সকল পুরাণে শৈবদের আরাধ্য সদাশিব ত্রিদেবের পিতা এবং একমাত্র পরমব্রহ্ম
পরমেশ্বর সদাশিব হলেন ত্রিদেবের পিতা অর্থাৎ জনক এবং মাতা শিবা হলেন জননী । গুণাত্মক ব্রহ্মা-বিষ্ণু এবং রুদ্র কখনো তার সমান হতে পারে না । একমাত্র নিরাকার নির্গুণ ব্রহ্ম হলেন পরমেশ্বর সদাশিব।
এক ও অদ্বিতীয় পরমেশ্বর সদাশিব হলেন ত্রিদেবের পিতা
প্রমাণ — ১
শিবমহাপুরাণ থেকে —
অস্যৈব দক্ষিণাদঙ্গাদ্ ব্রহ্মা লোকপিতামহঃ।
বামাঙ্গাদপি বিষ্ণুশ্চ রুদ্রো হৃদয়তোঽভবৎ।।
[শিবমহাপুরান/রুদ্র সংহিতা/সৃষ্টি খণ্ড/৯ অধ্যায়/৩০-৪০ শ্লোক]
অর্থ : তাঁর (সদাশিবের) দক্ষিণ অঙ্গ থেকে লোকপিতামহ ব্রহ্মা , বাম অঙ্গ থেকে ভগবান বিষ্ণু এবং হৃদয় থেকে রুদ্র উৎপন্ন হয়েছেন।
♦️ আরো দেখুন, ত্রিদেব উৎপন্ন হয়েছেন সদাশিব থেকে —
পুরা যদা শিবো দেবো নির্গুণো নির্বিকল্পকঃ ।
অরূপঃ শক্তিরহিতশ্চিন্মাত্রঃ সদসৎপরঃ ॥ ১২ ॥
অভবৎসগুণঃ সোঽপি দ্বিরূপঃ শক্তিমান্প্রভুঃ ।
সোমো দিব্যাকৃতির্বিপ্র নির্বিকারী পরাৎপরঃ ॥ ১৩ ॥
তস্য বামাঙ্গজো বিষ্ণুর্ব্রহ্মাহং দক্ষিণাঙ্গজঃ ।
রুদ্রো হৃদয়তো জাতোঽভবচ্চ মুনিসত্তম ॥ ১৪ ॥
সৃষ্টিকর্তাভবং ব্রহ্মা বিষ্ণুঃ পালনকারকঃ ।
লয়কর্তা স্বয়ং রুদ্রস্ত্রিধাভূতঃ সদাশিবঃ ॥ ১৫ ॥
[শিব মহাপুরাণ/রুদ্র সংহিতা/সতী খণ্ড/২য় অধ্যায়/১২-১৫ নং শ্লোক]
অর্থ : সবকিছুর পূর্বে পরমদেব পরমশিব নির্গুণ, নির্বিকল্প, নিরাকার, শক্তিরহিত (শক্তির দ্বৈতভাবের প্রকাশহীন অবস্থা), চিন্ময় এবং সৎ ও অসৎ -এর ঊর্ধে স্থিত স্বরূপে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। তারপর সেই প্রভুই সগুণ অর্থাৎ সাকার এবং শক্তিমান হয়ে বিশিষ্ট রূপ ধারণ করে স্থিত হন এবং তাঁর সঙ্গে ভগবতী উমাও বিরাজ করছিলেন। হে বিপ্রবর ! পরমেশ্বর শিব দিব্য আকৃতিতে সুশোভিত ছিলেন। তাঁর মনে কোনো বিকার ছিল না। তিনি তাঁর পরাৎপর স্বরূপে (সদাশিব হিসেবে) প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।
মুনিশ্রেষ্ঠ! তাঁর (সদাশিবের) বাম অঙ্গ থেকে ভগবান বিষ্ণু, দক্ষিণ অঙ্গ থেকে আমি ব্রহ্মা এবং মধ্য-অঙ্গ অর্থাৎ হৃদয়(বা পৃষ্টদেশ) থেকে রুদ্রদেব প্রকটিত হয়েছেন। আমি ব্রহ্মা সৃষ্টিকর্তা; ভগবান বিষ্ণু জগৎ পালনকারী; স্বয়ং রুদ্র সংহার কর্তা। এইভাবে পরমেশ্বর সদাশিব স্বয়ংই নিজেকে (শক্তির মাধ্যমে) বিভক্ত করে তিনটিরূপ ধারণ করে অবস্থিত ॥ ১২-১৫
প্রমাণ — ২
লিঙ্গমহাপুরাণ থেকে —
"তস্য দক্ষিণে পার্শ্বে তু ব্রহ্মা লোকপিতামহঃ।
বামপার্শ্বে তথা বিষ্ণুর্হৃদয়ে নীললোহিতঃ।।"
[লিঙ্গপু্রান/পূর্বভাগ/৭০অধ্যায়/]
অর্থ - পরমেশ্বর সদাশিবের দক্ষিণ (ডান) পার্শ্ব থেকে ব্রহ্মা,বাম পার্শ্ব থেকে বিষ্ণু এবং হৃদয় থেকে নীললোহিত রুদ্র প্রকট হন ।
প্রমাণ — ৩
কূর্মপুরাণ থেকে —
একো রুদ্রো ন দ্বিতীয়োঽতস্থে তস্মাৎ স সর্বগতঃ শিবঃ ।
তস্মাদ্ ব্রহ্মা চ বিষ্ণুশ্চ রুদ্রশ্চৈব প্রপদ্যতে ॥
[কূর্মপুরাণ/পূর্বভাগ/৪ অধ্যায়/৭২ নং শ্লোক]
অর্থ : জগতের আদিতে কেবল ও এক মাত্র রুদ্র আছেন, তিনিই সর্বত্র বিরাজমান শিব (সদাশিব/পরমব্রহ্ম পরমশিব) বিদ্যমান ছিলেন। তিনি সৃষ্টির প্রয়োজনে (সাকার সদাশিব) রূপে তাঁর দক্ষিণ অঙ্গ থেকে ব্রহ্মা, বাম অঙ্গ থেকে বিষ্ণু এবং হৃদয় থেকে রুদ্রকে সৃষ্টি করেন।
প্রমাণ — ৪
সৌরপুরাণ থেকে —
সসৃজে প্রথমং ব্রহ্মা সর্গাভিবৃদ্ধয়ে ।
ততো বিষ্ণুং ততো রুদ্রং গুণভেদেন শঙ্করঃ ॥
[সৌরপুরান/২ অধ্যায়/২৩-২৪ নং শ্লোক]
অর্থ : পরমেশ্বর শঙ্কর (সদাশিব) সৃষ্টির প্রয়োজনে প্রথমে ব্রহ্মাকে, তারপর বিষ্ণুকে এবং সবশেষে রুদ্রকে সৃষ্টি করেন। এই তিন সত্তা মূলত সত্ত্ব, রজ ও তম গুণের প্রকাশ হিসেবে আবির্ভূত হন।
প্রমাণ — ৫
নারদ পুরান থেকে —
সৃষ্টয়ে সসৃজে ব্রহ্মাং পালনায় হরিং তথা ।
সংহারায় তথা রুদ্রং গুণভেদেন বিভ্রমন্ ॥
[নারদ পুরাণ/পূর্বভাগ/৩ অধ্যায়/৫-৯ নং শ্লোক]
✅ অর্থ : তিনি (সদাশিব) গুণভেদে জগৎ সৃষ্টির জন্য ব্রহ্মা-কে , পালনের জন্য হরি (বিষ্ণু)-কে এবং সংহারের জন্য রুদ্র-কে সৃষ্টি করলেন।
প্রমাণ — ৬
বামন পুরাণ থেকে —
বিষ্ণুর্বামাঙ্গতঃ জজ্ঞে দক্ষিণাচ্চ চতুরাননঃ ।
মধ্যে জজ্ঞে স্বয়ং রুদ্রঃ কল্পান্তে স নিবর্ততে ॥
[বামন পুরান/৬ অধ্যায়]
✅ অর্থ : সদাশিবের বাম অঙ্গ থেকে বিষ্ণু, দক্ষিণ অঙ্গ থেকে ব্রহ্মা এবং মধ্যভাগ থেকে রুদ্রের জন্ম হয়। কল্প শেষে তাঁরা পুনরায় সেই স্বয়ং পরম সত্তা রুদ্রে (সদাশিবে)-ই লীন হন।
প্রমাণ — ৭
ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ থেকে —
সসর্জ ভগবান্ পূর্বং ব্রহ্মাভ্যাসং সনাতনম্ ।
তস্মাচ্চতুর্মুখো জাতঃ সৃষ্ট্যর্থং পরমেশ্বরঃ ।
[ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ/৩ অধ্যায় /৮-১০ নং শ্লোক]
✅ অর্থ : ভগবান (সদাশিব) আদিতে সনাতন ব্রহ্মতত্ত্বের অনুশীলন করলেন। এরপর সৃষ্টির জন্য সেই পরমেশ্বর থেকেই চতুর্মুখ ব্রহ্মার আবির্ভাব ঘটল।
প্রমাণ — ৮
ভাগবত পুরাণ থেকে —
ন তে গিরিত্রাখিললোকপাল বিরিঞ্চবৈকুণ্ঠসুরেন্দ্রগম্যম্।
জ্যোতি পরং যত্র রজস্তমশ্চ সত্ত্বং ন যদ্ ব্রহ্ম নিরস্তভেদম্ ॥ ৩১ ॥
ত্বমেকঃ সর্বজগত ঈশ্বরো বন্ধমোক্ষয়োঃ ।
তং স্বামৰ্চন্তি কুশলাঃ প্রপন্নার্তিহরং গুরুম্ ॥ ২২ ॥
গুণময়্যা স্বশ্যাস্য সর্গস্হিত্যপ্যয়ান্বিতভো ।
ধৎসে যদা স্বদৃগ্ ভূমনব্রহ্মাবিষ্ণুশিবাভিধাম্ ॥ ২৩ ॥
ত্বং ব্রহ্ম পরমং গুহ্যং সদসদ্ভাবভাবনঃ । নানাশক্তিভিরাভাতত্ত্বমাত্মা জগদীশ্বরঃ ॥ ২৪ ॥
[ভাগবত পুরাণ/৮ স্কন্ধ/৭ অধ্যায়/]
✅ অর্থ : হে মহাদেব! আপনার জ্যোতির্ময় স্বরূপ হল পরমব্রহ্ম (পরমশিব)। সেখানে সত্ত্ব , তমো , রজঃ কোনো গুন নেই , ভেদাভেদ নেই অর্থাৎ আপনিই নির্গুণ ব্রহ্ম। আপনার সেই স্বরুপকে লোকপালগণ এমনকী ব্রহ্মা , বিষ্ণু , ইন্দ্র পর্যন্তও জানতে পারে না। আপনি সমস্ত জগতের ঈশ্বর , বন্ধন ও মোক্ষস্বরূপ। আপনি আপনার নিজ শক্তি দ্বারা এই জগতের সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয় করার জন্যে সর্বদা একরস থাকা সত্ত্বেও আপনিই ব্রহ্মা , বিষ্ণু ও শিব (মহেশ্বর) নাম ধারণ করেন। আপনি স্বপ্রকাশ। আপনি পরম গুহ্য ব্রহ্মতত্ত্ব সদঅসদেরও অতীত। আপনিই সকলের আত্মা ও শক্তি , আপনিই জগদীশ্বর ।
প্রমাণ — ৯
পদ্মপুরাণ থেকে —
য(স) একঃ শাশ্বতোদেবোব্রহ্মবন্দ্যঃ সদাশিবঃ।
ত্রিলোচনোগুণাধারো গুণাতীতোহক্ষরোব্যয়ঃ ॥ ৩ ॥
পৃথকৃত্বাত্মনস্তাততত্র স্থানং বিভজ্য চ।
দক্ষিণাঙ্গে সৃজাৎপুত্রং ব্রহ্মাণাং বামতো হরিম্ ॥ ৫ ॥
[চৌখাম্বা প্রকাশিত ‘পদ্মপুরাণ/পাতালখণ্ড/১০৮ অধ্যায়/৩,৫ নং শ্লোক]
✅ অর্থ : সেই এক সদাশিবই শাশ্বত, ব্রহ্মার বন্দনীয়, ত্রিলোচন, ত্রিগুণধারী, ত্রিগুণাতীত, অক্ষর ব্রহ্ম ও অব্যয়। সেই প্রভু সদাশিবই নিজেকে তিনভাগে বিভক্ত করে নিজের দক্ষিণ অঙ্গ থেকে পুত্রস্বরূপ ব্রহ্মাকে এবং বামভাগ থেকে শ্রীহরিকে প্রকাশ করেন ।
প্রমাণ — ১০
অগ্নিপুরান থেকে —
এক এব শিবঃ সাক্ষাৎ কারণং পরমেশ্বরঃ ।
স ব্রহ্মাকৃতিরেবাভূৎ স বিষ্ণুঃ স চ শঙ্করঃ ॥
[অগ্নিপুরাণ/৯ অধ্যায়/২ নং শ্লোক]
অর্থ : সাক্ষাৎ পরমেশ্বর শিবই একমাত্র আদি কারণ। তিনিই ব্রহ্মা রূপে সৃষ্টি করেন , বিষ্ণু রূপে পালন করেন এবং শঙ্কর (রুদ্র) রূপে সংহার করেন।
প্রমাণ — ১১
ভবিষ্য পুরাণ থেকে —
ব্রহ্মবিষ্ণুশিবাখ্যানাং ত্রয়াণাং যঃ পরঃ স্মৃতঃ ।
স এব ভগবান্ দেবে সদাশিব ইতি স্থিতঃ ॥
[ভবিষ্য পুরান/ব্রাহ্ম পর্ব/২য় অধ্যায়]
✅ অর্থ : ব্রহ্মা , বিষ্ণু ও শিব (রুদ্র)—এই তিন দেবতারও উর্ধ্বে যিনি পরম সত্তা হিসেবে স্মৃত হন , তিনিই ভগবান সদাশিব।সৃষ্টির প্রয়োজনে সদাশিব নিজের পরম শক্তি থেকে রজঃ গুণের দ্বারা ব্রহ্মা , সত্ত্ব গুণের দ্বারা বিষ্ণু এবং তমঃ গুণের দ্বারা রুদ্র (শিব) রূপ ধারণ করেন।
প্রমাণ — ১২
স্কন্দ মহাপুরাণ থেকে —
এক এব সদা দেবো নির্গুণঃ পরমেশ্বরঃ ।
সগুণত্বং পুনর্যাতি সৃষ্টিহেতোঃ স কেবলম্ ॥ ১৫
ততস্তস্মাৎ সমুদ্ভূতাস্ত্রয়ো দেবা গুণান্বিতাঃ।
ব্রহ্মা বিষ্ণুশ্চ রুদ্রশ্চ সর্বলোকপিতামহাঃ ॥ ১৭
[স্কন্দ মহাপুরাণ/মাহেশ্বর খণ্ড/২৬ অধ্যায়/১৫,১৭ নং শ্লোক]
✅ অর্থ : সৃষ্টির আদিতে পরমেশ্বর (সদাশিব) ছিলেন এক এবং অদ্বিতীয়। তিনি কোনো গুণের (সত্ত্ব, রজ, তম) দ্বারা সীমাবদ্ধ ছিলেন না। তাই তিনি 'নির্গুণ'। কিন্তু যখন তাঁর মনে সৃষ্টি করার ইচ্ছা জাগল , তখন তিনি কেবল সৃষ্টির প্রয়োজনে নিজের মায়াশক্তি দ্বারা রূপ ধারণ করলেন অর্থাৎ 'সগুণ' হলেন।অতঃপর সেই সগুণ পরমেশ্বর (সদাশিব) থেকে তিনটি গুণের আধারে তিন দেবতার উৎপত্তি হলো। তাঁরা হলেন— ব্রহ্মা , বিষ্ণু ও রুদ্র এবং এই তিন দেবতাই হলেন সমস্ত জগতের আদি পিতা ।
প্রমাণ — ১৩
ব্রহ্মপুরাণ থেকে —
সৃজামি তনুং তস্য ব্রহ্মাণং লোকপিতামহম্ ।
বিষ্ণুং চ পালকং লোকে রুদ্রং চ সংহারকারকম্ ॥
[ব্রহ্মপুরাণ/সৃষ্টি খণ্ড/১ অধ্যায়/৩৮ নং শ্লোক]
অর্থ : জগতের হিতের জন্য তিনি (সদাশিব) সৃষ্টির জন্য ব্রহ্মা, পালনের জন্য বিষ্ণু এবং সংহারের জন্য রুদ্র — এই তিন রূপ ধারণ করেন।
প্রমাণ — ১৪
মার্কণ্ডেয় পুরাণ থেকে —
এক এব সদা দেবঃ সৃষ্টিস্থিত্যন্তকারকঃ ।
ব্রহ্মবিষ্ণুশিবাত্মা বৈ ত্রিধাসৌ সংপ্রবর্ততে ৷
[মার্কণ্ডেয় পুরাণ/সৃষ্টি প্রক্রিয়া/৪৫ অধ্যায় (দেবী মাহাত্ম্য)]
অর্থ : সেই একমাত্র পরমদেব (সদাশিব)-ই মূল , তিনি সৃষ্টি , স্থিতি ও প্রলয়ের জন্য ব্রহ্মা , বিষ্ণু ও শিব -এই তিন রূপ ধারণ করে জগতে প্রবৃত্ত হন।
সদাশিব নির্গুণ ব্রহ্ম তিনি তার মায়া শক্তি দ্বারা ত্রিদেবের উৎপত্তি করান । অর্থাৎ শক্তির মাধ্যমে ত্রিদেবের উৎপত্তি হয়....
প্রমাণ — ১৫
কালিকা পুরাণ থেকে —
অব্যক্তং কারণং যত্তদনাদ্যন্তং জগন্ময়ম্ ।
তস্মাদুৎপদ্যতে সর্বং ব্রহ্মবিষ্ণুশিবাত্মকম্॥" (১৮.১)
[কালিকা পুরাণ/১৮ অধ্যায়/১ শ্লোক]
অর্থ : যা অব্যক্ত ,অনাদি , অনন্ত এবং জগৎময় — সেই পরমকারণ (সদাশিবের) থেকেই ব্রহ্মা , বিষ্ণু ও শিবাত্মক এই নিখিল বিশ্বের উৎপত্তি হয়েছে।
এখানেও শিব ও শক্তি অভেদ । নিরাকার ব্রহ্ম শিব এবং শিবা হলো তার শক্তি ।
প্রমাণ — ১৬ .
বরাহ পুরান —
ত্বমক্ষরং পরং ব্রহ্ম ত্বং তত্ত্বং পরমেশ্বর।
ত্বং হি সর্বগতং দেব পরমাত্মা সনাতনঃ।।
ত্বং হি বিষ্ণুশ্চ ব্রহ্মা চ রুদ্রস্তুং চ হুতাশনঃ।
ত্বমেব সর্বভূতানি স্থাবরাণি চরাণি চ।।
[বরাহ পুরান/৯০ অধ্যায়/১৫-১৬ নং শ্লোক]
অর্থ : আপনিই অক্ষর পরম ব্রহ্ম , আপনিই পরম তত্ত্ব এবং পরমেশ্বর। হে দেব অর্থাৎ সদাশিব আপনিই সর্বব্যাপী এবং সনাতন পরমাত্মা। আপনিই বিষ্ণু ,আপনিই ব্রহ্মা , আপনিই রুদ্র এবং অগ্নি। সমস্ত স্থাবর ও জঙ্গম ভূতরাশি আপনারই স্বরূপ।
দেবীভাগবত পুরানেও শিব নির্গুণ ব্রহ্ম এবং তিনি তার শক্তির মাধ্যমে ত্রিদেবকে প্রকট করেন ......
রুদ্র এবং পরমেশ্বর সদাশিবের সূক্ষ্মগত পার্থক্য রয়েছে । কখনো কখনো রুদ্র সদাশিব নামে বাচিত হন কেননা ভগবান রুদ্র প্রত্যেক কল্পে পরমেশ্বর সদাশিবের প্রতিনিধিত্ব করেন । সদাশিব পূর্ণব্রহ্ম যিনি মায়ার জগতে প্রবেশ করেন না ।
শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তেতরাম্ 🚩
#শিবালয়

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন