শিবের কৃপায় শিবভক্ত বিভিন্ন দেবতার পদ লাভ করেন



🕉️ শিবের কৃপায় শিবভক্ত বিভিন্ন দেবতার পদ লাভ করেন  

______________________________________________

🔰 ভূমিকা — 

সনাতন শাস্ত্রের গভীরে প্রবেশ করলে একটি গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে — বিষ্ণু, ব্রহ্মা, ইন্দ্র প্রভৃতি দেবতার পদ স্বয়ংসম্পূর্ণ বা স্বতন্ত্র পরমেশ্বরত্বের প্রতীক নয় ; বরং পরমেশ্বর শিবের কৃপায় শিবভক্তরাই বিভিন্ন দেবপদ লাভ করে সেই সেই কার্যভার সম্পাদন করেন। অর্থাৎ ‘বিষ্ণু’, ‘ব্রহ্মা’, ‘ইন্দ্র’ ইত্যাদি পদ ও দায়িত্ব লাভ করা এবং সর্বোচ্চ পরমেশ্বর হওয়া — এই দুই বিষয় এক নয়।

শাস্ত্রে এমনও বর্ণিত হয়েছে যে, মহাদেবের প্রসাদেই বিষ্ণুপদ, ব্রহ্মাপদ, ইন্দ্রপদ প্রভৃতি লাভ করা যায় এবং শিব সন্তুষ্ট হলে তাঁর ভক্তকে ব্রহ্মত্ব, কেশবত্ব, ইন্দ্রত্ব এমনকি ত্রৈলোক্যের অধিপত্যও প্রদান করতে পারেন। আবার শিবমহাপুরাণে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, রুদ্র, ইন্দ্র ও গণেশ প্রভৃতির নিজ নিজ পদলাভের সঙ্গে শিবলিঙ্গ-মহাব্রতের সাধনার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক দেখানো হয়েছে।

তাহলে প্রশ্ন জাগে — যিনি কৃপা করে অন্যকে বিষ্ণুপদ, ব্রহ্মাপদ বা ইন্দ্রপদ প্রদান করেন, সেই পরম দাতা কে ? যিনি অন্য দেবতাদের পদ ও কর্তব্য নির্ধারণ করেন, তিনি কি তাঁদেরই মতো কেবল আর-একজন দেবতা মাত্র ? নাকি তাঁদের সকলের ঊর্ধ্বে অবস্থানকারী একমাত্র পরমেশ্বর ?

এই শাস্ত্রবচনগুলি সেই গভীর তত্ত্বের দিকেই ইঙ্গিত করে — বিষ্ণু, ব্রহ্মা, ইন্দ্র প্রভৃতি স্বয়ং পরমেশ্বর নন ; তাঁরা পরমেশ্বর শিবের কৃপাপ্রাপ্ত হয়ে নিজ নিজ দেবপদে অধিষ্ঠিত হয়ে জগতের নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন করেন। এখন আসুন, শাস্ত্রের প্রত্যক্ষ প্রমাণগুলিই পরপর বিচার করে দেখি — কীভাবে পরমেশ্বর শিবের কৃপায় তাঁর ভক্তরাই বিষ্ণু, ব্রহ্মা, ইন্দ্র প্রভৃতি পদ লাভ করেন।

___________________________________________________________________________________

🔥 শিব কৃপায় বিষ্ণুপদ, ব্রহ্মাপদ, ইন্দ্র পদ লাভ হয়  — 

♦️স্কন্দমহাপুরাণে বলা হয়েছে —

মহাদেবপ্রসাদেন খলু বিষ্ণুপদং দ্বিজাঃ ।
ব্রহ্মেন্দ্রাদিপদং চাপি ন স্বতঃ সর্বদেহিনাম্ ॥ ৩০ ॥

[স্কন্দ পুরাণ/সূতসংহিতা/যজ্ঞবৈভবখণ্ড/পূর্বভাগ/২৩ অধ্যায়]

✅অর্থ —  বিষ্ণু, ব্রহ্মা, ইন্দ্র প্রভৃতি পদও একমাত্র শিবকৃপার দ্বারাই লাভ করা যায় ; অন্য কোনো উপায়ে নয় ॥ ৩০ ॥

___________________________________________________________________________________

🔥 পরমেশ্বর শিব তাঁর ভক্তকে বিষ্ণুপদ, ব্রহ্মাপদ, ইন্দ্র পদ দান করেন  — 

♦️ মহাভারতেও এমন একটা প্রমাণ পাওয়া যায় —
সর্বথা বর্তমানোহপি যো ভক্তঃ পরমেশ্বরে ।
সদৃশোহরণ্যবাসীনাং মুনীনাং ভাবিতাত্মনাম্ ॥ ৬৩ ॥
ব্রহ্মত্বং কেশবত্বং বা শত্রুত্বং বা সুরৈঃ সহ ।
ত্রৈলোক্যস্থাধিপত্যং বা তুষ্টো রুদ্রঃ প্রযচ্ছতি ॥ ৬৪ ॥
[মহাভারত/অনুশাসনপর্ব/১৭ অধ্যায়/৬৩-৬৪ শ্লোক]

✅ অর্থ — যে মানুষ পুণ্যকর্মে বা পাপকর্মে প্রবৃত্ত থাকিয়া ও মহাদেবের ভক্ত হন, তিনি শোধিতচিত্ত বনবাসী মুনির তুলা হইয়া থাকেন। সুতরাং মহাদেব সন্তুষ্ট হইয়া তাঁহাকে ব্রহ্মত্ব, বিষ্ণুত্ব, অন্য দেবগণের সহিত ইন্দ্রত্ব, কিংবা ত্রিভুবনের অধিপতিত্ব দান করেন ॥

___________________________________________________________________________________

🔥  শিবমহাপুরাণেও বলা হয়েছে যে, শিবের মহাব্রত পালন করেই সকল দেবদেবী নিজ নিজ পদ লাভ করে থাকেন। সম্পূর্ণ অধ্যায়টি উল্লেখ করছি —

উপমন্যুরুবাচ ।
অতঃ পরং প্রবক্ষ্যামি কেবলামুষ্মিকং বিধিম্ ।
নৈতেন সদৃশং কিঞ্চিৎকর্মাস্তি ভুবনত্রয়ে ॥ ১ ॥
পুণ্যাতিশয়সংযুক্তঃ সর্বৈর্দেবৈরনুষ্ঠিতঃ ।
ব্রহ্মণা বিষ্ণুনা চৈব রুদ্রেণ চ বিশেষতঃ ॥ ২ ॥
ইন্দ্রাদিলোকপালৈশ্চ সূর্যাদ্যৈর্নবভির্গ্রহৈঃ ।
বিশ্বামিত্রবসিষ্ঠাদ্যৈর্ব্রহ্মবিদ্ভির্মহর্ষিভিঃ ॥ ৩ ॥
শ্বেতাগস্ত্যদধীচাদ্যৈরস্মাভিশ্চ শিবাশ্রিতৈঃ ।
নন্দীশ্বরমহাকালভৃঙ্গীশাদ্যৈর্গণেশ্বরৈঃ ॥ ৪ ॥
পাতালবাসিভির্দৈত্যৈঃ শেষাদ্যৈশ্চ মহোরগৈঃ ।
সিদ্ধৈর্যক্ষৈশ্চ গন্ধর্বৈ রক্ষোভূতপিশাচকৈঃ ॥ ৫ ॥
স্বং স্বং পদমনুপ্রাপ্তং সর্বৈরয়মনুষ্ঠিতঃ ।
অনেন বিধিনা সর্বে দেবা দেবত্বমাগতাঃ ॥ ৬ ॥

ব্রহ্মা ব্রহ্মত্বমাপন্নো বিষ্ণুর্বিষ্ণুত্বমাগতঃ ।
রুদ্রো রুদ্রত্বমাপন্ন ইন্দ্রশ্চেন্দ্রত্বমাগতঃ ॥ ৭ ॥
গণেশশ্চ গণেশত্বমনেন বিধিনা গতঃ ।
সিতচন্দনতোয়েন লিঙ্গং স্নাপ্য শিবং শিবাম্ ।
শ্বেতৈর্বিকসিতৈঃ পদ্যৈঃ সম্পূজ্য প্রণিপত্য চ ॥ ৮ ॥
তত্র পদ্মাসনং রম্যং কৃত্বা লক্ষণসংযুতম্ ।
বিভবে সতি হেমাদ্যৈ রত্নাদ্যৈর্বা স্বশক্তিতঃ ॥ ৯ ॥ 

মধ্যে কেসরজালস্য স্থাপ্য লিঙ্গং কনীয়সম্ ।
অঙ্গুষ্ঠপ্রতিমং রম্যং সর্বগন্ধময়ং শুভম্ ॥ ১০ ॥
দক্ষিণে স্থাপয়িত্বা তু বিল্বপত্রৈঃ সমর্চয়েৎ ।
অগুরুং দক্ষিণে পার্শ্বে পশ্চিমে তু মনঃশিলাম্ ॥ ১১ ॥
উত্তরে চন্দনং দদ্যাদ্ধরিতালং তু পূর্বতঃ ।
সুগন্ধৈঃ কুসুমৈ রম্যৈর্বিচিত্রৈশ্চাপি পূজয়েৎ ॥ ১২ ॥
ধূপং কৃষ্ণাগুরুং দদ্যাৎসর্বতশ্চ সগুগ্গুলম্ ।
বাসাংসি চাতিসূক্ষ্মাণি বিকাশানি নিবেদয়েৎ ॥ ১৩ ॥
পায়সং ঘৃতসংমিশ্রং ঘৃতদীপাংশ্চ দাপয়েৎ ।
সর্বং নিবেদ্য মন্ত্রেণ ততো গচ্ছেৎ প্রদক্ষিণাম্ ॥ ১৪ ॥
প্রণম্য ভক্ত্যা দেবেশং স্তুত্বা চান্তে ক্ষমাপয়েৎ ।
সর্বোপহারসংমিশ্রং ততো লিঙ্গং নিবেদয়েৎ ॥ ১৫ ॥
শিবায় শিবমন্ত্রেণ দক্ষিণামূর্তিমাশ্রিতঃ ।
এবং যোঽর্চয়তে নিত্যং পঞ্চগন্ধময়ং শুভম্ ॥ ১৬ ॥
সর্বপাপবিনির্মুক্তঃ শিবলোকে মহীয়তে ।
এতদ্ ব্রতোত্তমং গুহ্যং শিবলিঙ্গমহাব্রতম্ ॥ ১৭ ॥
ভক্তস্য তে সমাখ্যাতং ন দেয়ং যস্য কস্যচিৎ ।
দেয়ং চ শিবভক্তেভ্যঃ শিবেন কথিতং পুরা ॥ ১৮ ॥ 

[শিবমহাপুরাণ/বায়বীয় সংহিতা/উত্তরখণ্ড/৩৩ অধ্যায়]

✅ অর্থ — মহর্ষি উপমন্যু শৈবাচার্য‌ বললেন [শ্রীকৃষ্ণকে উদ্দেশ্য করে] — অতএব এখন আমি সেই কেবল পরমার্থ ফলপ্রদায়ক সেই বিশেষ বিধান বর্ণনা করছি। ত্রিভুবনে এর সদৃশ আর কোনো কর্ম নেই ॥ ১ ॥

অত্যন্ত পুণ্যযুক্ত এই বিধান সকল দেবতাই সম্পাদন করেছেন ; বিশেষত ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং রুদ্রও এই মহাব্রত ব্রতের অনুষ্ঠান করেছেন ॥ ২ ॥

ইন্দ্র প্রভৃতি লোকপাল, সূর্য প্রভৃতি নয়জন গ্রহ এবং বিশ্বামিত্র, বশিষ্ঠ প্রভৃতি ব্রহ্মজ্ঞ মহর্ষিগণও এই মহাব্রত ব্রতের অনুষ্ঠান করেছেন ॥ ৩ ॥

শ্বেত, অগস্ত্য, দধীচি প্রভৃতি ঋষিগণ, আমরা শিবাশ্রিতগণ এবং নন্দীশ্বর, মহাকাল, ভৃঙ্গীশ প্রভৃতি গণেশ্বরগণও এই মহাব্রত ব্রতের অনুষ্ঠান করেছেন ॥ ৪ ॥

পাতালবাসী দৈত্যগণ, শেষ প্রভৃতি মহাসর্পগণ, সিদ্ধ, যক্ষ, গন্ধর্ব, রাক্ষস, ভূত ও পিশাচগণও এই মহাব্রত ব্রতের অনুষ্ঠান করেছেন ॥ ৫ ॥

সকলেই এই বিধান সম্পাদন করে নিজ নিজ পদ লাভ করেছেন। এই বিধানের দ্বারা সকল দেবতাই দেবত্ব লাভ করেছেন ॥ ৬ ॥

ব্রহ্মা ব্রহ্মত্ব লাভ করেছেন, বিষ্ণু বিষ্ণুত্ব লাভ করেছেন এবং রুদ্র রুদ্রত্ব লাভ করেছেন; ইন্দ্রও ইন্দ্রত্ব লাভ করেছেন ॥ ৭ ॥

গণেশও এই বিধানের দ্বারা গণেশত্ব লাভ করেছেন। শ্বেতচন্দন-মিশ্রিত জলে লিঙ্গকে স্নান করিয়ে, শ্বেতবর্ণের প্রস্ফুটিত পদ্ম দ্বারা শিব ও শিবাকে পূজা করে প্রণাম করতে হবে ॥ ৮ ॥

তারপর শুভ লক্ষণসমন্বিত একটি মনোরম পদ্মাসন নির্মাণ করতে হবে। সামর্থ্য থাকলে স্বর্ণাদি অথবা রত্নাদি দিয়ে, কিংবা নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তা নির্মাণ করতে হবে ॥ ৯ ॥

সেই পদ্মের কেশরগুলির মধ্যভাগে অঙ্গুষ্ঠের সমান ছোট, সুন্দর শিবলিঙ্গ স্থাপন করবেন। সেই শিবলিঙ্গ সর্বপ্রকার সুগন্ধিযুক্ত ও সুন্দর হওয়া উচিত ॥ ১০ ॥

দক্ষিণ দিকে তা স্থাপন করে বিল্বপত্র দ্বারা পূজা করতে হবে। দক্ষিণ পাশে অগুরু এবং পশ্চিম দিকে মনঃশিলা (মৈনসিল ) স্থাপন করতে হবে ॥ ১১ ॥

উত্তর দিকে চন্দন এবং পূর্ব দিকে হরিতাল প্রদান করতে হবে। সুগন্ধযুক্ত, মনোরম ও বিচিত্র বর্ণের পুষ্প দিয়েও পূজা করতে হবে ॥ ১২ ॥

কৃষ্ণাগুরুর ধূপ এবং সর্বদিকে গুগ্গুল-সহ ধূপ প্রদান করতে হবে। অতি সূক্ষ্ম ও সুন্দরভাবে প্রস্ফুটিত বস্ত্র নিবেদন করতে হবে ॥ ১৩ ॥

ঘৃতমিশ্রিত পায়স এবং ঘৃতের প্রদীপ নিবেদন করতে হবে। মন্ত্রের দ্বারা সমস্ত উপচার নিবেদন করে তারপর প্রদক্ষিণ করতে হবে ॥ ১৪ ॥

ভক্তির সঙ্গে দেবেশকে প্রণাম করে তাঁর স্তব করতে হবে এবং শেষে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। সমস্ত উপচার-সহকারে তারপর লিঙ্গে নিবেদন করতে হবে ॥ ১৫ ॥

শিবমন্ত্র উচ্চারণ করে শিবের দক্ষিণামূর্তি-স্বরূপকে আশ্রয় করে যে ব্যক্তি এইভাবে প্রতিদিন শুভ পঞ্চগন্ধময় লিঙ্গের পূজা করেন — ॥ ১৬ ॥

তিনি সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হয়ে শিবলোকে মহিমান্বিত হন। সকল ব্রতগুলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ, গুহ্য এবং মহৎ ব্রত হল এই — শিবলিঙ্গ-মহাব্রত ॥ ১৭ ॥

হে ভক্ত ! তোমার কাছে এই ব্রত বর্ণনা করা হয়েছে ; এটি যাকে-তাকে প্রদান করা উচিত নয়। তবে শিবভক্তদের অবশ্যই এটি প্রদান করা উচিত — এ কথা পূর্বকালে স্বয়ং শিব বলেছেন ॥ ১৮ ॥

♦️ পরম পবিত্র শিবমহাপুরাণেও পরমেশ্বর শিব, ব্রহ্মা এবং বিষ্ণুকে বলেছেন যে, শিবভক্ত ব্যক্তি সৃষ্টি-স্থিতি-প্রলয় করতেও সক্ষম হন —

এতৎকালে তু যঃ কুর্যাৎ পূজাং মল্লিঙ্গবেরয়োঃ ।

কুর্যাৎ স জগতঃ কৃত্যং স্থিতিসর্গাদিকং পুমান্ ॥ ১১ ॥

[শিবমহাপুরাণ/বিদ্যেশ্বর সংহিতা/৯ অধ্যায়/১১ শ্লোক]

অর্থ — এই সময় (শিবমহারাত্রিতে) যে পরমেশ্বর শিবের লিঙ্গস্বরূপ (নিষ্কল-অঙ্গ- আকৃতিরহিত নিরাকার ব্রহ্মের প্রতীক) এবং প্রতিকৃতি (সকল- সাকার স্বরূপের প্রতীক বিগ্রহ) এর পূজা করবে, সেই ব্যক্তি জগতের সৃষ্টি-স্থিতি-লয় ইত্যাদি কৃত্য করতে সক্ষম হবে ॥ ১১ ॥


অর্থাৎ, শিবভক্তেরাই শিব আরাধনার ফলে দেহত্যাগের পর নির্দিষ্ট কালে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, রুদ্রের পদে বসে সৃষ্টি-স্থিতি-প্রলয় করে থাকেন, এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়ে গেল।

___________________________________________________________________________________

🔎 বিশ্লেষণ — 

উল্লিখিত শাস্ত্রবচনগুলিতে দেখা যাচ্ছে — বিষ্ণু, ব্রহ্মা, ইন্দ্র, গণেশ প্রভৃতি দেবপদ স্বতন্ত্রভাবে স্বয়ংসিদ্ধ নয়; পরমেশ্বর শিবের কৃপা ও সাধনার দ্বারা সেই পদ লাভ করা যায়। স্কন্দপুরাণে স্পষ্ট বলা হয়েছে, মহাদেবের প্রসাদেই বিষ্ণুপদ, ব্রহ্মাপদ ও ইন্দ্রপদ লাভ হয়। মহাভারতেও বলা হয়েছে, সন্তুষ্ট হয়ে শিব তাঁর ভক্তকে ব্রহ্মত্ব, কেশবত্ব, ইন্দ্রত্ব প্রভৃতি প্রদান করেন। শিবমহাপুরাণে আবার শিবলিঙ্গ পূজার মহাব্রত পালন করে শিব ভক্তদেরই ব্রহ্মা, বিষ্ণু, রুদ্র, ইন্দ্র ও গণেশের নিজ নিজ পদলাভের কথা বলা হয়েছে।

🕉️ সিদ্ধান্ত —

অতএব শাস্ত্রের এই বক্তব্য অনুযায়ী পরমেশ্বর শিবই পদদাতা ও পরম আশ্রয় ; বিষ্ণু, ব্রহ্মা, ইন্দ্র প্রভৃতি দেবতাগণ সেই পরমেশ্বরের কৃপাপ্রাপ্ত হয়ে নিজ নিজ দেবপদে অধিষ্ঠিত ও জগতের নির্দিষ্ট কার্যভার পালন করেন। তাই দেবপদে অধিষ্ঠিত হওয়া এবং সর্বোচ্চ পরমেশ্বর হওয়া — এক বিষয় নয়। দাতা স্বয়ং পরমেশ্বর শিব, আর গ্রহীতা হলেন শিবভক্ত বিষ্ণু, ব্রহ্মা, ইন্দ্র, গণেশ প্রভৃতি দেবতাগণ।

___________________________________________________________________________________ 

🚩 তথ্য সংগ্রহ ও লেখনীতে : শিবালয় প্রতিষ্ঠাতা শিবদ্বারাধীশাধ্যক্ষ দেশিক আচার্যপরমাধিকারী শ্রীপাদযুক্ত শ্রীগুরু নন্দীনাথ শৈব আচার্যদেব 🚩 

©️ কপিরাইট ও প্রচারে : Shivalaya 🔥 

শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তেতরাম্ 🚩 

ॐ নমঃ পার্বতীপতয়ে হর হর মহাদেব 🚩 

 #রুদ্র #সনাতনধর্ম #শিবালয় #shiva #শিব #পরমেশ্বরশিব  #Shivalaya #শৈবধর্ম #শিবশাসন #পুরাণ #মহাভারত #শিবমহাপুরাণ #স্কন্দমহাপুরাণ

Ai generated image.

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ