বৈষ্ণবদের প্রিয় পদ্মপুরাণ বলছে শ্রীবিষ্ণু হলেন — শিবের উপাসক ‘শৈব’
🤯 বৈষ্ণবদের প্রিয় পদ্মপুরাণ বলছে শ্রীবিষ্ণু হলেন — শিবের উপাসক ‘শৈব’ 🫨😳
প্রমাণ —
॥ শিবার্চক ॥
(পদ্মমহাপুরাণ/উত্তরখণ্ড/৭১ অধ্যায়/২০৮ শ্লোক)
✅ অর্থ : শিবের অর্চনাকারী হলেন ‘শ্রীহরি নারায়ণ বিষ্ণু’
__________________________________________________
😂 বর্তমানে কিছু আগাছার জন্ম হয়েছে, যাদের কাজ হল শাস্ত্রের অপব্যাখ্যা করে পরমেশ্বর শিবকে বিষ্ণুর থেকে নিকৃষ্ট দেখাবার চেষ্টা করা।
তাদের মধ্যে সর্দার রূপে এক কলিযুগীয় বৈষ্ণব অসুর আছেন, তার নাম অশোক সরকার। সেই ব্যক্তি অপপ্রচারে যতটা পটু, ঠিক ততটাই বোকামীর প্রতিযোগিতায় সবার চেয়ে এগিয়ে।
পদ্মমহাপুরাণের উত্তরখণ্ডের ৭১ অধ্যায়ে থাকা বিষ্ণু সহস্রনাম অর্থাৎ বিষ্ণুর উদ্দেশ্যে হাজারটি নামকে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি সত্য, অস্বীকার করার বিষয় নেই।
কিন্তু বৈষ্ণব অসুর অশোক সরকার সেখানে উক্ত হওয়া এমন কিছু শব্দ তুলে দেখাচ্ছে যাতে শিবকে নিকৃষ্ট দেখানো যায় সমাজের কাছে।
🔸উদাহরণ হিসেবে বলি - সেখানে শ্রীবিষ্ণুকে কপিল, শ্রী, নৃপতি, বৃষভ, বক্তা ইত্যাদি বলা হয়েছে আবার - উমাপতি, স্ত্রীগৌরী, শিবারূঢ়, শিবার্চক ইত্যাদিও বলা আছে।
বৈষ্ণবাসুর অশোক সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পরমেশ্বর শিব এবং মা পার্বতীকে অপমান করবার জন্য
উমাপতি শব্দের অর্থ বানিয়েছে উমার স্বামী বিষ্ণু।
স্ত্রীগৌরী শব্দের অর্থ বানিয়েছে যে, বিষ্ণুর স্ত্রী গৌরী। শিবারূঢ় শব্দের অর্থ বিষ্ণু শিবের উপর আরোহণ করে থাকেন। অথচ এই সব অর্থের কোনো কাহিনীর প্রামাণিকতা নেই। তাই এসব অপলাপ দিয়ে শিব পার্বতী বিষ্ণুর চেয়ে নিকৃষ্ট প্রমাণ করবার চেষ্টা করা বৃথা।
কারণ, উমাপতি শব্দে রুদ্রকেই বোঝায়, স্ত্রীগৌরী অর্থাৎ স্ত্রীরূপধারিনী গৌরীরূপী বিষ্ণু, শিবে আরুঢ় হওয়া মোহিনী অবতারও বিষ্ণু। অর্থাৎ পদ্মপুরাণের উক্ত কল্পানুসারে বিষ্ণু থেকে সকল কিছুই উৎপন্ন হবার কারণে সবকিছুতেই বিষ্ণুর অস্তিত্ব বলে চিহ্নিত করতেই এমন সহস্র নাম উল্লেখ হয়েছে। এরকম বহু নাম তো বেদেও মহাদেবের জন্যও উল্লেখ হয়েছে, যেমন অথর্বশির উপনিষদের ২য় কণ্ডিকার ২নং মন্ত্রে পরমেশ্বর শিব বিষ্ণুরূপ ধারণ করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তাহলে কি আমরা এখন লক্ষ্মীর স্বামী শিব এমন বলে প্রচার করলে তা যুক্তিযুক্ত হবে ?
বৈষ্ণবরা কি এটা মেনে নিতে পারবে ?
আমরা শৈবরা শিবপরমত্বকে অনুসরণ করতে গিয়ে, অর্থের অনর্থ্য ঘটাই না। তাই বৈষ্ণবরা এই অপদাবি করলেও আমরা তাদের মত অপদাবি করি না কারণ এতে শাস্ত্রের অপমান হয়। কিন্তু বৈষ্ণবদের সেইসব বালাই নেই, তারা নিজেদের বিষ্ণু পরমত্ব ও বৈষ্ণব শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবার জন্য বেদ পুরাণ আদি সমস্ত শাস্ত্রকে অস্বীকার করে নিজেদের মুখের কথাকেই একমাত্র ঈশ্বরবানী বলে প্রচার করতে দ্বিধাবোধ করে না। শাস্ত্রে কোথাও কোনো বচন বৈষ্ণবদের মন মতো না হলেই সেই বচনকে অস্বীকার করে দেয়।
অন্যদিকে শৈবরা সদাসর্বদা সকল শাস্ত্র বচনকে স্বীকার করে তার মধ্যে পরস্পর বিপরীত দুটি বচনকে মীমাংসা করে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
কিন্তু বৈষ্ণবাসুর কাকপণ্ডিত অশোক সরকার তার দাবী অনুযায়ী একপাক্ষিক ভাবে এই উমাপতি শব্দে উমার পতি বিষ্ণু, স্ত্রীগৌরী শব্দে বিষ্ণুর স্ত্রী গৌরী, শিবারূঢ় শব্দ শিবের উপর আরূঢ় হয়ে থাকা বিষ্ণু - এমনটাই নাকি অর্থ।
তাহলে বিষ্ণুকে যে শ্রী বলা হয়েছে, সেই শ্রী তো বৈষ্ণবদের মতে লক্ষ্মী দেবী, তাহলে শ্রী শব্দ তো বিষ্ণুকে বোঝাচ্ছে, এখন কি তবে শ্রী শব্দে বিষ্ণুকেই বোঝায় লক্ষ্মীর কি কোনো অস্তিত্ব নেই ?
বৈষ্ণবাসুর অশোক সরকার তার কাকপণ্ডিতি দিয়ে এর উত্তর দিতে অক্ষম।
বিষ্ণুকে তো কপিল বলা হয়েছে, তাহলে কি কপিলমুনির কোন অস্তিত্ব নেই ?
বিষ্ণুকে তো নৃপতি অর্থাৎ রাজা বলা হয়েছে, তাহলে দুনিয়াতে কি আর কেউ নৃপতি নেই, শুধুমাত্র রাজা বলতে কি বিষ্ণুকেই বোঝায় ?
বিষ্ণুকে তো বৃষভ বলা হয়েছে, তাহলে কি এই দুনিয়ায় ষাঁড়ের কোনো অস্তিত্ব নেই ষাঁড় বলতে শুধু বিষ্ণুকেই বোঝায় ?
বৈষ্ণবাসুর অশোক অহংকারে অতিগর্বিত, ফলে নিজের যুক্তিতে নিজেই ফাঁদে পড়েছে।
পরমেশ্বর শিবের সহস্র নাম যেখানে যেখানে রয়েছে, সেখানে মহাদেবকে বিষ্ণু বলা হয়েছে, ব্রহ্মা বলা হয়েছে পার্বতী বলা হয়েছে, দুনিয়ার সমস্ত বিষয়কেই মহাদেবের নাম বলা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে সেই সকল নাম শুধুমাত্র শিবের হয় এই দুনিয়ায় সেই সত্তা গুলির কোন অস্তিত্ব নেই। মূলত সকল রূপ ধারণ করে সেই এক শিবই লীলা করছেন, এমনটি বোঝাবার জন্যই সহস্র নাম উল্লেখিত হয় শাস্ত্রে। একইভাবে মহাদেবের যে বিশ্বরূপ দ্বারা এ জগতের সমস্ত রূপ প্রকট হয়েছে সেই রূপগুলির নাম উল্লেখ করে তা বিষ্ণুর ঐ নাম এমনটি বলেছে পদ্মপুরাণ। কিন্তু বৈষ্ণবাসুর অশোক সরকার তা বুঝতে অক্ষম। তাই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষ্ণুর সহস্র নামের স্তোত্র থেকে শ্লোকের খণ্ডিতাংশ দেখিয়ে কিছু নাম ব্যবহার করে একপাক্ষিক ভাবে শিবের নিন্দা করছে।
এখন সহস্র নামের মধ্যে থাকা নামগুলি যদি বৈষ্ণবদের শেষ ভরসা হয়, তাহলে সেই সহস্র নামের মধ্যেই ‘শিবার্চক’ শব্দ উল্লেখ হয়েছে, অর্থাৎ শিবের উপাসনাকারী শৈব ভক্ত হলেন বিষ্ণু - এটিও মানতে হবে।
কি হে কাকপণ্ডিত বৈষ্ণবাসুর অশোক সরকার ও তার পক্ষপাতিত্বকারী নরকের কীটেরা এবার “বিষ্ণুকে শিবার্চক শৈব” বলে স্বীকার করবেন তো ?
ঘটে যদি থাকে বুদ্ধি, ।
তাহলেই তো হবে শুদ্ধি, ।।
যার মনে অহংকার,
তার সব ছাড়খার ।।
শিবনিন্দুকদের ভরসা ,
মাত্র এক অশোক সরকার ।।
কিন্তু ঘটে তার বুদ্ধি নেই,
বুদ্ধির ঔষধ সেবন দরকার ।।
দাবি করে যেথা হতে,
পরাজিত হয় সেথা হতে ।।
নিজের যুক্তিতে নিজের জড়ায়,
কর্মফল ভোগ স্বয়ং ঈশ্বর করায় ।।
যুগে যুগে পাখণ্ডি শিবদ্বেষী জন্মিছে,
শৈবরা সেই ভণ্ডদের সর্বত্র বিনাশিছে ।।
চিরকাল ভণ্ডরা স্মরিবে ‘শিবালয়’ এক নাম ।
শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তেতরাম্ 🚩
ॐ নমঃ পার্বতীপতয়ে হর হর মহাদেব 🚩
__________________________________________________
🔥 তথ্যসূত্র সংগ্রহে ও অপপ্রচার দমনে : শিবদ্বারাধীশাধ্যক্ষ দেশিক আচার্যপরমাধিকারী শ্রীপাদযুক্ত শ্রীগুরু নন্দীনাথ শৈব আচার্যদেব 🚩
কপিরাইট ও প্রচারে : Shivalaya 🔥
[প্রকৃত শিবভক্ত সনাতনীরা পোষ্ট টি শেয়ার করে সত্য ছড়িয়ে দিন]
This Post is Only for Public Awareness.
#বৈষ্ণবমতবাদখণ্ডন #বৈষ্ণবাসুরঅশোকসরকারদমন #পরমেশ্বরশিব #শৈব #শৈবধর্ম #সনাতনধর্ম
Ai generated image.


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন