শিবভক্ত বৃহস্পতি — শিবকৃপায় ‘দেবগুরু’ পদপ্রাপ্তি করেছেন

 


🕉️ শিবভক্ত বৃহস্পতি — শিবকৃপায় ‘দেবগুরু’ পদপ্রাপ্তি করেছেন

__________________________________________

🔰 ভূমিকা — সনাতন ধর্মে একমাত্র অদ্বিতীয় পরমেশ্বর‌ই হলেন আশুতোষ শিব। সেই একমাত্র পরমব্রহ্মের উপাসনা করেই সকলে ঐশ্বর্য লাভ করেছেন। এই প্রবন্ধে সেই মহাত্মাগণের মধ্য থেকে “দেবগুরু বৃহস্পতি”-র শিব আরাধনা ও তার দেবতাদের গুরু হবার পদপ্রাপ্তির বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

__________________________________________


♦️ স্কন্দমহাপুরাণ থেকে বর্ণিত —


বিধের্বিধিৎসতঃ পূর্বং ত্রিলোকীরচনাং মুদা । আবিরাসুঃ সুতাঃ সপ্ত মানসাঃ স্বস্য সরিতাঃ ॥ ২৫ ॥ 

মরীচ্যত্র্যঙ্গিরোমূখ্যাঃ সর্বে সৃষ্টিপ্রবর্তকাঃ । প্রজাপতের্রাঙ্গরসস্তেষ্বভূদ্দেবসত্তমঃ ॥ ২৬ ॥ সুতশ্চাঙ্গিরসো নাম বুদ্ধ্যা বিবুধসত্তমঃ । 

শান্তো দান্তো জিতক্রেধো মৃদুবাঙ্ নিৰ্মলাশয়ঃ ॥ ২৭ ॥

বেদবেদার্থতত্ত্বজ্ঞঃ কলাসু কুশলোঽমলঃ । 

পারদৃশা তু সর্বেষাং শাস্ত্রাণাং নীতিবিত্তমঃ ॥ ২৮ ॥ 

হিতোপদেষ্টা হিতকৃদহিতাত্যহিতঃ সদা । 

রূপবান্ শীলসম্পন্নো গুণবান্ দেশকালবিৎ ॥ ২৯ ॥

সর্বলক্ষণসম্ভারসম্ভৃতো গুরুবৎসলঃ । 

ততাপ তাপসীং বৃত্তিং কাশ্যাং স মহতীং দধৎ ॥ ৩০ ॥

মহল্লিঙ্গং প্রতিষ্ঠাপ্য শাম্ভবং ভূরিভাবনঃ । 

অযুতং শরদাং দিব্যং দিব্যতেজা মহাতপাঃ ॥ ৩১ ॥ 

ততঃ প্রসন্নো ভগবান বিশ্বেশো বিশ্বভাবনঃ । আবির্ভূয় ততো লিঙ্গান্মহসাং রাশিরব্রবীৎ ॥ ৩২ ॥ প্রসন্নোঽস্মি বরং ব্রূহি যত্তে মনসি বর্ত্ততে । 

ইতি শম্ভুং সমালোক্য তুষ্টাবেতি স হৃষ্টবান্ ॥ ৩৩ ॥  আঙ্গিরস উবাচ। 

জয় শঙ্কর শান্ত শশাঙ্করুচে রুচিরার্থদ সর্বদ সর্বশুচে। 

শুচিদত্তগৃহীতমহোপহৃতে হৃতভক্তজনোদ্ধততাপততে। 

তত সর্ব হৃদশ্বরবরদ নতে নতবৃজিন মহাবনদাহকৃতে। 

কৃতবিবিধচরিত্রতনো সুতনো তনুবিশিখবিশোষণ-ধৈর্য্যনিধে ॥ ৩৫ ॥ 

নিধনাদিবিবর্জিত কৃতনতিকৃৎ কৃতিবিহিত মনোরথ পন্নগভূৎ। 

নগভর্ত্তৃপুতার্পিত-বামবপুঃ স্ববপুঃ পরিপূরিত সর্বজগৎ ॥ ৩৬ ॥ 

ত্রিজগন্ময়রূপ বিরূপ সুদৃক্ দৃগুদঞ্চনকুঞ্চনকৃত হত ভুক্ । 

ভব ভূতপতে প্রমথৈকপতে পতিতেষ্বপি দত্তকর প্রসৃতে ॥ ৩৭ ॥ 

প্রসূতাখিলভূতলসংবরণ প্রণবধ্বনিসৌধ শুধাংশুধর । 

ধররাজকুমারিকয়া পরয়া পরিতঃ পরিতুষ্ট নতোঽস্মি শিব ॥ ৩৮ ॥

শিব দেব গিরীশ মহেশ বিভো বিভবপ্রদ গিরীশ শিবেশ মৃড়। মৃড়য়োডুপতিধ্রজগত্রিতয়ং কৃতযন্ত্রণ-ভক্তিবিঘাতকৃতাম্ ॥ ৩৯ ॥


ন কৃতান্তত এষ বিভেমি হর প্রহরাশু মহাধমমোঘমতে। 

ন মতান্তরমন্যদবৈমি শিবং শিবপাদনতেঃ প্রণতোঽস্মি ততঃ ॥ ৪০ ॥ 

বিততেঽত্র জগত্যখিলেঽঘহরং হরতোষণমেব পরং গুণবৎ । 

গুণহীনমহীন মহাবলয়ং প্রলয়ান্তকমীশ নতোঽস্মি ততঃ ॥ ৪১॥ 

ইতি স্তুত্বা মহাদেবং বিররামাঙ্গিরঃ সুতঃ। 

ব্যতরচ্চ মহেশানঃ স্তুত্যা তুষ্টো বরান্ বহুন্ ॥ ৪২ ॥ শ্রীমহাদেব উবাচ। 

বৃহতা তপসানেন বৃহতাস্পতিরেধ্যহো । 

নাম্না বৃহস্পতিরিতি গ্রহেষ্বর্চ্যো ভব দ্বিজ ॥ ৪৩ ॥  

অস্মাল্লিঙ্গার্চনান্নিত্যং জীবভূতোঽসি মে যতঃ । অতো জীব ইতি খ্যাতিং ত্রিষু লোকেষু যাস্যসি ॥  ৪৪ ॥ 

বাচাং প্রপঞ্চৈশ্চতুরৈর্নিষ্প্রপঞ্চো যতঃ স্তুতঃ । 

অতো বাচাং প্রপঞ্চস্য পতিৰ্বাচস্পতির্ভব ॥ ৪৫ ॥

অস্য স্তোত্রস্য পঠনাদপি বাগুদিয়াচ্চ যম্ । 

স্যাৎ সংস্কৃতা বাণী ত্রিভিব্বর্যৈস্ত্রিকালতঃ ॥ ৪৬ ॥ সমুৎপন্নে মহাকার্য্যে ন স বুদ্ধ্যা প্রহীয়তে । 

যঃ পঠিব্যত্যদঃ স্তোত্রং বায়ব্যাখ্যং দিনে দিনে ॥  ৪৭ ॥ 

অস্য স্তোত্রস্য পঠনান্নিয়তং মম সন্নিধৌ । 

ন দুর্বৃত্তৌ প্রবৃত্তিঃ স্যাদবিবেকবতাং নৃণাম্ ॥ ৪৮ ॥ 

অদঃ স্তোত্রং পঠন্ জন্তুর্জাতু পীড়াং গ্রহোদ্ভবাম্ । 

ন প্রাপ্যতি ততো জপ্যমিদং স্তোত্রং মমাগ্রতঃ ॥ ৪৯ ॥ 

নিত্যং প্রাতঃ সমুত্থায় যঃ পঠিষ্যতি মানবঃ । 

ইমাং স্তুতিং হরিষ্যেঽহং তস্য বাধাঃ সুদারুণাঃ ॥ ৫০ ॥ 

প্রতিষ্ঠিতলিঙ্গস্য পূজাং কৃত্বা প্রযত্নতঃ ।

ইমাং স্তুতিমধীয়ানো মনোবাঞ্ছামবাপ্স্যতি ॥ ৫১ ॥  

ইতি দত্ত্বা বরান্ শম্ভুঃ পুনর্ব্রহ্মাণমাহ্বয়ৎ । 

সেন্দান্ দেবগণান্ সর্বান্ সযক্ষোরগকিন্নরান্ ॥ ৫২ ॥ 

তানাগতান্ সমালোক্য শিবো ব্রহ্মাণমব্রবীৎ । 

বিধে বিধেহি মহাক্যাদমুং বাচস্পতিং মুনিম্ ॥ ৫৩ ॥ 

গুরুং সর্বসুরেন্দ্রাণাং পরিতঃ স্বগুণৈর্গুরুম্ । অভিষিঞ্চ বিধানেন দেবাচার্য্যপদে মুদে ॥ ৫৪ ॥ 

অতীব ধিষণাধীশো মম প্রীতো ভবিষ্যতি । 

মহাপ্রসাদ ইত্যাজ্ঞাং শিরস্যাধায় তৎক্ষণাৎ ॥ ৫৫ ॥ 


সুরজ্যেষ্ঠঃ সুরাচাৰ্য্যং চকারাঙ্গিরসং তদা ।  দেবদুন্দুভয়ো নেদুর্ননৃতুশ্চাপ্সরোগণাঃ ॥ ৫৬ ॥  

গুরুপূজাং ব্যধুঃ সর্বে গীর্বাণা মুদিতাননাঃ । অভিষিক্তো বসিষ্ঠাদ্যৈর্মন্ত্রপূতেন বারিণা ॥ ৫৭ ॥

পুনরন্যং বরং প্রাদাদ্গিরীশং পতয়ে গিরাম্ । 

শৃন্বাঙ্গিরস ধর্মাত্মন দেবেজ্য কুলনন্দন ॥ ৫৮ ॥ ভবতা স্থাপিতং লিঙ্গং সুবুদ্ধিপরিবর্দ্ধনম্ । বৃহস্পতীশ্বর ইতি খ্যাতং কাশ্যাং ভবিষ্যতি ॥ ৫৯ ॥ গুরুপুষ্য সমাযোগে লিঙ্গমেতৎ সম্যর্চ্য চ।

যৎ করিষ্যন্তি মনুজান্তৎসিদ্ধিমধিযাস্যতি ॥ ৬০ ॥ বৃহস্পতীশ্বরং লিঙ্গং ময়া গোপ্যং কলৌ যুগে । 

অন্য সন্দর্শনাদেব প্রতিভা প্রতিলভ্যতে ॥ ৬১ ॥ চন্দ্রেশ্বরাদ্দক্ষিণতো বীরেশান্নৈর্ঋতে স্থিতম্ । আরাধ্য ধিষণেশং বৈ গুরুলোকে মহীয়তে ॥ ৬২ ॥ গুৰ্বঙ্গনাগমনজং পাপং ষণ্মাসসেবনাৎ । 

অবশ্যং বিলয়ং যাতি তমঃ সূর্য্যোদয়াদ্যথা ॥ ৬৩ ॥ অতএব হি গোপ্তব্যং মহাপাতকনাশনম্ । বৃহস্পতীশ্বরং লিঙ্গং নাখ্যেয়ং যশ্য কস্যচিৎ ॥ ৬৪ ॥ 

ইতি দত্ত্বা বরান দেবস্তত্রৈবান্তর্হিতোঽভবৎ । 

দ্রুহিণো গুরুণা সার্দ্ধং সেন্দ্রোপেন্দ্রো বৃহস্পতিম্ ॥ ৬৫ ॥ 

অস্মিন্ পুরেঽভিষিচ্যাথ বিসৃজ্যেন্দ্রাদিকান সুরান্ । অলঞ্চকায় স্বং লোকং বিষ্ণুনানুমতো দ্বিজ ॥ ৬৬। ॥


[স্কন্দমহাপুরাণ/কাশী খণ্ড/পূর্বার্দ্ধ/১৬ অধ্যায়/ ২৫-৬৬ শ্লোক]


✅ অর্থ — পূর্বকালে, আনন্দ সহকারে ত্রিলোকবিধানে ইচ্ছুক ব্রহ্মার মরীচি-অত্রিপ্রমূখ আত্মতুল্য মানসপুত্র উৎপন্ন হন। তাঁরা সকলেই সৃষ্টিপ্রবর্তক। তার মধ্যে প্রজাপতি অঙ্গিরার আঙ্গিরস নামে এক দেবপ্রবর পুত্র হন ; তিনি বুদ্ধি দ্বায়া সকল দেবতার প্রধান। তিনি শান্ত, দান্ত, জিতক্রোধ, মৃদুভাষী এবং নিৰ্ম্মলাশয়। তিনি বেদবেদার্থতত্বে অভিজ্ঞ, কলাকুশল, সর্বশাস্ত্রে পারদর্শী, অতিশয় নীতিবেত্তা এবং নির্দোষ। তিনি হিতের উপদেষ্টা, হিতকারী, সদা অহিতের অতীত, রূপবান, সুশীল এবং দেশকালবেত্তা। সেই সর্ব্বসুলক্ষণাক্রান্ত গুরুবৎসল দিব্যতেজা মহাতপা আঙ্গিরস (বৃহস্পতি), মহৎ শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত করে মহতী তাপসবৃত্তি অবলম্বন পুরঃসর দেবপরিমাণে অযুত বৎসর একাগ্রচিত্তে তপস্যা করলেন ॥ ২৫-৩১ ॥

অতঃপর, বিশ্বভাবন ভগবান বিশ্বনাথ শিব প্রসন্ন হয়ে সেই লিঙ্গ হতে তেজোরাশি রূপে আবির্ভূত হলেন এবং তারপর বলিতে লাগলেন, ”আমি প্রসন্ন হয়েছি, তোমার মনে যে বরলাভের ইচ্ছা আছে, তা আমাকে বল।” তখন বৃহস্পতি শম্ভু কে দর্শন করা মাত্রই আনন্দিত হয়ে এইভাবে স্তব করতে লাগলেন —


হে শঙ্কর! হে শান্ত! হে শশাঙ্কপ্রভ ! হে চারুপুরুষর্খদ! হে সর্বদ! হে সর্বশুচে! আপনি পবিত্র ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত উপহার গ্রহণ করেন এবং ভক্তজনের প্রবল তাপ (কষ্ট) সমূহ হরণ করেন ; আপনি জয়যুক্ত হোন। হে বরদগণ দ্বারা নমস্কৃত হ‌ওয়া প্রভো ! আপনি সকলের হৃদয়রূপী আকাশ ব্যাপ্ত করে আছেন, প্রণত জনগণের পাপমহা অরণ্য আপনিই দগ্ধ করেন, আপনার অষ্ট-তনু বিবিধ আচরণসম্পন্ন, হে সুতনো! হে ধৈর্য্যনিধে! আপনি কুসুমায়ুধকে বিশুষ্ক করিয়াছেন, আপনার জয় ইউক। হে নিধনাদিবিবর্জিত! আপনার প্রতি প্রণত বিচক্ষণগণ যে অভিলাষ করে থাকেন, আপনি সেটিই সম্পাদন করেন, হে ফণিভূষণ! গিরীন্দ্রতনয়াকে আপনি আপনার বামাঙ্গ প্রদান করেছেন, আপনি নিজ অষ্টশরীররূপী অষ্টমূর্তি দ্বারা সমগ্র জগৎ ব্যাপ্ত করে আছেন ; আপনার জয় হোক। হে ত্রিজগৎস্বরূপ! রূপহীন সচ্চিৎ! আপনার নয়নের আবর্তনে সঙ্কোচ অর্থাৎ প্রলয় হয় এবং আপনিই অগ্নির স্রষ্টা। হে ভব! হে ভূতপতে। হে প্রমথৈকপতে। আপনি পতিতজনকেও নিজ হস্ত দ্বারা অবলম্বন প্রদান করেছেন। হে অখিলভূতব্যাপক ! প্রণবশব্দ আপনার সৌধ, হে সুধাংশুধর ! পরমা গিরিরাজকুমারী আপনার নিকটে থেকে সন্তোষ বিধান করছেন, হে শিব ! আপনাকে প্রণাম করি। হে শিব! হে দেব! হে গিরীশ! হে মহেশ। হে প্রভো, বিভবপ্রদ, গিরিশ! হে শিবাকান্ত। আপনি ভক্তিবিঘাতকারী কাম-ক্রোধাদি এবং অন্ধকাদি অসুরগণকে পীড়া প্রদান করে থাকেন। হে মৃড় !  আপনি ত্রিলোকের সুখ সম্পাদন করেন। হে হর ! আমি আর যমকেও ভয় করি না ; হে অমোঘমতে! শীঘ্র আমার মহাপাপরাশি হরণ করুন। আমি অন্য কোন মতকে (মতবাদকে) শিবচরণে প্রণাম অপেক্ষা মঙ্গলকর বলে বিবেচনা করি না ; অতএব আপনাকে প্রণাম করছি। এই সুবিশাল নিখিল বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডে শিবের সন্তোষসাধনই পরমগুণবৎ এবং পাপহারক ; অতএব হে সর্পরাজ মহাবলয়ভূষিত, নির্গুণ, ঈশ্বর! আপনাকে নমস্কার করি। অঙ্গিরোনন্দন আঙ্গিরস, মহাদেবকে এই প্রকার স্তব করে বিরত হলেন, আর মহেশ্বর স্তুতিতে পরিতুষ্ট হয়ে বিভিন্ন প্রকারের বর প্রদান করলেন।


পরমেশ্বর মহাদেব বললেন, হে দ্বিজ! এই বৃহৎ তপস্যার প্রভাবে, তুমি বৃহৎ অর্থাৎ ইন্দ্রাদি দেবগণের পতি অর্থাৎ শ্রেষ্ট হও ; এই কারণে, (বৃহৎ পতি) বৃহস্পতি নাম প্রাপ্ত হয়ে [এখনথেকে] গ্রহগণের মধ্যে অর্চ্চনীয় হও। এই লিঙ্গপূজাপ্রভাবে তুমি আমার  জীবনস্বরূপ হয়েছ বলে ত্রিলোক মধ্যে ‘জীব’ এই নাম প্রাপ্ত হবে। প্রপঞ্চাতীত আমাকে উত্তম বাক্ প্রপঞ্চ দ্বারা স্তব করেছ, এই বাক্ প্রপঞ্চে আধিপত্য নিবন্ধন তুমি বাচস্পতি হও। তিন বৎসর তিন কালে ভক্তিভাবে এই স্তোত্র পাঠ করলে অথবা শ্রবণ করলে তার বাগ্ বিশুদ্ধি হবে। যে ব্যক্তি এই বায়ব্যনামক স্তোত্র দিন দিন পাঠ করবে, উত্তম কার্য্যের সময় উপস্থিত হলে, সে বুদ্ধিহীন হবে না। এই স্তোত্র নিয়ম মতো আমার সমীপে পাঠ করলে অবিবেকী মানবগণেরও দুর্বৃত্ততায় প্রবৃত্তি হবে না। প্রাণী এই স্তোত্র পাঠ করলে কখন‌ও গ্রহজনিত পীড়া প্রাপ্ত হবে না। অতএব আমার সমক্ষে এই স্তোত্র পঠনীয়। যে মানব, নিত্য প্রাতঃকালে উঠে এই স্তোত্র পাঠ করবে, আমি তাহার সুদারুণ বাধা সকল হরণ করব। প্রযত্ন সহকারে, তোমার প্রতিষ্ঠিত এই লিঙ্গ পূজা করিয়া যে ব্যক্তি এই স্তোত্র পাঠ করবে, তার মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হবে। পরমেশ্বর শিব, আঙ্গিরসকে এই বর দিয়ে তারপর ব্রহ্মাকে, ইন্দ্রাদি দেবগণকে এবং যক্ষ কিন্নর ভুজঙ্গাদ সকলকে আহ্বান করলেন। পরমেশ্বর শিব, তাঁদেকে আগত দেখে ব্রহ্মাকে বললেন, ‘বিধে! নিজগুণে সর্বশ্রেষ্ঠ এই মুনি বাচস্পতিকে আমার কথানুসারে সকল দেবপ্রবরগণের গুরু কর। সকলের ঐতিলাভের জন্ম ইহাকে যথাবিধি সুরাচার্যপদে অভিষিক্ত কর। আমার প্রীতিপাত্র এই বাচস্পতি অত্যন্ত বৃদ্ধির অধীশ্বর হবে। ব্রহ্মা "মহাপ্রসাদ” প্রসাদ" বলিয়া সেই শিবের আদেশ মস্তকে নিয়ে অঙ্গিরোনন্দকে তৎক্ষণাৎ সুরাচার্য করলেন। দেবদুন্দুভি সকল বাদিত হতে লাগল, অপ্সরোগণ নাচতে লাগল। দেবগণ সকলেই প্রীতিপ্রফুন্নবদনে গুরুপূজা করলেন। বসিষ্ঠ আদি ঋষিগণ মন্ত্রপূত জল দ্বারা বৃহস্পতির অভিষেক করলেন। ৪৫-৫৭। 

গিরিশ শিব - বাচস্পতিকে পুনরায় অন্য বর দিলেন, হে ধৰ্মাত্মন্! কুলানন্দ! দেবপূজ্য! আঙ্গিরস! তোমার স্থাপিত এই সুবুদ্ধিপরিবৰ্দ্ধক লিঙ্গ, কাশীতে বৃহস্পতীশ্বর নামে বিখ্যাত হবে। পুষ্যা নক্ষত্রযুক্ত বৃহস্পতিবারে মানুষেরা এই লিঙ্গ পূজা করে যা করবে, তাই সিদ্ধ হবে। আমি কলিযুগে বৃহস্পতীশ্বর লিঙ্গ গোপন করে রাখব, এই লিঙ্গ দর্শনমাত্রেই প্রতিভাশালী হওয়া যায়। চন্দ্রেশ্বর লিঙ্গের দক্ষিণে বীরেশ্বর শিবের নৈঋতে অবস্থিত বৃহস্পতীশ্বর লিঙ্গপূজা করলে বৃহস্পতিলোকে সসম্মানে বাস করে। ছয়মাস এই শিবলিঙ্গ সেবা করলে, সূর্যোদয়ে অন্ধকারের ন্যায়, গুরুতুল্য ব্যক্তির পত্নীতেগমনসম্ভূত পাপও অবশ্য‌ই বিনষ্ট হয়। অতএব, এই মহাপাতকবিনাশন বৃহস্পতীশ্বর লিঙ্গের ফল গোপনীয় ; যে কোন স্থানে প্রকাশ্য নয়। এই সকল বর দিয়ে দেবদেব মহাদেব সেই লিঙ্গেই অন্তর্হিত হলেন। ব্রহ্মা, ইন্দ্র বিষ্ণু এবং বৃহস্পতির সঙ্গে এই লোকে এসে  বৃহস্পতিকে এই লোকে অভিষিক্ত করে ইন্দ্রাদি দেবগণকে বিদায় দিয়ে বিষ্ণুর অনুমতিক্রমে, ফিরে গিয়ে স্বধামের শোভা সম্পাদন করলেন। 

__________________________________________

🔥 সারকথা : ঋষি অঙ্গিরার পুত্র ‘আঙ্গিরস’ শিবপূজা করে পরমেশ্বর শিবের কৃপায় দেবতাদের গুরু হবার পরমসৌভাগ্য লাভ করেছেন এবং ‘বৃহস্পতি’ নামে বিখ্যাত হয়েছেন। পরমেশ্বর শিবের উপাসক ছিলেন দেবগুরু বৃহস্পতি, এতে কোনো সন্দেহই নেই। তাই তিনি শৈবদের কাছে ‘শৈব আচার্য’ বলে গণ্য ও পরমশ্রদ্ধেয়।

__________________________________________

🚩 তথ্য সংগ্রহ ও লেখনীতে : শিবালয় প্রতিষ্ঠাতা শিবদ্বারাধীশাধ্যক্ষ দেশিক আচার্যপরমাধিকারী শ্রীপাদযুক্ত শ্রীগুরু নন্দীনাথ শৈব আচার্যদেব 🚩

©️ কপিরাইট ও প্রচারে : Shivalaya 🔥


পরমেশ্বর শিবের জয়🙏

পরমশিবভক্ত মহর্ষি বাল্মীকি শৈবাচার্যের জয় 🙏

সকল শৈবগুরুর জয় 🙏

শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তেতরাম্ 🚩

ॐ নমঃ পার্বতীপতয়ে হর হর মহাদেব 🚩


পরমেশ্বর শিবের ও সনাতন শৈবধর্মের বিষয়ে এমন গুহ্য সত্য রহস্য ও সত্য উন্মোচনমূলক লেখা আরো পেতে অবশ্য‌ই আমাদের Shivalaya ফেসবুক পেজ Follow করে Favourite করে রাখুন। এই তথ্য দ্বারা যদি আপনার জ্ঞান বৃদ্ধি হয়ে থাকে তবে অবশ্য‌ই এই লেখাটি শেয়ার করুন, যাতে সত্য প্রকাশ্যে আসে।


#সনাতনধর্ম #শিবালয় #shiva #শিব #পরমেশ্বরশিব #ভগবান #দেবগুরু #বৃহস্পতি #শৈবাচার্য #মহাপাশুপত #শৈবপরম্পরা #স্কন্দমহাপুরাণ #মহাভারত  #Shivalaya #শৈবধর্ম #শিবশাসন


[এই পোস্টটি শুধুমাত্র শিক্ষামূলক ও জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত।এখানে ব্যবহৃত চিত্রটি কেবল বিষয়টি সহজে উপস্থাপনের জন্য Ai-সহায়তায় নির্মিত একটি প্রতীকী চিত্র, এই ছবিটির মধ্যে কিছু লেখা আলাদা ভাবে লেখা হয়েছে। সকল শাস্ত্রীয় উদ্ধৃতি ও তথ্য যথাসম্ভব মূল গ্রন্থ অনুসারে ছবি উপস্থাপিত হয়েছে।]

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ