ইহুদী, খ্রিস্টান, ইসলাম - মতবাদ গুলির 'আদম ও হবা' -র সূত্রপাত সনাতন ধর্ম থেকেই - বলছে ভবিষ্যমহাপুরাণ

 



ইহুদী, খ্রিস্টান, ইসলাম - মতবাদ গুলির 'আদম ও হবা' -র সূত্রপাত সনাতন ধর্ম থেকেই - বলছে ভবিষ্যমহাপুরাণ

__________________________________________________

🔰 ভূমিকা —

    আমাদের সনাতন ধর্মের মান্যতা অনুযায়ী এই পৃথিবীর সর্বত্র সকলেই সনাতন ধর্ম পালনকারী সনাতনী ছিল। কিন্তু কলিযুগে অধর্ম বিস্তার হবার জন্য কালের বশে অধিক মায়া প্রকাশ হয়, ফলে সত্যধর্মরূপ সনাতন ধর্ম -এর থেকে কিছু সনাতনী বিচ্যুত হয়ে ম্লেচ্ছগুণসম্পন্ন হয়ে সনাতন ধর্মের কিছু মান্যতাকে বিকৃত করে নূতন নূতন মতবাদ প্রচার করেন, বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে জনগণকে সেই পথের অনুগামী করে তুলে নিজেদের নব্য সম্প্রদায়ের সংখ্যা বৃদ্ধি করে তোলে। তারা পরমেশ্বরের এই সনাতন ধর্মরূপী প্রধান ধারা থেকে বিচ্যুত হয়ে নিজেদের মতো করে নূতন মতপথ ও সিদ্ধান্ত মান্য করে চলবার কারণে তাদের ম্লেচ্ছ যবন ইত্যাদি বলে শাস্ত্রে চিহ্নিত করা হয়েছে । এই কারণে সনাতন ধর্ম অনুযায়ী, সকলের স্রষ্ঠা এক ও অদ্বিতীয় পরমেশ্বর হলেও, পরমেশ্বরের যে বৈশিষ্ট্য লক্ষণ সনাতন ধর্মশাস্ত্রে বর্ণিত হয়েছে, তার সাথে ম্লেচ্ছদের মান্য পরমেশ্বরের তথাকথিত বৈশিষ্ট্য, লক্ষণ ও চরিত্রের মধ্যে যে বৃহৎ পার্থক্য আছে, তা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়।

বর্তমানকালের ইহুদি, খ্রিষ্টান ও মুসলিমেরা দাবি করেন তাদের গ্রন্থে বর্ণিত সৃষ্টিকর্তা সর্বশ্রেষ্ঠ, আর সনাতন ধর্মের স্রষ্টা অস্তিত্বহীন। আবার কিছু খ্রিষ্টান ও মুসলিমেরা দাবি করেন যে, আমাদের সনাতন ধর্মের মধ্যে খ্রিষ্টান ও মুসলিমদের মনোনীত স্রষ্টাকেই সর্বশ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করা আছে, তাই সনাতনীদেরও নিজেদের সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে খ্রিস্টান বা মুসলিম হয়ে যাওয়া উচিত বলে তাদের বক্তব্য প্রদান করবার মতো বিষয়টি সর্বত্র পরিলক্ষিত হয়। 

 তাই এই খ্রিষ্টান ও মুসলিমেরা দাবি করা সৃষ্টির কাহিনী, সৃষ্টিকর্তার প্রেরিত উদ্ধারকর্তা তথা তাদের অবস্থান, লক্ষণ ও বক্তব্য বিষয়ে আমাদের সনাতন ধর্মের শাস্ত্রে‌ কি বলা হয়েছে, সেই সত্য এখন তুলে ধরবো।

__________________________________________________

_________________________________________________

🕉️ আলোচ্য বিষয় :


বর্তমানে ইহুদী, খ্রিস্টান ও ইসলাম মতবাদের গ্রন্থের বিশ্বাস অনুযায়ী, আদম ও হবা থেকেই প্রথম জনজাতির সৃষ্টি আরম্ভ হয়েছিল।

সনাতন ধর্মের ভবিষ্যমহাপুরাণে এ বিষয়ে এক‌ই ধরণের কিছু উল্লেখ পাওয়া যায়। কিন্তু তার পূর্বে সনাতন ধর্মে সর্বোচ্চ ঈশ্বর থেকে কিভাবে সৃষ্টি হল তা উল্লেখ করে ক্রমশ ম্লেচ্ছ-যবনদের উৎপত্তি ও লক্ষণ বিষয়ে মহাভারতে বর্ণিত তথ্য উপস্থাপন করছি —


(১) ত্রিদেবের উৎপত্তি পরমেশ্বর সদাশিব থেকে — 

স এষ ভগবান্ দেবঃ সর্বসত্ত্বাদিরব্যয়ঃ ।

সর্বতত্ত্ববিধানজ্ঞঃ প্রধানপুরুষঃ পরঃ ॥ ৩৪৪ ॥

যোঽসৃজদ্দক্ষিণাদঙ্গাদ্ ব্রাহ্মণং লোকসম্ভবম্।

বামপার্শ্বাত্তথা বিষ্ণুং লোকরক্ষার্থমীশ্বরঃ ॥ ৩৪৫ ॥

যুগান্তে চৈব সম্প্রাপ্তে রুদ্রমীশোঽসৃজৎ প্রভুঃ ।

স রুদ্রঃ সংহরন্ কৃৎস্নং জগৎ স্থাবর জঙ্গমম্ ॥ ৩৪৬ ॥

কালো ভূত্বা মহাতেজাঃ সম্বর্ত্তকঃ ইবানলঃ ।

যুগান্তে সৰ্ব্বভূতানি গ্রসন্নিব ব্যবস্থিতঃ ॥ ৩৪৭ ॥ 

এষ দেবো মহাদেবো জগৎ সৃষ্ট্বা চরাচরম্ । 

কল্পান্তে চৈব সর্বেষাং স্মৃতিমাক্ষিপ্য তিষ্ঠতি ॥ ৩৪৮ ॥

[মহাভারত/অনুশাসন পর্ব/১৩ অধ্যায়]


✅ অর্থ : যেহেতু, জ্ঞানীরা জন্ম ও মৃত্যুশূন্য, সুতরাং সনাতন, জ্ঞানময় ও সর্বশ্রেষ্ঠ বলে বিখ্যাত এইরূপ পরব্রহ্মকেই ধ্যান করে থাকেন ॥ ৩৪৩ ॥

সমস্ত পদার্থের আদি, অবিনশ্বর, সর্বতত্ত্ব ও সর্ববিধানজ্ঞ এবং পরম প্রধান পুরুষ 'এই সেই ভগবান' মহাদেব ॥ ৩৪৪ ॥

যে ঈশ্বর (সদাশিব) দক্ষিণ (ডান) পাশ থেকে জগতের সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মাকে সৃষ্টি করেছেন এবং লোকরক্ষার জন্য বামপাশ থেকে বিষ্ণুকে (হরি নারায়ণকে) উৎপাদন করেছেন ॥৩৪৫৷৷

প্রলয়কাল উপস্থিত হলে প্রভাবশালী মহাদেব (সদাশিব) রুদ্রকে সৃষ্টি করেন ; সেই রুদ্র কাল হয়ে প্রলয়কারক মহাতেজস্বী অগ্নির মতো স্থাবর-জঙ্গমাত্মক সমগ্র জগৎ সংহার করে সমস্ত ভূতকে গ্রাস করে নিয়ে অবস্থান করেন ॥ ৩৪৬-৩৪৭ ॥

এই পরমেশ্বর মহাদেব চরাচর জগৎ সৃষ্টি করে প্রলয়কালে সমস্ত পদার্থের স্মৃতি-মাত্র নিয়ে বিদ্যমান থাকেন ॥ ৩৪৮ ॥

[ব্যাখ্যা : সনাতন ধর্মের এক ও অদ্বিতীয় পরমেশ্বর গুণাতীত সদাশিব। তিনিই ব্রহ্মা-বিষ্ণু-রুদ্রদেব -এই ত্রিদেবকে প্রকট করেন। সকল কিছু বিনাশ হলেও সবকিছু তার মধ্যেই লয় হয়ে যায়, কিন্তু তার লয় নেই, কারণ তিনি জন্মমৃত্যুহীন, পরমব্রহ্ম‌ই একমাত্র জন্মমৃত্যুহীন]

___________________________________________________________________________________

(২) সদাশিব থেকে উৎপন্ন হ‌ওয়া বিষ্ণু (নারায়ণ) থেকে লীলাবশত ব্রহ্মা প্রকট হন, ব্রহ্মা থেকে মনু এবং মনু থেকে অনান্য সকল প্রাণী তথা মানবগণের সৃষ্টি —

অঙ্গো নাম মনোঃ পুত্রো হ্যন্তর্ধাসা ততঃ পরঃ ॥ ২৩ ॥

অন্তর্ধান্নো হবির্ধামা প্রজাপতিরনিন্দিতঃ।

প্রাচীনবহির্ভবিতা হবির্ধান্নঃ সুতে। মহান্ ॥ ২৪ ॥

তস্য প্রচেতঃপ্রমুখা ভবিষ্যস্তি দশাত্মজাঃ। 

প্রাচেতসস্তথা দক্ষে। ভবিতেহ প্রজাপতিঃ ॥ ২৫ ॥ 

দাক্ষায়ণ্যাস্তথাদিত্যো মনুরাদিত্যতস্তথা। 

মনোশ্চ বংশজ ইলা সুদ্যুম্নশ্চ ভবিষ্যতি ॥ ২৬ ৷৷ 

বুধাৎ পুরূরবাশ্চাপি তস্মাদায়ুর্ভবিষ্যতি। 

নহুষো ভবিতা তস্মাদ্যযাতিস্তস্য চাত্মজঃ ॥ ২৭ ॥ 

যদুস্তস্মান্মহাসত্ত্বঃ ক্রোষ্টা তস্মাদ্ভবিষ্যতি। 

ক্রোষ্ট শ্চৈব মহান্ পুত্রো বৃজিনীবান্ ভবিষ্যতি ॥ ২৮ ॥

[মহাভারত/অনুশাসন পর্ব/১২৫ অধ্যায়/২৩-২৮ নং শ্লোক]

✅ অর্থ : মনুর পুত্র অঙ্গ, অঙ্গের পুত্র অন্তর্ধামা, অন্তর্ধামার পুত্র হবির্ধামা। এই হবির্ধামা অনিন্দিত প্রজাপতি হবেন; প্রাচীনবর্হিনামে সেই হবির্ধামের একটা উত্তম পুত্র জন্ম হবে ॥২২-২৪ ॥

সেই প্রাচীনবর্হিব প্রচেতাপ্রভৃতি দশটা পুত্র হবে এবং প্রচেতার পুত্র দক্ষ মর্ত্যলোকে প্রজাপতি হবেন ॥ ২৫॥

সেই দক্ষকন্যা অদিতির গর্ভে সূর্য জন্মাবেন এবং সূর্য হতেই মনু। আবার মনুর বংশে ইলা ও সুদ্যুম্ন উৎপন্ন হবেন ॥ ২৬ ৷৷

সেই ইলা হইতে বুধ, বুধ থেকে পুরূরবা, পুরূরবা থেকে আয়ু জন্মাবেন এবং আযু থেকে নহুষ ও নহুষ থেকে যযাতি জন্মগ্রহণ করবেন ॥ ২৭॥

সেই যযাতি থেকে মহাবল যদু এবং যদু থেকে ক্রোষ্টা জন্মাবেন। আবার সেই ক্রোষ্টা থেকে বুজিনীবান্ নামে প্রশস্ত একটি পুত্র হবে ॥ ২৮ ॥

[ব্যাখ্যা : পরমেশ্বর সদাশিবের তিন পুত্রের মধ্যে একজন হলেন বিষ্ণু, এই বিষ্ণু থেকেই আবার ব্রহ্মা প্রকট হয়ে, ব্রহ্মা থেকে ক্রমশ মনু জন্ম নেন, মনো থেকে ক্রমশ বিভিন্ন সন্তান উৎপন্ন সবার মাধ্যমে যযাতি জন্ম নেন, যযাতির চারজন পুত্রের মধ্যে একজন পুত্রের নাম যদু]


___________________________________________________________________________________

♦️ এবার যযাতির থেকে উৎপন্ন যদু সহ তার অনান্য পুত্রগণের থেকে বিভিন্ন জাতির উৎপত্তির বিষয়ে দেখুন —

যদোস্তু যাদবা জাতাস্তর্বসোর্যবনাঃ স্মৃতাঃ ।

দ্রুহ্যোঃ সুতাস্তু বৈ ভোজা অনোস্তু ম্লেচ্ছজাতয়ঃ ॥ ৩৪ ॥

[মহাভারত/আদিপর্ব/৭৩ অধ্যায়]


✅ অর্থ : যদু থেকে - যাদবগণ, তুৰ্ব্বসু থেকে - যবনগণ, দ্রুহ্যু থেকে - ভোজগণ এবং অনু থেকে - ম্লেচ্ছগণ জন্মেছে ॥ ৩৪ ॥


[ব্যাখ্যা : যাযাতির অভিশাপে যদু প্রভৃতি চার পুত্রের মধ্যে অনু থেকে ম্লেচ্ছগুণ সম্পন্ন সন্তান উৎপন্ন হয়।]

___________________________________________________________________________________


যযাতিরুবাচ। 

যত্নং মে হৃদয়াজ্জাতো বয়ঃ স্বং ন প্রযচ্ছসি। 

তস্মাৎ প্রজা সমুচ্ছেদং তুর্বসো! তব যাস্যতি ॥ ১৩ ৷৷ 

সঙ্কীর্ণাচারধর্ম্মেষু প্রতিলোমচরেষু চ। 

পিশিতাশিযু চান্ত্যেষু মূঢ়! রাজা ভবিষ্যসি ॥ ১৪ ৷৷ 

গুরুদার প্রসক্তেযু তির্য্যগ, যোনিগতেষু চ। 

পশুধৰ্ম্মেষু পাপেযু স্নেচ্ছেযু ত্বং ভবিষ্যসি ॥ ১৫ ॥

[মহাভারত/আদিপর্ব/৭২ অধ্যায়]

✅ অর্থ : যযাতি বললেন - "তুর্বসু ! তুমি আমার হৃদয় হইতে জন্মেও যখন আপন যৌবন আমাকে দিলে না ; তখন তোমার বংশ লোপ পাবে ॥ ১৩ ॥

আর, হে মূঢ় ! তুমি মিশ্রাচারী, চাণ্ডালাদি প্রতিলোমসঙ্কর, অপক্ক মাংসভোজী এবং অন্ত্যজ জাতির রাজা হবে ॥ ১৪ ॥

আর গুরুদারগামী, তির্য্যগ যোনিগামী, পশুতুল্য পাপিষ্ঠ (যবন) ম্লেচ্ছগণের রাজা হইবে" ॥ ১৫ ॥

[ব্যাখ্যা : যযাতি তার পুত্র তুর্বসুকে অভিশাপ দিতে গিয়ে, যবন ম্লেচ্ছদের জন্য তাকে রাজা হবার অভিশাপ দিয়েছিলেন।]

___________________________________________________________________________________

উপরোক্ত মহাভারতের বচনে সনাতন ধর্মের শাস্ত্র বচনে সেই পরমব্রহ্ম শিব থেকে ক্রমশ ম্লেচ্ছ যবনগণের উৎপত্তি ও লক্ষণের বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। 

সেই ম্লেচ্ছ-যবনদের লক্ষণ গুলি সরল ভাবে বললে তা অনেকটা এমন — 

(১) ম্লেচ্ছ-যবনদের কোনো আচার বিচার থাকে না, 

(২) ম্লেচ্ছ-যবনেরা চণ্ডালের মতো মানসিকতা সম্পন্ন ও ব্যবহার করে থাকে,

(৩) নিম্নমানের মানসিকতাযুক্ত ম্লেচ্ছ-যবনেরা শ্রেষ্ঠ জাতির মানুষের সাথে বিবাহ করে প্রতিলোমসঙ্কর সন্তান উৎপাদন করতে চায়,

(৪) কাঁচা বা অল্প রান্না করা মাংস ভক্ষণকারী হয়ে থাকে ম্লেচ্ছ-যবনেরা।

(৫) বৈদিক সনাতন সামাজিক কাঠামোর বাইরে থাকা জনগোষ্ঠী হলেন ম্লেচ্ছ-যবনেরা।

(৬) গুরুতুল্য ব্যক্তির স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনকারী হয়ে থাকেন ম্লেচ্ছ-যবনেরা।

(৭) পশুর সঙ্গে যৌনাচারকারী পর্যন্ত হয়ে থাকেন ম্লেচ্ছ-যবনেরা

(৮) এই সকল কারণে পশুর তুল্য মানসিকতা সম্পন্ন পাপী হয়ে থাকেন ম্লেচ্ছ-যবনেরা - এমনটাই বলছে মহাভারত।

 — এইখানে ম্লেচ্ছ-যবনদের পরিভাষা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে।

এইবার কলিযুগে উৎপন্ন হওয়া ম্লেচ্ছ-যবনদের বিষয়ে আলোকপাত করা যাক। 

___________________________________________________________________________________


নবভারত প্রকাশনীর প্রকাশিত ভবিষ্যমহাপুরাণের প্রতিসর্গপর্বের ৪র্থ অধ্যায় (ম্লেচ্ছযজ্ঞ বৃত্তান্ত বর্ণনম্ , কলিকৃত বিষ্ণুস্তুতিঃ) -এর ১০নং শ্লোক থেকে ১৯ নং শ্লোক পর্যন্ত বর্ণিত হয়েছে এই এক‌ই কাহিনী সামান্যতম অংশ।


এখানের বিষয়বস্তু টি হল এমন —

রাজা প্রদ্যোত ও তার পুত্র বেদবান সকল ম্লেচ্ছ দের সংহার করবার পর, স্বয়ং কলি শ্রী নারায়ণের কাছে স্তুতি করেছিলেন। "কলি" স্তুতি করে শ্রীবিষ্ণুকে বলেন যে, রাজা বেদবান ও তার পিতা কলির প্রিয় ম্লেচ্ছ দের নাশ করেছেন।

দেখুন — 

ইতি স্তুতস্তু কলিনা ম্লেচ্ছস্য সহ ভাযয়া ॥ ১৬  

প্রাপ্তবাম হরি সাক্ষাদ্ভগবান ভক্তবৎসলঃ ।

কলিং প্রোবাচ স হরিযুষ্মদথে যুগোত্তমম্ ॥ ১৭ 

বহুরূপমহং কৃত্বা তবেচ্ছাং পূরযাম্যহম্ ।

আদমো নাম পুরুষঃ পত্নী হব্যবতী তথা ॥ ১৮ 

বিষ্ণুকর্দমতো জাতৌ ম্লেচ্ছবংশপ্রবধনৌ ।

হরিত্বম্ভদর্ধে তত্র কলিংরানন্দসংকূলঃ ॥ ১৯ 

[নবভারত প্রকাশিত ভবিষ্যমহাপুরাণ/প্রতিসর্গপর্ব/৪ অধ্যায়(ম্লেচ্ছযজ্ঞ বৃত্তান্ত বর্ণনম্ , কলিকৃত বিষ্ণুস্তুতিঃ)/১৬-১৯ নং শ্লোক]

✅ অর্থ : এই ভাবে ম্লেচ্ছ ভার্যার (স্ত্রীর) সঙ্গে কলি ভগবান বিষ্ণুর স্তুতি করছিলেন। তখন ভক্তের প্রতি ভালোবেসে ভগবান্ শ্রীহরি প্রকট হয়ে তাকে বলেন, দেখো, তোমার ভালোর জন্য যুগোত্তম বহুরূপ ধারণ পূর্বক তোমার ইচ্ছা পূর্ণ করব। আদম নামক পুরুষ তথা হব্যবতী নামক পত্নী রূপে জন্মগ্রহণ করবো ॥ ১৬-১৮ ॥

বিষ্ণু কর্দম (কাঁদা মাটি/ পৃথিবী তত্ত্ব) থেকে ম্লেচ্ছের বংশ প্রবর্ধনকারী উৎপন্ন হয়েছিল। ভগবান শ্রীহরি সেখান থেকে অন্তর্ধান করেন এবং কলি আনন্দিত হন ॥ ১৯ ॥


[ব্যাখ্যা : ভগবান বিষ্ণুর কাছে কলিযুগ বিস্তারের স্বয়ং কলি প্রার্থনা করেন, ভগবান বিষ্ণু পৃথিবী তত্ত্ব দিয়ে স্বয়ং নিজের অংশরূপ দিয়ে অবতরিত হন আদম নামের পুরুষ হিসেবে, তার পত্নী হব্যবতী। ইহুদী, খ্রিস্টান, ইসলাম - মতবাদ গুলির মতবাদ অনুসারে তাদের সৃষ্টিকর্তা মাটি দিয়ে সৃষ্টির প্রথম পুরুষ আদম ও তার স্ত্রী হবাকে তৈরী করেন। হবাকে আমাদের সনাতন ধর্মশাস্ত্রে হব্যবতী বলে অভিহিত করা হয়েছে। আমাদের ধর্মশাস্ত্র অনুসারে এই দুইজন সৃষ্টি হয়েছিলেন ম্লেচ্ছধর্ম প্রচারের জন্য, যাতে কলিযুগ বিস্তার হতে পারে। তাদের উৎপত্তি হতেই কলি অত্যন্ত আনন্দ পেয়েছিলেন। ভগবান বিষ্ণু কলিযুগের জন্য যেমন পরিবেশ উত্তম হয় তেমনই করলেন, তাতে কলির ইচ্ছাও পূর্তি হয়ে যায়।]

___________________________________________________________________________________

📶 আদম ও হবার নামের কারণ, তাদের পরিনতি সহ সংসারে ম্লেচ্ছজাতির বিস্তার লাভ করবার বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দেখে নিন —


ইন্দ্রিয়ানি দমিত্বা যো হ্যাত্মধ্যানপরায়ন ।

তস্মাদাদমনামাসৌ পত্নী হব্যবতী স্মৃতা ॥ ২৯ ॥

প্রদাননগরস্যৈব পূর্বভাগে মহাবনম্ । 

ঈশ্বরেন কৃতং রম্যং চতুঃ ক্রোশায়তং স্মৃতম্ ॥ ৩০ ॥

পাপবৃক্ষতলে গত্বা পত্নীদশনতৎপরঃ । 

কলিস্তত্রাগতস্তনং সপরূপং হি তৎকৃতম্ ॥ ৩১ ॥

বঞ্চিতা তেন ধৃতেন বিষ্ণবাজ্ঞা ভঙ্গতাং গতা । 

খাদিত্বা তৎফলম রম্যং লোকমার্গপ্রদং পতিঃ ॥ ৩২ ॥

উদুম্বরস্য পত্রেশ তাভ্যাং বায়শনং কৃতম্ । 

সুতো পুত্ৰাস্ততো জাতাঃ সর্বেশ্লেচ্ছা বভূবিরে ॥ ৩৩ ॥

[নবভারত প্রকাশিত ভবিষ্যমহাপুরাণ/প্রতিসর্গপর্ব/৪ অধ্যায়(ম্লেচ্ছযজ্ঞ বৃত্তান্ত বর্ণনম্ , কলিকৃত বিষ্ণুস্তুতিঃ)/২৯-৩৩ নং শ্লোক]

✅ অর্থ : যিনি ইন্দ্রিয়সমূহকে দমন করে আত্মধ্যানে পরায়ণ ছিলেন, সেই কারণে তাঁর নাম আদম হয় ; তাঁর পত্নী হব্যবতী নামে প্রসিদ্ধ ॥ ২৯ ॥

প্রদাননগরের পূর্বদিকে এক মহান বন ছিল, যা ঈশ্বর কর্তৃক নির্মিত মনোরম এবং চার ক্রোশ বিস্তৃত এবং আদম হব্যবতী কে দেওয়া হয়েছিল॥ ৩০ ॥

পাপবৃক্ষের তলে গিয়ে, পত্নী (হব্যবতী) সেই বৃক্ষের ফল ভক্ষণে প্রবৃত্ত হল ; সেই সময় কলি সেখানে এসে তারূপ ধারণ করেছিল ॥ ৩১ ॥

সে (কলি)-র দ্বারা প্রতারিত হয়ে তারা বিষ্ণুর আজ্ঞা ভঙ্গ করল ; সেই মনোরম ফল ভক্ষণ করে পতিও (আদম‌ও) লোকমার্গপ্রদ (জগতে প্রবেশের পথপ্রদর্শক) হল ॥ ৩২ ॥

এরপর তারা উদুম্বর (যজ্ঞডুমুর) বৃক্ষের পত্র দ্বারা বস্ত্র নির্মাণ করল ; তাদের থেকে পুত্র ও পৌত্রাদি জন্ম নিল, এবং সকলেই ম্লেচ্ছ হয়ে উঠল ॥ ৩৩ ॥

[ব্যাখ্যা :  এখানে সনাতনধর্মের শাস্ত্রে বলা হয়েছে যে, আদম ও হব্যবতীকে যে উদ্যান দান করা হয়েছে, সেই উদ্যানের নিষিদ্ধ ফল খেতে বারণ করা হলে তারা তা ভক্ষণ করেন সাপের রূপধারী কলির প্ররোচনায়, এবং তারা বিষ্ণু কর্তৃক বিধি অমান্য করার কারণের পতিত হন, তারা লজ্জাস্থান ঢাকতে যজ্ঞডুমুরের পাতা ব্যবহার করেন এবং তাদের সন্তানেরাও তাদের পিতামাতার মতো গুণাবলী পেয়ে ম্লেচ্ছ অর্থাৎ স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠেন। এই ঘটনার সাথে ইহুদীদের তানাখের জেনেসিস, খ্রিষ্টানদের বাইবেল ও ইসলামের প্রধান গ্রন্থ কোরানের মতে সৃষ্টির প্রথম ঘটনার মান্যতা প্রায় এক‌ই ও সাদৃশ্যপূর্ণ।]

[ এখানে উল্লেখিত আদম ও হবার মাধ্যমে ম্লেচ্ছদের উৎপত্তির বিষয় বলা হয়েছে, এই ম্লেচ্ছগণ বৃদ্ধি পেয়ে ক্রমশ বিবর্তনের মাধ্যমে বিভিন্ন বিকৃত মতপথ তৈরি করে সত্য সনাতন ধর্মের বিরুদ্ধাচরণ করে থাকে, কলিযুগে এই ম্লেচ্ছদের উৎপীড়ন থেকে সকল সনাতনী সাধুজনেদের উদ্ধার করতে ভগবান বিষ্ণু কল্কি অবতার রূপে অবতীর্ণ হন এবং সত্য সনাতন ধর্মের বিরুদ্ধাচরণকারী ম্লেচ্ছদের সংহার করে সত্য সনাতন ধর্মের পুনঃপ্রতিষ্ঠার নিমিত্তে সত্য যুগের সূচনা ঘটান। প্রকৃতপক্ষে বর্তমানে দেখা যায় খ্রিষ্টান মুসলিম ইত্যাদি ম্লেচ্ছগণের কার্যকলাপ যদি লক্ষ্য করা যায় তবে স্পষ্টভাবে শাস্ত্রে উল্লেখিত ভবিষ্যৎ বানীর বিষয়টি সত্য বলে প্রতীয়মান হয়। আর পরমেশ্বর সদাশিবের আদেশ অনুসারে ভগবান বিষ্ণু অবতার গ্রহণ করে জগতকে পাপ মুক্ত করেন, এই কথাটি শিবমহাপুরাণে বলা হয়েছে — 

অত্র স্থিত্বা জগৎ সর্বং পালয় ত্বং বিশেষতঃ ।

নানাবতারভেদৈশ্চ সদা নানোতিকর্তৃভিঃ ॥ ২৭ ॥

[শিবমহাপুরাণ/রুদ্র সংহিতা/সতীখণ্ড/২৫ অধ্যায়/২৭ নং শ্লোক]

অর্থ : শ্রীবিষ্ণুকে পরমেশ্বর সদাশিব বললেন, তুমি এখানে থেকে বিশেষভাবে সম্পূর্ণ জগৎ পালন করো। নানাপ্রকার লীলাকারী বিভিন্ন অবতার দ্বারা সর্বদা সকলকে রক্ষা করতে থাকো। 

অর্থাৎ ভগবান বিষ্ণু কল্কি অবতার গ্রহণ করে মূলত পরমেশ্বর শিবের আদেশই পালন করবেন সংহার করবার মাধ্যমে। 

___________________________________________________________________________________

ম্লেচ্ছ ইহুদীদের মতে, এই আদম হবা থেকে তাদের সন্তান শেথ জন্ম নেন। শেথের বংশধারা থেকেই নূহ (Noah) আসেন। নূহ থেকে ক্রমশ আব্রাহাম আসেন। 

ভবিষ্য পুরাণের প্রতিসর্গপর্বের ৪-৫ অধ্যায়ে আদম হবা থেকে শুরু করে আব্রাহম পর্যন্ত বংশপরম্পরার বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। স্থান কালের ভেদে ইহুদীদের মান্যতা অনুসারে তাদের পূর্বপুরুষদের নামগুলোর সাথে সনাতন শাস্ত্রে উল্লেখিত নামগুলির খুব‌ই সামান্য তফাৎ আছে, কিন্তু সম্পূর্ণ টা বিচার করলে সিদ্ধান্ত হিসেবে শাস্ত্রে যে, ইহুদীদের‌ই উল্লেখ আছে, এটি স্পষ্ট হয়ে যায়। এমনকি ইহুদীদের যে ঊর্ধ্বমুখী ত্রিভুজ ও অধোমুখ ত্রিভুজের মাধ্যমে ষড়কোণের চিহ্ন ব্যবহার করা হয় তা মূলত সনাতন ধর্মেই চিরকাল ধরে শিবশক্তি যন্ত্রের রূপে পূজিত হমে আসছে। এখান থেকেও ধারণা করা যায় যে সনাতন ধর্মের নীতি থেকে বিচ্যুত হয়ে ইহুদীদের উৎপত্তি হলেও তাদের কার্যকলাপের বৈশিষ্ট্য গুলি সনাতনীদের থেকেই তারা গ্রহণ করেছিলেন।

  ইহুদীদের মতে, 

               “আব্রাহামের পুত্র যাকোব (ইসরায়েল), যাকোবের ১২ জন সন্তানের মধ্যে একজন লেভি, লেভির পুত্র কহাত, তার পুত্র আমরাম, তার পুত্র হলেন, মোজেস (মূসা/মূশা/মুশা)। 

যাকোবের ১২ জন সন্তানের মধ্যে আরেকজন সন্তান যোসেফ। যাকোবেরের অনান্য সন্তানেরা অর্থাৎ যোসেফের ভাইয়েরা দ্বারা বিক্রি হয়ে যান ব্যবসায়ীদের কাছে, তারা যোশেফ কে মিশরে নিয়ে যান। সেখানে যোশেফ স্বপ্ন বিষয়ে ব্যাখ্যা করেন এবং মিশরের শাসক ফ্যারাওদের কাছে পরামর্শদাতা হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে দুর্ভিক্ষ থেকে বাঁচতে সেই সময় তাঁর পরিবার মিশরে চলে আসে এবং বসবাস শুরু করে। যোসেফ মারা গেলে, নতুন ফারাও ক্ষমতায় আসেন, তিনি যোসেফের ইতিহাস জানতেন না, ইসরায়েলীয়রা দ্রুত সংখ্যায় বাড়ে। মিশরের শাসক ফারাও তাদেরকে রাজনৈতিক হুমকি মনে করে সিদ্ধান্ত নেন — তাদের কঠোর শ্রমে লাগানো হবে, বড় বড় নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হবে, তাদের জীবন কঠিন করে দেওয়া হবে। এর পরবর্তীতে আরও কঠোরতা অবলম্বন করে ইসরায়েলীদের নবজাতক পুত্র শিশুদের হত্যা করার আদেশ দিয়ে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন ও কঠোরভাবে শোষণ বৃদ্ধি করেন। 

এই মূসা (মোজেস) মিশরে জন্ম নিয়ে রাজপ্রাসাদে বড় হন, ঈশ্বরের আহ্বানে ইসরায়েলীয়দের নেতৃত্ব দেন, ফারাওকে বাধ্য করেন এবং অলৌকিকভাবে লোহিত সাগর পার করে তাদের মিশরীয় দাসত্ব থেকে মুক্ত করেন। এখানে মূসা শুধুমাত্র একটি জাতিকে উদ্ধার করেছিলেন।”


[নবভারত প্রকাশিত ‘ভবিষ্য পুরাণের প্রতিসর্গপর্বের ৫নং অধ্যায়ের ৩০ নং শ্লোক’-এ ‘ম্লেচ্ছাচার্যশ্চ মূশাখ্যস্তন্মতৈঃ পূরিতঃ জগৎ’ - মূশা নামক ম্লেচ্ছ আচার্য (গুরু)-র ম্লেচ্ছ মতবাদে জগৎ যেন পূর্ণ হয়ে উঠতে লাগলো।]


 ইহুদীদের ভাবনা অনুসারে তারা বিশ্বাস করেন যে, বিশ্বব্যাপী এখনো তাদের যে এই ম্লেচ্ছ (পাপী) অবস্থা রয়েছে, তার থেকে অবশ্য‌ই কোনো ঈশ্বরপ্রেরিত রাজনৈতিক ক্ষমতাশালী মসীহ (ঈশ্বরপ্রেরিত উদ্ধারকর্তা বা দূত) এসে তাদের সকলকে উদ্ধার করবেন। 

পরবর্তীতে তৎকালীন সময়ে খ্রিষ্টানদের বিশ্বাস অনুযায়ী, যীশু জন্ম নিয়ে নিজেকে ঈশ্বরের পুত্র ও ঈশ্বরের আধ্যাত্মিক দূত বলে দাবী করেন। তিনি ইহুদীদের বাহ্যিক কঠোর আইন ও কর্মকাণ্ডকে প্রত্যাখ্যান করে শুধু ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে মুক্তির কথা বলেন। (কিন্তু যীশুকে উদ্ধার কর্তা বলে মানতে অস্বীকার করেন ইহুদীরা)


✳️ নবভারত প্রকাশনীর প্রকাশিত ভবিষ্যমহাপুরাণের প্রতিসর্গপর্বের ২০তম অধ্যায় (ভরতখন্ডস্থাষ্টাদশরাজ্যস্থান) -এর ২১নং শ্লোক থেকে ৩১নং শ্লোক পর্যন্ত বর্ণিত হয়েছে খ্রিষ্টানদের মান্যতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কিছু সামান্যতম অংশ এবং সনাতন ধর্মের মান্যতাকে উল্লেখ করে যীশু নিজেই সনাতন ধর্মের মান্যতাকেই প্রকৃত ধর্ম বলে স্বীকার করেছেন ।

♦️ খ্রিষ্টানদের যীশুর বিষয়ে উল্লেখ — 

ম্লেচ্ছস্থানং পরং সিন্ধোঃ কৃতং তেন মহাত্মনা ।

একদা তু শকাধীশো হিমতুংগং সমাযযৌ ॥ ২১ ॥

হুনদেশস্য মধ্যে বৈ গিরিস্থং পুরুষং শুভম্ ।

দদর্শ বলবান্নাজা গৌরাংগং শ্বেতবস্ত্রকম্ ॥ ২২ ॥

কো ভবানিতি তং প্রাহ স হোবাচ মুদান্বিতঃ ।

ইশা পুত্রং চ মাং বিদ্ধি কুমারী গর্ভসংভবম্ ॥ ২৩ ॥

ম্লেচ্ছধর্মস্য বক্তারং সত্যব্রত পরায়ণাম্ ।

ইতি শ্রুত্বা নূপঃ প্রাহ ধর্মঃ কো ভবতো মতঃ ॥ ২৪ ॥

শ্রুত্বোবাচ মহারাজ প্রাপ্তে সত্যস্য সংক্ষয়ে ।

নির্মর্যাদে ম্লেচ্ছদেশে মসীহোহ হং সমাগতঃ ॥ ২৫ ॥

ইশামসী চ দস্যুনাং প্রাদুর্ভূতা ভয়ংকরী ।

তামহং ম্লেচ্ছতঃ প্রাপ্য মযীহত্বমুপাগতঃ ॥ ২৬ ॥ 

ম্লেচ্ছেযু স্থাপিতো ধর্মো ময়া তচ্ছুণু ভূপতে ।

মানসং নির্মলং কৃত্বা মলং দেহে শুভাশুভম্ ॥ ২৭ ॥

নৈগমং জপমাস্থায় জপেত নির্মলং পরম্ ।

ন্যায়েন সত্যবচসা মনসৈক্যেন মানবঃ ॥ ২৮ ॥

ধ্যানেন পূজয়েদীশং সূর্যমন্ডলং সংস্থিতম্ ।

অচলোহয়ং প্রভুঃ সাক্ষাত্তথা সূর্যোচলঃ সদা ॥ ২৯ ॥ 

তত্ত্বানাং চলভূতানাং কর্মণঃ স সমংতলঃ ।

ইতি কৃত্যেন ভূপাল মহীসা বিলয়ং গতা ॥ ৩০ ॥

ইশমূর্তিহৃদি প্রাপ্ত নিত্যশুদ্ধা শিবংকরী ।

ইশমসীহ ইতি চ মম নাম প্রতিষ্ঠিতম্ ॥ ৩১ ॥

[নবভারত প্রকাশিত ভবিষ্যমহাপুরাণ/প্রতিসর্গপর্ব/২০ অধ্যায় (ভরতখন্ডস্থাষ্টাদশরাজ্যস্থান)/২১-৩১নং শ্লোক] [হিন্দি সাহিত্য সম্মেলন প্রয়াগ প্রকাশনী প্রকাশিত - পণ্ডিত বাবুরাম উপাধ্যায় অনুবাদিত ভবিষ্যমহাপুরাণ/প্রতিসর্গপর্ব/৩য় খণ্ড/২ অধ্যায় (শালিবাহনকাল বর্ণনম্‌)/২১-৩১নং শ্লোক] 

✅ অর্থ : সেই মহাত্মা (বিক্রমাদিত্যের পৌত্র শালিবাহন রাজা) সিন্ধুর ওপারে ম্লেচ্ছদের স্থান দিয়েছিলেন। একবার শকাধীশ (শালিবাহন রাজা) হিমতুঙ্গ এলেন হুণ দেশের মধ্যে গিরিতে তিনি শুভ্র পুরুষকে দেখলেন যিনি বলবান্ গৌর অঙ্গও শ্বেতবস্ত্র পরিহিত ছিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন - আপনি কে ? উত্তরে সেই পুরুষ বললেন - কুমারীর গর্ভজাত আমাকে ঈশপুত্র বলে জানবে। আমি ম্লেচ্ছদের জন্য ধর্মের বক্তা ও সত্য পরায়ণ। সেই উত্তর শ্রবণ করে রাজা বললেন - আপনার ধর্ম কি ? তিনি বললেন - সত্য ক্ষয়প্রাপ্ত হলেও ম্লেচ্ছদেশ মর্যাদাহীন হলে মসীহ আমি এসেছি। [ম্লেচ্ছ দের মান্যতা হল, ভবিষ্যতে] দস্যু ভয়কারী ঈশামসী প্রাদুর্ভুত হয়। [তাদের মান্যতা অনুসারে] তাকে [ভবিষ্যৎ বানীকে] আমি ম্লেচ্ছগণের থেকে প্রাপ্ত করেছি পুনঃ আমি [সেই ভবিষ্যবাণী অনুসারে আমিই সেই মসীহা - এমন বিশ্বাস সকলের মনে স্থাপন করে] মসীহত্ব প্রাপ্ত করেছি ॥ ২১-২৬ ॥ 

হে ভূপতি, আমি ম্লেচ্ছদের জন্য ধর্ম [খ্রিষ্টান] স্থাপন করেছি তা শ্রবণ করে মানসিক ও দৈহিক ভাবে নির্মল হয়ে নিগমোক্ত জপ করে নির্মল হন। মানবগণের ন্যায়, সত্য বচন ও মন একপ্রকারে তা পালন করা উচিৎ। সূর্যমণ্ড‌লস্থিত ঈশের (শিবের) ধ্যান ও পূজন করা উচিৎ কারণ তিনি সূর্যের ন্যায় অচল (স্থির)। চলমান ভূততত্ত্ব তিনি কর্ষণ করেন। হে ভূপাল, এই কৃত্য দ্বারা মসীহা লয় প্রাপ্ত হয়। ঈশমূর্তি হৃদয়ে ধ্যান করে ঈশা মসীহা নামে আমি প্রতিষ্ঠিত হয়েছি ॥ ৩১ ॥

[ব্যাখ্যা : খেয়াল করুন,  বিক্রমাদিত্যের পৌত্র শালিবাহন রাজা ভ্রমন করতে গিয়ে এমন একজন ব্যক্তির সাথে দেখা পান, যে ব্যক্তি সাদা বর্ণের বস্ত্র পরিধান করেছিলেন, তার দেহ গৌর বর্ণের ছিল।

 শিবভক্ত শৈবগণ শ্বেত শুভ্র বস্ত্র ধারণ করেন, দেখুন এখানে প্রমাণ —

গৌতমোঽপ্যথ মধ্যাহ্নে পূজয়ামাস শঙ্করম্ ॥ ১৩৯

সর্বে শুক্লাম্বরংধরা ভস্মোদ্ধূলতবিগ্রহাঃ।

সিতেন ভস্মনা কৃত্বা সৰ্বস্থানে ত্রিপুণ্ড্রকম্ ॥ ১৪০

[নবভারত প্রকাশিত - পদ্মপুরাণ/পাতালখণ্ড/৬৯ অধ্যায়/১৩৯-১৪০ নং শ্লোক] 

✅ অর্থ — গৌতমও মাধ্যাহ্নিক শিবপূজা করিতে আরম্ভ করিলেন। সকলেই  শুক্ল বস্ত্র   (সাদা বর্ণের বস্ত্র) পরিহিত, সকলেরই শরীর ভস্মধবলিত, সকলেই শুক্ল (সাদা বর্ণের) ভস্ম দ্বারা সর্বাঙ্গে ত্রিপুণ্ড্র রচনা করলেন।


তারপর, ভোজরাজ দ্বারা তার পরিচয় জিজ্ঞেস করতেই গৌরবর্ণের পুরুষ ব্যক্তি বলেন যে, তিনি কুমারীর গর্ভে জন্মেছেন, তিনি ঈশ অর্থাৎ ঈশ্বরের পুত্র। তিনি ম্লেচ্ছদের ধর্মের বক্তা ও তিনি সত্যপরায়ন ব্যক্তি। শালিবাহন রাজা ঐ ব্যক্তিকে তার ধর্ম বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন, তখন ঐ ব্যক্তি উত্তর দিয়ে বললেন, ম্লেচ্ছরা মনে করতেন যে ম্লেচ্ছদের সত্য ধর্মকে জানাবার জন্য ঈশামসীহ আসবেন, আমিই তাদের সেই ভবিষ্যৎবাণীকে জেনেছি এবং সেই ভবিষ্যৎবাণী অনুযায়ী আমিই সেই ঈশামসীহ এমনটা সকলকে জানিয়ে বিশ্বাস করিয়ে আমিই মসীহত্ব প্রাপ্ত করেছি। 

এখানে যে খ্রিষ্টানদের মসীহ যীশুর কথা বলা হয়েছে তা কাহিনীর বর্ণনা দেখে বোধগম্য হয়। ঐতিহাসিক ভবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যাবে যে, যীশু নামটি পরবর্তীকালের অপভ্রংশ। 

ঈশ (ঈশ্বর) শব্দ থেকে ঈশু (ishu) , ‘ঈ’ (ইঅ) কে ‘য’ উচ্চারণ করে যীশু হয়েছে। ঈশ থেকে ঈশু, ঈশু থেকে যীশু হয়েছে। খ্রিষ্টান মতে, ঈশপুত্র হবার কারণে তিনি ঈশু হয়েছেন, তা অপভ্রংশ হয়ে যীশু তে পরিনত হয়েছেন।

সনাতন ধর্মের শাস্ত্রে উল্লেখিত ঈশপুত্র যীশু ও বাইবেল মান্যকারী বর্তমানের খ্রিষ্টানদের যীশু — এর মধ্যে বেশকিছু ভিন্নতা রয়েছে। সেটি উল্লেখ করছি।

সনাতন শাস্ত্রে ভবিষ্যপুরাণে, যীশু বলছেন যে, তিনি ম্লেচ্ছ হয়েও ম্লেচ্ছদের জন্য বিধান হিসেবে (নিগম) বেদমন্ত্র জপ করে দেহ মনকে নির্মল ও শুদ্ধ করতে।

অথচ, বর্তমানের যে সকল যীশুর অনুসারী খ্রিষ্টান রয়েছেন, সেই সকল খ্রিষ্টানদের মধ্যে কেউ‌ই বেদ মন্ত্র জপ করেন না, বরং বেদের বিপরীত কর্ম করেন তারা, ফলে তাদের ম্লেচ্ছ গুণ, লক্ষণ, বৈশিষ্ট্য কখনোই লুপ্ত হয়নি, এখনো তা তাদের মধ্যে এক‌ইভাবে বহমান রয়েছে। 

সনাতন ধর্মের ভবিষ্য পুরাণের বচন অনুসারে, যীশুর দ্বারা কথিত বেদ অনুসরণ করতে বলা নির্দেশের বিপরীতে বর্তমান খ্রিষ্টানগণ চলছেন, তাই এখানেই প্রশ্ন ওঠে যে, বর্তমানে যে বাইবেল [Holy Bible (old + new Testament)] - পাওয়া যায় তা আসলেই কতটুকু গ্রহণযোগ্য ? 


আরো দেখুন, ভবিষ্যপুরাণে — যীশু বলছেন সূর্যমণ্ডলের মধ্যে ঈশমূর্তিকে ধ্যান ও পূজা করা উচিত। অর্থাৎ এখানে স্পষ্টভাবেই যীশু পরমেশ্বর শিবের পূজার কথা বলছেন। 

দেখুন ! শিবমহাপুরাণে দেবতাদের বৈদিক পদ্ধতিতে শ্রেষ্ঠ শিব উপসনার একটি বিধি স্বয়ং পরমেশ্বর শিব‌ই বলেছেন — 

যঃ শিবং মণ্ডলে সৌরে সম্পূজ্যৈব সমাহিতঃ । 

প্রাতর্মধ্যাহ্নসায়ালে প্রদদ্যাদর্ঘ্যমুত্তমম্ ॥ ৩৫ ॥ 

প্রণমেদ্বা পঠেদেতান্ শ্লোকান্ শ্রুতিমুখানিমান্ ।

ন তস্য দুর্লভং কিঞ্চিদ্ভক্তশ্চেন্মুচ্যতে দৃঢ়ম্ ॥ ৩৬ ॥

তস্মাদভ্যর্চয়েন্নিত্যং শিবমাদিত্যরূপিণম্ ।

ধর্মকামার্থমুক্ত্যর্থং মনসা কর্মণা গিরা ॥ ৩৭ ॥

[শিবমহাপুরাণ/বায়বীয় সংহিতা/উত্তরখণ্ড/৮ম অধ্যায়/৩৫-৩৭ নং শ্লোক]

অর্থ : যিনি একাগ্রচিত্তে সূর্যমণ্ডলে শিবের পূজা করে প্রাতঃকাল, মধ্যাহ্নকাল ও সায়ংকালে তাঁর জন্য উত্তম অর্ঘ্য নিবেদন করেন, প্রণাম করেন এবং এই শ্রবণ-সুখদায়ক শ্লোকাদি পাঠ করেন, তাঁর কাছে কিছুই দুর্লভ নয়। যদি তিনি শিবের ভক্ত হন, তাহলে অবশ্যই মুক্ত হয়ে যান। তাই প্রতিদিন শিবরূপী সূর্যের পূজা করা উচিত। ধর্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষের জন্য মন-বাক্য ও ক্রিয়া দ্বারা তাঁর আরাধনা করা উচিত ॥ ৩৫-৩৭ ॥


 👁️ লক্ষ্য করুন, শিবমহাপুরাণে সূর্য মণ্ডলের মধ্যে পরমেশ্বর শিবের পূজার কথা বলা হয়েছে, যা মন,বাক্য,ক্রিয়র দ্বারা করতে বলা হয়েছে। আবার এক‌ইভাবে ভবিষ্যপুরাণে যীশু বলছেন সূর্যমণ্ডলের মধ্যে ঈশমূর্তিকে মন বাক্য কার্যের দ্বারা নির্মল হয়ে বেদমন্ত্র পাঠের মাধ্যমে ধ্যান উপাসনা করতে। অর্থাৎ এখানে ঈশ শব্দে স্পষ্ট ভাবে পরমেশ্বর শিব কে ইঙ্গিত করা হয়েছে। অর্থাৎ যীশু তার অনুসারীদের সনাতন ধর্মের মার্গে অগ্রসর হবার নির্দেশ দিয়েছিলেন। 

কিন্তু বর্তমানকালে খ্রিষ্টানেরা তো তা মান্য করছে না। 

ভবিষ্যপুরাণ আরো বলছে যে, কলিযুগে বেদের ভাষার শব্দগুলির বিকৃতি ঘটে ম্লেচ্ছভাষার শব্দ প্রচলিত হতে আরম্ভ করেছে, চার রকমের ম্লেচ্ছ ভাষার মধ্যে একটি হল গুরুন্ডিকা। সেই গুরুন্ডিকা ম্লেচ্ছ ভাষায় - এই কারণে সূর্যের রবিবারকে (সৌরবারকে) ‘সনডে’ বলা শুরু হল।

রবিবারে চ সন্তে চ ফাল্গুনে চৈব ফর্বরী ।

ষষ্টিশ্চ সিক্সটী জ্ঞেয়া তদুদাহারজীদৃশম্ ॥ ৩৭ ॥

[নবভারত প্রকাশিত ‘ভবিষ্য পুরাণ/প্রতিসর্গপর্ব/৫ অধ্যায়/৩৭ নং শ্লোক’]

অর্থ : গুরুন্ডিকা ভাষাতে রবিবার স্থলে সন্ডে (SunDay) এবং ফাল্গুণের স্থানে ফেব্রুয়ারী (February) প্রযুক্ত করা হয়। ষষ্ঠিস্থানে সিস্টী (Sixty) হয়। এই প্রকারে ঐ সকল ভাষার উদাহরণ হয় যা জানা উচিৎ ॥ ৩৭ ॥

 অর্থাৎ সূর্যের রবিবারটি সনডে তে পরিনত হয়। বর্তমান কালের খ্রিষ্টানদের এই সনডে হল প্রধান উপাসনার দিন। অথচ, খ্রিষ্টানদের মধ্যে সূর্যমণ্ডলের মধ্যে শিবের উদ্দেশ্যে পূজা করতে দেখা যায় না। তাই এখানে স্পষ্টভাবেই বোঝা যায় যে, সনাতন ধর্মের শাস্ত্রের বচন অনুসারে যীশু তার অনুসারীদের সনাতন ধর্মের পথে অগ্রসর হয়ে সূর্যের মধ্যে শিবপূজা করতে বললেও, বর্তমানের খ্রিষ্টানগণ শুধুমাত্র রবিবারকে সনডে (SunDay) হিসেবে উপাসনার দিন মনে করলেও সম্পূর্ণভাবে পালন করেন না।

এখান থেকে স্পষ্ট হয় যে, সনাতন ধর্মের ভবিষ্য পুরাণের বচন অনুযায়ী, যীশু ম্লেচ্ছ হলেও সনাতন ধর্মের পথে চলে শিবের উপাসানার পথে অগ্রসর হতে বলেছেন, কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে নিজেদের মতো যীশুর নামে বাইবেল রচনা করে খ্রিষ্টানেরা ম্লেচ্ছ কার্যকলাপ করেই চলেছেন। ভবিষ্যপুরাণ অনুযায়ী যীশু সহ সকলের সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বর একমাত্র‌ই পরমেশ্বর শিব, আর তার‌ই প্রকাশিত সনাতন ধর্ম‌ই একমাত্র সত্যের পথ। 

___________________________________________________________________________________

♦️ আব্রাহমিক মতবাদকে নবরূপদাতা ইসলামের নবী মোহাম্মদের উল্লেখ সনাতন ধর্ম শাস্ত্রের ভবিষ্যপুরাণে —

এতস্মিন্নন্তরে ম্লেচ্ছঃ আচার্য্যেণ সমন্বিতঃ ।

মহামদ ইতি খ্যাত শিষ্য শাখা সমন্বিতঃ ॥ ৫ ॥

নৃপশ্চৈব মহাদৈনং মরুস্থলনিবাসিনম্ ।

গংগাজলৈশ সংস্নাপ্য পঞ্চগব্য সমন্বিতৈঃ ।

চন্দনাদিভিরভ্য্যৈ তুষ্টা মনসা হরম্ ॥ ৬ ॥

নমস্তে গিরিজানাথ মরুস্থলনিবাসিনে ।

ত্রিপুরাসুরনাশোয় বহুমায়া প্রবর্তিনে ॥ ৭ ॥

স্নেচ্ছৈগুপ্তায় শুদ্ধায় সচ্চিদানন্দরূপিনে ।

ত্বং মাং হী কিং করং বিদ্বিশরণার্থমুপাগতম্॥ ৮ ॥

ইতি শ্রুত্বা স্তবং দেবঃ শব্দমাহ নৃপায়তম্ ।

গন্তব্যম্ ভোজরাজেন মহাকালেশ্বর স্থলে ॥ ৯ ॥

স্লেচ্ছৈঃ সুদূষিতা ভূমির্বাহীকা নাম বিশ্রুতা ।

আর্য্যধর্মো হি নৈবাত্র বাহীকে দেশ দারুণে ॥ ১০ ॥

বহুবাত্র মহামায়ী যোহসৌ দগ্ধৌ ময়া পুরা ।

ত্রিপুরো বলিদৈত্যেন প্রেযিতঃ পুনরাগতঃ ॥ ১১ ॥

অযোনি স বরো মত্তঃ প্রাপ্তবান্দৈত্য বর্দ্ধণঃ।

মহামদ ইতি খ্যাতঃ পৈশাচকৃতিৎপরঃ ॥ ১২ ॥

নাগন্তব্যং ত্বয়া ভূপ পৈশাচে দেশধূর্তকে।

মৎপ্রসাদেন ভূপাল তবশুদ্ধি প্রজায়তে ॥ ১৩ ॥ 

ইতি ভূ ত্বাননৃপশ্চৈব স্বদেশান পুনরাগমৎ ।

মহামদশ্চ তৈঃ সার্দ্ধং সিন্ধুতীর মুপাযয়ৌ ॥ ১৪ ॥

উবাচ ভূপতি প্রেন্না মায়ামদ বিশারদঃ ।

তব দেবৌ মহারাজ মমদাসত্বমাগতঃ ॥ ১৫ ॥ 

মমোচ্ছিষ্টং সন্তুজীয়াদ্যাথা তৎপশ্য ভো নৃপ ।

ইতি শ্রুত্বা তথা দৃষ্টা পরং বিস্ময়মাগতঃ ॥ ১৬ ॥

ম্লেচ্ছধর্মে মতিশ্চাসীত্তস্য নৃপস্য দারুণে ॥ ১৭ ॥

তচ্ছু ত্বা কালিদাসস্ত রূষা প্রাহ মহা সদম্ ।

মায়া তে নির্মিতা ধূর্তে নৃপমোহনহে তবে ॥ ১৮ ॥

হনিষ্যামি দুরাচারং বাহীকং পুরুষাধমম্ ।

ইত্যুত্ত্বা স দ্বিজঃ শ্রীমান্নবাণ জপতৎ পরঃ ॥ ১৯ ॥

জপ্তা দশসহস্রং তদ্দশাংশং জুহাব সঃ ।

ভস্ম ভূত্বা স মায়াবী ম্লেচ্ছ দেবত্বমাগতঃ ॥ ২০ ॥

ভয়ভীতাস্তু তচ্ছিষ্যা দেশং বাহিকমাময়ুঃ ।

গৃহীত্বা স্বগুরোর্ভস্ম মদহীনত্বসাগতম্ ॥ ২১ ॥

স্থাপিতং তৈশ্চ ভূমধ্যে তত্রোযুর্মদতৎপরাঃ ।

মদহীনং পুরং জাতং তৈষাং তীর্থং সমংসমৃতম্ ॥ ২২ ॥

রাত্রৌ স দেবরূপশ্চ বহুমায়াবিশাপদঃ ।

পৈশাচং দেহসাস্থায় ভোজরাজং হি সোব্রবীৎ ॥ ২৩ ॥ 

আর্যধর্মো হি তে রাজন্ সর্বধর্মোত্তমঃ স্মৃতঃ ।

ঈশাজ্ঞয়া করিষ্যামি পৈশাচং ধর্মদারুণম্ ॥ ২৪ ॥

লিঙ্গচ্ছেদী শিখাহীনঃ শ্মশ্রুধারী স দূষকঃ ।

উচ্চালাপী সর্বভক্ষী ভবিষ্যতি জনো মম ॥ ২৫ ॥

বিনা কৌলং চ পশবস্তেষাং ভক্ষ্যা মত্তা মম।

মুসলেনৈব সংস্কারঃ কুশৈরির ভবিষ্যতি ॥ ২৬ ॥  

তস্মান্মুসলবন্ডো হি জাতয়ো ধর্মদূষকাঃ ।

ইতি পৈশাচধর্মশ্চ ভবিষ্যতি ময়াকৃতঃ ॥ ২৭ ॥

ইত্যুক্তা প্রমযৌ দেবঃ স রাজা গেহমায়য়ৌ ।

ত্রিবর্ণে স্থাপিতা বাণী সাংস্কৃতী স্বর্গদায়িনা ॥ ২৮ ॥

শূদ্রেষু প্রাকৃতীভাষা স্থাপিতাতেন ধীমতা ।

পঞ্চাশদব্দকালম তু রাজ্যং কৃত্বা দিবং গতঃ ॥ ২৯ ॥

স্থাপিতা তেন মর্যাদা সর্বদেবোপমানিনী ।

আর্যাবর্তঃ পুণ্যভূমিমধ্যং বিন্ধ হিমালয়োঃ ॥ ৩০ ॥

আর্যাবর্ণাঃ স্থিতাস্তত্র বিন্ধ্যান্তে বর্ণসংকরাঃ ।

নরা মুসলবন্তশ্চ স্থাপিতাঃ সিন্ধু পাবজাঃ ॥ ৩১ ॥

বর্বরে তুষদেশে চ দ্বাপো নানাবিধে তথা ।

ঈশামসীহ ধর্মাশ্চ সুবৈঃ রাজ্ঞৈব সংস্থিতাঃ ॥ ৩২ ॥

[নবভারত প্রকাশনীর প্রকাশিত ভবিষ্যমহাপুরাণ/প্রতিসর্গপর্ব/২১তম অধ্যায় (শালিবাহন বংশীয় নৃপতি বর্ণন)/৫-৩২ নং শ্লোক]  [হিন্দি সাহিত্য সম্মেলন প্রয়াগ প্রকাশনী প্রকাশিত - পণ্ডিত বাবুরাম উপাধ্যায় অনুবাদিত ভবিষ্যমহাপুরাণ/প্রতিসর্গপর্ব/৩য় খণ্ড/৩ অধ্যায় (কলিযুগীয় ইতিহাস সমুচ্চয়ের বর্ণন)/৫-৩২ নং শ্লোক] 

✅ অর্থ : এমন সময়  ‘মহামদ’ নামে প্রসিদ্ধ ম্লেচ্ছদের আচার্য তার এবং বহু শিষ্য সহ  উপস্থিত হলেন ॥ ৫ ॥

রাজা ভোজও সেই মরুভূমিতে নিবাসকারী মহাদৈন শিব কে গঙ্গাজল ও পঞ্চগব্য দ্বারা স্নান করালেন এবং চন্দনাদি দ্বারা অভিষেক করে মনে মনে হর(শিব)কে সন্তুষ্ট করলেন। ॥ ৬ ॥

ভোজরাজ বললেন - হে গিরিজানাথ, আপনাকে প্রণাম ; আপনি মরুভূমিতে অবস্থানকারী,
ত্রিপুরাসুরবিনাশকারী এবং বহু মায়া প্রবর্তনকারী 
॥ ৭ ॥

ম্লেচ্ছদের দ্বারা গুপ্তভাবে পূজিত হে শুদ্ধ, সচ্চিদানন্দরূপ শিব আপনাকে প্রণাম। আমি শরণপ্রার্থী হয়ে আপনার কাছে এসেছি ; আমার এখন কী কর্তব্য, তা বলুন ॥ ৮ ॥

এই স্তব শুনে মহাদেব প্রকট হয়ে ভোজরাজের উদ্দেশে বললেন — ‘মহাকালেশ্বর স্থানেই তোমার ফিরে যাওয়া উচিত ॥ ৯ ॥

বাহীক - নামক এই প্রান্ত ভূমির দেশ ম্লেচ্ছদের দ্বারা অত্যন্ত দূষিত হয়েছে। এই ভয়ঙ্কর বাহীকদেশে আর্য (সনাতন) ধর্ম আর অবশিষ্ট নেই ॥ ১০ ॥

যে মহামায়াবীকে আমি পূর্বে [ত্রিপুরাসুর বধ করার জন্য ত্রিপুর] দগ্ধ করেছিলাম, সেই ত্রিপুর দানবের মধ্য থেকে একজন পুনরায় বলি নামক দৈত্যের দ্বারা প্রেরিত হয়ে ফিরে এসেছে ॥ ১১ ॥

সে অস্বাভাবিক ভাবে জন্ম নিয়ে এবং আমার কাছ থেকে বর পেয়ে প্রসিদ্ধ হয়েছে ; ‘মহামদ’ [মোহম্মদ] নামে প্রসিদ্ধ, সে দৈত্যবংশ বৃদ্ধিকারী এবং পৈশাচিক কর্মে আসক্ত ॥ ১২ ॥

হে রাজন, তোমার এই পৈশাচিক ধূর্ত দেশে থাকা উচিত নয়। আমার কৃপায়, হে ভূপাল, তোমার শুদ্ধি হবে ॥ ১৩ ॥

এই কথা শুনে রাজা নিজ দেশে ফিরে যেতে উদ্যত হলেন [মহাদেব অন্তর্হিত হলেন]। আর তখন এদিকে মহামদ তাঁর অনুগামীদের সাথে নিয়ে সিন্ধুর তীরবর্তী সংলগ্ন দেশে (বর্তমান আরবে) উপস্থিত হলেন ॥ ১৪ ॥

মায়াবিদ্যায় পারদর্শী সেই মহামদ নামক ব্যক্তি রাজার প্রতি বললেন — হে মহারাজ, তোমার দেবতা এখন আমার দাসত্ব (ইচ্ছার অনুসরণ) বরণ করেছে ॥ ১৫ ॥

হে রাজন ! আমার উচ্ছিষ্ট দ্বারা সে সন্তুষ্ট হয়েছে, তা দেখতে পারেন। এ কথা শুনে ও তা দেখে রাজা পরম বিস্মিত হলেন ॥ ১৬ ॥

এরপর সেই রাজার মনেও ম্লেচ্ছধর্মের দিকে তাকিয়ে ভয়ংকর মোহ সৃষ্টি হতে আরম্ভ‌ করল ॥ ১৭ ॥

এ বিষয়টি কালিদাস বুঝতে পেরে ক্রুদ্ধ হয়ে মহামদকে বললেন — হে ধূর্ত ! তুমি রাজার মোহের জন্য এই মায়া সৃষ্টি করেছ ॥ ১৮ ॥

আমি এই দুরাচারী, বাহীকদেশীয় অধম পুরুষকে বধ করব — এ কথা বলে সেই শ্রেষ্ঠ দ্বিজ কালিদাস জপে রত হলেন ॥ ১৯ ॥

দশ সহস্র জপ করে তার দশমাংশ হোম করলেন। তার ফলে, সেই মায়াবী মহামদ এক সময়ে ভস্মীভূত (মৃত্যু প্রাপ্ত) হয়ে ম্লেচ্ছ দের কাছে যেন দেবত্ব (পিশাচত্ব) লাভ করল ॥ ২০ ॥

তার শিষ্যরা ভীত হয়ে বাহীকদেশে ফিরে গেল, নিজ গুরুর ভস্ম (বিনাশপ্রাপ্ত দেহ) সঙ্গে নিয়ে ॥ ২১ ॥

তারা সেই মহামদের দেহ ভূমির মধ্যে (মাটিতে সমাধি হিসেবে, ইসলামিক ভাষায় - কবর) স্থাপন করল এবং সেখানে অবস্থান করল। সেই স্থান ‘মদহীনপুর’ (মদহীনা শব্দ অপভ্রংশ হয়ে মদীনা) নামে পরিচিত হলো এবং তাদের (মুসলমানদের) কাছে তীর্থতুল্য হয়ে উঠল ॥ ২২ ॥

কোন এক রাত্রিকালে সেই ম্লেচ্ছদের কাছে দেবতা রূপী বহু মায়ার অধিকারী মহামদ পৈশাচ দেহ ধারণ করে (পিশাচ হয়ে) ভোজরাজের কাছে এসে রাজাকে বললেন — ॥ ২৩ ॥

হে রাজন, তোমার আর্যধর্ম (সনাতন ধর্ম) সর্বধর্মের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। কিন্তু ঈশ্বরের (শিবের) আজ্ঞায় আমি এক ভয়ংকর পৈশাচধর্ম প্রতিষ্ঠা করেছি ॥ ২৪ ॥

আমার অনুসারীরা হবে লিঙ্গচ্ছেদকারী (ইসলামিক ভাষায় - খতনা) , শিখাহীন, লম্বা দাড়িধারী,

উচ্চস্বরে বক্তা ও আচারবিচারহীন ভাবে সর্বভক্ষনকারী ॥ ২৫ ॥

কৌল (কৌল = অদ্বৈতজ্ঞানী শৈব) না হয়েই পশু মাংস তারা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করবে ; কুশের পরিবর্তে মুসল দ্বারা সংস্কার সম্পন্ন হবে ॥ ২৬ ॥

অতএব মুসলধারী জাতিগণ ধর্মদূষক হবে। এইরূপ পৈশাচধর্ম (ইসলাম/ মুসলমান ধর্ম) আমার দ্বারা প্রবর্তিত হয়েছে ॥ ২৭ ॥

- এই কথা বলে ম্লেচ্ছদের দেবতা মহামদ অন্তর্ধান করলেন এবং রাজা গৃহে ফিরে গেলেন।
ত্রিবর্ণের মধ্যে সংস্কৃত ভাষা প্রতিষ্ঠিত হলো, যা স্বর্গদায়িনী
 ॥ ২৮ ॥

ভোজরাজ - শূদ্রদের মধ্যে প্রাকৃত ভাষা (লোকভাষা) প্রচলন করলেন। পঞ্চাশ বছর রাজত্ব করে তিনি স্বর্গে গমন করলেন ॥ ২৯ ॥

তিনি সকল দেবতাতুল্য মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিন্ধ্য ও হিমালয়ের মধ্যবর্তী অঞ্চল আর্যাবর্ত পুণ্যভূমি ॥ ৩০ ॥

সেখানে আর্যবর্ণেরা অবস্থান করল ; বিন্ধ্য পর্বতের পরবর্তী অঞ্চলে বর্ণসংকররা। আর সিন্ধুর তীরের অন্য দিকে থাকা দেশে মুসলমানদের স্থাপন করা হল ॥ ৩১ ॥

বর্বর, তুষদেশ ও অন্যান্য বহু দেশে, ঈশামসীহ (যীশুর) ধর্মও সেই সুপ্রতিষ্ঠিত রাজার দ্বারা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপিত হল ॥ ৩২ ॥

[ব্যাখ্যা : ইসলামের নবী মুহাম্মদ বিষয়ে ভবিষ্যপুরাণের মধ্যে বর্ণনা করতে গিয়ে মুসলমানদের নবীর বিষয়ে বলা হয়েছে যে, নবী যখন প্রায় সিন্ধুর অপর পশ্চিম দিকের প্রান্তে আরবের দিকের স্থানের কোনো এক এসেছিলেন, সেখানে ভোজরাজ‌ও পৌঁছে গিয়ে চন্দন গঙ্গাজল প্রভৃতি সামগ্রী নিয়ে পরমেশ্বর শিবের শিবলিঙ্গ পূজা করেছিলেন। সম্ভবত তিনি মক্কায় অবস্থিত মক্কেশ্বর শিবলিঙ্গের পূজা করেছিলেন কারণ তিনি মহাদেবের স্তুতি করতে গিয়ে বলেছিলেন, শিব ঐ স্থানে ম্লেচ্ছদের দ্বারা গুপ্ত হবে পূজিত হন। শিবলিঙ্গ বিশেষত কালো বর্ণের পাথরের হয়ে থাকে, ইসলামের ইতিহাস থেকে জানা যায় নবী মোহম্মদ মক্কার বহু প্রতিমা ভেঙ্গে ফেললেও একটি কালো পাথর তিনি রেখে দেন। সেই কালো পাথর হল মুসলিমদের কাছে পবিত্র, আজও মুসলিমেরা হজ করতে গিয়ে সেই কালো পাথরে চুম্বন করেন। মূর্তি পূজা বিরোধী মুসলিমদের এহেন পাথরকে আদরযত্ন তথা শ্রদ্ধা করবার আচরণ দেখে বোঝা যায় যে, ভোজরাজ ম্লেচ্ছদের আরবদেশে গিয়ে পরমেশ্বর শিবকে ম্লেচ্ছদের দ্বারা গুপ্তভাবে পূজিত হবার যে কথা তার স্তুতিতে উল্লেখ করেছেন তা মূলত মক্কেশ্বর শিবলিঙ্গ‌ই বটে।

ভোজরাজ স্তুতি করলে পরমেশ্বর শিব প্রকট হয়ে তাকে মহাকালেশ্বর অর্থাৎ উজ্জয়িনী তে ফিরে যেতে বলেন। কারণ, ভোজরাজ যে স্থানে উপস্থিত হয়েছিলেন সেটি ম্লেচ্ছদের দেশ, সেখানে সনাতন ধর্মাচরণ পালন হয় না। মহাদেব আরো বললেন যে, ত্রিপুরাসুরের মধ্যে একজন মহামদ নামে প্রকট হয়েছেন, তিনি শিবের পূজা করে বরদান পেয়ে পিশাচের মতো কর্ম করেন, দৈত্যদের বংশ বৃদ্ধিকারী।  তাই এই দেশে ভোজরাজের থাকা উচিত নয় - এমন বলেছেন। তখন ভোজরাজ ফিরতে উদ্যত হলেন, এমন সময় মহামদ সেখানে উপস্থিত হলেন এবং বললেন যে ভোজরাজের আরাধ্যদেবতা এখন মহামদের ইচ্ছাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। 

পরমেশ্বর শিব ভক্তবৎসল, তাঁর উপাসনা করে তাঁর কাছে দৈত্য পিশচ অসুর মনুষ্য দেবতা যা প্রার্থনা করেন, তা তারা লাভ করেন। তাই মহামদ‌ও উপসনা করে পরমেশ্বর শিবের কাছ থেকে বর পেয়ে পৈশাচিক কর্ম করতে শুরু করেছেন, ভোজরাজ সেই থানে উপস্থিত হলে, মহাদেব তৎক্ষণাৎ তাকে ফিরে যেতে বলেন। যাতে ভোজরাজের ওপর মহামদের মায়ার প্রভাব বিস্তার না করতে পারে। কিন্তু মহামদ সেখানে উপস্থিত হয়ে ভোজরাজকে নিজের বরদানের মাধ্যমে প্রাপ্ত করা ক্ষমতার কথা জানিয়ে মহাদেব কে নিজের দাস বলে অহংকার দেখাতে থাকেন। প্রকৃতপক্ষে মহাদেব কারোর দাস নন, তিনি উপাসকের ভক্তির বশবর্তী হয়ে ভক্তের ইচ্ছাকে পূর্ণ করবার জন্য তেমন কার্য করেন মাত্র, এটি দাসত্ব নয়। কিন্তু ভোজরাজ তার মায়াবী কথায় বড়ই বিস্মিত ও মোহিত হন। এমন কথা কালিদাস সহ্য করতে না পেরে মন্ত্র জপ ও হোম করবার মাধ্যমে মহামদের বিনাশ করেন। ফলে কিছু কালের মধ্যেই মহামদ মৃত্যুবরণ করেন। 

ইসলামের হাদিস অনুযায়ী, নবী মোহাম্মদ এক ইহুদী নারীর হাতে বিষ মেশানো ভেড়ার মাংস খেয়ে চারবছর অত্যন্ত কষ্ট ও যন্ত্রনায় ছটফট করে অবশেষে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। হয়তো কালিদাসের কারণেই এমন অপমৃত্যুর শিকার হয়েছিলেন তিনি। 

ভবিষ্যপুরাণ অনুযায়ী, মহামদ মারা যাবার পর তার দেহ মাটিতে সমাধি করা হয় হয় মদহীনা নামক স্থানে, যা ইসলামের ভাষায় কবর বলে পরিচিত, আর মদহীনা ই পরবর্তীতে মদীনা বলে পরিচিত হয়, মুসলমানদের কাছে এটি পবিত্র স্থান বলে মান্য।

ভবিষ্যপুরাণে আরো বলা হয়েছে —

 মহামদ মৃত্যুর পর ম্লেচ্ছদের দেবত্ব অর্থাৎ পিশাচত্ব প্রাপ্ত হলেন। তারপর কোনো কালে এক রাতে ভোজরাজের কাছে পিশাচত্ব প্রাপ্ত মহামদ এসে বললেন, ভোজরাজ যে সনাতন ধর্ম পলন করেন সেই ধর্ম সর্বশ্রেষ্ঠ। ম্লেচ্ছদের জন্য মহামদ যে নিয়ম প্রচলন করেছেন তা হল লিঙ্গচ্ছেদন, যা ইসলামের ভাষায় খৎনা করা ; তারা মাথার পেছনে শিখা রাখবে না, অর্থাৎ ব্রাহ্মণদের যেমন শিখা থাকে তা মহামদের অনুসারীগণ রাখেন না ; তারা শুধু লম্বা দাড়ি রাখবে, যা বর্তমানে মুসলমানদের মধ্যে দেখা যায় যে, তারা টুপি পড়েন ও লম্বা দাড়ি রাখেন ; তারা উচ্চস্বরে কথ বলেন ; অর্থাৎ কর্কশ কন্ঠস্বরযুক্ত হবেন ; তারা সনাতন ধর্মে থাকা বিধি নিষেধ অনুযায়ী খাদ্য আহার করে না, তারা সকল কিছুই ভক্ষণ করে । মহামদ আরো বলেন, তার অনুসারীরা অদ্বৈত শৈবজ্ঞানী কৌল না হয়েই, দ্বৈতভাব অনুযায়ী পশুর মাংস আহার করে ; কুশ দিয়ে সংস্কার না করে বরং মুসল দিয়ে সংস্কার হয়। তারা ধর্মকে দূষণ করে। এই ধরণের পিশাচের ধর্ম অর্থাৎ মুসলমানদের ধর্ম মহামদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

সম্প্রতি জাকির নায়েক নামের এক ইসলামিক স্কলার দাবী করেছেন যে ভবিষ্যপুরাণে তাদের নবী মোহাম্মদের উল্লেখ আছে। তার বক্তব্যকে মুসলমানেরা চোখবন্ধ করে বিশ্বাস করেন। সেই স্কলারের কথা অনুযায়ী ভবিষ্যপুরাণে নবী মোহাম্মদের উল্লেখ তো আছে, এতে কোনো সংশয় নেই। কিন্তু সেই নবী মোহাম্মদকে ভবিষ্য পুরাণে সরাসরি ত্রিপুরাসুরের অবতার বলা হয়েছে, ধর্মদূষনকারী পিশাচ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, তিনি ইসলামকে পিশাচধর্ম বলে সত্য স্বীকার করেছেন। এমনকি ভবিষ্যপুরাণে নবী মোহাম্মদ নিজে বলছেন যে, তিনি মহাদেবের উপাসক ছিলেন, শিবের কাছ থেকে বরদান পেয়েই পৈশাচিক রীতিনীতি প্রচার করেছেন। 

অর্থাৎ এখান থেকেও প্রমাণিত হল যে পরমেশ্বর শিবের সনাতন ধর্ম‌ই সর্বশ্রেষ্ঠ, এবং প্রভু শিব‌ই সকল ম্লেচ্ছ তথা তাদের আচার্যদের আরাধ্য ছিলেন]

___________________________________________________________________________________

✳️ সকল তথ্যের বিশ্লেষণ : 

মহাভারত থেকে ম্লেচ্ছদের লক্ষণ বর্ণনা করেছি পূর্বেই, সনাতন ধর্মে এক পরমেশ্বর শিবের থেকেই সকলের উৎপত্তি হয়েছে, পরবর্তীতে প্রধান শাখা থেকে নিকৃষ্ট গুণের কারণে  বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন ম্লেচ্ছ যবন ইত্যাদি জাত উদ্ভব হয়েছে। ম্লেচ্ছরা পূর্বে সনাতন ধর্মের ঈশ্বরের‌ই উপাসনা করতেন, কালক্রমে তারা তাদের মান্যতাকে ক্রমশ বিবর্তনের মাধ্যমে আরো পরিবর্তন করতে করতে আজ ‘সত্য সনাতন ধর্ম’ -এর বিরোধী হয়ে উঠেছেন। কিন্তু ম্লেচ্ছরা যদি তাদের নিজের মনের ধারণা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু সংকীর্ণ গুণে গুণান্বিত  করা নকল সৃষ্টিকর্তার উপাসনা পরিত্যাগ করে, সত্য সনাতন সংকীর্ণহীন কলঙ্কহীন প্রকৃত পরমেশ্বর শিবের কাছে সমর্পিত হয়ে মন থেকে শিবভক্তি করেন তাহলেই তারা মোক্ষ লাভ করতে সক্ষম হবেন। এবিষয়ে সনাতন ধর্মের শাস্ত্র শিবধর্মপুরাণ একটি খুব‌ই সুন্দরভাবে শিবভক্তির মহান মাহাত্ম্য বর্ণনা করেছেন —

শিবধর্মস্য সারোঽয়ং শিবে ভক্তি সুনিশ্চলা ।

সা চ অষ্টাঙ্গীং শিবেনোক্তা কার্যা নিত্যং প্রয়ত্নতঃ ॥ ২৬ ॥

(শিবধর্ম পুরাণ/১ম অধ্যায়/২৬ নং শ্লোক)

✅ অর্থ : শিবধর্মের সার এইটিই — এর মাধ্যমেই শিবের প্রতি অচঞ্চল ভক্তি জন্মায়। শিবভক্তি অষ্টাঙ্গী অর্থাৎ আট প্রকারের, যেভাবে ভগবান শিব নিজেই বলেছেন। যে ব্যক্তি সেই শিবোক্ত অষ্টভক্তি প্রতিদিন অধ্যবসায়ের সঙ্গে অনুশীলন করেন, তিনিই প্রকৃত শিবভক্ত (অন্যরা নয়) ॥ ২৬ ॥


শ্রীভগবানুবাচ ।

মদ্ ভক্তজন বাৎসল্যং পূজায়ামনুমোদনম্ ।

স্বয়মভ্যর্চনং ভক্ত্যখ মমার্থে চাঙ্গচেষ্টিতম্ ॥ ২৭ ॥

মৎ কথাশ্রবণে ভক্তিঃ স্বরনেত্রাঙ্গ বিক্রিয়া ।

মমানুস্মরণং নিত্যং যশ্চ মাং চোপজীবতি ॥ ২৮ ॥

(শিবধর্ম পুরাণ/১ম অধ্যায়/২৭-২৮ নং শ্লোক)

✅ অর্থ : পরমেশ্বর শিব বললেন, “(১) আমার ভক্তদের প্রতি স্নেহ (বাৎসল্য) রাখা, (২) আমার পূজার প্রশংসা বা অনুমোদন করা, (৩) নিজে ভক্তিভরে আরাধনা ও পূজা করা এবং (৪) শিবভক্তি অর্জনের জন্য আন্তরিক চেষ্টা করা।

 এইভাবে (৫) আমার কথার (শিবকথার) শ্রবণে ভক্তি রাখা ; (৬) নিজের বাক্য, দর্শন ও সকল ইন্দ্রিয়ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে থেকে সে সবের সর্বদা আমারই (শিবের) অঙ্গসমূহের সেবায় নিয়োজিত থাকা। (৭) জীবিত থাকা কালেও যেন সর্বদা আমার স্মরণেই মন নিবিষ্ট থাকে — এইভাবে (৮) আমার (শিবের) জন্য‌ই জীবিত থাকবার ভাবনা করা ॥ ২৭-২৮


ভক্তিরষ্টবিধা হ্যেষা যস্মিন্ ম্লেচ্ছেঽপি বর্ততে ।

স বিপ্রেন্দ্রো মুনিঃ শ্রীমান্স যতিঃ স চ পণ্ডিতঃ ॥ ২৯ ॥

(শিবধর্ম পুরাণ/১ম অধ্যায়/২৯নং শ্লোক)

✅ অর্থ : উপরোক্ত  আট প্রকারের ভক্তি। এই গুলি যদি ম্লেচ্ছরাও (অর্থাৎ অ-আর্য বা অনার্য জাতির লোকরাও) এর পালন করে, তবে সেই ভক্তির আচরণের ফলে তারা শ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণ বা বিপ্রদেরও উপরে স্থান লাভ করে। তাঁরাই প্রকৃত মুনি, তাঁরাই সত্যিকারের শ্রীমান্, তাঁরাই সংযমী যতি (যোগী) এবং তাঁরাই সত্য জ্ঞানসম্পন্ন পণ্ডিত  ॥ ২৯ ॥

  — খেয়াল করুন, পরমেশ্বর শিব বলছেন যে শিবভক্তির আটপ্রকারের গুণ যদি কোনো ম্লেচ্ছ-র মধ্যে থাকে তাহলে সেই ব্যক্তিই প্রভু শিবের প্রিয়।


ন মে প্রিয়শ্চতুর্বেদী মদ্ ভক্তঃ শ্বপচোঽপি যঃ ।

তস্মৈ দেয়ং ততো গ্রাহ্যং স চ পূজ্যো যথাহ্যহম্ ॥ ৩০ ॥

(শিবধর্ম পুরাণ/১ম অধ্যায়/৩০ নং শ্লোক)

✅ অর্থ : আমার কাছে সেই ব্যক্তি চতুর্বেদী (অর্থাৎ চার বেদে পারদর্শী) ব্রাহ্মণের মতো প্রিয় নয়, যতটা প্রিয় আমার ভক্ত। সে যদি শ্বপচ (অর্থাৎ নিম্নজাতি বা কুকুরভোজী) হয় তবুও তার সঙ্গে শ্রদ্ধার সহিত আচরণ, সৌজন্যমূলক আদান-প্রদান করা উচিত; কারণ সে আমারই মতো পূজনীয় — যতটা আমি পূজনীয়  ॥ ৩০ ॥

__________________________________________________

🔥 সিদ্ধান্ত —  ইহুদী খ্রিষ্টান ও মুসলমানদের বিশ্বাস করা সাম্প্রদায়িক বিশ্বাস যে, সৃষ্টিকর্তার থেকে শুরু করে আদম-হবা-আব্রাহম-মুশা-ঈশামসীহ যীশু-নবী মোহম্মদ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ হয়েছে, সনাতন ধর্মের শাস্ত্র ভবিষ্যপুরাণ অনুযায়ী, সেই সৃষ্টিকর্তার পূর্বেও এক মহাসৃজন কর্তা পরমেশ্বর শিবের অস্তিত্ব রয়েছে আর সকল ঐ সকল ব্যক্তিবর্গের বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে তারা সকলে ম্লেচ্ছ হ‌ওয়া সত্ত্বেও শিবভক্তিই করতেন তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।

এখন অনেকের প্রশ্ন থাকতে পারে যে, তাহলে এমন অবগুণে পরিপূর্ণ মায়ার কি প্রয়োজন ছিল ? 

⏏️ উত্তর : সনাতন ধর্ম অনুযায়ী পরমেশ্বর শিব‌ই সমগ্র জীবজগৎ হয়েছেন, তিনি মায়ার দ্বারা পৃথক পৃথক জীব রচনা করেছেন, আর সেই জীব সত্য যুগ থেকে ক্রমশ আরো মায়ায় মোহিত হতে হতে কলিযুগে ঘোর মায়ায় মোহিত হয়ে অবশেষে সংহার হয়ে মূল শিবরূপে লীন হয়ে যান পুনরায় সত্যযুগে পরমেশ্বর শিব নিজেকে এক থেকে দ্বিতীয় রূপ প্রকট করে এমন দিব্য ক্রীড়া করেন। তাই এখানে তিনি নিজেই সকল কিছু হবার দরুন, তার উপর তার‌ই জীবরূপ মায়ায় মোহিত হ‌ওয়া ও সেই মায়া থেকে মুক্ত করার কারণে কোনোভাবেই দোষ লাগে না। যদি মায়া না হতো তবে ভালো মন্দের পৃথকত্ব হতো না, ধর্ম ও অধর্ম থাকতো না, সর্বোপরি সৃষ্টিই হতো না। পরমেশ্বর নিজেই মায়া দ্বারা সৃষ্টি করে নিজেই সেই মায়াকে সংহার করার জন্য জ্ঞান প্রকাশ করেন। সেই জ্ঞান সনাতন ধর্মশাস্ত্রে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। যিনি সেই শাস্ত্রের মধ্যে থেকে সেই আত্মজ্ঞান লাভ করে এই সনাতন সত্য জানতে পারেন তিনিই মায়ার জগতকে প্রাধান্য না দিয়ে নিজের অন্তরে স্থিত শিবসত্তার সাথে একত্ব লাভের চেষ্টা করতে করতে মোক্ষ প্রাপ্তি করেন।

আত্মজ্ঞানে সবার অধিকার আছে, তাই যারা আত্মজ্ঞান লাভের কাণ্ডারী পরমেশ্বর শিবের ভক্তিযুক্ত হন তিনিই শিবের প্রিয় ও মোক্ষের ভাগীদার হন।

 অর্থাৎ প্রভু শিবের কাছে কোনো জাত বা সামাজিক ধর্মমতবাদের পরিপন্থী ব্যক্তির ঐ সকল অবস্থান দেখে বিচার করে কৃপা করেন না, বরং তিনি যে কোনো অবস্থার জীবকে উদ্ধার করেন, যদি সেই জীব সম্পূর্ণরূপে শিবের প্রতি ভক্তি সম্পন্ন হন, এই ভক্তির লক্ষণ সনাতন শৈবধর্মের সর্বশ্রেষ্ঠত্ব মার্গ অনুসারেই হতে হবে। যার মধ্যে প্রভু শিবের ঐ সকল প্রকার ভক্তিভাব উদয় হয়, আর যিনি এগুলি পালন করেন, তিনিই শিবের প্রিয়। শিবভক্তিহীন চারবেদের পণ্ডিত ব্যক্তিও শিবের প্রিয় হতে সক্ষম নন, বরং শিবভক্তির দ্বারা শিবভক্ত ব্রাহ্মণের চেয়েও শ্রেষ্ঠ হয়ে যান। কেউ যদি ভাবেন যে, ব্রাহ্মণরাই একমাত্র শিবকৃপা লাভ করতে পারবে, অন্য কেউ শিবকৃপা লাভ করতে পারবে না, একথা সম্পূর্ণ ভাবে ভুল আর তা স্বয়ং প্রভু শিব নিজ শ্রীমুখে বলে প্রমাণ করে দিয়েছেন। যে কেউ শিবের প্রিয় হতে পারেন, শিবকৃপা লাভ করতে পারেন, আমাদের পরমেশ্বর শিব সকলের প্রভু। এই কারণে প্রভু শিবের শৈব মার্গ সকলের জন্য সমানতার সর্বশ্রেষ্ঠ মার্গ। এখানে জাতপাতের গোঁড়ামিতা নেই, আছে শিবভক্তির দ্বারা উদার আত্মজ্ঞান উপলব্ধি, যার দ্বারা  সকলের মধ্যে গড়ে ওঠে সমানতার শিবময় আত্মীয়তা। তাই সকল ইহুদী খ্রিষ্টান ও মুসলিমদের উচিত — পরমেশ্বর শিবের সত্য সনাতন শিবধর্মে প্রত্যাবর্তন করে নিজেদের জীবনকে সুন্দরভাবে কাটানো। 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য : বর্তমানে অনেকেই ভবিষ্যপুরাণের বচনে লিখিত বিভিন্ন বিখ্যাত ব্যক্তিদের কাহিনীর সাথে, ঐতিহাসিক ভাবে সেই ব্যক্তির সময়কালের গণনা করে বিচার করে বলেন যে, ভবিষ্য পুরাণে সব অতীত কাল (Past Tense) হিসেবে বলা হয়েছে। এটি অজ্ঞানতা ছাড়া আর কিছুই নয়, কারণ এটি পূর্ববর্তী কল্পে ঘটে যাওয়া কাহিনী, যা ভবিষ্য পুরাণে পরবর্তীতে উল্লেখ হয়েছে। এই কল্প পেরিয়ে যাওয়ার পর পরবর্তী কল্পে এই কল্পের ঘটনা বলা হবে, যা এখনো বলা হয়নি। তবে একথা ঠিক যে,  নবভারতের প্রকাশিত ভবিষ্যপুরাণের প্রতিসর্গ পর্বের পরবর্তীতে যে দ্বিতীয় খণ্ড আছে তা প্রধান পাণ্ডুলিপি থেকে গৃহীত নয়, বরং বিকল্প পাঠান্ত্যর, এটি এখনো গবেষণালব্ধ বিষয়। মূলকথা হলো কল্পান্তরে ব্যক্তি চরিত্র একই থাকে ঘটনার মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন ঘটে, গণেশের মুণ্ডুচ্ছেদ ও মহিষাসুর বধের বিষয়েও কল্পান্তরে ঘটনাটির ভিন্নভাবে ঘটেছে]

🟫 ‘সনাতন ধর্ম সিদ্ধান্ত ’ ও বর্তমানের ‘ইহুদী-খ্রিষ্টান-ইসলাম’ -এর সিদ্ধান্তের মধ্যে মীমাংসা : 

ম্লেচ্ছ ইহুদীগণ নিজেদের বোধ অনুযায়ী পরমেশ্বরের বিষয়ে নিজেদের ভাবনা অনুসারে কিছু বৈশিষ্ট্য দ্বারা পরমেশ্বরকে সীমাবদ্ধ করেন, পরবর্তীতে যীশুর অনুসারীগণ যীশুর বক্তব্যকে শুনে তা প্রচার করতে গিয়ে নিজেদের বুদ্ধি অনুসারে পরমেশ্বরের বিষয়ে কিছু সীমাবদ্ধ বৈশিষ্ট্য আরোপ করেন, পরবর্তীতে ইসলামের নবী (সাঃ) সৃষ্টিকর্তার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে নিজের ভাবনা অনুসারে ধারণা দেন, কিন্তু সৃষ্টিকর্তা এক ও অদ্বিতীয় হ‌ওয়ায়, ক্রমাগত বিবর্তিত হওয়া যে ধারণা ম্লেচ্ছদের দ্বারা প্রচারিত হয়েছে, তা সংকীর্ণতায় পরিপূর্ণ হ‌ওয়ায় ম্লেচ্ছদের ধারণা অনুযায়ী যে, তথাকথিত পরমেশ্বর রয়েছেন তার উপর বহু অক্ষমতা ও কলঙ্কের দোষ যুক্ত হয়। কিন্তু সনাতন ধর্মের পরমেশ্বর সকল মায়ামুক্ত তথা সকল কিছুর তিনিই উপাদন ও নিমিত্ত কারণ হ‌ওয়ায় তার উপর সীমাবদ্ধতা ও অনান্য কলঙ্কের দোষযুক্ত হয় না। তাই সনাতন ধর্মের পরমেশ্বরই একমাত্র প্রকৃত অদ্বিতীয় স্রষ্টা, ম্লেচ্ছ মতবাদের দৃষ্টিকোণের তথাকথিত স্রষ্টা প্রকৃত স্রষ্টা নন।

সকল কিছুর রূপধারী এক ও অদ্বিতীয় স্রষ্টা পরমেশ্বর শিব ছাড়া, অন্য আর কোনো দ্বিতীয় পরমেশ্বর নেই।


শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তেতরাম্‌ 🚩 

ॐ নমঃ পার্বতীপতয়ে হর হর মহাদেব 🚩 


তথ্য সংগ্রহে ও লেখনীতে — শ্রী নন্দীনাথ শৈব আচার্য গুরুদেব জী 

কপিরাইট ও প্রচারে — Shivalaya

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ