ত্রিদেব উৎপন্ন হয়েছেন সদাশিব থেকে — বলছে শিবমহাপুরাণ

 

ত্রিদেব উৎপন্ন হয়েছেন সদাশিব থেকে — বলছে শিবমহাপুরাণ 
__________________________________________________
🔰 ভূমিকা —

শাস্ত্রে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও রুদ্র — এই ত্রিদেবকে সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও সংহারকর্তা হিসেবে বর্ণনা করা হলেও, তাঁদের উৎপত্তির পূর্বে সদাশিবকে পরম, অক্ষর, অব্যয় ও পরাৎপর স্বরূপে বর্ণনা করা হয়েছে। শিবমহাপুরাণে সদাশিব থেকেই ত্রিদেবের উৎপত্তি বলা হয়েছে। অতএব ত্রিদেবের কার্যগত মহত্ত্বকে তাঁদের পরমতত্ত্ব বলে প্রতিষ্ঠা করা শাস্ত্রবচনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এবিষয়ে প্রমাণ উপস্থাপন করা হল।
__________________________________________________

♦️ত্রিদেব উৎপন্ন হয়েছেন সদাশিব থেকে —

পুরা যদা শিবো দেবো নির্গুণো নির্বিকল্পকঃ ।
অরূপঃ শক্তিরহিতশ্চিন্মাত্রঃ সদসৎপরঃ ॥ ১২ ॥
অভবৎসগুণঃ সোঽপি দ্বিরূপঃ শক্তিমান্‌প্রভুঃ ।
সোমো দিব্যাকৃতির্বিপ্র নির্বিকারী পরাৎপরঃ ॥ ১৩ ॥
তস্য বামাঙ্গজো বিষ্ণুর্ব্রহ্মাহং দক্ষিণাঙ্গজঃ ।
রুদ্রো হৃদয়তো জাতোঽভবচ্চ মুনিসত্তম ॥ ১৪ ॥
সৃষ্টিকর্তাভবং ব্রহ্মা বিষ্ণুঃ পালনকারকঃ ।
লয়কর্তা স্বয়ং রুদ্রস্ত্রিধাভূতঃ সদাশিবঃ ॥ ১৫ ॥


[শিব মহাপুরাণ/রুদ্র সংহিতা/সতী খণ্ড/২য় অধ্যায়/১২-১৫ নং শ্লোক]

✅ অর্থ : সবকিছুর পূর্বে পরমদেব পরমশিব নির্গুণ, নির্বিকল্প, নিরাকার, শক্তিরহিত (শক্তির দ্বৈতভাবের প্রকাশহীন অবস্থা), চিন্ময় এবং সৎ ও অসৎ -এর ঊর্ধে স্থিত স্বরূপে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন ॥ ১২ ॥

তারপর সেই প্রভুই সগুণ এবং শক্তিমান হয়ে বিশিষ্ট রূপ ধারণ করে স্থিত হন এবং তাঁর সঙ্গে ভগবতী উমাও বিরাজ করছিলেন। হে বিপ্রবর ! পরমেশ্বর শিব দিব্য আকৃতিতে সুশোভিত ছিলেন। তাঁর মনে কোনো বিকার ছিল না। তিনি তাঁর পরাৎপর স্বরূপে (সদাশিব হিসেবে) প্রতিষ্ঠিত ছিলেন ॥ ১৩ ॥

মুনিশ্রেষ্ঠ ! তাঁর (সদাশিবের) বাম অঙ্গ থেকে ভগবান বিষ্ণু, দক্ষিণ অঙ্গ থেকে আমি ব্রহ্মা এবং মধ্য-অঙ্গ অর্থাৎ হৃদয় (তথা পৃষ্ঠদেশ) থেকে রুদ্রদেব প্রকটিত হয়েছেন ॥ ১৪ ॥

আমি ব্রহ্মা সৃষ্টিকর্তা ; ভগবান বিষ্ণু জগৎ পালনকারী ; স্বয়ং রুদ্র সংহার কর্তা। এইভাবে পরমেশ্বর সদাশিব স্বয়ংই নিজেকে (শক্তির মাধ্যমে) বিভক্ত করে তিনটিরূপ ধারণ করে অবস্থিত ॥ ১৫ ॥


🔶 বিশ্লেষণ : নিরাকার নির্গুণ পরমসত্তা পরমশিব এক ও অদ্বিতীয়। তাঁকেই ব্রহ্ম/পরব্রহ্ম/পরমব্রহ্ম শব্দে অভিহিত করা হয়ে থাকে। ঐ নিরাকার নির্গুণ পরমসত্তা পরমশিবে কোনো আলাদা দ্বৈতভাব ছিল না, শিবের থেকে শক্তির‌ও রূপ বা নামের ভিন্ন ভাবে কোনো অস্তিত্ব ছিল না। শক্তিও শিবে লীন হয়ে শিব হয়ে একমাত্র শিব‌ই ছিলেন। সেই পরমেশ্বর শিব রূপহীন তাই নিরাকার, সকল গুণ অর্থাৎ মায়ায় প্রভাব থেকে মুক্ত, তিনি সকল বিকার থেকে মুক্ত। তিনি নির্বিকল্প অর্থাৎ তিনি বিকল্পহীন, তাঁর কোনো অন্য বিকল্প নেই। তিনি কেবল চৈতন্যস্বরূপ অর্থাৎ চিৎ বা চেতন সত্ত্বা। সৎ ও অসৎ উভয়ের অতীত, অর্থাৎ সৎ (ব্যক্ত/অস্তিত্বমান) এবং অসৎ (অব্যক্ত/অনস্তিত্ব) উভয়েরও অতীত। — প্রভু শিব এই নিরাকার নির্গুণ পরমসত্তা হিসেবে স্থিত অবস্থায় পরম শিব শব্দে বাচিত হন।
এরপর সেই পরমশিব নিজের এই অদ্বিতীয় নিরাকার নির্গুণ পরমসত্তা থেকে নিজের জন্য সাকার রূপ কল্পনা করলেন, এই রূপে তিনি দিব্যরূপদেহধারী ‘সদাশিব’ নামে পরিচিত হলেন, তিনিই সকলের একমাত্র প্রভু। সেই সদাশিবরূপ থেকে তিনি নিজের শক্তিকে রূপ দানের মাধ্যমে হৃদয় থেকে প্রকট করলেন। এই রূপ লাভ করে শক্তিই দেবী রূপে রূপান্তরিত হলেন। এই শক্তির সহিত শিব প্রথমবার সাকার রূপে বিদ্যমান হবার কারণে সোম বলা হয়, অর্থাৎ উমা সহিত শিব। সেই শিব ও শক্তি হলেন গুণের প্রকট কর্তা ও সেই গুণের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের সহিত রেখেছেন, তাই তাদের সগুণ বলা হয়েছে।
দ্বিরূপ ও সগুণ প্রকাশ লাভ করলেও তাঁর পরম স্বরূপে কোনো বিকার বা পরমত্বের হানি হচ্ছে না। তিনি নিজের থেকে শক্তি প্রকট করে সেখান থেকে প্রকৃতি ও প্রকৃতি থেকে ব্রহ্মা বিষ্ণু ও রুদ্রকে প্রকট করেন। তাই সদাশিব কে ত্রিদেব-এর উৎপত্তিকর্তা জনক বা পিতা বলা হয়।

যেহেতু সদাশিবের শক্তি মূলত শিবের‌ই বাহ্যিক রূপগত রূপান্তর ও সেই রূপান্তরিত পরমাশক্তি দেবীর থেকে প্রকটিত হয়েছে - প্রকৃতি। আর প্রকৃতি থেকে ব্রহ্মা ও বিষ্ণু প্রকট হয়েছেন। তাই শাস্ত্রে সংক্ষেপে বর্ণনা করতে গিয়ে ব্রহ্মা-বিষ্ণু কে সদাশিবের ডানদিক ও বামদিক থেকে উৎপন্ন হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আর রুদ্রদেব সরাসরি সদাশিব থেকে উৎপন্ন হয়েছে অর্থাৎ কৈলাসে বসবাসকারী সংহারকর্তা রুদ্রদেব প্রকৃতি থেকে উৎপন্ন হননি। ব্রহ্মা যখন সদাশিবকে নিজের পুত্র হিসেবে চেয়েছিলেন তখন সদাশিব স্বয়ং প্রকৃতিতে প্রবেশ করবেন না বলে, নিজ স্বরূপকে নিজের হৃদয়-পৃষ্ঠভাগ থেকে রুদ্রদেবকে প্রকট করেন। অর্থাৎ রুদ্রদেব হলেন সদাশিবের‌ই এমন এক অবতার যিনি ব্রহ্মার পুত্র হয়ে প্রকট হয়েছিলেন। ব্রহ্মা তপস্যায় বসলে তার দুই ভ্রুর মাঝখানে উৎপন্ন হ‌ওয়া তমোগুণকে আবরণ হিসেবে ধারণ করে রুদ্রদেব নিজেকে লীলাভশত ব্রহ্মার পুত্র হিসেবে অভিনয় করতে আরম্ভ করে ছিলেন। এই কারণে শাস্ত্রে সদাশিবের তিনপুত্র ত্রিদেব — ব্রহ্মা, বিষ্ণু, রুদ্র (মহেশ/হর), এমনটা উল্লেখ করা হয়েছে। এই ত্রিদেব জনক — সদাশিব-ই হলেন শৈবদের আরাধ্য সাকার শিব। এই সদাশিব‌ই সনাতন ধর্মের এক ও অদ্বিতীয় সাকার ব্রহ্ম।

💠 এই বিশ্লেষণের প্রমাণিকতা তথ্যসূত্র সহ দেওয়া হল —

॥ শিবউবাচ ॥
যুবাং প্রসূতৌ প্রকৃতের্মদীয়ায়া মহাবলৌ ।
সব্যাপসব্যগাত্রাভ্যাং মম সর্বৈশ্বরস্য হি ॥ ১৬ ॥
অয়ং মে দক্ষিণাৎপার্শ্বাদ্ ব্রহ্মা লোকপিতামহঃ ।
বামপার্শ্বাদ্ বিষ্ণুস্ত্বং সমুৎপন্নঃ পরমাত্মনঃ ॥ ১৭ ॥

[শিবমহাপুরাণ/রুদ্রসংহিতা/সৃষ্টিখণ্ড/৯ অধ্যায়/১৬-১৭ শ্লোক]

✅ অর্থ : পরমেশ্বর শিব বললেন - আমি সকলের ঈশ্বর, তোমরা দুজন(ব্রহ্মা ও বিষ্ণু) জন্ম হয়েছ আমার স্বরূপভূত (শক্তি দেবীর) প্রকৃতির অংশ থেকে। ব্রহ্মা ও বিষ্ণু উভয়েই আমি পরমপুরুষ সদাশিবের ডান-বাম অঙ্গ হতে উদ্ভব হয়েছে ॥ ১৬-১৭ ॥

শিবমহাপুরাণ অনুসারে, ব্রহ্মা বিষ্ণুর উৎপত্তি পরমেশ্বর সদাশিবের থেকে হয়েছে।
আদ্যাশক্তি হলেন পরমেশ্বর সদাশিবের পরমাপ্রকৃতি স্বরূপ বামভাগ। পরমেশ্বরের এই বামভাগের প্রকৃতি থেকেই বিষ্ণুর আগমন, তিনিই নারায়ণ নামে অভিহিত হন।

এবার দেখুন, ভগবান রুদ্রের বিষয়ে প্রভু পরমেশ্বর সদাশিব ব্রহ্মাকে বলছেন —

মদ্রুপং পরমং ব্রহ্মন্নীদৃশং ভবদঙ্গতঃ ।
প্রকটীভবিতা লোকে নাম্না রুদ্রঃ প্রকীর্তিতঃ ॥ ৩০ ॥


[তথ্যসূত্র : শিবমহাপুরাণ/রুদ্রসংহিতা/সৃষ্টিখণ্ড/৯ অধ্যায়/৩০ শ্লোক]

✅ অর্থ : হে ব্ৰহ্মা! আমার এমন পরম অংশস্বরূপ তোমার শরীর থেকে ইহলোকে প্রদর্শিত হবে, যাকে 'রুদ্র' বলা হবে ॥ ৩০ ॥

সুতরাং এখানে প্রমাণিত হচ্ছে যে পরমেশ্বর শিব ব্রহ্মা কে বলছেন তাঁর একটি অংশস্বরূপ পিতামহ ব্রহ্মার শরীর থেকে সম্ভূত হবে, যার নাম 'রুদ্র' হবে । তাই যারা রুদ্র ও সদাশিবের কার্যগত তফাৎ বোধগম্য করতে অক্ষম তারাই শিবকে পরমেশ্বর বলে স্বীকার করেন। তারা ত্রিদেবের পিতা সদাশিব সম্পর্কে অজ্ঞ থাকায় সঠিক সনাতন সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিভ্রান্ত হয়ে থাকে।

আরো একটি প্রমাণ দেখুন শিবমহাপুরাণ থেকে👇

বামাঙ্গজো মম হরির্দক্ষিণাঙ্গোদ্ভবো বিধিঃ ॥ ৫৬ ॥
মহাপ্রলয়কৃদ্ রুদ্রো বিশ্বাত্মা হৃদয়োদ্ভবঃ ।
ত্রিধা ভিন্নো হ্যহং বিষ্ণো ব্রহ্মবিষ্ণুভবাখ্যয়া ॥ ৫৭ ॥
সর্গরক্ষালয়করস্ত্রিগুণৈ রজ আদিভিঃ ।
গুণভিন্নঃ শিবঃ সাক্ষাৎ প্রকৃতে পুরুষাৎপরঃ ॥ ৫৮ ॥
পরং ব্রহ্মাদ্বয়ো নিত্যোঽনন্তঃ পূর্ণো নিরঞ্জনঃ ।
অন্তস্তমো বহিঃসত্ত্বস্ত্রিজগৎপালকো হরিঃ ॥ ৫৯ ॥
অন্তঃ সত্ত্বস্তমোবাহ্যস্ত্রিজগল্লয়কৃদ্ধরঃ ॥ ৬০ ॥
অন্তর্বহীরজশ্চৈব স্ত্রী জগৎ সৃষ্টিকৃদ্বিধিঃ ।
এবং গুণাস্ত্রিদেবেষু গুণভিন্নঃ শিবঃ স্মৃতঃ ॥ ৬১ ॥

[তথ্যসূত্র : শিবমহাপুরাণ/রুদ্রসংহিতা/সৃষ্টিখণ্ড/৯ অধ্যায়/৫৬-৬১ শ্লোক]

✅ অর্থ : পরমেশ্বর সদাশিব বললেন, শ্রী হরি আমার বাম অঙ্গ থেকে প্রকট হয়েছেন, ব্রহ্মা আমার ডান অঙ্গ থেকে উৎপন্ন হয়েছেন, আর মহাপ্রলয়কারী বিশ্বাত্মা রুদ্র আমার হৃদয় থেকে প্রাদুর্ভূত হয়েছেন. হে বিষ্ণু ! আমি ব্রহ্মা-বিষ্ণু এবং ভব(রুদ্র) নাম দ্বারা তিন রূপে বিভক্ত হয়েছি। আমি রজ আদি তিন গুণের দ্বারা সৃষ্টি, পালন তথা সংহার করি ।
আমি শিব এই জাগতিক মায়ার গুণ(-এর প্রভাব) থেকে ভিন্ন (তথা মুক্ত) , আর আমি প্রকৃতি তথা পুরুষের‌ও ঊর্ধ্বে। আমি অদ্বিতীয়(অর্থাৎ একমাত্র),নিত্য, অনন্ত, পূর্ণ এবং নিরঞ্জন পরব্রহ্ম।
ত্রিলোকের পালনকারী শ্রীহরি - ভেতরে তমোগুণ আর বাইরে সত্ত্বগুণ ধারণ করে থাকেন।
ত্রিলোকের সংহারকারী রুদ্রদেব ভেতরে সত্ত্বগুণ আর বাইরে তমোগুণ ধারণ করে থাকেন ।
ত্রিজগত কে সৃষ্টিকারী ব্রহ্মাজী বাইরে এবং ভেতরে উভয় দিকেই রজোগুণী সম্পন্ন।
এইভাবে ব্রহ্মা-বিষ্ণু তথা রুদ্র এই তিন দেবতায় গুণ রয়েছে ।
কিন্তু সাক্ষাৎ পরমেশ্বর শিব কে গুণের ঊর্ধ্বে গুণাতীত বলে জানা উচিত ॥ ৫৬-৬১ ॥


🚩 শৈবদের আরাধ্য হল এই সাকার ব্রহ্ম সদাশিব।
__________________________________________________
✳️ বৈষ্ণবদের মান্য পদ্মপুরাণেও ত্রিনয়নধারী সদাশিব‌ই ত্রিদেবের পিতা এমনটিই বলা হয়েছে।
♦️ প্রমাণ —
য একঃ শাশ্বতোদেবো ব্রহ্মবন্দ্যঃ সদাশিবঃ ।
ত্রিলোচনোগুণাধারো গুণাতীতোঽক্ষরোব্যয়ঃ ॥ ৩ ॥
সিসৃক্ষা তস্য জাতাথ বীক্ষ্যাত্মস্থং গুণত্রয়ম্ ।
বেদত্রয়মিদং জ্ঞেয়ং গুণত্রয়মিদং হি যৎ ॥ ৪ ॥
পৃথকৃত্বাত্মনস্তাত তত্র স্থানং বিভজ্য চ ।
দক্ষিণাঙ্গে সৃজৎপুত্রং ব্রহ্মাণং বামতো হরিম্ ॥ ৫ ॥
পৃষ্ঠদেশে মহেশানং ত্রীন্ পুত্রান সৃজদ্বিভুঃ ।
জাতমাত্রাস্তু তে পুত্রা ব্রহ্মবিষ্ণুমহেশ্বরাঃ ॥ ৬ ॥


[নবভারত পাবলিশার্স প্রকাশিত ‘পদ্মপুরাণ/পাতালখণ্ড/৬৬ অধ্যায়/৩-৬ ক্রমাঙ্ক শ্লোক’ অথবা চৌখাম্বা প্রকাশিত ‘পদ্মপুরাণ/পাতালখণ্ড/১০৮ অধ্যায়/৩-৬ ক্রমাঙ্ক শ্লোক]

✅ অর্থ : বিশ্বসৃষ্টির পূর্বে যে একমাত্র শাশ্বত, তিনগুণের আধার অথচ গুণাতীত অক্ষর ও অব্যয় ত্রিলোচন সদাশিব ছিলেন, তিনি ব্রহ্মা দ্বারা বন্দনীয় হন। সেই সদাশিবের সৃষ্টি করবার ইচ্ছা হলে, তিন বেদের স্বরূপ সেই আত্মস্থ (নিজের) তিনগুণে দৃষ্টিপাত করে 'সেগুলিকে নিজের থেকে পৃথক করে পরস্পর পৃথকে করে নিজ অঙ্গের তিন স্থানে স্থাপন করলেন। বিভু সদাশিব এইভাবে নিজ দক্ষিণ অঙ্গ হতে ব্রহ্মা, বাম দিকে অঙ্গ থেকে হরি ও পৃষ্ঠদেশ (পিঠ ও হৃদয় সংলগ্ন স্থান) হতে মহেশ্বর (রুদ্র/হর) — এই তিন পুত্রকে সৃষ্টি করলেন ॥ ৩-৬ ॥

❇️ বেদেও সাকার শিব (সদাশিব)কে ত্রিদেবের উৎপত্তি কর্তা বা স্রষ্টা বলা হয়েছে।
♦️ প্রমাণ —

“শিবং অক্ষরং অব্যয়ং হরি-হর-হিরণ্যগর্ভ-স্রষ্টারং”

[অথর্ববেদ/ভস্মজাবাল উপনিষদ/২ অধ্যায়/৩ শ্রুতি]

✅ অর্থ : বিনাশহীন অক্ষরব্রহ্ম প্রভু শিব (সদাশিব)-ই ত্রিদেবরূপী হরি (নারায়ণ), হর (কৈলাসপতি সংহারকর্তা রুদ্র) ও হিরণ্যগর্ভ (ব্রহ্মা)-র সৃজন কর্তা।
__________________________________________________

🔥 সিদ্ধান্ত — সদাশিব ত্রিদেবের উৎপত্তিকর্তা; অতএব ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও রুদ্র—ত্রিদেব পরমসত্তা নন, বরং পরমসত্তা সদাশিব থেকেই তাঁদের প্রকাশ। সুতরাং “হরি-হর এক”—এই আপাত অভেদবাক্যকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা শাস্ত্রসম্মত নয়, যার দ্বারা সদাশিবের পরাৎপরত্বকে বিষ্ণু বা রুদ্রের কার্যগত অবস্থানের সমপর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়। অভেদ থাকলেও তা উৎপত্তিকর্তা ও উৎপন্নের ভেদ অস্বীকার করে না। শিবমহাপুরাণ অনুসারে ত্রিদেবের জনক সদাশিব। এর সমর্থনে রয়েছে বৈষ্ণবীয় পদ্মপুরাণ ও নিরপেক্ষ শাস্ত্র সাক্ষাৎ বেদ ।
__________________________________________________

🔥 তথ্যসূত্র সংগ্রহে ও অপপ্রচার দমনে : শিবদ্বারাধীশাধ্যক্ষ দেশিক আচার্যপরমাধিকারী শ্রীপাদযুক্ত শ্রীগুরু নন্দীনাথ শৈব আচার্যদেব 🚩

কপিরাইট ও প্রচারে : Shivalaya 🔥

শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তেতরাম্ 🚩
ॐ নমঃ পার্বতীপতয়ে হর হর মহাদেব 🚩

পরমেশ্বর শিবের ও সনাতন শৈবধর্মের বিষয়ে এমন গুহ্য সত্য রহস্য ও সত্য উন্মোচনমূলক লেখা আরো পেতে অবশ্য‌ই আমাদের Shivalaya ফেসবুক পেজ Follow করে Favourite করে রাখুন। এই তথ্য দ্বারা যদি আপনার জ্ঞান বৃদ্ধি হয়ে থাকে তবে অবশ্য‌ই এই লেখাটি শেয়ার করুন, যাতে সত্য প্রকাশ্যে আসে।

#বৈষ্ণবমতবাদখণ্ডন #পরমেশ্বরশিব #শৈব #শৈবধর্ম #সনাতনধর্ম #সদাশিব #ত্রিদেব #শিবধর্ম #ত্রিদেবজনক #পরমেশ্বরসদাশিব #Shivalaya

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ