বিষ্ণুর বাহন গরুড় শিবভক্ত শৈব — বলছে স্কন্দমহাপুরাণ
🦅 বিষ্ণুর বাহন গরুড় শিবভক্ত শৈব — বলছে স্কন্দমহাপুরাণ
__________________________________________
🔰 ভূমিকা — সনাতন ধর্মে একমাত্র অদ্বিতীয় পরমেশ্বরই হলেন - বিশ্বেশ্বর শিব।তারই পূজার্চনা করেছেন সকল দেবদেবী তথা সমগ্র জীবজগৎ। বিষ্ণুর বাহন গরুড় পক্ষীর ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। এবিষয়ে স্কন্দমহাপুরাণের কাশীখণ্ডের পূর্বার্দ্ধের ৫০ তম অধ্যায়ে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। সংক্ষেপে প্রসঙ্গ সহ তা বর্ণিত করা হল।
__________________________________________
🔶 প্রসঙ্গ : সর্পিণী কদ্রূ ও পক্ষিণী বিনতা ছিলেন দক্ষ প্রজাপতির কন্যা। মরীচি ঋষির পুত্র কশ্যপ ঋষির সাথে তাদের উভয়ের বিবাহ হয়। উচ্চৈশ্রবা অশ্ব কৃষ্ণবর্ণ নাকি শ্বেত বর্ণ তা নিয়ে প্রতিযোগিতা করবার অজুহাতে কদ্রূ বিনতাকে ছলনা করে পরাজিত হবার পরিণামরূপ দাসী হবার শর্ত দেন। কদ্রূ উচ্চৈশ্রবাকে কৃষ্ণবর্ণ বলে মন্তব্য করেন, বিনতা উচ্চৈশ্রবাকে শ্বেতবর্ণ বলে চিহ্নিত করেন। তখন সর্পিণী কদ্রূ তার সন্তান সর্প দের গিয়ে বলে উচ্চৈশ্রবাকে বিষপ্রয়োগের মাধ্যমে কৃষ্ণবর্ণ করে দিতে, কিছু সর্প সেই কার্য করেন। এরপর পক্ষিণী বিনতাকে সেই কৃষ্ণবণের উচ্চৈশ্রবা দেখিয়ে ছলনার মাধ্যমে চিরতরে নিজের দাসী বানিয়ে নেন। এর ফলে প্রতিদিন প্রভাতকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিনতা পক্ষিণী নিজের পিঠের উপর কদ্রূ ও সর্পদের নিয়ে বিভিন্ন স্থানে উড়ে গিয়ে ভ্রমণ করে দেখানোর আদেশ পালন করতেন। একদিন বিনতার পুত্র গরুড় পক্ষী তার মাথার এমন মলিন অবস্থার কারণ জিজ্ঞাসা করেন ও সবকিছু জানতে পারেন। তখন গরুড় তার মাতাকে বলেন কদ্রূ আর সর্পদের কাছে এই দাসীত্ব থেকে মুক্তির জন্য কোন দুর্লভ বস্তু তারা অভিলাষ করেন তা জেনে নিতে বলেন। বিনতা তাই করেন, তখন তারা জানান যে, স্বর্গ থেকে তাদের জন্য অমৃত এনে দিলে অবশ্যই তারা গরুড়ের মাতা বিনতাকে দাসীত্ব থেকে মুক্তি দেবেন। এরসর গরুড় তা সংগ্রহ করবারৎজন্য স্বর্গে গেলেন, তার ডানার দাপটে দেবতারা বহু দূরে উড়ে গেলেন, তিনি অমৃতর কাছে গিয়ে দেখলেন যে, অমৃতকে একটি চক্র রক্ষা করছে, সেখান একটি মশক (মশা) আসলেও খণ্ড বিখণ্ড হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি। সে অমৃত পাওয়া বড়ই দূরহ বিষয়। কারণ, সেখানে বায়ুও যেন সেখানে পৌঁছাতে অক্ষম। তাই গরুড় ভাবলেন, “যদি মে শঙ্করে ভক্তির্নিদ্বন্দ্বাতীবনিশ্চলা। তদা সদৈব দেবো মাং বিযুনক্তু মহাধিয়া ॥ [স্কন্দমহাপুরাণ/কাশীখণ্ড/পূর্বার্দ্ধ/৫০ অধ্যায়/৯৭ শ্লোক] অর্থাৎ - যদি আমার মধ্যে পরমেশ্বর শঙ্করের প্রতি যথাযথ ভক্তি থাকে তবে অবশ্যই তিনি আমার অমৃত সংগ্রহ করবার বিষয়ে সদ্ বুদ্ধি প্রদান করবেন। - ইত্যাদি ইত্যাদি এই কথা ভেবে নিজেকে শিবভক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেই গরুড় মাতৃভক্তির শক্তিতে উক্ত চক্রযন্ত্র উৎপাটন করে অমৃত নিয়ে আকাশে চলে গেলেন, তখন সকলে ভগবান বিষ্ণুর শরণাপন্ন হলে ভগবান বিষ্ণু উপস্থিত হয়ে গরুড়ের সহিত যুদ্ধ করতে লাগলেন। গরুড়ের শক্তি অধিক দেখে ভগবান হরি সন্তুষ্ট হয়ে বললেন, বর নাও। তখন গরুড় বললেন আপনি দুটি বর প্রার্থনা করুন, তখন বিষ্ণু বললেন - হে গরুড় প্রথম বর হল - তুমি আমার বাহন হও, দ্বিতীয় বর হল - নাগেদের এই অমৃত দর্শন গড়িয়ে তোমার মাতাকে দাসীত্ব থেকে মুক্ত করে অমৃতকে পুনরায় দেবতাদের হাতে ফিরিয়ে দাও। গরুড় তাতে সম্মতি দিলেন, এবং তৎক্ষণাৎ নাগেদের কাছে নিয়ে সেই অমৃত ভাণ্ড দেখালেন। নিজ মাতা বিনতার দাসীত্ব মোচন করলেন। তখন নাগেরা সেই অমৃত পান করতে গেলে গরুর বললেন অপবিত্র ব্যক্তি এটিকে স্পর্শ করলে এই অমৃত অন্তর্হিত হয়ে যায়। তাই আগে স্নান করা প্রয়োজন, নাগেরা সেই ভাণ্ডটিকে কুশের উপর রাখতে বললেন, গরুড় তাই করলেন। এরপর সেই সর্পেরা স্নান করতে গেলেন, এদিকে ভগবান বিষ্ণু সেই অমৃত ভাণ্ড নিয়ে ফিরে গেলেন। সর্পেরা ফিরে এসে অমৃত দেখতে না পেয়ে হায় হায় করতে লাগলো, শেষমেষ অমৃত ছিটেফোঁটা লাভের আশায় কুশবন চাটতে লাগলো, এতে তাদের জিহ্বা দ্বিখণ্ডিত হল। এইভাবে বিনতা দাসীত্ব থেকে মুক্তি পেলেন। এর পরবর্তী বিষয়টি এই প্রবন্ধের বিষয় বস্তু।
__________________________________________
♦️ স্কন্দমহাপুরাণ থেকে প্রমাণ —
অথ দাস্যাদ্বিনির্মুক্তা বিনতোবাচ খেচরম্ ।
পুত্র কাশীং প্রয়াস্যামি দাস্যপাপাপনুত্তয়ে ॥ ১২৬ ॥
তাবৎ পাপানি জৃম্ভন্তে নানাজন্মার্জিতান্যপি ।
যাবৎ কাশী ন হৃৎসংস্থা পুনর্ভববিঘাতিনী ॥ ১২৭ ॥
কাশীস্মরণ-মাত্রেণ কিং চিত্রং যদঘং ব্রজেৎ ।
গর্ভবাসোঽপি নশ্যেত বিশ্বেশানুগ্রহাৎ পরাৎ ॥ ১২৮ ॥
যত্র বিশ্বেশ্বরঃ সাক্ষাত্তারাপতিবিভূষণঃ ।
তারয়েত্তারকদ্রোণ্যা দুস্তরাম্ভবসাগরাৎ ॥ ১২৯ ॥
বিশ্বেশানুগৃহীতানাং বিচ্ছিন্নাখিলকৰ্ম্মণাম্ ।
ভবেৎ কাশীং প্রতি মতির্নেতরেষাং কদাচন ॥ ১৩০ ॥
কাশীং প্রতি মনো যেষাং নিঃশেষক্ষালিতৈনসাম্ ।
ত এব মানবা লোকে সত্যং নৃপশবোঽপরে ॥ ১৩১ ॥
তৈরেব কালো বিজিতস্ত এব হি গতৈনসঃ ।
অপুনর্গর্ভবাসাস্তে প্রাপ্তা বারাণসীহ যৈঃ ॥ ১৩২ ॥
শ্রেয়সাং ভাজনঞ্চৈতন্নৃজন্ম ন মুধা নয়েৎ ।
দেবানামপি দুষ্প্রাপ্যং কাশীসন্দর্শনাদৃতে ॥ ১৩৩ ॥
কঃ কলিঃ কোঽথবা কালঃ কিংবা কৰ্মাণ্যনেকধা ।
পরানন্দপ্রদং ক্ষেত্রমবিমুক্তং যদীক্ষিতম্ ॥ ১৩৪ ॥
তে গর্ভবাসে তিষ্ঠন্তি পুনস্তে গর্ভবাসিনঃ ।
যেন গর্ভবনচ্ছেত্রীং সেবস্তে বরণামসিম ॥ ১৩৫ ॥
নিশম্যেতি বচঃ প্রাহ তার্ক্ষ্যোনত্বাথ মাতরম্ ।
অহমপ্যাগমিয়্যামি কাশীং দ্রষ্টুং শিবার্চিতাম্ ॥ ১৩৬ ॥
মাতুরাজ্ঞামথ প্রাপ্য জনন্যা সহ পক্ষিরাট্ ।
ক্ষণাদ্বারাণসীং প্রাপ মোক্ষনিক্ষেপভূমিকাম্ ॥ ১৩৭ ॥
উভাবপি চ তেপাতে তপ অগ্রং মহামতী ।
সংস্থাপ্য শাম্ভবং লিঙ্গং পতত্রীন্দ্রোঽচলেন্দ্রিয়ঃ ॥ ১৩৮ ॥
নাম্না খখোল্কমাদিত্যং সংস্থাপ্য বিনতা শুভম্ ।
অচিরেণৈব কালেন মহতস্তপসস্তয়োঃ ॥ ১৩৯ ॥
কাশ্যাং প্রসন্নৌ সঞ্চাতৌ দেবৌ শঙ্করভাস্করৌ ।
গরুড়স্থাপিতাল্লিঙ্গাদাবিরাসীদুমাপতিঃ ॥ ১৪০ ॥
গরুড়ায় বরান্ প্রাদাৎ সুবহুনতিদুর্লভান ।
খগেন্দ্র মম ভক্তোঽসি তব জ্ঞানং ভবিষ্যতি ॥ ১৪১ ॥
বেৎস্যসি ত্বং রহস্যং মে যন্ন জ্ঞাতং সুরৈয়পি ।
ত্বয়ৈতৎ স্থাপিতং লিঙ্গং গরুড়েশ্বরসংজ্ঞিতম্ ॥ ১৪২ ॥
পরমজ্ঞানদং পুংসাং দৃষ্টং স্পৃষ্টং সমর্চ্চিতম্ ।
অন্যচ্চ শৃণু পক্ষীন্দ্র হিতং তে বচ্ মি সাম্প্রতম্ ॥ ১৪৩ ॥
অসাবহুং স বৈ বিষ্ণুর্নাস্তু তে ভেদদৃক্ চ নৌ ।
এবং তসৈব পক্ষীন্দ্র দৈত্যেন্দ্রবলহারিণঃ ॥ ১৪৪ ॥
প্রাপ্য সৎপত্রতাং পত্রিংস্তমপ্যর্চ্যো ভবিষ্যসি ।
ইতি দত্ত্বা বরং শম্ভুঃ স্বভক্তায় গরুড়্মতে ॥ ১৪৫ ॥
তত্রৈবান্তর্হিতো জাতো গরুড়োঽপি হরিং যযৌ ।
হরে রথত্বং সম্প্রাপ্য সোঽপি পূজ্যোঽভবদ্ভুবি ॥ ১৪৬ ॥
তপস্যন্তীমথালোক্য কদাচিদ্বিনতাং প্রভুঃ ।
শিবস্যৈব পরা মূর্তিঃ খখোল্কো নাম ভাস্করঃ ॥ ১৪৭ ॥
দত্ত্বা বরঞ্চ পাপঘ্নং শিবজ্ঞানসমন্বিতম্ ।
কাশীবাসিজনানেকভবপাপক্ষয়ঙ্করঃ ॥ ১৪৮ ॥
বিনতাদিত্য ইত্যাখ্যঃ খখোল্কস্তত্র সংস্থিতঃ ।
ইত্থং খখোল্ক আদিত্যঃ কাশীবিঘ্নতমোহরঃ ॥ ১৪৯ ॥
তস্য দর্শনমাত্রেণ সর্বপাপৈঃ প্রমুচ্যতে ।
কাশ্যাং পৈশঙ্গিলে তীর্থে খখোল্কস্য বিলোকনাৎ ।
নরশ্চিন্তিতমাপ্নোতি নীরোগো জায়তে ক্ষণাৎ ॥ ১৫০ ॥
নরঃ শ্রুত্বৈ-তদাখ্যানং খখোল্কাদিত্যসম্ভবম্ ।
গরুড়েশেন সহিতং সর্বপাপেঃ প্রমুচ্যতে ॥ ১৫১ ॥
[স্কন্দমহাপুরাণ/কাশীখণ্ড/পূর্বার্দ্ধ/৫০ অধ্যায়/১২৫-১৫১]
✅ অর্থ : দাসীত্বমুক্তা বিনতা, গরুড়কে বললেন, হে বৎস! আমি দাসী হয়েছিলাম বলে যে পাপসমূহ আমর দেহ আশ্রয় করেছে, আমি তা দূর করতে কাশী আশ্রয় করে থাকবো, কারণ, জীবের হৃদয়ে যতক্ষণ না মুক্তিদায়িনী কাশী প্রকাশ পান, ততক্ষণ পর্যন্ত পাপরাশিই আধিপত্য করে। কাশীতে থাকলে প্রভু বিশ্বনাথের প্রসাদে জীবের পুনর্জন্মের যাতনা দূর হয়, সেই কাশীর স্মরণমাত্রে পাপ ধ্বংস হবে, এতে আশ্চর্যের কিছু নেই ; এবং ঐ স্থানে বিশ্বেশ্বর চরম (মৃত্যুর) সময়ে জীবকে তারকমন্ত্রে দীক্ষিত করে, ভবসাগর হতে পার করেন। যারা বিশ্বনাথকে আশ্রয় করে নিজের কর্মবন্ধন ছিন্ন করবার ইচ্ছা করেন, এ সংসারে তাঁদেরই কাশীর প্রতি অচলা ভক্তি থাকে ; এবং যাদের কাশীর প্রতি অচলা ভক্তি আছে, তাঁদেরকেই ‘মনুষ্য’ বলে ; অন্যেরা তো নর আকৃতির পশুমাত্র। যাঁদের মাধ্যমে কাশী আশ্রিত হন, তারাই সহজে কালকে জয় করে নিষ্পাপ শরীরে অবস্থান করেন ও কখনো গর্ভযাতনা ভোগ করেন না।দেবতাদের জন্যও দূর্লভ যে, সকল মঙ্গলের উৎস মানবজন্ম রয়েছে, সেটি পেয়ে কাশীদর্শন না করে বৃথা জীবন অতিবাহিত করা অনুচিত ; কারণ, আনন্দধাম কাশীক্ষেত্র দর্শন করতে পারলে কাল, কলি বা কৰ্মফল, কেউই তাকে স্পর্শ করতে পারে না।
ঐ স্থানে বরুণা বা অসির সেবা করলে, পুনরায় গর্ভবাসক্লেশ ভুগতে হয় না। গরুড় তাঁর মাতার মুখে এই কথা শুনে পুলকিত হয়ে তাঁকে প্রণাম করে মহাদেব দ্বারা অধিষ্ঠিত কাশীক্ষেত্র দর্শন করতে যাওয়ার জন্য মনস্থির করলেন। তারপর মাতার আদেশ শিরোধার্য করে তাঁকে নিয়ে মুহূর্তকালের মধ্যেই মোক্ষধাম বারাণসীতে এসে উপস্থিত হলেন। সেখানে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করলেন এবং বিনতাও খখোল্কনামক সূর্যমূর্তি প্রতিষ্ঠিত করে উভয়েই ঘোর তপস্যায় মনোনিবেশ করলেন। তখন ভগবান কৈলাসনাথ শিব, গরুড়ের তপস্যায় সন্তোষ লাভ করে গরুড়ের প্রতিষ্ঠিত শিবলিঙ্গ হতে আবির্ভূত হয়ে গরুড়কে দুর্লভ বর দিলেন। মহাদেব বললেন, হে পক্ষিরাজ ! তুমি পরম্ জ্ঞানী ও আমার ভক্তগণের মধ্যে একজন শ্রেষ্ঠ ভক্ত, দেবতাদিগের ও অজানা রহস্য তোমার অজ্ঞাত থাকবে না। এই ‘তোমার প্রতিষ্ঠিত গরুড়েশ্বর নামক শিবলিঙ্গের দর্শন স্পর্শ বা পূজা করলে লোক তত্ত্ববোধ লাভ করতে পারবে। এখন যা বলছি তা শোনো, এটি তোমার পক্ষে অতি হিতকর বাক্য। আমিই সেই বিষ্ণুরূপে লীলা করছি, আমাকে সেই বিষ্ণুর থেকে কখনো ভিন্ন ভেবো না। হে পক্ষীন্দ্র ! তুমি নিজের বলশক্তিতে অসুরদেরও পরাজয় করতে পারবে ও সর্বদা বিষ্ণুর বাহন হয়ে জগতে সকলের কাছে পূজা পাবে। পরমেশ্বর শিব নিজভক্ত গরুড়কে এই সকল বর দিয়ে সেখান থেকে অন্তর্হিত হলেন। এদিকে বৈনতেয় গরুড়ও বিষ্ণুসন্নিধানে গমন করে তাঁহার বাহন হুইয়া জগৎমান্য হলেন। কাশীস্থ ব্যক্তিদের পাপনাশক মহেশ্বরের মূর্তিভেদ ভগবান খখোল্ক নামক আদিত্য, বিনতাকে ঘোর তপস্যা করতে দেখে তাঁর দেহ নিষ্পাপ করে শিবজ্ঞান প্রদান করে তখন থেকে বিনতাদিত্য নামে অভিহিত হয়ে কাশীবাসীর বিঘ্নসমূহ দূর করতে লাগলেন। কাশীক্ষেত্রে পৈশঙ্গিল তীর্থে খখোল্কাদিত্যকে দর্শন করলে, মানব সকল পাপ ও রোগ হইতে মুক্ত হয়ে অভীষ্ট ফল লাভ করে থাকে। মনুষ্যেরা গরুড়েশ শিবলিঙ্গ ও খখোল্কাদিত্যের এই আখ্যান শ্রবণ করে সর্বপাপ হতে মুক্ত হয়ে যান।
__________________________________________
🚩 তথ্য সংগ্রহ ও লেখনীতে : শিবালয় প্রতিষ্ঠাতা শিবদ্বারাধীশাধ্যক্ষ দেশিক আচার্যপরমাধিকারী শ্রীপাদযুক্ত শ্রীগুরু নন্দীনাথ শৈব আচার্যদেব 🚩
©️ কপিরাইট ও প্রচারে : Shivalaya 🔥
পরমেশ্বর শিবের জয়🙏
শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তেতরাম্ 🚩
ॐ নমঃ পার্বতীপতয়ে হর হর মহাদেব 🚩
পরমেশ্বর শিবের ও সনাতন শৈবধর্মের বিষয়ে এমন গুহ্য সত্য রহস্য ও সত্য উন্মোচনমূলক লেখা আরো পেতে অবশ্যই আমাদের Shivalaya ফেসবুক পেজ Follow করে Favourite করে রাখুন। এই তথ্য দ্বারা যদি আপনার জ্ঞান বৃদ্ধি হয়ে থাকে তবে অবশ্যই এই লেখাটি শেয়ার করুন, যাতে সত্য প্রকাশ্যে আসে।
#সনাতনধর্ম #শিবালয় #shiva #শিব #পরমেশ্বরশিব #ভগবান #গরুড় #শৈবগরুড় #বিষ্ণুবাহনগরুড় #শৈবপরম্পরা #স্কন্দমহাপুরাণ #Shivalaya #শৈবধর্ম #শিবশাসন
[এই পোস্টটি শুধুমাত্র শিক্ষামূলক ও জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত।এখানে ব্যবহৃত চিত্রটি কেবল বিষয়টি সহজে উপস্থাপনের জন্য Ai-সহায়তায় নির্মিত একটি প্রতীকী চিত্র, এই ছবিটির মধ্যে কিছু লেখা আলাদা ভাবে লেখা হয়েছে। সকল শাস্ত্রীয় উদ্ধৃতি ও তথ্য যথাসম্ভব মূল গ্রন্থ অনুসারে ছবি উপস্থাপিত হয়েছে]


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন