ঋগ্বেদ — পূর্ণ কাঠামোর পরিচয়
🕉️ ঋগ্বেদ — পূর্ণ কাঠামোর পরিচয়
নিম্নে প্রথমে ঋগ্বেদের পূর্ণ কাঠামো তুলে ধরা হলো।
১. ঋগ্বেদের ২১টি শাখা (Śākhā)
চরণব্যূহ-এ ঋগ্বেদের ২১টি শাখার উল্লেখ পাওয়া যায়। বিভিন্ন পাণ্ডুলিপিতে বানানের সামান্য পার্থক্য আছে। প্রচলিত তালিকা হলো —
১. শাকল (Śākala) — বর্তমানে বিদ্যমান
২. বাষ্কল (Bāṣkala) — আংশিকভাবে সংরক্ষিত
৩. আশ্বলায়ন (Āśvalāyana) — সামান্য কিছু উপলব্ধ
৪. শাঙ্খায়ন (Śāṅkhāyana)
৫. কৌষীতকী (Kauṣītaki)
৬. মাণ্ডূকেয় (Māṇḍūkeya)
৭. শৈশিরী (Śaiśirī)
৮. পাইঙ্গী (Paiṅgī)
৯. ভাহ্বৃচ (Bāhvṛca)
১০. উদ্দালক (Uddālaka)
১১. শতবলাক্ষ (Śatabalākṣa)
১২. গজ (Gaja)
১৩. অগ্নিমাঠর (Agnimāṭhara)
১৪. পারাশর (Pārāśara)
১৫. জাতূকর্ণ (Jātūkarṇa)
১৬. ভারদ্বাজ (Bhāradvāja)
১৭. ঐতরেয় (Aitareya)
১৮. বাসিষ্ঠ (Vāsiṣṭha)
১৯. সুলভ (Sulabha)
২০. শৌনক (Śaunaka)
২১. সৌভর (Saubhara)
[দ্রষ্টব্য: ২১টি শাখার নাম সম্পর্কে বিভিন্ন বৈদিক পাণ্ডুলিপিতে পাঠভেদ রয়েছে। বর্তমানে এদের অধিকাংশই বিলুপ্ত ; সবগুলোর পৃথক সাহিত্য আর বিদ্যমান নেই।]
২. বর্তমানে সংরক্ষিত ঋগ্বেদীয় সংহিতা
ঋগ্বেদের প্রায় সম্পূর্ণ সংহিতা আজ কার্যত একটিই পাওয়া যায়, তা হল শাকল শাখা, বর্তমানে এটিকেই ‘ঋগ্বেদ সংহিতা’ বলা হয়।
এছাড়া — বাষ্কল সংহিতার কিছু অংশ ও আশ্বলায়ণ শাখার স্বল্প সূক্ত, শাকল খিলসূক্ত (খিলা/খিলাংশ/খিলানি) ও বালখিল্য সূক্ত — সংরক্ষিত রয়েছে।
৩. ঋগ্বেদের ব্রাহ্মণ : ঋগ্বেদের দুটি প্রধান ব্রাহ্মণ বর্তমানে বিদ্যমান। যথা — ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ও কৌষীতকী (শাঙ্খায়ন) ব্রাহ্মণ। অন্যান্য ব্রাহ্মণ বিলুপ্ত।
৪. ঋগ্বেদের আরণ্যক : ঐতরেয় আরণ্যক ও কৌষীতকী আরণ্যক।
৫. ঋগ্বেদীয় উপনিষদ : মুক্তিকা উপনিষদ অনুযায়ী ঋগ্বেদের অন্তর্গত ৮ টি উপনিষদের নাম —
১. ঐতরেয়
২. কৌষীতকী
৩. নাদবিন্দু
৪. আত্মপ্রবোধ
৫. অক্ষমালিকা
৬. ত্রিপুরা
৭. সৌভাগ্যলক্ষ্মী
৮. বহ্বৃচ
৬. ঋগ্বেদের সূত্র সাহিত্য :
√ শ্রৌতসূত্র — আশ্বলায়ন শ্রৌতসূত্র ও শাঙ্খায়ন শ্রৌতসূত্র
√ গৃহ্যসূত্র — আশ্বলায়ন গৃহ্যসূত্র ও শাঙ্খায়ন গৃহ্যসূত্র
৭. ধর্মসূত্র : ঋগ্বেদের নিজস্ব ধর্মসূত্র বর্তমানে সংরক্ষিত নেই।
৮. প্রাতিশাখ্য : ঋক্প্রাতিশাখ্য (শৌনক-প্রণীত)
৯. অনুক্রমণী : ঋগ্বেদের গুরুত্বপূর্ণ অনুক্রমণী গ্রন্থ —
• সর্বানুক্রমণী (কাত্যায়ন)
• ঋষ্যানুক্রমণী
• ছন্দোনুক্রমণী
• দেবতানুক্রমণী
• অনুবাকানুক্রমণী
• সূক্তানুক্রমণী
১০. শিক্ষা (Śikṣā) : ঋগ্বেদের সঙ্গে সম্পর্কিত শিক্ষাগ্রন্থগুলির মধ্যে — শৌনকীয় শিক্ষা ও আশ্বলায়ন শিক্ষা (উদ্ধৃত)।
১১. পদপাঠ : শাকল পদপাঠ।
১২. ক্রমপাঠ : শাকল ক্রমপাঠ।
১৩. জটাপাঠ : শাকল জটাপাঠ।
১৪. ঘনপাঠ : শাকল ঘনপাঠ।
১৫. ঋগ্বেদের বর্তমান জীবিত শাখা : আজ কার্যত সম্পূর্ণভাবে টিকে আছে — শাকল শাখা। আংশিকভাবে টিকে আছে — বাষ্কল ও আশ্বলায়ণ শাখা।
বাকি ১৮টি শাখা বিলুপ্ত।
__________________________________________________
♦️ ঋগ্বেদের বচন দ্বারা পরমেশ্বরের মহিমার স্বীকৃতি উল্লেখ করে সমাপ্ত করছি।
ঋগুবাচ।
যদন্তঃস্থানি ভূতানি যতঃ সর্বং প্রবর্ত্ততে ।
যদাহুস্তৎপরং তত্ত্বং স রুদ্রস্ত্বেক এব হি ॥ ২৪ ॥
[স্কন্দমহাপুরাণ/কাশীখণ্ড/পূর্বার্দ্ধ/৩১ অধ্যায়/২৪ শ্লোক]
✅ অর্থ : ঋগ্বেদ বললেন, যার অন্তরে সমস্ত ভূতগণ কোন অবস্থিত আছেন, যার থেকে সমস্ত কিছু উদ্ভূত হয়ে চলেছে ও যাকে পন্ডিতগণ ‘তৎ’ শব্দের বাচ্য বলেন, সেই একমাত্র রুদ্র-শিবই পরম তত্ত্ব।
__________________________________________________
🚩 তথ্য সংগ্রহ ও লেখনীতে : শিবালয় প্রতিষ্ঠাতা শিবদ্বারাধীশাধ্যক্ষ দেশিক আচার্যপরমাধিকারী শ্রীপাদযুক্ত শ্রীগুরু নন্দীনাথ শৈব আচার্যদেব 🚩
©️ কপিরাইট ও প্রচারে : Shivalaya 🔥
পরমেশ্বর শিবের জয়🙏
মহাপাশুপত শৈব সনাতন গুরুপরম্পরার জয় 🙏
সকল শৈবগুরুর জয় 🙏
শৈব সনাতন ধর্ম সদা বিজয়তেতরাম্ 🚩
ॐ নমঃ পার্বতীপতয়ে হর হর মহাদেব 🚩
পরমেশ্বর শিবের ও সনাতন শৈবধর্মের বিষয়ে এমন গুহ্য সত্য রহস্য ও সত্য উন্মোচনমূলক লেখা আরো পেতে অবশ্যই আমাদের Shivalaya ফেসবুক পেজ Follow করে Favourite করে রাখুন। এই তথ্য দ্বারা যদি আপনার জ্ঞান বৃদ্ধি হয়ে থাকে তবে অবশ্যই এই লেখাটি শেয়ার করুন, যাতে সত্য প্রকাশ্যে আসে।
#সনাতনধর্ম #শিবালয় #shiva #শিব #পরমেশ্বরশিব #ভগবান #শৈবাচার্য #মহাপাশুপত #শৈবপরম্পরা #Shivalaya #শৈবধর্ম #শিবশাসন #ঋগ্বেদ #বেদ #শ্রুতি #ঋচ #শৈবধর্ম
[এই পোস্টটি শুধুমাত্র শিক্ষামূলক ও জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত।এখানে ব্যবহৃত চিত্রটি কেবল বিষয়টি সহজে উপস্থাপনের জন্য Ai-সহায়তায় নির্মিত একটি প্রতীকী চিত্র, এই ছবিটির মধ্যে কিছু লেখা আলাদা ভাবে লেখা হয়েছে। সকল শাস্ত্রীয় উদ্ধৃতি ও তথ্য যথাসম্ভব মূল গ্রন্থ অনুসারে ছবি উপস্থাপিত হয়েছে।]


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন