শিবাবতার ‘লকুলীশ’ মহাপাশুপত শৈবাচার্য
🕉️ শিবাবতার ‘লকুলীশ’ মহাপাশুপত শৈবাচার্য
🔸 গুরু পরম্পরা : মহাপাশুপত শৈব পরম্পরা
__________________________________________________
🔰 ভূমিকা — সনাতন ধর্মে ঋষিমুনিগণের অবদান অপরিসীম, কারণ তাঁদের মাধ্যমেই সনাতন ধর্মের এই সত্যরূপ পরমব্রহ্ম শিবকে লাভের পথ প্রশস্ত হয়েছে। এই মুনি ঋষির পরম্পরা সর্বপ্রথম এই মর্ত্যে প্রচলন করেছিলেন শিবাবতার শ্রীশ্বেতাশ্বতর শৈবাচার্য। তার মাধ্যমে ব্রহ্মা এই সনাতন ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করেন। সেখান থেকে ব্রহ্মার মানসপুত্র অর্থাৎ সকল ঋষি মুনিগণ সেই সনাতন জ্ঞান লাভ করেন। এখান থেকেই বেদ, পুরাণ ইতিহাস, স্মৃতি ইত্যাদি বিভিন্ন শাস্ত্রের প্রচার হয়েছে সমগ্র সংসারে।
কলিযুগে সেই সনাতন পরমজ্ঞান পুনরায় প্রকাশের জন্য পরমেশ্বর শিব দ্বাপর যুগের শেষকালে ২৮ তম যোগাবতার শৈব আচার্যরূপে ‘লকুলীশ’ নামে প্রকট হন মর্ত্যে। পরমেশ্বর শিবের এই লকুলীশ অবতার সম্পর্কে শিবমহাপুরাণ, লিঙ্গমহাপুরাণ, কূর্মপুরাণ, বায়ুপুরাণের কিছু উদ্ধৃতি উপস্থাপন করা হল। যাতে পরমেশ্বর শিবের অবতার তথা সনাতন ধর্মের একমাত্র প্রাচীন গুরুপরম্পরা মহাপাশুপত -এর আচার্য সম্পর্কে বর্তমানের সনাতন সমাজ অবগত হতে পারে।
__________________________________________________
🌺 জন্ম তিথি ও অনুষ্ঠান :
চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে কায়াবরোহণ -এর উল্কা নামক গ্রামে পরমেশ্বর শিব লকুলীশ রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন।
এই পবিত্র তিথিতে পরমেশ্বর শিবের অবতার লকুলীশ শৈবাচার্যদেবের অর্চনা করলে এবং তাঁর আবির্ভাব বিষয়ক পুণ্য কাহিনী পাঠ করলে মানুষের সঞ্চিত পাপ নাশ হয় এবং ব্রহ্মজ্ঞান লাভের ইচ্ছা জাগে, সত্য মার্গ লাভ হয়। তারই সাথে শিবভক্তি বৃদ্ধি পায়, শিবভক্ত শৈবদের প্রতি প্রীতি হয়, শিবময় আত্মজ্ঞান লাভ হয়, সনাতন ধর্মের মহানতা প্রকাশিত হয়, সর্বোপরি পরমেশ্বর শিব অত্যন্ত প্রসন্ন হন এবং শীঘ্রই মোক্ষ প্রদান করেন।
__________________________________________
🟥 ভগবান লকুলীশের পিতা-মাতা ও বংশ তথা পরিবার তথা ধার্মিক পরিচয় —
পিতা : বিশ্বরূপ,
মাতা : সুদর্শনা,
পিতামহ : সোমশর্মা,
মাতামহ : সোমশর্মাদয়িতা (নাম অজানা),
প্রপিতামহ : অগ্নিশর্মা,
প্রমাতামহী : অগ্নিশর্মাপ্রিয়া (নাম অজানা),
গোত্র : আত্রেয় (ঋষি অত্রির বংশ),
পত্নী : নেই
পুত্র : নেই,
আরাধ্য ও ইষ্টদেব : পরমেশ্বর পশুপতি সদাশিব,
আরাধ্যা ও ইষ্ঠদেবী : পরমেশ্বরী ভগবতী শিবা,
গুরুপরম্পরা : মহা-পাশুপত শৈব গুরুপরম্পরা (নিগমাগম)
শিষ্য : কুশিক, গর্গ, মিত্র, কৌরুষ্য (রুরু)।
__________________________________________________
♦️ কলিযুগে ভগবান লকুলীশ অবতার রূপে পরমেশ্বর শিবই অবতরণ করবেন, একথা শাস্ত্রে বর্ণিত রয়েছে। শিবমহাপুরাণ থেকে দেখুন 👇
অষ্টাবিংশে দ্বাপরে তু পরাশরসুতো হরিঃ ।
ভবিষ্যামি তদা ব্রহ্মণ্ লকুলী নাম নামতঃ ॥ ৪৭ ॥
কায়াবতার ইত্যেবং সিদ্ধক্ষেত্রং পরং তদা ।
ভবিষ্যতি সুবিখ্যাতং যাবদ্ ভূমির্ধরিষ্যতি ॥ ৪৮ ॥
তত্রাপি মম তে শিষ্যা ভবিষ্যন্তি তপস্বিনঃ ।
কুশিকশ্চৈব গর্গশ্চ মিত্রঃ কৌরুষ্য এব চ ॥ ৪৯ ॥
যোগিনা ব্রাহ্মণা বেদপারগা উর্ধ্বরেতসঃ ।
প্রাপ্য মাহেশ্বরং যোগং গমিষ্যন্তি শিবং পুরম্ ॥ ৫০ ॥
বৈবস্বতেঽন্তরে সম্যক্ প্রোক্তা হি পরমাত্মনা ।
যোগেশ্বরাবতারাশ্চ সর্বাবর্তেষু সুব্রতাঃ ॥ ৫১ ॥
ব্যাসাশ্চৈবাষ্টবিংশক্তা দ্বাপরে দ্বাপরে বিভো ।
যোগেশ্বরাবতারাশ্চ প্রারম্ভে চ কলৌ কলৌ ॥ ৫২ ॥
যোগেশ্বরাবতারাণাং যোগমার্গপ্রবর্দ্ধকাঃ ।
মহাশৈবাশ্চ চত্বারঃ শিষ্যাঃ প্রত্যেকমব্যয়াঃ ॥ ৫৩ ॥
এতে পাশুপতাঃ শিষ্যা ভস্মোদ্ধূলিতবিগ্রহাঃ ।
রুদ্রাক্ষমালাভরণাস্ত্রিপুণ্ড্রাঙ্কিতমস্তকাঃ ॥ ৫৪ ॥
শিষ্যা ধর্মরতাঃ সর্বে বেদবেদাঙ্গপারগাঃ ।
লিঙ্গার্চনরতা নিত্যং বাহ্যাভ্যন্তরতঃ স্থিতাঃ ॥ ৫৫ ॥
ভক্ত্যা ময়ি চ যোগেন ধ্যাননিষ্ঠা জিতেন্দ্রিয়াঃ ।
সংখ্যয়া দ্বাদশাধিক্যশতং চ গণিতা বুধৈঃ ॥ ৫৬ ॥
[শিব মহাপুরাণ/শতরুদ্র সংহিতা/৫ অধ্যায়/৪৭-৫৬ শ্লোক]
✅ অর্থ — পরমেশ্বর শিব বললেন, যখন (বৈবস্বত মন্বন্তরের) আটাশতম (২৮তম) দ্বাপর যুগে পরাশর মুনির পুত্ররূপে স্বয়ং ভগবান হরি ব্যাসদেব হিসেবে অবতীর্ণ হবেন, এবং সেই প্রভু 'কৃষ্ণদ্বৈপায়ন' নামে পরিচিত হবেন ॥ ৪৩ ॥
ঠিক সেই সময়েই পুরুষশ্রেষ্ঠ, বসুদেবের পরমপুত্র এবং শ্রীবিষ্ণুর অবতার ভগবান কৃষ্ণ (বাসুদেব) এই পৃথিবীতে আবির্ভূত হবেন ॥ ৪৪ ॥
তখন আমি (ভগবান শিব)-ও আমার যোগমায়ার দ্বারা যোগীদের পরমাত্মাস্বরূপ হয়ে, এই সংসারকে বিস্মিত বা চমৎকৃত করার জন্য একটি ব্রহ্মচারীর শরীর ধারণ করে আবির্ভূত হব ॥ ৪৫ ॥
শ্মশানে পরিত্যক্ত একটি প্রাণহীন মৃতদেহ বা কায়া দর্শন করে, ব্রাহ্মণদের কল্যাণের উদ্দেশ্যে আমি আমার যোগমায়ার প্রভাবে সেই শরীরে প্রবেশ করব ॥ ৪৬ ॥
এবং (হে ব্রহ্মা) আপনার ও ভগবান বিষ্ণুর সাথে সেই পবিত্র ও দিব্য মেরু-গুহায় অবস্থান করব ভবিষ্যতে সেখানে আমার নাম হবে লকুলী ॥ ৪৭ ॥
এইভাবে আমার এই কায়াবতার উৎকৃষ্ট সিদ্ধক্ষেত্র নামে কথিত হবে। যে পর্যন্ত এই পৃথিবী টিকে থাকবে, ততদিন তা লোকে বিখ্যাত থাকবে ॥ ৪৮ ॥
সেই অবতারেও আমার চারজন তপস্বী শিষ্য হবেন, তাঁদের নাম কুশিক, গর্গ, মিত্র ও কৌরুষ্য হবে ॥ ৪৯ ॥
তাঁরা বেদের পারঙ্গামী ঊর্ধ্বরেতা ব্রাহ্মণ যোগী হবেন এবং মাহেশ্বর যোগ প্রাপ্ত করে শিবলোকে চলে যাবেন ॥ ৫০ ॥
উত্তম ব্রত পালনকারী মুনিগণ! পরমাত্মা শিব এইভাবে বৈবস্বত মন্বন্তরের সকল চতুর্যুগীর যোগেশ্বর-অবতারগণের সম্যভাবে বর্ণনা করেছিলেন। বিভো! আঠাশজন ব্যাস ক্রমশঃ এক এক করে প্রত্যেক দ্বাপরে হবেন এবং যোগেশ্বরাবতার হবেন প্রত্যেক কলিযুগের প্রারম্ভে। প্রত্যেক যোগেশ্বরাবতারের সঙ্গে তাঁর চার অবিনাশী শিষ্যও হবেন, যাঁরা হবেন মহাশিবভক্ত ও যোগমার্গের বৃদ্ধিকারী। পশুপতির এই শিষ্যদের দেহে ভস্ম বিভূষিত থাকবে, ললাট ত্রিপুণ্ড্রে সুশোভিত ও রুদ্রাক্ষের মালা তাঁদের অলংকার হবে। এই সব শিষ্যই ধর্মপরায়ণ, বেদ-বেদাঙ্গের পারগামী বিদ্বান এবং সর্বদা বাহ্যাভ্যন্তরে (বাহ্যিক ও অভ্যন্তরে) লিঙ্গার্চনে তৎপর থাকবেন। তাঁরা শিবে ভক্তিপরায়ণ হয়ে যোগপূর্বক ধ্যানে নিষ্ঠা রাখবেন ও জিতেন্দ্রিয় হবেন। বিদ্বানেরা এঁদের সংখ্যা একশত বারো বলেছেন ॥ ৫০-৫৬ ॥
— উপরোক্ত প্রমাণ থেকে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, কলিযুগের প্রারম্ভে পরমেশ্বর শিব তার চারজন শিষ্য নিয়ে প্রকট হয়েছিলেন, সেই অবতারের নাম লকুলীশ/নকুলীশ। তার চার শিষ্যের নাম পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সকলেই বেদেরই বিদ্বান, শৈব পাশুপত পরম্পরাভুক্ত।
__________________________________________________
🔶 নবভারত পাবলিশার্স প্রকাশিত কূর্মপুরাণের পূর্বভাগের ৫২ তম অধ্যায়ের ৯ নং শ্লোকে — ‘নকুলীশ্বর এব চ’ (লকুলীশ-কেই নকুলীশ বলা হয়েছে) এবং তাঁর চার শিষ্যের নাম ২৬ শ্লোকে — ‘কুণিকশ্চৈব গর্গশ্চ মিত্রকো রুরুরেবচ ॥’ (মতান্তরে, কুশিক ও কৌরুষ্য এখানে কুণিক ও রুরু নামে) উল্লেখিত হয়েছে।
পরবর্তী শ্লোকসমূহে বলা হয়েছে - পরমেশ্বর শিবের এই লকুলীশ সহ সকল যোগাবতার ও তার শিষ্যগণেদের স্মরণ ও নমস্কার করলে ব্রহ্মবিদ্যা লাভ হয়। প্রমাণ —
শিষ্যা এতে মহাত্মানঃ সর্বাবর্ত্তেষু যোগিনাম ।
বিমলা ব্রহ্মভূয়িষ্ঠা জ্ঞানযোগপরায়ণাঃ ॥ ২৭ ॥
কুর্ব্বন্তি চাবতারাণি ব্রাহ্মণানাং হিতায় চ ।
যোগেশ্বরাণামাদেশাদ্বেদসংস্থাপনায় বৈ ॥ ২৮ ॥
যে ব্রাহ্মণাঃ সংসরন্তি নমস্যন্তি চ সর্ব্বদা ।
তর্পয়ন্ত্যর্চ্চয়ন্ত্যেতান ব্রহ্মবিদ্যামবাপ্নুয়ুঃ ॥ ২৯ ॥
যোগীদের সমুদায় আবর্তে এই সমস্ত মহাত্মা শিষ্য হবেন। এনারা সকলেই নির্মল, ব্রহ্মভূমিষ্ঠ ও জ্ঞান-যোগপরায়ণ ॥ ২৭ ॥
✅ অর্থ : এনারা ব্রাহ্মণদের হিতের জন্য এবং বেদের স্থাপনের জন্য যোগেশ্বর শিবের আদেশে এই অবতারগণ কার্য করবেন। যে সকল ব্রাহ্মণ ব্যক্তি এনাদের স্মরণ বা নমস্কার করবেন, অথবা যাঁরা এনাদের উদ্দেশ্যে তর্পিত করবেন, তাঁরা ব্রহ্মবিদ্যা লাভ করবেন।
__________________________________________________
🔶 বায়ুপুরাণের পূর্বার্দ্ধে ২৩ অধ্যায়ে ভগবান লকুলীশ অবতারের বিষয়ে বলা হয়েছে —
অষ্টাবিংশে পুনঃ প্রাপ্তে পরিবর্তে ক্রমাগতে ।
পরাশরসুতঃ শ্রীমান বিষ্ণুলোকপিতামহঃ ॥ ২১৭ ॥
যদা ভবিষ্যতি ব্যাসো নাম্না দ্বৈপায়নঃ প্রভুঃ ।
তদা ষষ্ঠেন চাংশেন কৃষ্ণঃ পুরুষসত্তমঃ ॥ ২১৮ ॥
বসুদেবাদ্যদুশ্রেষ্ঠো বাসুদেবো ভবিষ্যতি ।
তদা চাহং ভবিষ্যামি যোগাত্মা যোগমায়য়া ।
লোকবিস্ময়নার্থায় ব্রহ্মচারিশরীরকঃ ॥ ২১৯ ॥
শ্মশানে মৃতমুৎসৃষ্টং দৃষ্টা লোকমনাথকম্।
ব্রাহ্মণানাং হিতার্থায় প্রবিষ্টো যোগমায়য়া ॥ ২২০ ॥
দিব্যাং মেরুগুহাং পুণ্যাং ত্বয়া সার্দ্ধং চ বিষ্ণুনা
ভবিষ্যামি তদা ব্রহ্মন্নকুলী নাম নামতঃ ॥ ২২১ ॥
কায়ারোহণমিত্যেবং সিদ্ধক্ষেত্রং চ বৈ তদা।
ভবিষ্যতি তু বিখ্যাতং যাবদ্ভূমির্ধরিষ্যতি ॥ ২২২ ॥
তত্রাপি মম তে পুত্রা ভবিষ্যন্তি তপস্বিনঃ ।
কুশিকশ্চৈব গার্গ্যশ্চ মিত্রকো রুষ্য এব চ ॥ ২২৩ ॥
যোগযুক্তা মহাত্মানো ব্রাহ্মণা বেদাপারগাঃ ।
প্রাপ্য মাহেশ্বরং যোগং বিমলা হ্যূর্দ্ধরেতসঃ ।
রুদ্রলোকং গমিষ্যন্তি পুনরাবৃত্তিদুর্লভম্ ॥ ২২৪ ॥
[বায়ুপুরাণ/পূর্বার্দ্ধ/২৩ অধ্যায়/২১৭-২২৪ শ্লোক]
✅ অর্থ : কালচক্রের আবর্তনে যখন পুনরায় ২৮তম (দ্বাপর যুগ) উপস্থিত হবে, তখন পরাশর মুনির শ্রীমান পুত্র দ্বৈপায়ন প্রভু ব্যাসদেব রূপে অবতীর্ণ হবেন ॥ ২১৭ ॥
সেই সময়ে পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণ তাঁর ষষ্ঠ অংশের তেজ নিয়ে যদুশ্রেষ্ঠ বসুদেবের পুত্র বাসুদেব রূপে জন্মগ্রহণ করবেন ॥ ২১৮ ॥
তখন আমিও আমার যোগমায়ার প্রভাবে যোগাত্মা হয়ে, লোকসমূহকে বিস্মিত করার জন্য একটি ব্রহ্মচারীর শরীর ধারণ করব ॥ ২১৯ ॥
শ্মশানে পরিত্যক্ত ও অনাথ একটি মৃতদেহ দেখে, ব্রাহ্মণদের কল্যাণের জন্য যোগমায়ার দ্বারা সেই দেহে প্রবেশ করব ॥ ২২০ ॥
হে ব্রহ্মন্! তখন মেরুগুহার মতো পবিত্র ও দিব্য ক্ষেত্রে আপনার এবং বিষ্ণুর সাথে উপস্থিত হয়ে আমি ‘নকুলী’ নামে খ্যাত হব ॥ ২২১ ॥
আর সেই স্থানটি তখন ‘কায়ারোহণ’ নামের এক পরম সিদ্ধক্ষেত্র হিসেবে জগতে প্রসিদ্ধ হবে। পৃথিবীতে যতদিন এই ভূমি বা সৃষ্টি থাকবে, ততদিন এই ঘটনা বিখ্যাত হয়ে থাকবে ॥ ২২২ ॥
সেখানে আমার চারজন পরম তপস্বী পুত্র (শিষ্য) জন্মগ্রহণ করবেন; তাঁরা হলেন — কুশিক, গার্গ্য, মিত্রক এবং রুষ্য (কৌরুষ্য/রুরু) ॥ ২২৩ ॥
তাঁরা হবেন যোগযুক্ত, মহাত্মা, বেদপারদর্শী এবং নির্মল চরিত্রের ঊর্ধ্বরেতা ব্রাহ্মণ ; তাঁরা পরম মাহেশ্বর যোগ লাভ করে রুদ্রলোকে গমন করবেন, যেখান থেকে আর সংসারে পুনরাবৃত্তি (পুনর্জন্ম) হয় না ॥ ২২৪ ॥
__________________________________________________
🔶 লিঙ্গ মহাপুরাণের পূর্বভাগের ২৪ তম অধ্যায়ের ১২৪-১৩৪ শ্লোকে ভগবান লকুলীশ অবতারের বিষয়ে বলা হয়েছে —
অষ্টাবিংশে পুনঃ প্রাপ্তে পরিবর্তে ক্রমাগতে ॥ ১২৪ ॥
পরাশরসুতঃ শ্রীমান বিষ্ণুর্লোকপিতামহঃ ।
যদা ভবিষ্যতি ব্যাসো নাম্না দ্বৈপায়নঃ প্রভুঃ ॥ ১২৫ ॥
তদা ষষ্ঠেন চাংশেন কৃষ্ণঃ পুরুষসত্তমঃ ।
বসুদেবাদ্যদুশ্রেষ্ঠো বাসুদেবো ভবিষ্যতি ॥ ১২৬ ॥
তদাপ্যহং ভবিষ্যামি যোগাত্মা যোগমায়য়া ।
লোকবিস্ময়নার্থায় ব্রহ্মচারিশরীরকঃ ॥ ১২৭ ॥
শ্মশানে মৃতমুৎসৃষ্টং দৃষ্ট্বা কায়মনাথকম্ ।
ব্রাহ্মণানাং হিতার্থায় প্রবিষ্টো যোগমায়য়া ॥ ১২৮ ॥
দিব্যাং মেরুগুহাং পুণ্যাং ত্বয়া সার্ধং চ বিষ্ণুনা ।
ভবিষ্যামি তদা ব্রহ্মন্ লকুলী নাম নামতঃ ॥ ১২৯ ॥
কায়াবতার ইত্যেবং সিদ্ধক্ষেত্রং চ বৈ তদা ।
ভবিষ্যতি সুবিখ্যাতং যাবদ্ভূমির্ধরিষ্যতি ॥ ১৩০ ॥
তত্রাপি মম তে পুত্রা ভবিষ্যন্তি তপস্বিনঃ ।
কুশিকশ্চৈব গর্গশ্চ মিত্রঃ কৌরুষ্য এব চ ॥ ১৩১ ॥
যোগাত্মানো ব্রাহ্মণা বেদাপারগাঃ ।
প্রাপ্য মাহেশ্বরং যোগং বিমলা হ্যূর্দ্ধরেতসঃ ॥ ১৩২ ॥
রুদ্রলোকং গমিষ্যন্তি পুনরাবৃত্তিদুর্লভম্ ।
এতে পাশুপতাঃ সিদ্ধা ভস্মোদ্ধূলিতবিগ্রহাঃ ॥ ১৩৩ ॥
লিঙ্গার্চনরতা নিত্যং বাহ্যাভ্যন্তরতঃ স্থিতাঃ ।
ভক্ত্যা ময়ি চ যোগেন ধ্যৈাননিষ্ঠা জিতেন্দ্রিয়াঃ ॥ ১৩৪ ॥
সংসারবন্ধচ্ছেদার্থং জ্ঞানমার্গপ্রকাশকম্ ।
স্বরূপজ্ঞানসিদ্ধ্যর্থং যোগং পাশুপতং মহৎ ॥ ১৩৫ ॥
যোগমার্গা অনেকাকশ্চ জ্ঞানমার্গাস্ত্বনেকশঃ ।
ন নিবৃত্তিমুপায়ান্তি বিনা পঞ্চাক্ষরীং ক্বচিৎ ॥ ১৩৬ ॥
যদাচরেত্তপশ্চায়ং সর্বদ্বন্দ্ববিবর্জিতম্ ।
তদা স মুক্তো মন্তব্যঃ পক্বং ফলমিব স্থিতঃ ॥ ১৩৭ ॥
একাহং যঃ পুমান্ সম্যক্ চরেৎপাশুপতব্রতম্ ।
ন সাংখ্যে পঞ্চরাত্রে বা ন প্রাপ্নোতি গতিং কদা ॥ ১৩৮ ॥
[লিঙ্গ মহাপুরাণ/পূর্বভাগ/২৪ অধ্যায়/১২৪-১৩৮ শ্লোক]
✅ অর্থ : [পরমেশ্বর শিব বললেন] পুনরায় ক্রমানুসারে আঠাশতম দ্বাপর যুগ আসার পর, যখন শ্রীমান লোকপিতামহ বিষ্ণু তাঁর ষষ্ঠ অংশে পরাশর-পুত্র 'কৃষ্ণদ্বৈপায়ন' নামক ব্যাসরূপে অবতীর্ণ হবেন, তখন যদুশ্রেষ্ঠ পুরুষোত্তম বাসুদেব কৃষ্ণ বসুদেবের ঘরে জন্মগ্রহণ করবেন। সেই সময় আমি, যোগাত্মা, লোকসমূহকে বিস্মিত করার উদ্দেশ্যে যোগমায়ার দ্বারা এক ব্রহ্মচারীর শরীর ধারণ করে প্রকট হব এবং যোগমায়ার প্রভাবেই ব্রাহ্মণদের কল্যাণের জন্য শ্মশানে মৃত পড়ে থাকা এক অনাথ ব্রাহ্মণের শরীর দেখে তাতে প্রবেশ করব। দিব্য ও পুণ্য প্রদানকারী মেরুগুহায় আপনাদের ও বিষ্ণুর সাথে আমি বাস করব। হে ব্রহ্মন! সেই সময় আমি 'লকুলী' নামে বিখ্যাত হব এবং যতদিন পৃথিবীর অস্তিত্ব থাকবে, ততদিন আমার এই অবতার-স্থল একটি সিদ্ধক্ষেত্র হিসেবে 'কায়াবতার' নামে সুপরিচিত থাকবে ॥ ১২৪-১৩০ ॥
__________________________________________________
🔶 শ্রী নন্দীনাথ শৈবাচার্য কৃত ভগবান লকুলীশের দিব্যদেহ রূপের বর্ণনা —
ভগবান লকুলীশ হলেন পরমেশ্বর শিবের বালক রূপ যোগী অবতার। মাথায় পিঙ্গল বর্ণের মুক্ত কেশরাশি, মস্তকের বাম দিকে একটি ছোট অর্ধ চন্দ্র সুশোভিত। সর্বাঙ্গে ভস্ম, কপালে শ্বেত ভস্ম দ্বারা ত্রিপুণ্ড্র তিলক অঙ্কিত, তার ত্রিনয়ন পদ্মাকৃতির মতো সুন্দর উজ্জ্বল স্নিগ্ধ হবে, চক্ষুর মণিও পিঙ্গল বর্ণের । দুই কানেতেই সোনালী বর্ণের গোল উজ্জ্বল কুণ্ডল পরিহিত। তার প্রসন্ন মুখমণ্ডল ।গলায় তিনটি রুদ্রাক্ষ মালা, দুই বাহুতে ও কব্জিতে রুদ্রাক্ষ পরিহিত। বুকের দুই পাশে শ্বেত ত্রিপুণ্ড্র, নাভীর উপরে ত্রিপুণ্ড্র থাকবে, এনার শরীরে সাদা বর্ণের যজ্ঞোপবীত রয়েছে, দুই বাহুতে, কনুই ও হাতের উপর ত্রিপুণ্ড্র রয়েছে। দেহের বর্ণ গৌরবর্ণ, বিশুদ্ধ সোনার মতো উজ্জ্বল আভায় উদ্ভাসিত। কোমর পর্যন্ত হরিণের ছাল পরিহিত থাকবে, মেখলা নামক সুন্দর কোমড়বন্ধ পরিহিত থাকবে। তার নীচে তলপেটের স্থানে হরিণের চামড়ার সাদা অংশ লম্বালম্বি ভাবে রয়েছে। ডান হাতে একটি বীজপূরক আতা ফল থাকবে, বাম হাতে অসিদণ্ড নামক লকুট লাঠি রয়েছে। ইনি পদ্মফুলের উপর বিছানো বাঘছালের উপর পদ্মাসনে বসে আছেন। তার কাছে চার কাছে ‘কুশিক, গর্গ, মিত্র, কৌরুষ্য নামক চার জন শিবভক্ত শিষ্য মহাপাশুপত ব্রত ধারণ করে আচার্যের সেবায় মগ্ন রয়েছেন। কায়ারোহণ তীর্থে অবতরণকারী, যার পিতা বিশ্বরূপ মাতা সুদর্শনা, যিনি অত্রি ঋষির বংশে চৈত্র শুক্র চতুর্দশী তিথিতে জন্মেছেন, এমন শিবাবতার ভগবান লকুলীশ যোগাচার্য কে আমি ধ্যান করি।
__________________________________________________
🔶 ভগবান লকুলীশ অবতারের সংক্ষিপ্ত জীবনী মাহাত্ম্য বর্ণনা —
॥ শ্রীলকুলীশ মহাদেবের অবতারকথা ও কায়াবরোহণ তীর্থের মাহাত্ম্য ॥
কৈলাস পর্বতে একদিন দেবী পার্বতী একাকী উপবিষ্ট মহাদেবকে প্রণাম করে বললেন, “হে দেবাদিদেব! আপনার লকুলীশ অবতারের কাহিনি এবং কায়াবরোহণ তীর্থের মাহাত্ম্য আমাকে বিস্তারিতভাবে বলুন। পট্টবন্ধের মহিমাও শ্রবণ করতে চাই।”
পরমেশ্বর মহাদেব বললেন, “হে দেবী! প্রাচীনকালে অত্রি ঋষির বংশে বিশ্বরূপ নামে এক বিদ্বান ব্রাহ্মণ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পত্নী ছিলেন সুদর্শনা, যিনি ধর্মপরায়ণা ও পতিব্রতা ছিলেন। তাঁদের গৃহেই উল্কাগ্রামে আমার এক অলৌকিক বালকরূপের আবির্ভাব ঘটে। কারবণমাহাত্ম্যের বর্ণনা অনুসারে, চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে মধ্যরাত্রির পরে সেই বালক জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর চোখ ও কেশ ছিল পিঙ্গলবর্ণের, আর দেহ ছিল উত্তপ্ত সোনার মতো দীপ্তিমান।
বালকের পিতা বিশ্বরূপ সূর্যগ্রহণ উপলক্ষে কুরুক্ষেত্রে তীর্থযাত্রায় যাওয়ার আগে গৃহের অগ্নিহোত্রের দায়িত্ব রেখে গেলেন। আশ্চর্যের বিষয়, সুদর্শনা যখনই যজ্ঞাগ্নির কাছে ফিরে আসতেন, দেখতেন অগ্নিহোত্রের সমস্ত কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরে বিশ্বরূপ ফিরে এলে দুজনেই নিজের চোখে দেখলেন, বালকটি স্বয়ং অগ্নিহোত্রের কার্য সম্পাদন করছে। তাঁরা বিস্মিত হলেও বুঝতে পারলেন, এই শিশুর মধ্যে কোনো অসাধারণ ঐশ্বরিক শক্তি রয়েছে।
একদিন প্রভাতে পিতা-মাতা বালককে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে পুত্র, তুমি কে ? এই অল্প বয়সে এমন অলৌকিক কাজ কীভাবে করছ ?’ প্রশ্ন শোনামাত্র বালক মূর্ছিত হয়ে ভূমিতে পড়ে গেল এবং তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে মনে হলো। শোকে বিহ্বল পিতা-মাতা তাঁর দেহ দেবখাত নামক জলাশয়ের কাছে শ্মশানে বিসর্জন দিলেন। কিন্তু এ ছিল তাঁর দিব্য লীলারই অংশ। একটি কচ্ছপ বালকটিকে জলেশ্বর মহালিঙ্গের কাছে নিয়ে গেল। জলাশয়ের তীরে উপস্থিত ঋষিরা তাঁকে দেখে বিস্মিত হয়ে তাঁর পরিচয় জানতে চাইলেন।
“তখন বালক নিজের প্রকৃত স্বরূপ প্রকাশ করে বললেন, ‘আমি সাধারণ কোনো শিশু নই। আমি পঞ্চভূতের দেহে স্থিত প্রাণরূপী সর্বব্যাপী, সনাতন মহেশ্বর। ব্রাহ্মণদের কল্যাণ, ঋষিদের অনুগ্রহ এবং ধর্মের প্রতিষ্ঠার জন্যই উল্কাগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছি।’ ঋষিরা তাঁর স্তব করতে লাগলেন। তাঁদের ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে তিনি দিব্য স্বরূপ প্রকাশ করলেন। তাঁর দেহে যজ্ঞোপবীত, মেখলা ও ভস্ম শোভা পেল ; তিনি ত্রিনয়ন মহাদেবরূপে প্রকাশিত হলেন।
এরপর তিনি উল্কাগ্রামে শিব উপাসনার কারণে অতি পুণ্যময় হবার বিষয়ে মাহাত্ম্য বর্ণনা করে পশ্চিমদিকে কায়াবরোহণের পথে যাত্রা করলেন। তাঁর পিতা-মাতা ও আত্মীয়রা তার জীবন্ত হবার সংবাদ শ্রবণ করে তাঁকে অনুসরণ করতে লাগলেন। কিন্তু বালকের কাছে পৌঁছলে, বালক তিনি তাঁদের জানালেন, তাঁকে স্পর্শ না করতে, তিনি জগতের কল্যাণসাধনের জন্য এসেছেন ; তাঁর কোনো পার্থিব বন্ধন নেই।
তিনি ঊর্বা বা সরস্বতী নদীর তীরে গিয়ে উপস্থিত হলেন। সেখানে দণ্ডকাষ্ঠের সাহায্যে পবিত্র জাহ্নবীকে আহ্বান করে দীর্ঘিকা তীর্থের সৃষ্টি করেন বলে কারবণমাহাত্ম্যে বর্ণিত হয়েছে। সেই তীর্থের জল পবিত্র ও সর্বতীর্থময় বলে প্রসিদ্ধ হয়।
এরপর তিনি এক বৃদ্ধদেবের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করলেন। বৃদ্ধদেব নিজের অসুবিধার কথা জানিয়ে তাঁকে ব্রহ্মেশ্বরের নিকট ব্রহ্মতীর্থে যেতে বললেন। তখন লকুলীশ ব্রহ্মেশ্বর লিঙ্গের কাছে গিয়ে তার চার শিষ্য কুশিক, গর্গ মিত্র ও কৌরুষ্য কে শিবময় পাশুপতজ্ঞান প্রদান করে সেই ব্রহ্মেশ্বরলিঙ্গে লয়প্রাপ্ত হলেন। তাঁর এই দেহধারী অবতারের স্মৃতি থেকেই স্থানটি ‘কায়াবরোহণ’ নামে প্রসিদ্ধ হয়।
শিবমহাপুরাণেও আমি ব্রহ্মাকে বলেছি, দ্বাপরযুগে কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস ও শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবকালে আমি যোগমায়ার দ্বারা ব্রহ্মচারীর দেহ ধারণ করব এবং শ্মশানে পরিত্যক্ত দেহে প্রবেশ করে লকুলীশ নামে পরিচিত হব। এই দুই বর্ণনাতেই আমার যোগমায়াময় অবতার ও কায়াবতার ক্ষেত্রের মাহাত্ম্য প্রকাশিত হয়েছে।
হে দেবী! কায়াবরোহণ ভৃগুক্ষেত্রের এক মহান সিদ্ধক্ষেত্র। সত্যযুগে এর নাম ছিল ইচ্ছাপুরী, ত্রেতায় ময়াপুরী, দ্বাপরে মেঘবতী এবং কলিযুগে কায়াবরোহণ। এখানে শিবলিঙ্গের আরাধনা, তীর্থস্নান, পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তিলোদক প্রদান ও ভক্তিসহকারে পূজা করার মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। এই তীর্থে দেবতা ও ঋষিরা তপস্যা করেছেন এবং বহু সাধক সিদ্ধিলাভের উদ্দেশ্যে এখানে এসেছেন।
আমার লকুলীশ অবতারে আমার যে চারজন প্রধান শিষ্য জন্মগ্রহণ করবেন, সেই কুশিক, গর্গ, মিত্র ও কৌরুষ্য - বেদজ্ঞ, ঊর্ধ্বরেতা, তপস্বী ও মাহেশ্বর যোগে নিষ্ঠাবান হবেন। তাঁরা ভস্ম ধারণ করবেন, রুদ্রাক্ষমালা পরবেন, ললাটে ত্রিপুণ্ড্র ধারণ করবেন এবং বাহ্যিক ও অন্তরঙ্গভাবে শিবলিঙ্গের পূজা করবেন। যোগ, ধ্যান ও ইন্দ্রিয়সংযমের দ্বারা তাঁরা শিবলোকে গমন করবেন। এভাবেই শৈব পাশুপত সাধনপথ যুগে যুগে প্রসারিত হবে।
“আর পট্টবন্ধের মাহাত্ম্যও শ্রবণ করো। কারবণমাহাত্ম্য অনুসারে, ভক্তি ও বিধি মেনে লকুলীশের মস্তকে পট্টবস্ত্র নিবেদন করা এক মহাপুণ্যকর্ম। দেবতারাও স্বর্ণময় পট্ট নিবেদন করে তাঁর পূজা করেছিলেন। এই আচার ভক্তের শিবের প্রতি শ্রদ্ধা, আত্মনিবেদন ও উপাসনার প্রতীক।
এই বলে মহাদেব দেবী পার্বতীকে বোঝালেন যে, লকুলীশের অবতার এক অলৌকিক জন্মের যেখানে — ধর্মপ্রতিষ্ঠা, যোগসাধনা, পাশুপত পরম্পরা এবং কায়াবরোহণ তীর্থের মাহাত্ম্যের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। শিবের সেই দিব্য অবতার ও তাঁর পবিত্র ক্ষেত্র যুগে যুগে ভক্তদের কাছে শ্রদ্ধা ও সাধনার আশ্রয় হয়ে থাকবে।
[তথ্যসূত্র : লকুলীশ মাহাত্ম্য হতে সংগৃহীত করে সংক্ষিপ্ত ভাবে উপস্থাপিত। কায়ারোহণ বা কায়াবরোহণ তীর্থ বর্তমানে ভারতের গুজরাট রাজ্যে অবস্থিত। সেখানে আজও ব্রহ্মেশ্বর শিবলিঙ্গে লকুলীশ শৈবগুরুদেবের মূর্তিমান প্রতিকৃতি স্পষ্টভাবে অক্ষত রয়েছে]
__________________________________________________
🔶 সারকথা : সনাতন ধর্মের একমাত্র অদ্বিতীয় প্রাচীন গুরুপরম্পরা মহাপাশুপত শৈব পরম্পরায় স্বয়ং পরমেশ্বর শিব লকুলীশ শৈব যোগাচার্য রূপে অবতীর্ণ হয়ে মোক্ষের মার্গ প্রশস্ত করেছিলেন। ভগবান লকুলীশ শৈবগুরুদেবের শ্রীচরণে শতসহস্রলক্ষকোটীসংখ্যক প্রণাম জানাই।
[বিশেষ দ্রষ্টব্য : শিবালয় প্রতিষ্ঠানের গুরুপরম্পরা অবধূত শৈবপরম্পরার মহাযোগী শ্রীমৎ স্বামী দয়ানন্দ অবধূত শৈবাচার্য গুরুদেব হিমালয়ে বিচরণ কালে অদৃশ্য পাশুপতযোগী শিবগুরুস্বামীজীর কাছে মহাপাশুপত বিরজাদীক্ষা প্রাপ্ত করে কৈলাসে গিয়ে দীর্ঘকাল যাবৎ শিবযোগ অবলম্বন করে তপস্যা করার পর - মহাপাশুপতাচার্য শ্রীলকুলীশ শৈবগুরুদেবের শিষ্য শ্রীকৌরুষ্য বা রুরু শৈবাচার্যের দর্শন লাভ করেন, বাংলাদেশের সুগন্ধা সতীপীঠে এই বিষয়ে উল্লেখ আছে, যা অবধূত পরম্পরাকে শৈব মহাপাশুপত গুরুপরম্পরারই ধারা হিসেবে প্রামাণিকতা জনসমক্ষে জ্বলজ্যান্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ দিচ্ছে আজও]
__________________________________________
🚩 তথ্য সংগ্রহ ও লেখনীতে : শিবালয় প্রতিষ্ঠাতা শিবদ্বারাধীশাধ্যক্ষ দেশিক আচার্যপরমাধিকারী শ্রীপাদযুক্ত শ্রীগুরু নন্দীনাথ শৈব আচার্যদেব 🚩
©️ কপিরাইট ও প্রচারে : Shivalaya 🔥
পরমেশ্বর শিবের জয়🙏
শিবাবচার যোগাচার্য লকুলীশ শৈবাচার্যের জয় 🙏
মহাপাশুপত শৈব সনাতন গুরুপরম্পরার জয় 🙏
জয় কায়াবরোহণ ক্ষেত্রের জয়🙏
সকল শৈবগুরুর জয় 🙏
শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তেতরাম্ 🚩
ॐ নমঃ পার্বতীপতয়ে হর হর মহাদেব 🚩
শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তেতরাম্ 🚩
ॐ নমঃ পার্বতীপতয়ে হর হর মহাদেব 🚩
পরমেশ্বর শিবের ও সনাতন শৈবধর্মের বিষয়ে এমন গুহ্য সত্য রহস্য ও সত্য উন্মোচনমূলক লেখা আরো পেতে অবশ্যই আমাদের Shivalaya ফেসবুক পেজ Follow করে Favourite করে রাখুন। এই তথ্য দ্বারা যদি আপনার জ্ঞান বৃদ্ধি হয়ে থাকে তবে অবশ্যই এই লেখাটি শেয়ার করুন, যাতে সত্য প্রকাশ্যে আসে।
#সনাতনধর্ম #শিবালয় #shiva #শিব #পরমেশ্বরশিব #ভগবান #অগস্ত্য #শৈবাচার্য #মহাপাশুপত #শৈবপরম্পরা #লোপামুদ্রা #শিবমহাপুরাণ #Shivalaya #শৈবধর্ম #শিবশাসন #স্কন্দমহাপুরাণ #কাশীখণ্ড
[এই পোস্টটি শুধুমাত্র শিক্ষামূলক ও জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত।এখানে ব্যবহৃত চিত্রটি কেবল বিষয়টি সহজে উপস্থাপনের জন্য Ai-সহায়তায় নির্মিত একটি প্রতীকী চিত্র, এই ছবিটির মধ্যে কিছু লেখা আলাদা ভাবে লেখা হয়েছে। সকল শাস্ত্রীয় উদ্ধৃতি ও তথ্য যথাসম্ভব মূল গ্রন্থ অনুসারে ছবি উপস্থাপিত হয়েছে।]


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন