বিষ্ণুর অহংকার ধ্বংসকারী শিবাবতার বৃষভেশ্বরের লীলা
😱 বিষ্ণুর অহংকার ধ্বংসকারী শিবাবতার বৃষভেশ্বরের লীলা 🕉️
_________________________________________________
🔰 ভূমিকা — পরমেশ্বর শিব সর্বদা সকলের অহংকার নাশ করে মোহ থেকে উদ্ধার করেছেন। শ্রীবিষ্ণুও মায়ায় মোহিত হন এবং কামগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তখন পরমেশ্বর শিব বৃষভেশ্বর অবতার রূপে বিষ্ণুর মোহবশত হওয়া অহংকার কে ধ্বংস করে দেন। ফলে, পরমেশ্বর শিবের কৃপাবশত বিষ্ণু নিজের মোহ থেকে উদ্ধার পান, তার অহংকার চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যায়। অদ্ভুত লীলাধারী পরমেশ্বর শিবের সেই বৃষভেশ্বর অবতার বিষয়ক কাহিনী এখানে শিবমহাপুরাণের শতরুদ্র সংহিতার ২২ ও ২৩ তম অধ্যায় থেকে উপস্থাপন করা হল।
∆ নন্দী মহারাজ সনৎকুমারকে এই কাহিনী শোনাচ্ছেন।
_________________________________________________
✅ প্রসঙ্গ : সমুদ্র মন্থনকালে অমৃত উঠে এলে অসুরেরা অপহরণ করেন, দেবতারা যুদ্ধ করতে শুরু করলে সেই অমৃত থেকে কিছু বিন্দু ছিটকে গিয়ে অত্যন্ত সুন্দরী নারীদের উৎপত্তি হয়। অবশেষে অসুরেরা অমৃত ছিনিয়ে নেয়। তখন দেবতারা মহাদেবের শরণাপন্ন হলে, পরমেশ্বর শিবের আজ্ঞায় শ্রীবিষ্ণু মোহিনীরূপ ধারণ করে সেই অমৃত পশুরদের মোহিত করে নিজের কাছে নিয়ে নেয়। অসুরেরা মোহিনীকে বলে মোহিনীর হাত দিয়ে সকল পশুর দৈত্যদের সেই অমৃত পান করিয়ে দেওয়ার জন্য।
বেশ কিছু অসুরেরা অমৃত থেকে উৎপন্ন সেই সুন্দরী নারীদের নিয়ে পাতাল লোকেরা রেখে আসেন। কিন্তু ফিরে এসে যখন দেখেন যে অমৃত সব ওই দেবতারা গ্রহণ করেছেন, তখন অসুরেরা ক্রদ্ধ হয়ে পুনরায় যুদ্ধ শুরু করেন। তখন শ্রীবিষ্ণু তাদের অনেককে বধ করেন, আর যারা পাতার লোকে পালিয়ে যাচ্ছিল, তাদের বধ করবার জন্য ধাওয়া করতে করতে পাতালে গিয়ে প্রবেশ করেন।
এবার পরবর্তী প্রসঙ্গ সংস্কৃত শ্লোকের ক্রমাঙ্ক অনুসারে শুধুমাত্র অনুবাদ দ্বারা উপস্থাপন করা হল।
[তথ্যসূত্র : শিবমহাপুরাণ/শতরুদ্র সংহিতা/২২ অধ্যায়/৪৪-৫৫ ক্রমাঙ্ক শ্লোক]
মহাবলী বিষ্ণু হাতে চক্র ধারণ করে অত্যন্ত উৎকৃষ্ট পাতাললোকে গিয়ে সেখানে ভয়ে অবস্থানরত সেই দানবদের অনুসরণ করতে লাগলেন ॥ ৪৪ ॥
এমন সময় বিষ্ণু সেখানে এমন কিছু নারী দেখতে পেলেন, যাঁদের মুখ অমৃত থেকে উৎপন্ন পূর্ণচন্দ্রের মতো সুন্দর এবং যাঁরা নিজেদের দিব্য সৌন্দর্যের জন্য গর্বিত ছিলেন। তাঁদের দেখে বিষ্ণু মোহিত হয়ে পড়লেন এবং সেই শ্রেষ্ঠ নারীদের সঙ্গে সেখানেই ক্রীড়া-বিহার করতে লাগলেন। তাঁদের সঙ্গে অবস্থান করেই তিনি শান্তি লাভ করলেন ॥ ৪৫–৪৬ ॥
বিষ্ণু সেই নারীদের গর্ভে বহু পুত্রের জন্ম দিলেন। তাঁরা ছিলেন অত্যন্ত পরাক্রমশালী এবং যুদ্ধে সুদক্ষ। তাঁদের শক্তিতে সমগ্র পৃথিবী পর্যন্ত কেঁপে উঠত। পরবর্তীকালে সেই মহাবলবান ও পরাক্রমশালী বিষ্ণুপুত্রেরা সমগ্র পৃথিবীকে কম্পিত করতে করতে স্বর্গলোক ও মর্ত্যলোকে ভয়াবহ ও দুঃখদায়ক মহা উপদ্রব সৃষ্টি করতে লাগল ॥ ৪৭–৪৮ ॥
সমগ্র জগতে তাঁদের এইরূপ উপদ্রব দেখে মুনিগণ ও দেবতারা ব্রহ্মার কাছে গিয়ে তাঁকে প্রণাম করে সমস্ত বিষয় নিবেদন করলেন ॥ ৪৯ ॥
তাঁদের কথা শুনে ব্রহ্মা তাঁদের সঙ্গে নিয়ে কৈলাস পর্বতে গেলেন। সেখানে প্রভু শিবকে দর্শন করে তিনি অত্যন্ত বিনম্রভাবে হাতজোড় পূর্বক অঞ্জলি ধারণ করে বারবার তাঁকে প্রণাম করলেন। তারপর — “ হে দেব ! হে মহাদেব ! হে সর্বস্বামিন্ ! আপনার জয় হোক ” — এইভাবে উচ্চারণ করতে করতে বহু প্রকার স্তব ও স্তুতির মাধ্যমে তিনি মহাদেবের প্রশংসা করতে লাগলেন ॥ ৫০–৫১ ॥
ব্রহ্মা বললেন — হে দেবদেব ! হে মহাদেব ! হে প্রভু ! পাতালে অবস্থানকারী, বিকারগ্রস্ত ও উপদ্রবকারী বিষ্ণুপুত্রদের দ্বারা পীড়িত সমগ্র লোকসমূহকে আপনি রক্ষা করুন ॥ ৫২ ॥
হে সর্বব্যাপী বিভু ! বিকারগ্রস্ত হয়ে বিষ্ণু অমৃত থেকে উৎপন্ন সেই নারীদের প্রতি আসক্তচিত্ত হয়ে বর্তমানে পাতালে অবস্থান করছেন এবং তাঁদের সঙ্গেই অবস্থান করছেন ॥ ৫৩ ॥
নন্দীশ্বর বললেন — এইভাবে লোকসমূহের রক্ষা এবং পাতাল থেকে বিষ্ণুকে ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে ঋষিগণসহ দেবতারা এবং ব্রহ্মা শিবের অত্যন্ত প্রশংসা ও স্তব করতে লাগলেন ॥ ৫৪ ॥
এরপর করুণার সাগর ভগবান মহেশ্বর শিব সেই উপদ্রবের সমস্ত ঘটনা জানতে পেরে বৃষভের রূপ ধারণ করলেন ॥ ৫৫ ॥
_______________________________________________
[শিবমহাপুরাণ/শতরুদ্র সংহিতা/২৩ অধ্যায়/১-৩৯ ক্রমাঙ্ক শ্লোক]
নন্দীশ্বর বললেন —
তখন পিনাকধারী শিব বৃষভের রূপ ধারণ করে গর্জন ও ভয়ংকর শব্দ করতে করতে সেই পাতালের গহ্বরের মধ্যে প্রবেশ করলেন ॥ ১ ॥
তাঁর সেই ভয়ংকর নিনাদে প্রাসাদ ও নগরসমূহ ভেঙে পড়তে লাগল এবং সমস্ত নগরবাসী ভয়ে কাঁপতে লাগল ॥ ২ ॥
এরপর বৃষভরূপধারী মহেশ্বর শিবের মায়ায় মোহিত, মহাবল ও পরাক্রমশালী এবং যুদ্ধের জন্য ধনুক উত্তোলনকারী বিষ্ণুপুত্রদের সম্মুখে গিয়ে উপস্থিত হলেন ॥ ৩ ॥
হে মুনিসত্তম ! তখন সেই বীর বিষ্ণুপুত্রেরা ক্রুদ্ধ হয়ে উঠল এবং প্রচণ্ডভাবে গর্জন করতে করতে শিবের দিকে ছুটে এল ॥ ৪ ॥
বৃষভরূপধারী মহাদেবও তাঁর সম্মুখে আগত সেই বিষ্ণুপুত্রদের প্রতি ক্রুদ্ধ হয়ে উঠলেন এবং নিজের খুর ও শৃঙ্গ দ্বারা তাদের বিদীর্ণ করতে লাগলেন ॥ ৫ ॥
পরমেশ্বর শিবের দ্বারা ক্ষত-বিক্ষত শরীরবিশিষ্ট সেই সমস্ত মূঢ় বিষ্ণুপুত্র অতি শীঘ্রই প্রাণহীন হয়ে ধ্বংস হয়ে গেল ॥ ৬ ॥
নিজ পুত্রদের নিহত হতে দেখে বলবানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিষ্ণু দ্রুত পাতালের গহ্বর থেকে বাইরে বেরিয়ে এলেন এবং প্রবলভাবে গর্জন করে পরমেশ্বর শিবের নিকটে গিয়ে উপস্থিত হলেন ॥ ৭ ॥
পুত্রদের বধ করে চলে যেতে থাকা বৃষভরূপধারী শিবকে দেখে বিষ্ণু তাঁর উপর বাণ ও দিব্যাস্ত্র দ্বারা আক্রমণ করলেন ॥ ৮ ॥
তখন মহাবলবান কৈলাসবাসী বৃষভরূপধারী শিব ক্রুদ্ধ হয়ে বিষ্ণুর সেই সমস্ত অস্ত্র গিলে ফেললেন ॥ ৯ ॥
হে মুনে ! এরপর বৃষভরূপধারী সেই মহেশ্বর অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে তিনটি লোককে কম্পিত করে এমন এক মহাভয়ংকর গর্জন করলেন ॥ ১০ ॥
ক্রোধে উন্মত্ত এবং অজ্ঞানের বশে শিবকে নিজের ঈশ্বর বলে স্বীকার না করা বিষ্ণুকে তিনি প্রবল বেগে লাফিয়ে লাফিয়ে নিজের শৃঙ্গ ও খুরের দ্বারা বিদীর্ণ করে দিলেন ॥ ১১ ॥
তখন মায়ায় মোহিত বিষ্ণু শিবের সেই প্রহার সহ্য করতে না পেরে অতি শীঘ্রই মানসিকভাবে শিথিল এবং শরীরে অত্যন্ত পীড়িত হয়ে পড়লেন ॥ ১২ ॥
বিষ্ণুর সমস্ত অহংকার চূর্ণ হয়ে গেল। তিনি চেতনাহীন হয়ে মূর্ছিত হলেন। তখন তিনি বৃষভরূপধারী শিবকে চিনতে পারলেন ॥ ১৩ ॥
এরপর বৃষভরূপে আগত শিবকে যথাযথভাবে চিনতে পেরে বিষ্ণু নিজের দুই হাত জোড় করে, মাথা নত করে, গম্ভীর কণ্ঠে বলতে লাগলেন — ॥ ১৪ ॥
বিষ্ণু বললেন —
হে দেবদেব ! হে মহাদেব ! হে করুণাসাগর ! হে প্রভু ! হে মহেশান ! আপনার মায়ায় মোহিত হওয়ার কারণে আমার বুদ্ধি বিকৃত হয়ে গিয়েছিল। হে প্রভু ! হে স্বামিন্ ! আমি আমার স্বামী আপনার সঙ্গে যে যুদ্ধ করেছি, আপনি আমার প্রতি কৃপা করে সেই অপরাধ ক্ষমা করুন ॥ ১৫–১৬ ॥
নন্দীশ্বর বললেন —
হে মুনে ! সেই বিষ্ণুর এই দীনতাপূর্ণ কথা শুনে ভক্তবৎসল ভগবান শঙ্কর বিষ্ণুকে বললেন — ॥ ১৭ ॥
হে বিষ্ণু ! হে মহাবুদ্ধে ! আপনি আমাকে কেন চিনতে পারলেন না ? আপনার সমস্ত জ্ঞান কীভাবে বিস্মৃত হয়ে গেল, যার কারণে আজ আপনি আমার সঙ্গে যুদ্ধ করলেন ? ॥ ১৮ ॥
আপনি নিজেকে আমার অধীন পরাক্রমসম্পন্ন বলে কেন মনে করলেন না ? এখন থেকে আর এমন করবেন না এবং এই কর্ম থেকে বিরত থাকুন ॥ ১৯ ॥
আপনি এই নারীদের প্রতি আসক্ত হয়ে তাঁদের সঙ্গে বিহার করছেন ; ভোগাসক্ত পুরুষের মধ্যে জ্ঞান কীভাবে থাকতে পারে ? হে দেবেশ ! এটি আপনার পক্ষে উচিত নয়, কারণ আপনার স্মরণই সমগ্র বিশ্বের ত্রাণকারী ॥ ২০ ॥
শিবের এই জ্ঞানপ্রদায়ক বাণী শুনে বিষ্ণু মনে মনে লজ্জিত হয়ে শ্রদ্ধাপূর্বক শিবকে এই কথা বলতে লাগলেন — ॥ ২১ ॥
বিষ্ণু বললেন —
হে প্রভু ! এখানে আমার সুদর্শন চক্র রয়েছে। এটি নিয়ে আপনার আজ্ঞা শ্রদ্ধাপূর্বক পালন করে আমি এখন আমার লোকের দিকে চলে যাব ॥ ২২ ॥
নন্দীশ্বর বললেন — তখন বৃষভরূপধারী ধর্মরক্ষক মহেশ্বর শিব সেই কথা শুনে পুনরায় বিষ্ণুকে বললেন — ॥ ২৩ ॥
হে হরে ! এই সময় আর বিলম্ব করবেন না। আমার আজ্ঞায় শীঘ্রই এখান থেকে আপনার নিজ লোকে চলে যান ; কিন্তু চক্রটি এখানেই রেখে যান ॥ ২৪ ॥
হে বিষ্ণু ! আপনার কল্যাণকর বাক্যে প্রসন্ন হয়ে আমি জ্যোতির্ময় সান্তানিক লোকে অবস্থিত, এর থেকে ভিন্ন আর একটি চক্র আপনাকে প্রদান করছি, যা অত্যন্ত ভয়ংকর ॥ ২৫ ॥
নন্দীশ্বর বললেন —
এই কথা বলে শিব দিব্য কালাগ্নির ন্যায় দীপ্তিমান, অত্যন্ত প্রজ্বলিত এবং দুষ্টদের বিনাশকারী একটি চক্র প্রকাশ করলেন। দশ হাজার সূর্যের মতো কান্তিসম্পন্ন সেই মহাভয়ংকর চক্র তিনি সমস্ত দেবতা ও মুনিদের রক্ষক মহাত্মা বিষ্ণুকে প্রদান করলেন ॥ ২৬–২৭ ॥
তখন বুদ্ধিমানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিষ্ণু অত্যন্ত দীপ্তিমান সেই দ্বিতীয় সুদর্শন চক্র লাভ করে সেখানে উপস্থিত দেবগণকে বললেন — “আপনারা সকল শ্রেষ্ঠ দেবতাগণ আদরপূর্বক আমার কথা শুনুন এবং সেই অনুসারে শীঘ্রই কার্য করুন ; তাতেই আপনাদের কল্যাণ হবে।” ॥ ২৮–২৯ ॥
পাতাললোকে অবস্থানকারী সেই দিব্য নারীদের আপনারা স্বেচ্ছায় বরণ করুন ॥ ৩০ ॥
বিষ্ণুর সেই কথা শুনে সকল বীর দেবতাই বিষ্ণুর সঙ্গে পাতালে প্রবেশ করার ইচ্ছা করতে লাগলেন ॥ ৩১ ॥
তখন ভগবান শিব দেবতাদের এই সংকল্পের কথা জানতে পেরে ক্রুদ্ধ হয়ে অষ্টবিধ দেবযোনিকে ঘোর শাপ প্রদান করলেন ॥ ৩২ ॥
হর (রুদ্রদেব শিব) বললেন — “আমার অংশ থেকে উৎপন্ন শান্ত মুনি [কপিল] এবং দানবদের ছাড়া যে-ই এই স্থানে প্রবেশ করবে, সেই মুহূর্তেই তার মৃত্যু হবে।” ॥ ৩৩ ॥
মানুষের কল্যাণবর্ধক শিবের এই ভয়ংকর বাণী শুনে এবং তাঁর দ্বারা নিষেধপ্রাপ্ত হয়ে দেবতাগণ নিজ নিজ স্থানে ফিরে গেলেন ॥ ৩৪ ॥
হে ব্যাস! এইভাবে ভগবান শিব তাঁর মায়ার প্রভাবে সেই নারীদের প্রতি আসক্ত ভগবান বিষ্ণুকে শাসন করলেন। এরপর বিষ্ণু দেবলোকে চলে গেলেন এবং সমগ্র জগৎ সুখী হয়ে উঠল ॥ ৩৫ ॥
এইভাবে দেবতাদের কার্য সম্পন্ন করে ভক্তবৎসল বৃষভরূপধারী পরমেশ্বর শিব তাঁর নিজ স্থান কৈলাস পর্বতে ফিরে গেলেন ॥ ৩৬ ॥
[নন্দীশ্বর বললেন — ] হে সনৎকুমার ! এইভাবে আমি প্রভু শিবের বৃষেশ্বর অবতার-এর বর্ণনা করলাম। এই অবতার বিষ্ণুর অজ্ঞতা হরণকারী, কল্যাণপ্রদ এবং তিনটি লোককে সুখ প্রদানকারী। এই আখ্যান পরম পবিত্র, শ্রেষ্ঠ এবং শত্রুর বাধা দূরকারী। যে ব্যক্তি ভক্তির সঙ্গে একাগ্রচিত্তে এই আখ্যান শ্রবণ করে বা অন্যকে শ্রবণ করায়, এবং যে নিজে এটি পাঠ করে ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের পাঠ করায়, সে এই জগতে সমস্ত সুখ ভোগ করে অবশেষে মোক্ষ লাভ করে ॥ ৩৭–৩৯ ॥
__________________________________________________
📍 বিশেষ দ্রষ্টব্য : শিবাবতার বৃষভেশ্বর ও শ্রীবিষ্ণুর মধ্যে যুদ্ধ হবার ঘটনাটি পাতালে ঘটেছে। তাই এক্ষেত্রে মহাদেব জয়ী হয়েছেন। কিন্তু অনান্য যে সকল ঘটনা মর্ত্যে ঘটেছে, সে সকল ক্ষেত্রে মর্ত্যে সরাসরি পরমেশ্বর রুদ্র যুদ্ধে অবতীর্ণ হলে, নিজেই বিষ্ণুকে জয়ী হবার বরদান দেবার কারণে ভক্তের কাছে পরাজিত হবার গ্লানি স্বীকার করে নিয়েছেন নিজের বরদানকে সফল করবার জন্য। অর্থাৎ শিব সর্বদা মর্ত্যলোকে বিষ্ণুর কাছে পরাজিত হন, কারণ তিনি বিষ্ণুকে জয়ী হবারই বরদান দিয়েছেন।
__________________________________________________
🚩 তথ্য সংগ্রহ ও সত্য উন্মোচনে : শিবালয় প্রতিষ্ঠাতা শিবদ্বারাধীশাধ্যক্ষ দেশিক আচার্যপরমাধিকারী শ্রীশ্রীগুরু নন্দীনাথ শৈব আচার্যদেব জী 🚩
©️ কপিরাইট ও প্রচারে : Shivalaya 🔥
শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তেতরাম্ 🚩
ॐ নমঃ পার্বতীপতয়ে হর হর মহাদেব 🚩
এই তথ্য দ্বারা যদি আপনার জ্ঞান বৃদ্ধি হয়ে থাকে তবে অবশ্যই এই লেখাটি শেয়ার করুন, যাতে সত্য প্রকাশ্যে আসে।


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন