পরমেশ্বর শিব থেকে জন্ম হওয়া ‘বাস্তু’ দেবতার কাহিনি
🏠 পরমেশ্বর শিব থেকে জন্ম হওয়া ‘বাস্তু’ দেবতার কাহিনি
__________________________________________________
॥ ॐ নমঃ শিবায় ॥
♦️ মৎস পুরাণের ২৫২ অধ্যায়ের ২-১৯ শ্লোক থেকে বর্ণিত —
প্রাচীনকালে ভয়ঙ্কর অন্ধকাসুর বধের সময় বিকরাল রূপধারী পরমেশ্বর শঙ্করের ললাট (কপাল) থেকে পৃথিবীতে স্বেদবিন্দু (ঘামের ফোটা) পতিত হয়েছিল। তা থেকে এক ভীষণ এবং বিকরাল মুখবিশিষ্ট উৎকট প্রাণীর জন্ম হয়। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন সে সাতটি দ্বীপসহ বসুন্ধরা (পৃথিবী) এবং আকাশকে গিলে ফেলবে।
এরপর সে পৃথিবীতে পড়ে থাকা অন্ধকাসুরদের রক্ত পান করতে লাগল। এইভাবে সে ওই যুদ্ধে মাটিতে পড়ে থাকা সমস্ত রক্ত পান করে শেষ করে দিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও যখন সে তৃপ্ত হলো না, তখন পরমেশ্বর সদাশিবের সম্মুখে অত্যন্ত ঘোর তপস্যায় লীন হয়ে গেল।
ক্ষুধায় ব্যাকুল হয়ে সে যখন পুনরায় ত্রিলোক ভক্ষণ করার জন্য উদ্যত হলো, তখন তার তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে ভগবান মহাকাল শিব তাকে বললেন — ‘হে নিষ্পাপ! তোমার কল্যাণ হোক, এখন তোমার যা অভিলাষ, সেই বর চেয়ে নাও’ ॥ ২-১০ ॥
তখন সেই জীব শিবকে বলল— ‘হে দেবদেবেশ! আমি তিন লোককে গ্রাস (গ্রাস করার) করার সামর্থ্য লাভ করতে চাই।’
এতে ত্রিশূলধারী শিব বললেন — ‘এমনই হবে’। তারপর সেই প্রাণীটি নিজের বিশাল শরীর দিয়ে স্বর্গ, সমগ্র ভূমণ্ডল ও আকাশকে অবরুদ্ধ (আটকে) করে পৃথিবীতে আছড়ে পড়ল। তখন ভীত হয়ে দেবতারা এবং ব্রহ্মা, শূলধারী শিব, দানব, দৈত্য ও রাক্ষসদের দ্বারা সে স্তম্ভিত (স্থির বা অবরুদ্ধ) হয়ে গেল। সেই সময় যে দেবতা তাকে যেখানে স্তম্ভিত করেছিলেন, তিনি সেখানেই নিবাস করতে লাগলেন। এইভাবে সমস্ত দেবতাদের নিবাস করার কারণে সে 'বাস্তু' নামে বিখ্যাত হলো।
তখন সেই দমিত (চেপে রাখা) হওয়া প্রাণীটিও সকল দেবতার কাছে নিবেদন করল — ‘হে দেবগণ! আপনারা আমার প্রতি প্রসন্ন হোন — আপনারা সকলে মিলে আমাকে চেপে ধরে গতিহীন (নড়াচড়া করার অযোগ্য) করে দিয়েছেন। এভাবে চারদিক থেকে অবরুদ্ধ হয়ে, উপুড় হয়ে (নিচের দিকে মুখ করে) আমি কীভাবে এবং কতদিন এই অবস্থায় পড়ে থাকব ?’
তার এই বিনীত প্রার্থনার পর ব্রহ্মা সহ অন্য দেবতারা বললেন— ‘বাস্তু নির্মাণের সময় (গৃহনির্মাণ) বা বাস্তু সংক্রান্ত কাজে এবং বৈশ্বদেব যজ্ঞের শেষে যে বলি (উৎসর্গ) দেওয়া হবে, তা নিশ্চিতভাবেই তোমার আহার হবে। বাস্তু-শান্তির জন্য যে যজ্ঞ করা হবে, তাও তুমি আহার হিসেবেই লাভ করবে।
যজ্ঞের উৎসবে অর্পিত বলি তোমার আহার হিসেবে প্রাপ্ত হবে। আর যারা (নতুন ঘর তৈরি বা প্রবেশের সময়) বাস্তু-পূজা করবে না, তারাও তোমার আহারে পরিণত হবে (অর্থাৎ তাদের সুখ-সমৃদ্ধি সহ প্রাণও তুমি হরণ করতে পারবে)। অজ্ঞানতাবশত (বা ভুলবশত) করা যজ্ঞও তুমি আহার হিসেবে লাভ করবে।’
এই কথা শোনার পর সেই বাস্তু নামক প্রাণীটি অত্যন্ত আনন্দিত হলো। আর এই কারণেই তখন থেকে (গৃহ বা ভূমির) শান্তির জন্য বাস্তু-যজ্ঞের প্রচলন শুরু হলো ॥ ১১-১৯॥
__________________________________________________
🕉️ বিশেষ দ্রষ্টব্য : মৎস পুরাণের ২৫৩ অধ্যায় অনুযায়ী বাস্তু পুরুষের মস্তক ‘ঈশান’ কোণে স্থিত। অর্থাৎ পরমেশ্বর শিবের গণরূপী ঈশানকে তিনি নিজ মস্তকে ধারণ করে আছেন, শিবধর্মপুরাণের ৬ অধ্যায়ে বলা হয়েছে শিবভাবে ভাবিত ঈশান নামক গণ এখানে পরমেশ্বর শিবের স্থানকে নির্দিষ্ট করেছে বলে জানা যায়। এই কারণে এই কোণকে দেবতার স্থান অর্থাৎ পরমেশ্বর শিবের কোণ বলা হয়ে থাকে। প্রত্যেক গৃহস্থের গৃহে ঈশান কোণেই পূজার স্থান বানিয়ে সেখানেই শিবলিঙ্গ তথা শিবপ্রতিমা স্থাপন করে পরমেশ্বর শিবের পূজা করা বাধ্যতামূলক।
__________________________________________________
🔥 তথ্য সংগ্রহে ও লেখনীতে : শিবদ্বারাধীশাধ্যক্ষ দেশিক আচার্যপরমাধিকারী শ্রীপাদযুক্ত শ্রীগুরু নন্দীনাথ শৈব আচার্যদেব
© কপিরাইট ও প্রচারে : Shivalaya 🔥
শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তেতরাম্ 🚩
ॐ নমঃ পার্বতীপতয়ে হর হর মহাদেব 🚩
পরমেশ্বর শিবের ও সনাতন শৈবধর্মের বিষয়ে এমন গুহ্য সত্য, রহস্য ও সত্য উন্মোচনমূলক লেখা আরো পেতে অবশ্যই আমাদের Shivalaya ফেসবুক পেজ Follow করে Favourite করে রাখুন। এই তথ্য দ্বারা যদি আপনার জ্ঞান বৃদ্ধি হয়ে থাকে তবে অবশ্যই লেখাটি শেয়ার করুন, যাতে শাস্ত্রীয় তথ্য আরও মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।
#সনাতনধর্ম #শিবালয় #Shivalaya #শিব #পরমেশ্বরশিব #শৈবধর্ম #মহেশ্বর #মহাদেব #বাস্তুদেবতা #মৎসপুরাণ #শিবশাসন #বাস্তুপুরুষ #বাস্তু #বাস্তুশাস্ত্র
[এই পোস্টটি শুধুমাত্র শিক্ষামূলক ও জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এখানে ব্যবহৃত চিত্রটি কেবল বিষয়টি সহজে উপস্থাপনের জন্য AI-সহায়তায় নির্মিত একটি প্রতীকী চিত্র। সকল শাস্ত্রীয় উদ্ধৃতি ও তথ্য যথাসম্ভব মূল গ্রন্থ অনুসারে উপস্থাপন করা হয়েছে।]


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন