চৈতন্যচরিতামৃত দ্বারা আগমশাস্ত্র কে নিন্দা করা কতটা গ্রহণযোগ্য ?

  


বর্তমানে শিববিদ্বেষীগণ অতিরিক্ত পরিমাণে তাদের সম্প্রদায়ের রচিত বেশ কিছু পুস্তক কে শিবনিন্দার নিমিত্তে প্রচার করছে । যেমন - চৈতন্যচরিতামৃত, চৈতন্যভাগবত প্রভৃতি পুস্তকের লেখা উল্লেখ করে তারা পরমেশ্বর শিবের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কটুক্তি করে বলে বোঝাতে চান যে, শিবের বাক্যে তৈরি হ‌ওয়া শাস্ত্র মায়াশাস্ত্র, তাই শিবের অনুসারীরা মায়াচ্ছন্ন । এমন ধরণের কটুক্তিপূর্ণ কথা বার্তা দ্বারা শিববিদ্বেষীগণ সর্বদা শৈবদের অপমানিত করে নিজেদের শ্রেষ্ঠতম বলে আত্মসুখ অনুভব করেন।

[প্রথমেই বলে রাখি, পাঠকবৃন্দের মধ্যে বহু ব্যক্তি আছেন যারা এইসব শিবনিন্দুকদের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে শৈবদের প্রতিবাদ করতে দেখলেই , একতার জ্ঞান দিয়ে শৈবদের বলতে আসেন যে, আপনারা শৈব আর বৈষ্ণব নিয়ে ভেদাভেদ করতে করতে সনাতন ধর্মটাকে অবলুপ্তির পথে নিয়ে যাচ্ছেন। আপনারা হরি হরে ভেদ করছেন।

আমি সেইসব দিনকানা অজ্ঞতাপূর্ণ মস্তিষ্কের মূঢ়বুদ্ধিসম্পন্ন ভ্রান্তজ্ঞানপ্রদাতা ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে বলছি,  

প্রথমত, আপনারা বৈষ্ণব ও শৈব উভয় সনাতন ধারার মধ্যে থাকা দর্শন, সংস্কৃতি, তত্ত্ব প্রভৃতির পার্থক্য সম্পর্কে জেনে আসুন। এই দুটি ধারা পরস্পর পরস্পরের থেকে ভিন্ন। তাই সবাই সনাতন ধর্মাবলম্বী‌ হলেও তাদের আরাধ্য অনুসারে তারা কেউ বৈষ্ণব মত অনুসরণ করেন, আবার কেউ শৈবধর্ম অনুসরণ করেন। কিন্তু সমস্যা তখন উৎপন্ন হয়, যখন কোনো‌ বৈষ্ণব ব্যক্তি নিজেদের বৈষ্ণবীয় মতাদর্শ কে সর্বোচ্চ বলে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আদি সনাতনী শৈবদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে শিবের মহিমাকে ক্ষুন্ন করার অপপ্রয়াস করে। 

শিবনিন্দা করতে দেখার পরে শৈবগণেরা তখন সেইসব শিবনিন্দুকদের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে। শৈবদের মানসিকতা কখনোই অন্যদের আরাধ্য কে অপমানিত করার চেষ্টাতে রত থাকে না, তারা সমস্ত দেবতার মধ্যেই নিজের আরাধ্য প্রভু শিবকে দর্শন করেন, তাই তারা ঐ শিববিদ্বেষী তথাকথিত বৈষ্ণবদের মতো সর্বশ্রেষ্ঠত্বের অভিমানের রোগে আক্রান্ত নন। শৈবরা এক তত্ত্বে বিশ্বাসী, শৈবরা কখনোই কোন দেবতা ছোট আর কোন দেবতা বড় এই চিন্তাধারায় জীবনযাপন করেনা, তারা সমস্ত দেবতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। 

কিন্তু আপনারা অতিএকতাবাদী অজ্ঞানী ব্যক্তিরা শৈবদের বিষয়ে ও সম্পূর্ণ সমস্যার উৎস না জেনেই নিজের জ্ঞান দিতে উপস্থিত হয়ে যান, আপনারা শৈবদেরকেই "হরি-হর এক" -এর বানী শোনাতে আসেন। যে শৈবরা কখনোই হরি হর -এ ভেদ করে না , সেই শৈবদেরকেই পুনরায় জ্ঞান শোনাতে আসেন আপনারা, অথচ আপনারা সেই সব প্রকৃত হরিহরে ভেদকারী তথাকথিত বৈষ্ণবদের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কখনোই কথা বলেন না, আপনাদের একচোখা দৃষ্টিতে শৈবরাই যেন অপরাধী, এটাই বোঝাতে চান।  অথচ শৈবরাই চিরকাল একতার কথা বলে এসেছে ও মেনে এসেছে। কিন্তু আপনারা তো দিনকানা, কারা ধর্মের অবমাননা করছে আর কারা ধর্মের অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে তা আপনাদের মস্তিষ্কের বুদ্ধির বাইরে, তাই আজকে ভালো করে জেনে নিন, আমরা শৈবরাই সনাতন ধর্মকে মজবুত করার উদ্দেশ্যে কার্য করছি, যা চিরকাল ই শৈবরা করে এসেছেন। আমরা শুধু শিববিদ্বেষীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করি, কোনো ভেদাভেদ কে আমরা প্রশ্রয় দিই না। 

অত‌এব, শৈবদের কাছে জ্ঞান দিতে আসার আগে সবটা জেনে তারপর বিচার করে যা বলার তা বলবেন।]

🔸🔶🔸🔶🔸🔶🔸🔶🔸🔶🔸🔶🔸🔶🔸🔶

এবার আসি চৈতন‌দেবের উদ্দেশ্যে রচিত  চৈতন্যচরিতামৃতে বলা আগমশাস্ত্র কতটা মায়াশাস্ত্র।

🔴সত্যিই কি শিবের বলা আগমশাস্ত্র মায়াশাস্ত্র ?

চলুন জেনে নেয়া যাক..

পদ্মপুরাণে যা বলেছে সেই কথা চৈতন্যচরিতামৃত পুস্তক নির্দেশ করে বলছে -

🚫চৈতন্য চরিতামৃতের দাবী :

 শ্রীকৃষ্ণ বললেন, 'হে শিব! তুমি নিজের কল্পিত আগমশাস্ত্র দ্বারা মনুষ্য সকলকে আমার থেকে বিমুখ কর এবং আমাকেও গোপন কর যেন এই সৃষ্টি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে পারে। 

[রেফারেন্স — চৈতন্যচরিতামৃতের মধ্যলীলা ৬পরিচ্ছেদ/ ১৩নং কথনে পদ্মপুরাণে ৬২নং অধ্যায়ের ৩১নং শ্লোকের কথা উল্লেখ]

নীচে চৈতন্য চরিতামৃতের উক্ত রেফারেন্স এর ছবি দেয়া হল। 




উপরোক্ত ছবিতে আমাদের আলোচ্য বিষয়ের উল্লিখিত শ্লোক টি নীচে দেয়া হল 👇  


স্বাগমৈঃ কল্পিতৈস্ত্বঞ্চ জনান মদ্বিমুখান কুরু ।

মাঞ্চ গোপয় যেন স্যাৎ সৃষ্টিরেষোত্তরোত্তরা ॥


উপরোক্ত শ্লোকের মধ্যে থাকা " সৃষ্টিরেষোত্তরোত্তরা‌ " শব্দটি লক্ষ্য করুন। এই শব্দটির বাংলা অনুবাদ হল - যার দ্বারা এই সৃষ্টি ক্রমশ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হতে পারে।

অত‌এব, পদ্মপুরাণের উক্ত শ্লোক হতে প্রমাণিত হচ্ছে যে, " সৃষ্টির ক্রমকে বৃদ্ধি করার জন্য‌ই মানুষকে শ্রীকৃষ্ণ থেকে বিমুখ হয়ে, শিব কথিত আগমশাস্ত্রকে অনুসরণ করা উচিত "। 

এবার চৈতন্যদেবের অনুসরণকারীরা নিজেরাই বিচার করে দেখুক তারা সৃষ্টিকে সংকুচিত করতে চায়? নাকি সৃষ্টিকে ক্রমশ বৃদ্ধি করতে চায় ?

তাছাড়া শ্রীকৃষ্ণ নিজেই মহাদেবকে বলছেন আগম শাস্ত্রের দ্বারা মনুষ্যকে কৃষ্ণ থেকে বিমুখ করে দিতে, যাতে এই সৃষ্টি উত্তরোত্তর বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হতে পারে। 

 শ্রীকৃষ্ণ নিজেই চাইছেন সৃষ্টির ক্রম বৃদ্ধির জন্য মানুষ কৃষ্ণ বিমুখ হোক এবং আগমশাস্ত্রকে মান্য করুক।


🔴 চৈতন্যচরিতামৃত পুস্তকের কথা অনুযায়ী  চৈতন্যদেব উপরিউক্ত পদ্মপুরাণের শ্লোকটি উল্লেখ করেছেন আগমশাস্ত্রের নিন্দা করার জন্য, কারণ চৈতন্যদেবের বিশ্বাস হল - এই শাস্ত্র মানলে মানুষ শ্রীকৃষ্ণ থেকে বিমুখ হবে।

তাই তিনি শিব কথিত আগমশাস্ত্র কে পদ্মপুরাণের সমর্থনে অশুভ বা কল্পিত বলে চিহ্নিত করেছেন ।


কিন্তু বাস্তবে আদৌও কি আগমশাস্ত্র অশুভ ? কল্পিত ?

🟥চলুন দেখে নেয়া যাক আগমশাস্ত্র সম্পর্কে এই পদ্মপুরাণ‌ই কি বলছে ।

অথ ধৰ্ম্মাঃ শিবেনোক্তাঃ শিবধৰ্ম্মাগমোত্তমাঃ ।

জ্ঞেয়া বহুবিধাস্তে চ কৰ্ম্মযোগপ্রভেদতঃ ॥১

হিংসাদিদোষনিৰ্ম্মুক্তাঃ ক্লেশায়াসবিবৰ্জ্জিতাঃ ।

সৰ্ব্বভূতহিতাঃ শুদ্ধাঃ সূক্ষ্মায়াসা মহৎফলাঃ ॥২

অনন্তশাখাকলিতাঃ শিবমূলৈকসংশ্ৰিতাঃ ।

জ্ঞানধ্যানসুপুষ্পঢ্যাঃ শিবধৰ্ম্মাঃ সনাতনাঃ‌ ॥৩

[তথ্যসূত্র — পদ্মপুরাণ/ভূমিখণ্ড/৬৯নং অধ্যায়]

🔴 সরলার্থ - শিব দ্বারা প্রকটিত শৈব‌আগম শাস্ত্রে উত্তম ধৰ্ম সকল উক্ত হয়েছে। ঐ সকল ধৰ্ম কৰ্ম্মযোগ ভেদে বহুবিধ এবং হিংসাদি দোষরহিত, ক্লেশায়াসবিবর্জ্জিত সৰ্ব্বভূত হিতকর, শুদ্ধ, সূক্ষ্ম মহাফল, অনন্তশাখাযুক্ত, মঙ্গলমূল, জ্ঞান ধ্যানসুপুষ্পাঢ্য ও সনাতন(শাশ্বত) ॥১-৩


অর্থাৎ চৈতন্যদেবের আহ্লাদের ও আবেগের পর্বতসমান এই পদ্মপুরাণ থেকে পরিষ্কার ভাবে জানা গেল যে, প্রভু শিবের কথিত‌ আগমশাস্ত্র কোনোভাবেই নিন্দনীয় নয়। বরং পরমেশ্বর শিবের কল্পনায় তৈরি শাস্ত্রে সকল ধর্ম বলা হয়েছে, এটি হিংসা-দোষ বিহীন, সর্বভূতের জন্য কল্যাণকারী, মঙ্গলজনক, জ্ঞান স্বরূপ এবং এটিই নিত্য শাশ্বতরূপে সনাতন ।

এখানে " স্বাগমৈঃ কল্পিতৈস্ত্বঞ্চ " - শিবের কল্পিত আগমশাস্ত্র কথার অর্থ পরমেশ্বরের ইচ্ছা, যদি কল্পিত শব্দের অর্থ মায়া বা নিন্দাসূচক হত, তবে আগমশাস্ত্রকে পদ্মপুরাণ কখনোই সর্বভূত হিতকর ও সনাতন অর্থাৎ নিত্য বলে উল্লেখ করতো না। মায়া কখনো শাশ্বত-সনাতন বা সর্বহিতকর মঙ্গলকারী হয় না।

কারণ সেই পদ্মপুরাণই আবার আগমশাস্ত্রের প্রশংসা করেছে।


🟠এবার দেখার বিষয় হল, আগমশাস্ত্র অনুসরণ করলে শ্রীকৃষ্ণ বা মহাদেব অপ্রসন্ন হবেন কি না ?

 

☘️ প্রত্যুত্তরে বলছি - না, শিব বা শ্রীকৃষ্ণের মধ্যে কেউ ই অপ্রসন্ন হবেন না, কেননা চৈতন্য চরিতামৃতের চৈতন্যদেব শ্রীকৃষ্ণকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করার জন্য যতই দাসদাসীর তত্ত্ব প্রচার করুক না কেনো, বাস্তবটা ঠিকই তার সম্পূর্ণ বিপরীত।

কারণ, পদ্মপুরাণ‌ই বলছে যে,  শিবের ভক্ত হোক বা বিষ্ণুর ভক্ত হোক,  সেই ভক্তের উপর শিব, বিষ্ণু ও ব্রহ্মা সর্বদা প্রসন্ন থাকেন।


পদ্মপুরাণ থেকে রেফারেন্স সহ প্রমাণ দেয়া হল নীচে 👇


শৈবঞ্চ বৈষ্ণবং রূপমেকরূপং নরোত্তম ॥১৯

দ্বয়োশ্চ অন্তরং নাস্তি একরূপমহাত্মনোঃ ।

শিবায় বিষ্ণুরূপায় শিবরূপায় বিষ্ণবে ॥২০

শিবস্য হৃদয়ং বিষ্ণুবিষ্ণোশ্চ হৃদয়ং শিবঃ ।

একমুৰ্ত্তিস্ত্ৰয়ো দেবা ব্রহ্মবিষ্ণুমহেশ্বরাঃ ॥২১

এয়াণামন্তরং নাস্তি গুণভেদাঃ প্রকীৰ্ত্তিতাঃ ।

শিবভক্তোহসি রাজেন্দ্র তথা ভাগবতোহসি বৈ

তেন দেবাঃ প্ৰসন্নাস্তে ব্রহ্মবিষ্ণুমহেশ্বরাঃ ।

সুপ্রীতা বরদা রাজন কৰ্ম্মণস্তব সুব্রত ॥২৩

[রেফারেন্স — পদ্মপুরাণ/ভূমিখণ্ড/অধ্যায় - ৭১]


🔴সরলার্থ :- হে নরোত্তম! শিবেররূপ আর বিষ্ণুরূপ এক শিবেরইরূপ, এই একরূপ মহাত্মদ্বয়ের মধ্যে কিছুমাত্র অন্তর নেই। শিব বিষ্ণুরূপ ধারণ করেছেন, আর বিষ্ণু প্রকৃত পক্ষে শিবরূপ‌ই ; শিবের হৃদয়ে তার ভক্ত পরমশৈব বিষ্ণু বাস করছন, আর বিষ্ণুর হৃদয় তার আরাধ্য পরমেশ্বর শিব একই মূর্তি – তিন দেবতা - ব্রহ্মা, বিষ্ণু আর মহেশ্বর। এই তিনের মধ্যে অন্তর নেই ; কেবল গুণভেদ কীৰ্ত্তিত হয়েছে মাত্র। রাজেন্দ্র! আপনি শিবভক্তই হোন, আর বিষ্ণুভক্তই হোন, এতেই ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর আপনার প্রতি প্রসন্ন হবেন। হে সুব্রত! তোমার কর্ম্মে ইহারা সুপ্রীত ও বরদ হবেন ॥১৯-২৩


☝️সিদ্ধান্ত - উপরোক্ত পদ্মপুরাণের আলোচনা থেকে প্রমাণিত হল যে, শিবকৃত আগমশাস্ত্র পরমপবিত্র, আর এই পদ্মপুরাণ যেহেতু বৈষ্ণবদের পরমপ্রিয় সাত্ত্বিকপুরাণ, তাই চৈতন্যদেবের অনুসরণকারীরা ও বৈষ্ণবগণ এই পদ্মপুরাণকে অস্বীকার করতে অপারগ। 

🔥সর্বশেষে বলি - চৈতন্য চরিতামৃত মধ্যযুগে কৃষ্ণদাস কবিরাজ দ্বারা রচিত বাংলা সাহিত্য মাত্র। এটি কোনো ঋষি প্রণীত শাস্ত্র নয়, আর না সনাতন ধর্মের কোনো শ্রুতি-স্মৃতি, পুরাণ বা ইতিহাস শাস্ত্রের অন্তর্গত। এটি গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের দ্বারা লিখিত চৈতন্যদেবের জীবনী। যেটির মধ্যে অর্ধেকের বেশি কল্পনার কাহিনীকে চৈতন্যদেবের লীলা বলে লিখে দেয়া হয়েছে। তাই এসব মনুষ্য রচিত সাহিত্যের গল্প দেখিয়ে শিবের মহিমাকে ক্ষুন্ন করানোর প্রচেষ্টা কখনোই মূল শাস্ত্র গন্য নয় সনাতন ধর্মে। কেননা, কৃষ্ণদাস কবিরাজ নিজের রচিত বহু কথা চৈতন্যদেবের কার্য বলে লিখেছেন। তাই এসব সাহিত্য পুস্তক যদি সনাতন ধর্মের পথপ্রদর্শক বলে গন্য করতে হয় তবে আগামীকাল কোনো জনৈক ব্যক্তির রচিত পুস্তককেও সনাতনধর্মের মূল শাস্ত্র বলে গন্য করতে হবে।

কিন্তু বাংলাতে গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের দ্বারা চৈতন্য চরিতামৃতের অত্যাধিক প্রচারের ফলে আক্রান্ত হ‌ওয়া কিছু শাস্ত্রজ্ঞান হীন ব্যক্তিরা মিথ্যা শ্রেষ্টত্বের ভ্রান্ত অভিমানের অঙ্গি ভঙ্গি অহংকারের সহিত শিবভক্তদের কাছে দেখাতে আসে। আর কাউকে শিবভক্ত বলে জানতে পারলেই তার কাছে শিবনিন্দামূলক কথাবার্তা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলতে শুরু করে। বিভিন্ন শিব নিন্দা মূলক কথার মধ্যে একটি শিবনিন্দামূলক বিষয়ের কথা হল আজকের আলোচিত বিষয় - শিবের কল্পিত শাস্ত্র পড়লে মায়াতে পড়তে হয়, যেটার বিশ্লেষণ এই লেখাতে করেছি। অথচ কিছু লোক এসব গভীর তাৎপর্য না জেনে বুঝেই শিয়ালের ন্যায় চ্যাচাতে থাকে - শৈবরা কিনা ভেদাভেদ করছে , সনাতন ধর্মকে বিনাশের জন্য নাকি আমরা শিবভক্তরা দায়ী। 

তাই আজ এসবের বিশ্লেষণ করলাম। আশা করছি যাদের মস্তিষ্কে উন্নত আদর্শের বিচার বুদ্ধি রয়েছে তারা আমার এই লেখাটির গুরুত্ব উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে।

✍️লেখনীতে - নন্দীনাথ শৈব আচার্য 

🔱অপপ্রচার দমনে - ISSGT 



আরো দেখুন 

এখানে ক্লিক করে 👇

👉 পরমেশ্বর শিব বৈষ্ণব নন 

👉শৈবপুরাণ সাত্ত্বিক, বৈষ্ণবপুরাণ গুলি তামসিক

👉 কলিযুগে হরিনাম ছাড়াও শিবনামে মুক্তি সম্ভব

👉 পদ্মপুরাণে ভগবদ্গীতা সাক্ষাৎ শিবস্বরূপ‌ ও সদাশিব‌ বিষ্ণুর চেয়ে পরম বলে শ্রীবিষ্ণুর স্বীকারোক্তি - (ভাবার্থ বিশ্লেষণ ও টীকা সহ)

👉 পদ্মপুরাণে শৈবদের নিন্দা কতটা যুক্তিযুক্ত ?

👉 অন্য দেবতার ভক্তদের‌ও অন্তিমে শিব‌ই পরম গতি

 




মন্তব্যসমূহ

  1. তাহলে কি দাড়াল। যদি শিব বিষণু একই হয় তাহলে নিশ্চয় শিবের আত্মা নারায়ণ এটা বলা যায়। নারায়ণ কেউ পরম ব্রহ্ম বলা যায়

    উত্তরমুছুন
  2. তাহলে নারায়ণ পরমব্রহ্ম হলে সবশেষে পরমশিব এ কেন বিলীন হয়ে যান?
    কারণ তিনি নির্গুণ নিরাকার নন,,,, তিনি সত্ব গুণী,,, নির্গুণ নিরাকার একজন ই তিনি হলেন নিরাকার রুপী পরমিশ্বের সদাশিব

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ