প্রকৃত মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্র



🕉️ প্রকৃত মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্র (শিবরহস্য মহেতিহাসোক্ত)

__________________________________________________

🔰 ভূমিকা — পরমব্রহ্মমহিষী দুর্গা দেবীর জনপ্রিয় ‘মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্র’ কি স্বতন্ত্রভাবে কোনো ব্যক্তির দ্বারা রচিত, নাকি কোনো স্বীকৃত শাস্ত্র দ্বারা সমর্থিত ?

অনেকেই এ বিষয়ে জানেন না। সমাজে স্মার্তদের দ্বারা প্রচারিত হয়েছে যে এই স্তোত্র আদি শঙ্করাচার্য রচনা করেছেন, আবার কেউ বলেন তেনালি রাম। অধিক জনপ্রিয়তা পেয়েছে আদি শঙ্করাচার্যের রচিত বলে করা দাবীটিই, বিভিন্ন স্তোত্রের পুস্তকে এই স্তোত্রের শেষে আদি শঙ্করাচার্যের রচিত বলে লেখা হয়েছে। 

 কিন্তু প্রকৃত সত্য হল তাঁদের মধ্যে কেউই এটি রচনা করেননি। স্মার্ত ও বৈষ্ণবদের একটি অস্বাভাবিক স্বভাব হল — শাস্ত্রে থাকা প্রকৃত স্তোত্রগুলি নিয়ে সেগুলির প্রকৃত শাস্ত্রীয় উৎসকে কৃতিত্ব না দিয়ে নিজেদের আচার্যদের নামে চালিয়ে দেওয়া। এই স্তোত্রটি স্বতন্ত্র নয় ; বরং এটি সম্পূর্ণরূপে শাস্ত্রসম্মত, তাও আবার শিব রহস্য মহা ইতিহাস থেকে প্রাপ্ত। এটি কোনো পুরাণ থেকে নয়, একটি মহেতিহাস থেকেই নেওয়া। বর্তমানে ইন্টারনেটে মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্র -এর নামে যে পাঠ পাওয়া যায় তা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত এবং শাস্ত্রসম্মত প্রমাণবিহীন, কারণ সেটি প্রকৃত মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্র (যা শিবরহস্য মহা ইতিহাসে আছে) থেকে বিকৃত ও সংযোজন-বিয়োজন করা হয়েছে।

এখানে “বিষ্ণু বিলাসিনী” বলে কোনো শব্দই নেই — আসল পাঠ “শম্ভু বিলাসিনী”। ঠিক পরের শ্লোকেই আছে “শিতিকণ্ঠ কুটুম্বিনী” — তাহলে এখানে “বিষ্ণু বিলাসিনী” আসবে কীভাবে ? এতে কি কোনো যুক্তি আছে ?

স্মার্তরা এখানে হরিহরবাদ জুড়ে দিতে গিয়ে “শম্ভু বিলাসিনী”-র জায়গায় “বিষ্ণু বিলাসিনী” এবং “বিষ্ণুনুতে”-র জায়গায় “জিষ্ণুনুতে” বসিয়েছে।

এখানে “বিষ্ণুনুতে” অর্থে — বিষ্ণু মাতাপার্বতীর কাছে প্রণাম করছেন। কিন্তু স্মার্তদের হরিহর একতা বাদের আড়ালে থাকা বৈষ্ণবীয় পারম্যতার মানসিকতা এটি মেনে নিতে পারেনি, তাই শিশুসুলভভাবে শব্দ বদলে “জিষ্ণুনুতে” (ইন্দ্র) করে দিয়েছে।

স্মার্তরা এই এক‌ই কাজটি ‘কালভৈরব অষ্টকম্’ - এর ক্ষেত্রেও করেছে, যেখানে শিবরহস্য মহেতিহাস শাস্ত্রেই প্রকৃত কালভৈরব অষ্টকম্ রয়েছে। কিন্তু স্মার্তরা তা বিকৃত করে উপস্থাপন করে তার রচয়িতা হিসেবে আদি শঙ্করাচার্যের নাম প্রচার করেছে ।

এবার বৈষ্ণবদের ভণ্ডামি দেখুন — তারা “বিষ্ণু বিলাসিনী” ব্যবহার করছে শুধু এই দেখানোর জন্য যে দুর্গা বিষ্ণুর সহধর্মিণী বা তিনি বিষ্ণুকে সন্তুষ্ট করেন সকলকে বিষ্ণুভক্তি দিয়ে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেখা তো যাচ্ছে অনেকে এখন এমন অনুবাদও করেছে —“তিনি অর্থাৎ দুর্গা বিষ্ণুকে আনন্দ দেন”। কী আশ্চর্য দুঃসাহস ! অথচ ঠিক পরের শ্লোকেই আছে “শিতিকণ্ঠ কুটুম্বিনী” (শিবের নিত্যসহধর্মিণী)। সুতরাং ওই পংক্তিটি স্পষ্টই একটি সংযোজন (interpolation) অথবা যদি মানেও নেওয়া হয়, তাহলে কেবল ভ্রাতৃ-ভগ্নীসুলভ লীলার অর্থ হতে পারে। কিন্তু যাই হোক, সেই পদ সম্পূর্ণ অসত্য, এটিই শেষ কথা। 

আপনাকে দেখাচ্ছি শিবরহস্য মহা ইতিহাস শাস্ত্রে উল্লেখিত প্রকৃত মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্র, যেটিকে স্মার্তরা পরিবর্তন করে এর রচয়িতা হিসেবে আদি শঙ্করাচার্যকে ঘোষণা করেছে।__________________________________________________

মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্র

[প্রসঙ্গ : দেবতারা মহেশ্বরের মায়া পড়ে নিজেদের শক্তির অহংকার করতে থাকলে সেখানে মহেশ্বর প্রকট হয়ে তাদের পরীক্ষা নেন, সকল দেবতা সেই পরীক্ষায় নিজেদের শক্তির প্রদর্শন করতে গিয়েও ব্যর্থ হন, এতে তারা ভীষণ লজ্জিত হন, এরপর মহাদেব অন্তর্ধান হলে, দেবতারা মাতা পার্বতীর স্তুতি করা শুরু করেন, সেই স্তুতিই ‘মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্র’ নামে পরিচিত।]


🌊 বিনিয়োগ —

অস্য শ্রীমহিষাসুরমর্দিনীস্তোত্রমন্ত্রস্য, ইন্দ্রাদি দেবতা ঋষিঃ, অনুষ্টুপ্ ছন্দঃ, শ্রীমহিষাসুরমর্দিনী দুর্গা শিবা পার্বতী দেবতা, হ্রীঁ বীজং, দুঁ শক্তিঃ, ঐঁ কীলকং, শ্রীমহিষাসুরমর্দিনীপ্রীত্যর্থে জপে (বা পাঠে) বিনিয়োগঃ।

♦️ শিবরহস্য মহেতিহাস/১ম অংশ/৫৩ অধ্যায় —


অথ মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্রম্ ।

॥ ॐ নমঃ শিবায়ৈ ॥

দেবাঃ উবাচ ।

অয়ি গিরিনন্দিনি নন্দিতমোদিনি বিশ্ববিনোদিনি নন্দিনুতে ।
গিরিবরবিন্ধ্যশিরোধিনিবাসিনি শম্ভুবিলাসিনি বিষ্ণুনুতে ॥ ৯ ॥

জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ।
ভগবতি হে শিতিকণ্ঠকুটুম্বিনি ভক্তজনামিতভূতিকৃতে ॥ ১০ ॥

অয়ি নিজহুঙ্কৃতিমাত্রনিরাকৃতধূম্রবিলোচনধূলিকৃতে ।
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ ১১ ॥

সমরবিশোষিতশোণিতবীজসমুদ্ভবশোণিতবীজলতে ।
শ্রীযুতশুম্ভনিশুম্ভমহাহবতর্পিতভূতপিশাচততে ॥ ১২ ॥

জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ।
অয়ি জগদম্ব কদম্ববনপ্রিয়বাসিনি সৌধরতে ॥ ১৩ ॥

শিখরিশিরোমণি তুঙ্গহিমালয়সৌধনিজালয়মধ্যগতে ।
মধুমধুরে মধুকৈটভতর্জনজাতসসম্ভ্রমব্রহ্মনুতে ॥ ১৪ ॥

জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ।
সুরঘনঘোষিণি দুর্ধরঘর্ষিণি দুর্মুখহর্ষিণি পোষরতে ॥ ১৫ ॥

ত্রিভুবনপোষিণি শঙ্করতোষিণি কল্মষদূষিণি ঘোষরতে ।
দনুজবিশোষিণি দুর্মদরোষিণি সন্মুখপোষিণি সিহ্ম‌বহে ॥ ১৬ ॥

জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ।
ধনুরনুষঙ্গমনুক্ষণসঙ্গপরিস্ফুটবঙ্কিনটৎকটকে ॥ ১৭ ॥

কনকপিশঙ্গনিষঙ্গপৃষৎকরভটসংঘনহতে ।
সুরসঙ্গবচ্চতুরঙ্গবলক্ষিতিরঙ্গঘটদ্রণরঙ্গতটে ॥ ১৮ ॥

জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ।
অয়ি শিখণ্ডবিখণ্ডনতুণ্ডবিতুণ্ডিতশুণ্ডগজৌধকৃতে ॥ ১৯ ॥

রিপুগজগণ্ডগতোদ্ভটভণ্ডবিদারণচণ্ডপরাক্রমশৌণ্ডমৃগাধিপতে ।
নিজভুজদণ্ডবিপাটিতমুণ্ডনিবাপিতচণ্ডভটাধিপতে ॥ ২০ ॥

জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥ ২১ ॥

জয় জয় দেবি নগরাজকুলোত্তারিণি কচকুচগমনজঘনবদনকণ্ঠোদরকটি- তটোরুদ্বয়করবাহুভূষণবিরাজিতে ।
সজলজলদনগমাতঙ্গপুলিনেন্দুশঙ্খ- করতলসিহ্মরম্ভাস্তম্ভারক্তনীরজমৃণালনিভে 
তারামলমৌক্তিকসরকীলিতকন্ধরে বিম্বাধরে 
মধ্যাষ্টমীচন্দ্রসমানভ্রূকৃতে তপনোডুপমণ্ডলায়িততাটঙ্কে ।
উদ্যৎকবিমণ্ডলনিভনাসামুক্তামণিদ্যোতিতে ।
সর্বাভরণভূষিতে ত্বন্মায়ামোহিতান্ রক্ষ রক্ষ ॥ ২২ ॥

[ইতি মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্রম্ সম্পূর্ণম্]

ইতি সংস্তুত্য তে সর্বে প্রণম্য ভূবি দণ্ডবৎ ।
বদ্ধাঞ্জলিকরা মৌলৌ তদোচুস্তে সুরা ইতি ॥ ২৩ ॥

__________________________________________________

✅ অর্থ — হে পর্বতকন্যা (হিমালয়-নন্দিনী পার্বতী)! তুমি বিশ্ববাসীকে আনন্দ দান করে থাকেন এবং সমগ্র বিশ্বকে মোহিত বা বিনোদিত করেন। আপনি মহাদেবের অনুচর নন্দী দ্বারা বন্দিত। শ্রেষ্ঠ পর্বত বিন্ধ্যাচলের শিখরে আপনি বসবাস করো ; আপনি পরমেশ্বর শম্ভুর আনন্দদায়ী অর্ধাঙ্গিনী এবং নত মস্তকে থাকা বিষ্ণু দ্বারা তুমি নিত্য স্তুত ও পূজিত হয়ে থাকেন ॥ ৯ ॥

হে মহিষাসুর ধ্বংসকারিণী, সুন্দর জটাজালধারিণী পর্বতকন্যা! আপনার জয় হোক, জয় হোক! হে ভগবতী, আপনি নীলকণ্ঠ মহাদেবের অর্ধাঙ্গিনী (বা পরিবারস্বরূপা) এবং আপনি আপনার ভক্তদের অপরিমেয় কল্যাণ ও ঐশ্বর্য প্রদান করে থাকেন ॥ ১০ ॥

হে দেবী, আপনি কেবলমাত্র নিজের একটিমাত্র 'হুঙ্কার' দ্বারাই ধূম্রলোচন নামক অসুরকে প্রতিহত করে ধূলিসাৎ (ভস্মীভূত) করেছিলেন। হে মহিষাসুর ধ্বংসকারিণী, সুন্দর জটাজালধারিণী পর্বতকন্যা পার্বতী! আপনার জয় হোক, জয় হোক! ॥ ১১ ॥

আপনি রণক্ষেত্রে রক্তবীজ অসুরের রক্তবিন্দু থেকে উৎপন্ন হওয়া সমস্ত অসুর-লতাকে (রক্তবীজের অসংখ্য রূপকে) সম্পূর্ণরূপে শোষণ ও পান করে বিনাশ করেছিলেন। শুম্ভ ও নিশুম্ভের সাথে হওয়া সেই মহাযুদ্ধে নিহত অসুরদের দ্বারা তুমি ভূত ও পিশাচদের তৃপ্ত করেছিলেন ॥ ১২ ॥

হে মহিষাসুর ধ্বংসকারিণী, সুন্দর জটাজালধারিণী পর্বতকন্যা! আপনার জয় হোক, জয় হোক! হে জগজ্জননী (বিশ্বমাতা), কদম্ববন আপনার অত্যন্ত প্রিয় বাসস্থান এবং তুমি দিব্য অট্টালিকায় বা আনন্দময় ধামে বিহার করতে পছন্দ করেন ॥ ১৩ ॥

পর্বতশ্রেষ্ঠ তুঙ্গ হিমালয়ের চূড়া বা প্রাসাদই আপনার নিজস্ব আলয় (বাসস্থান), তুমি তারই অভ্যন্তরে বিরাজ করো। তুমি মধুর চেয়েও মধুর। মধু ও কৈটভ নামক অসুরদ্বয়ের তর্জনে ভীত ও সম্ভ্রমযুক্ত হয়ে সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা ভক্তিভরে তোমার স্তব করেছিলেন ॥ ১৪ ॥

হে মহিষাসুর ধ্বংসকারিণী, সুন্দর জটাজালধারিণী পর্বতকন্যা! আপনার জয় হোক, জয় হোক! হে দেবী, দেবতারা মেঘের মতো গম্ভীর ধ্বনিতে আপনার স্তব করেন; আপনি অপরাজেয় শত্রুদের মর্দন করেন, দুর্মুখ নামের অসুরকে বধ করে জগৎকে আনন্দিত করেন এবং ভক্তদের প্রতিপালনে সর্বদা রত থাকেন ॥ ১৫ ॥

আপনি স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল — এই ত্রিভুবনের পালনকর্ত্রী, পরমেশ্বর শিবের সন্তোষবিধায়িনী এবং পাপসমূহ নাশকারিণী। আপনি দেবতাদের মহাধ্বনি বা জয়ঘোষে প্রীত হও। আপনি দানবদের রক্ত ও তেজ শোষণ করেন, অহঙ্কারী অসুরদের প্রতি ক্রোধ প্রকাশ করেন, ভক্তদের সম্মুখ থেকে রক্ষা ও প্রতিপালন করেন এবং আপনি সিংহবাহিনী ॥ ১৬ ॥

হে মহিষাসুর ধ্বংসকারিণী, সুন্দর জটাজালধারিণী পর্বতকন্যা! আপনার জয় হোক, জয় হোক! যুদ্ধক্ষেত্রে আপনার ধনুকের জ্যা অনুক্ষণ গুণটানে আকৃষ্ট থাকে এবং ধনুর্বাণ ব্যবহারের সময় আপনার সুন্দর কঙ্কণ পরিহিত হাতদুটি যেন এক অপূর্ব নৃত্যের ভঙ্গিমায় চালিত হয় ॥ ১৭ ॥

আপনার সুবর্ণ-বর্ণের উজ্জ্বল তূণীর থেকে নিক্ষিপ্ত বাণের আঘাতে শত্রুসেনারা দলে দলে নিহত হয়। দেবসেনা ও অসুরদের চতুরঙ্গ বাহিনীর (হস্তী, অশ্ব, রথ ও পদাতিক) সমাগমে এই ধরাধাম যে ভীষণ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, আপনি সেই রণক্ষেত্রের অগ্রভাগে থেকে পরম বিক্রমে যুদ্ধ করেছেন ॥ ১৮ ॥

হে মহিষাসুর ধ্বংসকারিণী, সুন্দর জটাজালধারিণী পর্বতকন্যা! আপনার জয় হোক, জয় হোক! হে দেবী, আপনি যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুসেনাদের হাতির শুঁড় কেটে টুকরো টুকরো করে দিয়েছেন এবং ময়ূরের পুচ্ছবিশিষ্ট ভূষণধারী অসুরদের মস্তক ছিন্নভিন্ন করেছেন ॥ ১৯ ॥

শত্রুসেনাদের বিশাল হাতিদের গণ্ডস্থল বিদীর্ণ করার কাজে আপনার বাহন সিংহ চরম বীরত্ব ও উগ্র পরাক্রম প্রদর্শন করেছে। আপনি আপনার নিজের বাহুদণ্ডের শক্তিতে চণ্ড ও মুণ্ডের মতো ভয়ঙ্কর অসুর ও সেনাপতিদের মস্তক ছিন্ন করে তাদের দর্প চূর্ণ করেছেন ॥ ২০ ॥

হে মহিষাসুর ধ্বংসকারিণী, সুন্দর জটাজালধারিণী পর্বতকন্যা! আপনার জয় হোক, জয় হোক! ॥ ২১ ॥

হে নগরাজ হিমালয় বংশের উদ্ধারকর্ত্রী দেবী, আপনার জয় হোক, জয় হোক! আপনার সুন্দর কেশপাশ, কুচযুগল, রাজহংসীর মতো গমন, জঘন, চন্দ্রবদন, কণ্ঠ, উদর, কটিদেশ, উরুদ্বয় এবং বাহুসমূহ অপূর্ব অলঙ্কারে সুশোভিত। আপনার রূপ সজল মেঘ, গজরাজ, নদীর সৈকত, পূর্ণচন্দ্র, পবিত্র শঙ্খ, সিংহের কোমর, কদলী বৃক্ষ, রক্তপদ্ম ও পদ্মমৃণালের মতো লাবণ্যময়। আপনার কণ্ঠে নির্মল মুক্তার মালা শোভা পাচ্ছে, ওষ্ঠাধর পক্ক বিম্বফলের মতো লাল, ভ্রূযুগল অষ্টমী তিথির চাঁদের মতো বাঁকানো এবং কানে সূর্য ও চাঁদের মতো বৃত্তাকার কুণ্ডল দুলছে। আপনার নাসিকা উদীয়মান শুকতারার মতো উজ্জ্বল এবং মুক্তামণির আভায় দীপ্তমান। হে সর্বাভরণভূষিতা ভগবতী! আপনার এই দিব্য রূপ ও মায়ায় মোহিত আমাদের মতো শরণাগতদের আপনি রক্ষা করুন, রক্ষা করুন ॥ ২২ ॥

[এই পর্যন্ত মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্র এখানে সম্পূর্ণ হল]

দেবতারা এইভাবে দেবীর স্তব করার পর ভূমিতে দণ্ডবৎ হয়ে প্রণাম করলেন। তারপর মাথার ওপর হাত জোড় করে অঞ্জলিবদ্ধ হয়ে তাঁরা সকলে বিনম্রচিত্তে দেবীর উদ্দেশে স্তুতিবাক্য বলতে লাগলেন ॥ ২৩ ॥

__________________________________________________

[প্রসঙ্গ : দেবতারা নিজেদের অহংকারের কারণ হিসেবে দেবীর মায়াই কার্য করেছে বলে উপলব্ধি করেছেন, এবং এটাও বুঝতে পেরেছেন যে, তাদের পরীক্ষা নিয়েছেন স্বয়ং পরমেশ্বর শিব। তাই দেবতারা এবিষয়ে পুনরায় দেবীর কাছে স্তব করে তাঁর মায়ার কারণে পরমেশ্বর শিবকে জানতে পারেনি এবং তার কারণে শিবের থেকে দূরত্ব তৈরি হয়েছে ধারণা করে দেবতারা কাতর কন্ঠে প্রার্থনা করছেন]

♦️ মহিষাসুরমর্দিনী স্তব — 

ত্বয়া সম্মোহিতাস্সর্বে ন জানীমো মহেশ্বরম্।

সর্বদেবসমং জ্ঞাত্বা কারণানাং চ কারণম্ ॥ ২৪ ॥

পতীনাং পতিমীশানং চেতনা নাং চ চেতনম্ ।

তস্যৈব বিরহাৎ সর্বে ব্যোমৈ তৎ পুরোগতম্ ॥ ২৫ ॥

জগৎসৃষ্ট্যন্তকার্যেষু স্ফীতাবপি মহেশ্বরি ।

কিঞ্চিৎ কর্তুমনীশাহি ত্বাং প্রপন্নাঃ সদাম্বিকে ॥ ২৬ ॥

নমস্তেঽস্তু জগন্মাতঃ প্রসন্না ভব নঃ সদা ।

ত্বয়ানৃতমিদং সর্বং ত্বয়া সম্পাল্যতে জগৎ ॥ ২৭ ॥

ত্বয্যেবান্তে লয়ং যাতি সদেবাসুরমানুষম্।

ত্বং শক্তিঃ পরমা দেবী মহেষার্ধাঙ্গভাগিনী ॥ ২৮ ॥

ত্বৎপ্রসাদেন সর্বেষাং মোহনাশো ভবেচ্ছীবে।

সর্বত্র রূঢ়া শক্তিস্ত্বং মায়া মায়ী মহেশ্বরঃ ॥ ২৯ ॥

ত্বাং প্রপন্না বয়ং সর্বে মোহিতাস্তব মায়য়া।

[ইতি মহিষাসুরমর্দিনী স্তব সম্পূর্ণম্]

ইত্যুক্ত্বা ব্রহ্মবিষ্ণ্বাদ্যাঃ প্রণম্য ভুবি দণ্ডবৎ ॥ ৩০ ॥

অথোত্থায় নভোমধ্যং দদৃশুঃ সর্ব এব তে।

নীলতোয়দমধ্যস্থবিদ্যুল্লেখেব ভাস্বরাম্ ॥ ৩১ ॥

নিষ্টপ্তকনকাভাসাং সর্বাভরণভূষিতান।

বালেন্দুবদ্ধমুকুটাং সোমধামসমাননাম্ ॥ ৩২ ॥

নীলেন্দীবরনেত্রান্তাং পবিত্রাকৃতিসুন্দরাম্।

দৃষ্ট্বা পুনঃ প্রণম্যেশীং রক্ষ রক্ষেতি চাব্রুবন্ ॥ ৩৩ ॥

দেবানাং বচনং শ্রুত্বা হ্যামোবাচ সুরাংস্তদা।

প্রগল্ভধীরমধুরং দেবাজ্ঞানবিনাশনম্ ॥ ৩৪ ॥

[শিবরহস্য মহেতিহাস/১ম অংশ/৫৩ অধ্যায়/২৪-৩৪ শ্লোক]

✅ অর্থ : হে মহেশ্বরী! আপনার মায়ায় মোহিত হয়ে আমরা কেউই পরমেশ্বর শিবকে যথার্থভাবে জানতে পারছি না। অথচ তিনি সমস্ত দেবতাদের মধ্যে সমভাবে বিরাজমান এবং সমস্ত কারণের মূল কারণ ॥ ২৪ ॥

তিনি স্বামীদেরও স্বামী (অধিপতি), সকলের নিয়ন্তা এবং সমস্ত চেতন সত্তার পরম চেতনা। তাঁরই বিরহ বা বিচ্ছেদের কারণে আজ আমাদের সামনে এই সমগ্র জগৎ যেন শ্রীহীন ও অসার হয়ে পড়েছে ॥ ২৫ ॥

হে মহেশ্বরী! জগতের সৃষ্টি, স্থিতি ও লয় কার্যে আমরা (ব্রহ্মা, বিষ্ণু ইত্যাদি) অত্যন্ত সমর্থ বলে গণ্য হলেও, আপনার কৃপা ছাড়া আমরা সামান্য কিছু করতেও অসমর্থ। হে অম্বিকা! আমরা সর্বদা আপনার শরণাগত ॥ ২৬ ॥

হে জগন্মাতা! আপনাকে নমস্কার। আপনি আমাদের প্রতি সর্বদা প্রসন্ন থাকুন। এই সমগ্র দৃশ্যমান জগৎ আপনার দ্বারাই রচিত হয়েছে এবং আপনার দ্বারাই এই জগৎ সম্যকভাবে পালিত হচ্ছে ॥ ২৭ ॥

প্রলয়কালে দেবতা, অসুর ও মানুষ সহ এই সমগ্র সৃষ্টি আপনার মধ্যেই লীন হয়ে যায়। আপনিই সেই পরম শক্তি দেবী, যিনি মহাদেবের অর্ধাঙ্গিনী (বামভাগে অবস্থানকারিণী) ॥ ২৮ ॥

হে শিবে! আপনার অনুগ্রহেই সমস্ত জীবের অজ্ঞানতা ও মোহ নাশ হয়। আপনিই সর্বত্র ব্যাপ্ত মূল শক্তি ; আপনি 'মায়া' এবং সেই মায়ার অধিপতি হলেন স্বয়ং মহেশ্বর ॥ ২৯ ॥

আপনার মায়ায় মোহিত হয়ে আমরা আপনার শরণাপন্ন হয়েছি — [এই পর্যন্ত মহিষাসুরমর্দিনী স্তব এখানে সম্পূর্ণ হল] এ কথা বলে ব্রহ্মা, বিষ্ণু আদি দেবগণ ভূমিতে দণ্ডবৎ প্রণাম করলেন ॥ ৩০ ॥

এরপর দেবতারা ভূমি থেকে উঠে আকাশের মাঝখানে এক পরম জ্যোতি দেখতে পেলেন। সেই দিব্য রূপ নীল মেঘের মাঝে চমকে ওঠা বিদ্যুতের রেখার মতো দীপ্তিময় ছিল ॥ ৩১ ॥

গলানো বা খাঁটি সোনার মতো যাঁর গায়ের উজ্জ্বল আভা, যিনি সর্বপ্রকার দিব্য অলংকারে ভূষিতা, যাঁর মুকুটে বালচন্দ্র (দ্বিতীয়ার চাঁদ) শোভা পাচ্ছে এবং যাঁর মুখমণ্ডল পূর্ণিমার চাঁদের আলোর মতো স্নিগ্ধ — ॥ ৩২ ॥

নীল পদ্মের মতো যাঁর সুন্দর চোখ, সেই পরম পবিত্র ও অপরূপ সুন্দরী পরমেশ্বরীকে দর্শন করে দেবতারা পুনরায় প্রণাম করলেন এবং বলতে লাগলেন — "হে দেবী, আমাদের রক্ষা করুন, রক্ষা করুন।" ॥ ৩৩ ॥

দেবতাদের এই আকুল প্রার্থনা শুনে দেবী মহামায়া তখন দেবতাদের অজ্ঞানতা দূর করার জন্য অত্যন্ত গম্ভীর, ধীর ও মধুর বাণী বললেন ॥ ৩৪ ॥


দেব্যুবাচ —

এষ ব্রহ্মৈষ আত্মা প্রণবপদগতো মাতৃমাত্রাদিহীনো

মায়ী মায়াত্বহং বৈ শক্তিরস্মীহ দেবাঃ ।

সর্বেশশ্শক্তিমাংশ্চ প্রকৃতিপরবশো বিশ্বমেতদ্বিচিত্রং

বিশ্বোদ্ভূতাভবন্তস্সকলভবহরং তম্ভজধ্বং মহেশম্ ॥ ৩৫ ॥

যতো বৈ হরিব্রহ্মরুদ্রেন্দ্রপূর্বং 

প্রজাতাস্থ যস্মিংস্থিতা এব নূনম্ ।

ভবদ্ভিস্ততং লোকজালং কিলেদং 

প্রপদ্যধ্বমীশং ভজধ্বং মহেশম্ ॥ ৩৬ ॥

শক্তিস্ত্বহং যস্য জগৎসমগ্রং 

করোমি লীলামিষতাং ভবদ্ভিঃ ।

ভবপ্রসাদেন ভবৈকমোচনং 

মমৈব শক্তিং শরণং প্রয়াত ॥ ৩৭ ॥

ন তস্য কার্যং করণং শিবস্য সনাতনো নিত্যশুদ্ধঃ পুরাণঃ ।

যন্মায়যা মোহিতাস্থ প্রজেশাস্তস্যৈবেতদ্বিরহাৎসর্বমেবম্ ॥ ৩৮ ॥

ব্যর্থং ভূয়াত্তার্ণকস্যোপমানাৎসর্বে দেবা রুদ্রমীশানমারাৎ ।

দ্রুতং তমিষ্টং গগনান্তরস্থং সর্বেন্দ্রিয়েণোপরতং ভজধ্বম্ ॥ ৩৯ ॥

[শিবরহস্য মহেতিহাস/১ম অংশ/৫৩ অধ্যায়/৩৫-৩৯ শ্লোক]

✅ অর্থ : হে দেবগণ! এই (মহেশ)-ই হলেন পরব্রহ্ম, ইনিই প্রত্যেকের অন্তর্যামী আত্মা। ইনি প্রণবের (ওঁকার) পরম পদে স্থিত এবং জ্ঞাতা ও জ্ঞান আদি ভেদ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। ইনিই ‘মায়ী’ (মায়ার অধীশ্বর), আর আমি হলাম তাঁর ‘মায়া’ এবং এই জগতে প্রকট তাঁর ‘শক্তি’। ইনি সর্বেশ্বর এবং অনন্ত শক্তিমান। এই বৈচিত্র্যময় বিশ্বজগৎ প্রকৃতির নিয়মে আবদ্ধ হয়ে তাঁরই অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। আপনারা সকলেই এই বিশ্বজগতে উৎপন্ন হয়েছেন ; অতএব, হে দেবগণ! জগতের সমস্ত বন্ধন ও দুঃখ হরণকারী সেই মহেশের ভজনা (আরাধনা) করুন ॥ ৩৫ ॥

যা হতে হরি (বিষ্ণু), ব্রহ্মা, রুদ্র, ইন্দ্র প্রমুখ সমস্ত দেবতা উৎপন্ন হয়েছেন এবং যাঁর মধ্যেই আপনারা নিশ্চিতভাবে অবস্থান করছেন, যাঁর দ্বারা এই সমগ্র লোকজাল (জগৎসংসার) বিস্তারিত হয়েছে—আপনারা সেই ঈশ্বরের শরণাপন্ন হোন এবং সেই মহেশের ভজনা করুন ॥ ৩৬ ॥
আমি যাঁর শক্তি, যাঁর প্রভাবে আপনাদের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে আমি এই সমগ্র জগতের লীলা রচনা করছি এবং যাঁর অনুগ্রহে একমাত্র সংসার-বন্ধন থেকে মুক্তি লাভ করা সম্ভব—আপনারা আমার সেই মহাশক্তির শরণাপন্ন হোন (অর্থাৎ পরমেশ্বর শিবের শক্তি স্বরূপিণী আমারই শরণ গ্রহণ করুন) ॥ ৩৭ ॥
সেই শিবের কোনো জাগতিক কার্য বা করণ (ইন্দ্রিয় বা সাধন) নেই; তিনি সনাতন, নিত্যশুদ্ধ ও পুরাণ (অনাদি)। যাঁর মায়ায় সৃষ্টির অধিপতিরাও (ব্রহ্মা ও অন্যান্য প্রজাপতিগণ) মোহিত হয়ে থাকেন এবং যাঁর বিরহে (বা অনুপস্থিতিতে) এই সমস্ত কিছুই অস্তিত্বহীন বা অসাড় হয়ে পড়ে ॥ ৩৮ ॥
অন্য সমস্ত তুচ্ছ বা জাগতিক বস্তুর উপমা ও আশ্রয় ব্যর্থ হোক। হে দেবগণ! আপনারা সকলে সেই রুদ্র ঈশানের আরাধনা করুন। যিনি চিদাকাশে (হৃদয়-আকাশে পুণ্ডরিকপুরে নটরাজ রূপে) স্থিত এবং সমস্ত ইন্দ্রিয়ের আসক্তি থেকে অতীত, সেই পরম ইষ্টদেবের অবিলম্বে ভজনা করুন ॥ ৩৯ ॥

__________________________________________________

✳️ বিশ্লেষণ — লক্ষ্য করুন, এখানে প্রসঙ্গটি পরমেশ্বর শিবের সহিত ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুতরাং এখানে পরমেশ্বর শিবকে একমাত্র সর্বশক্তিমান সর্বোচ্চ পরমসত্তা হিসেবে না জানতে পারার কারণে ভগবতী পার্বতী মাতার স্তুতি-স্তব করেছেন দেবতারা, সেখানে দেবীকে শম্ভুবিলাসিনী বলে চিহ্নিত করাই অত্যন্ত স্বাভাবিক। হঠাৎ করে বিষ্ণুবিলাসিনি বলবার কোনো নীতিগত যৌক্তিকতাও এখানে নেই। কারণ, এখানে পরমেশ্বর শিবের সম্পর্কে না জানার কারণে শিবপত্নী ভগবতী দুর্গার শরণাপন্ন হয়েছেন দেবতারা। এমনকি জগন্মাতা পরমেশ্বরী ভগবতী দুর্গা স্বয়ং নিজে এই প্রসঙ্গেই দেবতাদের সর্বদা একমাত্র পরমেশ্বর শিবের আরাধনা করবার নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ এখান থেকেও প্রমাণিত হয় যে, এক ও অদ্বিতীয় পরমেশ্বর পরমব্রহ্ম হলেন — শিব, আর সেই শিবের‌ই অভিন্না ইচ্ছাশক্তি হলেন ভগবতী শিবা। বর্তমানের তথাকথিত নব্য শাক্তদের দাবী হল - দেবী দুর্গার কোনো স্বামী নেই, তিনি একাকিনীই, তিনি শিবের শক্তি নন, অথচ, ভগবতী দুর্গা স্বয়ং‌ই বলেছেন যে, তিনি ঐ একমাত্র পরমব্রহ্ম শিবের‌ই শক্তি। শিবার শরণাপন্ন হলেও শিব‌ই লাভ হয়, কারণ শক্তি হলেন শিবের‌ই ইচ্ছার প্রতিফলন। ভগবতী নিজেই তার ভক্তকে শেষ পর্যন্ত পরমব্রহ্ম শিবের চরণে সঁপে দেন। এই কারণে একমাত্র পরমেশ্বর শিব‌ই সকলের অন্তিম গতি। সকল শাস্ত্রেই শিবকেই অন্তিম গতি বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। এখানেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। যারা জ্ঞানী ও বিচক্ষণ তারাই এই সত্য উপলব্ধি করতে সক্ষম, অন্যেরা ভ্রমে পড়ে বিভ্রান্ত হন মাত্র। __________________________________________________

🙏 প্রার্থনা : সর্বলোকের মহেশ্বরী শিবপ্রিয়া বিশ্বমাতা পরাম্বিকা দুর্গা ভবানীর কৃপা সকল ভক্তের উপর বর্ষিত হোক, দুর্গাভক্তি লাভ হোক হৃদয়ে, ভগবতী শিবার চরণে ঠাঁই লাভ হোক সকল ভক্তের এই প্রার্থনা করি জগৎজননী পরমেশ্বরী অম্বিকার কাছে, শিবভক্তি লাভ হোক, শিবজ্ঞান লাভ হোক, সকলে আত্মজ্ঞান লাভ করে নিজের প্রকৃত শিবস্বরূপে স্থিত হয়ে চিরতরে পরমশান্তিতে লীন হোক - মাতঃ শিবা দয়া করুন, কৃপা করুন, রক্ষা করুন, শিবত্ব প্রদান করুন।  __________________________________________________

🔷 বিশেষ দ্রষ্টব্য : মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্র — আদি শঙ্করাচার্য রচনা করেননি, অন্য কেউ রচনা করেননি। আদি শঙ্করাচার্যের স্মার্তপন্থার অনুসারী স্মার্তরা অপপ্রচার চালিয়ে এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন, তারা পার্বতী দেবীকে বিষ্ণুবিলাসিনী অর্থাৎ বিষ্ণুপত্নী বলার ধৃষ্টতা করেছেন, জোরপূর্বক শাস্ত্রের বচনকে বিকৃত করেছেন, নিজের লুক্কায়িত বৈষ্ণবপ্রীতির বশে বিষ্ণুপরমত্ব রক্ষা করতে গিয়ে এই মহাপাপ করেছেন। আজ তাদের কারণেই সর্বত্র অশাস্ত্রীয় বিকৃত মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্র প্রচারিত হয়েছে এবং তার রেকর্ডিং হয়েছে, জনসাধারণ এই বিকৃত রুচির অর্থ না বুঝে যা পেয়েছে তা-ই পাঠ করে চলেছেন, এত সংখ্যক জনতা যে অজ্ঞানের পথে চলে গিয়েছে তার জন্য দায়ী অবশ্যই স্মার্তরাই। তবে সনাতন ধর্মের একমাত্র প্রাচীন গুরু পরম্পরা ‘মহাপাশুপত অবধূত শৈব গুরুপরম্পরা’ -র মাধ্যমে শ্রীগুরু নন্দীনাথ শৈব আচার্যদেব কর্তৃক সেই অপপ্রচারের বিভ্রান্ত দূর করে প্রকৃত শাস্ত্রীয় ‘মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্র’ প্রকাশ করা হল। শৈব-গণ থাকতে কোনো অপপ্রচার সনাতন ধর্মের প্রকৃত জ্ঞানময় সিদ্ধান্ত কে বিকৃত করতে সক্ষম হবে না, এই আমাদের বিশ্বাস।  __________________________________________________

🔥 তথ্য সংগ্রহে ও লেখনীতে : শিবদ্বারাধীশাধ্যক্ষ দেশিক আচার্যপরমাধিকারী শ্রীপাদযুক্ত শ্রীগুরু নন্দীনাথ শৈব আচার্যদেব

© কপিরাইট ও প্রচারে : Shivalaya 🔥

শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তেতরাম্ 🚩
ॐ নমঃ পার্বতীপতয়ে হর হর মহাদেব 🚩

পরমেশ্বর শিবের ও সনাতন শৈবধর্মের বিষয়ে এমন গুহ্য সত্য, রহস্য ও সত্য উন্মোচনমূলক লেখা আরো পেতে অবশ্যই আমাদের Shivalaya ফেসবুক পেজ Follow করে Favourite করে রাখুন। এই তথ্য দ্বারা যদি আপনার জ্ঞান বৃদ্ধি হয়ে থাকে তবে অবশ্যই লেখাটি শেয়ার করুন, যাতে শাস্ত্রীয় তথ্য আরও মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।

#সনাতনধর্ম #শিবালয় #Shivalaya #শিব #পরমেশ্বরশিব #শৈবধর্ম #মহেশ্বর #মহাদেব #দুর্গা #শিবরহস্যমহেতিহাস #শিবশাসন #মহিষাসুরমর্দিনীস্তোত্র #মহালয়া #দুর্গাপূজা

[এই পোস্টটি শুধুমাত্র শিক্ষামূলক ও জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এখানে ব্যবহৃত চিত্রটি কেবল বিষয়টি সহজে উপস্থাপনের জন্য AI-সহায়তায় নির্মিত একটি প্রতীকী চিত্র। সকল শাস্ত্রীয় উদ্ধৃতি ও তথ্য যথাসম্ভব মূল গ্রন্থ অনুসারে উপস্থাপন করা হয়েছে।]



মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ