শিবই জীব, জীবই শিব - ত্রিশিখিব্রাহ্মণ উপনিষদ্‌

 








স হোবাচ সর্বমিদং শিব এব বিজানীহি । কিন্তু নিত্যঃ শুদ্ধো নিরঞ্জনো বিভুরদ্বয়ানন্দঃ শিব একঃ স্বেন ভাসেদং সর্বং দৃষ্ট্বা তপ্তায়ঃ পিণ্ডবদেকং ভিন্নবদবভাসতে । তদ্ভাসকং কিমিতি চেদুচ্যতে । সচ্ছব্দবাচ্যমবিদ্যাশবলং ব্রহ্ম ॥ ২ ॥

[শুক্ল-যজুর্বেদ/ত্রিশিখিব্রাহ্মণ উপনিষদ/১ম ব্রাহ্মণ/২ নং মন্ত্র]

✅ অর্থ : তিনি [ভগবান আদিত্য] বললেন, এই সমগ্র জগতকে শিবই বলে জানবে। কিন্তু শিব নিত্য, শুদ্ধ, নিরঞ্জন (মায়া-কলঙ্কহীন), সর্বব্যাপী এবং অদ্বয়-আনন্দস্বরূপ একমাত্র সত্তা। তিনি স্বীয় জ্যোতিতে এই সমগ্র জগতকে প্রকাশ করেন, যেমন অগ্নিতে উত্তপ্ত লৌহপিণ্ড এক হলেও ভিন্ন ভিন্ন রূপে প্রতীয়মান হয়, তেমনি এক শিবই নানা রূপে প্রকাশিত বলে মনে হয়। যদি প্রশ্ন করা হয় — ‘এই (জগতের) প্রকাশক কী?’ তবে উত্তর হলো — ‘‘সৎ’ শব্দ দ্বারা যে ব্রহ্মকে নির্দেশ করা হয়, অর্থাৎ অবিদ্যা-উপাধিযুক্ত (অবিদ্যাবল) ব্রহ্ম ॥ ২ ॥


সর্বদেশেষ্বনুস্যূতশ্চতূরূপঃ শিবাত্মকঃ ।

যথা মহাফলে সর্বে রসাঃ সর্বপ্রবর্তকাঃ ॥ ১১ ॥

তথৈবান্নময়ে কোশে কোশাস্তিষ্ঠন্তি চান্তরে ।

যথা কোশস্তথা জীবো যথা জীবস্তথা শিবঃ॥ ১২॥

সবিকারস্তথা জীবো নির্বিকারস্তথা শিবঃ ।

কোশাস্তস্য বিকারাস্তে হ্যবস্থাসু প্রবর্তকাঃ॥ ১৩॥

যথা রসাশয়ে ফেনং মথনাদেব জায়তে ।

মনো নির্মথনাদেব বিকল্পা বহবস্তথা ॥ ১৪ ॥

কর্মণা বর্ততে কর্মী তত্ত্যাগাচ্ছান্তিমাপ্নুয়াৎ ।

অয়নে দক্ষিণে প্রাপ্তে প্রপঞ্চাভিমুখং গতঃ ॥ ১৫ ॥

অহঙ্কারাভিমানেন জীবঃ স্যাদ্ধি সদাশিবঃ ।

স চাবিবেকপ্রকৃতিসঙ্গত্যা তত্র মুহ্যতে ॥ ১৬ ॥

[শুক্ল-যজুর্বেদ/ত্রিশিখিব্রাহ্মণ উপনিষদ্‌/১১-১৬ ক্রমাঙ্ক]

✅ অনুবাদ : সর্বত্রই শিবাত্মা (শিবস্বরূপ আত্মা) অনুস্যূত (ব্যাপ্ত ও অন্তর্নিহিত) রূপে বিরাজমান। যেমন একটি বৃহৎ ফলে সকল প্রকার রস বিদ্যমান থাকে এবং সেই রসই ফলের সমস্ত কার্যকলাপের প্রবর্তক হয় ॥ ১১ ॥

তদ্রূপ এই অন্নময় কোশের অন্তরে অন্যান্য কোশসমূহ অবস্থান করে। যেমন কোশ, তেমনই জীব ; আর যেমন জীব, তেমনই শিব ॥ ১২ ॥

জীব সবিকার (উপাধিজনিত পরিবর্তনশীল) বলে প্রতীয়মান হয়, আর শিব নির্বিকার (পরিবর্তনহীন)। জীবের যে সকল বিকার দেখা যায়, সেগুলি প্রকৃতপক্ষে তার বিভিন্ন কোশের বিকার ; সেই কোশগুলিই বিভিন্ন অবস্থায় নানা পরিবর্তনের কারণ হয় ॥ ১৩ ॥

যেমন রসপূর্ণ আধারে মথন (নাড়াচাড়া) করলে ফেনের উৎপত্তি হয়, তেমনি মনরূপ মথনের ফলেই অসংখ্য বিকল্প, কল্পনা ও সংকল্পের উদ্ভব হয় ॥ ১৪ ॥

কর্মী (জীব) কর্মের দ্বারাই আবর্তিত হয়; কিন্তু সেই কর্মের পরিত্যাগ করলে সে শান্তি লাভ করে। যখন সে দক্ষিণায়নস্বরূপ (অধোগামী, প্রপঞ্চাভিমুখ) পথে প্রবৃত্ত হয়, তখন সে জগৎমুখী হয়ে পড়ে ॥ ১৫ ॥

প্রকৃতপক্ষে জীবই সদাশিব; কিন্তু অহঙ্কার ও দেহাভিমানের কারণে সে নিজেকে সীমাবদ্ধ জীব বলে মনে করে। আর অবিবেক ও প্রকৃতির সঙ্গে সংসর্গের ফলে সে সেই অবস্থাতেই মোহগ্রস্ত হয়ে থাকে ॥ ১৬ ॥

__________________________________________________

🚩 তথ্য সংগ্রহ, ব্যাখ্যা প্রদান তথা সত্য উন্মোচনে : শিবালয় প্রতিষ্ঠাতা শিবদ্বারাধীশাধ্যক্ষ দেশিক আচার্যপরমাধিকারী শ্রীশ্রীগুরু নন্দীনাথ শৈব আচার্যদেব জী 🚩

©️ কপিরাইট ও প্রচারে : Shivalaya 🔥

শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তেতরাম্ 🚩
ॐ নমঃ পার্বতীপতয়ে হর হর মহাদেব 🚩


#হিন্দুধর্ম #সনাতনধর্ম #শিবালয় #Shivalaya #sanatandharma #যোগ  #শৈবধর্ম #স্কন্দমহাপুরাণ #পরমেশ্বরশিব #দর্শনউপনিষদ #সামবেদ  #উপনিষদ #সদাশিব #আত্মজ্ঞান













মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ