা)  অবস্থায় থাকলেও শিবের পূজা করতে ইচ্ছুক ব্যক্তির কোনো বিঘ্ন উপস্থিত হয় না। কারণ, গুরুপ্রদত্ত দীক্ষার শক্তির ফলে শিবলিঙ্গের পূজা সমস্ত প্রকার বাধা দূর করে দেয়। অর্থাৎ শিবলিঙ্গের পূজায় কোনো প্রকার আশৌচ লাগে না। ॥৮॥


সূতকে মৃতকে চৈব সন্ধ্যাং পূজাং ন সন্ত্যজেৎ ।
উপাংশু সন্ধ্যাং পূজাং তু কুর্যাৎ ত্রিকরণৈরপি ।।
শাম্ভবব্রতিনাং ধর্মাঃ সংক্ষেপেণ ময়েরিতাঃ । 
শ্রদ্ধাবন্তো বিমুচ্যন্তে ক্লিশ্ন‌ন্ত্যন্যে বিমোহিতাঃ ।।

[তথ্যসূত্র — মহাশ্রুতি(শৈব আগম)/মকুট আগম/ক্রিয়া-চর্যাপাদ/১০ম পটল/২৮-২৯ নং মহামন্ত্র]

 অর্থ — পরমেশ্বর শিব বললেন, জন্মাশৌচ ও মরণাশৌচ উপস্থিত হলেও কখনো সন্ধ্যা এবং শিবলিঙ্গের পূজা ত্যাগ করবে না। এই অবস্থায় মন, বাক্য ও শরীর—এই ত্রিকরণসহ  (মন, বাক্য ও শরীর—এই তিনের সংযমসহ) উপাংশু (জিহ্বা নাড়িয়ে নিচু স্বরে উচ্চারণ করে - এই) পদ্ধতিতে সন্ধ্যা ও শিবলিঙ্গের পূজা করতে হয় ; অর্থাৎ জন্মাশৌচ বা মরণাশৌচজনিত সূতক উপস্থিত থাকলে এমনভাবে মন্ত্রোচ্চারণ করবে যাতে অন্যেরা শুনতে না পায় এবং সেইভাবে সন্ধ্যা ও শিবলিঙ্গের পূজা সম্পন্ন করবে ॥ ২৮ ॥

এইভাবে শাম্ভবব্রত পালনকারীদের জন্য ধর্মসমূহ আমি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছি। যারা এর উপর শ্রদ্ধা রাখে তারা মুক্তিলাভ করে, আর যারা শ্রদ্ধাহীন তারা মোহগ্রস্ত হয়ে দুঃখ ভোগ করে। ॥ ২৯ ॥


👉 সারকথা : অশৌচ অবস্থাতেও নিত্যকর্ম বন্ধ নয়, শুধু জপ-উচ্চারণ নিঃশব্দ বা মানসিকভাবে করতে হয়। শিব-ব্রতের বিধান শুনে যারা বিশ্বাস ও ভক্তি নিয়ে পালন করে তারা মুক্তি পায়; আর যারা অবিশ্বাসী বা মোহে থাকে তারা সংসারের দুঃখেই ঘুরতে থাকে।




মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ